All posts by jitu

কুমিল্লা-চাঁদপুর মহাসড়কে বাসের ধাক্কায় বৃদ্ধার মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট:

চাঁদপুরে যাত্রীবাহী বাসের ধাক্কায় তোফায়েলেন্নেছা মায়া (৬৪) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল ৮টার দিকে চাঁদপুর-কুমিল্লা আঞ্চলিক মহাসড়কের বনবিভাগ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মায়া বনবিভাগ রোডের পাটওয়ারী বাড়ির মৃত বেলাল পাটওয়ারীর স্ত্রী।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল এ তথ্য নিশ্চিত করে জানায়, খবর পেয়ে ওই বৃদ্ধার বাড়িতে যান এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, ঘটনার সময় ওই নারী সড়ক দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। ওই সময় চাঁদপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া কুমিল্লাগামী বোগদাদ পরিবহনের একটি বাস তাকে ধাক্কা দেয়।

ঘটনাস্থলেই ওই বৃদ্ধা ছিটকে পড়ে মাথাসহ শরীরে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। পরে লোকজন তাকে বাড়িতে নিয়ে যায়।

চাঁদপুর সদর মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মিন্টু দত্ত জানান, যে পরিবহন ওই বৃদ্ধাকে ধাক্কা দিয়েছে তা এখনও চিহ্নিত হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি। ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ দাফনের জন্য অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিএম) বরাবর আবেদন করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নারীঘটিত মামলায় শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতা জিসানকে জেলহাতে প্রেরণ

ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু:

নারী ঘটিত মামলায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক জিসান মিয়াকে (২৮) জেলহাতে প্রেরণ করেছেন কুমিল্লার আদালত।

মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে পাঁচটায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এ পুলিশ ও ডিবির কড়া নিরাপত্তায় জিসানকে হাজির করা হলে আদালতের বিচারক তৈয়ব উদ্দিন তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।

আসামি পক্ষের আইনজীবী মনিরুল ইসলাম পাটোয়ারী আসামিকে জেল হাজতে প্রেরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে সুস্থ বলে প্রতিবেদন দিয়ে আজ বেলা বারোটার দিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জিসান মিয়াকে ৪ দিন পর ছাড়পত্র দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

আজ দুপুরে জিসানকে আদালতে হাজির করার কথা থাকলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিকেল সাড়ে ৫ টায় আদালতে নিয়ে আসেন ।

উল্লেখ্য যে, কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার এক বিধবা নারীকে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগের মামলায় গত শুক্রবার রাতে জিসানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। কিন্তু ওই ছাত্রশিবির নেতা নিজেকে ‘অসুস্থ দেখিয়ে’ পুলিশি হেফাজতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন এত দিন। এ জন্য তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলেও আদালতে প্রেরণ করেনি পুলিশ।

এর আগে দাউদকান্দি থেকে কথিত নিখোঁজ হওয়ার এক দিন পর শুক্রবার রাত পৌনে ১০টার দিকে লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকায় ‘অচেতন’ অবস্থায় জিসানকে উদ্ধার করা হয় বলে দাবি করে পরিবার।

পরে ওই দিন রাতেই চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। জেলা পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান সংবাদ সম্মেলন করে জানান , জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি; তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন।

দাউদকান্দিতে স্বেচ্ছাশ্রমে ধানসিঁড়ি সংগঠনের মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

দাউদকান্দিতে মাসব্যাপী স্বেচ্ছাশ্রমে পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে । পরিচ্ছন্ন দাউদকান্দি গড়ে তুলতে এ অভিযান শুরু করেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ধানসিঁড়ি সমাজকল্যাণ সংস্থা।

মঙ্গলবার দুপুর থেকে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে এ অভিযানের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাছরীন আক্তার।

ধানসিঁড়ি সমাজকল্যাণ সংগঠনের সভাপতি বোরহান উদ্দিন ভুইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দাউদকান্দি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌরসভার প্রশাসক রেদওয়ান ইসলাম, উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার মো: টিপু সুলতান, ধানসিঁড়ি সমাজকল্যাণ সংস্থা’ র পক্ষে মনিরুল ইসলাম ফরাজী, রোমান মিয়াজি, আলম সরদার প্রমুখ।

সংগঠনের সভাপতি বোরহান উদ্দিন ভুইয়া জানান, দাউদকান্দি উপজেলা সদরসহ বানিজ্যিক কেন্দ্র গৌরীপুর বাজারের জলাশয়, ড্রেন, রাস্তাঘাট ও অপরিকল্পিতভাবে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা নিষ্কাশনে করা হবে মাসব্যাপী এ অভিযান। শুরুতেই উপজেলা পরিষদ চত্বরের আশপাশের ময়লা আবর্জনা পরিষ্কারের মাধ্যমে আমরা পরিচ্ছন্নতা কার্যাক্রম শুরু করেছি।

 

জিডিপির ১৫ শতাংশের সংকট: আবাসন খাতের স্থবিরতায় ঝুঁকিতে দেশের অর্থনীতি

বিশেষ প্রতিনিধি:

দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক গতিশীলতা ফিরিয়ে আনা অতিব জরুরি। এজন্য স্থবির হয়ে পড়া আবাসন খাতকে পুনরুজ্জীবিত করা অত্যাবশ্যক বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা ও অর্থনীতিবিদরা।

জিডিপিতে প্রায় ১৫ শতাংশ অবদান রাখা এই খাতের বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক প্রভাব রয়েছে। একটি ফ্ল্যাট বা বাড়ির পেছনে হওয়া বিনিয়োগ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে রড, সিমেন্ট, টাইলস, সিরামিকসহ ২৬৯টি লিংকেজ শিল্পের সাথে জড়িত। ফলে এই খাতের সংকট পুরো সামষ্টিক অর্থনীতিকেই বড় ধরনের ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, আবাসন খাত যেকোনো দেশের অর্থনীতির ‘রিয়েল সেক্টর’ বা প্রকৃত উৎপাদনশীল খাত। বর্তমানে দেশে চলমান অর্থনৈতিক মন্দা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং নীতিগত অস্থিরতার কারণে ফ্ল্যাট বিক্রি প্রায় অর্ধেকে (৭০ শতাংশ পর্যন্ত) নেমে এসেছে। আগে যেখানে মাসে গড়ে ১,০০০টি ফ্ল্যাট বিক্রি হতো, তা এখন ৫০০-তে ঠেকেছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের বাজার।
বিক্রি কমার পেছনে প্রধান কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো নির্মাণ সামগ্রীর লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধি। রড, সিমেন্ট, ইট, বালু ও পাথরের দাম বাড়ায় নির্মাণ ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ।

উচ্চ সুদহার: ব্যাংকঋণের সুদহার ৯-১০ শতাংশ থেকে বেড়ে এখন ১৫-১৬ শতাংশে ঠেকেছে।

নিবন্ধন ব্যয়: এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে আবাসন খাতের নিবন্ধন ব্যয় সর্বোচ্চ (১৩ শতাংশের ওপর)।

বাজেটের বাড়তি চাপ: ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে রড উৎপাদন পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট ভ্যাট এবং স্ক্র্যাপের ওপর শুল্ক বাড়ানোর প্রস্তাব এই খাতকে আরও কোণঠাসা করেছে।

এফএআর (FAR) হ্রাস: ফ্লোর এরিয়া রেশিও কমে যাওয়ায় বহুতল ভবন নির্মাণের সুযোগ সীমিত হয়েছে, যার ফলে জমির মালিকরাও আগ্রহ হারাচ্ছেন।

বিশাল কর্মসংস্থান ও রাজস্বের উৎস

আবাসন খাত বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম এক শক্তিশালী স্তম্ভ। এই খাতে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ২ লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে এবং প্রায় ১,৪০০টির বেশি কোম্পানি এখানে যুক্ত। এটি বার্ষিক প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব জোগান দেয় এবং প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৫০ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে। নির্মাণ সামগ্রীর বাজার মন্দা হওয়ায় বাংলামোটরসহ বিভিন্ন পাইকারি বাজারের ব্যবসায়ীরা এখন পুঁজি হারানোর শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন।

উত্তরণের উপায়: বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

বিশ্বব্যাংকের তথ্যমতে, বিশ্বব্যাপী আবাসন খাত জিডিপির একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করে (যেমন: চীনে ২৩-২৮% এবং উন্নত দেশগুলোতে ১৫-২০%)। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশেও এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী। আবাসন খাতের প্রতি ১ টাকা বিনিয়োগ অর্থনীতিতে ২.৫ টাকার বেশি ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

এই মন্দা কাটাতে বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপের কথা বলেছেন:

১. নিবন্ধন ব্যয় হ্রাস: রিহ্যাবের প্রস্তাব অনুযায়ী নিবন্ধন ব্যয় ১৩% থেকে কমিয়ে ৭% করা।

২. স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ: মধ্যবিত্তদের জন্য সহজ শর্তে গৃহঋণের ব্যবস্থা করা।

৩. করনীতিতে নমনীয়তা: আবাসন চাঙ্গা করতে সাময়িক করমুক্ত সুবিধা দেওয়া, যা সচল হলে লিংকেজ শিল্প থেকে আরও বেশি রাজস্ব আদায় সম্ভব হবে।

৪. একীভূত নীতি ও প্রযুক্তি: একটি স্বচ্ছ, পেশাদার এবং প্রযুক্তিনির্ভর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা, যা প্রকৌশলী, স্থপতি ও দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করবে।

সময়মতো সঠিক সরকারি নীতি সহায়তা ও প্রণোদনা না দিলে আবাসন খাতের এই পতন দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় অর্থনীতিতে বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তাই বাজেট-পরবর্তী আলোচনায় এই খাতের দাবিগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা এখনই উপযুক্ত সময়।

শহীদ জিয়ার উত্তরাধিকার: প্রান্তিক মানুষের পরম সুহৃদ তারেক রহমান

বিশেষ প্রতিবেদক:

প্রান্তিক মানুষের আপনজন হয়ে উঠেছেন তারেক রহমান। দেশের বিপুল সংখ্যক প্রান্তিক জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরেই অবহেলার শিকার হয়ে দিনাতিপাত করছে।

পাঁচ বছরে একবার ভোটের সময় ছাড়া সাধারণত কেউ তাদের খোঁজ নেয় না। অথচ এই সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষগুলোই কঠোর পরিশ্রমে ফসল ফলিয়ে দেশকে বাঁচিয়ে রাখে, আমাদের জীবনকে সুন্দর করে। স্বাধীনতার ৫৫ বছরে খুব কম নেতাই তাদের দুঃখ-কষ্টের কথা শুনতে সরাসরি মাঠপর্যায়ে গেছেন।

তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই অবহেলিত মানুষের মুখে এখন হাসি ফুটতে শুরু করেছে। বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে তারা প্রকৃত আপনজন হিসেবে খুঁজে পেয়েছেন।

ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার হিসাবে তিনি শহীদ জিয়ার গ্রামীণ রাজনীতিকে প্রাধান্য দিয়ে মাঠে নেমেছেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে এই দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অবদান ছিল অপরিসীম। মানবিক মর্যাদা ও অধিকারের আশায় তারা জীবন বাজি রেখেছিলেন।

তবে স্বাধীনতার পর তাদের প্রথম আশার আলো দেখান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি রাজধানীকেন্দ্রিক ড্রয়িংরুম রাজনীতির বৃত্ত ভেঙে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া ছুটে বেড়াতেন। রাষ্ট্রীয় প্রটোকল ভেঙে সরাসরি প্রান্তিক মানুষের সঙ্গে কথা বলতেন।

প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানই প্রথম উপলব্ধি করেছিলেন যে, বাংলাদেশের আসল শক্তি নিহিত রয়েছে গ্রামে। তাই তিনি রাজনীতিকে শহর থেকে গ্রামে নিয়ে যান। ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত শাসনামলে তিনি ‘নিজস্ব সম্পদ ব্যবহার’ ও ‘স্বনির্ভর বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করেন। কোদাল হাতে পাতলী খাল খননের মতো দেশব্যাপী খাল কাটা কর্মসূচির সূচনা করে তিনি গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন।

গ্রামীণ উন্নয়ন, খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি ও ‘গ্রাম সরকার’ ধারণার মাধ্যমে তিনি তৃণমূলের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করেন। তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে প্রান্তিক মানুষ তাদের সবচেয়ে বিশ্বস্ত বন্ধুকে হারিয়ে আবার অবহেলার অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছিল।
তারেক রহমান পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে তৃণমূলের ক্ষমতায়নে কাজ করে চলেছেন।
দীর্ঘ ৪৫ বছর পর তার পিতার মতই তিনি প্রান্তিক মানুষের সেই আপনজন হয়ে আবির্ভূত হয়েছেন।

ক্ষমতার শীর্ষে আরোহণ করার অনেক আগে থেকেই, অর্থাৎ ২০০২ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ‘তৃণমূল সম্মেলন’ আয়োজনের মাধ্যমে রাজনীতিতে এক অভিনব ধারার সূচনা করেন। শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষের রাজনীতি ছেড়ে তিনি কৃষকের আঙিনায় গেছেন। স্থানীয় নেতৃত্বকে গুরুত্ব দিয়েছেন।

পরবর্তীতে ২০১৮ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দি হলে, প্রতিকূল পরিস্থিতিতে দূর দেশে অবস্থান করেও আধুনিক প্রযুক্তির (স্কাইপ, জুম) মাধ্যমে তিনি দলের হাল ধরেন। বড় বড় নেতাদের চেয়ে তিনি গুরুত্ব দিতেন মাঠপর্যায়ের সাধারণ কর্মীদের মতামতকে। বিগত ১৭ বছরের সীমাহীন জুলুম-নির্যাতনের মুখেও বিএনপি যে আজ আরও শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। এর মূল ভিত্তি ছিল তারেক রহমানের তৃণমূলকেন্দ্রিক দূরদর্শী রাজনীতি।

রাষ্ট্রীয় ও সংসদীয় কাজের ফাঁকে সুযোগ পেলেই তিনি ছুটে যাচ্ছেন অবহেলিত জনপদে। টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া, কক্সবাজার থেকে ঠাকুরগাঁও। সবখানের সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্টের কথা শুনছেন এবং তাৎক্ষণিক সমাধানের উদ্যোগ নিচ্ছেন।

তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন—”গ্রাম বাঁচলেই বাঁচবে বাংলাদেশ। হবে প্রান্তিক মানুষের উন্নয়নই সামগ্রিক দেশের প্রকৃত উন্নয়ন। সাড়ে চার দশক পর তৃণমূলের মানুষ আবার তাদের এক পরম সুহৃদকে ফিরে পেয়েছে, যা বাংলাদেশের রাজনীতি ও উন্নয়নে এক নতুন আশার আলো ছড়াচ্ছে।

বরুড়ায় আহমাদিয়া এন্টারপ্রাইজের উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

এমডি. আজিজুর রহমান, বরুড়া:

কুমিল্লার বরুড়ায় আহমাদিয়া এন্টারপ্রাইজের উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) বিকেল ৪টায় উপজেলার লতিফপুরস্থ রেড উইং কনভেনশন হলে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আহমাদিয়া এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী এবং ক্রাউন সিমেন্ট পিএলসির এক্সক্লুসিভ পরিবেশক রোটা. মাহবুব আলম।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ক্রাউন সিমেন্ট পিএলসির রিজিওনাল হেড (মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস) এমদাদুল হক, জোনাল ইনচার্জ (মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস) ইকবাল হোসেন।

এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মঞ্জুর আহমেদ, মানছুর আহমেদসহ বরুড়া উপজেলার বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ী (রিটেইলার), সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ক্রাউন সিমেন্টের টেরিটরি ম্যানেজার বাপ্পি। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন দারুল উলুম বরুড়া মাদরাসার মুহতামিম ও শায়খুল হাদিস আল্লামা নোমান সাহেব।

সভায় বক্তারা বলেন, দেশের নির্মাণ খাতে ক্রাউন সিমেন্ট একটি বিশ্বস্ত ও গ্রহণযোগ্য ব্র্যান্ড হিসেবে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করেছে। উন্নত মান, গ্রাহক আস্থা এবং দীর্ঘস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণে এর ভূমিকার কথা তুলে ধরে তারা ব্যবসায়ীদের আরও আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনার আহ্বান জানান।

বক্তারা ব্যবসায়ী ও ডিলারদের সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং ভবিষ্যতে ব্যবসার প্রসার ও গ্রাহকসেবা বৃদ্ধিতে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, আহমাদিয়া এন্টারপ্রাইজ বরুড়ার একটি সুপরিচিত ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে রড, সিমেন্ট, ইট, বালু, পাইপ ও ফিল্টারসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ করে আসছে।

শত বছরের রাস্তা দখলের প্রতিবাদে কুচাইতলীতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার কুচাইতলী এলাকায় শত বছরের পুরোনো বসতবাড়ির চলাচলের রাস্তা দখল করে ভবন নির্মাণের চেষ্টার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

সোমবার (১৫ জুন) বিকেলে কুচাইতলী এলাকায় শতাধিক পরিবারের একমাত্র চলাচলের রাস্তা রক্ষার দাবিতে নারী, পুরুষ ও শিশুদের অংশগ্রহণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল পুরো এলাকা প্রদক্ষিণ করে।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, প্রায় একশ বছর ধরে এলাকাবাসী ওই রাস্তা ব্যবহার করে আসছেন। এটি শতাধিক পরিবারের একমাত্র চলাচলের পথ। কিন্তু স্থানীয় গফুর ভূঁইয়া ও তার লোকজন রাস্তার জায়গা দখল করে ভবন নির্মাণের চেষ্টা করছেন। এতে বাধা দিলে হামলা ও মামলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা সীমা আক্তার বলেন,
এই রাস্তা বন্ধ হয়ে গেলে শতাধিক পরিবারের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হবে। আমাদের সন্তানদের স্কুলে যাওয়া, অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াসহ দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদের ব্যবহৃত এই রাস্তা ফিরে চাই।

একই অভিযোগ তুলে শতবর্ষ ধরে ওই এলাকায় বসবাসকারী হাসনেয়ারা বেগম বলেন,
এটি শতবর্ষী পুরোনো রাস্তা। আগে এখানে বাউন্ডারি ছিল। এখন তারা সেই বাউন্ডারি ভেঙে চলাচলের রাস্তা কেটে দখল করে দালান নির্মাণ করছে। আমরা তাদেরকে বুঝিয়েছি, চলাচলের রাস্তা ছেড়ে দালানের কাজ করতে।

স্থানীয় বাসিন্দা ওমর ফারুক বলেন,
শত বছর ধরে আমরা এই রাস্তা ব্যবহার করে আসছি। তাদের যে দলিল রয়েছে, সেই দলিলের মধ্যেও এই রাস্তার উল্লেখ আছে। এই রাস্তা দিয়ে আমরা চলাচল করতে গেলে তাদের সঙ্গে প্রায়ই বিরোধের সৃষ্টি হয়।

এদিকে সংশ্লিষ্ট ভূমি নিয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও আদালতে মামলা করা হয়েছে। মামলার নথি অনুযায়ী, কুচাইতলী মৌজার বিএস ২১১/৮৯৭ দাগভুক্ত ১৭ শতক ভূমি দীর্ঘদিন ধরে জনসাধারণের ব্যবহার্য রাস্তা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। জেলা প্রশাসনের দাবি, জমিটি প্রকৃতপক্ষে সরকারি সম্পত্তি হলেও জরিপের সময় ভুলবশত বিএস ২৯৭ নম্বর খতিয়ানে ব্যক্তিমালিকানাভুক্ত হয়েছে।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, বর্তমানে ভূমিটি সরকার মালিক ও দখলকার হিসেবে ভোগদখলে রয়েছে এবং জনসাধারণ ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন নিয়মিত এ পথে চলাচল করে। তাই সরকারি রাস্তা ব্যক্তিমালিকানার দাবি করে দখলের চেষ্টা বেআইনি।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে গফুর ভূঁইয়া বলেন,আমি রাস্তার জন্য কোনো জায়গা দেব না। তারা যা করার করুক। কোন দিক দিয়ে চলাচল করবে, সেটা আমার জানার বিষয় নয়।

এ ঘটনায় এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে শত বছরের পুরোনো চলাচলের রাস্তা দখলমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে শতাধিক পরিবার চরম ভোগান্তির মুখে পড়বে।

মোটরসাইকেল বিক্রির কথা বলে অস্ত্র ঠেকিয়ে লক্ষাধিক টাকা ও মোবাইল ছিনতাই, মূলহোতা আটক!

স্টাফ রিপোর্টার :

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মোটরসাইকেল বিক্রির কথা বলে ডেকে নিয়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে লক্ষাধিক টাকা ও দুইটি মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনার মূলহোতা আবদুল কাইয়ুমকে আটক করেছে পুলিশ। কাইয়ুম উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের ধনুসাড়া গ্রামের দ্বীন মোহাম্মদের ছেলে।

সোমবার (১৫ই জুন) বিকেলে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন থানার উপ-পরিদর্শক তারেক আকাশ।

আটককৃত কাইয়ুম দীর্ঘদিন ধরে নিজ এলাকার ছেড়ে পার্শ্ববর্তী মুন্সিরহাট ইউনিয়নের ছাতিয়ানী এলাকায় ইন্টারনেট ব্যবসায়ী মাসুমের লাইনম্যান হিসেবে কর্মরত রয়েছে। এখানে কর্মরত থাকা অবস্থাতেই নানান অপরাধে জড়িয়ে পড়ে সে।

থানায় দায়েরকৃত মামলায় উল্লেখ করা হয়, নোয়াখালী জেলার চরজাব্বার থানা এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে মমিনুল হক পেশায় একজন ট্রাক্টর চালক।

গত এক বছর পূর্বে ধনুসাড়া গ্রামের আবদুল কাইয়ুম ফেসবুকে মোটরসাইকেল বিক্রয়ের বিজ্ঞপ্তি দিলে যোগাযোগ করে সেটি ক্রয় করে মমিনুল হক। সে সুবাদে কাইয়ুমের সাথে পরিচয় হয় মমিনুল হকের। সেই মোটরসাইকেলটি নষ্ট হওয়ায় অন্যত্র বিক্রি করে দেয় মমিনুল হক। পূর্ব পরিচিত হওয়ায় খবরটি জেনে আবদুল কাইয়ুম একটি নতুন মোটর সাইকেল বিক্রয় করবে বলে মমিনুল হককে প্রস্তাব দেয়।

প্রস্তাবে সম্মত হয়ে মমিনুল হক তার এক বন্ধুসহ গত ৯ জুন মঙ্গলবার সকালে এক লক্ষ দশ হাজার টাকা নিয়ে চৌদ্দগ্রামের দেরকোটা বাজারে আসে।

পরবর্তীতে মোটরসাইকেলটি দেখানোর জন্য বললে আবদুল কাইয়ুম সলাকান্দি গ্রামে তার এক বন্ধুর কাছে রয়েছে বলে জানায়। মমিনুল হক, আবদুল কাইয়ুম ও মমিনুল হকের বন্ধু লাকসামের দেলোয়ার হোসেন সিএনজি অটোরিকশা যোগে সলাকান্দি গ্রামে যায়। আবদুল কাইয়ুম মোটরসাইকেল কিনতে আসা মমিনুল হক ও দেলোয়ার হোসেনকে গাড়ি থেকে নামতে বলে চালককে পাঠিয়ে দেয়।

পরে আবদুল কাইয়ুম, তার সহযোগী ছাতিয়ানী গ্রামের ভুঁইয়া বাড়ির শাকিব, ধনুসাড়ার ছোটন, রাসেল, সবুজ ও গুজরার রনি একজোট হয়ে দেশীয় ধারালো অস্ত্র প্রদর্শন ভয়ভীতি দেখিয়ে মমিনুল হকের পকেটে থাকা এক লক্ষ দশ হাজার টাকা ও দুইটি মোবাইল সেট জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। এক পর্যায়ে তারা ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য বিভিন্ন ভয়ভীতি দেখিয়ে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত পালিয়ে যায়।

গত রোববার রাতে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশের একটি টিম ধনুসাড়ায় অভিযান চালিয়ে ছিনতাইচক্রের মূলহোতা আব্দুল কাইউমকে আটক করেছে।

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার উপ-পরিদর্শক তারেক আকাশ সোমবার বিকেলে বলেন, ‘অভিযান চালিয়ে মমিনুল হক নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা শেষে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে’।

আগানগর আদর্শ ডিগ্রি কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায়, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

এমডি. আজিজুর রহমান, বরুড়া:

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার আগানগর আদর্শ ডিগ্রি কলেজে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় উপলক্ষে বার্ষিক মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (১৫ জুন) কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কলেজের অধ্যক্ষ মো. মজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে এবং অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. কায়সার আলম (সেলিম), সভাপতি, গভর্নিং বডি, আগানগর আদর্শ ডিগ্রি কলেজ এবং সভাপতি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বরুড়া উপজেলা শাখা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তারিক আহমেদ ভূঁইয়া (সুজন), দাতা সদস্য, আগানগর আদর্শ ডিগ্রি কলেজ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপি।

অনুষ্ঠানে কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ, মো. জাকির হোসেন চেয়ারম্যান, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, অভিভাবক, শুভাকাঙ্ক্ষী ও বিদায়ী শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় বক্তারা শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষায় সাফল্যের জন্য আন্তরিক পরামর্শ প্রদান করেন। পরে শিক্ষার্থীদের মঙ্গল, সুস্বাস্থ্য ও পরীক্ষায় কৃতকার্যতা কামনা করে বিশেষ মিলাদ ও দোয়া পরিচালনা করা হয়।

চাঁদপুরে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজে ফল উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুরঃ

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজের উদ্যোগে চাঁদপুরে বর্ণাঢ্য ফল উৎসব ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।

সোমবার (১৫ জুন) সকালে কলেজ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ উৎসবে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও অতিথিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নুর খানের সভাপতিত্বে এবং প্রভাষক রাবেয়া আক্তারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ রুহুল্লাহ।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী, দৈনিক চাঁদপুর কণ্ঠ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক রোটারিয়ান কাজী শাহাদাত পিএইচএফ।

বক্তব্য রাখেন কলেজের উপাধ্যক্ষ ইব্রাহিম খলিল হেলাল এবং ফল উৎসব উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক ও কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মোঃ সাইফুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ রুহুল্লাহ বলেন, ফল উৎসব কেবল আনন্দের নয়, এটি আমাদের দেশীয় ফল সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে সচেতন করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। আমাদের ফলের পুষ্টিগুণ, বৈচিত্র্য ও ঐতিহ্য সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের জানাতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত প্রশংসনীয়। শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক চর্চার বিকাশে পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি এমন সহশিক্ষা কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজের এ উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের বাস্তব জ্ঞান অর্জন ও দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

তিনি আরও বলেন বর্তমান প্রজন্ম প্রযুক্তিনির্ভর জীবনের সঙ্গে অধিক সম্পৃক্ত হয়ে পড়ছে। তাই তাদের শিকড়, ঐতিহ্য ও দেশীয় সম্পদের সঙ্গে পরিচিত করে তুলতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফল উৎসবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আমাদের দেশের মৌসুমি ও দেশীয় ফল সম্পর্কে জানতে পারছে, পাশাপাশি দলগত কাজ, উপস্থাপন দক্ষতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে। সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধ, দেশপ্রেম ও সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটায়। আমি আশা করি, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ ভবিষ্যতেও এমন শিক্ষামূলক ও সৃজনশীল আয়োজন অব্যাহত রাখবে এবং শিক্ষার্থীদের মেধা ও মননের বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ড্যাফোডিল গ্রুপ চাঁদপুরের কো অর্ডিনেটর মাহাবুবুল হোসেন ও এসিস্টেন্ট কো অর্ডিনেটর মোঃ ইকবাল হোসেন। উৎসবে দেশীয় ও মৌসুমি নানা ধরনের ফলের সমাহারে মোট ৭টি স্টল অংশগ্রহণ করে। প্রতিটি স্টল সৃজনশীল উপস্থাপনা ও বিভিন্ন প্রজাতির মৌসুমি ফল ও আকর্ষণীয় সাজসজ্জার মাধ্যমে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। পরে শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী স্টলগুলোর প্রশংসা করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা হয় ভবিষ্যতেও এ ধরনের সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার জন্য।