All posts by jitu

নাঙ্গলকোটে কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার ২

ডেস্ক রিপোর্ট:

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে এক অসহায় মায়ের ফোনকলের পর দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে গণধর্ষণের অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতাররা হলেন- কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের অষ্টগ্রাম এলাকার ফয়েজ আহমেদ (২৬) ও রিয়াজ মোল্লা (২১)।

বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে ৯৯৯-এর পুলিশ পরিদর্শক (গণমাধ্যম ও জনসংযোগ কর্মকর্তা) আনোয়ার সাত্তার গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের তপোবন এলাকা থেকে এক বিধবা ও গৃহকর্মী নারী জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে অত্যন্ত আকুল কণ্ঠে জানায়— তার ১৩ বছরের শিশুকন্যা নাঙ্গলকোটের তেতিয়ায় বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল। গত ১৫ জুন বাড়ি ফেরার পথে ওই নারীর জেঠাতো ভাইয়ের শালাসহ আরও দুইজন পথিমধ্যে মেয়েটিকে একটি অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে রাতভর গণধর্ষণ করে।

সারারাত মেয়ের কোনো খোঁজ না পেয়ে ওই মা চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছিলেন। পরে মেয়েটি মুমূর্ষূ অবস্থায় বাড়ি ফিরে আসলে মা ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারেন। তাৎক্ষণিক ৯৯৯ নম্বরে কল করে পুলিশের সাহায্য চান।

৯৯৯ কল সেন্টারে কলটি গ্রহণ করেছিলেন কলটেকার কনস্টেবল শিল্পী এবং পুরো বিষয়টি উদ্ধার সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে তদারক ও সমন্বয় করেন ৯৯৯ পুলিশ ডিসপাচার এসআই আওলাদ হোসেন। ৯৯৯ থেকে তথ্য পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক নাঙ্গলকোট থানা পুলিশকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

সংবাদ পেয়েই নাঙ্গলকোট থানার এসআই আলমগীরের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল আসামিদের গ্রেফতারে অভিযানে নামেন। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ও স্থানীয় সোর্সের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূল অভিযুক্ত ফয়েজ আহমেদ ও রিয়াজ মোল্লাকে গ্রেফতার করা হয়।

ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে নাঙ্গলকোট থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেছেন। মামলার অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ভুক্তভোগী কিশোরীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান আনোয়ার সাত্তার।

সূত্র: জাগোনিউজ২৪

লাকসামে অটোরিকশা চুরির অভিযোগে আটক ১

লাকসাম প্রতিনিধি:

কুমিল্লার লাকসামে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চুরির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লাকসাম থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাকই ইউনিয়নের উধইর এলাকার বাসিন্দা মো. জালাল আহম্মেদের ছেলে মো. রবিউল হাসান (১৮) পেশায় একজন অটোরিকশা চালক। গত ১৬ জুন দুপুরে অভিযুক্ত নবীর হোসেন মনির (৩৮) গাজীপুর যাওয়ার কথা বলে রবিউলের অটোরিকশায় ওঠেন।

পরে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাঘুরির একপর্যায়ে ছনগাঁওগামী একটি নির্জন এলাকায় পৌঁছে অভিযুক্ত মনির চালককে কিস্তির টাকা আনার কথা বলে পাশের একটি বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। চালক সেখানে গেলে অভিযুক্ত মনির ও তার সঙ্গে থাকা অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জন ব্যক্তি অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে অটোরিকশাটি না পেয়ে রবিউল বিষয়টি তার পরিবার ও স্থানীয়দের জানান। পরে স্থানীয় লোকজন খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে ছনগাঁও স্টেশন এলাকায় চুরি হওয়া অটোরিকশাসহ নবীর হোসেন মনিরকে আটক করে। তবে তার সঙ্গে থাকা অন্যরা কৌশলে পালিয়ে যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরবর্তীতে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করা হলে লাকসাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে আটক ব্যক্তিকে নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং চুরি হওয়া নীল রঙের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাটি জব্দ করে।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, উদ্ধার হওয়া অটোরিকশাটির আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। আটক ব্যক্তি স্থানীয়দের সঙ্গে ধস্তাধস্তির সময় সামান্য আহত হলে তাকে লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় বাদী মো. জালাল আহম্মেদ অভিযুক্ত নবীর হোসেন মনিরসহ অজ্ঞাতনামা ৩/৪ জনের বিরুদ্ধে লাকসাম থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

এ বিষয়ে লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী কামরুন্নাহার লাইলী বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিকে আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ কাজ করছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিতাসে ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা জেলার তিতাস উপজেলার কেশবপুর গ্রামের পূর্বপাড়া এলাকায় এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাবিবুর রহমান (হবি) মিয়ার বড় ছেলে মানিক নিজ ছোট ভাই রাজীবের হাতে নিহত হয়েছেন।

বুধবার (১৭ জুন) দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে রাজীব তার বড় ভাই মানিকের ওপর কোদাল দিয়ে হামলা চালায়। হামলায় গুরুতর আহত মানিক ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান বলে স্থানীয়রা জানান।

ঘটনার পর অভিযুক্ত রাজীব এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় কেশবপুরসহ আশপাশের এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এমন নৃশংস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিদর্শন করেন এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেন।

ভাইয়ের হাতে ভাই হত্যার এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিষয়টি নিয়ে সর্বত্র আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

কুমিল্লায় পুলিশকে অভিযোগ দেওয়ায় থানা ফটকেই হামলা, ভিডিও ভাইরাল

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার তিতাস থানার গেটের সামনে অভিযোগকারী পক্ষের ওপর হামলার ঘটনা ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হামলার পর পাল্টাপাল্টি মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে দুপক্ষ।

এ ঘটনায় পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করেছে। আজ বুধবার দুপুরে এ ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার ২ মিনিট ২৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ক্লিপ ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিতাস উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের নাগেরচর গ্রামে পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে গত কয়েকদিন ধরে উত্তেজনা চলছিল। বুধবার সকালে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাড়িতে মারামারি হয়। পরে ওই ঘটনায় উভয়পক্ষ থানায় অভিযোগ দিতে আসে। একপক্ষ অভিযোগ দায়েরের পর থানার গেট এলাকায় গেলে তাদের উপর প্রতিপক্ষের লোকজন হামলা চালায়।

ভিডিওতে দেখা যায়, কয়েকজন ব্যক্তি সংঘবদ্ধ হয়ে প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালাচ্ছেন এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে জড়িতদের আটক করেন।

তিতাস থানার ওসি মো. মমিরুল হক জানায়, রান্নাঘর নিয়ে নাগেরচর গ্রামের মো. শাহ আলম ও তাহের আলী দুই ভাইয়ের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধ থেকেই ঘটনার সূত্রপাত। পূর্বে বিষয়টি মীমাংসা হলেও বুধবার উভয়পক্ষ থানায় এলে আবারও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

ঘটনাস্থল থেকে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার ভিডিওসহ অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

হোমনায় মাত্রাতিরিক্ত হারে বেড়েছে লোডশেডিং, জনজীবনে চরম দুর্ভোগ

রাসেল আহমেদ, হোমনা:

কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় টানা কয়েকদিন যাবতড় তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দিন-রাতের ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়নের বাসিন্দারা। প্রচণ্ড গরমে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীদের ভোগান্তি বেড়েছে কয়েকগুণ। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায়ও পড়ছে চরম ব্যাঘাত। তীব্র গরমে জনজীবন হয়ে উঠছে অতিষ্ট।

বিভিন্ন ইউনিয়নের ভুক্তভোগী গ্রাহকরা জানান, বিদ্যুৎ চলে গেলে কখন আসবে তার কোনো নির্দিষ্ট সময় থাকে না। কয়েক ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ এলেও তা ১৫ থেকে ২০ মিনিটের বেশি স্থায়ী হয় না। দিন-রাত মিলিয়ে গড়ে তিন থেকে চার ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না তারা। এর ওপর মিনিটে কয়েকবার বিদ্যুতের আসা-যাওয়ায় ফ্রিজ, টেলিভিশন, আইপিএস ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিদ্যুৎ সংকটের কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবাও ব্যাহত হচ্ছে। গরমে রোগী ও তাদের স্বজনদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও অন্যান্য সেবাও বিঘ্নিত হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় বিভিন্ন মোবাইল ফোন অপারেটরের টাওয়ারে নেটওয়ার্ক বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। অনেক এলাকায় মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট সেবা ব্যাহত হওয়ায় জরুরি যোগাযোগেও সমস্যায় পড়ছেন মানুষ। অনলাইনে ব্যাংকিং, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং বিভিন্ন ডিজিটাল সেবাও ব্যাহত হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-৩ (গৌরীপুর-দাউদকান্দি) জোনের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মজিবুল হক বলেন, পুরো দেশের একই অবস্থা। গত তিন-চার দিনে কেন এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, সেটিও আমাদের জানানো হয়নি।

হোমনা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম প্রকৌশলী মৃণাল কান্তি চৌধুরী বলেন, হোমনায় বিদ্যুতের চাহিদা ২২ মেগাওয়াট। কিন্তু আমাদের সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৮ মেগাওয়াট। ফলে একটি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়নে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টার বেশি সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। কেন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, সে বিষয়েও আমাদের কিছু জানানো হয়নি।

দাউদকান্দি গ্রিড সাবস্টেশনের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. রায়হান বলেন, চট্টগ্রামের একটি টার্মিনাল স্টেশন (গ্রিড সাব-স্টেশন) রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে। এছাড়া গ্যাসের চাপ কম থাকায় বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যেতে পারে, সম্ভবত এর প্রভাব সরবরাহ ব্যবস্থায় পড়ছে।

টানা চার দিনের এই লোডশেডিংয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন হোমনাবাসী। তাদের দাবি, বিদ্যুৎ সংকটের প্রকৃত কারণ এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে স্পষ্ট তথ্য জানানো হোক।

কুমিল্লায় বিআরটিসি বাস উল্টে আহত ১০

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বিআরটিসি বাস উল্টে ১০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।

আজ বুধবার (১৭ জুন) দুপুর ১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার ওসি জাকির সিকদার জানায়, ঢাকাগামী বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের মাঝখানের আইল্যান্ডে উঠে উল্টে যায়। এতে ১০ জন আহত হন, যার মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর।

তিনি আরও জানায়, পুলিশ ও স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করা হচ্ছে। তবে মহাসড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

স্বপ্ন জয়ের অনুভূতি: আইওয়া থেকে স্টেডিয়ামে, সা’দের মেসি-ভক্তি

আজকের কুমিল্লা ডেস্ক:

শৈশবের এক ফালি রোদেলা বিকেল। পরনে আকাশি-সাদা জার্সি, হাতে ফুটবল। ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে থাকা ছোট্ট ছেলেটির চোখে অদ্ভুত এক মুগ্ধতা। সেই মুগ্ধতা ছিল ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসির প্রতি। সেইদিনের সেই ছোট্ট সা’দ আজ আমেরিকার আইওয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দ্বিতীয় সেমিস্টারের ছাত্র। কিন্তু এত বছর পরও তার ফুটবল প্রেমের বিন্দুমাত্র পরিবর্তন হয়নি। বরং তা পরিণত হয়েছে এক অবিচ্ছেদ্য আবেগে।

শেখ মোহাম্মদ সা’দ, যিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন তার প্রিয় তারকাকে সরাসরি মাঠে খেলতে দেখার। ২০১০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের আবছা স্মৃতি নিয়ে তার যাত্রা শুরু। তখন তার ধারণা ছিল, ফুটবল শুধু বিশ্বকাপেই খেলা হয়। তবে ২০১৪ সালে তার জীবনে এক বড় পরিবর্তন আসে। বাবার পরামর্শে আর্জেন্টিনা দলের সমর্থন শুরু করেন তিনি, কারণ বাবা বলেছিলেন যে মেসি একজন দুর্দান্ত খেলোয়াড় এবং তিনি বাম পায়ে খেলেন—যা ছোট্ট সা’দের কাছে মনে হয়েছিল এক অনন্য অলৌকিক হক্ষমতা।

সেই থেকে শুরু করে দীর্ঘ ১২ বছরের পথচলা। মেসির প্রতি এই ভক্তি সা’দকে ফুটবল দুনিয়ার প্রতি গভীর অনুরাগী করে তোলে। তিনি শুধুমাত্র একজন ভক্তই নন, বরং একজন নিষ্ঠাবান বার্সেলোনা সমর্থকও হয়ে ওঠেন। তার এই ফুটবল জীবনে ওঠানামা ছিল অনেক। ২০১৬-২০১৮ সালের আর্জেন্টিনার হতাশার স্মৃতিতে তিনি যেমন কষ্ট পেয়েছিলেন, তেমনি মেসির বিশ্বকাপ জয়ের পর তার চোখ অশ্রুসিক্ত হয়েছিল। এই আবেগের জোয়ার-ভাটা তাকে প্রতিটি ম্যাচের সময় টেলিভিশনের পর্দার সামনে আটকে রাখত।

১৭ জুন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল আমেরিকার কানসাস সিটির অ্যারো হেড স্টেডিয়ামে আর্জেন্টিনা বনাম আলজেরিয়ার মধ্যে ইতিহাস সেরা ফুটবল মেচ।

আজ সেই ছোট্ট ছেলেটি আমেরিকার এক বিশাল স্টেডিয়ামে, যেখানে হাজার হাজার মানুষের ভিড়। চারিদিকে আকাশি-সাদা জার্সির ঢেউ। গ্যালারিতে বসা সা’দের চোখেমুখে জয়ের উজ্জ্বল হাসি। তার হাতে বাংলাদেশের সবুজ-লাল পতাকা। গায়ে আর্জেন্টিনার জার্সি। এই মুহূর্তটি শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ উপভোগ করা নয়, এটি তার শৈশবের স্বপ্নের বাস্তবায়নের এক অনন্য সাক্ষী বলে সা’দ তার বাবাকে লেখা একটি ক্ষুদে বার্তায় তার অনুভূতি ব্যক্ত করে এ কথা বলেন।

মেসির শেষ বিশ্বকাপে সা’দ নিজের প্রিয় তারকার ফুটবল জাদুকে বাস্তবে দেখার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি দেখেছেন কীভাবে মেসি তার বাম পা দিয়ে নতুন ইতিহাস রচনা করেছেন, বিশ্বকাপে তার প্রথম হ্যাটট্রিক অর্জন করেছেন। সা’দের এই অভিজ্ঞতা তার জীবনের অন্যতম বড় স্মৃতি হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, “এটি ছিল অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা। যদি সুযোগ থাকে, তবে আমি এই অভিজ্ঞতা হাজার বার অনুভব করতে চাই।”

সা’দের গল্পটি শুধু একটি ভক্তের গল্প নয়, এটি একটি স্বপ্ন জয়ের গল্প, যা প্রতিটি ফুটবলপ্রেমীর মনে আশার সঞ্চার করে। এই আবেগ, এই ভক্তি ফুটবলকে শুধু একটি খেলাই নয়, জীবনের এক অনন্য অনুভূতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।

চৌদ্দগ্রামে ৬৮ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি জব্দ

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) সীমান্ত এলাকায় পরিচালিত বিশেষ অভিযানে প্রায় ৬৮ লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় শাড়ি জব্দ করেছে।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে বুধবার (১৭ জুন) ভোর রাতে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শিবেরবাজার বিওপির টহল দল মাদক ও চোরাচালানবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযান চলাকালে সীমান্ত থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে নিমসার বাজার এলাকায় মালিকবিহীন অবস্থায় বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত শাড়িগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ৬৮ লাখ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধারকৃত শাড়িগুলো প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হবে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

মনজুরুর রহমান পূনরায় পূবালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক:

পূবালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ১৫২০তম সভায় সর্বসম্মতিক্রমে পূবালী ব্যাংক পিএলসি-র পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে আরও দুই বছরের জন্য পুনঃনির্বাচিত হয়েছেন মনজুরুর রহমান।

বাংলাদেশের ব্যাংকিং, ইনস্যুরেন্স ও চা শিল্পের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এবং সমাজসেবক মনজুরুর রহমান। তিনি বর্তমানে দেশের অন্যতম বৃহৎ ও শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক পূবালী ব্যাংক পিএলসি – এর পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রায় ছয় দশকের এক বর্নাঢ্য ও গৌরবোজ্জ্বল কর্মজীবনের অধিকারী তিনি।

মনজুরুর রহমান-এর বর্নাঢ্য কর্ম ও জীবনবৃত্তান্ত নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:

১. জন্ম ও পারিবারিক পরিচিতি
মনজুরুর রহমান ১৯৪৫ সালে কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া গ্রামের কাজীবাড়ির এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম খান বাহাদুর মুখলেসুর রহমান ১৯১৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং তিনি তৎকালীন সময়ে একজন অত্যন্ত সফল টি প্ল্যান্টার (চা উৎপাদনকারী ব্যবসায়ী) ছিলেন। পারিবারিক সূত্রেই মনজুরুর রহমান ব্যবসায়িক সততা ও নেতৃত্বের দীক্ষা লাভ করেন।

২. শিক্ষাজীবন
তিনি ভারতের স্বনামধন্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অত্যন্ত সুনামের সাথে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

৩. বর্নাঢ্য কর্মজীবন ও ব্যবসায়িক নেতৃত্ব
ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে মনজুরুর রহমানের রয়েছে সুদীর্ঘ ৫৭ বছরেরও বেশি সময় কাজের এক সুবিশাল অভিজ্ঞতা। তাঁর প্রধান প্রধান কর্মক্ষেত্রগুলো হলো:

ব্যাংকিং সেক্টর ও পূবালী ব্যাংক: ব্যাংকিং খাতে তাঁর সম্পৃক্ততা একেবারেই তরুণ বয়স থেকে। স্বাধীনতার পূর্বে প্রতিষ্ঠিত ‘ইস্টার্ন মার্চেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেড’-এর সর্বকনিষ্ঠ পরিচালক ছিলেন তিনি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই ব্যাংকটিই ‘পূবালী ব্যাংক’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। তিনি ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দীর্ঘ সময় অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি ব্যাংকের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং সম্প্রতি (২০২৬ সালের জুন মাসে) পরিচালনা পর্ষদের ১৫২০তম সভায় সর্বসম্মতিক্রমে আগামী ২ বছরের জন্য পুনরায় পূবালী ব্যাংক পিএলসি-এর চেয়ারম্যান হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হন।

চা শিল্প: পারিবারিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায় চা উৎপাদন ব্যবসায় তিনি একজন শীর্ষস্থানীয় উদ্যোক্তা। তিনি দেশের অন্যতম প্রধান চা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান রেমা টি কোম্পানি লিঃ এর চেয়ারম্যান।

ইনস্যুরেন্স ও অন্যান্য সেক্টর: তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় জীবন বীমা প্রতিষ্ঠান ডেল্টা লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড -এর সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া বিশ্বখ্যাত বহুজাতিক সিমেন্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেড এর ইন্ডিপেনডেন্ট ডিরেক্টর (স্বতন্ত্র পরিচালক) হিসেবেও দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর।

ব্যবসায়িক সংগঠন: দেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর শীর্ষ সংগঠন ‘বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজ’ (BAPLC)-এর নির্বাহী কমিটির একজন নির্বাচিত সদস্য হিসেবে তিনি কাজ করেছেন।

৪. সামাজিক ও অন্যান্য অবদান
ব্যবসায়িক ব্যস্ততার পাশাপাশি মনজুরুর রহমান বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠনের সাথে যুক্ত আছেন:

তিনি বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের কল্যাণে নিয়োজিত বিখ্যাত সংস্থা ‘বাংলাদেশ প্রতিবন্ধী ফাউন্ডেশন’ -এর ট্রাস্টি বোর্ডের সম্মানিত সদস্য।

তিনি ঢাকা ক্লাব লিমিটেড, আর্মি গলফ ক্লাব লিমিটেড এবং কুর্মিটোলা গলফ ক্লাব লিমিটেডের মতো দেশের অভিজাত ক্লাবগুলোর স্থায়ী সদস্য।

মনজুরুর রহমান তাঁর সততা, দূরদর্শিতা এবং দূরপ্রসারী প্রাতিষ্ঠানিক চিন্তাভাবনার মাধ্যমে পূবালী ব্যাংককে আধুনিক ব্যাংকিং সেবায় রূপান্তর করতে অনন্য ভূমিকা রেখে চলেছেন। বাংলাদেশের কর্পোরেট ও আর্থিক খাতে মনজুরুর রহমান একজন অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় এবং অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব।

আবাসন খাত করমুক্ত হলে ৩৬০০ শিল্প চাঙ্গা হবে, বাড়বে রাজস্ব

মানোয়ার হোসেন

আমি এবারের বাজেটকে ‘ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত’ বাংলাদেশের ভিত্তি তৈরির রূপরেখা হিসেবে দেখছি। এটি প্রচলিত সংখ্যা বা অঙ্কের হিসাবের বাইরে গিয়ে তৈরি করা একটি ব্যতিক্রমী বাজেট।

গত কয়েক বছরের গতানুগতিক বাজেটের পর এটিকে একটি গতি ফিরিয়ে আনার (ক্যাচ-আপ) বাজেট বিশেষ করে সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে জোর দিয়ে মানবসম্পদ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক। বৈশ্বিক যোগাযোগের এই যুগে একটি ‘তৃতীয় ভাষা’ চালুর পরিকল্পনাটি চমৎকার, যা তরুণদের জন্য নতুন সুযোগের দুয়ার খুলে দেবে। অনেকে বাজেটকে বড় বললেও আমি দ্বিমত পোষণ করি, অর্থনীতির চাকা যদি পূর্ণ শক্তিতে দ্রুত ঘোরে, তবে এই রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা অসম্ভব নয়।

আবাসন খাতের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ও কর নীতি : আমি সব সময়ই আবাসন বা রিয়েল এস্টেট খাতকে সম্পূর্ণ করমুক্ত করার পক্ষে।

আবাসন কেবল মানুষের মৌলিক চাহিদাই নয়, এই একটি খাত চাঙ্গা হলে এর সঙ্গে যুক্ত তিন হাজার ৬০০টি সেবা ও উৎপাদনমুখী শিল্প খাত স্বয়ংক্রিয়ভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে। আবাসন খাত থেকে কর ছাড় দিলে সরকার যে রাজস্ব হারাবে, তার চেয়ে অনেক বেশি রাজস্ব উঠে আসবে এর সঙ্গে যুক্ত লিংকেজ শিল্পগুলোর প্রবৃদ্ধি থেকে। যেমন আমাদের সিমেন্টশিল্প এখন ক্ষমতার মাত্র ৫৫ শতাংশ উৎপাদনে রয়েছে। এটিকে যদি ৮০ শতাংশে উন্নীত করা যায়, তবে এই এক খাত থেকেই বছরে অতিরিক্ত দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় সম্ভব। একইভাবে ইস্পাত, সিরামিকস, রং, কেবল, ফিটিংস, লজিস্টিকস ও ব্যাংকিং খাতে যে বিশাল বহুমাত্রিক প্রভাব পড়বে, তা অর্থনীতিকে অনেক দূর এগিয়ে নেবে।

ঋণনির্ভরতা বনাম বৈশ্বিক ইক্যুইটি পুঁজি: তবে বাজেটের একটি দুর্বলতা হলো—এর অতিরিক্ত ঋণনির্ভরতা। শুধু ঋণ নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা যায় না। বাংলাদেশকে এখন ধারের বাইরে এসে অবকাঠামো খাতে বিদেশি ইক্যুইটি পুঁজি বা অংশীদারির মূলধন আকর্ষণে জোরালোভাবে মনোযোগ দিতে হবে।

বিশ্ববাজারে বর্তমানে প্রায় দুই ট্রিলিয়ন ডলারের বৈশ্বিক প্রাতিষ্ঠানিক তহবিল দীর্ঘমেয়াদি ও স্থিতিশীল অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজছে।

বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় দেশ। আমাদের মেগা অবকাঠামো প্রকল্পগুলোতে আমরা কেন সেই তহবিল থেকে কয়েক বিলিয়ন ডলারের সরাসরি বিনিয়োগ আনতে পারব না? আমাদের এখন ঋণের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিদেশি অংশীদারি পুঁজি আনার কৌশলগত নীতি গ্রহণ করতে হবে। তবে পিভিসি রেজিনের আমদানি শুল্ক বৃদ্ধি দেখে আমি বেশ বিস্মিত হয়েছি। বাংলাদেশের জন্য পিভিসিভিত্তিক পণ্যগুলো সবচেয়ে সম্ভাবনাময় মূল্য সংযোজিত রপ্তানি খাতগুলোর মধ্যে অন্যতম। সঠিকভাবে সহায়তা করা গেলে আগামী ১০ বছরের মধ্যে এই খাতটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিশিল্পে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে।

নতুনভাবে বাড়ানো আমদানি শুল্ক শুধু এই রপ্তানি সম্ভাবনাকেই বাধাগ্রস্ত করবে না, বরং দেশের ছোট শহরগুলোতে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে যে শিল্পটির প্রসার শুরু হয়েছিল, তাকেও নিরুৎসাহ করবে। তা ছাড়া এনবিআর কর্তৃক নির্ধারিত অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু বৃদ্ধি বাস্তব তথ্যভিত্তিক নয়। বরং এটি প্রশংসনীয় বাজেটের ওপর একটি কালো দাগ। আমি এটিকে একটি অনিচ্ছাকৃত ওভারসাইট হিসেবে বিবেচনা করে অবিলম্বে সংশোধনের অনুরোধ জানাচ্ছি।

লেখক-

চেয়ারম্যান, আনোয়ার গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ