All posts by jitu

হোমনায় ৬ বছরের শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু: জড়িতদের গ্রেপ্তার ও ন্যায়বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

রাসেল আহমেদ, হোমনা:

কুমিল্লার হোমনায় ৬ বছরের শিশু আয়েশা আক্তারের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার ঘাগুটিয়া ইউনিয়নের চুনারচর এলাকায় এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নিহত শিশু আয়েশা আক্তারের স্বজন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও এলাকাবাসী অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, শিশু আয়েশা আক্তারের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য দ্রুত উদঘাটন করতে হবে। ঘটনার সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, একটি নিষ্পাপ শিশুর এমন রহস্যজনক মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ঘটনার পর থেকে পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। তাই দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান তারা।

মানববন্ধনে নিহত শিশু আয়েশা আক্তারের পরিবারের সদস্যরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাদের সন্তানের মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটন ও ন্যায়বিচারের দাবি জানান। তারা প্রশাসনের প্রতি দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের আহ্বান জানান।

বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনা না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

আদালতের আদেশ অমান্যের স্বীকারোক্তি ক্ষমা চেয়ে পদ থেকে অব্যাহতি নিলেন সুজন

কুমিল্লা প্রতিনিধি:

কুমিল্লার ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকাকে চেয়ার থেকে লাথি দিয়ে ফেলে দেওয়া বহিষ্কৃত প্রধান শিক্ষক আমনিুল ইসলাম সুজন স্বীয় পদ থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। ব্রাহ্মণপাড়ার বেড়াখলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্তকর্তার নিকট লিখিত ভাবে অব্যহতিপত্র জমা দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুন্নী ইসলাম।

একই সাথে আদালতের আদেশ অমান্য করে অবৈধভাবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের চেয়ারে বসার দায় স্বীকার করে সুজন। ১০ আগষ্ট স্বাক্ষরিত অব্যহতিপত্রটি জমা দেন আমিনুল ইসলাম সুজন৷ সুজন বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের উপর হামলার মামলায় একাধিক বার গ্রেফতার হয়ে জেল হাজতে ছিলেন। সে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।

অব্যাহতিপত্রে বহিষ্কৃত প্রধান শিক্ষক সুজন উল্লেখ্য করেন, ‘গত বছরের ২০ নভেম্বর আমি মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করি। উক্ত রিট পিটিশনে মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগ গত ২০ জানুয়ারী আমার আবেদনটি আইনানুগভাবে নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করেন। আমি সেই অনুযায়ী বিদ্যালয়ের সম্মানিত সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর পূর্বের সভাপতি মোঃ জামসেদ আলমের বিদ্যালয়ে যোগদানের নির্দেশ ও আইনানুগভাবে নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদানের কপি সংযুক্ত করে সভাপতি মহোদয়ের বরাবর আবেদন পত্র প্রদান করি। মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ সঠিকভাবে বুঝতে না পারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবরে অনিচ্ছাকৃত ভুল-বশত যোগদানের একটি অবগত পত্র প্রেরণ করি। উক্ত পত্রকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতির কারনে বর্তমান বিষয়টি পুনরায় মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে। এই অবস্থায় বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম প্রশাসনিক শৃঙ্খলা এবং প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক স্বার্থ বিবেচনা করে আমি স্বেচ্ছায় প্রধান শিক্ষক পদ হতে অব্যাহতি গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছি’।

আদালতের রিট পিটিশনের অপব্যাখ্যা করে বিদ্যালয়ে মব তৈরী করে সুজন। গত ২৯ মার্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা হাছিনা ইসলামকে লাথি দিয়ে চেয়ার থেকে ফেলে দেয় তার অনুসারীরা। মারধর করা হয় তাকে। এরই প্রেক্ষিতে বহিস্কৃত প্রধান শিক্ষক সুজনকে বিদ্যালয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে আদালত করে আদালত৷ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা হাছিনা ইসলাম জানান, এখনো বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের চেয়ার দখল করে আছেন সুজন৷ শিক্ষকদের হাজিরা খাতা তার অধিনে লোকিয়ে রেখেছেন৷ ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা যেন বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে না পারেন তার জন্য নানা ভাবে হুমকি দিয়ে আসছেন।

এই বিষয়ে জানতে বহিস্কৃত প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম সুজনকে ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি৷

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুন্নী ইসলাম বলেন, বেড়াখলা আবদুল মতিন খসরু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের বহিস্কৃত প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম সুজনের অব্যাহতিপত্রটি পেয়েছি। মাউশি থেকে যে আদেশ আসবে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে৷

প্রসঙ্গত, আমিনুল ইসলাম সুজন ২০০৪ সাল থেকে নিজেকে বেড়াখলা আবদুল মতিন খসরু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দাবি করে আসছিলেন। তবে ২০২৩ সালে এক সহকারী শিক্ষকের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে বেরিয়ে আসে যে, তিনি জাল নথিপত্র ও ভুয়া স্বাক্ষরের মাধ্যমে এই পদটি দখল করেছিলেন। কুমিল্লা জেলা শিক্ষা অফিস এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের একাধিক তদন্তে তার নিয়োগ ‘জাল ও অনিয়মিত’ বলে প্রমাণিত হয়। এর প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

পবিত্র ঈদে মাজিউন্নবী (ﷺ) ঈদে মিলাদুন্নবী (ﷺ) উদযাপন উপলক্ষে শাহপুর দরবার শরীফের জসনে জুলুস

স্টাফ রিপোর্টার:

পবিত্র ঈদে মাজিউন্নবী (ﷺ) ঈদে মিলাদুন্নবী (ﷺ) উপলক্ষে কুমিল্লায় শাহপুর দরবার শরীফের উদ্যোগে এক বিশাল জসনে জুলুস অনুষ্ঠিত হয়েছে। কুমিল্লা শাহপুর দরবার শরীফ এর আলহাজ্ব শেখ শাহজাদা সৈয়দ গোলাম মুহাম্মদ আবদুল কাদের কাওকাব আল-কাদেরী পীর সাহেবের নেতৃত্বে আয়োজিত এ পবিত্র ঈদে মাজিউন্নবী (ﷺ) ঈদে মিলাদুন্নবী (ﷺ) জসনে জুলুসে শাহপুর দরবার শরীফের ভক্ত-মুরিদ,কুমিল্লা মহানগর জিকরুল্লাহ ইসলামিয়া যুব কমিটি সহ সর্বস্তরের সুন্নী আশেকে রাসূল (দ.) অংশগ্রহণ করেন।

প্রতি বছরের ১২ই রবিউল আউয়াল বিকেল ৩ টা ২৪ মিনিটে শাহপুর দরবার শরীফ থেকে কুমিল্লা টাউন হল ময়দানে জুলুস শুরু হয়। এরপর হাজারো ধর্মপ্রাণ মানুষের অংশগ্রহণে জুলুসটি কুমিল্লা টাউন হল ময়দান থেকে যাত্রা শুরু করে নগরীর কেন্দ্রীয় ঈদগা,মোগলটুলি,রাজগঞ্জ, ও কান্দিরপাড়সহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
জুলুস শেষে টাউন হল ময়দানে আল্লাহ আল্লাহ জিকির মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে মাহফিল শেষে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় মিলাদ, কিয়াম ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বক্তারা পবিত্র ঈদে মাজিউন্নবী (ﷺ) ঈদে মিলাদুন্নবী (ﷺ) নুরুন্নবী (দঃ) দুনিয়ায় নূরানী শুভাগমন স্মরণে আলোচনা করে।

জসনে জুলুস উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা ৬ আসনের সাংসদ আলহাজ্ব মনিরুল হক চৌধুরী, কুমিল্লা সিটি করপোরেশন এর প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু,কুমিল্লা উন্নয়ন এর চেয়ারম্যান উৎবাতুল বারী আবু,শাহপুর দরবার শরীফের বিশিষ্ট খাদেম আলহাজ্ব আতাউর রহমান, আলহাজ্ব মো. শহিদুল ইসলাম মাস্টার,জিকরুল্লা ইসলামিক কমিটি কুমিল্লা মহানগরের সভাপতি আলহাজ ডা. মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন আল কাদেরী, সেক্রেটারি আলহাজ্ব মো. শরিফুল ইসলাম আল কাদেরী,জিকরুল্লা ইসলামিয়া যুব কমিটি কুমিল্লা মহানগর এর সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মামুনুর রশীদ,মোহাম্মদ কবির হোসেন,মেডিকেল মো. শহিদুল ইসলাম, প্রবাসী জিকরুল্লাহ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম রিপন এবং জিকরুল্লাহ ইসলামিক কমিটি বুড়িচং আঞ্চলিক শাখার সেক্রেটারি আলহাজ্ব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান আল কাদেরী,বিশিষ্ঠ মিডিয়া ব্যক্তিত্ব গাজী সোলাইমান আল কাদেরী, মাওলানা কাউছার আহমদ শাহপুরী, মাওলানা শামীন রেজা,মাওলানা মাহবুব রেজা,মাওলানা ফজলুল করীম, সহ বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও সাংগঠনিক নেতৃবৃন্দ।
আগত সকল অতিথিদের কুমিল্লা মহানগর জিকরুল্লাহ ইসলামিয়া যুব কমিটি নেতৃবৃন্দ শুভেচ্ছা অভিনন্দন জানান।

কুমিল্লা মহানগর জিকরুল্লাহ ইসলামিয়া যুব কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান, পবিত্র ঈদে মাজিউন্নবী (ﷺ) ঈদে মিলাদুন্নবী (ﷺ) নুরুন্নবী (দঃ) প্রেম নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং সত্য, ন্যায় ও মানবতার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে প্রতিবছর জসনে জুলুস এর আয়োজন করা হয়। শান্তিপূর্ণ ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারীরা নুরুন্নবী (দঃ) আদর্শ অনুসরণের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বউয়ের চিকিৎসার জন্য ১৭ বছর আগে বন্ধক দিয়েছিলেন জমি, টাকা নিয়ে ফেরত চাইতে গেলে মিলল প্রাণনাশের হুমকি!

লাকসাম প্রতিনিধি:

​লালমাইের আলোকদিয়া অভাবের তাড়নায় ও স্ত্রীর অসুস্থতার সময় বিপদে পড়ে ১৭-১৮ বছর আগে ৫২ হাজার টাকায় নিজের ১২ শতক জমি বন্ধক রেখেছিলেন এক অসহায় রিকশাচালক। দীর্ঘ দিনে হাড়ভাঙা খাটুনি ও তিলে তিলে জমানো সেই টাকা দিয়ে জমিটি ফেরত চাইতে গেলে এখন আর তা ছাড়তে নারাজ প্রভাবশালী দখলদাররা। উল্টো ভুক্তভোগী রিকশাচালক জমি ফেরত চাইতে গেলে তাকে মারধর ও প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।

​চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়নের পূর্ব আলোকদিয়া গ্রামে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে গত ১৭ আগস্ট ভুক্তভোগী রিকশাচালক আবদুল আজিজ (৫৫) বাদি হয়ে লালমাই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

​অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী আবদুল আজিজ পেশায় একজন রিকশাচালক। তিনি লাকসাম পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের উত্তর লাকসাম এলাকার মৃত আবদুল লতিফের ছেলে। তিনি ২০০৩ সালে সাফ কবলা দলিলমূলে (দলিল নং- ৬৩৩৯) পূর্ব আলোকদিয়া মৌজায় ১২ শতক ভিটি জমির মালিক হন। পরবর্তীতে সংসারে চরম অভাব-অনটন এবং স্ত্রীর চিকিৎসার প্রয়োজনে প্রায় ১৭-১৮ বছর আগে এলাকার মো. বাবুল মিয়ার নিকট ৫২ হাজার টাকায় উক্ত জমিটি বন্ধক দেন। তখন মৌখিক বা চুক্তি অনুযায়ী কথা ছিল আবদুল আজিজ যখনই ৫২ হাজার টাকা ফেরত দেবেন, তখনই বিবাদী জমির দখল বুঝিয়ে দেবেন।

​কিন্তু গরিব রিকশাচালক আবদুল আজিজের পক্ষে এককালীন ওই টাকা জোগাড় করতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। এই সুযোগে অভিযুক্ত ১নং বিবাদী মো. বাবুল মিয়া (৫৮) ও তার ছেলে ২নং বিবাদী মো. সোহেল (৩৬) ওই জমিতে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে জবরদখল করে বসবাস শুরু করেন।

​সম্প্রতি কষ্টার্জিত উপার্জনে বন্ধকের সেই ৫২ হাজার টাকা পুরোপুরি হাতে পাওয়ার পর আবদুল আজিজ অভিযুক্তদের কাছে গিয়ে টাকা গ্রহণ করে তার জমির দখল ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান। কিন্তু অভিযুক্তরা টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানান এবং জমি কোনোভাবেই ফেরত দেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন।

​সর্বশেষ গত ১৭ আগস্ট ২০২৬ ইং তারিখ সকাল অনুমান ১০টার দিকে আবদুল আজিজ পূর্ব আলোকদিয়া সাকিনে নিজের মালিকীয় জমিতে উপস্থিত হয়ে পুনরায় টাকা নিয়ে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করলে বিবাদীদ্বয় ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারার জন্য তেড়ে আসে এবং প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। বর্তমানে অভিযুক্তদের হুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ওই রিকশাচালক পরিবার। এলাকায় এই নিয়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যেকোনো মুহূর্তে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন।

​এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আবদুল আজিজ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি গরিব মানুষ, রিকশা চালিয়ে কোনোমতে সংসার চালাই। সেদিন স্ত্রীর অসুস্থতা ও টাকার তাড়নায় জমিটি বন্ধক দিয়েছিলাম। আজ অনেক কষ্ট করে টাকাটা জোগাড় করেছি। কিন্তু তারা আমার শেষ সম্বল জমিটুকু আর ফেরত দিচ্ছে না, আমাকে মারতে আসছে। আমি প্রশাসনের কাছে এর সঠিক বিচার ও আমার জমি ফেরত চাই।

​এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

​ঘটনার বিষয়ে লালমাই থানার নজরুল ইসলাম জানান, জমি বন্ধক ও জবরদখলের বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

দাউদকান্দিতে ডাকাতসহ ৭ জন গ্রেপ্তার

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশ পৃথক অভিযান চালিয়ে মাদককারবারি ও ডাকাতির প্রস্তুতিকালে সাত জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পর তাদের কুমিল্লা জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তাররা হলেন- সায়মা আক্তার (১৯), সুমি বেগম (২৩) এবং শরীফ হোসেন (৩৩), মো. আরিফ (২৮) ও মো. রমজান হোসেনকে (৩৫)। গৌরীপুর এলাকার এজাহারনামীয় আসামি মো. আল আমিন হোসেন (৪৫) গ্রেপ্তার হন। আদালতের ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মো. সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মডেল থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এসআই আজিজুল ইসলাম, এসআই রবিউল ইসলাম, এসআই রেজোয়ানুল ইসলাম, এসআই আবুল কাওসার, এসআই আরিফুর রহমান, এসআই দিবাকর বড়ুয়া এবং এএসআই মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল থানার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে ৮ কেজি গাঁজা ও ৫০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হন সায়মা আক্তার, সুমি বেগম এবং শরীফ হোসেন। ডাকাতির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে মো. আরিফ ও মো. রমজান হোসেনকে। নিয়মিত (মারামারি) মামলায় গৌরীপুর এলাকার এজাহারনামীয় আসামি মো. আল আমিন হোসেন গ্রেপ্তার হন। এছাড়া আদালতের ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি মো. সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম জানায়, গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট পৃথক মামলায় বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

কুমিল্লায় তিন সাংবাদিকের ওপর হামলা: প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার সদর দক্ষিণে সংবাদ সংগ্রহে যাওয়ার পথে তিন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত শাওনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ভোররাতে উপজেলার বিজয়পুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিবি পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শাওন আত্মগোপনে ছিলেন। ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামছুল আলম শাহ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, সদর দক্ষিণ থানায় মামলা হওয়ার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাত প্রায় তিনটার দিকে বিজয়পুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এর আগে গতকাল বুধবার দুপুরে সদর দক্ষিণ উপজেলার উত্তর রামপুরের মিস্ত্রীপুকুর পাড় এলাকায় সাংবাদিকেরা হামলার শিকার হন। আহত ব্যক্তিরা হলেন যমুনা টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার রফিকুল ইসলাম চৌধুরী (খোকন), ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের কুমিল্লা প্রতিনিধি তানভীর দীপু এবং স্টার নিউজের কুমিল্লা ব্যুরো রিপোর্টার আবদুল্লাহ আল মারুফ।

জানা যায়, লালমাইয়ের দিকে সংবাদ সংগ্রহে যাওয়ার পথে পদুয়ার বাজার মোড়ের যানজট এড়াতে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করছিলেন সাংবাদিকেরা। উত্তর রামপুর বিদ্যুৎ অফিসের সামনের সড়কে স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া লোহার ব্যারিকেডের কারণে যানজট তৈরি হয়েছিল। সাংবাদিক তানভীর দীপু সামনে এগিয়ে ব্যারিকেডটি উঁচু করে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করছিলেন।

এ সময় অভিযুক্ত শাওন সেখানে এসে তানভীরের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান এবং একপর্যায়ে তাকে ধাক্কা দেন। সহকর্মী মারুফ এগিয়ে এলে শাওন রড নিয়ে আক্রমণের চেষ্টা চালান। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে সরিয়ে দিলে সাংবাদিকেরা স্থান ত্যাগ করার চেষ্টা করেন। তবে কিছুক্ষণ পরই শাওন পুনরায় এসে সাংবাদিকদের ওপর অতর্কিত হামলা চালান।

এ ঘটনায় সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে মামলা করা হলে জেলা পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযানে নামে।

হামলার ঘটনার পর ক্ষোভ প্রকাশ করে কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, সংবাদ সংগ্রহকালে সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয়। অপরাধীকে দ্রুততম সময়ে গ্রেপ্তার করায় জেলা পুলিশ ও ডিবিকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এ ধরনের দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ ভবিষ্যতে অপরাধ প্রবণতা কমাতে সাহায্য করবে।

কুমিল্লাকে ‘গ্রীন ও ক্লিন সিটি’ রূপান্তরের প্রত্যয়, রোটারি ক্লাব ময়নামতির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টার:

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও নগরীকে সবুজায়নের লক্ষ্যে কুমিল্লায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করেছে রোটারি ক্লাব ময়নামতি।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট)বিকাল ৪টায় ঝাউতলাস্থ পানি ভবন চত্বরে এ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

রোটারি ক্লাব ময়নামতির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক জনাব ইউসুফ মোল্লা টিপু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বিভাগ (বাপাউবো), কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী জনাব মোহাম্মদ রাশেদ শাহরিয়ার, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী কুমিল্লা পওর উপ-বিভাগ-১, বাপাউবো মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান খান।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি মোহাম্মদ নাহিদ রানা, এনসপি কুমিল্লা মহানগরের সদস্য সচিব ও ক্লাব মেম্বার রো. মাসুমুল বারী কাওসার, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম, পানি উন্নয়ন বিভাগের কর্মচারী সমিতির সেক্রেটারি মো. রফিকুল ইসলাম, রোটারি ক্লাব ময়নামতির প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান কেএম শামীম উদ্দিন।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রোটারিয়ান সুলতান মো. ইলিয়াত সোহা, বিকাশ চন্দ্র সাহা, আবু আকমান মাসুদ মজুমদার, আবুল বাশার, মো. শহীদ, মনিরুল ইসলাম শাওন, আবু তাহের তপন, মো. শাহিনুর ইসলামসহ অন্যান্য রোটারিয়ান, রোটারেক্টর, ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।

অনুষ্ঠানের প্রোগ্রাম চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাকির হোসেনের নেতৃত্বে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, “বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি একটি মহৎ কাজ। রোটারি ক্লাব ময়নামতি মানবসেবার যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, এজন্য তাদের সাধুবাদ জানাই। রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে আমাদের কাজও মানবসেবা করা, রোটারিও মানবসেবার কাজ করে আসছে। আমরা সবাই একই পথের পথিক।”

তিনি আরও বলেন, “সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা কুমিল্লাকে একটি গ্রীন ও ক্লিন সিটিতে রূপান্তরিত করতে চাই।”

প্রোগ্রাম চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, “বাংলাদেশ ছয় ঋতুর দেশ হলেও বর্তমানে আমরা মূলত গ্রীষ্ম ও শীতের তীব্রতা বেশি অনুভব করছি।

নগরায়নের ফলে কুমিল্লায় দিন দিন বৃক্ষের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে পরিবেশের ওপর। তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বাড়ছে।”

তিনি বলেন, “পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। আমরা কুমিল্লাকে সবুজ নগরীতে রূপান্তর করতে চাই। প্রতিটি বহুতল ভবনের ছাদেও বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।”

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজ কুমিল্লা গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন আয়োজকরা।

হোমনায় গাঁজা ও পিকআপসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার

রাসেল আহমেদ, হোমনা:

কুমিল্লার হোমনায় অভিযান চালিয়ে ১৪ কেজি গাঁজা ও একটি পিকআপ গাড়িসহ মো. মোশারফ হোসেন (২৭) নামের এক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার সন্ধ্যা ৫টা ২৫ মিনিটে উপজেলার মাথাভাঙ্গা ইউনিয়নের মুন্সীকান্দি কবরস্থানের সামনে ছিনাইয়া-মেঘনা পাকা রাস্তার ওপর এই অভিযান পরিচালিত হয়। গ্রেফতারকৃত মোশারফ হোসেন কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ৮নং পৌর ওয়ার্ডের ভোষনা (সরকার বাড়ি) এলাকার মনির সরকারের ছেলে।

পুলিশ জানায়, হোমনা থানার এসআই (নিঃ) ইছমাইল হোসেন ও এএসআই (নিঃ) আমিরুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্সসহ হোমনা থানা এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও মাদকবিরোধী ডিউটি করাকালীন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই স্থানে অবস্থান নেন। পরে তল্লাশি চালিয়ে ১৪ কেজি গাঁজা এবং মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি পিকআপসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়।

এ বিষয়ে হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা রুজু প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মাদক নির্মূলে হোমনা থানা পুলিশের এমন অভিযান অব্যাহত থাকবে।