All posts by jitu

রাজধানীতে ৬ নবজাতকের ক্লাস্টার মৃত্যু: সম্ভাব্য কারণ, বিশ্লেষণ ও করণীয়

কর্নেল ডা. নাজমুল হুদা খান (অব.):

রাজধানীর মগবাজারে একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একটি ওয়ার্ডে ৬ নবজাতকের ক্লাস্টার মৃত্যুর ঘটনা সারা দেশে ও শিশুগুলোর পরিবারে শোকাবহ অবস্থার উদ্ভব ঘটিয়েছে। এসির গ্যাস লিকেজ থেকে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মতে, তাদের পোস্ট অপারেটিভ ওয়ার্ডে এই দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হয়েছে, সেখানে ১১ জন মা ছিলেন, আর সদ্য ভূমিষ্ঠ শিশু ছিল ছয়জন। তাদের বয়স একদিন-দুইদিন। ঠান্ডা অনুভব করায় এক মা এসি বন্ধ রাখার অনুরোধ করেন। পরে এক নার্স প্রায় এক ঘণ্টার মতো এসি বন্ধ রাখেন। গরম লাগলে এসি চালু করতে বললে দুই শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে। এর কিছুক্ষণ পর বাকি চার শিশুও অসুস্থ হয়। এক পর্যায়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছয় শিশুর মৃত্যু ঘটে।

চিকিৎসা বিজ্ঞান ও হাসপাতাল নিরাপত্তা ব্যবস্থার দৃষ্টিকোণ থেকে এ ঘটনাকে “Cluster Neonatal Death” বা “Sentinel Event”। এ ধরনের ঘটনায় তড়িঘড়ি করে কোনো একটি কারণ নির্ধারণ না করে পূর্ণাঙ্গ বৈজ্ঞানিক তদন্ত করা অত্যন্ত জরুরি।

ক্লাস্টার মৃত্যু কী?

একই সময় ও একই স্থানে একাধিক রোগীর আকস্মিক মৃত্যু বা গুরুতর অসুস্থতাকে “Cluster Death” বলা হয়। বিশেষ করে নবজাতক, ICU বা পোস্ট-অপারেটিভ রোগীরা অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় সামান্য প্রযুক্তিগত বা পরিবেশগত ত্রুটিও প্রাণঘাতী হতে পারে।

এ সম্ভাব্য ক্লাস্টার মৃত্যুর সম্ভ্যাব্য কারণসমূহ-

১। মেডিকেল গ্যাস পাইপলাইনের ত্রুটি

হাসপাতালে কেন্দ্রীয় পাইপলাইনের মাধ্যমে অক্সিজেন, মেডিকেল এয়ার ও অন্যান্য গ্যাস রোগীদের প্রয়োজনে সরবরাহ করা হয়। রক্ষণাবেক্ষণ বা মেরামতের সময় ত্রুটিপূর্ণ সংযোগ, গ্যাস অদলবদল বা পাইপলাইনে দূষণ রোগীদের স্বাস্থ্যের মারাত্মক বিপর্যয়ের কারন হতে পারে।

ত্রুটিসমূহ

  • অক্সিজেন লাইনে নাইট্রোজেন চলে যাওয়া
  • কমপ্রেসড এয়ার প্রবেশ
  • ক্রস কানেকশন
  • সেন্ট্রাল গ্যাস ম্যানিফোল্ডে ত্রুটি

বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

মানবদেহ বিশেষ করে নবজাতকের মস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্র অক্সিজেনের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। অক্সিজেনের পরিবর্তে অন্য গ্যাস প্রবাহিত হলে দ্রুত রক্ত ও দেহ কোষে অক্সিজেন স্বল্পতার সৃষ্টি হয়। ফলে নবজাতকদের অক্সিজেনের অভাবে কয়েক মিনিটের মধ্যেই হৃদযন্ত্র বিকল হয়ে যেতে পারে।

২। অক্সিজেন সরবরাহ ঘাটতি
হাসপাতালের কেন্দ্রীয় অক্সিজেন ব্যবস্থায় ত্রুটি হলে একইসাথে বহু রোগী আক্রান্ত হতে পারে।

বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

মানবদেহ বিশেষ করে নবজাতকের মস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্র অক্সিজেনের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। অক্সিজেনের পরিবর্তে অন্য গ্যাস প্রবাহিত হলে দ্রুত রক্ত ও দেহ কোষে অক্সিজেন স্বল্পতার সৃষ্টি হয়। ফলে নবজাতকদের অক্সিজেনের অভাবে কয়েক মিনিটের মধ্যেই হৃদযন্ত্র বিকল হয়ে যেতে পারে।

২। অক্সিজেন সরবরাহ ঘাটতি
হাসপাতালের কেন্দ্রীয় অক্সিজেন ব্যবস্থায় ত্রুটি হলে একইসাথে বহু রোগী আক্রান্ত হতে পারে।

সম্ভাব্য কারণ-

  • অক্সিজেন ট্যাংক খালি হয়ে যাওয়া
  • ম্যানিফোল্ডে ত্রুটি
  • অক্সিজেনের চাপ হ্রাস
  • পাইপলাইনে লিকেজ
  • বিদ্যুৎ বিভ্রাটে অক্সিজেন কনসেন্ট্রেটর বন্ধ হওয়া

অক্সিজেন ঘাটতির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া-

স্বাভাবিক বাতাসে অক্সিজেন প্রায় ২১% থাকে। অক্সিজেন কমে গেলে:

  • ১৬% → শ্বাসকষ্ট
  • ১০–১২% → অজ্ঞান
  • ৬% এর নিচে → দ্রুত মৃত্যু

নবজাতকদের ক্ষেত্রে আরও দ্রুত- হৃদপিণ্ডের গতি হ্রাস, রক্তে অক্সিজেনের ঘাটতি, বিপাক প্রক্রিয়ায় জটিলতা শ্বাস ও হৃদযন্ত্র বিকলের মত ঘটনা ঘটতে পারে।

৩। রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস লিকেজ
এসি পুনরায় চালুর সময় রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস লিক হলে বদ্ধ কক্ষে অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যেতে পারে।

প্রচলিত রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস যথাঃ R-৩২, R-৪১০এ, R-১৩৪এ, ও ফ্রিওন গ্যাস উৎপত্তি ঘটতে পারে।

সম্ভাব্য ক্ষতি

  • অক্সিজেনের ঘনত্ব হ্রাস
  • মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা হ্রাস
  • হৃদযন্ত্রের ছন্দপতন
  • হৃদযন্ত্রে ক্রিয়া বন্ধ

ঝুঁকি বাড়ার কারন

  • ছোট ও বদ্ধ কক্ষ
  • ভেন্টিলেশন খারাপ থাকা
  • বেশীমাত্রার গ্যাস লিক হওয়া

নবজাতক বা অক্সিজেন-নির্ভর রোগী থাকা
তবে শুধুমাত্র এসি গ্যাস লিকেজ হয়ে ক্লাস্টার মৃত্যু তুলনামূলক কম বলে চিকিৎসা ইতিহাসে দেখা গেছে।

৪। কার্বন মনোক্সাইড জাতীয় বিষাক্ত গ্যাস বা পরিবেশগত দূষণ

সম্ভাব্য উৎস

  • জেনারেটরের ধোঁয়া
  • কার্বন মনোক্সাইড (CO) উৎপত্তি
  • অ্যানেস্থেটিক গ্যাস
  • জীবাণুনাশক কেমিক্যালস
  • ফিউমিগেশন গ্যাস

কার্বন মনোক্সাইড কেন বিপজ্জনক?

কার্বন মনোক্সাইড রক্তের হিমগোগ্লোবিনের সাথে অক্সিজেনের তুলনায় ২০০–২৫০ গুণ বেশি পরিমানে ও দ্রুত যুক্ত হতে পারে। ফলে শরীরে অক্সিজেন পরিবহন বন্ধ হয়ে যায় এবং দ্রুত শরীরে অক্সিজেনের শূন্যতা তৈরি হয়।

৫। ভেন্টিলেশন বা বৈদ্যুতিক সমস্যা

এসি চালুর সময়:

  • বিষাক্ত ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়া
  • জেনারেটরের গ্যাস ঢুকে যাওয়া
  • ইনকিউবেটর/মনিটর কাজ না করা
  • ভেন্টিলেশন বন্ধ হয়ে যাওয়া

এসবও ক্লাস্টার মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

৬। সংক্রমণ বা পূর্ববর্তী গুরুতর অসুস্থতা
নবজাতকদের মধ্যে:

  • সেপসিস বা রক্তে গুরুতর সংক্রমণ
  • অকালে জন্মগ্রহন
  • জন্মগত ত্রুটি

শ্বাসপ্রশ্বাস জটিলতা ইত্যাদি থাকতে পারে। তবে একইসাথে সবার দ্রুত অবনতি সাধারণত পরিবেশগত বা সিস্টেমজনিত কারণের দিকেই ইঙ্গিত করে।

নবজাতকদের ঝুঁকির কারন

  • ফুসফুস অপরিপক্ব থাকে
  • দেহে অক্সিজেন রিজার্ভ কম থাকে
  • শ্বাস প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ দুর্বল থাকে
  • রক্তের বিশুদ্ধকরন প্রক্রিয়া দুর্বল
  • মস্তিষ্ক পুরোপুরি কর্মক্ষম থাকেনা
  • প্রতিরোধ কক্ষমতা কম থাকে

ফলাফল:

দ্রুত অক্সিজেন শূন্যতা সৃষ্টি
বিপাক জটিলতা
মস্তিষ্কে ইনজুরি
হৃদযন্ত্রে ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

ক্লাস্টার মৃত্যুতে জরুরি তদন্তে কী কী দেখতে হবে?

ক্লিনিক্যাল

  • কার কখন অবস্থা খারাপ হয়েছে
  • ভাইটাল সাইনসমুহ
  • রক্তের ABG রিপোর্ট
  • রিসাসিটেশন নথি
  • শিশুদের মা ও চিকিৎসাকর্মীদের উপসর্গ

মেডিকেল – ইঞ্জিনিয়ারিং তদন্ত

  • এসি ও ভেন্টিলেশন পরীক্ষা
  • রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস লিক টেস্ট
  • সেন্ট্রাল গ্যাস লাইন পরীক্ষা
  • অক্সিজেনের ঘনত্ব ও বিশুদ্ধতা পরীক্ষা।
  • বায়োমেডিক্যাল যন্ত্রপাতির সঠিকতা

ফরেনসিক ও ল্যাবরেটরি পরীক্ষা

  • পরিবেশ বিশ্লেষণ
  • কার্বন মনোক্সাইডের উপস্থিতি
  • কক্ষে অক্সিজেনের ঘনত্ব
  • প্রয়োজনে ময়নাতদন্ত

প্রশাসনিক তদন্ত

  • মেইনটেনেন্স রেকর্ড
  • সিসিটিভি ফুটেজ রিভিউ
  • ডিউটি রোস্টার চেক
  • টাইম লাইন বিশ্লেষণ
  • সংশ্লিষ্টদের সাক্ষাৎকার

করণীয়

তাৎক্ষণিক করণীয়

  • সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সিলগালা করা
  • সকল মেডিকেল গ্যাস লাইন পরীক্ষা করা
  • ভেন্টিলেশন ও এসি সিস্টেমের ফরেনসিক পরীক্ষা
  • শিশুদের মা ও চিকিৎসাকর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা
  • মূল কারন তদন্তে কমিটি গঠন

দীর্ঘমেয়াদি করণীয়

  • মেডিকেল গ্যাস লাইন অডিট বাধ্যতামূলক করা
  • নিয়মিত অক্সিজেনের ঘনত্ব ও বিশুদ্ধতা মনিটরিং ।
  • বায়োমেডিক্যাল নিরাপত্ত প্রটোকল জোরদার করা
  • এনআইসিইউ নিরাপত্তা চেকলিস্ট চালু
  • ডিজিটালাইজ মেইনটেনেন্স রেকর্ড চালু করা
  • সেন্টিনেল ইভেন্ট মনিটরিং সিস্টেম তৈরি করা
  • হাসপাতালগুলোতে emergency simulation drill চালু করা

রাজধানীতে একটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬ নবজাতকের ক্লাস্টার মৃত্যুর ঘটনা আমাদের স্বাস্থ্যখাতের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।

ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধে হাসপাতালগুলোতে নিয়মিত মেডিকেল গ্যাস পাইপলাইন অডিট, অক্সিজেন বিশুদ্ধতা পরীক্ষা, ভেন্টিলেশন প্রক্রিয়ার মূল্যায়ন, বায়োমেডিক্যাল ইকুইপমেন্ট মনিটরিং এবং জরুরি সিমুলেশন ড্রিল বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। NICU ও নবজাতক ওয়ার্ডে পরিবেশগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উন্নত অ্যালার্ম সিস্টেম ও গ্যাস মনিটরিং ব্যবস্থাও অত্যন্ত জরুরি।

ছয় নবজাতকের এই মৃত্যু কেবল একটি হাসপাতালের ট্র্যাজেডি নয়; এটি পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য একটি সতর্কবার্তা। দেশে অনেক হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নিজস্ব বন্দোবস্তে আইসিইউ, এনআইসিইউ, পিআইসিইউ ব্যবস্থা রয়েছে।

সর্বত্র প্রযুক্তিগত নিরাপত্তা, জবাবদিহিতা ও মানবিক দায়িত্ব নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতেও এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতে পারে। তাই প্রকৃত কারণ উদঘাটন, দায়ীদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা এবং স্বাস্থ্যসেবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করাই এখন সময়ের দাবি।

 

কর্নেল ডা. নাজমুল হুদা খান (অব.):

জনস্বাস্থ্য ও হাইপারবেরিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ

পরিচালক, মেডিক্যাল সার্ভিসেস, বিআরবি হাসপাতাল

কুমিল্লায় বিপুল পরিমাণ জালনোটসহ চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ জালনোটসহ জালনোট ব্যবসায়ী চক্রের ২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-১১ এর সিপিসি-২।

বৃহস্পতিবার বিকালে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২, কুমিল্লার ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি অধিনায়ক মিঠুন কুমার কুন্ডু এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার (২৭ মে) রাতে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানার অশোকতলা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানে মোট ১ লাখ ৯৭ হাজার ৬শ’ টাকা সমমূল্যের জালনোট উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে ৫শ’ টাকার ২০২টি এবং ২শ’ টাকার ৪৮৩টি জাল নোট ছিল।

এ সময় জালনোট ব্যবসায়ী চক্রের ২ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নোয়াখালী সদর উপজেলার লক্ষীনারায়ণপুর এলাকার গোলাম হোসেনের ছেলে নিশান ইসলাম (২৭) এবং কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার পাথুরিয়াপাড়া এলাকার মৃত খবির মিয়ার ছেলে সোহেল আরমান (৪৪)।

র‌্যাব জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা জালনোট ব্যবসায়ী চক্রের সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকার করেছেন।

তারা দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জালনোট সরবরাহ করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন।

বিশেষ করে পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর হাট ও বিভিন্ন মার্কেটে জাল টাকা ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করার পরিকল্পনা ছিল বলেও প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে।

এ ঘটনায় গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী মডেল থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

৩০ মে তিতাসে বদলে যাচ্ছে রাজনৈতিক সমীকরন

বিশেষ প্রতিবেদনঃ

৩০ মে শনিবার, তিতাস উপজেলায় ঘটতে পারে এক রাজনীতির নতুন মেরুকরণ। ফলে বদলে যেতে পারে তিতাসের রাজনৈতিক সমীকরণ। এমন কথাই এখন গোটা তিতাসের জন মানুষের মুখে মুখে।

বৃহত্তর দাউদকান্দির উত্তরান্চলের প্রসিদ্ধ জনপদ বাতাকান্দি বাজার। রাজনৈতিক ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই জনপদ। এই বাতাকান্দিতে জন্মে ছিলেন বিএনপির প্রতিষ্ঠা কালীন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ বিশিষ্ট শিল্প পতি আধুনিক বাতাকান্দি বাজারের রুপকার মরহুম বেলায়েত হোসেন সরকার। যিনি অবিভক্ত দাউদ কান্দির উত্তরান্চলের এক অবহেলিত এলাকায় থেকেও জেলা বিএনপির নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন।

তারও আগে এই বাতাকান্দি গ্রামে জন্মেছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্ণর মরহুম জেড হক,মরহুম ধনমিয়া সাহেব, আঃ বারিক ডাক্তারসহ অসংখ্য গুণিজন। রাজনৈতিক ভাবে উর্বর জনপদ আধুনিক বাতাকান্দি বাজারটি বর্তমানে নব গঠিত তিতাস উপজেলার জগতপুর,সাতানি ও বলরামপুর ইউনিয়নসহ মোট ৩ টি ইউনিয়নের কেন্দ্রস্থল।

ভৌগোলিক, সামাজিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে একটি আধুনিক সুবিধা সম্পন্ন অঞ্চল এই বাতাকান্দি। অত্র অঞ্চলের গুনীজনরা আলোকিত করেছেন বাতাকান্দি নামক বাজার এলাকাকে।

কালের পরিবর্তে এই বাতাকান্দি বাজার কমিটির সভাপতি অত্র গ্রামেরই কৃতি সন্তান আলহাজ্ব মোঃ মাইন উদ্দিন। সময়ের প্রেক্ষাপটে তাঁরই বুদ্ধিমত্তায় ৩০ মে ২০২৬ তিতাসের রাজনীতিতে ঘটতে যাচ্ছে এক অভিনব কৌশলের আবির্ভাব।

যে কৌশলের মাধ্যমে পাল্টে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে তিতাস বিএনপির সাংগঠনিক একক আধিপত্য। ম্লান হয়ে যেতে পারে সাংগঠনিক নেতৃত্বের অবৈধ প্রভাব । এমন ধারনাই করছেন রাজনৈতিক সচেতন মহল। যা তিতাসের রাজনীতিতে এক উজ্জ্বল মাইলফলক হয়ে থাকবে।

৩০ মে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকি। এ দিনটিতে শহীদ জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায়,দুস্থদের মাঝে খাদ্য বিতরন, আলোচনা সভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানের আয়োজক ঢাকাস্থ তিতাস উপজেলা জাতীয়তাবাদী ফোরামের সহসভাপতি, বাতাকান্দি বাজার উন্নয়ন কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ মাইন উদ্দিন।

অত্র আসনের এমপি বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভুইয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বলে জানাযায়।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন ঢাকাস্থ তিতাস উপজেলা জাতীয়তাবাদী ফোরামের প্রধান পৃষ্ঠ পোষক এফ আর সি এর চেয়ারম্যান ( সিনিয়র সচিব) ড. সাজ্জাদ হোসেন ভুইয়া এবং ফোরামের আরেক উপদেষ্টা বি সি আই সির পরিচালক মোঃ দেলোয়ার হোসেন।

ঢাকাস্থ তিতাস উপজেলা জাতীয়তাবাদি ফোরামের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকসহ কার্যকরি কমিটির প্রায় সকল নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে জানাযায়।

ইতোমধ্যে এই অনুষ্ঠান কে সফল করার লক্ষ্যে অনুষ্ঠানের আয়োজক মোঃ মাইন উদ্দিন এর সাথে ফোরামের সিনিয়র নেতাদের ঢাকাতে একাধিকবার বৈঠকের খবর পাওয়া গেছে।

আরও জানা যায়, ৩০ মে শনিবার মোঃ মাইন উদ্দিন এর প্রতিষ্ঠিত তিতাসের উন্নয়নের লক্ষ্যে এবং দেশ বিদেশে অবস্থানরত তিতাস বাসীর কল্যানে ৩ টি সংস্থার শুভ উদ্বোধন করবেন সংস্থা গুলোর প্রধান উপদেষ্টা এমপি সেলিম ভুইয়া।

বাতাকান্দির ৩০ মে’র অনুষ্ঠান এবং মাইন উদ্দিন এর নেতৃত্বে ৩ সংস্থার অনুমোদন ও উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে তিতাসের সর্বত্র ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝর বইছে বলে এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়।

এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক সচেতন মহল মনে করছেন, ৩০ মে’র অনুষ্ঠানে তিতাস উপজেলা বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে ছাড়া এমপির একক উপস্থিতি এবং ঢাকাস্থ তিতাস উপজেলা জাতীয়তাবাদি ফোরামের সকলের অংশগ্রহণ তিতাস উপজেলার রাজনৈতিক মাঠে এক অভিনব নতুন সমীকরণের সৃষ্টি হচ্ছে।

আসছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন কে সামনে রেখে রাজনৈতিক চৌকস এমপি সেলিম ভুইয়া তিতাসের প্রকৃত উন্নয়ন করার লক্ষ্যে তাঁর পছন্দের লোক এবং জনগনের কাছে গ্রহনযোগ্য তিতাস ফোরামের নেতা কর্মীদের বিএনপির বিকল্প হিসেবে এলাকার উন্নয়নে সম্পৃক্ততা বাড়ানোর কৌশল এই ৩০ মে’র অনুষ্ঠান। এমন বার্তা দিচ্ছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকগন মনে করেন।

তারা আরও বলেন, অপর দিকে এটা তিতাসের বিএনপি কমিটির ওপর কি এমপি সেলিম ভুইয়ার আস্থা হ্রাস পাওয়ার আভাস, এই ৩০ মে’র অনুষ্ঠান ?

আরো জানা যায় , ৩০ মে বাতাকান্দিতে মোঃ মাইন উদ্দিন এর ৩টি সংস্থার অনুমোদন ও উদ্বোধন এটাই প্রমান করে বিএনপি সংগঠনের মাধ্যমে গৃহীত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়নে এমপি সেলিম ভুইয়ার আস্থার অভাব। রাজনৈতিক বিশ্লেষক গন উদ্বেগ প্রকাশ করে এমনটাই বলছেন। এমপি সেলিম ভুইয়ার আস্থাভাজন মোঃ মাইন উদ্দিন এর মাধ্যমে বিএনপির বিকল্প ফোরামের নেতৃত্ব চিন্তা করছেন কিনা এমপি সেলিম ভুইয়া। এমন প্রশ্ন এখন তিতাসের রাজনৈতিক সচেতন নাগরিকের।

এমনটা মনে করার কারন জানতে চাইলে এলাকার অনেকেই বলছেন, তিতাস উপজেলা বিএনপির নেতা কর্মীদের চেয়ে অনেক বেশি এলাকায় গ্রহনযোগ্য ফোরামের প্রতিটা সদস্যের। ফোরামের সদস্যগন সরাসরি এলাকার দলীয় কোন কমিটিতে না থাকলেও তারা ঢাকায় অবস্থান করে নিজ নিজ গ্রামে বা এলাকার মানুষের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। তারা সকলেই পরিচ্ছন্ন, সু শিক্ষিত, সামাজিক ও আর্থিকভাবে প্রতিষ্ঠিত ও মানব কল্যানে নিবেদিত। তাই এলাকাবাসীর কাছে ফোরামের সদস্যদের গুরুত্ব ও গ্রহনযোগ্যতা দলীয় নেতা কর্মীদের চেয়ে বেশি।

এমন পরিস্থিতিতে ৩০ মে’র অনুষ্ঠানে তিতাস উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের দাওয়াত নাই অথচ তাদের রাজনৈতিক অভিভাবক এমপি অধ্যক্ষ সেলিম ভুইয়া প্রধান অতিথি। বিষয় টি নিয়ে তিতাস উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেহেদি হাসান সেলিম ভুইয়া প্রতিবেদক কে তার প্রতিক্রিয়ায় , দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, “ভাই কি আর করা”।

উপজেলা বিএনপির আরেক নেতা শরীফুল শিকদার বলেন, আমরা দলথেকে কড়িকান্দি আঞ্চলিক অফিসে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাত বার্ষিকি পালন করছি আর বাতাকান্দি তে মাইন উদ্দিন ভাই অনুষ্ঠান করতেছেন।

বাতাকান্দির অনুষ্ঠান সম্পর্কে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আকতারুজ্জামান সরকার বলেন, ভালো উদ্যোগ, আমি এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করবো না। আমি গোটা কুমিল্লা উত্তর জেলার বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ করতেছি, কেন্দ্রীয় নির্দেশ, দলের প্রতিষ্ঠাতার শাহাদাৎ বার্ষিকি পালন করতে হবে।

প্রসঙ্গক্রমে তিনি আরো যোগ করে বলেন,তিতাস ফোরাম যেহেতু মহৎ উদ্যোগ নিয়ে তিতাসের উন্নয়নে কাজ করতে প্রতিশ্রুতি বদ্ধ, প্রকৃত পক্ষে এই তিতাস থেকে সন্ত্রাস, চাঁদা বাজ ও কমিটি বানিজ্য দূর করতে হবে। তিতাসকে শান্তিময় মডেল উপজেলায় রুপান্তর করতে ফোরাম এগিয়ে আসুক, এ কামনা করছি। আমার সহযোগিতা থাকবে সবসময়।

অপর দিকে এই প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত তিতাস উপজেলা বিএনপির সভাপতি ওসমান গনি ভুইয়ার সাথে মুঠোফোনে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও এ বিষয়ে তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

বহিষ্কার ও কমিটি বাতিল : বিগত সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা ২ আসনে কে পাবেন ধানের শীষ প্রতিক? এমন প্রশ্নে তিতাস হোমনার বিএনপির নেতা কর্মীরা ছিলেন অনিশ্চয়তায়। কারন এ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী দু’জন ই বিএনপির নেতা বলে জনগন মনে করেন। নির্বাচনের অতি সন্নিকটে আসার পর ধোয়াশা পরিষ্কার করে বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বশীল নেতা অধ্যক্ষ সেলিম ভুইয়ার হাতেই উঠলো ধানের শীষ প্রতিক। কিন্তু নির্বাচনী প্রচারণা দু’জন ই সমানতালে চালিয়ে যাচ্ছিলেন।

ফলে এদিকে এতদিনে তিতাস হোমনার দলীয় নেতা কর্মীদের অনেকেই দ্বিধা বিভক্ত হয়ে পড়ে। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে চুড়ান্ত ভাবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার এপিএস আঃ মতিন খান।

এদিকে দলীয় নেতা কর্মীদের অনেকেই এবং দল থেকে পদ বঞ্চিত অনেক নেতাই বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী কর্মকান্ডে জড়িয়ে পড়েন।

পরবর্তীতে নির্বাচনের সময় এবং নির্বাচনের পরে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ের বিএনপি ও অংগ সংগঠনের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতাকর্মীদের দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার করা হয়। যা চলমান। আবার কিছু কিছু ওয়ার্ড কমিটিও ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে।

বলরামপুর ইউনিয়ন কমিটি ভেঙে দেয়া হচ্ছে — সংস্কারের ধারাবাহিকতায় এবার বলরামপুর ইউনিয়ন বিএনপি কমিটি ভেভেঙে দেয়া হবে বলে একাধিক বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়।

এর কারন জানতে চাইলে অত্র ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এর কর্মকান্ডে এমপি সেলিম ভুইয়া সন্তুষ্ট নয় বলে বলা হয়। তার সাথে এখানকার এক শীর্ষনেতা তার ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের জন্য প্রায়ই সুযোগ পেলেই এমপি সেলিম ভুইয়ার কাছে ইউনিয়ন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ আরো অনেকের বিরুদ্ধে কুৎসা রটায় ও অভিযোগ করেন বলে একাধিক সূত্র থেকে জানা যায়।

এর প্রমান দিতে গিয়ে সূত্রগুলো জানায়, সম্প্রতি বলরামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিঃ সহসভাপতি মনিরুজ্জামান ভুইয়া ও উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি জালাল উদ্দীন ভুইয়া কে নিছক একটি সরকারি অনুষ্ঠান কে কেন্দ্র করে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাদের দুজনকে অনিয়মতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক ভাবে উপজেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক একটি বহিষ্কার আদেশ জারি করার অভিযোগ তুলে ধরেন।

এদিকে বলরামপুর ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি ভেঙে দেয়ার পর কে আসতে পারে এই সংস্কার করা কমিটিতে।

এমন প্রশ্নের জবাবে বিশ্বস্ত সূত্র থেকে জানা যায়, সাংগঠনিক কার্যক্রমে তুখোড় খেলোয়াড় এমপি সেলিম ভুইয়ার ঘনিষ্ঠ,তার সাথে দীর্ঘদিনের শিক্ষক সমিতিতে একসাথে চলার সাথী নাগের চর গ্রামের ইন্জিনিয়ার মনিরুজ্জামানের মত ডেডিকেটেড নেতার আগমন ঘটতে পারে বলে সূত্র জানায়।

বলরামপুর ইউনিয়নসহ গোটা তিতাসের রাজনৈতিক আকাশে কি ঘটতে যাচ্ছে আগামীর সূর্য উদয়ে? এটাই এখন দেখার অপেক্ষায় তিতাসের আপামর জনসাধারণ।

চাঁদপুরে অর্ধশত গ্রামে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুরঃ

মধ্যপ্রচ্যের সাথে মিল রেখে চাঁদপুরের অর্ধশত গ্রামে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা।

বুধবার (২৭ মে) সকালে জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা হাফিজিয়া মাদ্রাসা মাঠে সকাল ৮টায় প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

এতে ইমামতি করেন সাদ্রা দরবার শরিফের পীরজাদা মুফতি আরিফ চৌধুরী। দ্বিতীয় জামাত সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হয় সাদ্রা দরবার শরিফ মাঠে। এতে ইমামতি করেন সাদ্রা দরবার শরিফের পীর মাওলানা জাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানি।

সাদ্রা দরবার শরিফের পীর মাওলানা জাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানি বলেন, দেশের যেকোনো স্থানে চাঁদ দেখার ভিত্তিতে ঈদ উদযাপন করেন তারা। এবং যারা আজ রোজা রেখেছে তা হাস্যকর। কারন আজ কোথাও হজ্জ হচ্ছে না। আরাফার রোজা গতকাল ছিলো।

১৯২৮ সালে আগাম ঈদসহ এই ধর্মীয় রীতি ও প্রথা প্রথম চালু করেন সাদ্রা দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আল্লামা ইসহাক চৌধুরী (রহ.)। তাঁর মৃত্যুর পর থেকে সন্তান ও অনুসারীরা এই রীতি মেনে আসছেন।

চৌদ্দগ্রামে নাতনিকে দেখতে যাওয়া পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নানা নিহত

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে নবজাতক নাতনিকে দেখতে হাসপাতালে যাওয়া পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নানা মোবারক হোসেন (৬০) নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৬ মে) রাত সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম বাজারস্থ ভূমি অফিস এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মোবারক উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের দেড়কোটা গ্রামের মরহুম হাজী মোখছেদুর রহমানের ছেলে।

বুধবার তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তোফায়েল আহমেদ।

নিহত মোবারক হোসেনের ছেলে ইমাম হোসাইন জানান, ‘আমার বোন তাফসিয়া আক্তারের কুমিল্লা সদর হাসপাতালে মেয়ে সন্তান জন্মগ্রহণ করে। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে নাতনিকে দেখতে বাবা মোবারক হোসেন কুমিল্লা যাওয়ার পথে চৌদ্দগ্রাম বাজারে মহাসড়ক পারাপারের সময় অজ্ঞাতপরিচয় গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন বাবাকে উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রাশেদ শান্ত বলেন, ‘গুরুতর আহত মোবারক হোসেনের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে।’

এসআই তোফায়েল আহমেদ জানান, ‘দুর্ঘটনায় নিহত মোবারক হোসেনের লাশ বুধবার ভোরবেলায় স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’

 

তিতাস বাসীর কল্যানে সমাজ সেবক আলহাজ্ব মোঃ মাইন উদ্দিন এর ৩ সংস্থার অনুমোদন দিলেন এমপি সেলিম ভুইয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশে বিদেশে তিতাস বাসীর কল্যানে প্রতিষ্ঠিত তিনটি জনকল্যাণমুখী সংস্থার অনুমোদন দিলেন কুমিল্লা -২ হোমনা তিতাসের এমপি অধ্যক্ষ মোঃ সেলিম ভুইয়া।

বাতাকান্দি বাজার উন্নয়ন কমিটির সভাপতি বিশিষ্ট সমাজ সেবক আলহাজ্ব মোঃ মাইন উদ্দিন এর জনকল্যাণমুখী সংস্থার একটি হলো- সত্যের সন্ধানে তিতাস মিডিয়া সেল: এই মিডিয়া সেলের মাধ্যমে তিতাস উপজেলার সমগ্র ভূখণ্ডে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনাবলী জনসমক্ষে সত্য উদঘাটন, অন্যায় ও অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার ভূমিকা, জনমানুষের প্রয়োজনীয় চাহিদা ও জনদূ্র্ভোগ দূরীকরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ এবং সমস্যার সমাধান কল্পে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে এই সত্যের সন্ধানে তিতাস মিডিয়া সেলের প্রধান ভূমিকা।

তার সাথে তিতাসের উন্নয়নে গৃহীত এমপি সেলিম ভুইয়ার বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা ও তার বাস্তবায়নের সচিত্র প্রতিবেদন প্রচার ও প্রকাশ করা হবে এই তিতাস মিডিয়া সেলের অন্যতম কাজ। তিতাসের দর্পন হিসেবে সবার কাছে তুলে ধরবে তিতাসকে এই তিতাস মিডিয়া সেল। এমন কথাই প্রতিবেদককে জানালেন তিতাস মিডিয়া সেলের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সমাজসেবক আলহাজ্ব মোঃ মাইন উদ্দিন ।

দ্বিতীয়ত “আমরা হবো সেলিম ভুইয়া” তিতাস উন্নয়ন কমিটি : এই উন্নয়ন কমিটি তিতাস উপজেলার প্রতিটি গ্রাম, ওয়ার্ড, ইউনিয়নের জনসাধারণের প্রয়োজনের কথা বলবে। জন স্বার্থে প্রয়োজনীয় সকল উন্নয়ন পরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার লক্ষ্যে তিতাসের জনমানুষের প্রিয় নেতা নির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভুইয়ার কাছে তুলে ধরাই হবে এই সংগঠনের মূল কাজ। তিতাসের প্রতিটা ঘরে পৌঁছে দেয়া হবে সেলিম ভুইয়ার উন্নয়নের সুবাতাস।

তিতাস উন্নয়ন কমিটি আমরা হবো সেলিম ভুইয়ার মাধ্যমে, তিতাসের জনমানুষের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির চুড়ান্ত হিসাব নিকাশ মিলবে। এমন কথাই জানালেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মোঃ মাইন উদ্দিন ।

তৃতীয়ত: – মানব সেবা, সহায়তা, বিশ্বব্যপী সংযোগ এর উদ্দেশ্য নিয়ে তিতাস উপজেলার কৃতি রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের উন্নয়নে “ইন্টারন্যাশনাল হেল্প সেন্টার ” গঠিত।

এই সংগঠনের কার্যক্রম ও তার পরিধি সম্পর্কে বলতে গিয়ে সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মোঃ মাইন উদ্দিন প্রতিবেদক কে জানান, তিতাসের সন্তান বিশ্বের যে দেশে অবস্থান করছে আমরা সে দেশেই আমাদের ” ইন্টার ন্যাশনাল হেল্প সেন্টার ” এর শাখা করে দিব। যার মূল কাজ হবে, বিদেশে অবস্থানরত তিতাসের সন্তান যে কোন রকমের সমস্যার সম্মুখীন হবে সে বিষয়ে আমাদের হ্যাল্প সেন্টারের মাধ্যমে আমরা অবগত হবো।

যেখানে যে-রকম সহায়তার দরকার সেখানে প্রয়োজনমত সহায়তা দেয়া হবে আমাদের প্রধান কাজ। সর্বোপরী আমাদের সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা এমপি সেলিম ভুইয়ার সহযোগিতায় রাষ্ট্রীয় সহায়তা প্রদান করে সমস্যার সমাধান করার নিরলসভাবে আমরা চেষ্টা করে যাব। ইনশাল্লাহ।

এই সংগঠনের মাধ্যমে আমরা দেশের সীমানা পেরিয়ে বহির্বিশ্বেও পৌঁছে দিব আমাদের সেবার হাত।

উল্লেখ্য যে, সমাজ সেবক মোঃ মাইন উদ্দিন এর প্রতিষ্ঠিত মানবতার কল্যানে তিনটি সংস্থারই প্রধান উপদেষ্টা হিসাবে দায়িত্ব পালন করবেন তিতাস হোমনার উন্নয়নের স্বপ্ন দ্রষ্টা উন্নয়নের রূপকার অধ্যক্ষ মোঃ সেলিম ভুইয়া এমপি।

তিতাস উপজেলার আপামর জনসাধারণের কল্যানে প্রতিষ্ঠিত তিনটি সংস্থার প্রধান উপদেষ্টা অধ্যক্ষ মোঃ সেলিম ভুইয়া এমপি বাতাকান্দি বাজারে ৩০মে সংস্থাগুলোর কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করবেন বলে জানাগেছে।

শহীদ জিয়ার শাহাদাত বার্ষীকি পালনে কর্মসূচী : এই তিনটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ্ব মোঃ মাইনুদ্দিনের উদ্যোগে বাতাকান্দি বাজার মসজিদ প্রাঙ্গনে ৩০ মে, সকাল ১১: ৩০ ঘটিকায় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।

উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন হোমনা ও তিতাস এর গণমানুষের নেতা অধ্যক্ষ মোঃ সেলিম ভূঁইয়া এমপি।

অনুষ্ঠানে তিতাসের সর্বস্তরের জনগণকে উপস্থিত থাকার জন্য আমন্ত্রন জানিয়েছেন অনুষ্ঠানের আয়োজক আলহাজ্ব মোঃ মাইনুদ্দিন।

বুড়িচংয়ে সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ

বুড়িচং প্রতিনিধি:

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কুমিল্লার বুড়িচংয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে বুড়িচং প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সৈয়দা রাণী-মা কল্যাণ ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে এবং প্রেসক্লাবের সহযোগিতায় অর্ধশতাধিক অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে এসব সামগ্রী বিতরণ করা হয়। ঈদের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয় বলে আয়োজকরা জানান।

বিতরণকৃত সামগ্রীর মধ্যে ছিল তেল, চিনি, আতপ চাল, পেঁয়াজ, মশলা, সেমাই, কিশমিশ, দুধসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য।

বুড়িচং প্রেসক্লাবের সভাপতি কাজী খোরশেদ আলম-এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক বাবু-এর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বুড়িচং উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোঃ কবির হোসেন।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বুড়িচং উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মোঃ নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া, কুমিল্লা জেলা দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বুড়িচং উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মিয়া মোহাম্মদ সোহাগ পারভেজ।

আরও উপস্থিত ছিলেন বুড়িচং প্রেস ক্লাবের দপ্তর সম্পাদক মোঃ শাফি, অর্থ সম্পাদক মোঃ ফয়েজ আহমদ, সদস্য মারুফ হোসেনসহ ক্লাবের অন্যান্য সদস্যরা।

বক্তারা এ সময় সৈয়দা রানী-মা কল্যাণ ফাউন্ডেশনের পরিচালকের দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

কুমিল্লায় ছেলের হাতে মা খুন

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লায় ছেলের বিরুদ্ধে মাকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে নগরীর চকবাজার পশ্চিম বালুধুম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে ঘাতক রামিম ইসলাম বাবু (২৭) কে আটক করেছে পুলিশ।

ঘাতক রামিম ইসলাম বাবু বালুধুম পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত মনিরুল ইসলামের ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, ছেলে রামিম ইসলাম বাবু দা দিয়ে মা রেহানা বেগমের (৫৫) মাথায় আঘাত করে। রেহানা বেগমের চিৎকার শুনে আশপাশের মানুষ এসে তৎক্ষনাৎ রেহানা বেগমকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হসপিটালে নিয়ে যায় পরবর্তীতে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী মাওলানা তাজুল ইসলাম জানান, ছেলেটি মাদকাসক্ত ছিল। সে তার মায়ের উপর অত্যাচার করতো । গতকাল রাত থেকেই মাদকের টাকার জন্য মায়ের উপর খুবই অত্যাচার করছিল। সকালে আমরা দেখি দা দিয়ে সে তার মায়ের মাথায় কোপ দেয় এবং হাসপাতাল নেওয়ার পথে সে মারা যায়।

পুলিশ ঘাতক রামিম ইসলাম বাবুকে নগরীর টমছমব্রীজ এলাকা থেকে আটক করে বলে জানিয়েছেন চকবাজার ফাঁড়ি ইনচার্জ তাপস চন্দ্র রায়।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তৌহিদুর আনোয়ার জানান, আমরা বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে যাই এবং চিকিৎসার জন্য মহিলাকে মেডিকেল নেওয়ার পথে রেহানা বেগম মারা যান।

উক্ত বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

ব্রাহ্মণপাড়া আধুনিক মানের আর্মি ইনডোর স্টেডিয়াম শুভ উদ্বোধন

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় আধুনিক মানের ঘাসের টার্ফ, নিখুঁত আলোকসজ্জা এবং খেলোয়ারদের জন্য আরামদায়ক পরিবেশে ‘এটি। আর্মি ইনডোর স্টেডিয়াম টাফ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২৫ মে) সাহেবাবাদ চৌমুহনি সংলগ্ন মেইন রোডের পাশে বিকেল সাড়ে ৩টায় ফিতা কেটে এ খেলার মাঠের শুভ উদ্বোধন করেন অতিথিবৃন্দ।

সাহেবাবাদ লতিফা হাই স্কুলের সহকারী শিক্ষক মো জসিম মাস্টারের পরিচালনায় এ সময় অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সাহেবাবাদ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান,মো মনির চৌধুরী ,সাহেবাবাদ ইউনিয়নের যুবদলের সভাপতি মো ওমর ফারুক পিন্টু, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সফিক আরমি, কাজী মো হাবিব উল্লাহ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো বজলুর রহমান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজী নজরুল ইসলাম ডিলার, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এ টাফ গ্রাউন্ড নির্মাণের ফলে এলাকার তরুণ-যুবকদের খেলাধুলায় আগ্রহ আরও বাড়বে এবং সুস্থ সামাজিক পরিবেশ গঠনে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিশেষ করে ফুটবল ও অন্যান্য আউটডোর গেমস চর্চার ক্ষেত্রে এটি স্থানীয় ছেলেদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করবে।

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সামাজিক ও ক্রীড়া সংগঠনের প্রতিনিধিরা।

স্থানীয় যুবসমাজ এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “আমরা আগে এমন মানসম্মত মাঠের অভাব অনুভব করতাম। এখন অনুশীলন ও খেলাধুলা আরও সহজ হবে।

আর্মি ইনডোর স্টেডিয়াম পরিচালক, মোঃ হাসান, ও নাহিদুল ইসলাম বলেন, ভূপৃষ্ঠের ওপরে নির্মিত একটি অত্যাধুনিক খেলার মাঠ, যা স্মার্ট ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি হয়েছে। দিনের বেলায় সূর্যের আলোতে এবং রাতে কৃত্রিম আলোর ব্যবস্থায় এখানে ফুটবল ম্যাচ চলবে। উপজেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণ খেলার মাঠ না থাকায়, যুব সমাজের ক্রিয়াপ্রেমীদের চাহিদার কথা চিন্তা করে আর্মি ইনডোর স্টেডিয়াম এর ফুটবল টার্ফ গ্রাউন্ডের শুভ উদ্বোধন করেছি এটি ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ক্রীড়াঙ্গনে এক নতুন সংযোজন, যেখানে দিবারাত্রি ফুটবল ম্যাচ আয়োজনের সুযোগ থাকবে।

মাঠটি উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে এলাকায় ক্রীড়া চর্চার নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে আমরা আশা প্রকাশ করছি।

লাকসামে যুবলীগ নেতাসহ ৩ জন গ্রেপ্তার

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লায় যুবলীগের এক নেতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে লাকসাম থানা পুলিশ।

আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে তাদের কুমিল্লার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে সোমবার রাতে যুবলীগ নেতাকে এবং মঙ্গলবার সকালে মাদক মামলার আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার যুবলীগ নেতার নাম জহিরুল ইসলাম। তিনি লাকসাম পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সহ-সভাপতি। আর মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামিরা হলেন, মিলন আহমেদ (৩৩) ও আশিকুর রহমান।

লাকসাম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরিফ উল্লাহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

লাকসাম থানা পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার যুবলীগ নেতা জহিরুল ইসলামকে একটি বিস্ফোরক দ্রব্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে মঙ্গলবার দুপুরে কুমিল্লার আদালতে পাঠানো হয়েছে।

লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী কামরুন্নাহার লাইলী জানায়, গ্রেপ্তার আসামিদের মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে কুমিল্লার বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

ওসি জানায়, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স ঘোষণা রয়েছে। এ বিষয়ে কোনো রকম ছাড়া নেই। লাকসামে মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।