All posts by jitu

কোরবানির পশু পালন প্রান্তিক খামারিদের বছরের বড় আয়ের উৎস: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষি মন্ত্রী

স্টাফ রিপোর্টার:

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, পবিত্র ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে কোরবানির পশু পালন প্রান্তিক কৃষক ও খামারিদের জন্য বছরের অন্যতম বড় আয়ের উৎস হিসেবে কাজ করছে।

মঙ্গলবার (২৬ মে) কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার নেউরা পশুর হাটে পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে কোরবানির পশুর হাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিক সাথে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, কোরবানির পশু পালন ও বিক্রির মাধ্যমে লাখো পরিবার আর্থিকভাবে উপকৃত হচ্ছে এবং এটি ধীরে ধীরে একটি শিল্পভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে পরিণত হচ্ছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক গবাদিপশু কোরবানি হয়, যা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কোরবানির আয়োজন। এ উপলক্ষে সারা দেশের কৃষক ও খামারিরা এক থেকে দুই বছর ধরে গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষ লালন-পালন করে বাজারে নিয়ে আসেন। ফলে কোরবানির মৌসুম প্রান্তিক খামারিদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, সরকার প্রান্তিক কৃষক ও খামারিদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। গবাদিপশু পালন সম্প্রসারণে বিভিন্ন সহায়তা ও প্রশিক্ষণের পাশাপাশি খামারভিত্তিক উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর ফলে দেশে বাণিজ্যিকভাবে পশুপালনের প্রবণতা বাড়ছে এবং এটি কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করছে।

কোরবানির পশুর হাটে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও বাজার ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন পশুর হাটে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রাণিসম্পদ বিভাগের সমন্বয়ে নিবিড় নজরদারি চলছে। হাটগুলো পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চিকিৎসা ও ওষুধ সরবরাহে প্রতিটি হাটে ভেটেরিনারি টিম দায়িত্ব পালন করছে। খামারি ও ব্যাপারিদের সেবা নিশ্চিত করতে প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন।

চাঁদাবাজি, অনিরাপত্তা বা অব্যবস্থাপনার বিষয়ে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। কোরবানির সময় জাল নোটের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিভিন্ন হাটে জাল টাকা শনাক্তকরণ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে বিক্রেতা ও ক্রেতা উভয়ই নিরাপদ লেনদেন করতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, ঈদের আগ মুহূর্ত পর্যন্ত মাঠপর্যায়ে থেকে পশুর হাট পরিস্থিতি তদারকি অব্যাহত থাকবে, যাতে ক্রেতা-বিক্রেতারা নির্বিঘ্নে কোরবানির পশু কেনাবেচা করতে পারেন।

এ সময় কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোঃ ইউসুফ মোল্লা টিপু, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো: সামছুল আলম, সদর দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুজন চন্দ্র রায়, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: মো: মাহে আলম, বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

হোমনায় ২০ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি আটক

​রাসেল আহমেদ, হোমনা:

​কুমিল্লার হোমনায় ২০ কেজি গাঁজাসহ এক মাদক কারবারি কে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৬ মে) দুপুরে উপজেলার মুন্সীকান্দি এলাকা হতে তাকে মাদকসহ আটক করা হয়।

​আটককৃত মাদক কারবারি দাউদকান্দি উপজেলার ভাজরা সরকার বাড়ির শুক্কুর আলীর ছেলে মো: গিয়াস উদ্দিন।

​পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুর ১২:৩০ দিকে হোমনা থানার এসআই (নিঃ) মো: ইছমাইল হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ হোমনা-মেঘনাগামী সড়কে নিয়মিত চেকপোস্ট পরিচালনা করছিল।

এসময় সন্দেহভাজন একটি প্রাইভেট কার থামিয়ে তল্লাশি চালিয়ে ২০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। একইসঙ্গে প্রাইভেট কারটি জব্দ করা হয়েছে।

​হোমনা থানা ওসি টমাস বড়ুয়া জানায়, এ ঘটনায় আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করার প্রক্রিয়া চলছে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।

বিরাজনীতিকরণ ও মাইনাস টু ফর্মুলার নেপথ্যে মইন, মতি ও মাহফুজ -রিমান্ডে সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের চাঞ্চল্যকর তথ্য

​বিশেষ প্রতিনিধি:

২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি অসাংবিধানিক ও অবৈধভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের অপরাধে তৎকালীন কুশীলবদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই মামলার বিচার অনুষ্ঠিত হবে এবং আগামী ঈদুল আজহার পরপরই এই সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-এর চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, এক-এগারো সরকারের আমলে সংঘটিত অমানবিক ও মানবতাবিরোধী অপরাধের নেপথ্যের অন্যতম মূল নায়ক ছিলেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী।

​সূত্র জানায়, এক-এগারো ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে সম্প্রতি কয়েকজন সাবেক সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে বিভিন্ন মামলায় রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। রিমান্ডে মূলত তাঁদের এক-এগারোর পটভূমি ও ষড়যন্ত্রের বিষয়েই বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত কর্মকর্তারা মুখ খুলতে শুরু করেছেন এবং তাঁদের বক্তব্য থেকে সে সময়ের ঘটনার একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র উঠে এসেছে।

​তদন্ত কর্মকর্তাদের মতে, এক-এগারো ষড়যন্ত্রের মূল হোতা হিসেবে তিনজনের নাম বিশেষভাবে উঠে এসেছে, যাঁদের নামের আদ্যাক্ষর ‘ম’। এঁরা হলেন—সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদ, এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধি হিসেবে পরিচিত দুই শীর্ষস্থানীয় সম্পাদক—প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান ও ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম।

​গোয়েন্দা সূত্রে দাবি করা হয়েছে, এই দুই সম্পাদকই ছিলেন মূলত এক-এগারোর মূল পরিকল্পনাকারী এবং সেনাবাহিনীর সঙ্গে সুশীল সমাজের যোগসূত্র রক্ষাকারী। তাঁদের পরামর্শেই তৎকালীন ফখরুদ্দীন আহমদের উপদেষ্টামণ্ডলী গঠিত হয়েছিল এবং তাঁরাই ছিলেন সরকারের মূল নীতিনির্ধারক।

​রিমান্ডে থাকা সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, সুশীল সমাজের একটি নির্দিষ্ট অংশ বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদে একটি অনির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে লবিং করেছিল। এর অংশ হিসেবে দেশে কৃত্রিম রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি এবং ‘জঙ্গি নাটক’ সাজিয়ে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়। তিনি দাবি করেন, শান্তি রক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে এমন খবর পাওয়ার পরই সশস্ত্র বাহিনী শেষ মুহূর্তে এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়। তারা পরিকল্পনার অংশ ছিল না, কেবল বাস্তবায়নে ভূমিকা রেখেছিল।

​মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী আরও বলেন, তৎকালীন সময়ে দেশের প্রভাবশালী একটি বাংলা ও একটি ইংরেজি দৈনিক সুপরিকল্পিতভাবে রাজনীতিবিদদের প্রতি জনমনে ঘৃণা সৃষ্টির চেষ্টা চালায়। তথাকথিত ‘যোগ্য প্রার্থী’ বাছাইয়ের নামে দেশব্যাপী সেমিনার ও গোলটেবিল বৈঠক করে ‘বিরাজনীতিকরণ’ চেতনাকে জনপ্রিয় করার চেষ্টা করা হয়।

​তদন্তে জানা গেছে, এক-এগারো পরবর্তী দুই বছর উক্ত পত্রিকা দুটি সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই-এর অঘোষিত মুখপাত্র হিসেবে কাজ করেছিল।

গোয়েন্দা সেলে রাজনৈতিক নেতাদের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আদায় করা বানোয়াট তথ্য কোনো যাচাই-বাছাই ছাড়াই ‘বিশেষ প্রতিবেদন’ হিসেবে প্রকাশ করা হতো। এই প্রসঙ্গে ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম পরবর্তীতে একটি টেলিভিশন টকশোতে গোয়েন্দা সংস্থার দেওয়া তথ্য যাচাই না করে প্রকাশের বিষয়টি স্বীকার করেছিলেন। অন্যদিকে, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমানও এক সাক্ষাৎকারে এক-এগারোর পদক্ষেপকে ‘অনিবার্য’ বলে মন্তব্য করেছিলেন।

​তদন্তকারীদের তথ্যমতে, দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক নেত্রীকে রাজনীতি থেকে চিরতরে মাইনাস করার যে ‘মাইনাস টু ফর্মুলা’, তা বাস্তবায়নে এই মিডিয়া গ্রুপটি গণমাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট বয়ান তৈরি করেছিল। পাশাপাশি, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরে বিভেদ সৃষ্টি এবং ‘সংস্কারপন্থি’ নেতাদের প্রমোট করার পেছনেও তাঁদের ভূমিকা ছিল। তৎকালীন সময়ে বিএনপি নেতা তারেক রহমানসহ অন্যান্য রাজবন্দীদের ওপর রিমান্ডে অমানবিক নির্যাতন চালানো হলেও, এই পত্রিকাগুলো মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টিকে এড়িয়ে গিয়ে বিরাজনীতিকরণের এজেন্ডা বাস্তবায়নে ব্যস্ত ছিল।

​জিজ্ঞাসাবাদে সাবেক ডিজিএফআই প্রধান জেনারেল (অব.) মামুন খালেদ একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়ে জানিয়েছেন, ক্ষমতা দখলের মাত্র তিন দিন আগে, অর্থাৎ ২০০৭ সালের ৮ জানুয়ারি, উক্ত দুই সম্পাদক সেনা সদরে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল মইন উ আহমেদের সঙ্গে প্রায় দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে গোপন বৈঠক করেন। ওই বৈঠকেই ক্ষমতা হস্তান্তরের চূড়ান্ত রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়। এমনকি বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির উপদেষ্টা পদ থেকে ইয়াজউদ্দিন আহমদের সরে দাঁড়ানোর যে লিখিত ভাষণটি পাঠ করা হয়েছিল, সেটিও সুশীল সমাজের ওই মুখপত্রের সম্পাদক লিখে দিয়েছিলেন বলে জেনারেল মইন নিজেই তাঁকে জানিয়েছিলেন।

​লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এবং জেনারেল মামুন খালেদ উভয়েই তদন্তকারীদের নিশ্চিত করেছেন যে, এক-এগারোর নেপথ্যের প্রকৃত রহস্য দুই সম্পাদকের কাছে রয়েছে এবং তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করলেই পুরো সত্য উদ্ঘাটিত হবে।

​আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একটি দায়িত্বশীল সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, আগামী মাসের শুরুতেই এক-এগারো আমলের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্ত কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে।

৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করলো ‘বাংলাদেশ কালচারাল সেন্টার’

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলা ভাষা, হাজার বছরের আবহমান সংস্কৃতি ও প্রাণবন্ত সাহিত্যের ধারাকে বিশ্বদরবারে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে গঠিত হয়েছে ‘বাংলাদেশ কালচারাল সেন্টার’। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সংগঠনটির ৫১ সদস্যবিশিষ্ট একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

কমিটির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ:
নতুন এই কমিটিতে আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী। সদস্য সচিব হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মো. রফিকুল ইসলাম এবং প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পেয়েছেন সাংস্কৃতিক সংগঠক সাজেদুর রহমান মুনিম।

আন্তর্জাতিক উপদেষ্টা কমিটি:
ড. মাহফুজুর রহমান, শাহ নেওয়াজ, জুয়েল আইচ, সৈয়দ মোস্তাফিজুর রহমান এবং দারা আবু জুবায়ের।

৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা:

আন্তর্জাতিক আহ্বায়ক কমিটি (শীর্ষ):

আহ্বায়ক: রেজাবুদ্দৌলা চৌধুরী

যুগ্ম আহ্বায়ক: দিলারা জামান (নাট্য ব্যক্তিত্ব), ফাতেমা তুজ জোহরা (নজরুল সংগীত বিশেষজ্ঞ), নিলুফার ওয়াহিদ পাপড়ি (নৃত্য ব্যক্তিত্ব)।

সদস্য সচিব: মো. রফিকুল ইসলাম

যুগ্ম সদস্য সচিব: সোহেল আরমান (নাট্য পরিচালক), দিঠি আনোয়ার (কণ্ঠশিল্পী), ফারহানা চৌধুরী বেবি (নৃত্য শিল্পী)।

সমন্বয়কারী ও সদস্যবৃন্দ:

প্রধান সমন্বয়কারী (আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক সংগঠক): সাজেদুর রহমান মুনিম।

সমন্বয়কারী (কণ্ঠশিল্পী): মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন নাসির।

যুগ্ম সমন্বয়কারী: শফিউল আলম বাবু (উপস্থাপক ও অভিনেতা), রিমন মাহফুজ (সাংবাদিক), রুমানা ইসলাম মুক্তি (অভিনেত্রী), চাশী আন্নি ইসলাম (অভিনেত্রী)।

সাংস্কৃতিক সমন্বয়কারী (নৃত্য শিল্পী): রোকসানা আখতার রিনি।

যুগ্ম সাংস্কৃতিক সমন্বয়কারী: শাহীন শাহ (জাদু শিল্পী), ফেরদৌসী নাজমা (বাউল গবেষক), সোহেল রহমান (নৃত্য শিল্পী)।

আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সমন্বয়কারী: নাজমুল খান (অভিনেতা)।

যুগ্ম আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সমন্বয়কারী: এইচ এম মনিরুজ্জামান (মানবাধিকার কর্মী), এস আই সুমন (কণ্ঠশিল্পী)।

আহ্বায়ক কমিটির সদস্যবৃন্দ:
মুজিুব পরদেশী (কণ্ঠশিল্পী), কায়সার হামিদ (ফুটবলার), মো. লিয়াকত আলী (সাংস্কৃতিক সংগঠক), জামিউর রহমান লেমন (নাট্য ব্যক্তিত্ব), খন্দকার শাহ আলম (নাট্য ব্যক্তিত্ব), ফখরউদ্দিন ছোটন (নাট্য নির্মাতা), কাজী ফারুক বাবুল (সংগীত পরিচালক), এবিএম সোহেল রশিদ (কবি), নূর হোসেন রানা (নাট্য পরিচালক), দীপক কুমার দাস (যন্ত্রশিল্পী), মাসুম শাহরিয়ার (নাট্য পরিচালক), নাহিদ নজরুল (গীতিকার), মেহবুব মেহেন্দুর চাঁদনী (নৃত্য শিল্পী), শেখ ফরিদউদ্দীন প্রধান (সাংবাদিক), জান্নাতুল ফেরদৌসী পপি (কণ্ঠশিল্পী), বিপাশা ইয়াসমিন (কণ্ঠশিল্পী), মো. সাইফুল ইসলাম (শিশু সংগঠক), লুৎফুননাহার পাখি (কণ্ঠশিল্পী), নটরাজ পলাশ (যাত্রাপালা নির্দেশক), সানজিদা হক আরেফিন লুনা (ফ্যাশন কোরিওগ্রাফার)।

বিভাগীয় কো-অর্ডিনেটর:
এনামুল হক বাচ্চু (খুলনা), মীর সাব্বির/হোসেন শামীম (বরিশাল), নীলাঞ্জনা জুই (সিলেট), স্বপন বড়ুয়া (চট্টগ্রাম), মাহবুবুর রহমান সোহাগ (রাজশাহী), নাজমুল হক লেলিন (ময়মনসিংহ), রফিকুল ইসলাম রইস (রংপুর), সুফলা তনচঙ্গা (রাঙ্গামাটি), ডচিংনু মার্মা (খাগড়াছড়ি), প্রাণ গোপাল সরকার (বান্দরবান)।

কার্যক্রম ও লক্ষ্য:
সংগঠনটি জানিয়েছে, আগামী ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক নির্বাহী কমিটি গঠনের মাধ্যমে ‘বাংলাদেশ কালচারাল সেন্টার’-এর মূল রূপরেখা ঘোষণা করা হবে। এছাড়া, আগামী বছরের শুরুর দিকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অংশগ্রহণে ‘বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল কালচারাল ফেস্টিভ্যাল ২০২৭’ আয়োজনের সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে বলে কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান।

দাউদকান্দিতে গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ১

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে ১০ কেজি গাঁজাসহ এক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে মডেল থানা পুলিশ। পরে মামলা দিয়ে তাকে কুমিল্লা জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার ভোররাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি টোলপ্লাজার নিকট থেকে মাদকসহ এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত জাবেদ হোসেন (৪৫) কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের কালীকৃষ্ণ নগর গ্রামের মৃত জানু মিয়ার ছেলে।

দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান দাউদকান্দি পৌরসভার মেঘনা-গোমতী ব্রিজের টোলপ্লাজার অনুমান ৩০০ গজ পশ্চিমে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকাগামী লেনের বাম পাশে রাস্তার উপর একটা বাসে তল্লাশি করে ১০ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে থানায় নিয়ে জিজ্ঞেসাবাদে অভিযুক্ত স্বীকার করেন।

এরপর উপপরিদর্শক মধুসূদন মজুমদার বাদী হয়ে মাদক আইনে মামলা দায়েরের পর তাকে কুমিল্লা জেলহাজতে পাঠানো হয়।

দাউদকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বারী জানান, ‘১০ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাদক আইনে মামলা দায়েরের পর তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।’

আমি আসাতে অনেকে পরিষ্কার করে রেখেছে: কুমিল্লায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

আকস্মিক পরিদর্শনের কারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মধ্যে যে ভীতি তৈরি হয়েছে, তা থেকেই ধীরে ধীরে হাসপাতালের পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতার উন্নতি হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

আজ সোমবার (২৫ মে) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শন শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে রোগীদের খোঁজখবর নেন।

মন্ত্রী হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বিভিন্ন ওয়ার্ড, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও চিকিৎসা সেবার মান পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি রান্নাঘরে গিয়ে রোগীদের জন্য প্রস্তুত করা ডাল ও সবজি খেয়ে খাবারের মানও যাচাই করেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সঠিকভাবে সবাই দায়িত্ব পালন করছে কি না, তা দেখতেই আমি নিজে এখানে এসেছি। আমরা চাই হামের রোগীদের সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত হোক, জরুরি বিভাগে ডাক্তার উপস্থিত থাকুক, হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও রান্নার মান ঠিক থাকুক।

তিনি আরও বলেন, আমি আসাতে অনেকে পরিষ্কার করে রেখেছে, তাও একটা ভীতি আছে। ভয় পেতে পেতে সব ঠিক হয়ে যাবে।

হামের ভ্যাকসিন প্রসঙ্গে মন্ত্রী অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ ও কেয়ারটেকার সরকারকে সাতবার স্মরণ করিয়ে দেওয়ার পরও তারা কোনো ভ্যাকসিন সংগ্রহ করেনি। বরং বেসরকারিভাবে টিকা কেনার নামে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি জানান, মহাখালীতে একটি শিশু মারা যাওয়ার ১৮ ঘণ্টার মধ্যেই সরকার আইসোলেশনের ব্যবস্থা করে। পরে দেখা যায়, পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন নেই। এরপর থেকেই সরকার দ্রুত ভ্যাকসিন কার্যক্রম শুরু করেছে।

দাউদকান্দি দোকানের ভিতরে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা দোকানিকে গ্রেপ্তার

ডেস্ক রিপোর্ট:

১২ বছরের এক শিশু দোকানে চিপস কিনতে গেলে দোকানি ডাক দিয়ে দোকানের ভিতরে শাটার বন্ধ করে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ ঘটনায় দোকানিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সোমবার (২৫ মে) দুপুরে কুমিল্লা আদালতে প্রেরণ করা হয় তাকে। এর আগে রোববার (২৪ মে) বিকেল ৫টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ উপজেলার কালাসোনা বাজারের গরুর হাট থেকে দেলোয়ার হোসেনকে (৪৩) গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে।

অভিযুক্ত দোকানির নাম দেলোয়ার হোসেন। সে উত্তর বায়নগর গ্রামের মৃত আব্দুল খালেক ভূইয়ার ছেলে।

পুলিশ জানায়, ১৮ মে বেলা ১টার দিকে উপজেলার মালিগাও ইউনিয়নের উত্তর বায়নগর গ্রামের এক শিশু ওই গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের মুদি দোকানে চিপস কিনতে যায়। দোকানে গেলে দেলোয়ার হোসেন ডাক দিয়ে দোকানের ভিতরে নিয়ে শাটার বন্ধ করে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় শিশুটির চিৎকারে লোকজন এগিয়ে আসলে সে পালিয়ে যায়।

পরে স্থানীয় লোকজন শিশুকে সেখান থেকে উদ্ধার করেন। শনিবার (২৩ মে) শিশুটিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি করে পরিবার। এই ঘটনায় শিশুটির বাবা দাউদকান্দি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।

দাউদকান্দি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আ. বারী জানান, বারো বছরের এক কিশোরীকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। শিশুটি এখন কুমেক হাসপাতালে ওসিসিতে ভর্তি।

তিনি আরও জানান, আমরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পেরে এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত আনোয়ার হোসেনকে আটক করে জেল হাজতে পাঠিয়েছি। মেডিকেল রিপোর্ট আসলে ধর্ষণের বিষয়টি নিশ্চিত হতে পারব।

হোমনায় ষাঁড়ের গুঁতোয় বৃদ্ধার মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার হোমনা উপজেলায় ষাঁড়ের গুঁতোয় আমেনা বেগম (৭৫) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে।

আজ সোমবার (২৫ মে) দুপুরে উপজেলার ঘারমোড়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আমেনা বেগম উপজেলার ভাষানিয়া ইউনিয়নের ওমরাবাদ গ্রামের মৃত আবুল হাসেমের স্ত্রী।

স্থানীয়দের বরাতে জানা গেছে, সকালে বাড়ি থেকে ঘারমোড়া বাজারে যাওয়ার পথে একটি উত্তেজিত ষাঁড়ের সামনে পড়েন তিনি। এ সময় ষাঁড়টি শিং দিয়ে তাকে গুঁতো দিলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক জানায়, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে কুমিল্লা জেলা পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা জোরদার: ১ মাসে ১২৫ ছিনতাইকারী গ্রেফতার, দেশি, বিদেশি অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার

স্টাফ রিপোর্টার:

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাধারণ মানুষের কেনাকাটা, ছিনতাই প্রতিরোধ, ঈদে ঘরমুখো মানুষের নির্বিঘ্ন যাত্রা ও জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা কোরবানির পশুর গাড়ির সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখতে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছে কুমিল্লা জেলা পুলিশ। গত এক মাসে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও থানা পুলিশের যৌথ তৎপরতায় মোট ১২৫ জন চিহ্নিত ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামানের নেতৃত্ব, আধুনিক কর্মপরিকল্পনা ও পরোক্ষ দিক-নির্দেশনায় গত এক মাসে জেলাজুড়ে এ সফল সাঁড়াশি অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

ডিবি ও থানা পুলিশের যৌথ তৎপরতায় মোট ১২৫ জন চিহ্নিত ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এককভাবে ৪৬ জন ছিনতাইকারী গ্রেফতারসহ বিদেশি অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করে অপরাধ দমনে মূল ভূমিকা পালন করেছে।

দীর্ঘ সীমান্ত এলাকা, গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক ও নদীপথ বেষ্টিত হওয়ায় কুমিল্লায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও মাদক পাচারের মতো অপরাধের প্রবণতা দীর্ঘদিনের।

বর্তমান পুলিশ সুপার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই অপরাধের ধরন ও মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে তা দমনে আধুনিক ও অভিনব কৌশল অবলম্বন করেন। তাঁরই নির্দেশনায় থানা পুলিশের কার্যক্রম যেমন শক্তিশালী করা হয়েছে, তেমনি জেলা গোয়েন্দা শাখাকে (ডিবি) করা হয়েছে আরও বেশি কৌশলী ও গতিশীল।

ছিনতাইকারী ও চোর চক্রের বিরুদ্ধে চিরুনি অভিযান:

ঈদের আগে জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ছিনতাইয়ের উপদ্রব রুখতে জেলা গোয়েন্দা শাখা ও শহর কেন্দ্রিক থানাগুলো বিশেষ অভিযানে নামে। পুরো অভিযানে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) অগ্রণী ভূমিকা পালন করে ৪৬ জন চিহ্নিত ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করে। এছাড়াও কোতোয়ালি থানা ৩৮ জন, সদর দক্ষিণ থানা ২০ জন, ক্যান্টনমেন্ট পুলিশ ফাঁড়ি ১৭ জন এবং বুড়িচং থানা ৪ জন ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃতদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি জেলা গোয়েন্দা শাখার বিশেষ অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল এবং চোর চক্রের একাধিক সদস্যসহ একটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক উদ্ধার অভিযান:

অপরাধ দমনের পাশাপাশি পবিত্র উৎসবের প্রাক্কালে মাদক চোরাচালান রোধে জেলা গোয়েন্দা শাখা ও সীমান্তবর্তী থানাগুলো নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ডিবির বিশেষ কৌশলী অভিযানের ফলে সীমান্ত গলিয়ে আসা বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, গাঁজা, ইস্কাফ, ফেয়ারডিল, বিদেশি মদ এবং বিয়ার উদ্ধার করা হয়েছে।

এই বিষয়ে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান জানান, ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা, মহাসড়কে পশুবাহী গাড়ি ও যাত্রীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে এবং সব ধরনের অপরাধের মূল উৎপাটন করতে জেলা পুলিশের এই বিশেষ ও আধুনিক কৌশলগত অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ কুমিল্লা গঠনে জেলা পুলিশ সর্বস্তরের জনগণের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছে।

তিতাস উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতিসহ ২ জন বহিষ্কার : ব্যক্তি আক্রোশের বহিঃপ্রকাশের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার তিতাস উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি জালাল উদ্দিন ভুইয়া ও বলরামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ সভাপতি মনিরুজ্জামান ভুইয়াকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বহিষ্কার আদেশ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত হয়। এই ২টি বহিষ্কার আদেশে স্বাক্ষর করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ ওসমান গনি ভুইয়া ও সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান সেলিম ভুইয়া।

এই বহিষ্কারাদেশ প্রচারের পর উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি জালাল উদ্দিন ভুইয়া ও বলরামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মনিরুজ্জামান ভুইয়া তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় প্রতিবেদককে জানান, আমাদের এই বহিষ্কার আদেশ কার্যকর হবে না। এটা অসাংবিধানিকভাবে ব্যক্তি আক্রোশে করা হয়েছে। এই বহিষ্কার আদেশ দলের গঠনতন্ত্রের কোন ধারাই অনুসরণ করে করা হয় নাই।

তারা বলেন, আমরা দলের নিবেদিত ও পরীক্ষীত কর্মী। তারা কোন দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সাথে জড়িত না বলেও জানান উভয়ে। বহিষ্কার আদেশে যদিও সুনির্দিষ্ট দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারন উল্লেখ নাই।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১৯ মে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ – ২০২৬ উপলক্ষে ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্টিত হয়। যা ছিল ইউনিয়ন পর্যায়ে বলরামপুর ইউনিয়নের আয়োজনে উলুকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে সরকারি অনুষ্ঠান।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান, বিশেষ অতিথি, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারসহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ ।

সভাপতিত্ব করেন, স্কুলের সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক কল্যান সমিতির উপদেষ্টা তিতাস উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি মোঃ জালাল উদ্দিন ভুইয়া।

উল্লেখ্য যে, অত্র আসনের কুমিল্লা ২ – এর সংসদ সদস্য অনুষ্ঠানের দিন ১৯ মে দেশের বাহিরে অবস্থান করছিলেন। এই অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করেই মুলত রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং দলীয় কোন্দলে জালাল উদ্দীন ভুইয়া ও মনিরুজ্জামান ভুইয়াকে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাধারণত সম্পাদক একটি বহিষ্কার আদেশের চিঠি দেন। যা কোনভাবেই দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের সাথে তারা জড়িত নয় বলে প্রতিয়মান। এমন স্বেচ্ছাচারীতা ও অগঠনতান্ত্রিক সিদ্ধান্তের কারনে এখন তিতাসবাসী রাজনৈতিক সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনার ঝড় বইছে।

নেতাকর্মীরা মনে করেন, একজন শিক্ষা সংগঠনের উপদেষ্টা যদি শিক্ষা উন্নয়নমূলক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, তাহলে সেটি কিভাবে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ হয়? আর যদি শুধুমাত্র এমন একটি অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করেই বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করা হয়, তাহলে বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে স্বাভাবিকভাবেই সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের চেয়ে ব্যক্তিগত বা অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব হিসেবেই বেশি আলোচিত হবে।

তিতাস উপজেলা বিএনপির সভাপতি ওসমান গনি ভুইয়ার কাছে এই আলোচিত বহিষ্কার আদেশে অভিযুক্ত সহ সভাপতি জালাল উদ্দিন ভুইয়ার দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘন্টা খানেক পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাবেন বলে প্রতিবেদককে জানান। কিন্তু পরবর্তীতে এ বিষয়ে তার সাথে আর কথা বলা সম্ভব হয়নি।