All posts by jitu

বরুড়ায় কাপড়ের দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি, ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির অভিযোগ

এমডি. আজিজুর রহমান, বরুড়া:

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার শাহাপুর বাজারে একটি কাপড়ের দোকানে দুর্ধর্ষ চুরির অভিযোগ উঠেছে। এতে দোকানের প্রায় ১৫ লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন দোকান মালিক।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিবাগত রাতে শাহাপুর বাজারের আজাদ বস্ত্র বিতানে এ চুরির ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, শাহাপুর বাজারে দীর্ঘদিন ধরে কাপড়ের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন আজাদ। তিনি স্থানীয় বোরহান মেম্বারের ছোট ভাই। প্রতিদিনের মতো ব্যবসায়িক কার্যক্রম শেষে রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়িতে চলে যান তিনি। পরদিন সকালে দোকানে এসে দেখতে পান, দোকানের বিভিন্ন মালামাল চুরি হয়ে গেছে।

দোকান মালিকের দাবি, চোরেরা দোকানে প্রবেশ করে বিপুল পরিমাণ কাপড়সহ অন্যান্য মালামাল নিয়ে গেছে। এতে আনুমানিক ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

এ বিষয়ে বরুড়া থানার ডিউটি অফিসার জানান, চুরির ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ ফোর্স পাঠানো হবে।

ঘটনার পর বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

চান্দিনায় ঘরে ঢুকে গৃহকর্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার চান্দিনায় ঘরে ঢুকে বীনা রানী রায় (৫৮) নামে এক গৃহকর্ত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টায় উপজেলার বরকইট ইউনিয়নের বরকইট দক্ষিণপাড়া শীল বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত বীনা রানী রায় ওই গ্রামের দিলীপ কুমার রায়ের স্ত্রী।

নিহতের ছেলে তাপস রায় বলেন, আমরা সবাই বিভিন্ন জায়গায় চাকরি করি, বাড়িতে মা ও বাবা থাকেন। আমার মা প্রতিদিনের ন্যায় সন্ধ্যায় পূজা-অর্চনা শেষে ঘরে টিভি দেখছিলেন, বাবা দোকানে চা পান করতে যান। এমন সময় দুষ্কৃতিকারীরা ঘরে ঢুকে আমার মায়ের মাথায় এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকে। এ সময় আমার পাশের ঘরের এক জেঠা মায়ের চিৎকার শুনে বাড়ির লোকজনকে সাথে নিয়ে আসার আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বরকইট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নূরে আলম বলেন, স্থানীয়ভাবে যতটুকু জেনেছেন, পূর্বশত্রুতার জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। প্রতিবেশীদের সাথে জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে বলে জানান তিনি।

চান্দিনা থানার ওসি মো. নুরুজ্জামান জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে কী কারণে এবং কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আমাদের একাধিক টিম রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের চিহ্নিত করতে কাজ করছে।

বরুড়ায় মেয়াদোত্তীর্ণ কাগজপত্রের বাস চালককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা

এমডি. আজিজুর রহমান, বরুড়া:

কুমিল্লার বরুড়ায় গাড়ির লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মেয়াদ না থাকায় একটি বাসের চালককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আহসান হাফিজ।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বরুড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে এ জরিমানা করা হয়।

জানা গেছে, বাস চালক আবুল হোসেনের গাড়ির লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মেয়াদ না থাকায় তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার টাকা পরিশোধ না করায় তাকে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

এদিকে চালককে কার্যালয়ে নেওয়ার পর জরিমানা না দেওয়ার দাবিতে শ্রমিকরা বাস দিয়ে সড়ক অবরোধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করেন। এতে সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।

পরে বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান রনি, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আহসান হাফিজ ও বরুড়া থানার ওসি (তদন্ত) সঞ্জয় সরকার ঘটনাস্থলে পৌঁছালে শ্রমিকরা বাস সরিয়ে নেন।

পরবর্তীতে আটক চালক আবুল হোসেনকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আহসান হাফিজ জানান, সংশ্লিষ্টরা জরিমানার টাকা পরিশোধ করেছেন এবং বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে। এছাড়া সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বৈধ কাগজপত্র ছাড়া যানবাহন না চালানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে।

কুমিল্লায় স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে মো. আজাদ নামে এক ব্যক্তিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

আজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ পঞ্চম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ সুলতান উদ্দীন প্রধান এ রায় দেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আজাদ আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার মুন্সিরহাট ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের মো. কবির হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ আজাদ। পারিবারিক কলহের জেরে ২০২৩ সালের ২৭ জুলাই রাতে তার স্ত্রী ও তিন সন্তানের জননী তানিয়া বেগমকে হাতে-পায়ে বৈদ্যুতিক তার জড়িয়ে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনায় নিহত তানিয়া বেগমের মা মায়া বেগম বাদী হয়ে মো. আজাদকে আসামি করে চৌদ্দগ্রাম থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

মামলা দায়েরের পর পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত শুরু করে। তদন্তের পাশাপাশি তানিয়া বেগমের ময়নাতদন্ত করা হয়। তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে তার মৃত্যুর বিষয়টি হত্যাকাণ্ড হিসেবে উঠে আসে। পরে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আসামি আজাদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

মামলাটির বিচারিক কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে সাক্ষীদের সাক্ষ্য গ্রহণ, জেরা এবং বিভিন্ন নথি ও তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করা হয়। বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত আসামি আজাদকে দোষী সাব্যস্ত করেন। পরে মঙ্গলবার আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।

রায় ঘোষণার পর বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. এনামুল হক সরকার বলেন, দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার পর এ রায়ের মাধ্যমে তারা ন্যায়বিচার পেয়েছেন। একই সঙ্গে দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানাই।

কুমিল্লায় ৯ বছরের এতিম শিশুর প্রায় বিচ্ছিন্ন হাত জোড়া দিয়ে রক্ষা, জটিল অস্ত্রোপচারে চিকিৎসকদের সাফল্য

এমডি. আজিজুর রহমান:

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া ৯ বছর বয়সী এতিম শিশু রিয়ার ডান হাত রক্ষা করেছেন চিকিৎসকরা। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার দীর্ঘ অস্ত্রোপচারে ক্ষতিগ্রস্ত রক্তনালী, স্নায়ু ও মাংসপেশি জোড়া দিয়ে হাতের রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হয়।

গত (১২ আগস্ট) বুধবার কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে এই জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। চিকিৎসকদের দাবি, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইতিহাসে এ ধরনের প্রথম সফল অস্ত্রোপচার এটি।

প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মির্জা মুহাম্মদ তাইয়েবুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনায় শিশুটির ডান হাত পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন না হলেও মারাত্মকভাবে কেটে যায়। এতে হাতের গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালী, স্নায়ু ও মাংসপেশি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তিনি আরো বলেন, “শিশুটির হাতটি পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন না হলেও গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালী, স্নায়ু ও মাংসপেশি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। দ্রুত অস্ত্রোপচার না করলে হাতটি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। তাই জরুরি ভিত্তিতে আমরা Revascularization-এর মাধ্যমে হাতের রক্তসঞ্চালন ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিই।”

অস্ত্রোপচারে হাতের Revascularization করা হয়। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত প্রধান দুটি রক্তনালী এবং তিনটি প্রধান স্নায়ু জোড়া দেওয়া হয়। Radial artery end-to-end anastomosis এবং ulnar artery repair by interposition saphenous vein graft পদ্ধতিতে রক্তনালীর সংযোগ স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে radial, median ও ulnar nerve এবং ডান হাতের বিভিন্ন flexor muscle মেরামত করা হয়।

দীর্ঘ ও জটিল অস্ত্রোপচারের পর শিশুটির হাতটি রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। তবে হাতের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা কতটা ফিরে আসবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী চিকিৎসা, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও পুনর্বাসনের ওপর বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

অধ্যাপক ডা. মির্জা মুহাম্মদ তাইয়েবুল ইসলাম বলেন,“এ ধরনের গুরুতর আঘাতের ক্ষেত্রে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত হাসপাতালে এনে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা গেলে অনেক ক্ষেত্রেই অঙ্গটি রক্ষা করা সম্ভব হয়। দেরি হলে হাতটি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।”

অস্ত্রোপচারে নেতৃত্ব দেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, হাসপাতালের অধ্যক্ষ ও হেলথ ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মির্জা মুহাম্মদ তাইয়েবুল ইসলাম। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ডা. মাহবুব ইবনে মোমেন খান জনি, ডা. আবু বকর সিদ্দিক ফয়সাল, ডা. আবু নাহিয়ান, ডা. রনি রায় ও ডা. ফাহিমা ফারজানা সিমু।

অ্যানেস্থেসিয়া টিমে ছিলেন আইসিইউ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. জাহিদুর রহমান মজুমদার। এছাড়া টিমে ছিলেন ডা. সুস্মিতা সেন গুপ্ত, ডা. খাতুনে জান্নাত, ডা. শাফি, ডা. লিমা, ডা. নাইম ও ডা. আহসান হাবীব।

অস্ত্রোপচারে চিকিৎসকদের পাশাপাশি সহযোগিতা করেন হাসপাতালের নার্সিং কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট স্টাফরা। তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

চিকিৎসকরা জানান, এ ধরনের গুরুতর আঘাতের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিলম্ব না করে দ্রুত বিশেষায়িত হাসপাতালে নেওয়া জরুরি। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে আক্রান্ত অঙ্গের রক্তসঞ্চালন বন্ধ হয়ে গিয়ে হাতটি স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

এদিকে, এতিম শিশু রিয়ার দ্রুত সুস্থতা এবং তার ডান হাতের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ফিরে পাওয়ার জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করা হয়েছে।

খোশবাস ইউনিয়নে গভীর রাতে ডাকাতি, গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকে স্বর্ণ-টাকা লুট

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার খোশবাস ইউনিয়নের খোশবাস মিয়াজী বাড়িতে গভীর রাতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ওই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। পাশাপাশি পুরো ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মধ্যেও নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী,  রাত আনুমানিক ২টার দিকে ৯ জনের একটি ডাকাত দল খোশবাস মিয়াজী বাড়ির মনির হোসেনের বাড়িতে প্রবেশ করে। ডাকাতরা ঘরের গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের হাত-পা বেঁধে রাখে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে ডাকাত দলটি ঘর থেকে প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালংকার, নগদ ৩০ হাজার টাকা, সাতটি মোবাইল ফোন ও একটি টর্চলাইট লুট করে নিয়ে যায় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় মাদক ও বহিরাগত যুবকদের আনাগোনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। তাদের দাবি, মাদক নির্মূল ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এ ধরনের ঘটনা আরও ঘটতে পারে।

এদিকে, ডাকাতির খবর পেয়ে বরুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী নাজমুল হক এবং ওসি (তদন্ত) ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তারা ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।

পুলিশ ভুক্তভোগীদের থানায় এসে মামলা করার পরামর্শ দিয়েছে। অভিযোগ ও তদন্তের ভিত্তিতে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয়রা ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি খোশবাস ইউনিয়নের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের টহল এবং মাদকবিরোধী অভিযান জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

তবে ডাকাতির ঘটনায় লুট হওয়া মালামালের প্রকৃত পরিমাণ এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের পরিচয় **পুলিশি তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

বরুড়ায় ঝড়-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে মাটি খেকুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ছুটে গেলেন ইউএনও

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার বরুড়ায় অবৈধভাবে কৃষিজমির মাটি কাটার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করতে মাঠে ছুটে যান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান রনি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার পয়ালগাছা ইউনিয়নের পেড্ডা এলাকায় মৃত: সামছুল হকের ছেলে, তাজুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজারের মাধ্যমে কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে নিয়ে যাচ্ছে। এতে একদিকে যেমন ফসলি জমির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশ ও স্থানীয় সড়ক। মাটি কাটার কারনে কৃষি জমি ধ্বংসের পথে।

এমন অভিযোগের পর আবহাওয়া প্রতিকূল থাকলেও বিষয়টি আমলে নিয়ে অভিযান পরিচালনায় বেরিয়ে পড়েন ইউএনও। এ অভিযানে বিশেষভাবে সহযোগিতা করেন উপজেলা কৃষি অফিসার মো: জাহিদুল ইসলাম। এমন অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অবৈধভাবে মাটি কাটা বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান রনি।

স্থানীয়দের দাবি, শুধু অভিযান নয়, অবৈধ মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে এ ধরনের কর্মকাণ্ড অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে।

বরুড়ার সচেতন মহল বলছে, কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষায় উপজেলা প্রশাসনের এমন তৎপরতা অব্যাহত থাকলে অবৈধ মাটি কাটার প্রবণতা কমবে এবং রক্ষা পাবে কৃষকের আবাদি জমি।

লাকসামে ৪০০ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও গাছের চারা বিতরণ

লাকসাম প্রতিনিধি:

কুমিল্লার লাকসামে প্রায় ৪০০ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও পালন করা হয়।

সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টায় লাকসাম পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের নশরতপুর মধ্যমপাড়ায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য সভাপতি- শিল্প মন্ত্রণালয় স্থায়ী কমিটি, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ও লাকসাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আবুল কালাম।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন লাকসাম পৌরসভা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব মজির আহমেদ,উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহমান বাদল, লাকসাম পৌরসভা বিএনপির সহ-সভাপতি ডা. নুরু উল্লাহ রায়হান এবং লাকসাম উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সম্ভব মেয়র পদপ্রার্থী মোশারফ হোসেন মুশু পৌরসভা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবুল হাসেম মানুসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।

কর্মসূচির পরিচালনায় ছিলেন লাকসাম পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের নশরতপুর মধ্যমপাড়ার প্রবাসী বিএনপি নেতা মো. ইকবাল হোসেন।

অনুষ্ঠানে প্রায় ৪০০ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও গাছের চারা বিতরণ করা হয়। পরে পরিবেশ রক্ষায় বিভিন্ন স্থানে গাছের চারা রোপণ করা হয়।

আয়োজকরা বলেন, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

কুমিল্লায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ৫ সদস্য গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) দিবাগত রাত ৩টার দিকে কুমিল্লা-নোয়াখালী মহাসড়কের সদর দক্ষিণ থানার লালমাই বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

ডিবি পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ডিবি কুমিল্লার একটি বিশেষ আভিযানিক দল লালমাই বাজার এলাকায় অবস্থান নেয়। এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ থেকে দুইজনকে আটক করা হয়। একই সময়ে গ্রেফতার এড়াতে মোটরসাইকেলে পালানোর চেষ্টা করলে আরও তিনজনকে আটক করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন— চাঁদপুরের সদর এলাকার হোসেনপুরের জহিরুল ইসলাম প্রধানিয়া ফারুক (৫৩), হাজীগঞ্জের ঢড্ডা এলাকার মো. মামুন মিজী (৪৫), ফরিদগঞ্জের সাচইনমেঘ এলাকার মো. কবির ভূইয়া (৪০), চাঁদপুর সদর এলাকার মো. রবিউল আলম (৩৫) এবং ফরিদগঞ্জের ভাটিয়ালপুর এলাকার মো. নজরুল ইসলাম (৩৫)।

পুলিশ জানিয়েছে জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায়, তারা ওই রাতে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ থানার পদুয়ার বাজার এলাকায় একত্রিত হয়। পরে কুমিল্লা-চাঁদপুর মহাসড়কের পরানপুর বাজার এলাকায় ডাকাতির উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। তবে ডাকাতি সংঘটনের আগেই লালমাই বাজার এলাকায় ডিবির অভিযানে তারা ধরা পড়ে।

ডিবি আরও জানায়, গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় ডাকাতির সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন থানায় পাঁচটি নিয়মিত মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অভিযানে তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি লোহার বোল্ট কাটার, একটি সেলাই রেঞ্জ, একটি প্লাস, একটি লোহার রড, দুটি কাঠের বাটযুক্ত কিরিজ, একটি কাঠের বাটযুক্ত হাসুয়া ও একটি কালো রঙের কাপড়ের ব্যাগ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এছাড়া একটি নীল রঙের পিকআপ ও একটি কালো রঙের ডিসকভার মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

দাউদকান্দি উপজেলা ও পৌর বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। সোমবার (১৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব আবুল হাসেমের স্বাক্ষর করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের জন্য দাউদকান্দি উপজেলা ও দাউদকান্দি পৌরসভা বিএনপির মেয়াদ উত্তীর্ণ আহবায়ক কমিটি বাতিল ঘোষনা করা হয়েছে। দাউদকান্দি উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপির অভিভাবক, সাবেক মন্ত্রী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সিনিয়র সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন স্যাররর সাথে আলোচনা করে কমিটি গঠন সম্পর্কে পরবর্তীতে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

দলীয় সূত্রে জানাযায়, ২০২৩ সালের ৫ এপ্রিল দাউদকান্দি উপজেলা বিএনপির ৪১ সদস্যের আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। পরে একাধিকবার সম্মেলনের তারিখ নির্ধারন হলেও অজ্ঞাত কারনে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়নি।