All posts by jitu

আস্ত খাসি পেয়ে নতুন কনেকে বিয়ে করলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সেই প্রবাসী

ডেস্ক রিপোর্ট:

বিয়ের অনুষ্ঠানে আস্ত খাসি না রাখাকে কেন্দ্র করে তর্কাতর্কির জেরে আগের বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর নতুন করে বিয়ে করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার সেই প্রবাসী যুবক জুনায়েদ মিয়া।

গতকাল মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে কসবা উপজেলার নেয়ামতপুর গ্রামের নতুন কনের মামার বাড়িতে জান্নাতুল ফেরদৌস আক্তারের সঙ্গে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়। পরে নববধূর সঙ্গে তোলা ছবি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট করে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন জুনায়েদ।

জুনায়েদ মিয়া কসবার নিয়ামতপুর গ্রামের আবদুল জলিলের ছেলে। তিনি জাপান প্রবাসী। তার সঙ্গে আখাউড়ার তোলাতলা গ্রামের সফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার মেয়ে রাশেদা আক্তারের বিয়ের দিন নির্ধারিত ছিল সোমবার।

সেদিন বরপক্ষ কনের বাড়িতে যাওয়ার পর খাবারের আয়োজনে বরের জন্য আস্ত খাসি না রাখায় কথা-কাটাকাটিতে জড়ান বর। এ কারণে তার সঙ্গে মেয়ে বিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানায় কনের পরিবার। উপহারসামগ্রীসহ বরের পরিবারকে বিদায় করে দেন কনের স্বজনেরা।

এরপর নতুন করে বিয়ের আয়োজন হয় জান্নাতুল ফেরদৌস আক্তারের সঙ্গে। তিনি আখাউড়া উপজেলার নূরপুর গ্রামের জাহের মিয়ার মেয়ে এবং কসবার সায়েদাবাদ সরকারি কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্রী। কনের মামার বাড়ি কসবার নেয়ামতপুর গ্রামে। বর জুনায়েদ মিয়ার গ্রামেই কনের মামা তাজুল ইসলাম সরকারের বাড়ি।

জুনায়েদের ছোট ভাই পারভেজ রানা বলেন, নতুন এই বিয়ের বিষয়ে কনেপক্ষই তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। উভয় পক্ষের আলোচনায় গতকাল রাতে কনের মামার বাড়িতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। তার ভাইয়ের ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ছুটি আছে। তবে তিনি ছুটি বাড়াবেন। ৬ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে হয়েছে।

বিয়ের পর রাত একটার দিকে নববধূর সঙ্গে ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেন জুনায়েদ। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, সব জল্পনাকল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিবাহ সম্পন্ন হলো।’ একই সঙ্গে নবদম্পতির জন্য সবার কাছে দোয়া চান তিনি।

এদিকে নতুন কনেপক্ষের দেওয়া বিয়ের খাবারের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, বরের জন্য রাখা খাবারে এবার আস্ত খাসিও ছিল। বরসহ অন্যরা আনন্দের সঙ্গে সেই খাসি ও অন্যান্য খাবার খান।

মেঘনা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সালাউদ্দিন সরকারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য না হয়েও ব্যানার ফেস্টুনে নিজেকে সদস্য লিখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে দলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করায় কুমিল্লার মেঘনা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সালাউদ্দিন সরকারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। জেলা বিএনপির এই নোটিশে তাঁকে সাত দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আজ বুধবার(১৯আগষ্ট) দুপুরে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহবায়ক আবুল হাসেম স্বাক্ষরিত নোটিশের মাধ্যমে শোকজ করা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, মেঘনা উপজেলা বিএনপি সদস্য সচিব এর মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্বে থেকে আপনি জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য না হয়েও বিভিন্ন ব্যানার ফেস্টুন ও ফেসবুকে নিজেকে আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পরিচয় দিয়েছেন। যাহা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। বিষয়টি বিএনপি উত্তর জেলা আহ্বায়ক কমিটির দৃষ্টিগোচর হয়েছে।

এমতাবস্থায়, সংগঠন বিরোধী এহেন কর্মকান্ডের জন্য আপনার বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা যাবে না, তা আগামী ৭ (সাত) দিনের মধ্যে নিম্ন স্বাক্ষরকারীর নিকট স্ব-শরীরে উপস্থিত হইয়া কারন দর্শানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো।
এবিষয়ে জানতে মেঘনা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সালাউদ্দিন সরকারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব আবুল হাসেম বলেন, মেঘনা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সালাউদ্দিন সরকারকে শোকজের হার্ডকপি তাঁর হাতে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সাত দিনের মধ্যে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়েছে। তাঁর ব্যাখ্যা পাওয়ার পর গঠনতন্ত্রমতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ইউএনও সাইফুল ইসলামের অভিযানে রূপগঞ্জে আতঙ্কে মাদক কারবারিরা

বিশেষ প্রতিনিধি:

মাদক একটি পরিবারকে ধ্বংস করার পাশাপাশি একটি প্রজন্মের সম্ভাবনাকেও নষ্ট করে দিতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও কার্যকর ও ধারাবাহিক প্রশাসনিক পদক্ষেপের অভাবে অনেক ক্ষেত্রেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তবে মাঠপর্যায়ের প্রশাসনের কর্মকর্তারা আন্তরিক ও দায়িত্বশীল হয়ে আইন প্রয়োগে কঠোর হলে মাদকের বিরুদ্ধে যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব, তার একটি দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে।

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে গত কয়েক মাস ধরে মাদকের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। মাদক কারবারি থেকে শুরু করে সেবনকারী—কেউই ছাড় পাচ্ছেন না। পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া কিংবা পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ আসা—উভয় ক্ষেত্রেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দিয়ে অনেককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মাদক, ভূমিদখল এবং ভেজালের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন ইউএনও সাইফুল ইসলাম। গত চার মাসে উপজেলাজুড়ে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে চার শতাধিক মাদক কারবারি ও সেবীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী জনসচেতনতা তৈরিতেও নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ।

প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, নিয়মিত অভিযান ও কঠোর আইন প্রয়োগের কারণে রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় মাদকের আস্তানাগুলো অনেকটাই গুটিয়ে আসছে। একসময় যেসব স্থানে প্রকাশ্যে মাদক বেচাকেনা বা সেবনের অভিযোগ ছিল, সেসব জায়গায় এখন প্রশাসনের নজরদারি বেড়েছে। ফলে মাদক কারবারিদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও বেড়েছে স্বস্তি।

উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা আশিকুর রহমান বলেন, ‘মাদকের করাল গ্রাস থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে ইউএনও সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছেন। গত চার মাসে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে চার শতাধিক মাদক কারবারি ও সেবীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। শুধু আইন প্রয়োগ নয়, মাদকবিরোধী জনসচেতনতা তৈরিতেও তিনি কাজ করছেন।’

তবে মাদকের বিরুদ্ধে ইউএনও সাইফুল ইসলামের ভূমিকা শুধু আইন প্রয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বলে জানান স্থানীয়রা। প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোরও চেষ্টা করছেন তিনি। দূরদূরান্ত থেকে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে আসা হতদরিদ্র, অসুস্থ ও অসহায় মানুষকে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগেও সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

রাহেলা খাতুন ও জুয়েল মিয়ার মতো অসহায় মানুষের ভাষ্য, কঠোর প্রশাসকের পাশাপাশি ইউএনও সাইফুল ইসলাম একজন মানবিক কর্মকর্তা হিসেবেও মানুষের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছেন। তাদের মতে, প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কর্মকর্তার ব্যক্তিগত আন্তরিকতারও বড় ভূমিকা রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মাদক নির্মূল শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একার দায়িত্ব নয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং মাঠ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করলে মাদকের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব। রূপগঞ্জে সাম্প্রতিক অভিযানের অভিজ্ঞতা সেই সম্ভাবনাই সামনে এনেছে।

তাদের মতে, দেশের প্রতিটি উপজেলা ও জেলায় যদি মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা রূপগঞ্জের মতো মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেন, তাহলে মাদকের বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কারণ শুধু আইন তৈরি করলেই অপরাধ কমে না; আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং অপরাধের বিরুদ্ধে প্রশাসনের দৃশ্যমান অবস্থানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রূপগঞ্জ ইউএনও মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। সরকারকে সহযোগিতা করতে এলাকার আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক পরিবেশ ঠিক রাখতে আমি বদ্ধপরিকর।’

রূপগঞ্জের এই উদ্যোগ তাই শুধু একটি উপজেলার মাদকবিরোধী অভিযান নয়; এটি মাঠ প্রশাসনের সক্রিয়তা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে একটি বড় সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে কীভাবে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা যায়, তারও একটি উদাহরণ। দেশের অন্য এলাকাতেও যদি দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা একইভাবে উদ্যোগী হন, তাহলে মাদকের বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালী ও দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কুমিল্লায় মাদক বিরোধী অভিযান, গ্রেপ্তার ৮৪

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ী, সরবরাহকারী ও সেবনসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৮৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। এ সময় ৬৬৯টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে গ্রেপ্তারদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান জানান, বিশেষ অভিযান চালিয়ে এক রাতে মাদকসহ ৮৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা, সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং একটি নিরাপদ ও মাদকমুক্ত কুমিল্লা গড়ে তোলার লক্ষ্যে জেলা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মাদক নির্মূলে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রচেষ্টাই যথেষ্ট নয়, এক্ষেত্রে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সচেতনতা ও সক্রিয় সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, মাদকের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও চক্রের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে কুমিল্লা জেলা পুলিশের এ ধরনের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে।

দাউদকান্দিতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার ১০

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার ব্যাক্তিরা অস্ত্র, ডাকাতি, চুরি, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্য এবং পরোয়ানাভূক্ত আসামি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আজ বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে গ্রেফতারকৃতদের কুমিল্লা বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মো. মোঃ সাজেদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুর ১২টা থেকে বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুর ১২টা পর্যন্ত দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশের একাধিক দল পৃথকভাবে বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে অস্ত্র, ডাকাতি, চুরি, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্য, গ্রেফতারী পরোয়ানাভূক্ত আসামীসহ মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ সদর উত্তর ইউনিয়নের হাসনাবাদ ভিটিকান্দি গ্রামের জজ গাজীর ছেলে রাশেল মিয়া(৩৯), ডাকাতি ও চুরি মামলার আসামী বাশখোলা গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে মোঃ আবুল কালাম(৩২), পৌরসভার দোনারচর গ্রামের আঃ হকের ছেলে শাহপীর(৪১), টামটা গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে মোঃ বোরহান হোসেন(২০), মালিখিল হাজি বাড়ীর দানু মিয়ার ছেলে মোঃ ফারুক(৩৯), সিঙ্গুলা গ্রামের মৃত সাহেব আলীর ছেলে মোঃ ইব্রাহিম খলিল প্রকাশ তালাশী(৪১), কুশিয়ারা গ্রামের মোক্তার হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ হোসেন(২২), কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন দৌলতপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য স্বভাহন গ্রামের মৃত কদম আলীর ছেলে মোঃ কামাল হোসেন(৪৪), সদর উত্তর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য গোলাপেরচর গ্রামে মৃত মালু মিয়ার ছেলে মোঃ বাবুল(৪১) এবং গ্রেফতারী পরোয়ানাভূক্ত আসামী ধারিবন গ্রামের মৃত শাজাহান মিয়ার ছেলে শিপন মিয়া(২৮)।

দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম বলেন, কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এলাকায় মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বুড়িচংয়ে ৬ পুরিয়া গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ী আটক

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কালিকাপুর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৬ পুরিয়া গাঁজাসহ শহিদ মিয়া (৬০) নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে প্রশাসন।

১৮ আগস্ট ২০২৬, (মঙ্গলবার) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭:৩০ ঘটিকায় এই অভিযান চালানো হয়।অভিযানটির নেতৃত্ব দেন বুড়িচং উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনাব তানভীর হোসেন। তার সাথে সহযোগিতায় ছিলেন বুড়িচং থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই রাকিব হাসানসহ পুলিশের একটি চৌকস দল।

উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কালিকাপুর বাজারের পূর্ব পাশে এই যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানকালে আনন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধ শহিদ মিয়াকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে তার হেফাজত থেকে ৬ পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বুড়িচং থানার সেকেন্ড অফিসার রাকিব হাসান জানান, আটককৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণসহ সাজা প্রদানের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

এরপর ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে তাকে ৫০০ টাকা জরিমানা ও ৩ মাসের জেল প্রদান করা হয়।

এদিকে, বৃদ্ধ বয়সে শহিদ মিয়ার এমন মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মাদক ও অপরাধমুক্ত বুড়িচং গড়তে প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান ও নিয়মিত অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

কুমিল্লায় ট্রেনে কাটা পড়ে দাদি-নাতনির মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লায় ট্রেনে কাটা পড়ে দাদি ও নাতনির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে কুমিল্লা রেলস্টেশনের পাশে শাসনগাছা রেলক্রসিং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন—মুরাদনগর উপজেলা সদরের উত্তরপাড়া এলাকার মৃত মিজানুর রহমানের স্ত্রী জোৎস্না বেগম (৬০) এবং তাঁর ছেলে জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে চাঁদনী আক্তার (১৪)।

কুমিল্লা রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সোহরাব হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনটি কুমিল্লা রেলস্টেশনের প্রবেশমুখে পৌঁছালে রেললাইন পার হওয়ার সময় জোৎস্না বেগম ও চাঁদনী আক্তার ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

নিহত জোৎস্না বেগমের ভাইয়ের মেয়ে জোহরা আক্তার জানান, চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে নাতনি চাঁদনীকে সঙ্গে নিয়ে কুমিল্লায় এসেছিলেন তাঁর ফুফু। চিকিৎসক দেখানো শেষে বাড়ি ফেরার পথে রেললাইন পার হওয়ার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

শেখ হাসিনাকে ঘিরে বিরোধ, ঝুঁকিতে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক

বিশেষ প্রতিনিধি:

শেখ হাসিনাকে ঘিরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে যে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, তা এখন আর শুধু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর অবস্থান কিংবা তার বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর প্রভাব পড়ছে দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্কে। সাম্প্রতিক সময়ে নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ঢাকার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া সেই অস্বস্তিকে আরও প্রকাশ্য করেছে। একই সঙ্গে সামনে এসেছে একটি মৌলিক প্রশ্ন—বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক যদি দীর্ঘদিন অবিশ্বাস ও টানাপোড়েনের মধ্যে থাকে, তাহলে শেষ পর্যন্ত লাভবান হবে কে?

গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়ায় ক্ষমতাচ্যুত ও দেশত্যাগী শেখ হাসিনার একটি অডিও বক্তব্য প্রচার করা হয়। এ ঘটনায় বাংলাদেশ তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে অনুষ্ঠানের নিন্দা করেছে। ঢাকার পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে, ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে দুই দেশের সম্পর্ক আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

অন্যদিকে ভারত বলেছে, ওই অনুষ্ঠান আয়োজনের সঙ্গে দেশটির সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না এবং এফসিসি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু ব্যাখ্যা যা-ই হোক, বাস্তবতা হলো—এর ফলে আগে থেকেই কঠিন অবস্থায় থাকা ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের ওপর নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।

ভারত থেকে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে আপত্তি জানানোর পূর্ণ অধিকার বাংলাদেশের রয়েছে। তাকে কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ার ক্ষেত্রেও এ ঘটনা ঢাকার অবস্থানকে আরও জোরালো করতে পারে। কিন্তু এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—কোনো নির্দিষ্ট সমস্যার সমাধান করা এবং সেই সমস্যাকেই দুই দেশের পুরো সম্পর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা এক বিষয় নয়।

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক কোনো এক ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠেনি, আবার একজন ব্যক্তিকে ঘিরে এর ভবিষ্যৎও নির্ধারিত হওয়া উচিত নয়। দুই দেশের সম্পর্কের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাণিজ্য, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, পানি, পরিবহন, যোগাযোগ, নিরাপত্তা এবং দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগের মতো বহু দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ।

এসব ক্ষেত্রে নিয়মিত যোগাযোগ ও সহযোগিতার বিকল্প নেই। গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে নতুন করে গুরুত্ব দেওয়া দরকার। একইভাবে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত তিস্তা সমস্যার সমাধানেও রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও কার্যকর আলোচনা প্রয়োজন। বাস্তবতা হলো, ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার কারণে বাংলাদেশ ও ভারত কোনো দেশই অন্য দেশকে সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলতে পারে না।

জুলাইয়ের শেষ দিকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীও দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে ইতিবাচক বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দুই দেশের কোনো সমস্যাই সমাধানের বাইরে নয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে গঠনমূলকভাবে এগিয়ে নিতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।

ভারতের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এরই মধ্যে একাধিকবার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার পরিবারকে দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারত যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান। এরপর আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

এই আমন্ত্রণগুলো বাংলাদেশের জন্য নিছক আনুষ্ঠানিকতার বিষয় নয়। বরং এগুলো ঢাকার কূটনৈতিক পরিপক্বতা ও জাতীয় স্বার্থকে কতটা বাস্তববাদীভাবে সামনে রাখা যায়, তারও পরীক্ষা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এখনো নরেন্দ্র মোদির দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেননি। ব্রিকস সম্মেলনের আমন্ত্রণ তাই ভারতের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ পুনর্গঠনের একটি নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।

এই সফরকে শুধু দ্বিপক্ষীয় রাষ্ট্রীয় সফর হিসেবে না দেখে একটি বহুপক্ষীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ হিসেবেও বিবেচনা করা যেতে পারে। ফলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে সরাসরি আলোচনা ও যোগাযোগের একটি বাস্তব সুযোগ তৈরি হতে পারে।

অবশ্য এ সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক ঝুঁকিও রয়েছে। দেশের কট্টরপন্থী রাজনৈতিক মহল প্রশ্ন তুলতে পারে—শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করার সময় তারেক রহমানের ভারত সফরের যৌক্তিকতা কী? কিন্তু অন্যদিকে আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যান করলে এমন ধারণাও তৈরি হতে পারে যে শেখ হাসিনাকে ঘিরে বিরোধই বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সামগ্রিক যোগাযোগের পথ নির্ধারণ করছে।

একটি আত্মবিশ্বাসী রাষ্ট্রের কূটনীতি এমন হওয়া উচিত নয়। জাতীয় স্বার্থ যেখানে জড়িত, সেখানে আপত্তি ও মতবিরোধ থাকা সত্ত্বেও যোগাযোগের পথ খোলা রাখাই অধিক কার্যকর।

শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশের অনুরোধ ভারত পেয়েছে এবং নয়াদিল্লি বিষয়টি নিজেদের আইনি কাঠামোর আলোকে পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছে। কিন্তু এই প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন অনিশ্চিত থাকলে বাংলাদেশে সন্দেহ ও অসন্তোষ আরও বাড়তে পারে।

শেখ হাসিনা নিজেও একাধিকবার বলেছেন, তিনি ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশে ফিরতে চান। তিনি দেশে ফিরলে তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগ ও মামলার বিষয়ে বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব। বিচারিক প্রক্রিয়াও নিজস্ব গতিতে এগিয়ে যেতে পারে। শেষ পর্যন্ত এটি বাংলাদেশের আদালত ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিষয়—ভারতের নয়।

তবে শেখ হাসিনা যতদিন ভারতে থাকবেন, ততদিন তিনি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে থাকবেন। শুধু কঠোর বিবৃতি দিয়ে কিংবা ভারতের সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগ সীমিত রেখে এই বাস্তবতা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।

বরং সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার অবস্থান ভারতের কাছে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে পারে। একই সঙ্গে অন্যান্য দ্বিপক্ষীয় সমস্যার ক্ষেত্রেও নিজেদের স্বার্থ আদায়ের সুযোগ বাড়াতে পারে।

শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি আবারও একই জায়গায় ফিরে আসে—বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক দীর্ঘদিন খারাপ থাকলে লাভবান হবে কে?

নিশ্চিতভাবেই দুই দেশের রপ্তানিকারকরা নয়। আঞ্চলিক সরবরাহব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল ভোক্তারাও নয়। নিয়মিত ও নির্ভরযোগ্য যোগাযোগব্যবস্থা দরকার এমন ব্যবসায়ী, সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষ কিংবা পানি বণ্টনের সমাধানের অপেক্ষায় থাকা জনগোষ্ঠীও নয়।

দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বৈরিতা কোনো দেশের নিরাপত্তার জন্যও ইতিবাচক নয়। বরং অবিশ্বাস যত বাড়বে, ততই অর্থনৈতিক, কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাগত সহযোগিতার সুযোগ সংকুচিত হবে।

লাভবান হতে পারে তারাই, যারা বিভাজন ও উত্তেজনা থেকে রাজনৈতিক সুবিধা নিতে চায়। দুই দেশের রাজনৈতিক কট্টরপন্থীরা তাদের মধ্যে অন্যতম। একই সঙ্গে বিভক্ত ও দুর্বল দক্ষিণ এশিয়ায় নিজেদের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ খোঁজা বাইরের শক্তিগুলোরও এতে স্বার্থ থাকতে পারে।

তাই বাংলাদেশকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে না অতিরিক্ত নির্ভরশীল হতে হবে, না অকারণ বিরোধকে নীতিতে পরিণত করতে হবে। আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ নিজের জাতীয় স্বার্থ স্পষ্টভাবে তুলে ধরে ভারতের সঙ্গে আলোচনায় বসতে পারে। মতবিরোধ থাকবে, কঠিন প্রশ্নও থাকবে, কিন্তু যোগাযোগের দরজাও খোলা রাখতে হবে।

কারণ কূটনীতির অর্থ সব বিষয়ে একমত হওয়া নয়; বরং মতবিরোধের মধ্যেও নিজের স্বার্থ রক্ষা করে সমাধানের পথ খুঁজে নেওয়া।

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক তাই কোনো একজন ব্যক্তির চেয়ে অনেক বড়। শেখ হাসিনার বিষয়টির একটি আইনি ও কূটনৈতিক সমাধান প্রয়োজন, কিন্তু সেটিকে দুই দেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের একমাত্র নির্ধারক বানানো বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।

ঢাকা ও দিল্লির সম্পর্ক যদি স্থায়ীভাবে খারাপ হয়ে যায়, তাহলে শেষ পর্যন্ত লাভবান হবে কারা—এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজাই এখন সবচেয়ে জরুরি। কারণ সেই তালিকায় বাংলাদেশ বা ভারত—কোনোটিকেই রাখার কারণ নেই। বরং দুই দেশের বিভাজন থেকেই সুবিধা নেবে তারা, যারা এই বিভাজনকে নিজেদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বা ভূরাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়।

দাউদকান্দিতে বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ যুবক গ্রেপ্তার

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে বিদেশি পিস্তলসহ মোঃ রাসেল (২৪) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার(১৮ আগষ্ট) বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার সদর উত্তর ইউনিয়নের হাসনাবাদ ভিটিকান্দি গ্রাম থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে।রাসেল ওই গ্রামের জজ মিয়ার ছেলে।

দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম জানান, সদর উত্তর ইউনিয়নের হাসনাবাদ ভিটিকান্দি গ্রামের জনৈক শফিউল্লাহ মুন্সি বাড়ীর সামনে রাস্তার উপর থেকে সন্দেহজনকভাবে রাসেল মিয়াকে আটক করা হয়। পরে তার হাতে থাকা ব্যাগ তল্লাশী করে একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি ও একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়েছে।

তিনি জানান, আটক রাসেল মিয়ার নামে হত্যা ও দস্যুতাসহ চারটি মামলা রয়েছে। এব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

হোমনায় যানজট নিরসনে মোবাইল কোর্টের অভিযান

হোমনা প্রতিনিধি:

কুমিল্লার হোমনা পৌর সদরে যানজট নিরসন ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে ভ্রাম্যমান আদালত অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সরকারি হাসপাতাল রোডের সব কয়টি ওষুধ ফার্মেসির দোকানপাট বন্ধ করে লাপাত্তা হয়ে গেছে স্থানীয় ঔষধ ব্যবসায়ীরা।

মঙ্গলবার (১৮ই আগস্ট) দুপুরে দিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের খবর শুনে সরকারি হাসপাতাল রোডের সব কয়টি ওষুধ ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করে পালিয়ে যায়। ফলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ কিনতে গিয়ে রোগী ও স্বজনদের পড়তে হয় চরম ভোগান্তিতে।

জানা গেছে, হোমনা সদরে যানজট নিরসন ও পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করণে উচ্ছেদ অভিযান মাঠে নেমেছিল সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আহাম্মেদ মোফাচ্ছের। তবে ম্যাজিস্ট্রেটের খবর পেয়ে আগেভাগেই সব কয়টি দোকান ফার্মেসির মালিকরা বন্ধ করে দেয়।

স্থানীয়দের প্রশ্ন-দোকান মালিকরা যদি নিয়ম মেনে ব্যবসা করতেন, তবে কেন তারা পালাতে বাধ্য হলেন। তবে এই খবর ফেসবুকে জানার পরে জনমনে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। এসব দোকান হয়তো ভেজাল বা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখা হয়েছিল।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আহাম্মেদ মোফাচ্ছের বলেন, হাসপাতাল রোড থেকে থানা সড়ক পর্যন্ত প্রতিদিন সকালে চলাচলে এক ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যায়।

এটি পর্যালোচনা করে আমরা তিনটি প্রধান কারণ চিহ্নিত করেছি। প্রথমত নিয়ন্ত্রণহীন অতিরিক্ত যানবাহন, রাস্তার দুই পাশের অবৈধ দোকানপাট এবং সড়কে ছড়িয়ে থাকা নির্মাণ সামগ্রী।

তিনি আরও জানান, পথচারীদের দুর্ভোগ কমাতে প্রাথমিক উচ্ছেদ ও সচেতনতামূলক কাজ করা হয়েছে। সড়কে রাখা নির্মাণসামগ্রী সরাতে দুই ঘণ্টার সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।