All posts by jitu

হোমনায় ৭ বছরের শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু, ময়নাতদন্ত ছাড়াই দাফনে এলাকায় তোলপাড়

হোমনা প্রতিনিধি:

কুমিল্লার হোমনায় আয়েশা আক্তার নামে সাত বছরের এক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটির শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন এবং উদ্ধারের সময় তার পরনে কোনো কাপড় না থাকায় মৃত্যুর কারণ নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে এটি হত্যা, দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এদিকে ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ দাফন করায় এলাকাবাসীর মনে দেখা দিয়েছে নানান প্রশ্ন।

গত সোমবার (১৭ আগস্ট) উপজেলার ঘাগুটিয়া ইউনিয়নের চুনারচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত আয়েশা ওই গ্রামের শারীরিক প্রতিবন্ধী মো. জাকির হোসেনের মেয়ে।

স্থানীয় ও পরিবার সুত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে বাড়ির পাশে দোকানের কাছে খেলাধুলা করছিল আয়েশা। দীর্ঘ সময় পার হলেও বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন তাকে খুঁজতে শুরু করেন। পরে বিকেল চারটার দিকে দোকানের পেছনের ঝোপঝাড়ের নিচে পায়ের পাতা সমান পানির মধ্যে শিশুটিকে উলঙ্গ ও গাছের পাতা দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় দেখতে পান স্বজনরা। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত শিশুটির মা জানান, মেয়েকে না পেয়ে তারা দীর্ঘ সময় ধরে বাড়ির আশপাশে খোঁজাখুঁজি করেন। পরে ঝোপঝাড়ের নিচে মেয়েকে উলঙ্গ অবস্থায় গাছের পাতা দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় দেখেন। তার দাবি, শিশুটির মুখের ভেতর, গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল।

হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. আয়েশা খান জানান, শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। তাই তিনি হোমনা থানা পুলিশকে বিষয়টি অবগত করেন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে জানান তিনি।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, শিশুটির পরনে জিন্সের প্যান্ট ছিল। কিন্তু লাশ উদ্ধারের সময় তার পরনে কোনো কাপড় ছিল না এবং শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। এসব বিষয়কে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে নানা সন্দেহ তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ শিশুটিকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।

নিহত শিশুর বাবা মো. জাকির হোসেন বলেন, দোকানের পেছনের ঝোপঝাড়ের নিচ থেকে তার মেয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়। কে বা কারা আমার মেয়েকে ফেলে রেখেছে তা আমি জানি না। আমি শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী এবং এ ঘটনায় আমার কোনো অভিযোগ নেই।

শিশুটির কাকা বলেন, আমার ভাতিজিকে উলঙ্গ ও গাছের পাতা দিয়ে ঢেকে রাখা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন ছিল। তাকে কেউ হত্যা করেছে বলে তিনি দাবি করেন। তার ভাতিজির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া জানান, মৃত শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিতাসে মাদকবিরোধী অভিযানে ৯ জন গ্রেপ্তার

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার তিতাসে মাদকবিরোধী অভিযানে নয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক অভিযানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের তিন মামলায় পাঁচজন এবং মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আরো চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের মামলায় গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- উপজেলার বাতাকান্দি এলাকার হাজী আ. বাতেনের ছেলে মো. আবু সাঈদ (৪৫), উত্তর আকালিয়া পশ্চিমপাড়া এলাকার মো. আ. মালেক ভূঁইয়ার ছেলে মো. কবির হোসেন (২৮), কড়িকান্দি এলাকার মৃত লাল মিয়ার ছেলে মো. মনু মিয়া (৬০), দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর এলাকার হিরন মিয়ার ছেলে মো. ইমন (২২) ও নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার কলাগাছিয়া মোল্লার চর এলাকার কবির ভূঁইয়ার ছেলে মো. সুমন (১৯)। সুমনের বর্তমান ঠিকানা তিতাস উপজেলার কড়িকান্দি এলাকায়।

অন্যদিকে মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তানিয়া আক্তার লুবনার পরিচালনায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়।

মোবাইল কোর্টে উপজেলার আলীরগাঁও এলাকার মো. হোসেনের ছেলে মো. হাবিব (২৫) ও আ. আউয়ালের ছেলে মো. রুবেল (২৫), মৌটুপীর মো. ফিরোজের ছেলে মো. জয়নাল (২৭) ও মধ্য আকালিয়ার মৃত রিয়াজুল হকের ছেলে মো. ডালিমকে (৩৫) আটক করা হয়।

এ ছাড়া দাউদকান্দি থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানামূলে তিতাস উপজেলার মৌটুপি এলাকার ছাদেক সরকারের ছেলে নাঈম সরকারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মমিরুল হক জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা তিনটি মামলায় পাঁচজন, মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে চারজন এবং গ্রেপ্তারি পরোয়ানামূলে আরো একজনকে গ্রেপ্তার করে বুধবার দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

চাঁদপুরে জিপিএ-৫ অর্জনকারী কৃতি শিক্ষার্থীরা পেল প্রভাতের সংবর্ধনা

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুরঃ

চাঁদপুর সদর উপজেলায় এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষায় জিপিএ-৫ (এ প্লাস) অর্জনকারী কৃতি শিক্ষার্থীদের বর্ণাঢ্য আয়োজনে সংবর্ধনা দিয়েছে সরকারি নিবন্ধনকৃত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন প্রভাত যুব সমাজকল্যাণ সংস্থা। মেধাবী শিক্ষার্থীদের সাফল্যের স্বীকৃতি ও ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফলের জন্য উৎসাহিত করতে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) উপজেলার মহামায়া হানাফিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সংগঠনের সভাপতি হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সদর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ শফিকুল ইসলাম। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাসুদ হোসেন এর প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার সুমন কুমার দাস, শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও সংগঠনের উপদেষ্টা স্বপন মাহমুদ, মহামায়া হানাফিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি ও ইউপি সদস্য কবির হোসেন রনি, অভিভাবক সদস্য সাংবাদিক মিজানুর রহমান পাটওয়ারী।

বক্তারা কৃতি শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফল শুধু তাদের ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি পরিবার, শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্যও গর্বের বিষয়। আজকের মেধাবী তরুণরাই আগামী দিনের দেশ ও জাতির কর্ণধার। কঠোর অধ্যবসায়, নৈতিক শিক্ষা ও নিয়মিত পড়াশোনার মাধ্যমে সাফল্যের এ ধারা অব্যাহত রাখতে হবে। শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করার আহ্বান জানান তারা। বক্তারা আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি জ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। আজকের মতো এ ধরনের সংবর্ধনা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও উৎসাহিত করবে এবং তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে ভূমিকা রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।

সংগঠনের সহ সভাপতি জুয়েল হাজীর স্বাগত বক্তব্যে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, বলাখাল মকবুল আহমেদ ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক তাজুল ইসলাম হাওলাদার, বাকিলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মজিবুর রহমান, মহামায়া হানাফিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ খোরশেদ আলম মোল্লা, শাহতলী জোবাইদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ নুরুজ্জামান, ছোট সুন্দর এ আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষিকা আয়েশা আক্তার, প্রভাতের যগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিনহাজুল ইসলাম নোবেল প্রমূখ।

চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহতলী জোবাইদা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কৃষ্ণপুর জোহরা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, মহামায়া হানাফিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, ছোট সুন্দর এ আলী উচ্চ বিদ্যালয়, হাজীগঞ্জের বাকিলা উচ্চ বিদ্যালয় ও বাকিলা ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা, মতলব দক্ষিণের ধলাইতলী জনতা উচ্চ বিদ্যালয়ের জিপিএ-৫ পাওয়া ২২ জন কৃতি শিক্ষার্থীর হাতে ফুল, সম্মাননা সনদ ও শুভেচ্ছা উপহার প্রদানের মাধ্যমে তাদেরকে সংবর্ধিত করা হয়। এসময় প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন করে কৃতি শিক্ষার্থী তাদের অনুভূতি প্রকাশ করেন।উৎসবমুখর ও আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

মহামায়া হানাফিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল কাদির এর পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বলাখাল মকবুল আহমেদ ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক রাজীব রানা, কৃষ্ণপুর জোহরা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা লুৎফুন্নহার বেগম, প্রভাতের শুভাকাঙ্ক্ষী ও রেমিট্যান্স যোদ্ধা সুজন সরকার, ক্রিয়েটিভ ডিজিটাল সাইন এর সত্ত্বাধিকারী আব্দুল কাদির, সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজদিদুর রহমান পাটওয়ারী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল আজিজ আরজু, নির্বাহী সদস্য মাসুদ মিয়া ও ইব্রাহিম খলিল রিয়াদ সহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং অভিভাবকবৃন্দ।

আস্ত খাসি পেয়ে নতুন কনেকে বিয়ে করলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সেই প্রবাসী

ডেস্ক রিপোর্ট:

বিয়ের অনুষ্ঠানে আস্ত খাসি না রাখাকে কেন্দ্র করে তর্কাতর্কির জেরে আগের বিয়ে ভেঙে যাওয়ার পর নতুন করে বিয়ে করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার সেই প্রবাসী যুবক জুনায়েদ মিয়া।

গতকাল মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে কসবা উপজেলার নেয়ামতপুর গ্রামের নতুন কনের মামার বাড়িতে জান্নাতুল ফেরদৌস আক্তারের সঙ্গে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়। পরে নববধূর সঙ্গে তোলা ছবি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পোস্ট করে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন জুনায়েদ।

জুনায়েদ মিয়া কসবার নিয়ামতপুর গ্রামের আবদুল জলিলের ছেলে। তিনি জাপান প্রবাসী। তার সঙ্গে আখাউড়ার তোলাতলা গ্রামের সফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার মেয়ে রাশেদা আক্তারের বিয়ের দিন নির্ধারিত ছিল সোমবার।

সেদিন বরপক্ষ কনের বাড়িতে যাওয়ার পর খাবারের আয়োজনে বরের জন্য আস্ত খাসি না রাখায় কথা-কাটাকাটিতে জড়ান বর। এ কারণে তার সঙ্গে মেয়ে বিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানায় কনের পরিবার। উপহারসামগ্রীসহ বরের পরিবারকে বিদায় করে দেন কনের স্বজনেরা।

এরপর নতুন করে বিয়ের আয়োজন হয় জান্নাতুল ফেরদৌস আক্তারের সঙ্গে। তিনি আখাউড়া উপজেলার নূরপুর গ্রামের জাহের মিয়ার মেয়ে এবং কসবার সায়েদাবাদ সরকারি কলেজের স্নাতক প্রথম বর্ষের ছাত্রী। কনের মামার বাড়ি কসবার নেয়ামতপুর গ্রামে। বর জুনায়েদ মিয়ার গ্রামেই কনের মামা তাজুল ইসলাম সরকারের বাড়ি।

জুনায়েদের ছোট ভাই পারভেজ রানা বলেন, নতুন এই বিয়ের বিষয়ে কনেপক্ষই তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। উভয় পক্ষের আলোচনায় গতকাল রাতে কনের মামার বাড়িতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। তার ভাইয়ের ৩০ আগস্ট পর্যন্ত ছুটি আছে। তবে তিনি ছুটি বাড়াবেন। ৬ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে হয়েছে।

বিয়ের পর রাত একটার দিকে নববধূর সঙ্গে ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেন জুনায়েদ। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, সব জল্পনাকল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিবাহ সম্পন্ন হলো।’ একই সঙ্গে নবদম্পতির জন্য সবার কাছে দোয়া চান তিনি।

এদিকে নতুন কনেপক্ষের দেওয়া বিয়ের খাবারের একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, বরের জন্য রাখা খাবারে এবার আস্ত খাসিও ছিল। বরসহ অন্যরা আনন্দের সঙ্গে সেই খাসি ও অন্যান্য খাবার খান।

মেঘনা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সালাউদ্দিন সরকারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য না হয়েও ব্যানার ফেস্টুনে নিজেকে সদস্য লিখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে দলে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করায় কুমিল্লার মেঘনা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সালাউদ্দিন সরকারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। জেলা বিএনপির এই নোটিশে তাঁকে সাত দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আজ বুধবার(১৯আগষ্ট) দুপুরে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহবায়ক আবুল হাসেম স্বাক্ষরিত নোটিশের মাধ্যমে শোকজ করা হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়েছে, মেঘনা উপজেলা বিএনপি সদস্য সচিব এর মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক দায়িত্বে থেকে আপনি জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য না হয়েও বিভিন্ন ব্যানার ফেস্টুন ও ফেসবুকে নিজেকে আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পরিচয় দিয়েছেন। যাহা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয়েছে। বিষয়টি বিএনপি উত্তর জেলা আহ্বায়ক কমিটির দৃষ্টিগোচর হয়েছে।

এমতাবস্থায়, সংগঠন বিরোধী এহেন কর্মকান্ডের জন্য আপনার বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা যাবে না, তা আগামী ৭ (সাত) দিনের মধ্যে নিম্ন স্বাক্ষরকারীর নিকট স্ব-শরীরে উপস্থিত হইয়া কারন দর্শানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হলো।
এবিষয়ে জানতে মেঘনা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সালাউদ্দিন সরকারের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহবায়ক আলহাজ্ব আবুল হাসেম বলেন, মেঘনা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সালাউদ্দিন সরকারকে শোকজের হার্ডকপি তাঁর হাতে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সাত দিনের মধ্যে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়েছে। তাঁর ব্যাখ্যা পাওয়ার পর গঠনতন্ত্রমতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ইউএনও সাইফুল ইসলামের অভিযানে রূপগঞ্জে আতঙ্কে মাদক কারবারিরা

বিশেষ প্রতিনিধি:

মাদক একটি পরিবারকে ধ্বংস করার পাশাপাশি একটি প্রজন্মের সম্ভাবনাকেও নষ্ট করে দিতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন এলাকায় মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও কার্যকর ও ধারাবাহিক প্রশাসনিক পদক্ষেপের অভাবে অনেক ক্ষেত্রেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। তবে মাঠপর্যায়ের প্রশাসনের কর্মকর্তারা আন্তরিক ও দায়িত্বশীল হয়ে আইন প্রয়োগে কঠোর হলে মাদকের বিরুদ্ধে যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা সম্ভব, তার একটি দৃষ্টান্ত তৈরি হয়েছে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে।

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে গত কয়েক মাস ধরে মাদকের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। মাদক কারবারি থেকে শুরু করে সেবনকারী—কেউই ছাড় পাচ্ছেন না। পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া কিংবা পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ আসা—উভয় ক্ষেত্রেই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজা দিয়ে অনেককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মাদক, ভূমিদখল এবং ভেজালের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন ইউএনও সাইফুল ইসলাম। গত চার মাসে উপজেলাজুড়ে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে চার শতাধিক মাদক কারবারি ও সেবীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী জনসচেতনতা তৈরিতেও নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ।

প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, নিয়মিত অভিযান ও কঠোর আইন প্রয়োগের কারণে রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় মাদকের আস্তানাগুলো অনেকটাই গুটিয়ে আসছে। একসময় যেসব স্থানে প্রকাশ্যে মাদক বেচাকেনা বা সেবনের অভিযোগ ছিল, সেসব জায়গায় এখন প্রশাসনের নজরদারি বেড়েছে। ফলে মাদক কারবারিদের মধ্যে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক এবং সাধারণ মানুষের মধ্যেও বেড়েছে স্বস্তি।

উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা আশিকুর রহমান বলেন, ‘মাদকের করাল গ্রাস থেকে তরুণ সমাজকে রক্ষা করতে ইউএনও সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছেন। গত চার মাসে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে চার শতাধিক মাদক কারবারি ও সেবীকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। শুধু আইন প্রয়োগ নয়, মাদকবিরোধী জনসচেতনতা তৈরিতেও তিনি কাজ করছেন।’

তবে মাদকের বিরুদ্ধে ইউএনও সাইফুল ইসলামের ভূমিকা শুধু আইন প্রয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বলে জানান স্থানীয়রা। প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোরও চেষ্টা করছেন তিনি। দূরদূরান্ত থেকে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে আসা হতদরিদ্র, অসুস্থ ও অসহায় মানুষকে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি ব্যক্তিগত উদ্যোগেও সহযোগিতা করার কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

রাহেলা খাতুন ও জুয়েল মিয়ার মতো অসহায় মানুষের ভাষ্য, কঠোর প্রশাসকের পাশাপাশি ইউএনও সাইফুল ইসলাম একজন মানবিক কর্মকর্তা হিসেবেও মানুষের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছেন। তাদের মতে, প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কর্মকর্তার ব্যক্তিগত আন্তরিকতারও বড় ভূমিকা রয়েছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, মাদক নির্মূল শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একার দায়িত্ব নয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং মাঠ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করলে মাদকের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব। রূপগঞ্জে সাম্প্রতিক অভিযানের অভিজ্ঞতা সেই সম্ভাবনাই সামনে এনেছে।

তাদের মতে, দেশের প্রতিটি উপজেলা ও জেলায় যদি মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা রূপগঞ্জের মতো মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান, কঠোর আইন প্রয়োগ এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেন, তাহলে মাদকের বিস্তার অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কারণ শুধু আইন তৈরি করলেই অপরাধ কমে না; আইনের যথাযথ প্রয়োগ এবং অপরাধের বিরুদ্ধে প্রশাসনের দৃশ্যমান অবস্থানও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

রূপগঞ্জ ইউএনও মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমি প্রজাতন্ত্রের একজন কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। সরকারকে সহযোগিতা করতে এলাকার আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক পরিবেশ ঠিক রাখতে আমি বদ্ধপরিকর।’

রূপগঞ্জের এই উদ্যোগ তাই শুধু একটি উপজেলার মাদকবিরোধী অভিযান নয়; এটি মাঠ প্রশাসনের সক্রিয়তা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে একটি বড় সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে কীভাবে কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তোলা যায়, তারও একটি উদাহরণ। দেশের অন্য এলাকাতেও যদি দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা একইভাবে উদ্যোগী হন, তাহলে মাদকের বিরুদ্ধে আরও শক্তিশালী ও দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কুমিল্লায় মাদক বিরোধী অভিযান, গ্রেপ্তার ৮৪

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদকের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ী, সরবরাহকারী ও সেবনসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৮৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। এ সময় ৬৬৯টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে গ্রেপ্তারদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কুমিল্লার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুজ্জামান জানান, বিশেষ অভিযান চালিয়ে এক রাতে মাদকসহ ৮৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে যুবসমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা, সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং একটি নিরাপদ ও মাদকমুক্ত কুমিল্লা গড়ে তোলার লক্ষ্যে জেলা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মাদক নির্মূলে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রচেষ্টাই যথেষ্ট নয়, এক্ষেত্রে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সচেতনতা ও সক্রিয় সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, মাদকের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও চক্রের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে কুমিল্লা জেলা পুলিশের এ ধরনের বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে।

দাউদকান্দিতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন মামলায় গ্রেফতার ১০

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি:

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার ব্যাক্তিরা অস্ত্র, ডাকাতি, চুরি, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্য এবং পরোয়ানাভূক্ত আসামি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আজ বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে গ্রেফতারকৃতদের কুমিল্লা বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মো. মোঃ সাজেদুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুর ১২টা থেকে বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুর ১২টা পর্যন্ত দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশের একাধিক দল পৃথকভাবে বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে অস্ত্র, ডাকাতি, চুরি, কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের সদস্য, গ্রেফতারী পরোয়ানাভূক্ত আসামীসহ মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ সদর উত্তর ইউনিয়নের হাসনাবাদ ভিটিকান্দি গ্রামের জজ গাজীর ছেলে রাশেল মিয়া(৩৯), ডাকাতি ও চুরি মামলার আসামী বাশখোলা গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে মোঃ আবুল কালাম(৩২), পৌরসভার দোনারচর গ্রামের আঃ হকের ছেলে শাহপীর(৪১), টামটা গ্রামের জাকির হোসেনের ছেলে মোঃ বোরহান হোসেন(২০), মালিখিল হাজি বাড়ীর দানু মিয়ার ছেলে মোঃ ফারুক(৩৯), সিঙ্গুলা গ্রামের মৃত সাহেব আলীর ছেলে মোঃ ইব্রাহিম খলিল প্রকাশ তালাশী(৪১), কুশিয়ারা গ্রামের মোক্তার হোসেনের ছেলে মোহাম্মদ হোসেন(২২), কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন দৌলতপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য স্বভাহন গ্রামের মৃত কদম আলীর ছেলে মোঃ কামাল হোসেন(৪৪), সদর উত্তর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য গোলাপেরচর গ্রামে মৃত মালু মিয়ার ছেলে মোঃ বাবুল(৪১) এবং গ্রেফতারী পরোয়ানাভূক্ত আসামী ধারিবন গ্রামের মৃত শাজাহান মিয়ার ছেলে শিপন মিয়া(২৮)।

দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম বলেন, কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এলাকায় মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বুড়িচংয়ে ৬ পুরিয়া গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ী আটক

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কালিকাপুর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৬ পুরিয়া গাঁজাসহ শহিদ মিয়া (৬০) নামের এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে প্রশাসন।

১৮ আগস্ট ২০২৬, (মঙ্গলবার) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭:৩০ ঘটিকায় এই অভিযান চালানো হয়।অভিযানটির নেতৃত্ব দেন বুড়িচং উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জনাব তানভীর হোসেন। তার সাথে সহযোগিতায় ছিলেন বুড়িচং থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই রাকিব হাসানসহ পুলিশের একটি চৌকস দল।

উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কালিকাপুর বাজারের পূর্ব পাশে এই যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানকালে আনন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা বৃদ্ধ শহিদ মিয়াকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে তার হেফাজত থেকে ৬ পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বুড়িচং থানার সেকেন্ড অফিসার রাকিব হাসান জানান, আটককৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণসহ সাজা প্রদানের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

এরপর ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে তাকে ৫০০ টাকা জরিমানা ও ৩ মাসের জেল প্রদান করা হয়।

এদিকে, বৃদ্ধ বয়সে শহিদ মিয়ার এমন মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মাদক ও অপরাধমুক্ত বুড়িচং গড়তে প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান ও নিয়মিত অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

কুমিল্লায় ট্রেনে কাটা পড়ে দাদি-নাতনির মৃত্যু

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লায় ট্রেনে কাটা পড়ে দাদি ও নাতনির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে কুমিল্লা রেলস্টেশনের পাশে শাসনগাছা রেলক্রসিং এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন—মুরাদনগর উপজেলা সদরের উত্তরপাড়া এলাকার মৃত মিজানুর রহমানের স্ত্রী জোৎস্না বেগম (৬০) এবং তাঁর ছেলে জাহাঙ্গীর আলমের মেয়ে চাঁদনী আক্তার (১৪)।

কুমিল্লা রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সোহরাব হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনটি কুমিল্লা রেলস্টেশনের প্রবেশমুখে পৌঁছালে রেললাইন পার হওয়ার সময় জোৎস্না বেগম ও চাঁদনী আক্তার ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

নিহত জোৎস্না বেগমের ভাইয়ের মেয়ে জোহরা আক্তার জানান, চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে নাতনি চাঁদনীকে সঙ্গে নিয়ে কুমিল্লায় এসেছিলেন তাঁর ফুফু। চিকিৎসক দেখানো শেষে বাড়ি ফেরার পথে রেললাইন পার হওয়ার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।