All posts by jitu

‎কুমিল্লার চানপুরে কোটি টাকার সরকারী জমি উদ্ধার, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যানের দখলে থাকার অভিযোগ

‎জেষ্ঠ্য প্রতিবেদক:

‎কুমিল্লা শহরতলীর চানপুরে প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি খাস জমি উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে জমিটি বেদখলে থাকার অভিযোগের পর সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাশিয়াত আক্তারের নেতৃত্বে জমি পরিমাপ করে সীমানা নির্ধারণ এবং সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
‎স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লার চানপুর এলাকায় হালিমা টেলিকমের সামনে অবস্থিত ১ নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত বিএস ২৬৮ নম্বর দাগের ৯ শতক ৩৭ সেন্ট জমি দীর্ঘ ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে পাঁচথুবী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সামছুল আলম (সামছু) ও তাঁর ভাই জহিরের দখলে ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
‎
‎সম্প্রতি ওই জমিতে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করে বিক্রির চেষ্টা করা হচ্ছে এমন অভিযোগ প্রশাসনের নজরে আসে। পরে সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেয় উপজেলা ভূমি প্রশাসন। অভিযান চালিয়ে জমিটি পরিমাপ করা হয় এবং সরকারি খাস জমি হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে লাল কাপড় ও সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দেওয়া হয়।
‎জমিটি নিজের দাবি করে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সামছুল আলম (সামছু) বলেন, “জমিটি আমি কিনেছি। এটি আমার জমি। আমি আইনি প্রক্রিয়ায় আগাব। কেউ আমার জায়গা নিতে পারবেন না।”
‎
‎অন্যদিকে, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাশিয়াত আক্তার জানান, জমিটি খাস খতিয়ানভুক্ত এবং বাংলাদেশ সরকারের সম্পত্তি। দীর্ঘদিন ধরে জমিটি বেদখলে ছিল। বিষয়টি জানার পরপরই প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জমিটি পরিমাপ করে লাল কাপড় ও সাইনবোর্ড টাঙানোর মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
‎
‎এদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ সরকারী লাল কাপড় টাঙানোর পর কাপড়গুলো সামছু লোকজন দিয়ে ছিড়ে ফেলে দিয়েছে এবং সামছুল আলম ও তাঁর ভাই জহিরের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে অন্যের জমি দখল, সুদের লেনদেনের মাধ্যমে জমি আত্মসাৎ এবং বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগ রয়েছে। তবে ভয়ে অনেকেই প্রকাশ্যে এসব বিষয়ে কথা বলতে চান না বলে দাবি স্থানীয়দের।
‎
‎সরকারি খাস জমি উদ্ধারের এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসনের এমন তৎপরতা অব্যাহত থাকবে এবং জমি দখলের অভিযোগগুলোও যথাযথভাবে তদন্ত করা হবে।

‎মুরাদনগরে ৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী বিজয়া দশমী উদযাপন, ৩২ মণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জন

মাহবুব আলম আরিফ:

‎কুমিল্লার মুরাদনগরের রামচন্দ্রপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার ৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী বিজয়া দশমী।
‎
‎এ উপলক্ষে মুরাদনগরসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা ৩২টি পূজা মণ্ডপের প্রতিমা একত্রিত করা হয়। পরে ভোররাতে তিতাস নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজন।
‎
‎বুধবার দিবাগত রাতে রামচন্দ্রপুর পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বাবু সমীর সাহার সভাপতিত্বে এবং বাবু গৌতম আচার্য্যের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ এমপি।
‎
‎কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোল্লা গোলাম মহিউদ্দিনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) রাজিয়া সুলতানা, মুরাদনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাছান খাঁন, মুরাদনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ কে এম কামরুজ্জামান এবং বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিউল আলম।
‎
‎এ ছাড়া বক্তব্য দেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য নারায়ণ সরকার, দারোরা দিনেশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি এ কে এম কায়েস, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ মোল্লা, কুমিল্লা উত্তর জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি দুলাল দেবনাথ, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সুহেল সামাদ, উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক দয়ানন্দ ঠাকুর, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক আহমেদ বাদশা এবং উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক খাইরুল হাসানসহ অন্যরা।
‎
‎আয়োজক সূত্রে জানা যায়, বিকেল গড়াতেই মুরাদনগর, বাঙ্গরা, নবীনগর, বাঞ্ছারামপুর ও হোমনা উপজেলা থেকে প্রায় ৩২টি পূজা মণ্ডপের প্রতিমা রামচন্দ্রপুরে সারিবদ্ধভাবে একত্রিত করা হয়। এ সময় বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ভক্তদের উপস্থিতিতে উৎসবস্থল প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। ভক্তরা পূজা-অর্চনা ও প্রার্থনায় অংশ নেন।
‎বিসর্জনের আগে আয়োজনের অংশ হিসেবে সবচেয়ে সুন্দর প্রতিমার জন্য তিনটি পূজা মণ্ডপকে পুরস্কৃত করা হয়। পরে ভোররাতে তিতাস নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় শতাব্দীপ্রাচীন এ বিজয়া দশমী উৎসব।
‎
‎দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ঐতিহ্য, ভক্তদের অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন এলাকার মানুষের মিলনমেলায় রামচন্দ্রপুরের এ আয়োজন পরিণত হয় এক উৎসবমুখর মিলনমেলায়।

‎সাংবাদিকরা দেশ ও মানুষের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন: চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক

মাসুদ হোসেন:

‎চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের আয়োজনে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা- ২০২৬ এর শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
‎
‎বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকাল ৪টায় চাঁদপুর প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিকের পক্ষে ফিতা কেটে প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন করেন উদ্বোধক ও প্রধান অতিথি চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এ কে এম সলিম উল্যা সেলিম। এসময় চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী ও সাধারন সম্পাদক এম এ লতিফ সহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
‎
‎উদ্বোধন শেষে চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট এ কে এম সলিম উল্যা সেলিম বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। তাঁরা দেশ ও মানুষের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সাংবাদিকদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে খেলাধুলা ও বিনোদনের চর্চা করা প্রয়োজন। এ ধরনের ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সাংবাদিকদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও সুদৃঢ় করবে।

‎তিনি বলেন, খেলাধুলা মানুষের শরীর ও মনকে সতেজ রাখে। কর্মব্যস্ত জীবনে এ ধরনের আয়োজন সাংবাদিকদের মধ্যে আনন্দ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে। চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের এ উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান এবং প্রতিযোগিতার সার্বিক সফলতা কামনা করেন। তিনি বলেন, প্রেস ক্লাবের উন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতা করব। সবসময় আপনাদের পাশে আছি, থাকবো।
‎
‎সভাপতির বক্তব্যে চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী বলেন, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা উপলক্ষে প্রেস ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে সাংবাদিকদের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
‎তিনি আরও বলেন, চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের নেতৃত্বে আমরা সব সাংবাদিক ঐক্যবদ্ধ রয়েছি। আগামী দিনেও আমাদের এ ঐক্য ধরে রাখতে হবে।” এ সময় তিনি প্রেস ক্লাবের সদস্যদের পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
‎
‎চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এম এ লতিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন, প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি কাজী শাহাদাত, অধ্যক্ষ জালাল চৌধুরী, শরীফ চৌধুরী, গিয়াস উদ্দিন মিলন, এ এইচ এম আহসান উল্লাহ, শাহাদাত হোসেন শান্ত, রহিম বাদশা, প্রেস ক্লাবের জ্যেষ্ঠ সদস্য মুনীর চৌধুরী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিএম শাহীন, চাঁদপুর টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি কাদের পলাশ, চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল আউয়াল রুবেল, চাঁদপুর ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ্যাড. চৌধুরী ইয়াসিন ইকরাম, প্রেস ক্লাবের কোষাধ্যক্ষ কে এম সালাউদ্দিন, একুশে টিভির জেলা প্রতিনিধি নেয়ামত হোসেন, তথ্য প্রযুক্তি ও সেমিনার সম্পাদক মো. জাকির হোসেন, সমাজকল্যাণ, আপ্যায়ন ও বিনোদন সম্পাদক সেলিম রেজা, প্রচার ও দপ্তর সম্পাদক মো: শরীফুল ইসলাম, ক্রীড়া উপ-কমিটির আহ্বায়ক এম আর ইসলাম বাবু, দৈনিক চাঁদপুর প্রবাহের যুগ্ম সম্পাদক হাসান মাহমুদ,
‎দৈনিক সংবাদ এর জেলা প্রতিনিধি মিজানুর রহমান, দৈনিক চাঁদপুর দর্পণের সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার আশ্রাফুল আলম, ঢাকা পোস্টের জেলা প্রতিনিধি আনোয়ারুল হক, দৈনিক চাঁদপুর কন্ঠের সিনিয়র ফটোগ্রাফার সাইফুল আজম, বিশেষ প্রতিনিধি আবদুল্লাহ আল মামুন, দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার যুগ্ম সম্পাদক মো: রানা সরকার, বার্তা সম্পাদক মাওলানা আহম্মদ উল্ল্যাহ, প্রেস ক্লাবের সদস্য মিজান লিটন, সদস্য হাবিবুর রহমান খান, জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা শেখ মহিউদ্দিন রাসেল সহ অন্যান্যরা।
‎
‎অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সদস্য আহম্মদ উল্যাহ। পরে প্রেস ক্লাবের সভাপতি সোহেল রুশদী ও সাধারণ সম্পাদক এম এ লতিফের নেতৃত্বে সদস্যরা প্রধান অতিথি চাঁদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এ কে এম সলিম উল্যা সেলিমকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এরপর ফিতা কেটে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন অ্যাডভোকেট এ কে এম সলিম উল্যা সেলিম।

‎এমপির নেতৃত্বে চাঁদপুরে ৪শ একর কৃষি জমিতে ৫০টি অবৈধ ঝিল উচ্ছেদ

মাসুদ হোসেন:

‎চাঁদপুর সদর উপজেলার ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নে প্রায় ৪০০ একর কৃষিজমির টপ সয়েল কেটে ৪০ থেকে ৫০টি ঝিল তৈরি করে মাছ চাষের নামে দখল ও মাটি বিক্রির অভিযোগে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে।
‎
‎বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ১০টায় চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিকের নেতৃত্বে মুখদ্দি ও তালতাতলী এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় একটি ভেকু জব্দ করা হয় এবং ঝিলে চাষ করা মাছ নদীতে অবমুক্ত করা হয়।
‎
‎অভিযান চলাকালে স্থানীয় জমির মালিকরা অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী একটি চক্র তাদের পৈতৃক সম্পত্তিসহ কৃষিজমি অবৈধভাবে দখল করে মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করেছে। বাধা দিতে গেলে তাদের হুমকি ও মারধরের শিকার হতে হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
‎
‎ অভিযানে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রত্যয় হাশেম, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি খলিলুর রহমান গাজী ও ডি এম শাহজাহান, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি শাহজালাল মিশন, সাধারণ সম্পাদক হযরত আলী ঢালী, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. নুরুল আমিন খান আকাশসহ প্রশাসনের কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্য ও দলীয় নেতাকর্মীরা।
‎
‎স্থানীয় জমির মালিক মো. নুরুল ইসলাম রাঢ়ী বলেন, এখানে আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি রয়েছে। এসব জমিতে আমাদের বাপ-দাদারা বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষ করতেন। কিন্তু কিছু লোক ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আমাদের হুমকি-ধমকি দিয়ে জমি দখল করেছে। মাছের ঝিল তৈরির নামে ফসলি জমির মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করেছে।
‎
‎আরেক জমির মালিক ইদ্রিস আলী জানান, ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের মুখদ্দি এলাকায় তার পৈতৃক ২২ একর সম্পত্তি রয়েছে। একটি চক্র জমি দখল করে মাটি কাটা শুরু করলে তারা বাধা দেন। এ সময় তাদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এমপি শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিকের উদ্যোগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, তিনি যে উদ্যোগ নিয়েছেন, এ জন্য আমরা আল্লাহর কাছে তাঁর জন্য দোয়া করব।
‎
‎সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম এন জামিউল হিকমা বলেন, এই চরে প্রায় ৪০০ একর জমি রয়েছে। একটি চক্র পুকুর খনন করে আসছিল। খননের সময় বিভিন্ন পর্যায়ে আমরা বাধা দিয়েছি। প্রায় ৪০ বার অভিযান চালিয়ে ভেকু বিনষ্ট করা হলেও তারা কার্যক্রম বন্ধ করেনি। দুর্গম এলাকা হওয়ায় নদী উত্তাল থাকলে সেখানে যাতায়াত কঠিন হয়ে পড়ে। এই সুযোগে তারা আবারও মাটি কাটার কাজ চালিয়ে যায়।
‎
‎তিনি আরও বলেন, আজকের অভিযানে ঝিলের মাছ নদীতে অবমুক্ত করা হয়েছে। সরকারি আইন অনুযায়ী স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে তিনটি মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় প্রায় ৪৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে খোঁজ চলছে। আসামিদের অনেকে স্থানীয় নয়; বিভিন্ন জেলা থেকে এসে এ কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়েছে।
‎
‎চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহম্মেদ মানিক বলেন, একটি চক্র নদীর ওপার থেকে এসে ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নে আবাদি জমি ও সরকারি খাসজমিতে অবৈধভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছে। এসব জমিতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। প্রশাসন এর আগেও বহুবার অভিযান চালিয়েছে। কিন্তু অভিযান শেষে ওই চক্র আবারও এসে একই কাজ শুরু করে।
‎
‎ তিনি বলেন, ইউএনও সাহেবের সঙ্গে সরেজমিনে পরিস্থিতি দেখতে এসে ভয়াবহ অবস্থা দেখতে পেয়েছি। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে আমাদের আবাদি জমির পরিমাণ কমে যাবে। সরকার সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চেষ্টা করছে। ইব্রাহীমপুরে বিপুল পরিমাণ জমি রয়েছে। পরিকল্পিতভাবে এখানে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করা গেলে কৃষক ও দেশ—উভয়ই উপকৃত হতে পারে।
‎
‎সরকারি জমির মালিকানা ও বন্দোবস্ত প্রসঙ্গে এমপি মানিক বলেন, এই জমির মালিক সরকার। জমি সরকারি বিধিবিধান ও গেজেট অনুযায়ী বন্দোবস্ত থাকবে। সদর উপজেলা প্রশাসন জমির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে। সরকারি নিয়মকানুন অনুসরণ করে এ এলাকার ভূমিহীনদের মধ্যে জমি বন্দোবস্ত দেওয়ার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে আমি সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করব। যারা এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

ব্রাহ্মণপাড়ায় শাশুড়িকে পিটিয়ে অচেতন, আটক পুত্রবধূ

সাইফুল ইসলাম ফাহাদ:

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পারিবারিক বিরোধের জেরে ৬২ বছর বয়সী শাশুড়ি আরজিনা বেগমকে মারধর করে অচেতন করে ফেলার অভিযোগ উঠেছে তার পুত্রবধূ লিমা আক্তারের ( ২১ ) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত পুত্রবধূ লিমা আক্তারকে আটক করেছে পুলিশ।

বুধবার ( ২১ অক্টোবর ) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের গোপালনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আটক অভিযুক্ত লিমা আক্তার গোপালনগর গ্রামের সিদ্দিক মেম্বার বাড়ির আবু ইউসুফ ভুট্টর স্ত্রী।

পুলিশ জানায়, বুধবার সকালে পারিবারিক কলহের জেরে শাশুড়িকে মারধরের ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। এরপর পুলিশ এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত পুত্রবধূ লিমা আক্তারকে আটক করে। এ সময় আহত শাশুড়ি আরজিনা বেগমকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।

ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ( ওসি ) মো. ফারুক হোসেন বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্ত পুত্রবধূকে আটক করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

কুমিল্লায় ১০ কেজি গাঁজাসহ গ্রেপ্তার ২

হাবিবুর রহমান মুন্না:

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় ১০ কেজি গাঁজাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১১।

বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে নগরীর জাঙ্গালিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে এসআরবি-১১-এর সিপিসি-২ কুমিল্লার কোম্পানি অধিনায়ক ও উপপরিচালক সাদমান ইবনে আলম স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন খুলনার রূপসা উপজেলার চরমোসাবাদপুর গ্রামের আবু তাহের ফকিরের ছেলে মো. মনিরুল ইসলাম (২৫) এবং কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার উত্তর বাগবের গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে মো. আরিফুল ইসলাম মারুফ (২০)।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার বিকেলে জাঙ্গালিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এসআরবি-১১-এর একটি দল। এ সময় সন্দেহভাজন হিসেবে ওই দুজনকে আটক করা হয়। পরে তাদের তল্লাশি চালিয়ে ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

এসআরবি সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে কুমিল্লার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাইকারি ও খুচরা দামে বিক্রি করে আসছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এসআরবি-১১-এর কোম্পানি অধিনায়ক ও উপপরিচালক সাদমান ইবনে আলম জানান, মাদকবিরোধী ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সদর দক্ষিণ থানায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

দেবীদ্বারে নিখোঁজের তিন দিন পর ডোবা থেকে বৃদ্ধের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

ডেস্ক রিপোর্ট:

কুমিল্লার দেবীদ্বারে নিখোঁজের ৩ দিন পরপেয়ে ডোবা থেকে আব্দুল খালেক (৬৫) নামের এক বৃদ্ধের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ৭টার দিকে উপজেলার ধামতী ইউনিয়নের দক্ষিণখাড় গ্রামের আলী আজ্জমের বাড়ির পাশের ডোবা থেকে এ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত আব্দুল খালেক (৬৫) ধামতী ইউনিয়নের দক্ষিনখার গ্রামের জমিরউদ্দীনের মৃত জুনাব আলীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে পথচারীরা আলী আজ্জমের বসতঘরের পাশের ডোবায় মানুষের মতো কিছু একটা ভাসতে দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করেন।

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) ইমাম হাসান এবং উপপরিদর্শক (এসআই) সাগর বড়ুয়ার নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহতের পরিবারের পক্ষে সোহাগ মিয়া তার বাবার মরদেহ শনাক্ত করে বলেন, তার বাবা মৃত আব্দুল খালেক গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ‍্যা সাড়ে ৭টায় ‘নশু মার্কেটে’ গ্রাম‍্য চিকিৎসক আলম ডাক্তারের ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন। আজ তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

দেবীদ্বার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি সার্বিক) জানায়, নিহতকে উদ্ধারের পরও দেখা যায়, তার হাতে মুঠো অবস্থায় একটি টর্চলাইট পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হার্ট অ্যাটাক করে ডোবায় পড়ে গিয়ে তার মৃত‍্যু হয়েছে।

মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন‍্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের প্রেরণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরই মৃত‍্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আলবার্টার গণরায়: কানাডার ঐক্যের পক্ষে শক্তিশালী সংকেত ও বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

দেলোয়ার জাহিদ:

২০২৬ সালের ১৯ অক্টোবর কানাডার আলবার্টা প্রদেশে অনুষ্ঠিত গণভোট দেশটির ফেডারেল রাজনীতি, আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন ও জাতীয় ঐক্যের বিতর্কে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যুক্ত করেছে। গণভোটের দশম প্রশ্নে ভোটারদের সামনে দুটি বিকল্প ছিল—আলবার্টা কানাডার প্রদেশ হিসেবে থাকবে, নাকি কানাডার সংবিধান অনুযায়ী প্রদেশটির বিচ্ছিন্নতা নিয়ে একটি বাধ্যতামূলক গণভোট আয়োজনের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। প্রকাশিত অনানুষ্ঠানিক ফলাফল অনুযায়ী, প্রায় ৭৬.৫ শতাংশ ভোটার কানাডার সঙ্গে থাকার পক্ষে এবং ২৩.৪ শতাংশ পরবর্তী বিচ্ছিন্নতা-প্রক্রিয়া শুরুর পক্ষে মত দিয়েছেন। ইলেকশন কানাডা সূত্রে জানা যায় যে সরকারি ফল প্রকাশের নির্ধারিত তারিখ ২৯ অক্টোবর ২০২৬।

এই ফলাফলকে শুধু একটি প্রাদেশিক ভোটের পরিসংখ্যান হিসেবে বিবেচনা করলে এর পূর্ণ রাজনৈতিক তাৎপর্য উপলব্ধি করা সম্ভব নয়। এটি একদিকে কানাডার জাতীয় ঐক্যের পক্ষে একটি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক সংকেত, অন্যদিকে পশ্চিমাঞ্চলীয় অসন্তোষ, প্রাদেশিক ক্ষমতা এবং ফেডারেল ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে চলমান বিতর্কের সুস্পষ্ট প্রতিফলন। তবে এই গণভোটকে আলবার্টার বিচ্ছিন্নতার প্রশ্নে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে ব্যাখ্যা করা যাবে না; ভোটাররা সরাসরি স্বাধীনতার প্রশ্নে নয়, বরং ভবিষ্যতে সে বিষয়ে বাধ্যতামূলক গণভোটের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হবে কি না, সে বিষয়ে মত দিয়েছেন।

কানাডার বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের ঐতিহাসিক পটভূমি

কানাডার বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন কোনো একক রাজনৈতিক মতাদর্শ বা অভিন্ন জাতীয় আকাঙ্ক্ষার ফল নয়। বিভিন্ন অঞ্চলে এর উৎস, লক্ষ্য ও সামাজিক ভিত্তি ভিন্ন। কুইবেকের স্বাধীনতা আন্দোলন প্রধানত ফরাসিভাষী জনগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহাসিক পরিচয় ও রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসনের দাবিকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। ১৯৬০-এর দশকের Quiet Revolution বা নীরব সামাজিক-রাজনৈতিক পরিবর্তন কুইবেকের জাতীয়তাবাদকে নতুন মাত্রা দেয়। ১৯৬৮ সালে রেনে লেভেকের নেতৃত্বে Parti Québécois প্রতিষ্ঠা স্বাধীনতার দাবিকে সুসংগঠিত রাজনৈতিক কর্মসূচিতে রূপ দেয়।

কুইবেকে ১৯৮০ ও ১৯৯৫ সালে দুটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাধীনতা-গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৮০ সালে স্বাধীনতার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হয়। ১৯৯৫ সালের গণভোটে স্বাধীনতার বিপক্ষে ভোট পড়ে ৫০.৫৮ শতাংশ এবং পক্ষে ৪৯.৪২ শতাংশ—মাত্র ১.১৬ শতাংশ পয়েন্টের ব্যবধান। এই ফলাফল দেখিয়ে দেয়, আঞ্চলিক জাতীয়তাবাদ কানাডার সাংবিধানিক কাঠামো ও রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

অন্যদিকে, আলবার্টার বিচ্ছিন্নতাবাদী প্রবণতার উৎস তুলনামূলকভাবে ভিন্ন। এখানে ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক জাতীয় পরিচয়ের চেয়ে অর্থনৈতিক স্বার্থ, প্রাকৃতিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির প্রতি অসন্তোষ বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ১৯০৫ সালে প্রদেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার পর তেল ও গ্যাসশিল্পের বিকাশ আলবার্টাকে কানাডার অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করে। কিন্তু জ্বালানি নীতি, কার্বন নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ, পাইপলাইন নির্মাণ, রাজস্ব বণ্টন এবং ফেডারেল সরকারের কর্তৃত্ব নিয়ে বিরোধ থেকে দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে Western alienation বা পশ্চিমাঞ্চলীয় বঞ্চনার ধারণা আলবার্টার রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এর মূল বক্তব্য হলো, কানাডার পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক স্বার্থ ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ফেডারেল নীতিনির্ধারণে যথাযথ গুরুত্ব পায় না। তবে এই ধারণার সমর্থক সবাই স্বাধীন আলবার্টার পক্ষে নন; অনেকেই কানাডার অখণ্ডতা বজায় রেখেই প্রাদেশিক ক্ষমতা বাড়ানোর পক্ষে।

আলবার্টার বিচ্ছিন্নতাবাদ: অসন্তোষ থেকে গণভোট

আলবার্টার বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে তেল ও গ্যাসশিল্পে ফেডারেল সরকারের নীতিগত প্রভাব হ্রাস, প্রাদেশিক রাজস্ব ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর অধিক নিয়ন্ত্রণ, অভিবাসন ও সামাজিক নীতিতে প্রাদেশিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অটোয়ার কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ক্ষমতার ভারসাম্য পুনর্নির্ধারণ।

আলবার্টার অনেক বাসিন্দার কাছে জ্বালানি খাত শুধু অর্থনৈতিক কর্à