All posts by jitu

বঙ্গবন্ধুর খুনি খন্দকার মোশতাকের বাড়ীর কেয়ারটেকার নিজাম উদ্দিন গ্রেপ্তার

দাউদকান্দি প্রতিনিধি:

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি খন্দকার মোশতাক আহমেদের ছেলে খন্দকার ইশতিয়াক আহমেদ বাবু বাহিনীর প্রধান নিজাম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার রাতে রাজধানীর আগামসি লেন বাড়ী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশের একটি টিম।

গ্রেপ্তারকৃত নিজাম উদ্দিন(৫৩) উপজেলার ভাগলপুর গ্রামের মৃত রওশন আলী ওরফ আব্দুস সোবহান এর ছেলে এবং বঙ্গবন্ধুর খুনি খন্দকার মোশতাকের বাড়ীর কেয়ারটেকার।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খন্দকার মোশতাকপুত্র

ইশতিয়াক আহমদ বাবুর আমমোক্তারনামাবলে নিয়োজিত কেয়ারটেকার নিজাম উদ্দিনের নেতৃত্বে ও বাবুর অর্থবিত্তে লালিত বাহিনীর অত্যাচার-নিপীড়নে এলাকার সাধারণ মানুষ জিম্মি ছিল বলে সুন্দলপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি দশপাড়া গ্রামের মাহবুবুর রহমান বাবুল মেম্বার মাহফুজুর রহমানসহ স্থানীয়রা জানান। তারা বলেন, নিজাম গ্রেপ্তার হওয়ায় আমরা এবং এলাকার সাধারণ মানুষ খুশি। তবে নিজাম উদ্দিনের সেল্টারদাতা মোশতাকপুত্র বাবুকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবী জানান তারা।

নিজাম উদ্দিনের গ্রেপ্তারের খবরে পুলিশ প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ভুক্তভোগী একটি মামলার বাদি কাজী রেহা কবির বলেন, আমার পরিবার একের পর এক হামলা মামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছি।

মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ দেশের ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও খুনি মোশতাকপুত্র পলাতক ইশতিয়াক আহমদ বাবু ও তার প্রেতাত্মাদের ষড়যন্ত্র থেমে নেই। অর্থবিত্তে বলীয়ান বাবুর অর্থের বিনিময়ে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ও গুটিকয়েক অসৎ ব্যক্তিকে টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে এলাকায় তার বাহিনীর মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল।

তিনি আরো জানান, মোশতাকপুত্র খন্দকার ইশতিয়াক আহমেদ বাবু তাদের পূর্বপুরুষের সম্পত্তি দখলে রাখতে এলাকায় একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলেন। এরই মধ্যে মোশতাকপুত্র বেশ কিছু সম্পত্তি জাল দলিল ও ভুয়া স্বাক্ষরে বিক্রয় করে দেন। এনিয়ে আদালতে প্রতারনা মামলায় ইশতিয়াক আহমেদ বাবু, তার ছেলে ইফতেখার আহমেদ শাদ ও কেয়ারটেকার নিজামুদ্দিনকে আসামি করা হয়। বর্তমানে খন্দকার ইশতিয়াক আহমেদ বাবু ও খন্দকার ইফতেখার আহমেদ শাদ কানাডায় পলাতক রয়েছেন।

কাজী রেহা কবির বলেন, আমার চাচা মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও ভাষা সৈনিক কাজী আব্দুল বারি বঙ্গবন্ধু হত্যার পর প্রতিবাদকারীদের একজন। খন্দকার মোশতাক আমার নানার পরিবারের সদস্য হলেও আদর্শগত কারণে তাদের সঙ্গে আমাদের কোন পারিবারিক সম্পর্ক ছিলনা । আমার মামা নাসিরুল কবিরের করা মামলায় নিজাম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের অবিলম্বে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেফতার করে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের দাবি জানান তিনি।

দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মোঃ মোজাম্মেল হক বলেন, প্রতারণাসহ একাধিক মামলার আসামি নিজাম উদ্দিনকে মঙ্গলবার রাতে আমাদের একটি টিম রাজধানী আগামসি লেনের খন্দকার মোশতাকের বাড়ী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে তাকে আদালতের জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে কুমিল্লাকে ৮ রানে হারালো রংপুর

স্পোর্টস ডেস্ক:

বিপিএলের দশম আসরে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রোমঞ্চকর খেলা উপহার দিয়েছে রংপুর রাইডার্স ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। নির্ধারিত ২০ ওভারের খেলায় ৬ উইকেট হারিয়ে ১৬৬ রান তুলতে গিয়ে ১৫৭ থেমে যায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। এতে ৮ রানে জয় পেয়েছেন অধিনায়ক নুরুল হাসানের দল।

মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ১৬৫ রানের লড়াকু পুঁজি সংগ্রহ করে রংপুর রাইডার্স।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ডাক মারেন অধিনায়ক লিটন দাস। আজমত উল্লাহর বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে মোহাম্মদ নাবির কাছে তালুবন্ধি হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি।

অনডাউনে নেমে মোহাম্মদ রিজওয়ানের সাথে রান তুলতে থাকেন। মাহিদুল ইসলাম। ওপেনিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো করলেও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি পাকিস্তানি তারকা। ২১ বলে ১৭ রান করে মোহাম্মদ নাবির বলে আউট হন এই ব্যাটার।

রিজওয়ানের পর ব্যাটে আসেন তৌহিদ হৃদয়। মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের সাথে যোগ্য দেন তৌহিদ হৃদয়। মাহিদুল ইসলাম ৫৫ বল মোকাবেলায় ৩ ছক্কা ও ৪ চারে ৬৩ রান করেন। হাসান মাহমুদের বলে ক্যাচ তুলে আউট হন এই ব্যাটার। খুশদিল শাহ ৮ বলে ১৩ রানের ইনিংস খেলেন।

শেষেরদিকে রেমন রেইফার ও তৌহিদ হৃদয় সর্বোচ্চ লড়াই করলেও পৌঁছাতে পারেননি জয়ের বন্দরে। তৌহিদ হৃদয় ২৮ বলে ৩৯ রান করে রান আউট হয়ে প্যাভিলনের পথ ধরেন। সর্বশেষ জাকির হোসেন ৪ বলে ১৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন।

রংপুর রাইডার্সের হয়ে আজমতউল্লাহ ওমরজাই ২টি, হাসান মাহমুদ ১টি, সাকিব আল হাসান ১টি ও মোহাম্মদ নাবি ১টি করে উইকেট শিকার করেন।

‘সাইফার’ মামলায় ইমরান খানের ১০ বছরের কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি। আর তার মাত্র সপ্তাহখানেক আগেই সাইফার মামলায় পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশির ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) দেশটির সরকারি গোপনীয়তা আইনের অধীনে একটি বিশেষ আদালত এ রায় দেন। কিন্তু কী এই সাইফার মামলা?

পাকিস্তানে সাইফার মামলা বলতে বোঝায় রাষ্ট্রীয় গোপন বার্তা ফাঁসের মামলাকে। ২০২২ সালের এপ্রিলে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই, এর পিছনে যুক্তরাষ্ট্রের ষড়যন্ত্র রয়েছে- এমন অভিযোগ করে আসছিলেন খান।

আর সেই অভিযোগের প্রমাণ দিতে গিয়েই তিনি একটি নথি প্রকাশ্যে আনেন এবং জনসভায় তা প্রদর্শনও করেন। এটি নিয়েই ইমরানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

গত বছরের ৫ আগস্ট তোশাখানা মামলায় পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে তিন বছরের সাজা দিয়েছিলেন নিম্ন আদালত। এর পাশাপাশি ১ লাখ রুপি জরিমানাও করা হয়েছিল তাকে। বলা হয়েছিল, অনাদায়ে আরও ৬ মাস কারাগারে থাকতে হবে তাকে ও পাঁচ বছর কোনো নির্বাচন লড়তে পারবেন না তিনি।

কিন্তু পরবর্তী সময়ে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট ইমরান খানের সাজা স্থগিত করে জামিনে মুক্তির নির্দেশ দেয়। কিন্তু তোশাখানা মামলার পরপরই দায়ের করা সাইফার মামলায় কারাগারেই থাকতে হয় তাকে। এমনকি, এই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া চলতে থাকে কারাগারে। শেষপর্যন্ত এই মামলায় ইমরানকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলো।

এদিকে, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে ইমরানের দল পাকিস্তান তেহেরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) ভাইস চেয়ারম্যান ও দেশটির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশিকেও সাইফার মামলায় অভিযুক্ত করা হয়। শাহ মাহমুদ কুরেশির বিরুদ্ধে এটিই প্রথম সাজার রায়।

পাকিস্তানের ‘সেনাবাহিনী সমর্থিত’ প্রশাসন অভিযোগ দায়ের করেছিল যে ইমরান খান রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য রক্ষায় দায়িত্বহীনতা দেখিয়েছেন। কূটনৈতিক তারবার্তাটি ইমরান খানের হাতে তুলে দেন সাবেক মুখ্যসচিব আজম খান। পরে তারবার্তাটি কোথায় রেখেছেন, তা জিঞ্জেস করলে- ভুলে গেছেন বলে দাবি করে সেটি আর ফেরত দেননি।

মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) রায়ের আগে বিশেষ আদালতের বিচারক আবুল হাসনাত জুলকারনাইনও ইমরান খানের কাছে সেই তারবার্তা কোথায় আছে জানতে চান। জবাবে ইমরান বলেন, আমি স্বীকারোক্তিতে আগেও বলেছি, তারবার্তা কোথায় আছে আমি জানি না। সেটি আমার কার্যালয়েই ছিল। ইমরানের এই বক্তব্যের পরেই সাজার রায় ঘোষণা করেন আদালত।

এদিকে ইমরানের বিরুদ্ধে দেওয়া এই রায়কে জালিয়াতির বিচার বলে আখ্যায়িত করেছে ইমরান খানের দল পিটিআই। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে (পূর্বে টুইটার) পোস্ট করা এক বিবৃতিতে দলটি বলেছে, পুরো পাকিস্তান ইমরান ও কোরেশির সঙ্গে আছে। আল্লাহর রহমতে আমাদের নেতা খব তাড়াতাড়িই আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন ও আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবো।

মুরাদনগরে তিন ফসলি জমির টপ সয়েল যাচ্ছে ইটভাটায়!

 

মাহবুব আলম আরিফ, মুরাদনগর :

কুমিল্লার মুরাদনগরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস ম্যানেজ করে তিন ফসলি জমির টপ সয়েল যাচ্ছে ইটভাটায়। শুস্ক মৌসুমে উপজেলার ২২টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের শত শত বিঘা তিন ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে নেয়া হচ্ছে ইটভাটাসহ বিভিন্ন ভরাট কাজে। অভিযোগ রয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় এবং ভাটা মালিক সিন্ডিকেট মিলে মিশে উর্বর ফসলি জমির মাটি কেটে নিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে অধিকাংশ জমির মালিক এবং কৃষকদেরকে বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে।

এদিকে উপজেলার ৪০টি ইটভাটায় জমির টপ সয়েল কেটে নিলেও রহস্যজনক কারনে এসব দেখেও না দেখার ভান করছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। এতে সচেতন মহলে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ৪০টি ইটভাটায় কাঁচা মাটির চাহিদা পূরণ করতে প্রতিনিয়তই উর্বর ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে নেয়া হচ্ছে। মাটি সিন্ডিকেট, ইটভাটা মালিকগণ প্রশাসনের সাথে সম্পর্ক রেখে নিরিহ কৃষক এবং জমির মালিকদের উপর প্রভাব বিস্তার করছে। নানা কৌশলে চাপে ফেলে সিন্ডিকেটের সদস্যরা জমির টপ সয়েল কেটে নিচ্ছে।

এতে দিন দিন ফসলি জমির আয়তন কমে আসছে। স্থানীয়রা জানায়, প্রভাবশালী মাটি সিন্ডিকেটের সদস্যরা বিলের মাঝখানে গিয়ে চড়া মূল্য একটি ফসলি জমির টপ সয়েল ক্রয় করে মাটি কাটা শুরু করে দেয়। এতে আশপাশের জমির মালিকগণ অসহায় হয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পায় না। কারন প্রশাসনের সব ধরনের চাহিদা পূরণ করছে মাটি সিন্ডিকেট এবং ইটভাটা মালিকরা। এদিকে পাশের জমির টপ সয়েল কেটে নিচু করে ফেললে বাধ্য আশপাশের সকলেই মাটি বিক্রি করে জমি সমান রাখতে হয়। অন্যথায় উঁচু জমিতে পানি এবং স্যার ধরে রাখা যায় না। মাটি সিন্ডিকেটের এমন ফাঁদে পড়ে ফসলি জমির টপ সয়েল হারাচ্ছে উপজেলার হাজার হাজার কৃষক।

সরেজমিনে উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নের বাখরাবাদ,সুবিলারচর, রানীমুহূরী, শুশুন্ডা এবং পায়ব গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মাটি সিন্ডিকেটের হোতা উপজেলা সেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ম আহবায়ক সোহরাব হোসেন বেলাল, নহল চৌমুহনীর শাকিল, বাখরাবাদের আমির হোসেন গোমতীর চর এবং বিলের ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে নিয়ে ইটভাটায় বিক্রি করছে। ২০-২৫ টি ট্রাক্টর ১৫-১৬ টি ড্রাম ট্রাক দিয়ে দিন রাত ২৪ ঘন্টা মাটি কেরিং করছে।

উপজেলার দারোরা ইউনিয়নের কাজিয়াতল এলাকায় আলাউদ্দিন আলা, আজিজ, সালাফি। ছালিয়াকান্দি ইউনিয়নের হারুন মুন্সি, লুঙ্গি জসিম। বাবুটিপাড়া ইউনিয়নে আরমান চেয়ারম্যান, রকিব, মোশাররফ। বাঙ্গরা পশ্চিম ইউনিয়নে যুবলীগ নেতা বিপ্লব হোসেন এবং নাছির উদ্দিন, দিঘির পাড়ের সারোয়ার হোসেন। নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের দক্ষিণ ত্রিশ এলাকায় ছাত্রলীগ নেতা সফিক তুহিনসহ শত শত মাটি সিন্ডিকেটের সদস্যরা ভেকু মেশিন দিয়ে ট্রাক্টর এবং ড্রাম ট্রাকযোগে গোমতী চরের ও বিলের ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে নিচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের সাথে তাদের সুসম্পর্ক রয়েছে।

বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, মাটি এবং ইটভাটা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে কোন লাভ নেই। তারা প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই জমির টপ সয়েল কেটে নেয়। কেউ অভিযোগ করলে উল্টো হয়রানির শিকার হতে হয়।

তবে মাটি সিন্ডিকেটের সদস্য শাকিল,আলা, আমির হোসেন বলেন, আমরা কৃষকদেরকে ন্যায্য মূল্য দিয়েই তাদের জমির মাটি ক্রয় করি। কাউকে জোর জবরদস্তি করা হয় না। তাছাড়া সব সেক্টর ম্যানেজ করেই আমরা মাটি ক্রয় বিক্রয়ের কাজ টুকু করতে হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ বলেন, কোন মাটি সিন্ডিকেট কিংবা ভাটা মালিকের সাথে আমার পরিচয় নেই। প্রশাসনের সঙ্গে তাদের যোগশাজসের কথাটি সঠিক নয়। মাটি কাটার বিষয়ে আমরা কোনভাবেই কোন ধরনের সম্মতি দেই না। এসব মাটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আমরা প্রায়ই অভিযান পরিচালনা করছি। সামনের দিকেও তা অব্যাহত থাকবে।

টানা চতুর্থবারের মতো স্পিকার হলেন শিরীন শারমিন চৌধুরী

ডেস্ক রিপোর্ট:

টানা চতুর্থবারের মতো জাতীয় সংসদের স্পিকার হলেন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। আজ মঙ্গলবার দ্বাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে তাকে স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।

আজ বিকেল ৩টায় একাদশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকুর সভাপতিত্বে সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। শপথের পর অধিবেশনের বাকি অংশে সভাপতিত্ব করছেন শিরীন শারমিন চৌধুরী।

অধিবেশনের শুরুতে ডেপুটি স্পিকার সবাইকে স্বাগত জানান। সংসদে সড়ক পরিবহন ও সেতুমমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের স্পিকার হিসেবে শিরিন শারমিন চৌধুরীর নাম প্রস্তাব করেন। আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সম্পাদক চিফ হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরী লিটন ওই প্রস্তাবকে সমর্থন করেন। পরে কণ্ঠ ভোটে তা পাস হয়। স্পিকার হিসেবে অন্য কোনো প্রার্থী না থাকায় অন্য কোনো প্রার্থী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শিরীন শারমিন চৌধুরী স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন বলে ঘোষণা করেন ডেপুটি স্পিকার।

এরপর ২০ মিনিটের জন্য সংসদ মুলতবি ঘোষণা করা হয়। এ সময় সংসদ ভবনের রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন স্পিকার হিসেবে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে শপথ পড়ান। স্পিকার নির্বাচনের সময় সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদেরসহ সরকারি ও বিরোধী দলের প্রায় সব সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৬ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন শিরীন শারমিন চৌধুরী। তার জন্ম ১৯৬৬ সালে ৬ অক্টোবর ঢাকায়। তার বাবা সাবেক সচিব রফিকউল্লাহ চৌধুরী ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একান্ত সচিব; মা অধ্যাপক নাইয়ার সুলতানা সরকারি বাংলাদেশ কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সদস্য ছিলেন। শিরীন শারমিন চৌধুরী পেশায় আইনজীবী।

নূর চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনা নিয়ে আলোচনা, ড. ইউনূস সঠিক বলেননি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার লিলি নিকোলসের সাথে বঙ্গবন্ধু হত্যায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নূর চৌধুরীকে কানাডা থেকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

একইসাথে গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার বিরূদ্ধে মামলাটি সরকার করেছে বলে যে মন্তব্য করেছেন, তা সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিকস মোলার ও কানাডার হাইকমিশনার লিলি নিকোলসের সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রতিনিধি জিয়াওকুন শি’র ক্রেডেনশিয়ালস গ্রহণ শেষে বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

কানাডার হাইকমিশনারের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার আসামি নূর চৌধুরীকে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কানাডায় মৃত্যুদণ্ড নেই, সেটি একটি অসুবিধা বলে আমাকে হাইকমিশনার জানিয়েছেন। আমি দ্বিপাক্ষিক প্রক্রিয়ার জন্য অনুরোধ করেছি। হাইকমিশনার বলেছেন, তিনি বিষয়টি তাদের সরকারকে জানাবেন।

উল্লেখ্য, সরকার বঙ্গবন্ধু হত্যার বিদেশে পলাতক আসামিদের দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তি কার্যকর করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কানাডা থেকে নূর চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনতে গত কয়েক বছর ধরে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে সরকার।

বাংলাদেশ থেকে আরও অভিবাসী নেওয়ার জন্য ‘প্রিফারেন্সিয়াল’ ব্যবস্থা গ্রহণ বিশেষ করে কৃষিখাতে নেওয়ার জন্য এবং এ দেশের শিক্ষার্থীদেরকে কানাডার স্টুডেন্টস ডিরেক্ট স্কিমের (এসডিএস) অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে হাইকমিশনারের সাথে আলোচনা হয়েছে জানান মন্ত্রী।

রবিবার ড. ইউনূসের দেওয়া বক্তব্য-তার বিরুদ্ধে মামলা শ্রমিকরা করেনি, সরকার করেছে, এ বিষয়ে সাংবাদিকরা জানতে চাইলে মন্ত্রী হাছান মাহমু বলেন, ‘ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি যথেষ্ট সম্মান ও শ্রদ্ধা রেখে বলছি, তিনি যা বলেছেন তা সঠিক নয়। ড. ইউনূসের প্রতিষ্ঠান শ্রমিকদের পাওনা সঠিকভাবে বুঝিয়ে দিতে পারেনি, তারা বঞ্চিত হয়েছে। এতে সংক্ষুব্ধ শ্রমিকরাই মামলা করেছে। এ জন্য শ্রম অধিদপ্তরের একটি অনুমোদন লাগে, সেটি তারা নিয়েছে। বিস্তারিত আইনি ব্যাখ্যা আইন মন্ত্রণালয় দেবে।’

ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ডেনমার্কের দ্বিতীয় উন্নয়ন অংশীদার বাংলাদেশ। তারা বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী।

জলবায়ু ইস্যুতে আমরা দীর্ঘদিন ধরে ডেনমার্কের সাথে কাজ করছি। আগামীতেও এই বিষয়ে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে আলোচনা হয়। এ ছাড়া বাংলাদেশের ইকোনমিক জোনগুলোতে ‘ড্যানিশ ইনভেস্টমেন্ট’ বৃদ্ধির বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

মিয়ানমার থেকে ১৩টি মর্টার শেল বাংলাদেশ সীমান্তে এসে পড়েছে-এ বিষয়ে বাংলাদেশ উদ্বিগ্ন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমারে দেশটির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাত চলছে। এই সংঘাতের মর্টার শেল যাতে আর আমাদের সীমান্তে এসে না পড়ে এ বিষয়ে নজর রাখছি। আমাদের সীমান্তরক্ষীরা সতর্ক আছেন। মিয়ানমার সরকারের সাথেও এ বিষয়ে আমরা যোগাযোগের মধ্যে রয়েছি।

সংসদ ভেঙে নতুন নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন বিএনপির কয়েকজন নেতা। এ বিষয়ে দৃষ্টি আর্কষণ করা হলে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ পালটা প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘বিএনপির আবদার রক্ষা করার জন্য কি সংসদ ভাঙবে? গত নির্বাচনে জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ ছিল, বিএনপির অংশগ্রহণ ছিল না। সংসদ নির্বাচিত হয়েছে আগামী পাঁচ বছরের জন্য। এই মেয়াদ পূর্ণ করেই আগামী সংসদ নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করতে পারে।’

চাঁদপুর জেলা সমিতির উদ্যোগে শীতবস্ত্র কম্বল বিতরণ

ইউছুফ পাটওয়ারী লিংকন:

চাঁদপুর জেলা সমিতি উদ্যোগে শীতবস্ত্র কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। রবিবার সকালে সুয়াপাড়া জিকে উচ্চ বিদ্যালয় এবং দুপুরে খিলা বাজার স্কুল এন্ড কলেজ আঙ্গিনায় এই কম্বল বিতরণ করা হয়। ওই সময় চাঁদপুর জেলা সমিতির এবং কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। জানা যায়, প্রতি বছরের ন্যায় শাহরাস্তিতে শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়।

মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য এ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে চাঁদপুর জেলা সমিতি ঢাকা শীতার্ত গরীব অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে এ শীত বস্ত্র বিতরণ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন চাঁদপুর জেলা সমিতি ঢাকা, সহ-সভাপতি সফিউল আলম স্বপন, আজীবন সদস্য ইন্জিনিয়ার মকবুল হোসেন পাটোয়ারী, কার্যনিবার্হী সদস্য আমিমুল এহসান নেয়ামত আজীবন সদস্য সদস্য, হাবিব রায়হান আজীবন সদস্য মনির হোসেন মিরন কার্যনিবার্হী সদস্য ইসমাইল হোসেন সদস্য, আজীবন সদস্য হেলাল উদ্দিন মোল্লা। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন শাহরাস্তি উপজেলা জাতীয় পাটি সভাপতি আবদুল মান্নান মোল্লা, শাহরাস্তি প্রেসক্লাব সভাপতি মোঃ হাবিবুর রহমান ভুইঁয়া, সাধারণ সম্পাদক নোমান হোসেন আখন্দ, প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো: মাসুদ রানা, কেন্দ্রীয় জাতীয় ছাএ সমাজ সদস্য মোহাম্মদ শাহজালাল, মেহার উত্তর ইউনিয়ন আওয়ামিলীগ সভাপতি আবদুর রশিদ পাটোয়ারী, মেহার উত্তর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ মনির হোসেন, আওয়ামীলীগ নেতা এমরান হোসেন, আবদুল বারেক, তারেক হোসেন, প্রমুখ।

সভায় চাঁদপুর জেলা সমিতি ঢাকা, পক্ষ থেকে শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ হাবিবুর রহমান ভুইঁয়া ও সাধারণ সম্পাদক নোমান হোসেন আখন্দ নিকট সমিতির পক্ষ থেকে শীত বস্ত্র প্রদান করা হয়।

মেঘনায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধী গ্রুপের হামলায় একজন নিহত

 

স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার চালিভাঙ্গায় হুমায়ুন চেয়ারম্যান গ্রুপের হামলায় কাইয়ুম গ্রুপের নেতা কামরুল নিহত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নিহত কামরুল উপজেলার চালিভাঙ্গা গ্রামের আব্দুর রবের ছেলে।

সোমবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, হুমায়ুন চেয়ারম্যানের ভাই খুন হওয়ার পর কাইয়ুম গ্রুপের নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন বাড়ি ছাড়া । এদিকে জেলা পুলিশ গতকাল একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প করে একজন এসআইসহ ১০ জনের। আজ জেলা পরিষদ সদস্য কাইয়ুম এর নেতৃত্বে তারা যখন বাড়ি ফিরছিলো তখনই হুমায়ুন চেয়ারম্যান গ্রুপ হামলা করে। তখন এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে।

এ নিয়ে ১৯৯৮ থেকে অদ্য পর্যন্ত ১৯ টি মামলা হয়েছে চালিভাঙ্গা বালু,ড্রেজার আর নৌযান থেকে চাঁদাবাজির ঘটনায়।

নোয়াখালীতে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রবাসীকে কুপিয়ে হত্যা, আটক ৩

ডেস্ক রিপোর্ট:

নোয়াখালীর সদর উপজেলার বাঁধেরহাট এলাকায় কিশোর গ্যাং সদস্যদের দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এক প্রবাসীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় রাস্তা দিয়ে যাওয়ার পথে পথচারি রাকিবসহ আরও ৫ জন গুরুতর আহত হয়। এ ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে।

নিহত মো. সৌরভ হোসেন ওরফে সাজ্জাদ (২০) উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের ৩ নম্বর রামকৃঞ্চপুর গ্রামের আহাম্মদ মুন্সি বাড়ির মো. সবুজের ছেলে।

সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহেদুল হক রনি একজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, একই ইউনিয়নের তিন গ্রামের মানুষের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মুত্তাহিন বিল্লাহ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে।

আওয়ামী লীগ ভারতের গোলামি করলেও দেশের মানুষ ভারতের গোলামি করবে না: রিজভী

ডেস্ক রিপোর্ট:

আওয়ামী লীগ এখন একটি ভারতীয় পণ্যে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। আজ সোমবার নয়াপল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।

রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতাদের কথায় স্পষ্ট যে, দলটির ক্ষমতার উৎস জনগণ নয়। ক্ষমতার উৎস ভারত। আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশের জনগণের ভোটের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস নেই। ভারত সরকারের ক্ষমতার জোরে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আছে। আওয়ামী লীগ এখন একটি ভারতীয় পণ্যে পরিণত হয়েছে। যা স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্বার্থ ও মর্যাদার পরিপন্থী।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ভারতের গোলামি করলেও দেশের মানুষ ভারতের গোলামি করবে না। ঐতিহাসিকভাবেই যেকোনো ধরণের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সাহসী জনগণের সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিরোধের বীরত্বগাঁথা ঐতিহ্য রয়েছে। ভারতের জনগণের সঙ্গে আমাদের কোনো দ্বন্দ্ব নেই। তবে আমাদের আপত্তি ভারতের শাসকদের পলিসি, নীতি নিয়ে। তাই দলমত নির্বিশেষে ভারতীয় এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হবে।’

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এক মুখে দুই কথা বলেন। কিন্তু তার এই দ্বৈততার মধ্যেই প্রকৃত সত্যটি বের হয়ে আসে। তিনি আওয়ামী লীগের এক সমাবেশে বলেছেন,‘‘আমাদের সরকারকে কোনো বিদেশি শক্তি বসায়নি।” একই সভায় তার বক্তব্যের আর এক জায়গায় তিনি বলেছেন, ‘‘নির্বাচনে ভারত জোরালোভাবে পাশে দাঁড়িয়েছে, এটি জরুরি ছিল।” তিনি সাংবাদিকদের সামনে বলেছেন, ‘‘শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি সব অবিশ্বাসের দেয়াল ভেঙ্গে দিয়েছে।” ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় ভারতের সহযোগিতায় বিনা ভোটে তামাশার নির্বাচনের মাধ্যমে তারা আবারও ক্ষমতা দখল করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভারতের প্রতিভূ হয়ে শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে সর্বনাশায় পরিণত করেছে। জনসমর্থনহীন শেখ হাসিনার একনায়কতন্ত্রের দৌরাত্ম্য এক উদ্ভট, দৃষ্টান্তহীন এবং নিষ্ঠুর খামখেয়ালি রাজার মতো ভারতকে খুশি করতেই ব্যস্ত রয়েছেন। শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে ভারতের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের আওতার মধ্যে ক্রমাগতভাবে ঠেলে দিচ্ছেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব দুর্বল করে একটি ডামি রাষ্ট্র বানানোর সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা কার্যকর করছেন তিনি। বিনাভোটে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার জন্য তারা পুরো দেশটাকেই ডামি রাষ্ট্র বানিয়ে ফেলেছে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘ভারত বাংলাদেশের জনগণ ও গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে বাকশালী শাসনের পক্ষে সহযোগিতা করছে। বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বক্তব্য আজ অক্ষরে অক্ষরে প্রতিফলিত হচ্ছে। তিনি বারবার বলেছেন, ‘‘শেখ হাসিনার ক্ষমতার উৎস জনগণ নয়। বিদেশি প্রভু। তারা দেশকে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্য বানিয়েছে। বিদেশে আমাদের বন্ধু আছে, প্রভু নেই”।’

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার আঙ্গোরপোতা দহগ্রাম সীমান্তে বাংলাদেশি রাফিউল ইসলাম টুকলুকে গত রবিবার ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) গুলি করে হত্যা করেছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘আমরা এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। মাত্র ছয় দিন আগে গত ২২ জানুয়ারি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্য সিপাহী মোহাম্মদ রইশুদ্দীনকে বিনা উস্কানিতে ঠাণ্ডা মাথায় গুলি করে হত্যা করে বিএসএফ। এই হত্যার পর বিএসএফের পক্ষ থেকে যে ব্যাখ্যা দেওয়া হয় তা অভিসন্ধিপ্রসূত, উপহাসমূলক এবং নির্জলা মিথ্যাচার। কিন্তু আওয়ামী ডামি সরকার সীমান্তে অব্যাহত এই নির্মম হত্যাকাণ্ড নিয়ে এখন পর্যন্ত প্রতিবাদ তো দূরের কথা টু শব্দ পর্যন্ত করার সাহস দেখাতে পারেনি। উল্টো ভারতের তোষামোদিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মন্ত্রীরা।’

রিজভী বলেন, ‘আমি বিএনপির পক্ষ থেকে রাফিউল ইসলাম টুকলুসহ সীমান্তে বিএসএফের উপুর্যপুরি সকল বাংলাদেশি হত্যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। নিহত রাফিউল ইসলাম টুকুলু আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি ও শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।’

সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘নতুন পররাষ্ট্র মন্ত্রী হাসান মাহমুদ বলেছেন, “এই বিষয়ে আমরা এখন কথা বলতে চাই না।” নৌ পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, “এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা! এ নিয়ে আলোচনার কি আছে ?” অন্য এক মন্ত্রী বলেছেন, “নো কমেন্টস”।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বিএসএফের সীমান্তে হত্যাকে কিভাবে একজন মন্ত্রী বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলেন। সীমান্তে ভারত দখল, হত্যাযজ্ঞ চালালেও আমরা কিছু বলতে পারব না। কয়েক বছর আগে এক আওয়ামী মন্ত্রী বলেছিলেন, ‘‘ভারতের বিরুদ্ধে কিছু বলা যাবে না।” এই হচ্ছে তাবেদার আওয়ামী ডামি সরকারের নতজানু নীতি। ক্ষমতার জন্য এরা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দিতে কুণ্ঠিত নন।’

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ‘আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) হিসেবে গতবছর বিএসএফ ৩০ জন বাংলাদেশিকে হত্যা করেছে। প্রাণহানি ছাড়াও ৩১ জন বাংলাদেশিকে মারাত্মক শারীরিক নির্যাতন করে পঙ্গু করে দিয়েছে বিএসএফ। কেবল সীমান্তে পাখির মতো মানুষকে গুলি করে হত্যা নয়, বাংলাদেশের ভেতর ঢুকে লুটপাট, হামলা, ভাঙচুর, এমনকি ধর্ষণের ঘটনা ঘটালেও কোনো প্রতিবাদ করেন না শেখ হাসিনার নতজানু সরকার। ক্ষমতার জন্য একান্ত বাধ্যগতভাবে গোলামি করছেন তিনি। এটাই কি স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসার নমুনা।

ভারতের সঙ্গে পাকিস্তান, চীন, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার ও বাংলাদেশের স্থল সীমান্ত রয়েছে। সমুদ্র সীমান্ত রয়েছে শ্রীলংকার সঙ্গে। আমরা জানি, এই সব দেশের সীমান্তে ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী মোতায়েন আছে। বাংলাদেশ ছাড়া অন্য ৫টি দেশের সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিরীহ কোনো লোক নিহত হওয়ার কোনো খবর খুব একটা চোখে পড়ে না।’

রুহুল কবির রিজভী বলেন,‘আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইনে কোনো দেশ অন্য দেশের নিরস্ত্র নাগরিককে হত্যা করতে পারে না। কেউ যদি অন্যায় করে তাহলে তাকে গ্রেপ্তার করে সে দেশের আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান থাকলেও বিএসএফ তার কোনো তোয়াক্কাই করে না।’