All posts by jitu

বিজিবির নতুন মহাপরিচালক আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী

 

স্টাফ রিপোর্টার:

সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকীকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক (ডিজি) করা হয়েছে।

আশরাফুজ্জামানকে এ নিয়োগ দিয়ে তার চাকরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগে ন্যস্ত করে মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

অন্যদিকে বিজিবির মহাপরিচালকের দায়িত্ব চালিয়ে আসা মেজর জেনারেল এ কে এম নাজমুল হাসানকে সেনাবাহিনীতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এজন্য তার চাকরি সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।

নোয়াখালীতে প্রতিবাদ সভায় হামলা

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালী কবিরহাটে একটি প্রতিবাদ সভায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৪জন আহত হয়।

সোমবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নে নবগ্রাম চিরিঙ্গা বাজারে আনসার বিডিপির অফিসের একটি ভিটি নিয়ে বিরোধের জের ধরে দখলদাররা এ হামলা চালায়।

আহতরা হলেন, ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ড নবগ্রামের বেলায়তে হোসেনের ছেলে মামুন (৩৫), বদিউজ্জামানের ছেলে। সাইফুল ইসলাম (৩৫), সফিউল্যার ছেলে মমিনউল্যা (৩২) ও মো.আলমের ছেলে শাহিন (২৩)

স্থানীয়রা জানায়, সোমবার বিকেলে নবগ্রাম চিরিঙ্গা বাজারে একটি ভিটি ভুয়া দখলদারদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশ ও আলোচনা সভার আয়োজন করেন আনসার বিডিপি সদস্যরা ও এলাকাবাসী। একপর্যায়ে ভিটির দাবি নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন নবগ্রাম চিরিঙ্গা বাজারের ব্যবসায়ী সাহাব উদ্দিন গং এবং একই গ্রামের আব্দুল হক সওদাগরের ছেলে। ওই সময় তাদের হামলায় প্রতিপক্ষের ৪জন আহত হয়।

কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ূন কবির বলেন, আনসার বিডিপির অফিসের একটি ভিটি নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে বিরোধ ছিল। আনসার বিডিপির অফিসের সদস্যরা ও এলাকাবাসির একটি প্রতিবাদ সভাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষই হটাৎ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে কেউ এখনো কোন লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জাতীয় নির্বাচনে জনগণ ও গণতন্ত্রের জয় হয়েছে: সংসদে রাষ্ট্রপতি

ডেস্ক রিপোর্ট:

দ্বাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার বিকাল ৩টায় জাতীয় সংসদ ভবনে এই অধিবেশ শুরু হয়।দ্বাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণের শুরুতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করায় নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের সফলভাবে নির্বাচন পরিচালনার মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক শক্তি আরও সুদৃঢ় হয়েছে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস- দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় হয়েছে দেশের জনগণের, জয় হয়েছে গণতন্ত্রের।

সাহাবুদ্দিন বলেন, নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবে। জনগণের রায় মেনে নিয়ে গণতন্ত্রের ধারা অব্যাহত রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দেশের গণতন্ত্রের জন্য দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজন অত্যন্ত যুগান্তকারী ঘটনা, যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।

নির্বাচন ঘিরে একটি মহল সহিংসতা ও সংঘাত সৃষ্টি করে গণতন্ত্রের শান্ত-স্নিগ্ধ যাত্রাপথে বাধা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়েছিল উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, তাদের গণতন্ত্রবিরোধী ও সহিংস কর্মকাণ্ড সাময়িকভাবে জনগণকে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে রাখলেও ভোটারদের ভোটদান থেকে বিরত রাখতে পারেনি। সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ও সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্যই সরকার ও নির্বাচন কমিশনের সব পদক্ষেপ সার্থক হয়েছে।

নির্বাচন বর্জনকারী দলগুলো সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করেছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, আমি আশা করি- ভবিষ্যতে দেশের রাজনৈতিক দলগুলো সহিংসতা ও নৈরাজ্যের পথ পরিহার করে সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং জনগণ ও গণতন্ত্রের কল্যাণে অহিংস পন্থায় গঠনমূলক কর্মসূচি পালন করবে। সরকারও এক্ষেত্রে সংযত আচরণ করবে- এটাই সবার প্রত্যাশা।

রাষ্ট্রপতি পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টের বর্বর হত্যাকাণ্ড ইতিহাসে সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায় উল্লেখ করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করেন। তিনি বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচন পরবর্তী দেশে যে নৃশংস সহিংসতা হয়েছিল- তা ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়। এর মাধ্যমে আমাদের হাজার বছরের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্যকে ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছিল। কিন্তু ২০০৮ সালের নির্বাচনসহ পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত সব নির্বাচনে সহিংসতার পুনরাবৃত্তি থেকে মুক্তি পেয়েছি।

সাহাবুদ্দিন বলেন, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের নিষ্কণ্টক পথচলার জন্য রাজনৈতিক দলগুলো উদার ও গঠনমূলক মনোভাব নিয়ে জনগণের পাশে দাঁড়াবে- এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা।

বঙ্গবন্ধুর খুনি খন্দকার মোশতাকের বাড়ীর কেয়ারটেকার নিজাম উদ্দিন গ্রেপ্তার

দাউদকান্দি প্রতিনিধি:

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি খন্দকার মোশতাক আহমেদের ছেলে খন্দকার ইশতিয়াক আহমেদ বাবু বাহিনীর প্রধান নিজাম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার রাতে রাজধানীর আগামসি লেন বাড়ী থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে দাউদকান্দি মডেল থানা পুলিশের একটি টিম।

গ্রেপ্তারকৃত নিজাম উদ্দিন(৫৩) উপজেলার ভাগলপুর গ্রামের মৃত রওশন আলী ওরফ আব্দুস সোবহান এর ছেলে এবং বঙ্গবন্ধুর খুনি খন্দকার মোশতাকের বাড়ীর কেয়ারটেকার।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খন্দকার মোশতাকপুত্র

ইশতিয়াক আহমদ বাবুর আমমোক্তারনামাবলে নিয়োজিত কেয়ারটেকার নিজাম উদ্দিনের নেতৃত্বে ও বাবুর অর্থবিত্তে লালিত বাহিনীর অত্যাচার-নিপীড়নে এলাকার সাধারণ মানুষ জিম্মি ছিল বলে সুন্দলপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাবেক সভাপতি দশপাড়া গ্রামের মাহবুবুর রহমান বাবুল মেম্বার মাহফুজুর রহমানসহ স্থানীয়রা জানান। তারা বলেন, নিজাম গ্রেপ্তার হওয়ায় আমরা এবং এলাকার সাধারণ মানুষ খুশি। তবে নিজাম উদ্দিনের সেল্টারদাতা মোশতাকপুত্র বাবুকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবী জানান তারা।

নিজাম উদ্দিনের গ্রেপ্তারের খবরে পুলিশ প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ভুক্তভোগী একটি মামলার বাদি কাজী রেহা কবির বলেন, আমার পরিবার একের পর এক হামলা মামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছি।

মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী দল আওয়ামী লীগ দেশের ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও খুনি মোশতাকপুত্র পলাতক ইশতিয়াক আহমদ বাবু ও তার প্রেতাত্মাদের ষড়যন্ত্র থেমে নেই। অর্থবিত্তে বলীয়ান বাবুর অর্থের বিনিময়ে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ও গুটিকয়েক অসৎ ব্যক্তিকে টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে এলাকায় তার বাহিনীর মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল।

তিনি আরো জানান, মোশতাকপুত্র খন্দকার ইশতিয়াক আহমেদ বাবু তাদের পূর্বপুরুষের সম্পত্তি দখলে রাখতে এলাকায় একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলেন। এরই মধ্যে মোশতাকপুত্র বেশ কিছু সম্পত্তি জাল দলিল ও ভুয়া স্বাক্ষরে বিক্রয় করে দেন। এনিয়ে আদালতে প্রতারনা মামলায় ইশতিয়াক আহমেদ বাবু, তার ছেলে ইফতেখার আহমেদ শাদ ও কেয়ারটেকার নিজামুদ্দিনকে আসামি করা হয়। বর্তমানে খন্দকার ইশতিয়াক আহমেদ বাবু ও খন্দকার ইফতেখার আহমেদ শাদ কানাডায় পলাতক রয়েছেন।

কাজী রেহা কবির বলেন, আমার চাচা মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও ভাষা সৈনিক কাজী আব্দুল বারি বঙ্গবন্ধু হত্যার পর প্রতিবাদকারীদের একজন। খন্দকার মোশতাক আমার নানার পরিবারের সদস্য হলেও আদর্শগত কারণে তাদের সঙ্গে আমাদের কোন পারিবারিক সম্পর্ক ছিলনা । আমার মামা নাসিরুল কবিরের করা মামলায় নিজাম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের অবিলম্বে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেফতার করে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের দাবি জানান তিনি।

দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মোঃ মোজাম্মেল হক বলেন, প্রতারণাসহ একাধিক মামলার আসামি নিজাম উদ্দিনকে মঙ্গলবার রাতে আমাদের একটি টিম রাজধানী আগামসি লেনের খন্দকার মোশতাকের বাড়ী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে তাকে আদালতের জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে কুমিল্লাকে ৮ রানে হারালো রংপুর

স্পোর্টস ডেস্ক:

বিপিএলের দশম আসরে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে রোমঞ্চকর খেলা উপহার দিয়েছে রংপুর রাইডার্স ও কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। নির্ধারিত ২০ ওভারের খেলায় ৬ উইকেট হারিয়ে ১৬৬ রান তুলতে গিয়ে ১৫৭ থেমে যায় কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। এতে ৮ রানে জয় পেয়েছেন অধিনায়ক নুরুল হাসানের দল।

মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে ১৬৫ রানের লড়াকু পুঁজি সংগ্রহ করে রংপুর রাইডার্স।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ১৬৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ডাক মারেন অধিনায়ক লিটন দাস। আজমত উল্লাহর বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে মোহাম্মদ নাবির কাছে তালুবন্ধি হয়ে সাজঘরে ফেরেন তিনি।

অনডাউনে নেমে মোহাম্মদ রিজওয়ানের সাথে রান তুলতে থাকেন। মাহিদুল ইসলাম। ওপেনিংয়ে নেমে শুরুটা ভালো করলেও ইনিংস লম্বা করতে পারেননি পাকিস্তানি তারকা। ২১ বলে ১৭ রান করে মোহাম্মদ নাবির বলে আউট হন এই ব্যাটার।

রিজওয়ানের পর ব্যাটে আসেন তৌহিদ হৃদয়। মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনের সাথে যোগ্য দেন তৌহিদ হৃদয়। মাহিদুল ইসলাম ৫৫ বল মোকাবেলায় ৩ ছক্কা ও ৪ চারে ৬৩ রান করেন। হাসান মাহমুদের বলে ক্যাচ তুলে আউট হন এই ব্যাটার। খুশদিল শাহ ৮ বলে ১৩ রানের ইনিংস খেলেন।

শেষেরদিকে রেমন রেইফার ও তৌহিদ হৃদয় সর্বোচ্চ লড়াই করলেও পৌঁছাতে পারেননি জয়ের বন্দরে। তৌহিদ হৃদয় ২৮ বলে ৩৯ রান করে রান আউট হয়ে প্যাভিলনের পথ ধরেন। সর্বশেষ জাকির হোসেন ৪ বলে ১৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন।

রংপুর রাইডার্সের হয়ে আজমতউল্লাহ ওমরজাই ২টি, হাসান মাহমুদ ১টি, সাকিব আল হাসান ১টি ও মোহাম্মদ নাবি ১টি করে উইকেট শিকার করেন।

‘সাইফার’ মামলায় ইমরান খানের ১০ বছরের কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি। আর তার মাত্র সপ্তাহখানেক আগেই সাইফার মামলায় পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশির ১০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) দেশটির সরকারি গোপনীয়তা আইনের অধীনে একটি বিশেষ আদালত এ রায় দেন। কিন্তু কী এই সাইফার মামলা?

পাকিস্তানে সাইফার মামলা বলতে বোঝায় রাষ্ট্রীয় গোপন বার্তা ফাঁসের মামলাকে। ২০২২ সালের এপ্রিলে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকেই, এর পিছনে যুক্তরাষ্ট্রের ষড়যন্ত্র রয়েছে- এমন অভিযোগ করে আসছিলেন খান।

আর সেই অভিযোগের প্রমাণ দিতে গিয়েই তিনি একটি নথি প্রকাশ্যে আনেন এবং জনসভায় তা প্রদর্শনও করেন। এটি নিয়েই ইমরানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

গত বছরের ৫ আগস্ট তোশাখানা মামলায় পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে তিন বছরের সাজা দিয়েছিলেন নিম্ন আদালত। এর পাশাপাশি ১ লাখ রুপি জরিমানাও করা হয়েছিল তাকে। বলা হয়েছিল, অনাদায়ে আরও ৬ মাস কারাগারে থাকতে হবে তাকে ও পাঁচ বছর কোনো নির্বাচন লড়তে পারবেন না তিনি।

কিন্তু পরবর্তী সময়ে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট ইমরান খানের সাজা স্থগিত করে জামিনে মুক্তির নির্দেশ দেয়। কিন্তু তোশাখানা মামলার পরপরই দায়ের করা সাইফার মামলায় কারাগারেই থাকতে হয় তাকে। এমনকি, এই মামলার বিচারপ্রক্রিয়া চলতে থাকে কারাগারে। শেষপর্যন্ত এই মামলায় ইমরানকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হলো।

এদিকে, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে ইমরানের দল পাকিস্তান তেহেরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) ভাইস চেয়ারম্যান ও দেশটির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশিকেও সাইফার মামলায় অভিযুক্ত করা হয়। শাহ মাহমুদ কুরেশির বিরুদ্ধে এটিই প্রথম সাজার রায়।

পাকিস্তানের ‘সেনাবাহিনী সমর্থিত’ প্রশাসন অভিযোগ দায়ের করেছিল যে ইমরান খান রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য রক্ষায় দায়িত্বহীনতা দেখিয়েছেন। কূটনৈতিক তারবার্তাটি ইমরান খানের হাতে তুলে দেন সাবেক মুখ্যসচিব আজম খান। পরে তারবার্তাটি কোথায় রেখেছেন, তা জিঞ্জেস করলে- ভুলে গেছেন বলে দাবি করে সেটি আর ফেরত দেননি।

মঙ্গলবার (৩০ জানুয়ারি) রায়ের আগে বিশেষ আদালতের বিচারক আবুল হাসনাত জুলকারনাইনও ইমরান খানের কাছে সেই তারবার্তা কোথায় আছে জানতে চান। জবাবে ইমরান বলেন, আমি স্বীকারোক্তিতে আগেও বলেছি, তারবার্তা কোথায় আছে আমি জানি না। সেটি আমার কার্যালয়েই ছিল। ইমরানের এই বক্তব্যের পরেই সাজার রায় ঘোষণা করেন আদালত।

এদিকে ইমরানের বিরুদ্ধে দেওয়া এই রায়কে জালিয়াতির বিচার বলে আখ্যায়িত করেছে ইমরান খানের দল পিটিআই। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে (পূর্বে টুইটার) পোস্ট করা এক বিবৃতিতে দলটি বলেছে, পুরো পাকিস্তান ইমরান ও কোরেশির সঙ্গে আছে। আল্লাহর রহমতে আমাদের নেতা খব তাড়াতাড়িই আমাদের মাঝে ফিরে আসবেন ও আমরা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবো।

মুরাদনগরে তিন ফসলি জমির টপ সয়েল যাচ্ছে ইটভাটায়!

 

মাহবুব আলম আরিফ, মুরাদনগর :

কুমিল্লার মুরাদনগরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিস ম্যানেজ করে তিন ফসলি জমির টপ সয়েল যাচ্ছে ইটভাটায়। শুস্ক মৌসুমে উপজেলার ২২টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের শত শত বিঘা তিন ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে নেয়া হচ্ছে ইটভাটাসহ বিভিন্ন ভরাট কাজে। অভিযোগ রয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় এবং ভাটা মালিক সিন্ডিকেট মিলে মিশে উর্বর ফসলি জমির মাটি কেটে নিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে অধিকাংশ জমির মালিক এবং কৃষকদেরকে বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে।

এদিকে উপজেলার ৪০টি ইটভাটায় জমির টপ সয়েল কেটে নিলেও রহস্যজনক কারনে এসব দেখেও না দেখার ভান করছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। এতে সচেতন মহলে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ৪০টি ইটভাটায় কাঁচা মাটির চাহিদা পূরণ করতে প্রতিনিয়তই উর্বর ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে নেয়া হচ্ছে। মাটি সিন্ডিকেট, ইটভাটা মালিকগণ প্রশাসনের সাথে সম্পর্ক রেখে নিরিহ কৃষক এবং জমির মালিকদের উপর প্রভাব বিস্তার করছে। নানা কৌশলে চাপে ফেলে সিন্ডিকেটের সদস্যরা জমির টপ সয়েল কেটে নিচ্ছে।

এতে দিন দিন ফসলি জমির আয়তন কমে আসছে। স্থানীয়রা জানায়, প্রভাবশালী মাটি সিন্ডিকেটের সদস্যরা বিলের মাঝখানে গিয়ে চড়া মূল্য একটি ফসলি জমির টপ সয়েল ক্রয় করে মাটি কাটা শুরু করে দেয়। এতে আশপাশের জমির মালিকগণ অসহায় হয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পায় না। কারন প্রশাসনের সব ধরনের চাহিদা পূরণ করছে মাটি সিন্ডিকেট এবং ইটভাটা মালিকরা। এদিকে পাশের জমির টপ সয়েল কেটে নিচু করে ফেললে বাধ্য আশপাশের সকলেই মাটি বিক্রি করে জমি সমান রাখতে হয়। অন্যথায় উঁচু জমিতে পানি এবং স্যার ধরে রাখা যায় না। মাটি সিন্ডিকেটের এমন ফাঁদে পড়ে ফসলি জমির টপ সয়েল হারাচ্ছে উপজেলার হাজার হাজার কৃষক।

সরেজমিনে উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়নের বাখরাবাদ,সুবিলারচর, রানীমুহূরী, শুশুন্ডা এবং পায়ব গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মাটি সিন্ডিকেটের হোতা উপজেলা সেচ্ছাসেবকলীগের যুগ্ম আহবায়ক সোহরাব হোসেন বেলাল, নহল চৌমুহনীর শাকিল, বাখরাবাদের আমির হোসেন গোমতীর চর এবং বিলের ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে নিয়ে ইটভাটায় বিক্রি করছে। ২০-২৫ টি ট্রাক্টর ১৫-১৬ টি ড্রাম ট্রাক দিয়ে দিন রাত ২৪ ঘন্টা মাটি কেরিং করছে।

উপজেলার দারোরা ইউনিয়নের কাজিয়াতল এলাকায় আলাউদ্দিন আলা, আজিজ, সালাফি। ছালিয়াকান্দি ইউনিয়নের হারুন মুন্সি, লুঙ্গি জসিম। বাবুটিপাড়া ইউনিয়নে আরমান চেয়ারম্যান, রকিব, মোশাররফ। বাঙ্গরা পশ্চিম ইউনিয়নে যুবলীগ নেতা বিপ্লব হোসেন এবং নাছির উদ্দিন, দিঘির পাড়ের সারোয়ার হোসেন। নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের দক্ষিণ ত্রিশ এলাকায় ছাত্রলীগ নেতা সফিক তুহিনসহ শত শত মাটি সিন্ডিকেটের সদস্যরা ভেকু মেশিন দিয়ে ট্রাক্টর এবং ড্রাম ট্রাকযোগে গোমতী চরের ও বিলের ফসলি জমির টপ সয়েল কেটে নিচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের সাথে তাদের সুসম্পর্ক রয়েছে।

বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, মাটি এবং ইটভাটা সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে কোন লাভ নেই। তারা প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই জমির টপ সয়েল কেটে নেয়। কেউ অভিযোগ করলে উল্টো হয়রানির শিকার হতে হয়।

তবে মাটি সিন্ডিকেটের সদস্য শাকিল,আলা, আমির হোসেন বলেন, আমরা কৃষকদেরকে ন্যায্য মূল্য দিয়েই তাদের জমির মাটি ক্রয় করি। কাউকে জোর জবরদস্তি করা হয় না। তাছাড়া সব সেক্টর ম্যানেজ করেই আমরা মাটি ক্রয় বিক্রয়ের কাজ টুকু করতে হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ বলেন, কোন মাটি সিন্ডিকেট কিংবা ভাটা মালিকের সাথে আমার পরিচয় নেই। প্রশাসনের সঙ্গে তাদের যোগশাজসের কথাটি সঠিক নয়। মাটি কাটার বিষয়ে আমরা কোনভাবেই কোন ধরনের সম্মতি দেই না। এসব মাটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আমরা প্রায়ই অভিযান পরিচালনা করছি। সামনের দিকেও তা অব্যাহত থাকবে।

টানা চতুর্থবারের মতো স্পিকার হলেন শিরীন শারমিন চৌধুরী

ডেস্ক রিপোর্ট:

টানা চতুর্থবারের মতো জাতীয় সংসদের স্পিকার হলেন ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। আজ মঙ্গলবার দ্বাদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে তাকে স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।

আজ বিকেল ৩টায় একাদশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকুর সভাপতিত্বে সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। শপথের পর অধিবেশনের বাকি অংশে সভাপতিত্ব করছেন শিরীন শারমিন চৌধুরী।

অধিবেশনের শুরুতে ডেপুটি স্পিকার সবাইকে স্বাগত জানান। সংসদে সড়ক পরিবহন ও সেতুমমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের স্পিকার হিসেবে শিরিন শারমিন চৌধুরীর নাম প্রস্তাব করেন। আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সম্পাদক চিফ হুইপ নূর-ই আলম চৌধুরী লিটন ওই প্রস্তাবকে সমর্থন করেন। পরে কণ্ঠ ভোটে তা পাস হয়। স্পিকার হিসেবে অন্য কোনো প্রার্থী না থাকায় অন্য কোনো প্রার্থী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শিরীন শারমিন চৌধুরী স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন বলে ঘোষণা করেন ডেপুটি স্পিকার।

এরপর ২০ মিনিটের জন্য সংসদ মুলতবি ঘোষণা করা হয়। এ সময় সংসদ ভবনের রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন স্পিকার হিসেবে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে শপথ পড়ান। স্পিকার নির্বাচনের সময় সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধীদলীয় নেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদেরসহ সরকারি ও বিরোধী দলের প্রায় সব সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর-৬ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন শিরীন শারমিন চৌধুরী। তার জন্ম ১৯৬৬ সালে ৬ অক্টোবর ঢাকায়। তার বাবা সাবেক সচিব রফিকউল্লাহ চৌধুরী ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একান্ত সচিব; মা অধ্যাপক নাইয়ার সুলতানা সরকারি বাংলাদেশ কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সদস্য ছিলেন। শিরীন শারমিন চৌধুরী পেশায় আইনজীবী।

নূর চৌধুরীকে ফিরিয়ে আনা নিয়ে আলোচনা, ড. ইউনূস সঠিক বলেননি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার লিলি নিকোলসের সাথে বঙ্গবন্ধু হত্যায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নূর চৌধুরীকে কানাডা থেকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

একইসাথে গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূস তার বিরূদ্ধে মামলাটি সরকার করেছে বলে যে মন্তব্য করেছেন, তা সঠিক নয় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সোমবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিকস মোলার ও কানাডার হাইকমিশনার লিলি নিকোলসের সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্à¦