All posts by jitu

ট্রেনে অগ্নিসংযোগ ও রেললাইন কেটে ফেলা কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নয় : তথ্যমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

গাজীপুরে রেললাইন কেটে ফেলার বিষয়ে বিএনপির উদ্দেশে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, রাজনীতির নামে মানুষ ও গাড়ি পোড়ানো হচ্ছে। এছাড়া রেললাইন কেটে ফেলা হচ্ছে ও ট্রেনে অগ্নিসংযোগ করা হচ্ছে। এগুলো কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নয়, এগুলো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড।

রোববার (১৭ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর কাকরাইলে তথ্য ভবন মিলনায়তনে চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর (ডিএফপি) আয়োজিত ‘বিজয়ের ৫২ বছর’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাজনীতির নামে এই সন্ত্রাস আমাদের উন্নয়ন অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করেছে এবং করছে। সুতরাং দেশকে যদি স্বপ্নের ঠিকানায় নিয়ে যেতে হয় তাহলে রাজনীতির নামে এই সন্ত্রাস চিরদিনের জন্য বন্ধ করতে হবে। আমরা সেটি বন্ধ করতে বদ্ধপরিকর। সুতরাং আজকে বিজয় দিবসে আমাদের সবার শপথ হওয়া প্রয়োজন এই নেতিবাচক ও ধ্বংসাত্মক রাজনীতিকে চিরতরে দেশ থেকে নির্মূল করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা অর্থনৈতিকভাবে এখন আর দারিদ্র্য নই, তবু অনেকের চেয়ে পিছিয়ে। কিন্তু সামাজিক ও পারিবারিক বন্ধন ও মূল্যবোধে আমরা অনেকের চেয়ে এগিয়ে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটি সামাজিক রাষ্ট্র গঠন করার লক্ষ্যেই বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, স্বামী পরিত্যক্তা ভাতা ও দারিদ্র্য জনগোষ্ঠীর জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতাসহ নানা ধরনের ভাতা চালু করেছেন। এভাবে দেশকে আমরা একটি মানবিক, সামাজিক কল্যাণ রাষ্ট্রে রূপান্তর করতে চাই, যেখানে সমস্ত আর্ত-পীড়িত ও দারিদ্র্যদের দায়িত্ব রাষ্ট্র গ্রহণ করবে।

হাছান মাহমুদ বলেন, আজকে বাংলাদেশ সমস্ত প্রতিকূলতাকে পেছনে ফেলে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে চলছে। এখন জিডিপিতে আমরা বিশ্বের ৩৫তম আর পিপিপিতে ৩১তম অর্থনীতির দেশ। ২০৩০ সাল নাগাদ বাংলাদেশ ২৫ কিংবা ২৭তম অর্থনীতির দেশে রূপান্তরিত হবে। এই উন্নয়ন অগ্রগতি আমরা আরও বহুদূর এগিয়ে নিতে পারতাম যদি দেশে ধ্বংসাত্মক, নেতিবাচক ও গুজব ছড়ানোর রাজনীতি না থাকত। কারণ এগুলো দেশের অগ্রগতিকে শ্লথ করেছে।

মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। ডিএফপির মহাপরিচালক স. ম. গোলাম কিবরিয়ার সভাপতিত্বে অতিরিক্ত সচিব মো. ফারুক আহমেদ, বিটিভির মহাপরিচালক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম, প্রেস ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ ও গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. নিজামূল কবীর আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ডিএফপি নির্মিত ‘অপরাজেয় বাংলাদেশ’ গীতিনাট্য চলচ্ছবি প্রদর্শন ও আলোচনা শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

এর আগে, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের পুরোনো ভবনের দুইটি তলা সংস্কার করে একটি শ্যুটিং ফ্লোর এবং ভবনের সামনে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতাভিত্তিক আলোকচিত্র প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন সিনিয়র সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার।

কুমিল্লা-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু জাহেরকে জরিমানা

উপজেলা প্রতিনিধি:

কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু জাহেরকে আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় জরিমানা করা হয়েছে। রোববার ভ্রাম্যমাণ আদালত এ জরিমানা আদায় করেন।

জানা গেছে, রোববার বুড়িচং উপজেলার ভারেল্লা দক্ষিণ ইউনিয়ন ইসলামপুর এলাকায় আবু জাহেরের পক্ষে রঙিন ব্যানার টানিয়ে নির্বাচনি প্রচারণা চালানোয় ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে প্রার্থীর সমর্থক মো. আবির হোসেনকে (৩০) পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। রঙিন ব্যানারটি অপসারণ করা হয়েছে। এ কাজে সহযোগিতা করে বুড়িচং থানা পুলিশের একটি দল।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ছামিউল ইসলাম। তিনি জানায়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আচরণ বিধিমালা প্রতিপালনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

থার্টিফার্স্ট নাইটে মাঠ পর্যায়ে নিরাপত্তায় কড়া বার্তা আইজিপির

ডেস্ক রিপোর্ট:

খ্রিস্টান ধর্মের প্রধান ধর্মীয় উৎসব বড়দিন এবং থার্টিফার্স্ট নাইট উপলক্ষ্যে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করতে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।

রোববার (১৭ ডিসেম্বর) সকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের হল অব প্রাইডে বড়দিন এবং থার্টিফার্স্ট নাইট উপলক্ষ্যে নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সংক্রান্ত সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন।

র‍্যাব মহাপরিচালক এম খুরশীদ হোসেন, সব মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার পুলিশ সুপাররা ভার্চুয়ালি সভায় যুক্ত ছিলেন।

আইজিপি খ্রিস্টান কমিউনিটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রেখে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।

চার্চে সার্বক্ষণিক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি স্থাপনের জন্য খ্রিষ্টান ধর্মীয় নেতাদের প্রতি অনুরোধ জানান আইজিপি। তিনি বলেন, কেউ নাশকতার চেষ্টা করলে আপনারা তাকে ধরে ফেলবেন। আর ধরতে না পারলে চিনে রাখবেন, পুলিশ তাদের আটক করবে। তিনি প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগেরও অনুরোধ জানান।

আইজিপি ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টার পর ঢাকা মহানগরীসহ সারা দেশে উন্মুক্ত স্থানে কোনো ধরনের অনুষ্ঠান আয়োজন না করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

পুলিশ প্রধান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর পোস্ট, মন্তব্য বা ছবি আপলোড করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের সুযোগ গ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে সাইবার মনিটরিং ও পেট্রোলিং বৃদ্ধি ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

তিনি কক্সবাজারসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকায় সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশকে বিশেষ নির্দেশনা দেন।

সভায় থার্টিফার্স্ট নাইট এবং ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষ্যে পটকা, আতশবাজিসহ ফানুস ওড়ানো থেকে বিরত থাকার জন্য সবার প্রতি অনুরোধ জানানো হয়।

খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের বড়দিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে আইজিপি বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অতীতের ন্যায় এবারও বড়দিন আনন্দ ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হবে।

সভায় অতিরিক্ত আইজিপি মো. কামরুল আহসান, স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত আইজিপি মো. মনিরুল ইসলাম, এটিইউর অতিরিক্ত আইজিপি এস এম রুহুল আমিন, অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. আতিকুল ইসলাম, পিবিআইয়ের অতিরিক্ত আইজিপি বনজ কুমার মজুমদার, ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট নির্মল রোজারিও, যুগ্ম মহাসচিব জেমস সুব্রত হাজরা ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক থিওফিল রোজারিও এবং খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক উইলিয়াম প্রলয় সমদ্দার এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় মাহিকে কঠোরভাবে সতর্ক করলেন আদালত

ডেস্ক রিপোর্ট:

রাজশাহী-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহিকে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন আদালত।

রোববার নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান রাজশাহীর যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মো. আবু সাঈদের আদালতে কারণ দর্শানোর নোটিশের শুনানি শেষে মাহিয়া মাহি নিজেই বিষয়টি জানিয়েছেন।

মাহি বলেন, প্রতীক বরাদ্দের আগেই আমি ভোটারদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছি, দোয়া চেয়েছি। এটিও একটি আচরণবিধি লঙ্ঘনের মধ্যে পড়ে। আমি এর জন্য আদালতকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ করেছি। তারা আমাকে কঠোরভাবে সতর্ক করেছেন যে, পরবর্তী সময়ে যাতে এ রকম না হয়। আমি এটা মেনে চলব।

মাহি আরও বলেন, উনারা (নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটি) আসলে সবার জন্যই সমান। এই আসনের বর্তমান যিনি এমপি, তাকেও শোকজ করা হয়েছিল।

কোন প্রতীকে নির্বাচনে লড়বেন—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মাহি বলেন, ‘পছন্দের প্রতীক এখনো বলতে চাই না। আগামীকাল প্রতীক বরাদ্দ হবে। কালই ঠিক হবে আমি কোন প্রতীকটা পাচ্ছি। এর পরেই প্রচার-প্রচারণা। প্রচারণা তো সেই রকমভাবেই করতে হবে। বড় বড় দুটি উপজেলা। মাঠপর্যায়ে আমার অবস্থান খুব ভালো। আপনারা খোঁজ নিলেই জানতে পারবেন। বাকিটা আল্লাহ ভরসা।’

ভোটের মাঠে এসে কোনো বাধা পাওয়া যাচ্ছে কিনা, জানতে চাইলে ঢাকাই সিনেমার এ নায়িকা বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমাকে কোনো ধরনের হুমকি দেওয়া হয়নি। সরে যাওয়ার কথাও বলা হয়নি।

নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, বিষয়টি আসলে তখন বোঝা যাবে। সরাসরি এখনো কোনো হুমকি আসেনি। প্রচারণার মাঠে গিয়ে আসলে কতটুকু প্রবলেম ফেস করি, সেটি আপনাদের সবাইকে (সাংবাদিকদের) জানাব এবং সহযোগিতা চাইব। যদি দেখি যে আমার কর্মীরা রিস্ক ফিল করছে, তা হলে অবশ্যই আপনারা সাপোর্ট করবেন এবং সেটি দেশবাসীকে জানাবেন।

শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়ে মাহি বলেন, নির্বাচনের মাঠ ছেড়ে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। আমি আগামী নির্বাচন পর্যন্ত যদি বেঁচে থাকি, শেষ পর্যন্ত লড়ব।’

এর আগে শোকজ নোটিশের জবাব দিতে বেলা সাড়ে ১১টায় আদালতে আসেন মাহিয়া মাহি। দুপুর ১২টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত শুনানি চলে। শুনানিতে আদালত মাহির বক্তব্যে সন্তোষ প্রকাশ করে তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন। তবে তাকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়।

আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি নাইকো দুর্নীতি মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ

ডেস্ক রিপোর্ট:

নাইকো দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ আটজনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন আদালত।

রোববার (১৭ ডিসেম্বর) কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থাপিত অস্থায়ী ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৯ এর বিচারক শেখ হাফিজুর রহমানের আদালতে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ছিল। এ দিন খালেদা জিয়া অসুস্থ থাকায় আদালতে হাজির হতে পারেননি। তার পক্ষে আইনজীবী জিয়া উদ্দিন জিয়া হাজিরা দেন। এছাড়া মামলার অন্যতম আসামি সেলিম ভূঁইয়ার পক্ষে সময়ের আবেদন করা হয়। আদালত আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী দিন ধার্য করেন।

খালেদা জিয়ার আইনজীবী হান্নান ভূঁইয়া বিষয়টি জানিয়েছেন।

এর আগে গত ১৯ মার্চ একই আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।

২০০৭ সালে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে নাইকো দুর্নীতি মামলাটি দায়ের করে দুদক। দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম বাদী হয়ে রাজধানীর তেজগাঁও থানায় মামলাটি করেছিলেন। ২০০৮ সালের ৫ মে খালেদা জিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে দুদক আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।

বাকিরা হলেন– বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, সাবেক জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এ কে এম মোশাররফ হোসেন, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সচিব খন্দকার শহীদুল ইসলাম, সাবেক সিনিয়র সহকারী সচিব সি এম ইউছুফ হোসাইন, বাপেক্সের সাবেক মহাব্যবস্থাপক মীর ময়নুল হক, বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান, ব্যবসায়ী গিয়াস উদ্দিন আল মামুন, ইন্টারন্যাশনাল ট্রাভেল কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান সেলিম ভূঁইয়া ও নাইকোর দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট কাশেম শরীফ।

এর মধ্যে এ কে এম মোশাররফ হোসেন ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বাপেক্সের সাবেক সচিব মো. শফিউর রহমান মারা যাওয়ায় মামলা থেকে তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

দুদকের অভিযোগপত্রে বলা হয়, ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে সরকারে থাকাকালে খালেদা জিয়াসহ বেশ কয়েকজন ক্ষমতার অপব্যবহার করে কানাডার কোম্পানিটিকে অবৈধভাবে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের সুবিধা পাইয়ে দেন। অভিযোগপত্রে আসামিদের বিরুদ্ধে প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৭ কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ আনা হয়।

জাপাকে ২৬ ও অন্য শরিকদের ৬টি আসন ছাড় দিল আওয়ামী লীগ

ডেস্ক রিপোর্ট:

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির (জাপা) জন্য ২৬টি এবং ১৪ দলীয় জোটের অন্য শরিকদের জন্য ৬টি সংসদীয় আসন ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ।

রোববার (১৭ ডিসেম্বর) নির্বাচন কমিশনে (ইসি) গিয়ে সাংবাদিকদের এ কথা জানান আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া।

তিনি জানিয়েছেন, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৬১টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এছাড়া জাপা ২৬টি এবং শরিকদের জন্য ৬টি আসন ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

জাপার সঙ্গে সমঝোতা হওয়া আসনগুলো হলো- ঠাকুরগাঁও-৩, নীলফামারী-৩ ও ৪, রংপুর-১ ও ৩, কুড়িগ্রাম-১ ও ২, গাইবান্ধা-১ ও ২, বগুড়া-২ ও ৩, সাতক্ষীরা-২, পটুয়াখালী-১, বরিশাল-৩, পিরোজপুর-৩, ময়মনসিংহ-৫ ও ৮, কিশোরগঞ্জ-৩, মানিকগঞ্জ-১, ঢাকা-১৮, হবিগঞ্জ-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২, ফেনী-৩, চট্টগ্রাম-৫ ও ৮, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন। এই আসনগুলোতে দলীয় কোনো প্রার্থী দেবে না আওয়ামী লীগ।

অন্যদিকে ১৪ দলীয় জোটের অন্য শরিকদের সঙ্গে সমঝোতা হওয়া আসনগুলো হলো- বগুড়া ৪, রাজশাহী ২, কুষ্টিয়া ২, বরিশাল-২, পিরোজপুর-২ ও লক্ষ্মীপুর-৪। এসব আসনেও দলীয় প্রার্থী দেবে না আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগ ২৬১টি, জাপা ২৬টি এবং জোট শরিকদের ৬টি আসন মিলে হয় ২৯৩টি আসন। তবে ৩০০ আসনের মধ্যে বাকি ৭টি আসনে কারা প্রার্থী হচ্ছেন, সে বিষয়ে কিছু জানাননি বিপ্লব বড়ুয়া।

দেবিদ্বারে কাভার্ডভ্যানের চাপায় প্রাণ গেল মোটরসাইকেল চালকের

দেবিদ্বার প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার দেবিদ্বারে কাভার্ডভ্যান ও মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে মোঃ নজরুল ইসলাম (৫৫) নামের মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছেন।

রোবাবার (১৭ ডিসেম্বর) কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে দেবিদ্বার পৌর এলাকার বারেরা মহিলা মাদ্রাসার পূর্ব পাশে এ দূর্ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনায় নিহত মোটর সাইকেল চালক নজরুল ইসলাম (৫৫) দেবিদ্বার উপজেলার শিবনগর গ্রামের মৃত জহিরুল ইসলাম (ঝাড়ু ড্রাইভার) এর বড় ছেলে। তিনি পেশায় রড- সিমেন্ট ব্যবসায়ী ছিলেন।

পুলিশ ও নিহতের ছোট ভাই মনির আহমেদ জানান, প্রচন্ড কুয়াশাচ্ছন্ন থাকায় দেবিদ্বার পৌর এলাকার বারেরা মহিলা মাদ্রাসার সামনে কুমিল্লাগামী কাভার্ড ভ্যান ও দেবিদ্বারগামী মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে ওই দূর্ঘটনা ঘটে এবং মোটরসাইকেল চালক ঘটনাস্থলে নিহত হন।

রোববার ভোরে নজরুল ইসলাম দেবিদ্বার দিনমজুর হাটে আসেন। এখানে পছন্দের দিনমজুর না পাওয়ায়, ময়নামতি শ্রমিক হাট থেকে ২ শ্রমিককে বাসে তুলে দিয়ে তাদের দেবিদ্বার থানা গেইটের সামনে অবস্থান করতে বলেন। নজরুল ইসলাম মোটর সাইকেলে আসার পথে ওই দূর্ঘটনায় নিহত হন। নিহত নজরুল ইসলাম পারিবারিক ভাবে ২ মেয়ে ২ ছেলে সন্তানের জনক ছিলেন।

এ ব্যপারে মীরপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ মঞ্জুর আফসার দূর্ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ওই ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন। দূর্ঘটনায় কবলিত পিকাপভ্যান ও মোটর সাইকেলটি জব্ধ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ কোনো ভীতু দেশ নয় : এম জে আকবর

ডেস্ক রিপোর্ট:

ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর (বামে) ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন (ডানে)

ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম জে আকবর বলেছেন, ‘বাংলাদেশ কোনো ভীতু দেশ নয়। এখানে ভয় দেখালেই কোনো কাজ হবে না।’

আজ রবিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ কথা বলেন। রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক সেমিনারে আলোচনায় অংশ নেন এম জে আকবর।

সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন তিনি।
‘দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে পশ্চিমা দেশগুলো বাংলাদেশকে নিষেধাজ্ঞার ভয় দেখাচ্ছে। বিভিন্নভাবে চাপে রাখছে।’

এ বিষয়ে সাংবাদিকরা মন্তব্য জানতে চাইলে এম জে আকবর বলেন, ‘যারা ভয় দেখাচ্ছে তারা ভুলে যাচ্ছে, বাংলাদেশ কোনো ভীতু দেশ নয়। এখানে ভয় দেখালেই কোনো কাজ হবে না।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বে দিচ্ছেন। ৭৫ পরবর্তী স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে যে সাহসী ভূমিকা রেখেছেন, সেজন্য তাকে সম্মান জানানো, আর এ বিষয়ে উদযাপন করা উচিত।’

এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন উপস্থিত ছিলেন।

‘রাশিয়া অভিযোগ করেছে, বাংলাদেশের নির্বাচন সামনে রেখে এখানে যুক্তরাষ্ট্র আরব বসন্ত ঘটানোর চেষ্টা করছে।’

এ নিয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বলেন, ‘এটা তাদের (রাশিয়া) কাছে বলেন, আমরা এ বিষয়ে জানি না। আমরা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে বদ্ধপরিকর।’

নির্বাচন দেখতে চান ২২৭ বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক

ডেস্ক রিপোর্ট:

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেখতে চান ২২৭ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক। তাদের আবেদনগুলো পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনাপত্তি সাপেক্ষে অনুমোদন দেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

ভোট আয়োজনকারী সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশ, সংস্থা ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম থেকে আবেদন নেওয়ার সময় শেষ হয়েছে। এক্ষেত্রে ১৫৬ জন পর্যবেক্ষক ও ৭১ জন সাংবাদিক আবেদন করেছেন।

এ ছাড়া নির্বাচন কমিশন চারটি সংস্থা ও ৩৪টি দেশের নির্বাচন কমিশনের ১১৪ জনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এদের বিমান ভাড়া ছাড়া সব স্থানীয় ব্যয় বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন বহন করবে।

ইতোমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, তাদের একটি কারিগরি বিশেষজ্ঞ টিম ভোট পর্যবেক্ষণ করবে। এ টিমের চার সদস্য বাংলাদেশে চলেও এসেছেন। কমনওয়েলথ, যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউটও ভোট পর্যবেক্ষণ করতে চায়।

ইসির জনসংযোগ শাখার পরিচালক মো. শরিফুল আলম জানিয়েছেন, থাইল্যান্ড, নেপাল, ভারত, ব্রিটেন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, সুইডেন, ডাচ, ইরাক, ফিলিস্তিন, জর্জিয়া, উগান্ডা, নরওয়ে, বুলগেরিয়া, কংগো থেকে ভোট পর্যবেক্ষণের আবেদন এসেছে।

এ ছাড়া এএফপি, এনডিটিভি, নিউইয়র্ক, টাইমস, রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটস প্রেস ইন্ডিয়া, জিজি প্রেস-জাপান, সুইডিশ রেডিও, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দি ন্যাশনাল, জাপানের দি ইয়োমিউরি শিমবুন, জুঙ্গি ফেইহেইট সংবাদমাধ্যমগুলো থেকে সাংবাদিকরা ভোটের খবর নিতে আসতে চান। একজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকও আবেদন করেছেন।

অন্যদিকে ভারত, ভুটান, মালদ্বীপ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, ফ্রান্স, জর্জিয়া, ইন্দোনেশিয়া, কাজাখস্তান, রাশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, মিশর, তুরস্ক, উজবেকিস্তান, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, সেনেগাল, থাইল্যান্ড, আজারবাইজান, মালয়েশিয়া, মরিশাস, তিউনিশিয়া, ব্রুনাই, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, ওমান, কুয়েত, সৌদি আরব, চীন, জাপান ও সিঙ্গাপুরের নির্বাচন কমিশনকে ভোট দেখার আমন্ত্রণ জানিয়েছে ইসি। আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে সার্ক এবং ওআইসি মহাসচিব, ফেম্বোসা ও এ-ওয়েব চেয়ারপারসনকেও।

ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ জানিয়েছেন, বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের আবেদন পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে যাচাই হয়ে এলে তার ভিত্তিতে অনুমোদন দেবে কমিশন। সে অনুযায়ী তারা ভিসা পাবেন।

বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ভিসা দেওয়াসহ অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার জন্য করণীয় নির্ধারণে রোববার (১৭ ডিসেম্বর) বিকেলে নির্বাচন ভবনে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক ডেকেছে ইসি। অশোক কুমার দেবনাথের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জননিরাপত্তা বিভাগ ও সুরক্ষা সেবা বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, তথ্য অধিদফতর, এনএসআই ও ডিজিএফআইয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।

এ দিকে ৯৬টি দেশি পর্যবেক্ষক সংস্থার ভোট পর্যবেক্ষণে আবেদনের সময় সীমাও শেষ হয়েছে ১৬ ডিসেম্বর। তাদের আবেদনগুলোও যাচাই-বাছাই শেষে শিগগিরই অনুমোদন দেবে ইসি।

আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বর্তমানে চলছে প্রার্থী চূড়ান্তকরণের কার্যক্রম। সোমবার (১৮ ডিসেম্বর) হবে প্রতীক বরাদ্দ। ৫ ডিসেম্বর সকাল ৮টা পর্যন্ত প্রচার চালাতে পারবেন প্রার্থীরা।

ভোটের মাঠে থাকবে সেনাবাহিনী, অনুমোদন দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি

ডেস্ক রিপোর্ট:

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে সারা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেনা মোতায়েনের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন।

তবে কবে থেকে সেনা মোতায়েন হবে তা আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব।

রোববার (১৭ ডিসেম্বর) সকালে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল ও ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম। এ সময় তিনি এ অনুমোদন দেন বলে জানিয়েছেন ইসি সচিব।

এরইমধ্যে সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি অনুমতি দিলে আগামী ২৯ ডিসেম্বর থেকে ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৩ দিনের জন্য তারা ভোটের দায়িত্ব পালন করবেন।

তফসিল অনুযায়ী, আজ ১৭ ডিসেম্বর নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়। চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে ১৮ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ করা হবে। প্রতীক নিয়েই প্রার্থীরা ৫ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত ভোটের প্রচার চালাতে পারবেন। আর ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ।