All posts by jitu

স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে পণ্য ও সেবার জন্য আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ অপরিহার্য: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে সবার জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে পণ্য ও সেবার জন্য আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করা অপরিহার্য। ডিজিটাল প্রযুক্তি এখানে প্রণিধানযোগ্য।

আগামীকাল ‘বিশ্ব মান দিবস’ উপলক্ষে আজ শুক্রবার এক বাণীতে তিনি বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশের জাতীয় মান সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) উদ্যোগে ১৪ অক্টোবর ২০২৩ ‘বিশ্ব মান দিবস’ পালিত হতে যাচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত।

প্রধানমন্ত্রী জানান, এবারের বিশ্ব মান দিবসে গত বছরের প্রতিপাদ্য ‘সমন্বিত উদ্যোগে টেকসই উন্নত বিশ্ব-বিনির্মাণে মান’ বহাল রাখা হয়েছে। জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজির প্রেক্ষাপটে প্রতিপাদ্যটি অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে আমি মনে করি।

তিনি জানায়, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন ছিল অর্থনৈতিক মুক্তি ও দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলা বিনির্মাণ। আওয়ামী লীগ সরকার জাতির পিতার সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

জাতির পিতার নেতৃত্ব ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ১৯৭৪ সালে তৎকালীন বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস ইনস্টিটিউশন (বিডিএসআই), আইএসওর এবং ১৯৭৫ সালে কোডেক্স অ্যালিমেন্টারিয়াস কমিশনের (সিএসি) সদস্যপদ লাভ করে।

পরবর্তীকালে বিএসটিআই আরো ৪টি আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থা- ইন্টারন্যাশনাল ব্যুরো অব ওয়েট অ্যান্ড মেজারস (বিআইপিএম), ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব লিগ্যাল মেট্রোলজি (ওআইএমএল) ও এশিয়া প্যাসিফিক মেট্রোলজি প্রোগ্রাম (এপিএমপি) এবং মান সংক্রান্ত সার্কভুক্ত আঞ্চলিক সংস্থা-সাউথ এশিয়ান রিজিওনাল স্ট্যান্ডার্ড অর্গানাইজেশনের (এসএআরএসও) সদস্যপদ অর্জন করে।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার জনগণের জন্য মানসম্মত খাদ্য ও পণ্য সরবরাহে বদ্ধপরিকর। মুক্ত বাজার অর্থনীতির যুগে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদনের কোনো বিকল্প নেই।

শিল্প খাতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করে পরিবেশবান্ধব ও রপ্তানিমুখী শিল্পায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে একটি টেকসই শিল্পসমৃদ্ধ দেশে রূপান্তর করতে কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

প্রধানমন্ত্রী সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশকে জাতির পিতার ক্ষুধা-দারিদ্র্যমুক্ত ও উন্নত-সমৃদ্ধ স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ তথা জ্ঞানভিত্তিক স্মার্ট বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলার আহবান জানান।

তিনি বিশ্ব মান দিবস-২০২৩ উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।

নির্বাচন নিয়ে কোনো কথা হয়নি : ড. শাম্মী আহমদ

নির্বাচন নিয়ে কোনো কথা হয়নি : ড. শাম্মী আহমদ

ডেস্ক রিপোর্ট:

ইউএস ইনস্টিটিউট ফর পিসের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমদ বলেছেন, আসন্ন নির্বাচন নিয়ে কোনো কথা হয়নি। তারা কোনো প্রশ্ন করেননি, আমরাও কোনো উত্তর দিইনি।

শুক্রবার আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

ড. শাম্মী আহমদ জানান, বাংলাদেশের ফরেন পলিসি এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এই উপমহাদেশের যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন, যা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও যাচ্ছে এসব বিষয়ে বাংলাদেশের কী ভূমিকা, আওয়ামী লীগ কী চিন্তা করছে– এগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের এই নেত্রী জানায়, তারা জানতে চেয়েছে ইন্ডিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক কেমন? চায়নার সঙ্গে কেমন? উপমহাদেশের যে দেশগুলো আছে তাদের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কেমন? আমরা আমাদের বিষয়গুলো জানিয়েছি। বাংলাদেশে পররাষ্ট্রনীতি, আমাদের জাতির পিতা যেটা দিয়ে গেছেন, সকলের সাথে বন্ধুত্ব-কারো সাথে বৈরিতা নয়, সেটাই ফোকাস করা হয়েছে।

‘চায়না এবং বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে তারা জানতে চেয়েছে। তারা নিজেরাও স্বীকার করেছে, চায়না একটি ইকোনমিক পাওয়ার। চায়না আমাদের অর্থনৈতিক পার্টনার। তারা জানতে চাচ্ছে, ভারতের সাথে আমাদের সম্পর্ক কেমন। আমরা জানিয়েছি, ইন্ডিয়া আমাদের পরীক্ষিত বন্ধু। আমাদের দুর্দিনে ’৭১ সালে ভারত যেভাবে আমাদের পাশে ছিল, সেটাকে আমরা সম্মানের চোখেই দেখি।’

তিনি আরও বলেন, মিয়ানমার আমাদের ওপর ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা চাপিয়ে দিয়েছে। তারপরও আমরা মিয়ানমারের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছি। শুধু আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ নয়, গ্লোবাল ভিলেজে আমরা আলোচনার মাধ্যমে সবগুলো সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করি। অন্য কোনোভাবে আমরা করি না। পররাষ্ট্রনীতিকে আমরা ফলো করি। এই বিষয় নিয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে।

ড. শাম্মী আহমদ বলেন, তাদের আগ্রহ ছিল ইন্দো-চায়না রিলেশন নিয়ে। ইন্দো-প্যাসিফিক নিয়েও একটা ব্যাপার ছিল, একইসঙ্গে ইউরোপ, আমেরিকার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক বলেন, ভারতের হিন্দুত্ববাদ জাগরণ নিয়ে তারা একটা প্রশ্ন করেছে। আমরা উত্তর দিয়েছি, আমরা কারো ইন্টারনাল বিষয়ে হস্তক্ষেপ করি না। আমরা কারো ইন্টারন্যাল ব্যাপারে কথা বলি না। আমার অন্য দেশের মতবাদকে সম্মান দিই। ইন্ডিয়াতে কি হচ্ছে না হচ্ছে, চায়নাতে কি হচ্ছে না হচ্ছে– এটা তাদের দেশের জনগণের বিষয়। আমাদের দেখার বিষয় নয়।

এর আগে বিকেল ৪টার দিকে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কার্যালয়ে পৌঁছালে প্রতিনিধিদলকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব) মোহাম্মদ ফারুক খান।

প্রতিনিধিদলে ছিলেন– ইউএস ইনস্টিটিউট ফর পিসের (ইউএসআইপি) প্রতিনিধি জেফরি ম্যাগডোনাল্ড, ডেন মার্কি ও ইশা গুপ্তা। এছাড়া আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ড. ইনাম আহমেদসহ কেন্দ্রীয় নেতারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

মুক্তির ৩৫ দিনে ‘জওয়ান’ কত আয় করেছে?

মুক্তির ৩৫ দিনে ‘জওয়ান’ কত আয় করেছে?

ডেস্ক রিপোর্ট:

বলিউড বাদশার সিনেমা ‘জওয়ান’ মুক্তির ৩৫ দিন পার হয়েছে। তবে এটি নিয়ে দর্শকদের উন্মাদনা মোটেই কমেনি। বক্স অফিসে ৩৫তম দিনেও সিনেমাটি রেকর্ড ভেঙেছে।

শাহরুখ দীর্ঘদিন পর কামব্যাক করেও আগের মতোই সাফল্যের শীর্ষে রয়েছেন। সিনেমাটি ভারতে এরই মধ্যে ৬২৭. ০৫ কোটি রুপি আয় করেছে। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৮৩৬ কোটি টাকারও বেশি।

অন্যদিকে বিশ্বজুড়ে সিনেমাটি আয় করেছে ১১১৭.৩৯ কোটি রুপি। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ১৪৯১ কোটি টাকারও বেশি।

শাহরুখের এ অ্যাকশন থ্রিলারধর্মী সিনেমাটি মুক্তি পায় চলতি বছরের ৭ আগস্ট। শুরুতেই ‘পাঠান’ সিনেমার রেকর্ডও ভেঙে দেয় ‘জওয়ান’। বলিউডে এর আগে সবচেয়ে ওপেনিং করেছিল ‘পাঠান’। যা মূলত ৫৭ কোটি রুপি শুরুর দিন আয় করেছিল। ‘জওয়ান’ সেই রেকর্ড ভেঙে ওপেনিংয়েই হিন্দি-তামিল মিলিয়ে ৭৫ কোটির ঘরে পৌঁছে।

প্রথম দিনেই শুধু ভারতের মধ্যে হিন্দি ভাষায় সিনেমাটি ব্যবসা করেছে ৬৫ কোটি রুপি। কোনো হিন্দি সিনেমা এই রেকর্ড গড়তে পারেনি এতদিন। অন্য ভাষায় ডাবিং করে যেখানে যেখানে মুক্তি পেয়েছিল, তা থেকে আয় ৯ কোটি রুপি উঠে আসে। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে ৭৪ কোটি রুপি ব্যবসা হয় প্রথম দিনে।

‘জওয়ান’ সিনেমাটি নির্মাণ করেছেন অ্যাটলি। গৌরী খান ও গৌরব খান্না প্রযোজিত ‘রেড চিলিজ এন্টারটেনমেন্ট’ সিনেমাটি নিবেদন করেছে। ‘জওয়ান’ সিনেমার এ বিপুল আয়ের কথা ‘রেড চিলিজ’-এর সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ করা হয়েছে।

‘জওয়ান’ সিনেমায় প্রথমবার দ্বৈত চরিত্রে শাহরুখ খানকে দেখা গেছে। এর আগে শাহরুখের ‘পাঠান’ সিনেমার জন্য পুরো থিয়েটার বুক করে রেখেছিল কিং খানের ফ্যান ক্লাব।

‘পাঠান’ ও ‘জওয়ান’ সিনেমার ব্যাপক সাফল্যের পর শাহরুখ হয়ে উঠেছেন হিন্দি সিনেমার একমাত্র অভিনেতা যিনি একই বছরে দু-দুটি ‘টপ গ্রসিং’ সিনেমা দর্শকদের উপহার দিয়েছেন । অন্যদিকে চলতি বছরের বড়দিনেই মুক্তি পাচ্ছে শাহরুখ খানের ‘ডাঙ্কি’ সিনেমা। এটি হবে ২০২৩ সালে শাহরুখ খানের তৃতীয় সিনেমা।

সরকারের অধীনে নির্বাচনে দেশের জনগণের প্রয়োজন নেই : রিজভী

ডেস্ক রিপোর্ট:

বিএন‌পির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল ক‌বির রিজভী ব‌লে‌ন, আপনার (শেখ হাসিনা) অধীনে নির্বাচন কী সেটা আমরা জানি। সেই নির্বাচনে ভোটারের দরকার নেই, দেশের জনগণের দরকার নেই, বিরোধীদলেরও দরকার নেই।

শুক্রবার ঢাকা রি‌পোর্টার্স ইউ‌নি‌টি‌তে জিয়াউর রহমান আর্কাইভ আয়োজিত ফ্যাসিবাদ বি‌রোধী চিত্রকর্মশালা ও ক‌বিতা পাঠ অনুষ্ঠা‌নে তি‌নি এসব কথা ব‌লেন।

রিজভী জানান, এ রাষ্ট্র আর রাষ্ট্র নেই। শেখ হাসিনা এ রাষ্ট্রকে অধঃপতিত করেছেন, তার ভয়ংকর অত্যাচারিত শাসনের মধ্য দিয়ে। তিনি এখন কী করতে চান। তিনি কি ২০১৪ ও ১৮ নির্বাচনের মতো পুনরাবৃত্তি করবেন? তিনি জনগণের দাবি, শৃঙ্খলিত যে গণতন্ত্র , দম বন্ধ করা পরিস্থিতি থেকে মুক্ত হতে দিতে চান না। তিনি তার মন্ত্রীদেরকে দিয়ে বলাচ্ছেন পৃথিবীর সব দেশ ঠিক হয়ে গেছে। ঠিক হয়ে গেছে মানে আপনার অধীনে নির্বাচন? আর আপনার অধীনে নির্বাচন মানে ২০১৪-১৮ নির্বাচনের মতো। ২০১৪ নির্বাচনে ১৫৩টিতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল না। বাকিগুলোতে উপস্থিত ছিল ৫%। আর ২০১৮ নির্বাচন করেছেন রাতে। ভোর হওয়ার আগেই ব্যালট বক্স পূর্ণ হয়ে গেছে।

তিনি জানায়, জনগণের কথা, আন্তর্জাতিক শক্তির কথা কারো কথাই ঠিক না, আপনার কথাই ঠিক? কীসের জন্য? কীসের জন্য এটা তো আমরা বুঝি। পৃথিবীর প্রতিটি স্বৈরশাসক তাই করে। সব সময় তাই করেছে। ফ্লাইওভার, উড়াল সেতু, হাইওয়ে দেখেছে যাতে চোখে পড়ে। কিন্তু সেই দেশের মানুষ একটা ডিম কিনতে পারে না। মানুষের যে হাহাকার-অনাহার এগুলো তাদের চোখে পড়ে না।

তিনি বলেন,বর্তমান সময়ে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম লাগামহীনভাবে বাড়ছে। আগে তো নিম্নবিত্ত মানুষ কিনতে পারত না,এখন সেটা মধ্যবিত্ত পর্যন্ত চলে এসেছে। তারা পারছে না কারো কাছে হাত পাততে, পারছে না ভিক্ষা করতে। তাদের যে আয় সে আয় দিয়ে কোন কিছু কিনে খেতে পারছে না। একটি ডিম কিনতে যদি ১৭ টাকা লাগে তাহলে ফ্লাইওভার দেখিয়ে আপনি কী করবেন। পৃথিবীর সমস্ত ফ্যাসিস্টরাই এই ধরনের কাজ করেছে।

২০১৮ সালের নির্বাচনের একটি ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফরিদপুরের নগরকান্দায় আওয়ামী লীগের লোকেরা মাইকিং করে হুমকি দিয়েছে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের যে আপনারা ভোটকেন্দ্রে যাবেন না। তারা নৌকায়ও ভোট চাচ্ছে না। বিরোধী দলকে হুমকি দিচ্ছে যাতে ভোটকেন্দ্রে না যায়। কোনো নির্বাচনে প্রার্থী বা বিরোধী প্রার্থী থাকলে সেই প্রার্থীর পক্ষে মাইকিং করে বা পোস্টার ছাপায় কিন্তু আওয়ামী লীগের লোকজন সেই নির্বাচনে তাদের প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাচ্ছে না। তারা ভোটারদের এবং বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার জন্য মাইকিং করছে। তার কারণ শেখ হাসিনা কোন ভোট চান না।

তিনি জানান, শেখ হাসিনা ও তার নেতাকর্মীরা বলেন, আমরা সংবিধানের বাইরে যাব না। আপনারা কি সংবিধানের বাইরে যাননি? ১৯৯৬ সালে যে বিধ্বংসী আন্দোলন করেছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে তখন তো তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংবিধানে ছিল না। তখন আপনারা জ্বালাও পোড়াও করেছেন, তত্ত্বাবধায়ক এর দাবি তুলেছেন। তখন সব দল মিলে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠিত করা হলো। তাহলে আজ যাবেন না কেন? এক মুখে দুই কথা হয় কীভাবে? আজ দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে। যারা আপনার হালুয়া রুটি খেয়েছে তাদের ভিন্ন কথা।

আ‌য়োজক সংগঠনের সম্পাদক সঞ্জয় দে রিপ‌নের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠা‌নে আরও বক্তব্য রা‌খেন চিত্র শিল্পী ড. আব্দুস সাত্তার, বিএন‌পির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আহ‌মেদ উজ্জল, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. র‌ফিকুল ইসলাম. ঢাকা সাংবা‌দিক ইউ‌নিয়‌নের সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ খান প্রমুখ।

বিএনপির সময় শেষ, নির্বাচনে আসেন নইলে সব হারাবেন: ওবায়দুল কাদের

বিএনপির সময় শেষ, নির্বাচনে আসেন নইলে সব হারাবেন: ওবায়দুল কাদের

ডেস্ক রিপোর্ট:

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন আওয়ামী লীগের সময় শেষ। কিন্তু প্রকৃত হলো বিএনপি ও ফখরুলদের সময় শেষ। আপনার মাথা থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের চিন্তা বাদ দেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার মরে গিয়ে এখন ভূত হয়ে গেছে। এ ভূত মাথা থেকে নামান। এটা এখন কবরস্থানে শায়িত। নির্বাচনে আসেন। নইলে সব হারাবেন।

শুক্রবার বিকালে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের কাঁচপুরে সোনারগাঁও থানা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।

এ সময় ওবায়দুল কাদের জানান, বিএনপির সঙ্গে আর কোনো সমঝোতা হবে না। তোমরা (বিএনপি) জনগণের শত্রু। জনগণের শত্রুর সঙ্গে আওয়ামী লীগ কোনো সমঝোতা করবে না।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক জানায়, জো বাইডেনের দুটি সেলফিতে বিএনপির নেতাদের ঘুম হারাম হয়ে গেছে। ভারতে জি সম্মেলন ও আমেরিকাতে নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সেলফিতে সব পরিষ্কার হয়ে গেছে। তাই এখন বিএনপির জ্বালা। পদ্মা সেতু, চট্টগ্রামে টানেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, একদিনে শতাধিক সেতু উদ্বোধনে বিএনপির অন্তর্জ্বালা হয়ে গেছে।

দেশবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, অচিরেই তেল-চাল ও নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমে আসবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভুল বুঝবেন না। তার ওপর আস্থা রাখুন। তিনি দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাতে মাত্র ৩ ঘণ্টা ঘুমান। দেশ ও জনগণের কল্যাণে তিনি রাত-দিন কাজ করে যাচ্ছেন।

নারায়ণগঞ্জবাসীর উদ্দেশে সেতুমন্ত্রী বলেন, নারায়ণগঞ্জের মানুষ ভুল করবেন না। তিনি (প্রধানমন্ত্রী) এ নারায়ণগঞ্জকে অনেক দিয়েছেন। আশা করি, নারায়ণগঞ্জবাসী এর প্রতিদান দিবেন। আগামীতে আরও দিবেন। মির্জা ফখরুল বলেছেন ঢাকাকে অচল করে দিবে। আমরা বলতে চাই দেশের মানুষই আগামীতে বিএনপিকে অচল করে দিবে। এ নারায়ণগঞ্জই যথেষ্ট বিএনপিকে রুখে দিতে।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, এখন কোয়ার্টার ফাইনাল, সামনে সেমিফাইনাল, ফাইনাল হবে জানুয়ারিতে। এবার খেলা হবে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে, ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল হাই। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, ঢাকা বিভাগীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম এমপি, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের এমপি নজরুল ইসলাম বাবু, যুবলীগের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সামসুল ইসলাম ভূঁইয়া, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল কায়সার, সোনারগাঁও উপজেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মাসুদুর রহমান মাসুম, স্বাচিপের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আবু জাফর চৌধুরী বিরু, আওয়ামী লীগ নেতা এরফান হোসেন দীপ, মারুফুল ইসলাম ঝলক প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের হাজার হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

দেশে উন্নয়নের কারণে আমরা উন্নত জীবন যাপন করতে পারছি: শিক্ষামন্ত্রী

দেশে উন্নয়নের কারণে আমরা উন্নত জীবন যাপন করতে পারছি: শিক্ষামন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, দেশের সব ক্ষেত্রে উন্নয়নের কারণে আমরা উন্নত জীবন যাপন করতে পারছি। পরবর্তী প্রজন্মের জন্য আরও উন্নত দেশ গড়ার জন্য শেখ হাসিনা সরকার প্রয়োজন। সামনে যে নির্বাচন সে নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু করার জন্য সাংবিধানিক আইন অনুসরণ করছে সরকার। বিভিন্ন জরিপে উঠে এসেছে দেশের ৭০ ভাগ মানুষের আস্থা শেখ হাসিনার ওপর। এর কারণ হাচ্ছে এ সরকার জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা বাস্তবায়ন করেছেন। অনেক ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতির বেশিও কাজ করেছেন।

চাঁদপুর প্রেস ক্লাবে শুক্রবার দুপুরে এক সাংবাদিক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের সাংবাদিকদের কল্যাণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কাজ করেছেন। বর্তমান তার সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট করে দিয়েছেন। দেশের কল্যাণমূলক কাজের জন্য শেখ হাসিনা সরকারের ধারাবাহিকতা দরকার। দেশের উল্লেখযোগ্য ও বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প বর্তমান সরকার করেছেন। শেখ হাসিনা আমাদের স্বপ্ন দেখিয়েছেন এবং তা বাস্তবায়ন করেছেন। পরবর্তীতে উন্নয়নের মধ্যে মেঘা প্রকল্প হবে শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, চাঁদপুরের সাংবাদিকদের ইতিহাস অনেক পুরোনো এবং সমৃদ্ধ। এখান থেকে প্রকাশিত অনেকগুলো পত্রিকা শুরু থেকে তাদের মান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। তবে অনেকে পত্রিকায় চটকদার হেডলাইন ব্যবহার করলেও ভেতরে তথ্যবহুল কিছুই পাওয়া যায় না। সাংবাদিকতায় বস্তুনিষ্ঠতা অনুসরণ করবেন। আমরা যারা রাজনীতি করি তারা অনেক সময় হেডলাইন হয়ে যাই। কিন্তু যখন অকারণে হেডলাইন হই তখন খুবই দুঃখ পাই। আশা করি আপনারা এ বিষয়ে আরও সচেষ্ট হবেন।

দীপু মনি বলেন, সাংবাদিকতার জগতের সঙ্গে আমার সম্পর্ক অনেক দিনের। কারণ আমার পিতার হাত ধরেই অনেক বড় মাপের সাংবাদিক তৈরি হয়েছে। চাঁদপুর প্রেস ক্লাব আমাকে আজীবন সদস্য করে সম্মানিত করেছেন। তাদের সঙ্গে থাকার সুযোগ করে দিয়েছেন। বর্তমানে সাংবাদিকতা অনেক বিস্তৃত। শুধুমাত্র সংবাদপত্রেই সীমাবদ্ধ নেই। অনলাইন ও ইলিকট্রনিক্স মিডিয়া অনেক এগিয়েছে। কিন্তু বিস্তৃত হওয়ার পাশাপাশি সংবাদ উপস্থাপনের মান বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।

সমাবেশে উদ্বোধকের বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম।

জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি এ এইচ এম আহসান উল্লাহর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) মাহবুবুর রহমান সুমনের সঞ্চালনায় সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্য দেন এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক মো. শাহাবুদ্দিন অনু।

অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন- জেলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি বিএম হান্নান, শরীফ চৌধুরী, গিয়াস উদ্দিন মিলন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রহিম বাদশা, লক্ষ্মণ চন্দ্র সূত্রধর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন শান্ত ও সাংগঠনিক সম্পাদক কাদের পলাশ।

ইসরাইল থেকে দেশে ফিরলেন ২০০ ভারতীয় নাগরিক

ইসরাইল থেকে দেশে ফিরলেন ২০০ ভারতীয় নাগরিক

ডেস্ক রিপোর্ট:

ইসরাইল থেকে একটি চার্টার্ড প্লেনে করে ২০০ ভারতীয় নাগরিক দেশে ফিরেছেন।

শুক্রবার সকালে তারা নয়াদিল্লিতে অবতরণ করেন বলে জানা যায়।

সম্প্রতি হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে চলমান সংঘাতের মাঝে দেশে ফিরে আসতে ইচ্ছুক ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে নয়াদিল্লি ‘অপারেশন অজয়’ নামে একটি উদ্যোগ শুরু করেছে।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজিব চন্দ্রশেখর দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইসরাইল-ফেরত নাগরিকদের স্বাগত জানান। তাদের ফিরে আসা নিয়ে এক্সে বার্তা দেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

উচ্চশিক্ষা নিতে ইসরাইলে গিয়েছিলেন শুভাম কুমার। তিনি জানান, ‘আমরা দেশের (ভারতের) কাছে কৃতজ্ঞ। বেশিরভাগ শিক্ষার্থী আতংকের মাঝে দিন কাটাচ্ছিলেন। আমরা ভারতের দূতাবাসের কাছ থেকে বার্তা পাই, যা আমাদের মনোবল বাড়ায়। আমাদের মনে হয়, দূতাবাস আমাদের পাশেই আছে, যা স্বস্তিদায়ক।’

ধারণা করা হয়, ইসরাইলে ১৮ হাজার ভারতীয় নাগরিক অবস্থান করছেন। পশ্চিমতীরে প্রায় ১২ জন ও গাজায় ৩-৪ জন ভারতীয় অবস্থান করছেন বলেও জানা যায়।

"ঘোষণা ছাড়াই নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল: ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থী-অভিভাবকরা"

“ঘোষণা ছাড়াই নিয়োগ পরীক্ষা বাতিল: ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থী-অভিভাবকরা”

ডেস্ক রিপোর্ট:

সিদ্ধেশ্বরী কলেজের মূল ফটকের সামনে মহিলা অধিদপ্তরের ডে কেয়ার ইনচার্জের নিয়োগ পরীক্ষা ঘোষণা ছাড়াই বাতিল করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অভিভাবক ও পরীক্ষার্থীরা।

এক পরীক্ষার্থী দাবি করেন, ‘কেন হঠাৎ করে পরীক্ষা বাতিল (স্থগিত) করা হলো? আমাদেরকে জানাতে হবে। অধিদপ্তরের লোক এসে কারণ জানাতে হবে।’

আরেক পরীক্ষার্থী জানান, ‘আমরা গতকাল (বৃহস্পতিবার) জার্নি করে এসেছি। সারাদিন খাওয়াদাওয়া নেই। এখন আমাদেরকে বলা হচ্ছে পরীক্ষা স্থগিত। এটা অবশ্যই অব্যবস্থাপনা।’

এ সময় পরীক্ষার্থী প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ প্রার্থনা করে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের আবেদন। আপনি বিষয়টি দেখুন। দুর্নীতির কারণেই এই অব্যবস্থাপনা।

কুমিল্লার চান্দিনা থেকে মেয়ে পরীক্ষা দিতে নিয়ে আসা একজন অভিভাবক জানায়, ‘পরীক্ষার আধা ঘণ্টা আগে আমি মেয়েকে নিয়ে এসেছি। এসে শুনছি, পরীক্ষা বন্ধ (স্থগিত)। সারা বাংলাদেশ থেকেই পরীক্ষার্থীরা আসছে। আমরা এত কষ্ট করে ছেলেমেয়েদের টাকাপয়সা দেই। এই অবস্থার জন্য?’

পাবনা থেকে আসা আরেক অভিভাবক জানান, ‘(সকাল) ১০টার দিকে মেয়েকে নিয়ে এসেছি। সাড়ে ১০টার সময় আমাদের বলা হলো যে পরীক্ষা হবে না।’

রাস্তা অবরোধের একপর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরীক্ষার্থীদের রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন।

উল্লেখ্য, সিদ্ধেশ্বরী কলেজের মূল ফটকের সামনে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকরা রাস্তা অবরোধ করেন। এ ঘটনায় ওই রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

অর্থপাচারে দেশের অর্থনীতি ফোকলা হয়ে গেছে: মির্জা ফখরুল

অর্থপাচারে দেশের অর্থনীতি ফোকলা হয়ে গেছে: মির্জা ফখরুল

ডেস্ক রিপোর্ট:

ব্যাংকিং খাতে চরম অব্যবস্থাপনা, লাগামহীন দুর্নীতি, অর্থপাচারে দেশের অর্থনীতি ‘ফোকলা’ বা ‘ফাঁপা’ হয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শুক্রবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে বিগত ১৫ বছরের অর্থনীতির অবস্থা তুলে ধরে তিনি এ অভিযোগ করেন। গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন হয়।

মির্জা ফখরুল জানান, এটা একদম পুরোপুরি একটা হলফ, ফাঁপা একটা বিষয়। অর্থনীতি ফোকলা হয়ে গেছে। প্রকৃতপক্ষে পুরো সম্পদ তারা লুট করে নিয়ে চলে গেছে। সেই সম্পদ বিদেশে নিয়েছে। বিভিন্ন পত্রিকা ও অন্যান্য নির্ভরযোগ্য সূত্র মারফত আমাদের জানামতে, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৩ সালের ১২ অক্টোবর পর্যন্ত ব্যাংকিং ও অন্যান্য খাত থেকে প্রায় ৯০ হাজার কোটি টাকা লুট করেছে, একেবারে লুট।

তিনি জানায়, এখানে এই লোকগুলোর (ক্ষমতাসীনদের) কোনো নতুন বিনিয়োগ নেই, কোনো নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়নি। যার ফলে দারিদ্র্য দারিদ্র্যই থেকে যাচ্ছে এবং মানুষের যে আয়ের ফারাকটা, বৈষ্যমটা যেটা সেটা দিনে দিনে বাড়ছে। এমন একটা জায়গায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে যে, এখন একটা পয়েন্ট অব রিটার্নে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। সিপিডি বলছে, এখানে দুটি সোসাইটি তৈরি হয়ে গেছে, একটা হচ্ছে খুবই বড়লোক শ্রেণি যারা বিদেশে যায়, পোশাক-আশাক, দামি গাড়ি বিএমডাব্লিউ, মার্সিটিজ এগুলোতে চড়ছে। অন্যদিকে এই গুলশানেই দেখবেন সিগন্যালগুলোতে ভিক্ষার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে অসংখ্য মানুষ তারা তাদের প্রতিদিনের খাবার সংগ্রহ করতে পারে না। এটাই বাস্তবতা।

বিএনপি মহাসচিব জানান, আর্থিক খাতসহ দেশে আইনের শাসন ও সার্বিক শৃঙ্খলার অন্যতম প্রধান শর্ত হচ্ছে জবাবদিহি। যেহেতু বর্তমান ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের জনগণের কাছে কোনো জবাবদিহি নেই, তাদের হাতে আমাদের এই দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি, সংস্কৃতি, বিচারব্যবস্থা কোনো কিছুই নিরাপদ নয়। আপনাদের মাধ্যমে প্রিয় দেশবাসীর কাছে উদাত্ত আহ্বান- আসুন বাংলাদেশে একটি সত্যিকার জবাবদিহিমূলক গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে চলমান গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করি এবং দুঃসহ আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের অবসান ঘটিয়ে একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠান নিশ্চিত করি, তাহলেই ভবিষ্যতে গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিতামূলক সরকার ব্যাংকিং সেক্টর তথা সামগ্রিক অর্থনীতিকে চরম বিপর্যয় থেকে উদ্ধার করে টেকসই উন্নয়ন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবো।

মির্জা ফখরুল বলেন, এই অবৈধ সরকার শুধু রাজনীতিকে নয়, অর্থনীতিকেও পুরোপুরি ধবংস করেছে এবং তারা মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছে, প্রতারণা করছে জনগণের সঙ্গে। জনগণ শুধু নয়, আন্তর্জাতিক যে সংস্থাগুলোর আছে সেই সংস্থাগুলোর সঙ্গেও তারা প্রতারণা করছে। এমন একটা ন্যারেটিভ খাঁড়া করেছে যে, বাংলাদেশ রোল মডেল হয়ে গেছে যে, থার্ড ওয়ার্ল্ড কান্ট্রিগুলোর ডেভেলপমেন্টের জন্য… বারবার এই কথাটা বলতে থাকে, জোর দেয় এবং বিভিন্ন সেতু, উড়ালসেতু, টানেল, মেট্রোরেল উদ্বোধন করার মধ্য দিয়ে এই বিষয়টি বলতে চায় যে এটা উন্নয়নের দিকে চলে গেছে। আপনি দেখবেন যে, এটা আমার কথা নয়, আমি যদিও অর্থনীতির ছাত্র কিন্তু অন্যান্য যে অর্থনীতি বিষয়ক যেসব সংস্থা আছে যারা রিসার্চ করে, পড়াশুনা করে বলছে- এটা পুরোপুরিভাবে হলফ, ফাঁপা একটা বিষয়। জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, ব্যাংকিং খাত নজিরবিহীন দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণেই আমাদের অর্থনীতির মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারছে না। মূলত সরকারের পলিসিগত বা রাজনৈতিক দুর্বলতা এবং ব্যক্তিস্বার্থ বা সর্বগ্রাসী লুটপাট আমাদের অর্থনীতির জীবনীশক্তিকে ক্রমেই ধ্বংস করে দিচ্ছে। যার সর্বশেষ সংযোজন কেবল দুর্নীতি ও রাজনৈতিক স্বার্থে বিভিন্ন নামে একটি বিশেষ গ্রুপ তথা ইচ্ছাকৃত লোন ডিফল্টারদের হাতে নিয়মবহির্ভূতভাবে জনতা ব্যাংক ২২ হাজার কোটি টাকা তুলে দিয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঋণ কেলেঙ্কারি ঘটেছে ইসলামী ব্যাংকে। একটি শিল্পগ্রুপ নামে-বেনামে অস্তিত্বহীন ভুয়া কোম্পানির নামে কেবল ইসলামী ব্যাংক থেকেই ৩০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। অথচ গ্রুপটি সর্বোচ্চ ২১৫ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার যোগ্য। এই গ্রুপটি ন্যূনতম এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার করেছে বলে গণমাধ্যমে খবর এসেছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের যোগাযোগ ও ক্ষমতা থাকলে ব্যাংক থেকে ঋণের নামে টাকা লুটপাট এখন সবচেয়ে সহজ বলে মন্তব্য করেছেন একজন অর্থনীতিবিদ। দুর্নীতি ও পুঁজি লুণ্ঠনের মাধ্যমে যারা বিদেশে বিপুল বিত্ত-বৈভবের পাহাড় গড়েছে, একজন অর্থনীতিবিদ তাদের জাতীয় দুশমন বলে আখ্যায়িত করেছেন। তারা ব্যাংকিং সিস্টেমের অপব্যবহার করে ব্যাংকঋণ নিয়ে তা বছরের পর বছর ফেরত না দিয়ে বিদেশে পাচার করে চলেছেন। তারা ব্যাংকগুলোর ‘ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি’ হিসেবে ঋণ লুটপাটকারীর ভূমিকা পালন করছেন। তারা রাজনীতিক পরিচয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা লুণ্ঠন করে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারী।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সাধারণত কোনো দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ঘটলে বিদেশি ব্যাংকগুলো সেখানে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ছুটে আসে। ২০০৯ সাল থেকে দেশে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক বিবেচনায় ১৩টি বেসরকারি ব্যাংক প্রতিষ্ঠিত হলেও কোনো বিদেশি ব্যাংক কি বাংলাদেশে এসেছে? উল্টো যে কয়েকটি বিদেশি ব্যাংক বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করেছে তারাও অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার সংগ্রাম করছে। একই ধরনের প্রোডাক্ট ও সেবা নিয়ে ব্যাংকিং সেবা দেওয়ার প্রতিযোগিতা করছে দেশের ৫২টি ব্যাংক।

মির্জা ফখরুল বলেন, গত বছরের জুলাইয়ে দেশের ব্যাংকগুলোয় পণ্য আমদানি ঋণপত্র (এলসি) খোলা হয়েছিল ৬ দশমিক ৩৫ বিলিয়ন বা ৬৩৫ কোটি ডলারের। কিন্তু চলতি বছরের জুলাইয়ে ব্যাংকগুলো মাত্র ৪৩৭ কোটি ডলারের নতুন এলসি খুলতে পেরেছে। এ হিসাবে অর্থবছরের প্রথম মাসে ব্যাংকগুলোয় আমদানি এলসি খোলা কমেছে ৩১ শতাংশেরও বেশি। অর্থাৎ দেশের অর্থনীতি এখন নজিরবিহীন মন্থরগতিতে চলছে। কাঁচামাল এবং মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে কমছে। বিনিয়োগ কমছে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও কমছে। আমদানিনির্ভর অর্থনীতির জন্য এটা এক মহাচ্যালেঞ্জ। তার ওপর রয়েছে স্বার্থান্বেষীদের সিন্ডিকেট। মূল্যস্ফীতি বেড়েই চলেছে। মানুষ সঞ্চয় ভেঙে খাচ্ছে। অনেকের সঞ্চয়ও শেষ। নিম্নবিত্তের নাভিশ্বাসতো আছেই।

তিনি আরও বলেন, সরকার ও তাদের অবৈধ সুবিধাভোগীরা দেশকে দুর্নীতির স্বর্গরাজ্যে পরিণত করেছে। আর দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত বিপুল পরিমাণ অর্থসম্পদ বিদেশে পাচার করে দিয়েছে এবং দিচ্ছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক সংস্থা গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির (জিএফআই) তথ্যমতে, আমদানি ও রপ্তানি পণ্যমূল্যের মিসইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে কর ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন দেশে অর্থপাচার করা হয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে এভাবে প্রতিবছর গড়ে ৮.২৭ বিলিয়ন ডলার হারিয়েছে বাংলাদেশ।

ফখরুল বলেন, এভাবে নয় বছরেই দেশ থেকে ৭৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়ে গেছে। জিএফআই ২০১৫ সালে বলেছিল, বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর গড়ে ৭৫৩ কোটি ৩৭ লাখ ডলার পাচার হয়। গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর সরকারের সিআইডি বরাতে দেশের পত্রপত্রিকায় খবর প্রকাশ হয়, শুধু হুন্ডি প্রক্রিয়ায় দেশ থেকে গড়ে বছরে ৭৫ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে। হুন্ডির সঙ্গে ওভার ইনভয়েসিং, আন্ডার ইনভয়েসিং এবং রপ্তানি আয় দেশে ফেরত না আনার মতো মূল সমস্যাগুলো যোগ করলে দেখা যায়, প্রতিবছর বর্তমানে কমপক্ষে দেড় লাখ কোটি টাকার সমপরিমাণের বৈদেশিক মুদ্রা থেকে বাংলাদেশ বঞ্চিত হচ্ছে। এর মানে, বাংলাদেশ থেকে বছরে কমপক্ষে ১৫-১৬ বিলিয়ন ডলার পুঁজি এখন বিদেশে পাচার হচ্ছে। এই অর্থপাচারের এই বিপুল স্রোত বন্ধ করতে পারলে বাংলাদেশের গড় প্রবৃদ্ধি কমপক্ষে ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেতো। রপ্তানির আড়ালেও সম্প্রতি ১৪শ কোটি টাকা বিদেশে পাচার এবং ইডিএফের আড়ালে ৭০০ কোটি ডলারের দুর্নীতির অভিযোগ যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে এসেছে।।

তিনি আরও বলেন, ‘বিগ থ্রি’ হিসেবে পরিচিত বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী তিনটি রেটিং এজেন্সি বাংলাদেশের ঋণমান যেভাবে হ্রাস করেছে। নেতিবাচক সংকেত দিয়েছে তাতে অর্থনীতি রেড ফ্ল্যাগস এ উঠে এসেছে। গত মে মাসে বৈশ্বিক রেটিং এজেন্সি মুডিস বাংলাদেশের ক্রেডিট রেটিং বিএ৩ থেকে নামিয়ে বি১ -এ পুনর্নির্ধারণ করেছে। যেখানে প্রতিটি দেশ ক্রমান্বয়ে ভালো রেটিং পাওয়ার চেষ্টা করে থাকে, সেখানে গত একযুগ পর এই মান কমানো দেশের অর্থনীতির জন্য অশনিসংকেত।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গত জুলাইয়ে বাংলাদেশের রেটিং আউটলুক হ্রাস করেছে আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ণয়কারী সংস্থা এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল। তারা বাংলাদেশের জন্য নেতিবাচক ঋণমান নির্ধারণ করেছে। সর্বশেষ ফিচ রেটিংসও বাংলাদেশের অর্থনীতিকে নেতিবাচক ঘোষণা করেছে। অর্থনীতি ভঙ্গুর ও অরক্ষিত হয়ে পড়েছে। বিদেশি ঋণ প্রদানকারী ও বিনিয়োগকারীরা আর আস্থা রাখতে পারছে না। দেশের এ অর্থনৈতিক দুরবস্থা একদিনে সৃষ্টি হয়নি, অবৈধ সরকারের উন্নয়নের নিচে চাপা পড়েছিল, যা এখন বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। বাস্তব অবস্থা আরও ভয়াবহ।

ব্যাংকে নজিরবিহীন তারণ্য সংকটের চিত্র তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, বেশ কিছুকাল থেকেই তারল্য সংকটে পড়ে দেশের অনেক ব্যাংক ধার করে চলছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ব্যাংক খাতে অতিরিক্ত তারল্য কমে তিন হাজার ৯০৯ কোটি টাকায় নেমেছে। এক বছর আগেও যা দুই লাখ তিন হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা ছিল। বিশেষ করে শরিয়াহ্ভিত্তিক পরিচালিত পাঁচটি ব্যাংক নিয়মিত সিআরআর রাখতে ব্যর্থ হয়ে জরিমানায় পড়েছে। এ সময়ে নিরাপত্তার কথা ভেবে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে টাকা তুলে হাতে রাখছেন অনেকে। কিন্তু তারল্য সংকটে অনেক ব্যাংক আমানতকারির নিজস্ব আমানতের এমনকি এক লাখ টাকার চেকও অনার করতে পারছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান রবকত উল্লাহ বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ইসমাইল জবিউল্লাহ, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন ও নির্বাহী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আলম উপস্থিত ছিলেন।

১১ লাখ বাসিন্দাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গাজা ছাড়ার নির্দেশ ইসরাইলের

১১ লাখ বাসিন্দাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গাজা ছাড়ার নির্দেশ ইসরাইলের

ডেস্ক রিপোর্ট:

অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার উত্তরাঞ্চলে থাকা ১১ লাখের বেশি ফিলিস্তিনিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরে যেতে বলেছে দখলদার ইসরাইল।

বৃহস্পতিবার দেশটির সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জাতিসংঘকে এ কথা জানানো হয়েছে। খবর আলজাজিরার

জাতিসংঘের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, গাজার জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক মানুষ উত্তরাঞ্চলে বাস করেন। তবে জাতিসংঘ ইসরাইলের এই নির্দেশ বাতিলের জন্য জোরালোভাবে কাজ করছে।

জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক বলেছেন, ইসরাইলের এমন পদক্ষেপ গাজায় চলমান ট্র্যাজেডিকে আরও বেদনাদায়ক পরিস্থিতিতে রূপান্তরিত করতে পারে। গাজায় জাতিসংঘের সব কর্মী, স্কুল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ক্লিনিকের কর্মীসহ সবাইকে সরিয়ে নিতে বলেছে ইসরাইল।

গাজা উপত্যকার উত্তরাঞ্চলে মূল গাজা সিটি, জাবালিয়া শরণার্থী শিবির, বেইত লাহিয়া ও বেইত হানুন অঞ্চল রয়েছে।

ইসরাইলের চরম নৃশংসতার শিকার গাজার বাসিন্দারা। দখলদার বাহিনীর হাত থেকে ছাড় পাচ্ছেন না শিশু ও নারীরাও। গত ছয় দিনের অব্যাহত হামলায় রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এক হাজার ৫৩৭ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৫০০ শিশু রয়েছে। আর নারী রয়েছেন ২৭৬ জন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ছয় হাজার ৬১২ জন।

দখলদার বাহিনী শুধু হামলা করেই ক্ষান্ত হয়নি। গাজায় খাবার সরবরাহ, বিদ্যুৎ ও জ্বালানিও বন্ধ করে দিয়েছে। জিম্মিদের মুক্তি না দিলে এগুলোর কোনো কিছুই গাজায় সরবরাহ না করার অঙ্গীকার করেছে তারা। ফলে গাজায় মানবিক সংকট গভীর থেকে আরও গভীর হচ্ছে।