All posts by jitu

দুদকে মুখোমুখি ড. ইউনূস

দুদকের মুখোমুখি ড. ইউনূস

ডেস্ক রিপোর্ট:

অর্থ আত্মসাৎ ও পাচারের মামলায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তলবে বক্তব্য দিতে হাজির হয়েছেন গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ও শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৩৭ মিনিটে তিনি সংস্থাটির কার্যালয়ে হাজির হন।

এসময় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন দুদকের উপপরিচালক ও তদন্তকারী কর্মকর্তা গুলশান আনোয়ার প্রধান।

এর আগে গত ২৭ সেপ্টেম্বর ড. ইউনূসসহ মামলার অন্য আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে দুদক। এর আগে বুধবার (৪ অক্টোবর) তিন পরিচালকের বক্তব্য নেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

গত ৩০ মে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঢাকা-১-এ ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ ১৩ জনকে আসামি করে মামলাটি করে দুদক। মামলায় ২৫ কোটি ২২ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ আনা হয়।

গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূস ছাড়া মামলার অন্য আসামিরা হলেন- প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নাজমুল ইসলাম, পরিচালক ও সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আশরাফুল হাসান, পরিচালক পারভীন মাহমুদ, নাজনীন সুলতানা, মো. শাহজাহান, নূরজাহান বেগম ও পরিচালক এসএম হাজ্জাতুল ইসলাম লতিফী। এছাড়া অ্যাডভোকেট মো. ইউসুফ আলী, অ্যাডভোকেট জাফরুল হাসান শরীফ, গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. কামরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মাহমুদ হাসান ও প্রতিনিধি মো. মাইনুল ইসলামকে আসামি করা হয়েছে।

চাঁদপুরে শতবর্ষী শাহতলী কামিল মাদ্রাসায় নিয়োগপ্রাপ্ত ৪ প্রভাষকের একসঙ্গে যোগদান

চাঁদপুরে শতবর্ষী শাহতলী কামিল মাদ্রাসায় নিয়োগপ্রাপ্ত ৪ প্রভাষকের একসঙ্গে যোগদান

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুরঃ

চাঁদপুর সদর উপজেলার শতবর্ষী ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শাহতলী কামিল মাদরাসায় এনটিআরসিএ সুপারিশপ্রাপ্ত এবং গভনিং বডি কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত ৪ জন প্রভাষক এর আনুষ্ঠানিক যোগদান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৪ অক্টোবর) সকাল ১১টায় মাদরাসা মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিক যোগদান অনুষ্ঠানে মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ বিলাল হোসাইনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি’র বক্তব্য রাখেন মাদরাসা গভর্নিং বডির সহ-সভাপতি এবং দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী।

তিনি তার বক্তব্যে বলেন, আজকে এনটিআরসিএ সুপারিশকৃত যে ৪ জন নিয়োগ হয়েছে এটা প্রতিষ্ঠানের জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি। একসঙ্গে ৪ জন প্রভাষকের নিয়োগ এটা প্রতিষ্ঠানের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এ জন্য প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। এ মাদরাসা বাংলাদেশের মধ্যে একটা বড় দ্বীনি প্রতিষ্ঠান। ১৯০১ সালে এ মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র সাহসী নেতৃত্বে ও শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনি এমপি’র সহযোগিতায় শিক্ষা সেক্টরে শিক্ষক নিয়োগসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। আপনারা যারা নতুন যোগদান করেছেন, টেনশনমুক্ত ভাবে কাজ করবেন। টেনশন থাকলে টিচিং মেথড ভালো থাকে না। যে সকল শিক্ষক মাদরাসা থেকে পদত্যাগ করেছে এবং অবসর গ্রহন করেছে তাদের অচিরেই বিদায় সংবর্ধনা দিবো। আমরা সকলেই চাই শিক্ষার মান উন্নয়ন।

অনুষ্ঠানে নবাগত প্রভাষক (আরবি) মো: নাজির হোসেন, প্রভাষক (আরবী) মো: আব্দুস সালাম, প্রভাষক (বাংলা) সখিনা আক্তার, প্রভাষক (ইংরেজী) সাদিয়া রহমান গণকে মাদরাসার পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান প্রধান অতিথি মাদরাসা গভর্নিং বডির সহ-সভাপতি এবং দৈনিক চাঁদপুর খবর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ও প্রকাশক সোহেল রুশদী সহ অন্যান্যরা অতিথিবৃন্দ।

মাদরাসার সহকারি অধ্যাপক মো: কামাল উদ্দিন এর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, শাহতলী জিলানী চিশতী কলেজের অধ্যক্ষ মো: হারুন-অর রশিদ। অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা মোহাম্মদ ইয়াছিন মিয়া, প্রধান মুহাদ্দিস মাওলানা আখতার হোসাইন, সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা মিজানুর রহমান, নবাগত আরবী প্রভাষক মো: নাজির হোসেন, আরবী প্রভাষক মোঃ আব্দুস সালাম, বাংলা প্রভাষক সখিনা আক্তার, ইংরেজী প্রভাষক সাদিয়া রহমান, সহকারি শিক্ষক মাওলানা আব্দুল হালিম গাজী।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, মাদরাসার সহকারি অধ্যাপক মাওলানা কামাল হোসেন, জ্যেষ্ঠ প্রভাষক মাওলানা এমদাদ উল্ল্যাহ, জ্যেষ্ঠ প্রভাষক মোহাম্মদুল্লা, বাংলা প্রভাষক মোঃ বেলায়েত হোসেন মিজি, আরবী প্রভাষক মাওলানা এ এন এম হেলাল উদ্দিন, সহকারি শিক্ষক মাওলানা বাহাউদ্দিন, সহকারি লাইব্রেরীয়ান আহসান হাবীব, ইবতেদায়ী প্রধান শরীফ মোঃ মোস্তফা খান, ২৯নং উত্তর শাহতলী যোবাইদা বালক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মোঃ দিদার হোসেন মিজি, মাদরাসার সহকারি শিক্ষক আনিসুর রহমান, আইসিটি শিক্ষক মাওলানা আনিসুর রহমান রহমান, শরীরচর্চা শিক্ষক শরীফ হাওলাদার, ইয়রেজী শিক্ষক হালিমা আক্তার, সহকারি শিক্ষক সায়েমা বিনতে ইব্রাহিম, ইবতেদায়ী ক্বারী হাফেজ জাহাঙ্গীর হোসেন, হিসাব রক্ষক মোঃ শরীফুর রহমান খান, অফিস সহকারি মোঃ রিয়াদ হোসেন, অফিস সহকারি মোঃ শরীফ খান।

শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন আলিম ১ম বর্ষের ছাত্র মোঃ রাফিউল ইসলাম, ইসলামী সংগীত পরিচালনা করেন আলিম ১ম বর্ষের ছাত্র মোঃ শফিকুল ইসলাম।

খালেদা জিয়ার অসুস্থতা পুঁজি করে বিএনপি রাজনৈতিক ফায়দা নিতে চায়

খালেদা জিয়ার অসুস্থতা পুঁজি করে বিএনপি রাজনৈতিক ফায়দা নিতে চায়

ডেস্ক রিপোর্ট:

খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসা বিষয়ে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে তার অসুস্থতা পুঁজি করে বিএনপি রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য জলঘোলা করার অপতৎপরতা চালাচ্ছে বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সুনির্দিষ্ট আইন দ্বারা নির্ধারিত বিষয়ে লজ্জাহীনভাবে মিথ্যা ও বিকৃত তথ্য জাতির সামনে উপস্থাপন করেছেন। তিনি এবং তার দল বিএনপি চিরাচরিত অপরাজনীতির ধারাবাহিকতায় খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়েও ক্রমাগতভাবে সীমাহীন মিথ্যাচারের মাধ্যমে জাতিকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।

ওবায়দুল কাদের জানান, দেশবাসী জানে, প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা সর্বোচ্চ মানবিকতা ও উদারতা নিয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪০১ ধারা অনুযায়ী দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত খালেদা জিয়াকে নিজ ঘরে থেকে দেশের সর্বাধুনিক হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ করে দিয়েছেন। শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বের ইতিহাসে একজন দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীর জন্য এমন মানবিকতার উদাহরণ বিরল।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যার সেই উদারতা বিএনপি মহাসচিব শুধু অসম্মানই করেননি, গোটা বিষয় নিয়ে উসকানিমূলক মন্তব্যের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের আইন, বিচার প্রক্রিয়া ও সংবিধান সম্পর্কে দায়িত্বহীন বক্তব্য দিয়েছেন। বিএনপি খালেদা জিয়ার অসুস্থতা পুঁজি করে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য জলঘোলা করার অপতৎপরতা চালাচ্ছে।

ওবায়দুল কাদের আরও জানায়, মির্জা ফখরুল রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও প্রতিপক্ষকে (খালেদা জিয়াকে) মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন! কিন্তু ইতিহাস জানে, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা অবৈধ ক্ষমতাদখলকারী সামরিক স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এমনকি খুনিদের বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করার জন্য ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের আইনি সুরক্ষা দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, খুনিদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দিয়ে পুরস্কৃত করেছিলেন।

তিনি জানান, জিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ করে খালেদা জিয়াও বঙ্গবন্ধুর খুনি রশিদ ও হুদাকে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনে পার্লামেন্টে বসিয়েছিল। খুনি খায়রুজ্জামানকে চাকরিতে পুনর্বহাল করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চাকরি দিয়ে পদোন্নতির মাধ্যমে রাষ্ট্রদূত পদে নিয়োগ দিয়েছিল। ১৫ আগস্ট জাতির পিতার শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসের দিন খালেদা জিয়া ভুয়া জন্মদিন পালনের মধ্য দিয়ে আজ পর্যন্ত প্রতিহিংসাপরায়ণ ষড়যন্ত্রের রাজনীতির ধারা অব্যাহত রেখেছেন। প্রতিহিংসার রাজনীতি এবং প্রতিপক্ষকে হত্যা করার মতো নিকৃষ্ট মানসিকতা ঐতিহ্যগতভাবেই বিএনপির মতাদর্শ।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা কখনো প্রতিহিংসার রাজনীতি করেন না। বরং তিনি বারবার বিএনপির প্রতিহিংসা ও আক্রোশের রাজনীতির শিকার হয়েছেন। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত অশুভ জোট সরকারের সময় হাওয়া ভবনের সরাসরি তত্ত্বাবধানে বঙ্গবন্ধুকন্যাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের হত্যার উদ্দেশ্যে নারকীয় গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিল। খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর পর শেখ হাসিনা সমবেদনা জানাতে গেলে বাসার প্রবেশদ্বারে তালা দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তারপরও বঙ্গবন্ধুকন্যা সর্বোচ্চ নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে একজন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হওয়া সত্ত্বেও খালেদা জিয়াকে নিজ বাসায় থাকা ও উন্নত চিকিৎসার সুযোগ করে দিয়েছেন। এমন মানবিকতার দৃষ্টান্ত পৃথিবীতে দ্বিতীয়টি নেই।

ওবায়দুল কাদের জানায়, খালেদা জিয়াকে বিদেশে যেতে হলে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী তাকে আদালতের শরণাপন্ন হতেই হবে। বিষয়টি সম্পূর্ণ আদালতের এখতিয়ারে। এনিয়ে রাজনীতি করার কোনো সুযোগ নেই।

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতি নিয়ে সরকার চাপ অনুভব করে না : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতি নিয়ে সরকার চাপ অনুভব করে না : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতি নিয়ে সরকার কোনো চাপ অনুভব করে না। আর ভিসানীতি নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই বলেও মনে করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

যুক্তরাষ্ট্র-যুক্তরাজ্য সফর শেষে বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

‘তলে-তলে সবার সঙ্গে আপস হয়ে গেছে’ -আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ভিসানীতির ক্ষেত্রে কোনো আপসের ইঙ্গিত দিলো কি না -জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভিসানীতি নিয়ে কিছু নাই। ভিসা নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তার কারণ নাই, মাথা ব্যাথা কারণ নাই। আমরা কোনো চাপ অনুভব করি না।

তিনি জানান, উনি (কাদের) বলেছেন, ওনার কাছে জিজ্ঞেস করেন। ভিসানীতি আমাদের জন্য গুরত্বপূর্ণ কিছু নয়। উনি (কাদের) ঠিকই বলেছেন। যারা ভিসার জন্য আবেদন করে তাদের জন্য হয়তো দুসংবাদ, যদি দুষ্টু লোক হয়। আমেরিকা তো সবাইকে ভিসা দেয় না। কয়েক হাজার লোক বছরে ভিসার জন্য আবেদন করে, এর মধ্যে কত লোককে ভিসা দেয়?

বাংলাদেশেরও ভিসানীতি আছে জানিয়ে মোমেন জানায়, ভিসা নীতি সব দেশে আছে। আমাদের দেশেও আছে। আমরা সবেইকে ভিসা দেই না। আমরা ব্যক্তি বিশেষ কিংবা কোনো দেশকে কম ভিসা দেই। আমি যেটা বুঝতে পারি যুক্তরাষ্ট্রের ভিসানীতির মূল উদ্দেশ্য, যাতে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়। আমরাও সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। তারা আমাদের সঙ্গে একমত। তারা আমাদের হাতকে শক্ত করার জন্য ভিসানীতি চায়।

মঙ্গলবার সাভারের আমিনবাজার ট্রাক টার্মিনাল এলাকায় দেওয়া বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, তলে-তলে আপস হয়ে গেছে। আমেরিকার দিল্লিকে দরকার। দিল্লি আছে, আমরাও আছি। শেখ হাসিনা সবার সঙ্গে ভারসাম্য করে ফেলেছেন। আর কোনো চিন্তা নেই। যথাসময়ে নির্বাচন হবে।

যারা নির্বাচনে আসবে না আমেরিকা তাদের পক্ষে নাই

বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনে যেসব রাজনৈতিক দল অংশ নেবে না মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের সঙ্গে নেই বলে মন্তব্য করেছেন ড. মোমেন। তিনি জানান, আমরা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। আমেরিকা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চায়। যাতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, সেজন্য তারা সহায়কের ভূমিকা পালন করবে। আমাদের সাহায্য করবে।

মোমেন বলেন, আর যারা নির্বাচনে আসবে না আমেরিকা তাদের পক্ষে নাই। তারা বলেছে, তারা কোনো দলেই নাই। কিন্তু তারা বিশ্বাস করে, নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের একমাত্র…। তারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে এবং গণতান্ত্রিক সরকার চায়। আমরাও গণতান্ত্রিক সরকার চাই।

রোহিঙ্গাদের রেখে দেওয়ার বার্তা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে মত থাকলে যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের রেখে দেওয়ার বিষয়ে জোর দিচ্ছেন বলে মনে করছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সফরে রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচনার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা আমাদের সঙ্গে একমত। তারাও বলছে, রোহিঙ্গাদের ফেরত যাওয়া উচিত। কিন্তু তারা মনে করে, মিয়ানমারে যদি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা না হয় তাহলে জীবন-মানের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না। এজন্য আগে ওখানে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হোক, তারপের এদের পাঠান।

তিনি বলেন, তারা বলছে, এখন রোহিঙ্গাদের এদেশে রেখে কাজকর্ম দেন। তাদের দক্ষতার ট্রেনিং দেন। উন্নত দেশগুলোতে প্রত্যাবাসন বলতে কিছু নেই। ওখানে রিফিউজি গেলে রেখে দেওয়া হয়। তারা সেই চিন্তা-ভাবনায় থাকে। তারা মনে করে, বাংলাদেশ তাদের রেখে দিতে পারে।

বিদেশিদের প্রতি মুখোপেক্ষি না হয়ে নিজের ওপর এবং নিজ দেশের ওপর আত্মবিশ্বাস রাখতে গণমাধ্যমকর্মীদের পরামর্শ দিয়েছেন ড. মোমেন।

সম্প্রতি ভারতীয় বার্তা সংস্থায় ২০১৪ এবং ১৮ নির্বাচন প্রসঙ্গে এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের গণতন্ত্র আইসিউতে আছে’ -এ বিষয়ে মন্ত্রীর অবস্থান জানতে চাওয়া হয়। তিনি বলেন, এ রকম বহু লোক বহু প্রতিবেদন তৈরি করবে। আপনি (প্রশ্ন করা গণমাধ্যমকর্মীকে) নিজে প্রতিবেদন তৈরি করেন। অন্যের মুখোপেক্ষি হয়ে থাকবেন না। আল্লার ওয়াস্তে এই বদ অভ্যাসটা বাদ দেন। অন্য কেউ কিছু বললে লাফাইয়া উঠবেন। এটা বাদ দিয়ে নিজে পরীক্ষা করে দেখেন কি অবস্থা। জনগণ যদি ভোট দেয় ওটাই গ্রহণযোগ্য নির্বাচন।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে ড. মোমেন বলেন, বিদেশিরা মূলত বিক্রি করতে আসে। এজন্য চাপ সৃষ্টি করে যেন তার কাছ থেকে কেনে। আমেরিকা বিক্রি করতে চায়, ফ্রান্স বিক্রি করতে চায়, ব্রিটিশ বিক্রি করতে চায়, ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিক্রি করতে চায়।

তবে বিদেশিরা কি বিক্রি করতে চায় সেউ বিষয়টি স্পষ্ট করেননি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রাইজ মানি ১ কোটি ডলার

স্পোর্টস ডেস্ক:

আগামীকাল ভারতে শুরু হওয়া ১৩তম ওয়ানডে বিশ্বকাপের বিশ্বকাপের মোট প্রাইজমানি ১ কোটি ডলার। এরমধ্যে চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৪০ লাখ ডলার। রানার্স আপ দল পাবে ২০ লাখ ডলার।

সেমিফাইনাল থেকে ছিটকে যাওয়া দুই দল পাবে ৮ লাখ ডলার করে মোট ১৬ লাখ ডলার।
সেমিফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন না করা লিগ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া ছয়টি দল পাবে ১ লাখ করে সর্বমোট ৬ লাখ ডলার।

লিগ পর্বে প্রতি ম্যাচে জয়ী দল পাবে ৪০ হাজার ডলার করে। গ্রুপ পর্বে ৪৫টি ম্যাচে সর্বমোট দেওয়া হবে ১৮ লাখ ডলার।

এবারের বিশ্বকাপে ১০ ভেন্যুতে মোট ৪৮টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। লিগ পর্বে প্রতিটি দলই একে অপরের মুখোমুখি হবে। লিগ পর্ব শেষে সেরা চার দল সেমিফাইনালে খেলবে। দুই সেমিফাইনালের দুই বিজয়ী দল ১৯ নভেম্বর আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ফাইনাল খেলবে।

শর্ত অনুযায়ী রিজার্ভ নেই, আইএমএফকে জানাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ডেস্ক রিপোর্ট:

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বাংলাদেশকে দেওয়া ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার ঋণের অন্যতম শর্ত ছিল চলতি বছরের জুনের মধ্যে নিট আন্তর্জাতিক রিজার্ভ (এনআইআর) ২৪ দশমিক ৪৬ বিলিয়ন ডলারে রাখা। তবে শর্ত অনুযায়ী সেই পরিমাণ রিজার্ভ রাখতে পারেনি বাংলাদেশ ব্যাংক।

বুধবার আইএমএফ-এর প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে বিভিন্ন শর্ত পূরণের অগ্রগতি, সফলতা ও ব্যর্থতা তুলে ধরা হয়। বৈঠকে রিজার্ভের শর্ত পূরণে ব্যর্থতার কথাও জানানো হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানা যায়, আইএমএফের ঋণের যেসব শর্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের পূরণ করার কথা, তার মধ্যে বেশির ভাগ শর্তই পূরণ হয়েছে। তবে যে পরিমাণ নিট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রাখার শর্ত দেওয়া হয়েছিল, সেই পরিমাণ রিজার্ভ রাখতে পারেনি বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. মেজবাউল হক বলেন, ইতিমধ্যে আইএমএফের বেশকিছু শর্ত পূরণ করা হয়েছে। দুই একটি জায়গায় ব্যর্থতা আছে। রিজার্ভ কিছু কম আছে। রাজস্ব আহরণ কম হয়েছে। তবে অনেক কিছু বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ব্যাংকগুলোর আর্থিক স্থিতিশীলতা প্রতিবেদন প্রকাশের কথা ছিল, কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রকাশ করেছে।

বিপিএমসিক্স অনুযায়ী রিজার্ভ হিসাবায়ন করা হচ্ছে। এ ছাড়া মুদ্রার বাজার-নির্ধারিত বিনিময় হার প্রবর্তন করা হয়েছে। সুদহারের নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে। তাদের দেওয়া যেসব শর্ত অর্জন হয়েছে তা জানিয়েছি আর যেগুলো অর্জন হয়নি সেগুলো কেন হয়নি তাও জানানো হয়েছে। শর্ত পূরণ ও ব্যর্থতা নিয়ে আইএমএফের পক্ষ থেকে কী বলা হয়েছে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আজ বৈঠক শুরু হয়েছে। তারা (আইএমএফ) বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার সঙ্গে বসে আলোচনা করবে। প্রথম তথ্য নিচ্ছে তারপর আবার বৈঠক করবে। আগামী ১৯ অক্টোবর শেষ মিটিং। সেখানে তাদের মতামত জানাবে, আমরাও আমাদের বিষয়গুলো জানাব।

আইএমএফ-এর শর্তের মধ্যে অন্যতম ছিল জুনে প্রকৃত রিজার্ভ ২ হাজার ৪৪৬ কোটি ডলার রাখা, সেপ্টেম্বরে তা ২ হাজার ৫৩০ কোটি ডলার এবং ডিসেম্বরে ২ হাজার ৬৮০ কোটি ডলারে রাখতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তথ্য বলছে, গত জুনে দেশের মোট (গ্রস) রিজার্ভ ছিল ৩ হাজার ১২০ কোটি ডলার। আইএমএফের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম ৬ (ব্যাল্যান্স অব পেমেন্ট অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন) অনুযায়ী জুনে রিজার্ভ ছিল ২ হাজার ৪৭৫ কোটি ডলার। সর্বশেষ ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট রিজার্ভ আছে ২ হাজার ৭০৫ কোটি ডলার আর বিপিএম ৬ অনুযায়ী আছে ২ হাজার ১১৫ কোটি ডলার।

ফেনীতে প্রতিপক্ষের ‘দেওয়া আগুনে’ প্রাণ গেল ২ ভাইয়ের

ডেস্ক রিপোর্ট:

ফেনীতে ঘুমের মধ্যেই আগুনে পুড়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পূর্ব বিরোধের জেরে পেট্রোল দিয়ে ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় বলে দাবি করেছে স্বজনরা।

গতকাল মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে শহরের মধ্যম বিরিঞ্চি এলাকার রনি হোসেনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী পরিবারের এক সদস্য জানান, পূর্ব বিরোধের জেরে তাদের প্রতিপক্ষরা পেট্রোল ঢেলে ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। পরে আশপাশের লোকজন আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এলে রনি হোসেনের বড় ছেলে মাইদুল ইসলামের দগ্ধ মরদেহ খাটের ওপর থেকে উদ্ধার করা হয়। আর ছোট ছেলে রাহাদুল ইসলামকে খাটের নিচ থেকে দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে সেও মারা যায়। শাহাদাত সপ্তম আর গোলাপ দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল।

ফেনী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ শহিদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ফেনী পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী জানান, ‘আগুন লাগার বিভিন্ন ধরনের তথ্য পেয়েছি।’

দিল্লি কি আপনাদেরকে বলে দিয়েছে জোর করেই নির্বাচন ঘোষণা করে দাও: মির্জা ফখরুল

ডেস্ক রিপোর্ট:

তলে তলে আপস হয়ে গেছে। আমেরিকার দিল্লিকে দরকার। দিল্লি আছে, আমরাও আছি- আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের গতকালের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপি মহাসচিব বলেছেন, দিল্লি আছে, আমরাও আছি, আমরা আছি দিল্লিও আছে? কী বুঝাতে চাইছেন? দিল্লিকে আপনাদের জানিয়েছে যে এভাবে অপকর্ম করতে থাকো? দিল্লি কি বলে দিয়েছে দরকার নাই নির্বাচনের? দিল্লি কি বলে দিয়েছে জোর করেই নির্বাচন ঘোষণা করে দাও? তাহলে পরিষ্কার করে বলেন?

মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ এত বেশি পা চাটা হয়ে গেছে যে, তাদের সাধারণ সম্পাদক বলছেন ভয় নাই, ও রে ভয় নাই। তলে তলে আপস হয়ে গেছে। তাহলে স্বীকার করলেন এত দিনে আপস ছিল না। আসলে আপনাদের মতো এত বড় মিথ্যাবাদী পৃথিবীতে খুঁজে পাবেন না। এর আগে তাদের পররাষ্টমন্ত্রী বলেছিল, আলোচনা হয়েছে। আসলে কোনো আলোচনা হয়নি। বলেছে বৈঠক হয়েছে। আসলে কোনো বৈঠকও হয়নি। ছবি তোলার জন্য কত লবিং করেছে সেটা আমরা সবাই জানি।

বুধবার বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটে পেশাজীবী কনভেনশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, রং হেডেড পারসন (শেখ হাসিনা) অবৈধভাবে ক্ষমতায় বসে আছে। তাদের কোনো বৈধতা নেই। তাদের যেমন দেশের মানুষ বিশ্বাস করে না, গণতান্ত্রিক বিশ্বের মানুষও বলে দিয়েছে তোমাদের আমরা আর বিশ্বাস করি না। যেসব দেশ সারাবিশ্বে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপে দেখতে চায়, তারা স্পষ্ট করে বলে দিয়েছে ২০১৪ সালে নির্বাচন হয়নি, ২০১৮ সালেও কোনো নির্বাচন হয়নি। এবারও তাদের অধীনে কোনো নির্বাচন হতে পারে না। তাদের অধীনের নির্বাচন কখনো বৈধতা দেওয়া হবে না।

লন্ডনে শেখ হাসিনার বক্তব্যের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, তার কথা এত করুচিপূর্ণ, যা নিন্দা জানানোর ভাষা নেই। তবে তিনি তার বক্তব্যে কয়েকটি সত্য কথা বলে দিয়েছেন। তা হলো- এদেশে যা কিছু ঘটে তা শেখ হাসিনার ইঙ্গিতে ঘটে। খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার স্বীকারোক্তিতে তা প্রমাণিত হয়ে গেছে। এতে স্পষ্ট প্রমাণ হয়েছে, এদেশে বিচার বিভাগের কোনো প্রয়োজন নেই। শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তই হলো সিদ্ধান্ত। এখন শেখ হাসিনা নিজেকে নিজে সম্রাট ঘোষণা দিলে পারেন।

তিনি বলেন, বিএনপি দুই বছর ধরে রাজপথে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছে। এবার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে কেউ আঘাত করলে বিএনপি প্রত্যাঘাত করবে না এমনটা নয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, অতীতের মতো সরকার আবারও একতরফা নির্বাচনের জন্য একটা বাগান সাজিয়েছে। কিন্তু এবার জনগণ ও বিশ্ব সম্প্রদায় এতে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এবার গোটা জাতি আজ ঐক্যবদ্ধ। জাতি আজ একটা সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চায়।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রব, নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় দলের সভাপতি সৈয়দ এহসানুল হুদা, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, গণসংহতি আন্দোলনের জুনায়েদ সাকি প্রমুখ এতে বক্তৃতা করেন।

রসায়নে নোবেল পেলেন তিন গবেষক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

আগেই নাম ফাঁস হওয়া দুই মার্কিন ও এক রুশ বিজ্ঞানীই এ বছর রসায়নে নোবেল পেয়েছেন। তারা হলেন মউঙ্গি জ বাভেন্দি, লুই ই ব্রুস এবং আলেক্সি আই একিমভ।

কোয়ান্টাম ডট টেকনোলজি আবিষ্কার এবং এটির মাধ্যমে ইলেকট্রনিকস পণ্য থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যখাতে বিপ্লব আনার স্বীকৃতি স্বরূপ তারা এই পুরস্কার পেয়েছেন।
আজ বুধবার বাংলাদেশ সময় বিকাল পৌনে ৪টায় স্টকহোমে রসায়নে নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস।

এই নোবেল বিজয়ীদের নাম আগেই ফাঁস হয়ে গিয়েছিল। মূলত রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সের ভুলের কারণে নামগুলো আগে ফাঁস হয়। সংস্থাটি সুইডেনের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আফটোনব্লাডেটের কাছে একটি ইমেইলে জানায় ওই তিনজনকে এ বছর রসায়নে নোবেল দেওয়া হবে।

তাছাড়া ওই ইমেইলে পুরস্কার দেওয়ার কারণও উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, ‘কোয়ান্টাম ডটস, ন্যানোপার্টিকেলস আবিষ্কার এবং উন্নয়নকে পুরস্কৃত করছে ২০২৩ রসায়ন নোবেল পুরস্কার। যেটি এতটাই ছোট যে এগুলোর আকার নিজস্ব বৈশিষ্ট নির্ধারণ করে।’

তবে নাম ফাঁস হওয়ার বিষয়টি প্রথমে অস্বীকার করেন রসায়ন নোবেল পুরস্কার কমিটির প্রধান জোহান আকভিস্ট। তিনি ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে তখন বলেছিলেন, ‘এটি রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সের একটি ভুল। আমাদের বৈঠক শুরু হবে ৭টা ৩০ মিনিটে (গ্রিনিচ সময়)। যার অর্থ এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বিজয়ী এখনো নির্বাচিত হয়নি।’

কিন্তু ফাঁস হওয়া তথ্যই এখন সঠিক হলো।

প্রবল পানির চাপে খোলা হলো তিস্তা ব্যারাজের ৪৪ গেট

ডেস্ক রিপোর্ট:

ভারতের উত্তর সিকিমে তিস্তা নদীর চুংথাং ড্যাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উজানে ভারী বৃষ্টিপাতে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার দোয়ানী ব্যারাজ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে তিস্তার পানি। প্রবল পানির চাপে ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (৪ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে তিস্তার পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ২০ সেন্টিমিটার, যা বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ১৫ সেন্টিমিটার)। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসফাউদৌলা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় লালমনিরহাটের ৫ উপজেলার তিস্তা চরাঞ্চলের ঘরবাড়িতে পানি প্রবেশ শুরু করেছে। চরের রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। পানি বৃদ্ধির ফলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গিয়ে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে। বন্যার আশঙ্কায় অনেকে ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন।

জানা গেছে, জেলার পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, আদিতমারী ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পানি প্রবেশ করছে। নিম্নাঞ্চলে এরইমধ্যে পানি প্রবেশ করেছে। চরাঞ্চলেও পানিতে ডুবেছে বাড়িঘর ও রাস্তা ঘাট।

তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধিতে জেলার পাটগ্রামের দহগ্রাম, হাতীবান্ধার গড্ডিমারী, দোয়ানী, ছয়আনী, সানিয়াজান ইউনিয়নের নিজ শেখ সুন্দর, বাঘের চর, ফকিরপাড়া ইউপির রমনীগঞ্জ, সিঙ্গীমারি ইউনিয়নের ধুবনী, সিন্দুর্না ইউপির পাটিকাপাড়া, হলদিবাড়ী, ডাউয়াবাড়ী, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, শৈইলমারী, নোহালী, চর বৈরাতি, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, কালমাটি, পলাশী ও সদর উপজেলার ফলিমারীর চর, খুনিয়াগাছ, কুলাঘাট, মোগলহাট, বড়বাড়ি, রাজপুর ও গোকুণ্ডা এলাকার মানুষজন আতঙ্কে রয়েছেন।

হাতীবান্ধা উপজেলার সিন্দুর্না ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম আরিফ বলেন, তিস্তা পাড়ে রেড এলার্ট শুনে তিস্তা চরের মানুষদের সরে যেতে বলা হয়েছে। অনেকে বিভিন্ন স্কুল ও উঁচু রাস্তায় আশ্রয় নিয়েছেন।

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজির হোসেন ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লোকমান হোসেন তিস্তা ব্যারাজ এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ উল্ল্যাহ বলেন, আমরা নদী এলাকার জনপ্রতিনিধিদের মাইকিং করে মানুষকে সচেতন করতে বলেছি। সার্বিক খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। চরাঞ্চলসহ নিম্নাঞ্চলের লোকজনদের প্রস্তুতি নিয়ে বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে বলা হয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীল কুমার বলেন, উজানের ভারী ঢলে তিস্তায় আবারও বন্যা দেখা দিতে পারে। আমরা সার্বিক খোঁজখবর রাখছি।