All posts by jitu

শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের বিষয়ে অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে : চাঁদপুরে শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষাক্রম পরিবর্তনের বিষয়ে অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে : চাঁদপুরে শিক্ষামন্ত্রী

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুরঃ

শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি বলেছেন, বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন শিক্ষায় বিনিয়োগ হচ্ছে শ্রেষ্ঠ বিনিয়োগ এবং জিডিপির ৪ বাগ সেখানে বিনিয়োগ করা দরকার। যখন আমরা সারা বিশ্বের গুনি শিক্ষায় জিডিপি কতভাগ বিনিয়োগ। এর মানে হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর বক্তব্যে বুঝা যাচ্ছে তিনি সময়ের চাইতে কতখানি এগিয়ে ছিলেন। বঙ্গবন্ধু যুদ্ধ বিধ্বস্থ দেশটিকে শিক্ষাকে হাতিয়ার হিসেবে নিয়েছিলেন এবং তিনি কুদরত-ই খোদা শিক্ষা কমিশন তৈরী করেছিলেন। সেই কমিশন যে রিপোর্ট দিয়েছিল, সেটি ছিল অনেক সমৃদ্ধ। সেটি যদি আমরা বাস্তবায়ন করতে পারতাম আজকে আমরা শিক্ষায় বিশ্বে অনেক বেশী এগিয়ে থাকতাম। কিন্তু ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার পর অন্য সব ক্ষেত্রে যেমন আমরা পিছিয়েছি, শিক্ষাও তেমনি পিছিয়েছি।

শুক্রবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে চাঁদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ঢাবিয়ান চাঁদপুরের আয়োজনে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে যারা তখন অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করেছে, তারা কিন্তু এ দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেনি। কাজেই তারা এদেশের মানুষকে এগিয়ে নিবে এই চিন্তা তাদের মাথায় ছিল না। যে কারণে তারা গতানুগতিক শিক্ষাকে চালিয়ে নিয়েছে, চালু ছিল এবং চালু থাকত যদি বঙ্গবন্ধু কন্যা দায়িত্বে না আসতেন। তিনি ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে শিক্ষায় একটি বড় ধরণের পরিবর্তন আনবার চেষ্টা করেছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুল পর্যায়ে বিজ্ঞান শিক্ষাকে উৎসাহিত করেছেন। এরপর তিনি বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তির শিক্ষার দিকে নজর দিয়েছেন।

মন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা দ্বিতীয় মেয়াদে যখন ক্ষমতায় এসেছেন, সেই সময় তিনি ডিজিটাল বাংলাদেশের যে ঘোষণা দিয়েছেন, সেটি ছিল তরুন প্রজেন্মর জন্য ঘোষণা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন আমরা দিন বদলের সনদ দিচ্ছি, এটি আমাদের তরুন প্রজন্মের জন্য। বদলে যাওয়া দিনের কান্ডারী হবে তরুন প্রজন্ম এবং তারাই এর সুফলভোগী হবে। তারা উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের গর্বিত নাগরিক হবে। আজকে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবতা। আমরা এখন স্মার্ট বাংলাদেশের দিকে অধীর আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছি এবং সেই স্মার্ট বাংলাদেশ গড়বার জন্য কাজ করে চলেছি। স্মার্ট বাংলাদেশের ৪টি স্তম্ভ। স্মার্ট নাগরিক, স্মার্ট সরকার, স্মার্ট অর্থনীতি ও স্মার্ট সমাজ। আর এর কেন্দ্র হচ্ছে স্মার্ট নাগরিক। সেই স্মার্ট নাগরিক হতে হলে শিক্ষার দিকে অর্থাৎ বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও মনোভাব নিয়ে তৈরী হতে হবে। তার সবকিছু আমরা আমাদের নতুন শিক্ষাক্রমে নিয়ে এসেছি।

মন্ত্রী বলেন, আমরা চাই আমাদের সন্তানরা ভাল পড়ালেখা করবে এবং জ্ঞানের সাথে দক্ষতা অর্জন করবে। তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক হবে। তারা মূল্যবোধকে তাদের জীবন চর্চার অংশ করে নিবে। আর যে দক্ষতাগুলো বর্তমান বিশ্বে আছে এবং আসছে সেগুলোর জন্য তৈরী হবে। যেগুলোকে আমরা বলছি সফ্ট স্কীল। সবকিছু মিলিয়ে তারা যেন দক্ষ, যোগ্য, মানবিক ও সৃজনশীল মানুষ হয় সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।

দীপু মনি বলেন, শিক্ষাক্রমে যে পরিবর্তন এসেছে, তা নিয়ে অপপ্রচার করা হচ্ছে এবং গুজব রটানো হচ্ছে। যারা কোচিং ও গাইড বই বিক্রি করছেন তারাও এর সাথে যুক্ত রয়েছেন। তারা এই ব্যবসা না করে অন্য ব্যবসা করতে পারবেন। তাদের কোন সমস্যা হবে না। কিন্তু আমাদের এই শিক্ষাক্রমের পরিবর্তন বিষয়ে অভিভাবকদেরও সচেতন হতে হবে। তাদের সন্তানদেরকে এখন আর গাইড বই কিনে দেয়া লাগবে না। তারা প্রাইভেট পড়তে হবে না। তারা আনন্দের মধ্যে শিখবে। আমি সারাদেশের শিক্ষকদের সাথে কথা বলছি। তারা এই শিক্ষাক্রমের বাস্তবচিত্র আমার কাছে তুলে ধরছে। তারা বলছেন শিক্ষার্থীরা খুবই আগ্রহী এই শিক্ষাক্রমে।

ঢাবিয়ান চাঁদপুরের আহবায়ক ও চাঁদপুর সরকারি কলেজের শিক্ষক আলমগীর হোসেন বাহারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন- বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটারের চেয়ারম্যান মো. নুরুল আমিন, চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র জিল্লুর রহমান জুয়েল, দৈনিক ঢাকার ডাক পত্রিকার সম্পাদক এবিএম শামছুল হাসান হিরু।

অনুষ্ঠানে ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষে চাঁদপুর জেলা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। ঢাবিয়ান চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্য, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান, শিক্ষক ও সুধীজন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

কুমিল্লায় ভূমি অফিসার্স কল্যাণ সমিতির আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

কুমিল্লা প্রতিনিধি:

বাংলাদেশ ভূমি অফিসার্স কল্যাণ সমিতি কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কুমিল্লায় সাংগঠনিক সফর উপলক্ষে বৃহস্পতিবার রাতে কুমিল্লা সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ ভূমি অফিসার্স কল্যাণ সমিতি কুমিল্লা জেলা এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক খন্দকার মু: মুশফিকুর রহমান।

সংগঠনের কুমিল্লা জেলার সভাপতি আবদুল কাদের এর সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথিৱ বক্তব্য রাখেন কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ কাবিরুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মোঃ মোতাহার হোসেন খান, কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির সভাপতি আবুল হোসেন খান, প্রধান উপদেষ্ঠা মোঃ ফারুক খান, মহাসচিব মোঃ আসাদুজ্জামান, অর্থ সম্পাদক মোঃ মনিরুজ্জামান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন জেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক মোঃ আবুল কাশেম খাঁন। কুমিল্লা জেলা কমিটির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মোঃ সাইফুল ইসলাম খাঁনের উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-দপ্তর সম্পাদক ও জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আবদুল হালিম। এ সময় উপস্থিত ছিলন,কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি কামিনুল ইসলাম,অতিরিক্ত মহাসচিব ইব্রাহিম খলিল উল্লাহ, যুগ্ন সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক শায়লা শারমীন, ধর্ম বিষয় সম্পাদক নজরুল ইসলাম, ঢাকা জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক সফদার আলী,বি-বাড়িয়া জেলার সাধারন সম্পাদক আবুল কাশেম খোকন,কুমিল্লা জেলার সাবেক সভাপতি আবুল হাসেম মজুমদার, সাবেক সাধারন সম্পাদক আবদুর রহিম,কুমিল্লা জেলার বর্তমান সহ সভাপতি মোস্তফা কামাল মজুঃ,যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আবুল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ শাহজাহান,অর্থ সম্পাদক মোবারক হোসেন,দপ্তর সম্পাদক তারেক বিল ওয়ালী, ক্রিয়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মজিবুর রহমান, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক কামরুল ইসলাম, সহ- প্রচার সম্পাদক যোবায়ের হোসেন,নির্বাহী সদস্য হেলাল উদ্দিন আশরাফী,ফিরোজ খান,মনির উদ্দিন,আবদুল আলিম,পন্কজ আচ্যর্য,রাজিব মিত্র প্রমূখ নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানেৱ শুরুতে অতিথিদেরকে ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ ও শেষে সম্মননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

আল-আকসা মসজিদে জুমা আদায়ে মুসল্লিদের বাধা

আল-আকসা মসজিদে জুমা আদায়ে মুসল্লিদের বাধা

ডেস্ক রিপোর্ট:

ফিলিস্তিনের জেরুজালেম শহরে অবস্থিত পবিত্র আল-আকসা মসজিদে মুসল্লিদের জুমার নামাজ আদায়ে বাধা দিচ্ছে ইসরাইলি পুলিশ। নামাজের জন্য আসা বেশিরভাগ মুসল্লিকে মসজিদে প্রবেশের আগেই ফিরিয়ে দিচ্ছে তারা।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন শুক্রবার জানিয়েছে, দখলদার ইসরাইলি পুলিশ মুসল্লিদের বাধা প্রদান করায় ও অল্প কয়েক মুসল্লিকে মসজিদে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ায়— আল-আকসার আশপাশের এলাকার পরিস্থতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

তবে কেন মুসল্লিদের মসজিদে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না, সেটির কারণ ব্যাখ্যা করছে না পুলিশ। এ কারণে সেখান উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছিল।

এক পর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে মুসল্লিদের দ্বন্দ্ব লাগে। তখন তাদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়।

সিএনএন জানিয়েছে, পুলিশের এমন ঔদ্ধত্বপূর্ণ আচরণের ভিডিও করার সময়— তাদের সামনেই এক তরুণীকে প্রচণ্ড জোরে ধাক্কা মারে ইসরাইলি পুলিশ।

বর্তমানে ওই এলাকা থেকে পুলিশ মুসল্লিদের সরিয়ে দিয়েছে এবং তরুণ বয়সি কাউকে সেখানে হাঁটতেও দিচ্ছে না। এমনকি সংবাদ সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা সিএনএনের সাংবাদিক ও ক্রুদেরও সরে যেতে বলেছে তারা।

এর আগে গত মঙ্গলবার আল-আকসা মসজিদটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেয় দখলদার ইসরাইলি বাহিনী। ওইদিন থেকে কোনো মুসল্লিকে আর পবিত্র এ মসজিদটিতে প্রবেশ করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এর বদলে ইহুদিদের সেখানে অবাধে প্রবেশ করতে দেয় তারা। যা আন্তর্জাতিক আইনের সুষ্পষ্ট লঙ্ঘন।

গত ৭ অক্টোবর ইসরাইলের বিভিন্ন অবৈধ বসতি লক্ষ্য করে হামলা চালায় ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস। তাদের ওই হামলার পর থেকে আল-আকসা মসজিদে মুসল্লিদের প্রবেশ নিয়ে কড়াকড়ি আরোপ করছে ইসরাইলি পুলিশ।

আমরা সরকারে আছি, কেন অশান্তি করব: ওবায়দুল কাদের

ডেস্ক রিপোর্ট:

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমরা শান্তি সমাবেশ করছি, আগামীকালও শান্তি সমাবেশ করব। আমরা অশান্তি করতে চাই না, আমরা সরকারে আছি, আমরা কেন অশান্তি করব? বিএনপি অশান্তি করতে চায়।

শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের জানান, বিএনপি বাংলাদেশকে সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত করতে চায়। তাদের রাজনীতি হলো যেকোনো উপায়ে ক্ষমতা দখল করা। বর্তমানে তারা সেটারই প্র্যাকটিস করছে। তারা জনগণের ওপর দুঃশাসন চাপিয়ে দিয়ে দুর্নীতির মাধ্যমে নিজেদের আখের গোছাতে চায়।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বিএনপি বিতর্কিত করেছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করিনি। বাতিল করেছে আদালত। বিচারপতি খায়রুল হক সংবিধানের কচুকাটা করেননি, বরং বিএনপি সংবিধানকে কচুকাটা করেছে, ছিন্নভিন্ন করেছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা থাকা মানে আমাদের দেশকে ছোট করা, দেশের অর্জনকে ছোট করা।

লড়াই করে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে জানিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক জানায়, দেশ কি ৪৭ এর দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে চলবে নাকি মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতার আদর্শে চলবে। সমাধান আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। তাই আমাদের আজ লড়াই করে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, ড. আব্দুর রাজ্জাক, লে. কর্নেল (অব.) মো. ফারুক খান, শাহজাহান খান, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, খায়রুজ্জামান লিটন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল হক, মির্জা আজম, আফজাল হোসেন প্রমুখ।

পরিবারের ১২ সদস্যকে সমাহিত করার পরদিনই কাজে ফিরলেন সাংবাদিক

ডেস্ক রিপোর্ট:

ইসরাইলের নির্বিচার বিমান হামলায় নিহত পরিবারের ১২ সদস্যকে সমাহিত করার একদিন পরেই কাজে ফিরেছেন গাজায় আলজাজিরার ব্যুরো প্রধান ওয়ায়েল আল-দাহদু।

বৃহস্পতিবার হাফিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়।

বুধবার ইসরাইল দক্ষিণ গাজার নুসিরাত শরণার্থী শিবিরে বিমান হামলা চালায়। এ হামলায় নিহত হন ওয়ায়েলের স্ত্রী আমনা (৪৪), ছেলে মাহমুদ (১৬), মেয়ে শাম (৭) ও অপ্রাপ্তবয়স্ক নাতি অ্যাডাম। পরিবারের আরও আটজন সদস্যও এই হামলায় প্রাণ হারান, যাদের মধ্যে আছেন তার চাচাতো ভাইয়ের মেয়ে হাদির ও তার চার সন্তান। তারা সবাই ইসরাইলি সেনাবাহিনীর নির্দেশ মেনে উত্তর গাজা ছেড়ে দক্ষিণে এসে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

আলজাজিরার ডিজিটাল চ্যানেল এজে প্লাসে পোস্ট করা এক ভিডিওতে ওয়ায়েল আল-দাহদু জানায়, তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য মারা গেলেও দ্রুত কাজে ফেরা তার ‘দায়িত্ব’ ছিল।

গাজার ব্যুরো প্রধান ওয়ায়েল আরও বলেন, আপনারা দেখতে পাচ্ছেন, এখনো সবখানে হামলা চলছে।

ভিডিওতে দেখা যায়, কাছাকাছি একটি জায়গা থেকে ধোঁয়া উঠছে। সেদিকে আঙ্গুল দেখিয়ে ওয়ায়েল বলেন, এটা হচ্ছে বিমান হামলা ও কামানের গোলাবর্ষণের পরবর্তী দৃশ্য এবং হামলা থামছে না।

ওয়ালের বড় মেয়ে বিসান (২৭) সে সময় শিবিরে না থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। তার আরও চার ভাই-বোন সোনদোস, খোলুদ, বাতুল ও ইয়াহিয়া আহত অবস্থায় আল-আকসা মারটায়ার্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

এই সাংবাদিকের শাশুড়ি হানান (৮১) হামলায় বেঁচে গেলেও আশঙ্কাজনক অবস্থায় আছেন। ওয়ায়েলের শ্যালক আলি বৃহস্পতিবার আলজাজিরাকে এই তথ্য জানান।

ওয়ায়েলের পরিবার উত্তর গাজার তাল আল-হাওয়া মহল্লায় বসবাস করতেন। সম্প্রতি তারা নুসিরাত শিবিরে আসেন।

বেশ কয়েক বছর ধরে সাংবাদিক ওয়ায়েল গাজা ও অন্যান্য অধিকৃত অঞ্চলে সাংবাদিকতা করছেন। যে হামলায় তার পরিবারের সদস্যরা প্রাণ হারিয়েছেন, তিনি সেটারই লাইভ কভারেজ দিচ্ছিলেন বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটনভিত্তিক সাংবাদিকদের সংগঠন ন্যাশনাল প্রেস ক্লাব।

গাজায় ওয়ায়েলের সহকর্মী ও অন্যান্য সাংবাদিকদের তোলা ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি হাসপাতালে এসে সন্তানদের কাপড়ে মোড়ানো রক্তাক্ত লাশ জড়িয়ে ধরে বসে আছেন। এছাড়া তাকে দুই নারীর সহায়তায় নাতির লাশ বহন করে এগিয়ে যেতেও দেখা যায়।

এজে প্লাস নেটওয়ার্কের ভিডিওতে ওয়ায়েল জানান, তিনি অনেকের কাছ থেকে শোকবার্তা ও সান্ত্বনার বাণী পেয়েছেন, যার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ।

পরিবারের সব সদস্যকে হারানোর পরেও ওয়ায়েল গাজার মানবিক সংকটের সংবাদ পরিবেশনের কাজ দেওয়া চালিয়ে যেতে চান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে অবর্ণনীয় বেদনা ও যাতনার মধ্য দিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও যত দ্রুত সম্ভব ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে আপনাদের কাছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসাটা আমার দায়িত্ব।

বার্তা সংস্থা এপি গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে চলমান ইসরাইলের নির্বিচার হামলায় সাত হাজার ২৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুই হাজার ৯১৩ জন শিশু। এই সংঘাতে মারা গেছেন এক হাজার ৪০০ ইসরাইলি।

ফিলিস্তিনি নিহতের সংখ্যা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সন্দেহ প্রকাশ করলেও হাফিংটন পোস্ট জানিয়েছে, মার্কিন সরকার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়ার সংখ্যাটিই ব্যবহার করছে।

নোয়াখালীতে পাওয়ার টিলার-সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে নারীর মৃত্যু, আহত ৪

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় বেপরোয়া গতির সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও পাওয়ার টিলারের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক বৃদ্ধ নারীর মৃত্যু হয়েছে।এ দুর্ঘটনায় আরও ৪ সিএনজি যাত্রী গুরুত্বর আহত হয়েছেন। আহতরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতরা হাতিয়ার চানন্দী ও হরণী ইউনিয়নের বাসিন্দা।

নিহত নুর নাহার বেগম (৬৫) হাতিয়া উপজেলার হরণী ইউনিয়নের মোস্তাফিজুর রহমানের স্ত্রী।

শুক্রবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টার উপজেলার ২নং চরবাটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ঘাট টু সোনাপুর সড়কের তালতলি সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চরবাটা দক্ষিণ পশ্চিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। শুক্রবার দুপুরের দিকে ওই সড়কে নির্মাণাধীন ভবনের মালামাল নিয়ে আসে একটি পাওয়ার টিলার। একই সময়ে চেয়ারম্যান ঘাট থেকে সোনাপুরের উদ্দেশে ছেড়ে আসে একটি যাত্রীবাহী সিএনজি। সিএনজি তালতলি এলাকায় পৌঁছলে সামনে থাকা পাওয়ার টিলারটি হঠাৎ সড়কের উল্টো দিকে ঘুরাতে গেলে অটোরিকশার সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নুর নাহারকে মৃত ঘোষণা করে।

চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন কবির বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। নিহত নারীর মরদেহ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুই দলকেই সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হবে: ডিবিপ্রধান

ডেস্ক রিপোর্ট:

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেছেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দুই দলই মহাসমাবেশের অনুমতি পাবে। তবে এখনো স্থান নির্ধারণ হয়নি।

শুক্রবার বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর নাইটিঙ্গেল মোড়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মহাসমাবেশ করার জন্য অনুমতি চেয়েছে। আমার ধারণা তারা অনুমতি পাবে। তবে, স্থানের বিষয়ে এখন বলা যাচ্ছে না। স্থানের বিষয়টি খুব দ্রুতই জানিয়ে দেওয়া হবে।

হারুন অর রশীদ বলেন, শনিবার রাজনৈতিক দলগুলোর মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। সমাবেশকে ঘিরে লাখ লাখ মানুষের জমায়েত হবে। এ কারণে আমরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ডিবির একাধিক টিম ঘুরে ঘুরে দেখছে। ঢাকা শহরের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছে পুলিশের টহল টিম।

জামায়াত ইসলামী সমাবেশের ডাক দিয়েছে। তারা যদি সমাবেশ করে তবে পুলিশের পক্ষ থেকে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন যদি না থাকে গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সমাবেশের কথা বললেই তাদের সমাবেশ করতে দেওয়া হবে না। কাকে কোথায় দিতে হবে সেটি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিচার-বিশ্লেষণ করে দেখবেন। ঢাকা শহরের নগরবাসীর নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই সমাবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।

নাশকতার কোনো আশঙ্কা আছে কি না জানতে চাইলে ডিবিপ্রধান জানান, ঝুঁকির কথা বিবেচনা করেই থানা পুলিশ, ডিবি পুলিশ ও অন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল ও চেকপোস্ট জোরদার করা হয়েছে। লাখ লাখ মানুষ ঢাকায় ঢুকবে, এরমধ্যে তৃতীয় কোনো লোক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে পারে। এজন্য আমাদের টহল দল কাজ করছে। বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি করা হচ্ছে।

ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেফতারের বিষয়ে তিনি জানায়, এটি আমাদের রুটিন ওয়ার্ক। আগামীকাল মহাসমাবেশ বলে মনে হচ্ছে এরেস্ট হচ্ছে। তবে তা নয়, সবসময়ই এ ধরনের এরেস্ট হয়। যার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট আছে তাকে আমরা আজকেও গ্রেফতার করবো, কালকেও করবো, ভবিষ্যতেও করবো।

ঢাকার প্রবেশমুখে পুলিশের জোরদার তল্লাশি

ডেস্ক রিপোর্ট:

ঢাকার একাধিক প্রবেশমুখে নিরাপত্তা চৌকি বসিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। ঢাকার বাইরে থেকে আসা যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি করা হচ্ছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকালে ঢাকার প্রবেশপথ গাবতলী সেতুর মুখে নিরাপত্তা চৌকি বসিয়েছে দারুসালাম থানা পুলিশ।

এ বিষয়ে দারুস সালাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জামাল হোসেন বলেন, সকাল থেকেই নিরাপত্তা চৌকি বসিয়ে যানবাহন ও সন্দেহভাজনদের তল্লাশি করা হচ্ছে।

আমিনবাজারে পরিচালিত পুলিশের চেকপোস্ট ঘুরে দেখা যায়, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পুলিশের উপস্থিতিতে ঢাকাগামী বিভিন্ন যানবাহন থামিয়ে যাত্রীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ক্ষেত্রবিশেষে তাদের সঙ্গে থাকা ব্যাগপত্র তল্লাশি করছে পুলিশ। এক্ষেত্রে, ঢাকাগামী দূরপাল্লার বিভিন্ন যাত্রীবাহী বাস, গণপরিবহণ, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেলের প্রতি পুলিশের বিশেষ নজর লক্ষ করা গেছে। চেকপোস্টে সন্দেহভাজন কাউকে আটকের খবর পাওয়া যায়নি।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার (২৮ অক্টোবর) বড় দুটি রাজনৈতিক দলের সমাবেশ। তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই চেকপোস্ট। কেউ যেন ঢাকায় প্রবেশ করে কোনো নাশকতা কিংবা বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করতেই পুলিশের এই চেকপোস্ট।

উত্তরার আবদুল্লাহপুরেও সকাল থেকে ঢাকার বাইরে থেকে আসা যানবাহন ও সন্দেহভাজনদের তল্লাশি করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে পুলিশের উত্তর অঞ্চলের সহকারী কমিশনার জ্যোতির্ময় সাহা বলেন, চেকপোস্ট (নিরাপত্তা চৌকি) বসিয়ে তল্লাশি করা পুলিশের নিয়মিত কাজেরই অংশ।

শুক্রবার দুপুর ২টার পর পোস্তগোলা ব্রিজের মুখে নিরাপত্তা চৌকি বসিয়ে ঢাকার বাইরে থেকে আসা যানবাহন ও সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তল্লাশি চালাচ্ছে শ্যামপুর থানা–পুলিশ।

শ্যামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, দুষ্কৃতকারী ও মাদক কারবারিরা যাতে অস্ত্র নিয়ে ঢাকায় ঢুকতে না পারে, সে জন্যই চেকপোস্ট বসানো হচ্ছে।

এদিকে বিএনপি অভিযোগ করেছে, বৃহস্পতিবার রাতভর রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের দল ও অঙ্গসংগঠনের ৫০ জনের বেশি নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র মো. ফারুক হোসেন বলেন, মহাসমাবেশ সামনে রেখে পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করছে না। যেসব নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে, শুধু তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।

র‍্যাব ২–এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ও যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আজ সকাল থেকে মোহাম্মদপুর, আদাবর, ধানমন্ডি, কলাবাগান, নিউমার্কেট, হাজারীবাগ, শেরেবাংলা নগর, তেজগাঁও এবং তেজগাঁও শিল্প এলাকায় বিশেষ বাহিনীর মাধ্যমে টহলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।