All posts by jitu

শেষ ধাপে একাদশে ভর্তির আবেদন শুরু আজ

শেষ ধাপে একাদশে ভর্তির আবেদন শুরু আজ

ডেস্ক রিপোর্ট:

একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিতে তৃতীয় বা শেষ ধাপে অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে আজ। বুধবার সকাল ৮টা থেকে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারছেন। মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ১৫০ টাকা ফি পরিশোধের পর এ আবেদন করা যাবে।

শেষ ধাপে আবেদন চলবে বৃহস্পতিবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টা পর্যন্ত। এ ধাপের ফল প্রকাশ করা হবে ২৩ সেপ্টেম্বর। ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর তৃতীয় ধাপের নির্বাচন নিশ্চায়নের সুযোগ দেওয়া হবে। এরপর আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি যদি সময়সীমা না বাড়ায়, তাহলে আর কারও আবেদন এবং কলেজে ভর্তির সুযোগ থাকবে না।

এদিকে, দ্বিতীয় ধাপে আবেদন করেও কলেজ পাননি ২২ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে রয়েছেন জিপিএ-৫ পাওয়া ২ হাজার ২৯১ জন শিক্ষার্থীও। কলেজে ভর্তি হতে তাদের পুনরায় তৃতীয় বা শেষ ধাপে আবেদন করতে হবে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সূত্র জানায়, দ্বিতীয় ধাপে ২ লাখ ৯৪ হাজারের কিছু বেশি শিক্ষার্থী আবেদন করেন। তাদের মধ্যে কলেজ পেয়েছেন ২ লাখ ৭২ হাজার ৮৭০ জন। এ ধাপেও কলেজ না পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২২ হাজারের বেশি। এর মধ্যে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থী ২ হাজার ২৯১ জন। প্রথম ধাপে কলেজ পাওয়াদের মধ্যে ২৩ হাজার শিক্ষার্থী মাইগ্রেশনে নতুন কলেজ পেয়েছেন।

এদিকে, প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপ মিলিয়ে এ পর্যন্ত একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি প্রক্রিয়ায় রয়েছেন ১২ লাখ ৫১ হাজার ৯২৮ জন শিক্ষার্থী। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীর হিসাবে এখনো সাড়ে ৩ লাখের বেশি শিক্ষার্থী একাদশে ভর্তি প্রক্রিয়ার বাইরে রয়েছেন।

এবার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাস করেন প্রায় সাড়ে ১৬ লাখ শিক্ষার্থী। তার মধ্যে কারিগরি বোর্ডের শিক্ষার্থী ছিলেন ১ লাখের কিছু বেশি। বাকি সাড়ে ১৫ লাখ শিক্ষার্থীকে অনলাইন আবেদনের মাধ্যমে একাদশে ভর্তি হওয়ার কথা।

ভর্তির প্রথম ধাপে আবেদন করেন ১৩ লাখ ৭ হাজার শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে কলেজ পান ১২ লাখ ৬১ হাজার। আর ভর্তি হবেন বলে নিশ্চিত (নিশ্চায়ন) করেন ১০ লাখ ২৬ হাজার শিক্ষার্থী।

অন্যদিকে দ্বিতীয় ধাপে আবেদন করেন ২ লাখ ৯৪ হাজারের মতো শিক্ষার্থী। কলেজ পেয়েছেন ২ লাখ ৭২ হাজার। প্রথম ধাপে নিশ্চায়ন করা এবং দ্বিতীয় ধাপে কলেজ পেয়ে প্রাথমিক নির্বাচিত হওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা সাড়ে ১২ লাখের মতো। বাকি সাড়ে ৩ লাখ শিক্ষার্থী ভর্তি প্রক্রিয়াতে নেই।

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক আবু তালেব মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘সবাইতো কলেজ-মাদরাসায় ভর্তি হয়ে এইচএসসি বা আলিম পরীক্ষা দেবে না। বড় একটি অংশ মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট, মিডওয়াইফারি, নার্সিং, মেডিকেল ডিপ্লোমা, পলিটেকনিকের বিভিন্ন ডিপ্লোমা, এগ্রিকালচার ডিপ্লোমার দিকে ঝুঁকেছে। কিছু শিক্ষার্থী আবার বিদেশে চলে গেছে। অনেকে পারিবারিক প্রয়োজনে চাকরিতেও ঢুকে গেছে।’

আবেদনের সময়সীমা বাড়ানো হবে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি- তিন ধাপে আবেদন প্রক্রিয়া শেষ করবো। বিশেষ প্রয়োজনে বাড়ানো হয়ে থাকে। সেটা বোর্ড কর্তৃপক্ষ সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সিদ্ধান্ত নেন। এবার এখনো সময়সীমা বাড়ানো নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। সেজন্য যারা এখনো আবেদন করেনি, তাদের এ ধাপে আবেদন করে ফেলা উচিত হবে।’ একইসঙ্গে পছন্দক্রমে বেশি কলেজ রাখার পরামর্শও দেন তিনি।

একাদশ শ্রেণিতে চূড়ান্ত ভর্তি শুরু হবে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর, যা চলবে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত। চলতি বছর বিভিন্ন কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তির ফি নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। ভর্তির সর্বোচ্চ ফি ৮ হাজার ৫০০ টাকা। ভর্তি শেষে একাদশ শ্রেণিতে ক্লাস শুরু হবে ৮ অক্টোবর।

কুমিল্লার বরুড়ায় সাত্তার হত্যা মামলার ৫ আসামী গ্রেফতার

কুমিল্লার বরুড়ায় সাত্তার হত্যা মামলার ৫ আসামী গ্রেফতার

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লার বরুড়ায় চাঞ্চল্যকর আব্দুস সাত্তার হত্যা মামলার ৫ আসামীকে দাউদকান্দি থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২, কুমিল্লা ও র‌্যাব-০২, সিপিসি-৩, আগারগাঁও এর যৌথ অভিযানিক দল।

গত ১ সেপ্টেম্বর বরুড়ার জালগাঁও গ্রামের আব্দুস সাত্তার (৫৫) খুন হয়। বাদীর দায়েরকৃত এজহারের মাধ্যমে জানা যায়, ভিকটিম আব্দুস সাত্তার (৫৫) এর সাথে গ্রেফতারকৃত আসামীদের জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। এর জেরে ভিকটিম তার  জমিতে চাষাবাদ করতে গেলে আসামীরা লাঠিশোঠা দিয়ে ভিকটিমকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় আঘাত করে। এর ফলে ভিকটিম মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। এসময় অন্যান্য আসামীরা তাদের সাথে থাকা লাঠি দিয়ে ভিকটিমকে এলোপাতাড়িভাবে পিটিয়ে আহত করে। ভিকটিম বাঁচার আশায় সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় নিকটবর্তী একটি কচু ক্ষেতের জলার মধ্যে উপস্থিত হলে গ্রেফতারকৃত আসামী ইমন, রাজ্জাক ও আজাদ তাদের সাথে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে ভিকটিমের বাম পা ভেঙে দেয় এবং চাকু দিয়ে আঘাত করে ভিকটিমের দুই পায়ের হাটুর নিচে ছিদ্র করে ফেলে। ভিকটিমের মৃত্যু নিশ্চিত জেনে আসামীরা দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ভিকটিমের স্ত্রীসহ অন্যান্য লোকজন ভিকটিমকে ঘটনাস্থল হতে উদ্ধার করে সিএনজি যোগে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

পরবর্তীতে ভিকটিমের স্ত্রী রোশন আরা বেগম (৪০) বাদী হয়ে বরুড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতারে র‌্যাব-১১, কুমিল্লা ও র‌্যাব-০২, সিপিসি-৩, আগারগাঁও, ঢাকা মাঠ পর্যায়ে ছায়া তদন্ত শুরু করে। প্রাপ্ত তথ্য ও গোয়েন্দা সংবাদের ভিত্তিতে ১৮ সেপ্টেম্বর সকালে কুমিল্লার দাউদকান্দির টোল প্লাজা এলাকায় একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করে।

আসামীরা হলেন, ৪নং আসামী ইমন @ রিমন (২০), ৬নং আসামী আব্দুর রাজ্জাক (৪৫), ৭নং আসামী সেকান্দার আলী (৬০), ৮নং আসামী জয়নাল (৪৬) ও ৯নং আসামী আজাদ (৪০)

গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে কুমিল্লার বরুড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

কুমিল্লা র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর কোম্পানী অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লীডার এ কে এম মুনিরুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

কুমিল্লায় র‌্যাবের পৃথক অভিযানে ৩ মাদক কারবারি আটক

কুমিল্লায় র‌্যাবের পৃথক অভিযানে ৩ মাদক কারবারি আটক

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লায় পৃথক অভিযান পরিচালনা করে ৭৬ কেজি গাঁজা ও ৯৪ বোতল ফেন্সিডিলসহ ৩ জন মাদক কারবারিকে আটক করেছে র‌্যাব-১১।

কুমিল্লায় র‌্যাবের পৃথক অভিযানে ৩ মাদক কারবারি আটক

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে কুমিল্লার নোয়াপাড়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর সদস্যরা। উক্ত অভিযানে ৭৬ কেজি গাঁজাসহ মোঃ মাসুদ মিয়া (৩২) একজন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়। সে সদর দক্ষিণ উপজেলার উত্তর সূর্যনগর গ্রামের মোঃ শহীদ মিয়ার ছেলে।

কুমিল্লায় র‌্যাবের পৃথক অভিযানে ৩ মাদক কারবারি আটক

 

পৃথক অন্য একটি অভিযানে ১৮ সেপ্টেম্বর রাতেসদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগঞ্জ বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর সদস্যরা। উক্ত অভিযানে ৯৪ বোতল ফেন্সিডিলসহ দুইজনকে আটক করা হয়।

কুমিল্লায় র‌্যাবের পৃথক অভিযানে ৩ মাদক কারবারি আটক

তারা হলেন, মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর গ্রামের মোঃ সোহেল মিয়ার ছেলে টিপু সুলতান (২৫) এবং নারায়নগঞ্জ জেলার সদর থানার পাইপ পাড়া গ্রামের মোঃ আশরাফ আলীর ছেলে মোঃ রাব্বি (২৯)। এসময় মাদক পরিবহণ কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

কুমিল্লায় র‌্যাবের পৃথক অভিযানে ৩ মাদক কারবারি আটক

মঙ্গলবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর কোম্পানী অধিনায়ক স্কোয়াড্রন লীডার এ কে এম মুনিরুল আলম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

র‌্যাব জানায়, তারা দীর্ঘদিন যাবৎ মুন্সিগঞ্জ, নারায়নগঞ্জ, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গাঁজা, ফেন্সিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় ও সরবরাহ করে আসছিল। উক্ত বিষয়ে গ্কুমিল্লা জেলার কোতয়ালী ও সদর দক্ষিণ মডেল থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

 

নাসির হোসেনের বিরুদ্ধে আইসিসির দুর্নীতির অভিযোগ

নাসির হোসেনের বিরুদ্ধে আইসিসির দুর্নীতির অভিযোগ

ডেস্ক রিপোর্ট:

২০২১ সালে আবুধাবি টি-টেন লিগে পুনে ডেভিলসের অধিনায়ক ছিলেন বাংলাদেশের অলরাউন্ডার নাসির হোসেন। তবে, টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বাজে খেলেছিলো নাসিরের নেতৃত্বাধীন দলটিই। গ্রুপ পর্বের ৬ ম্যাচে ২ জয়ে ৮ দলের মধ্যে তারা হয়েছিলো ৮ম।

টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার পর থেকেই সম্ভাব্য বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে আইসিসির অ্যান্টি করাপশন ইউনিট। শেষ পর্যন্ত ক্রিকেটার ও কর্মকর্তাসহ মোট ৮ জনের বিরুদ্ধে তারা কিছু দুর্নীতির অভিযোগ গঠন করতে পেরেছে। যে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত বাংলাদেশের একমাত্র ক্রিকেটার নাসির হোসেন।

আজ বিকেলে আইসিসি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে এসব তথ্য। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটিতে আইসিসি লিখেছে, আমিরাত ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) পক্ষ থেকে এ অভিযোগ গঠন করেছে তারা। নাসিরের বিরুদ্ধে দুর্নীতিবিরোধী কোডের মোট তিনটি ধারা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে।

যে আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে, তারা হলেন- কৃষাণ কুমার চৌধুরী (অন্যতম মালিক), পরাগ সাংভি (অন্যতম মালিক), আজহার জাইদি (ব্যাটিং কোচ), সানি দিলন (সহকারী কোচ), শাদাব আহমেদ (টিম ম্যানেজার), আরব আমিরাতের স্থানী ক্রিকেটার রিজওয়ান জাভেদ, সালিয়া সামান এবং নাসির হোসেন (বাংলাদেশের ক্রিকেটার)।

তবে এই আট অভিযুক্তের মধ্যে ৬ জনকে (কৃষাণ কুমার চৌধুরী, পরাগ সাংভি, আজহার জাইদি, রিজওয়ান জাভেদ, সালিয়া সামান এবং সানি দিলনকে প্রাথমিকভাবে বহিস্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত সবাইকে ১৯ সেপ্টেম্বরের পর ১৪ দিনের মধ্যে অভিযোগের জবাব দিতে বলা হয়েছে আইসিসির পক্ষ থেকে।

২০২১ টি-টেন লিগের ম্যাচে দুর্নীতির চেষ্টা করা হয়েছিলো বলে অভিযোগ আইসিসির। যদিও সেই চেষ্টা নস্যাৎ করা হয়েছে। দুর্নীতি সফল করার সুযোগ পায়নি।

এমিরেটস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) মাধ্যমে আইসিসি ডেজিগনেটেড অ্যান্টি করাপশন অফিসিয়াল (ডাকো) নিয়োগ দিয়েছিলো টুর্নামেন্টটিতে ইসিবির অ্যান্টি করাপশন কোডের বাস্তবায়ন করার জন্য। সেই কর্মকর্তাই উপরোক্ত আটজনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনয়ন করেন।

নাসির হোসেনের বিরুদ্ধে যে তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে, তার মধ্যে প্রথমটি হলো- আর্টিকেল ২.৪.৩-এ বলা হয়েছে, ৭৫০ ডলার মূল্যের উপহার সম্পর্কে আইসিসির অফিসিয়ালের (ডাকো) কাছে তথ্য দিতে না পারার ব্যর্থতা।

দ্বিতীয় অভিযোগ হচ্ছে- নিয়ম অনুযায়ী ডাকো’র কাছে যে কোনো ধরনের দুর্নীতির প্রস্তাব, এ সম্পর্কে কারও চেষ্টা সম্পর্কিত তথ্য না দিতে পারার ব্যর্থতা। তৃতীয় অভিযোগ হচ্ছে- অভিযোগ অস্বীকার, আইসিসি কর্তৃক পরিচালিত তদন্তে কোনো সহযোগিতা না করা।

বাকি সবার মধ্যে যে ৬জনকে প্রাথমিকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে- তাদের সবার বিরুদ্ধে ম্যাচ পাতানোর চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। মালিক এবং কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অভিযোগ হলো, তারা কিছু কিছু ক্রিকেটারকেও ম্যাচ পাতানোর প্রস্তাব দিয়েছিলো।

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে স্বামী পরিত্যক্তা নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে স্বামী পরিত্যক্তা নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে স্বামী পরিত্যক্তা চল্লিশর্ধো এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই নারী বাদী হয়ে কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে অভিযোগ দায়ের করেছেন। আদালত অভিযোগটি দাউদকান্দি মডেল থানার ওসিকে তদন্তের দায়িত্ব প্রদান করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের সুরেরবাগ গ্রামের মৃত. তারু মিয়ার ছেলে নাছির উদ্দিন ওরফে ড্রেজার নাছির গত ছয় মাস যাবৎ বিভিন্ন সময়ে বাড়ির আশপাশে ঘুরাঘুরি করে অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে কুপ্রস্তাব দিত। তার প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় পরে সে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। এত রাজি না হওয়ায় গত ৬ সেপ্টেম্বর রাতে প্রকৃতির ডাকে ওই নারী ঘরের বাইরে গেলে পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা নাছির উদ্দিন মুখ চেপে ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরদিন সকালে এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে মীমাংসার কথা বলে এলাকার গণ্যমান্য লোকজন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মোঃ সেলিম মিয়া বলেন, কয়েকদিন আগে সুরেরবাগ গ্রামের নাছির উদ্দিন এক মহিলাকে জোড়পূর্বক ধর্ষণ করেছে বলে শুনেছি। ওই মহিলাকে সে বিয়ে করবে বলে এলাকার লোকজন বলাবলি করতো। বিষয়টি স্থানীয় লোকজন সমাধান করার জন্য চেষ্টা করেছে। এ নিয়ে গ্রামের মসজিদের সামনে বৈঠক বসলেও নাছির উদ্দিন উপস্থিত না হওয়ায় কোন সমাধান হয়নি। গ্রামবাসী পরে ওই মহিলাকে আইনের আশ্রয় নেয়ার জন্য বলে দিয়েছে।

ধর্ষণের শিকার ওই নারী বলেন, আমার স্বামী অনেক বছর খোজ খবর নেয়না।এক ছেলে এক মেয়ে চট্টগ্রামে থাকে। বাড়িতে আমি একা থাকি, প্রায় সময়ই নাছির আমাকে বিয়ে করার কথা বলে সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করতো। গত ৬ সেপ্টেম্বর প্রকৃতির ডাকে ঘর থেকে বের হলে সে কখন ঘরে ঢুকে যায় দেখিনি। আমি ঘরে যাওয়ার সাথে সাথে আমার মুখ চেপে ধরে নির্যাতন করে। আমার চিৎকার শুণে প্রতিবেশিরা আসলে নাসির পালিয়ে যায়।

মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ দুলাল মিয়া বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি, লিখিত বা মৌখিকভাবে কেউ জানায়নি।

দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মোঃ মোজাম্মেল হক বলেন, যেহেতু ধর্ষণের বিষয় আদলতে মামলা হয়েছে, তাই মামলার কপি না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কিছু বলতে পারবো না।

চুরি করতে গিয়ে যুবককে ছুরিকাঘাত, অতঃপর..

চুরি করতে গিয়ে যুবককে ছুরিকাঘাত, অতঃপর..

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীর সেনবাগে চোরের ছুরিকাঘাতে এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছে। পরে স্থানীয় এলাকাবাসী চোরকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে।

আহত জাহের হোসেন (২৮) উপজেলার দক্ষিণ মোহাম্মদপুর গ্রামের বদিউল আলমের ছেলে। অপরদিকে, গণপিটুনির শিকার মো.ফারুক (চোর) বেগমগঞ্জ উপজেলার মিয়ারপুর গ্রামের ভোলা মিয়ার ছেলে।

মঙ্গলবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ভোর রাতের দিকে উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ মোহাম্মদপুর গ্রামে এ ঘটা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোর রাতের দিকে জাকের হোসেনের ঘরে চুরি করতে ঢোকেন ফারুক। চোর ঘরে প্রবেশ করলে তার আওয়াজ শুনে বাড়ির মালিক জাকের হোসেন ঘুম থেকে উঠে পড়ে। এরপর চোরকে ধরতে গেলে চোরের হাতে থাকা ছুরি দিয়ে জাকের হোসেনকে গুরুতর জখম করে। পরবর্তীতে জাকেরের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে চোরকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। খবর পেয়ে সেনবাগ থানার পুলিশ তাকে ঘটনাস্থল থেকে চোরকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.নাজিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, বর্তমানে চোর এবং মালিক দুইজনই ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাসের নামে জিডি

চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাসের নামে জিডি

ডেস্ক রিপোর্ট:

ঢাকাই সিনেমার চিত্রনায়িকা অপু বিশ্বাসের নামে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন চলচ্চিত্র প্রযোজক ও চিত্রনায়িকা সিমি ইসলাম কলি। জিডিতে অপু ছাড়াও বিবাদী করা হয়েছে জাহিদুল ইসলাম অপু নামের আরেকজনকে।

সোমবার রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় জিডি করেন তিনি। জিডি নম্বর-১১১৫।

জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে- এই মর্মে জানাচ্ছি যে, আমি গত ২০১৬ সালের জুনে Hi sk Films int ও SKfilmsint 7712 খুলি। বিবাদী অপু বিশ্বাস (৩৫) ও জাহিদুল ইসলাম অপু (৩০) গত ২৯/০৮/২৩ ইং আনুমানিক ৭টায় আমার ইউটিউব চ্যানেল হ্যাক করেন। গত ৩১/০৮/২৩ ইং তারিখ সকাল ৮টার সময় ২ নম্বর বিবাদী ১ নম্বর বিবাদীর সঙ্গে কথা বলিয়ে দেবে বলে জানান।

আরও উল্লেখ করা হয়েছে, পরে ২ নম্বর বিবাদীর সঙ্গে মোবাইলে কথা বললে এক লাখ টাকা দাবি করেন। এ টাকা দিলে আমার ইউটিউব চ্যানেল দিয়ে দেবে, টাকা না দিলে ফেরত দেবে না বলে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি প্রদান করেন। বিষয়টি সাইবার ক্রাইম শাখায় কথা বলে সাধারণ ডায়েরি করা হলো।

অপু বিশ্বাসের সবশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘লাল শাড়ি’। কোরবানি ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত এ ছবিতে তার বিপরীতে ছিলেন সাইমন সাদিক। এদিকে মুক্তির অপেক্ষায় আছে অপু অভিনীত ‘ট্র্যাপ—দ্য আনটোল্ড স্টোরি’ নামের একটি সিনেমা। এতে তার বিপরীতে আছেন জয় চৌধুরী।

আইডিয়াল কলেজের সেই ছাত্রীকে নিয়ে এসেই স্থায়ী জামিন নিলেন মুশতাক

আইডিয়াল কলেজের সেই ছাত্রীকে নিয়ে এসেই স্থায়ী জামিন নিলেন মুশতাক

ডেস্ক রিপোর্ট:

রাজধানীর মতিঝিলের আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির দাতা সদস্য খন্দকার মুশতাক আহমেদ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন। এ সময় মুশতাকের সঙ্গে আদালতে সেই ছাত্রীও উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গলবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৮ এর বিচারক বেগম মাফরোজা পারভীন শুনানি শেষে জামিন মঞ্জুর করেন। সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী মো. মকলেছুর রহমান বিষয়টি জানিয়েছেন।

এদিন মুশতাক ওই ছাত্রীকে সঙ্গে নিয়ে আদালতে উপস্থিত হন। এর পর আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে স্থায়ী জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত ৫০ হাজার টাকা মুচলেকায় তার এ মামলায় স্থায়ী জামিন মঞ্জুর করেন। এর পর মুশতাক ও সেই ছাত্রী চলে যান।

এর আগে ১ আগস্ট ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ছাত্রীর বাবা মো. সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে এ মামলা করেন। আদালত তার জবানবন্দি গ্রহণ করে গুলশান থানার ওসিকে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের আদেশ দেন। এ মামলার অন্য আসামি হলেন অধ্যক্ষ ফাওজিয়া রাশেদী।

মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী মতিঝিল আইডিয়ালের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী। আসামি মুশতাক বিভিন্ন অজুহাতে কলেজে আসতো এবং ভিকটিমকে ক্লাস থেকে প্রিন্সিপালের কক্ষে ডেকে আনতো। খোঁজখবর নেওয়ার নামে আসামি ভিকটিমকে বিভিন্নভাবে প্রলোভন দেখিয়ে প্রলুব্ধ করতো।

কিছু দিন পর আসামি মুশতাক ভিকটিমকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে কুপ্রস্তাব দেয়। এতে রাজি না হওয়ায় ভিকটিমকে তুলে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক বিয়ে এবং তাকে ও তার পরিবারকে ঢাকা ছাড়া করবে বলে হুমকি দেয়।

ভিকটিম এ রকম আচরণের বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষকে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন। অধ্যক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা বলে আসামি মুশতাককে তার রুমে নিয়ে আসেন এবং ভিকটিমকেও ক্লাস থেকে নিয়ে এসে রুমের দরজা বন্ধ করে দিয়ে আসামিকে সময় ও সঙ্গ দিতে বলেন।

এ বিষয়ে অধ্যক্ষের কাছে প্রতিকার চাইতে গেলেও কোনো সহযোগিতা করেননি। বরং আসামি মুশতাককে অনৈতিক সাহায্য করতে থাকেন।

গত ১২ জুন ভিকটিমকে ঠাকুরগাঁওয়ের বাড়িতে নিয়ে গেলে আসামি মুশতাক তার লোকজন দিয়ে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এর পর বাদী জানতে পারেন আসামি ভিকটিমকে একেক দিন একেক স্থানে রেখে অনৈতিক কাজে বাধ্য করেছে এবং যৌন নিপীড়ন করছে।

ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপনে যুগান্তকারী রায়

ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপনে যুগান্তকারী রায়

ডেস্ক রিপোর্ট:

কর্মস্থল, এয়ারপোর্ট, বাসস্ট্যান্ড, রেলওয়ে স্টেশন, শপিং মলের মতো জনসমাগমস্থলে এবং সরকার নিয়ন্ত্রিত, পরিচালিত ও ব্যবস্থাপনায় বিধিবদ্ধ, স্বায়ত্তশাসিত ও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপনের নির্দেশনা দিয়ে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট। বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে প্রথম ৯ মাসের কোনো শিশুর রিটে এই রায় দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী ইবাদত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ ৬ পৃষ্ঠার এ রায় প্রকাশ করেছেন। রায়ের অনুলিপি ঢাকা পোস্টের হাতে এসেছে।

হাইকোর্ট রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেন, শিশুদের মাতৃদুগ্ধ পানের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং গুরুত্বপূর্ণ। এটা কোনোভাবেই অস্বীকার করার উপায় নেই যে, একটি শিশুর জন্মের পর থেকে ২ বছর পর্যন্ত তার মাতৃদুগ্ধ প্রয়োজন। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, মায়েরা সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সেক্টরে কাজ করে যাচ্ছেন। তাই সব ধরনের প্রতিষ্ঠানে ব্রেস্ট ফিডিং রুমের ব্যবস্থা থাকা আবশ্যক। শপিং মল, বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন, লঞ্চ ঘাটসহ সকল পাবলিক প্লেসে ব্রেস্ট ফিডিং রুম থাকা প্রয়োজন যাতে সকল মা তার শিশুদের মাতৃদুগ্ধের ব্যবস্থা করতে পারেন। কোনো মা ও শিশু যেন এই রিটের পিটিশনারদের মতো পীড়াদায়ক পরিস্থিতিতে না পরে।

রায়ে আদালত আরও বলেন, ব্রেস্ট ফিডিং রুমগুলো আলোবাতাসের সুব্যবস্থাসহ নিরাপদ ও সুসজ্জিত হতে হবে এবং মায়েরা যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবহার করতে করতে পারে।

রায়ে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপন করায় বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের প্রশংসা করে বলেন, তারা ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে যা এই কোর্ট প্রশংসা করে। যদিও ইতিমধ্যে অনেক জায়গায় ব্রেস্ট ফিডিং রুম করা হয়েছে তবুও অন্যান্য পাবলিক প্লেসে তা করে যেতে হবে। আদালত আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষ দ্রুততম যৌক্তিক সময়ের মধ্যে মায়েদের জন্য ব্রেস্ট ফিডিং রুম স্থাপনের সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

আদালতে রায়ের পর্যবেক্ষণে এই জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় আদালতে উপস্থাপনের জন্য পিটিশনার আইনজীবী ইশরাত হাসানকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। রায়ের শেষে আদালত উল্লেখ করেন, এর আগে কখনোই ৯ মাস বয়সী শিশু রিট দায়ের করেনি। এই শিশু ইতিহাস সৃষ্টি করল।

রায়ের বিষয়ে আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, ‘মা ও শিশুদের অধিকার রক্ষায় এটি একটি যুগান্তকারী রায়। আমাদের সংবিধানের ৩২ নম্বর অনুচ্ছেদে স্বীকৃত অন্যতম মৌলিক অধিকার জীবনের অধিকার বিষয়ে এ রায় নিঃসন্দেহে একটি ঐতিহাসিক রায়। উচ্চ আদালতে আমার ও আমার শিশু সন্তানের চার বছরের আইনি লড়াই সার্থক হয়েছে। আদালত রায়ে আমাদের পরিশ্রমের স্বীকৃতি দিয়েছেন।

‘আমি মনে করি আদালতের রায় অনুযায়ী সব জায়গায় ব্রেস্ট ফিডিং রুম ও বেবি কেয়ার কর্নার স্থাপন সম্পন্ন হলে বাংলাদেশ সারা বিশ্বের জন্য একটা উদাহরণ সৃষ্টি করবে, যা বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্য অনুসরণীয় হবে।’

গত ২ এপ্রিল এ বিষয়ে জারি করা রুল যথাযথ ঘোষণা করে বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী ও বিচারপতি কাজী ইবাদত হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। ওইদিন আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মো. রাশিদুল হাসান ও অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। সঙ্গে ছিলেন অ্যাডভোকেট তানজিলা রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ সাইফুজ্জামান।

৯ মাস বয়সী শিশুর রিট : হাইকোর্টের রুল

২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর কর্মস্থল, এয়ারপোর্ট, বাসস্ট্যান্ড, রেলওয়ে স্টেশন, শপিং মলের মতো জনসমাগমস্থলে এবং সরকার নিয়ন্ত্রিত, পরিচালিত ও ব্যবস্থাপনায় বিধিবদ্ধ, স্বায়ত্তশাসিত ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপনে রিট দায়ের করা হয়।

৯ মাস বয়সী শিশু উমাইর বিন সাদী ও তার মা অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান এ রিট দায়ের করেন। বাংলাদেশের উচ্চ আদালতে ৯ মাস বয়সী কোনো শিশুর এটাই প্রথম রিট। ছোট্ট শিশুর রিট পিটিশনার হতে আদালতের অনুমতিও নিতে হয়েছিল ওই সময়ে। রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, সমাজকল্যাণ সচিব, বিমান ও পর্যটন সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করা হয়।

রিটে বলা হয়, এমন পরিবেশে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপন করতে হবে যেখানে কোনো মা সন্তানকে বুকের দুধ পান করাতে কোনো অস্বস্তি বোধ করবে না বা যৌন হয়রানির শিকার হবে না। সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

রিটের শুনানি নিয়ে ওই বছরের ২৭ অক্টোবর হাইকোর্ট কর্মস্থল, এয়ারপোর্ট, বাসস্ট্যান্ড, রেলওয়ে স্টেশন, শপিং মলের মতো জনসমাগমস্থলে এবং সরকার নিয়ন্ত্রিত, পরিচালিত ও ব্যবস্থাপনায় বিধিবদ্ধ, স্বায়ত্তশাসিত ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে ব্রেস্ট ফিডিং ও বেবি কেয়ার কর্নার স্থাপনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন।

পরে রুল শুনানির ধারাবাহিকতায় ২০২০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রাহিম ও বিচারপতি মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ সারা দেশের কলকারখানা ও মিলগুলোতে দুই মাসের মধ্যে ব্রেস্ট ফিডিং রুম স্থাপনের নির্দেশ দেন। আদালতের এই অন্তবর্তীকালীন আদেশের পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও পাবলিক প্লেসে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার স্থাপন করা হয়।

রিট দায়েরের প্রেক্ষাপট

উমাইর মা-বাবার সঙ্গে বেড়াতে গিয়েছিল কক্সবাজারে। সমুদ্র সৈকতে বেড়ানো শেষে ঢাকায় ফেরার পথে কক্সবাজার বিমানবন্দরে উপস্থিত হন। সেখানে অনিবার্য কারণে ফ্লাইটে কয়েক ঘণ্টার বিলম্ব হয়। কিন্তু সেখানেই বিপদে পড়েন সে। প্রচুর ক্ষুধায় কান্না জুড়ে দেয় শিশু। কান্না থামাতে মা বুকের দুধ খাওয়ানোর উদ্যোগ নেন। কিন্তু তার মা শিশুটিকে দুধ খাওয়ানোর কোনো পরিবেশই পাচ্ছিলেন না। পরে ঢাকায় এসে শিশু উমাইরকে নিয়ে তার মা সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান হাইকোর্টে এ রিট দায়ের করেন। শিশু উমাইরের মা ওই সময় বলেছিলেন, অনেক কর্মস্থলে বা বাস, ট্রেন স্টেশনে ব্রেস্ট ফিডিং কর্নার না থাকায় মায়েদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। নিরাপদ পরিবেশের অভাবে ও যৌন হয়রানির ভয়ে মায়েরা শিশুদের বুকের দুধ পান করাতে পারেন না। অথচ একজন শিশুর মানসিক ও শারীরিক বৃদ্ধি ও পুষ্টির জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন মায়ের বুকের দুধ। আমার মতো হাজার হাজার মা এ সমস্যার সম্মুখীন হন।

এনআইডি সেবা সাময়িক বন্ধ

এনআইডি সেবা সাময়িক বন্ধ

ডেস্ক রিপোর্ট:

জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সার্ভার রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য আজ সকাল থেকে বুধবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা পর্যন্ত এনআইডি সংক্রান্ত সব সেবা বন্ধ রাখবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

ইসির ইনফরমেশন সিস্টেম ব্যবস্থাপনা অধিশাখার (এনআইডি) সহকারী প্রোগ্রামার আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, সার্ভারের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলমান থাকায় এনআইডি সংক্রান্ত সব সেবা ২০ সেপ্টেম্বর (বুধবার) দুপুর ২টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।

সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন ইসি। এর আগে গত ১৪ আগস্ট রাত ১২টা থেকে প্রায় ৩৮ ঘণ্টা এনআইডির সার্ভার বন্ধ রাখা হয়েছিল। সূত্র জানায়, হুমকির প্রেক্ষিতে সাইবার হামলা ঠেকাতে তখন এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

এদিকে, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বাংলাদেশে আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার পর থেকে সাইবার হামলা শুরু হয়েছে বলে দাবি করেছে একটি হ্যাকার গ্রুপ। নিজেদেরকে ভারতীয় হ্যাকার দাবি করে টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম গ্রুপে এই দাবি করা হয়। গ্রুপটি বলছে, ইতোমধ্যে দুটি বেসরকারি হাসপাতাল এবং নৌবাহিনীর ওয়েবসাইটে আক্রমণ চালানো হয়েছে।

গত ৩০ আগস্ট হ্যাকার গ্রুপ বাংলাদেশে সাইবার হামলার হুমকি দেয়। ৩ সেপ্টেম্বর আরেক ঘোষণায় ২৬ জানুয়ারিও সাইবার হামলা চালানোর হুমকি দেয়। এ নিয়ে গত ১২ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। এ সময় তারা সরকারি বেসরকারি গূরুত্বপূর্ণ সংস্থাগুলোকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়।

জানা গেছে, ইতোমধ্যে চালানো হামলাগুলো ডি-ডস আক্রমণ। এ প্রক্রিয়ায় ট্রাফিক বাড়িয়ে দিয়ে ওয়েবসাইটগুলো অচল করে রাখা হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি-বেসকারি প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলা বেড়েই চলছে। ১৫ আগস্ট থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত প্রায় ৩৬টি ওয়েবসাইট ও নেটওয়ার্কে হামলা চালিয়েছে ভারতীয় হ্যাকার গ্রুপ।