All posts by jitu

বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

ডেস্ক রিপোর্ট:

জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর থেকে বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমাদের এই সংসদের যথেষ্ট অবদান রয়েছে।

তিন সংসদ সদস্যের শোক প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শাহজাহান কামাল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের উকিল আব্দুস সাত্তার ও পটুয়াখালী-১ আসনের এম শাহজাহান মিয়ার মৃত্যুতে শোক জানায় জাতীয় সংসদ। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর উত্থাপিত এ সংক্রান্ত শোক প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে গ্রহণ করা হয়। এর আগে শোকপ্রস্তাবের ওপর সংসদে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারি ও বিরোধী দলের এমপিরা বক্তব্য রাখেন।

পরে সংসদে এক মিনিট নীরবতা ও দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন সরকার দলের এমপি হাফেজ রুহুল আমিন মাদানী।

শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী জানান, এবারের সংসদের অধিবেশনের প্রথম দিনটা আমাদের শোক প্রস্তাব নিতে নিতেই সময় গেল। এটা সব থেকে দুঃখজনক।

তিনি বলেন, একে একে আমরা অনেক সদস্যকে হারিয়েছি। কোভিডকালে তো ছিল আরো বেশি। এবার তিনজন সদস্য আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। তাদের বয়স হয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও ভোট-ভাতের অধিকারসহ গণতান্ত্রিক সংগ্রামে তাদের যথেষ্ট অবদান রয়েছে। মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে এ কে এম শাহজাহান কামাল ও এম শাহজাহান মিয়া যথেষ্ট ভূমিকা রেখেছেন। সবাইকে মরতে হবে জানি। তারপরও সংসদের শেষ বেলায় এসে সবাই আমাদের একে একে হারিয়ে যাচ্ছে। এটা আমাদের জন্য সত্যি কষ্টকর।

সংসদ নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর থেকে বাংলাদেশ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি ক্ষেত্রেই আমাদের এই সংসদের যথেষ্ট অবদান রয়েছে। এটাই বোধ হয় এই আমলের আমাদের শেষ অধিবেশন। আর সেই অধিবেশনটা শুরু করতে হলো কয়েকজন সংসদ সদস্যের মৃত্যুর সংবাদ দিয়ে।

মারা যাওয়া এমপিদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে তাদের ভূমিকার জন্য তাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি।

সংসদে এ সময় অন্যদের মধ্যে আমির হোসেন আমু, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আ স ম ফিরোজ, নূর উদ্দিন নয়ন, আনোয়ার হোসেন খান, মুহিবুর রহমান, কাজী কানিজ সুলতানা, মসিউর রহমান রাঙা, পীর ফজলুর রহমান বক্তব্য রাখেন।

দুই বছরের ওপর সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি নির্বাচনে অযোগ্য: হাইকোর্ট

দুই বছরের ওপর সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি নির্বাচনে অযোগ্য: হাইকোর্ট

ডেস্ক রিপোর্ট:

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা দুর্নীতির মামলায় দুই বছরের ওপর সাজাপ্রাপ্ত আসামি সাংবিধানিকভাবেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অযোগ্য বলে মন্তব্য করে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রায়ে এমন পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন।

এর আগের দেওয়া এক রায়ের পূর্ণাঙ্গ কপি রোববার (২২ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

‘মানুষের কল্যাণ করাটাই আমাদের একমাত্র দায়িত্ব’

‘মানুষের কল্যাণ করাটাই আমাদের একমাত্র দায়িত্ব’

ডেস্ক রিপোর্ট:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘এ মাটির সন্তান সবাই। এই মাটিতে নিজ নিজ অধিকার নিয়ে সবাই বাস করবেন। মহান মুক্তিযুদ্ধে সবাই একই যুদ্ধ করেছেন, এখানে সবার অধিকার রয়েছে। সে অধিকার যাতে সুপ্রতিষ্ঠিত থাকে আমরা সেই চেষ্টাই করি।’

‘আমরা চাইব, আপনারও বাংলাদেশের জন্য আশীর্বাদ করুন। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা, এখন ঘরে ঘরে খাবার আছে, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ আছে, চিকিৎসা সেবা মানুষের কাছে আমরা দিয়ে দিচ্ছি, সারা বাংলাদেশে যে উন্নয়নের ছোঁয়া, এটা মানুষের কল্যাণেই আমাদের কাজ। মানুষের কল্যাণ করাটাই আমাদের একমাত্র দায়িত্ব।’

রবিবার দুপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে পূজামণ্ডপে ভক্তদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি জে এল ভৌমিক ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. চন্দ্রনাথ পোদ্দার উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ সবসময় উদার মনের, তারাও সব সময় অসম্প্রদায় চেতনাকে বিশ্বাস করে। যে কারণে আজকে আমাদের স্লোগান, ধর্ম যার যার উৎসব সবার। সবাই আমরা ঠিকই এভাবে উৎসব পালন করে যাচ্ছি।’

পূজা শান্তিপূর্ণভাবে হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সবার আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। আমি বলব, আমাদের যতটুকু করার আমি করেছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা সবসময় বিশ্বাস করি, সব ধর্ম-বর্ণের মানুষ সমান অধিকার ভোগ করবে। আপনারা শান্তিপূর্ণভাবে পূজা শেষ করেন, সেটাই আমরা চাই। আইনশৃঙ্খলা কর্মী থেকে শুরু করে আমাদের প্রত্যেক নেতা থাকবে, যাতে কোনো ধরনের ঘটনা না ঘটতে পারে। সেদিকে আমরা সতর্ক থাকব। আমরা চাই, আপনারা ভালোভাবে পূজা উদযাপন করেন।’

তিনি আরও বলেন, ’৭৫ পর বাংলাদেশকে অসাম্প্রদায়িক চেতনা থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে গিয়েছিল। হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর অনেক অত্যাচার নির্যাতন হয়েছে। ’৯২, ২০০১ ও তার আগে বার বার আঘাত এসেছে। কিন্তু বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সবসময় আপনাদের পাশে ছিল, পাশে আছি।’

বিএনপির আন্দোলনে পুলিশকে বাধা না দেওয়ার আহ্বান ফখরুলের

বিএনপির আন্দোলনে পুলিশকে বাধা না দেওয়ার আহ্বান ফখরুলের

ডেস্ক রিপোর্ট:

বিএনপির চলমান শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বাধা না দিতে পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানান তিনি।

আগামী ২৮ অক্টোবর ঢাকায় মহা-সমাবেশ সফল করতে দলীয় কার্যালয়ে যৌথ সভা ডাকা হয়। সভার পর সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন মির্জা ফখরুল।

মির্জা ফখরুল জানায়, আমরা প্রশাসনকে বলতে চাই, বিশেষ করে পুলিশ প্রশাসনকে, আপনারা কোথাও অহেতুক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবেন না। প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করবেন না। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে আমরা যে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি এতে বাধা সৃষ্টি করবেন না। এটা সম্পূর্ণভাবে সুষ্ঠু নির্বাচনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া হবে। সেটা মনে রেখে অবশ্যই সহযোগিতা করবেন বলে বিশ্বাস করি।

তিনি জানায়, সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক হলো, সরকারি কর্মকর্তা যারা আইনশৃঙ্খলার দায়িত্বে রয়েছেন, তারা হুমকি দিচ্ছেন ধমক দিচ্ছেন। হুঙ্কার দিচ্ছেন, যদি কোনো ব্যাঘাত ঘটে তারা শক্ত হাতে দমন করবেন, হাত ভেঙে দেবেন।

সরকারি দলের বিরুদ্ধে এখনই মামলা হতে হবে বলে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, যে হুমকি তারা দিয়েছেন, বিশেষ করে গতকাল প্রধানমন্ত্রী হুমকি দিয়েছেন, তার আগে ওবায়দুল কাদের বলেছেন- হাত ও দাঁত ভেঙে দেওয়া হবে। এসব বিষয়ে তারা (প্রশাসন) কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। উল্টো বিরোধী দলকে নির্মূল করার জন্য সরকারের সঙ্গে একজোট হয়ে কাজ করছে।

এ সরকার আবারও এক তরফা নির্বাচন করার পাঁয়তারা করছে অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, যেটা ২০২৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে করেছে, এবারও সেই একই পাঁয়তারা হচ্ছে।

গত ১৮ অক্টোবর বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ৪৭টি মামলা দিয়েছে জানিয়ে দলটির শীর্ষ এই নেতা বলেন, এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে ১২ হাজার ৭৩০ জনকে। এছাড়া ৪৬০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কল্পনা করুন, আমরা কোন রাজ্যে, কোন সমাজে বাস করছি।

এখন আবার গায়েবি মামলা দেওয়া শুরু করেছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ৪৭টি একেবারে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। আপনারা বলুন, ১৮ অক্টোবর থেকে কোথায় কী হয়েছে? কোথাও কিছু হয়নি, কিন্তু মামলা হচ্ছে।

পুলিশের আইজিপির সঙ্গে বিএনপির প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎতের প্রসঙ্গ তুলে ধরে ফখরুল জানান, তাদেরকে বলা হয়ছিল এসব (গায়েবি ও মিথ্যা মামলা) বন্ধ করুন। কিন্তু তারা সেটা বন্ধ করা তো দূরে থাক আরো নতুন গায়েবি মামলা দেওয়া শুরু করেছে।

বিএনপির সমাবেশ নিয়ে নিরাপত্তার কোনো শঙ্কা নেই: ডিবি প্রধান

বিএনপির সমাবেশ নিয়ে নিরাপত্তার কোনো শঙ্কা নেই: ডিবি প্রধান

ডেস্ক রিপোর্ট:

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, ‘আগামী ২৮ অক্টোবর বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার কোনো শঙ্কা নেই। তবে আমাদের যেই নিয়মিত নিরাপত্তা টহল-চেকপোস্ট চলে, সেটা চলবে।’

রোববার সকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

ডিবিপ্রধান জানান, ‘রাজনৈতিক দলগুলো তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করবে। আমরা সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেবো। আগামী ২৮ অক্টোবর বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে আমাদের কাছে নিরাপত্তার কোনো শঙ্কা নেই।’

বিএনপি নেতাদের গ্রেফতারের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেন, ‘রাজধানীতে নানা উন্নয়নমূলক কাজ চলছে। কেউ যেন অপরাধমূলক কাজ বা বিশৃঙ্খলা করতে না পারে, তাই আমরা নিয়মিত টহল দিয়ে থাকি। আমাদের যেই নিয়মিত নিরাপত্তা টহল, চেকপোস্ট চলে- সেটা চলবে। কোনো রাজনৈতিক দলের সমাবেশকে কেন্দ্র করে চেকপোস্ট, টহল চলে না। আপনারা দেখবেন এটা আমরা নিয়মিতই করি।’

বিএনপি আগুন সন্ত্রাসের হুমকি দিচ্ছে: ওবায়দুল কাদের

বিএনপি আগুন সন্ত্রাসের হুমকি দিচ্ছে: ওবায়দুল কাদের

ডেস্ক রিপোর্ট:

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা শহর দখলের নামে আগুন সন্ত্রাসের হুমকি দিচ্ছে বিএনপি। এসব করে লাভ হবে না। তাদের (বিএনপি) খায়েশ পূরণ হবে না।

রোববার (২২ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষ্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনের সিডিউল হবে নভেম্বরের মাঝামাঝি। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে জানুয়ারিতে। নভেম্বরে নির্বাচনের ট্রেন ছেড়ে দেবে, মিস করলে পিছিয়ে পড়বেন। কারও জন্য অপেক্ষা করবে না। যথাসময়ে সংবিধান অনুযায়ী আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

তিনি বলেন, সংবিধানকে যারা কচুকাটা করেছে, তারাই এখন সংবিধান মানে না। অস্বাভাবিক তত্ত্বাবধায়ক সরকার উচ্চ আদালত বাদ দিয়েছে। আওয়ামী লীগ বাদ দেয়নি। যে জিনিস নাই, সেটা দাবি করছে বিএনপি। এদেশে আর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আসবে না। এই সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে। কারও জন্য নির্বাচন আটকে থাকবে না। কেউ আসুক আর না আসুক, তার জন্য অপেক্ষা করা হবে না।

ওবায়দুল কাদের বলেন, যারা মনে মনে স্বপ্ন দেখছেন রাস্তা অবরোধ, দখল করে আগের মতো বাস পুড়িয়ে, মানুষ পুড়িয়ে আপনারা আপনাদের ইচ্ছামতো সংবিধানকে কচুকাটা করবেন; সেই স্বপ্ন কোনদিনও পূরণ হবে না। সেটা আমরা হতে দেব না। এই সংবিধান ব্যবস্থা বহাল রেখে নির্বাচন হবে। কারও জন্য নির্বাচন আটকে থাকবে না।

তিনি আরও বলেন, আমরা জাতিকে বিভক্ত করছি না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এই দেশকে গড়তে চাই। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ, আদর্শ-চেতনাকে আপনারা ধ্বংস করেছেন। ভোট চুরি করেছেন। ২০০৬ সালে নির্বাচন করতে গিয়ে দেখা গেছে আপনারা ভুয়া ভোটার তৈরি করেছেন। কাজে আমাদের সঠিক জায়গায় আসতে হবে। এ দেশকে সংবিধান অনুযায়ী চালাতে হবে। নির্বাচন ব্যবস্থা সংবিধান অনুযায়ী চালাতে হবে। এর বাইরে যারা যাবেন এবং অবরোধ দখলের হুমকি দিয়ে সেই খায়েশ পূর্ণ হবে না।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি বেগম রওশন আরা মান্নান, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান নুর মোহাম্মদ মজুমদার, হাইওয়ে পুলিশ প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি এ কে এম শাহাবুদ্দিন খান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মশিউর রহমান রাঙ্গা, মহাসচিব এনায়েত উল্যাহ খন্দকার, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাজাহান খান, সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী, নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)- এর চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন প্রমুখ।

দাউদকান্দিতে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত

দাউদকান্দিতে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত

জাকির হোসেন হাজারী, দাউদকান্দি প্রতিনিধি:

“আইন মেনে সড়কে চলি, স্নার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলি” এ প্রতিপাদ্যে দাউদকান্দিতে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত হয়েছে।

রবিবার বেলা সাড়ে ১১ টায় ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দির গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ডে নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) এবং দাউদকান্দি হাইওয়ে থানার যৌথ উদ্যোগে সমাবেশ ও বর্ণাঢ্য র‍্যালী অনুষ্ঠিত হয়।

নিরাপদ সড়ক চাই দাউদকান্দি উপজেলা শাখার আহ্বায়ক লিটন সরকার বাদল ও সদস্য সচিব আলমগীর হোসেনের যৌথ সঞ্চলনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী সুমন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: মহিনুল হাসান, হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়ন এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আহমেদ রাজিউর রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার (দাউদকান্দি সার্কেল) এনায়েত কবীর সোয়েব, দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: মো: তৌহিদ আল হাসান, গৌরীপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো: আসাদুজ্জামান, দাউদকান্দি ফায়ার সার্ভিসের এসও মোহাম্মদ রাসেল, দাউদকান্দি প্রেস ক্লাব সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন হাজারী, কুমিল্লা উত্তর জেলা শ্রমিক লীগের সভাপতি মো: রকিব উদ্দিন, নিসচার পৃষ্টপোষক মো: কামাল উদ্দিন, গৌরীপুর মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সভাপতি মো: মহিউদ্দিনসহ র‍্যালী ও সমাবেশে নিসচা’র সদস্য, উপজেলা প্রশাসন, হাইওয়ে ও জেলা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, স্বাস্থ্য বিভাগ, সড়ক ও জনপদ বিভাগ, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠন, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক সহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ অংশ গ্রহণ করেন।

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় একাধিক কর্মকর্তা জড়িত, বিপুল অর্থের লেনদেন

ডেস্ক রিপোর্ট:

মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির জনবল নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ফাঁসের সঙ্গে অধিদপ্তরের একাধিক পদস্থ কর্মকর্তা জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার আগে ও পরের সিসি ক্যামেরা (ক্লোজ সার্কিট) ফুটেজ থেকে তাদের প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাদের অভিযোগ-পরীক্ষার আগে জেলায় জেলায় প্রশ্নপত্র পাঠিয়েছে নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব উপপরিচালক আবুল কাশেমের কম্পিউটার অপারেটর মো. শাহজাদা। আবুল কাশেম পশ্নপত্র ফাঁসের মূল পরিকল্পনাকারী।

এছাড়া জেলা পর্যায়ের একাধিক উপরিচালক, সংস্থার প্রধান কার্যালয়ের দুজন সহকারী পরিচালক এবং একজন অফিস সহায়কের নাম উঠে এসেছে। এক্ষেত্রে মোটা অঙ্কের টাকার লেনদেন হয়েছে। এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।

এ বিষয়ে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মুহাম্মদ ওয়াহেদুজ্জামান  বলেন, তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলমান।

অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা ও চাকরি প্রত্যাশীদের অভিযোগ-মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় পাশ করিয়ে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় নিয়োগ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্টরা। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার ঘটনা জানাজানি হয়ে গেলে ওই পরীক্ষা বাতিল করা হয়।

২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর ৫০৪টি পদে জনবল নিয়োগে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সংস্থাটি। ২৭ জন ডে-কেয়ার ইনচার্জ, ৬০ জন অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক এবং ৪১৭ জন অফিস সহায়ক নিয়োগ দেওয়ার কথা।

১৩ অক্টোবর রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট ২০টি কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীরা প্রবেশ করার পর হঠাৎ জানানো হয় পরীক্ষা নেওয়া হবে না। কোনো কারণ উল্লেখ না করে এবং পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই এমন ঘোষণায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পরীক্ষায় অংশ নিতে আসা শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রধান ফটকে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। অনেকে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফরিদা পারভীন  বলেন, পরীক্ষাটি সম্ভবত পিএসসি এবং মন্ত্রণালয় নিতে পারে। আমি সবটুকু জানি না। আমার গলা ব্যথা এখন কথা বলতে পারছি না।

তিনি সংস্থাটির পরিচালক মনোয়ারা ইশরাতের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। এরপর মনোয়ারা ইশরাত যুগান্তরকে বলেন, যা ঘটেছে তা নিয়ে তদন্ত হচ্ছে। যেহেতু বিষয়টি তদন্তাধীন সেহেতু এ বিষয়ে এখন কোনো কথা বলতে চাই না।

১৩ অক্টোবর প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব আবুল কাশেম এবং তার কম্পিউটার অপারেটর মো. শাহজাদা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত বলে অধিদপ্তরের একাধিক কর্মকর্তা  জানান। শাহজাদার মূল পদ হচ্ছে হিসাবরক্ষক কাম ক্রেডিট সুপারভাইজার। তবে সে আবুল কাশেমের একান্ত অনুগত এবং কম্পিউটার অপারেটর হিসাবে কাজ করেন।

শাহজাদা নিজেই প্রশ্নপত্র তৈরির সময় ছিলেন এবং বগুড়া জেলার উপপরিচাক মো. শহিদুল ইসলামকে হোয়াটঅ্যাপে পাঠান।

এ বিষয়ে জানাতে চাইলে বগুড়ার উপপরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম শনিবার মোবাইল ফোনে  বলেন, ‘পরীক্ষার দিন সকাল ৬টার দিকে আমার হোয়াটসঅ্যাপে একটি মেসেজ আসে। প্রথমে মনে করেছি আমার মেয়ের প্রশ্ন। পরে পড়ে দেখি অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে জনবল নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র। পাঠিয়েছে প্রধান কার্যালয় থেকে শাহজাদা। কারণ তার নম্বর আমার মোবাইল ফোনে আগে থেকেই সেভ করা ছিল। আমি প্রথমে স্ক্রিনশট নিতে গিয়ে ভুলে তা ফেসবুকে শেয়ার হয়ে যায়। ফেসবুকে শেয়ার হওয়ার বিষয়টি আমার জানা ছিল না। কারণ আমি মোবাইলের ব্যবহার ভালোভাবে জানি না। পরে আমাকে সংস্থার প্রধান কার্যালয় থেকে ফোন করে ঢাকায় এনে লিখিত ও মৌখিক সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

উপপরিচালক শহিদুল ইসলাম আরও জানান, অপরাধের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলে তো অস্বীকার করতাম। মিথ্যার আশ্রয় নিতাম। আমি ঘটনা স্বীকার করে কর্তৃপক্ষের কাছে জবানবন্দি দেওয়ার পর কাশেম সাহেবের কম্পিউটার অপারেটর আমাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। সে বলেছে তার কিছু হলে সে আমাকে ছাড়বে না। সংস্থার পরিচালকের উপস্থিতিতেই সে আমাকে হুমকি দিয়েছে। তখন আমি বলেছি, ম্যাডাম নিরাপত্তার জন্য আমি জিডি করতে চাই।

সংস্থাটির একাধিক পদস্থ কর্মকর্তা জানান, নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব আবুল কাশেম জেলায় জেলায় ডিডিদের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থী সংগ্রহ করে তাদের লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন সরবরাহ করেন। তার সহযোগী হিসাবে ছিলেন কম্পিউটার অপারেটর শাহজাদা। বিপত্তি ঘটে বগুড়ার ডিডি ভুলে প্রশ্নপত্র ফেসবুকে শেয়ার করায়। ঘটনার পরপরই সংস্থাটির পরিচালক মনোয়ারা ইশরাতের জিজ্ঞাসাবাদে শাহজাদা বলেন, তার স্ত্রী মোবাইল ফোন থেকে সব তথ্য মুছে ফেলেছেন।

কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই শাহজাদা এবং আবুল কাশেমের বক্তব্য রেকর্ড করেছে। তাদের বক্তব্য রেকর্ড করার সময় আবুল কাশেম ও শাহজাদা নিজেদের নির্দোষ দাবি করলে সংস্থাটির পরিচালক মনোয়ারা ইশরাত বলেছেন, কাশেম সাহেব আপনি ক্যাঙ্গারু হলে শাহজাদা ক্যাঙ্গারুর বাচ্চা। শাহজাদা আপনার কম্পিউটার অপারেটর। সে আপনার সঙ্গে ডিউটি করে। আপনারা কিভাবে নির্দোষ দাবি করছেন।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ-প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে উপপরিচালক মো. আবুল কাশেম ও তার কম্পিউটার অপারেটর মো. শাহজাদা ছাড়াও বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী জড়িত আছেন।

নিয়োগ কমিটিতে সচিবের প্রতিনিধি হিসাবে থাকা যুগ্মসচিব নাহিদ মঞ্জুরা আফরোজ  বলেন, আমি এ বিষয়ে কথা বলতে চাই না। আমার কোনো সম্পৃক্ততাও নেই।

উপপরিচালক মো. আবুল কাশেমের মন্তব্য নিতে সোম ও বৃহস্পতিবার মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে গিয়ে জানা গেছে, তিনি অফিসের বাহিরে আছেন। এরপর ওই ২ দিন তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি। পাশাপাশি এই প্রতিবেদক পরিচয় দিয়ে একই নাম্বারে এসএমএস পাঠিয়ে তার বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু শনিবার রাত ৮টা পর্যন্ত এসএমএসের উত্তর আসেনি।

মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (এডি) মো. আব্দুল অদুদ  বলেন, আমি নিয়োগ কমিটিতে নেই। সুতরাং কিছুই জানি না। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর ১৩ ও ১৪ তারিখ উপরিচালক মো. আবুল কাশেমের রুম তালা দিয়ে রাখে কর্তৃপক্ষ। পরে সেই রুম খুলে দেওয়া হয়।

সোম ও বৃহস্পতিবার অধিদপ্তরে গিয়ে উপপরিচালক আবুল কাশেমের কম্পিউটার অপারেটর মো. শাহজাদাকেও পাওয়া যায়নি। তবে একজন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারী এই প্রতিবেদককে জানান, ‘আপনার সাংবাদিক পরিচয় জেনে সে গা-ঢাকা দিয়েছে। অফিসেই আছেন।’

সূত্র: যুগান্তর।