Tag Archives: এনজাইম

পুষ্টিগুণে ভরপুর আনারস, সুস্থ থাকতে প্রতিদিন যতটুকু খাবেন

 

লাইফস্টাইল ডেস্কঃ

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে খেতে পারেন আনারস। ফ্ল্যাভোনয়েড থাকায় আনারস পুষ্টিগুণেও ভরপুর।

সহজলভ্য এই আনারসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে রোগ প্রতিরোধী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা শরীরকে ফিট ও সুস্থ রাখবে। আনারস ফাইবার, ভিটামিন-সি, পটাশিয়াম, ফোলেট, ম্যাগনেসিয়াম ও ম্যাঙ্গানিজ সমৃদ্ধ।

প্রতিদিন যতটুকু আনারস খাবেন

একজন সুস্থ স্বাভাবিক ব্যক্তি প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ টুকরো আনারস খেতে পারেন। কখনই একটা পুরো আনারস একসঙ্গে খাবেন না। আনারস রস করে না খেয়ে চিবিয়ে খেতে হবে। আনারস রস করে খেলে ফাইবারের পরিমাণ অনেকটাই কমে যায়।

স্বাস্থ্য উপকারিতা

১. আনারসে রয়েছে স্বাস্থ্যকর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা স্ট্রেস কমাতে সহায়তা করে।

২. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় আনারস। এতে রয়েছে ভিটামিন, খনিজ এবং এনজাইম, যা সম্মিলিতভাবে অনাক্রম্যতা বাড়িয়ে তুলতে এবং প্রদাহকে দমন করতে সাহায্য করে।

একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মত আনারস খান, তাদের ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়া দ্বারা সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কম।

৩. আনারস ওজন নিয়ন্ত্রণ করে। আনারসে থাকে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার এবং ফ্যাটের পরিমাণ অনেকটাই কম, যা শরীরের ওজনকে নিয়ন্ত্রণ রাখতে সাহায্য করে।

৪. আনারসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম ও ম্যাঙ্গানিজ। এ দুই উপাদান হাড়কে শক্ত করতে এবং হাড়ের গঠনে সাহায্য করে। এ ছাড়া দাঁতের সুরক্ষায়ও কার্যকর।

৫. হজম ক্ষমতা বাড়ায় এই ফল। বদহজম বা হজমজনিত যে কোনো সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে সাহায্য করে। এতে থাকে প্রচুর পরিমাণে পানি ও ফাইবার, যা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।

৬. বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, আনারসে থাকে বিটা ক্যারোটিন, যা চোখের রেটিনাকে ঠিক রাখতে সাহায্য করে।

৭. আনারসে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি ও পটাশিয়াম, যা হৃদরোগ প্রতিরোধ করে।

তথ্যসূত্র: বোল্ডস্কাই

পেঁপে খেলে উপকারের বদলে যাদের হতে পারে ক্ষতি

 

লাইফস্টাইল ডেস্কঃ

পেঁপের উপকারিতা সম্পর্কে সবারই কমবেশি ধারণা আছে। পেঁপে কাঁচা বা পাকা দুই অবস্থাতেই খাওয়া যায়। অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ পেঁপে ত্বক ও চুলের জন্য বিশেষভাবে উপকারী।

এ ছাড়াও পেঁপেতে থাকে প্যাপেইন নামক এনজাইম। যা খাদ্যের বিপাক প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। হৃদরোগ এবং উচ্চ কোলেস্টেরল রোগীদেরকে পেঁপে খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

তবে জানেন কি? পেঁপে শুধু স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী নয়, বরং ক্ষতির কারণও হতে পারে। বয়স্কদের পাশাপাশি ছোটদের ক্ষেত্রে পেঁপে ক্ষতিকর হতে পারে। জেনে নিন পেঁপে খেলে শারীরিক যেসব সমস্যা হতে পারে-

>> চিকিৎসকদের পরামর্শ মতে, এক বছরের কম বয়সী শিশুদেরকে পেঁপে খাওয়ানো উচিত নয়। পেঁপেতে অনেক ফাইবার থাকে, যা ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে সমস্যার কারণ হতে পারে।

কারণ শিশুরা কম পানি পান করে। এতে তাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভুগতে হতে পারে। তাই কাঁচা অথবা রান্না কোনো অবস্থাতেই শিশুদেরকে পেঁপে খাওয়ানো উচিত নয়।

>> গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রে পেঁপে ক্ষতিকর হতে পারে। চিকিৎসকরা গর্ভাবস্থায় নারীদের পেঁপে খাওয়া এড়ানোর পরামর্শ দেন। পেঁপের বীজ, শিকড় এবং পাতা গর্ভের শিশুর জন্য ক্ষতিকর।

কাঁচা পেঁপেতে থাকা প্যাপেইন দেহের ঝিল্লি ক্ষতিগ্রস্ত করে। এ ছাড়াও পেঁপে ল্যাটেক্সসমৃদ্ধ, যা জরায়ুর সংকোচন, রক্তপাত এবং এমনকি গর্ভপাত ঘটাতে পারে।

>> যাদের শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা আছে; তাদের জন্য পেঁপে ক্ষতিকর। পেঁপেতে উপস্থিত একটি এনজাইমকে অ্যালার্জেন বলে। এর অতিরিক্ত গ্রহণের ফলে শ্বাসকষ্টজনিত অসুস্থতা যেমন হাঁপানির মতো সমস্যা বাড়তে পারে।

>> হজমের সমস্যা বাড়ায় পেঁপে। কোষ্ঠকাঠিন্যে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সাধারণত পেঁপে খেতে বলা হয়। তবে অতিরিক্ত খেলে এতে উপস্থিতি পেটে জ্বালা-পোড়া ভাব এবং ব্যথা হতে পারে।

এতে উপস্থিত প্রচুর পরিমাণে ফাইবার হজম সিস্টেমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। গবেষণায় জানা গেছে, পেঁপে অতিরিক্ত খেলে ফোলাভাব, পেট ফাঁপা এবং বমিভাব হতে পারে।

>> ডায়াবেটিস রোগীর জন্যও পেঁপে ক্ষতিকর হতে পারে। এতে থাকা নানা পুষ্টি উপাদান টাইপ-১ এবং টাইপ-২ ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করে।

তবে বেশি পরিমাণে পেঁপে খাওয়া ডায়াবেটিস রোগীর জন্য বিপজ্জনক। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের পেঁপে খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।