স্টাফ রিপোর্টার:
স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ভারে দাউদকান্দির বারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রার্থীর পরাজয়ের সমুহ আশঙ্কা রয়েছে। মনোনয়ন পাওয়া আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীর চেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জনপ্রিয়তা ও বিত্তবান হওয়ায় এই অবস্থা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণায় বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষে আওয়ামী লীগের বড় একটি অংশের গোপন সমর্থন রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া উপজেলা আওয়ামীলীগের অনেকেই নৌকার প্রার্থীর সাথে প্রকাশ্যে থাকলেও গোপনে বিরোধিতা করছেন বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে গেলে ভোটাররা জানান, আওয়ামীগের অনেকেই প্রকাশ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষে ভোট চাইছেন এবং সমর্থনও জানিয়েছেন । কেন ভোট চাইছেন নৌকার বিপক্ষে এমন প্রশ্নে নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকেই জানান, কেন্দ্র থেকে মনোনয়ন দিতে প্রার্থীদের নাম চাওয়া হয়। সে সময় তালিকায় যাদের নাম অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেওয়া হয় তাদের অনেকেই মনোনয়ন বঞ্চিত হয়েছেন। ফলে উপজেলা কমিটির কেউ কেউ বিষয়টি মেনে নিতে পারেননি বা মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীকে অনেকেই যোগ্য বলে মনে করছেন না । তাই বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্রকে বিজয়ী করতে গোপন মিশনে নেমেছেন।
এসব বিষয় নৌকার প্রার্থী জানলেও ভোট হারানোর ভয়ে এখন মুখ খুলছেন না। নৌকার প্রার্থী মনির হোসেন জানান, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে কারা কাজ করেছে তা জনসমক্ষে জানাবেন।
সঠিক ও যোগ্য প্রার্থীকে মনোনয়ন না দেওয়াই প্রধান কারণ বলে মনে করছেন ভোটাররা। সরেজমিনে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। নির্বাচনে শেষ মূহুর্তের প্রচার প্রচারণা এখন তুঙ্গে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে গ্রাম এলাকাগুলো নির্বাচনী আমেজে ভরপুর হয়ে ওঠে। গ্রামাঞ্চলের বাজার থেকে শুরু করে চা এর টেবিল, প্রার্থীদের নির্বাচনী কার্যালয় ঘিরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। এদৃশ্য গভীর রাত পর্যন্ত দেখা যায়।
তবে সরকার দলীয় নৌকা মার্কার প্রার্থীর চেয়ে অন্যান্য প্রার্থীদের মাঠে সরব দেখা গিয়েছে। এখন পর্যন্ত নৌকা মার্কার প্রার্থীর পক্ষে প্রচার প্রচারণায় দেখা যায়নি জেলা উপজেলার নেতাদের। তবে প্রচার প্রচারণায় বাধ্যবাধকতা থাকায় স্থানীয় সংসদ সদস্য সুবিদ আলী ভূইয়া সঙ্গত কারণেই অংশ নেননি। তবে নৌকা মার্কার প্রার্থীর পক্ষে এখন পর্যন্ত জেলা এবং উপজেলার কোন নেতাকে মাঠে সরব ভূমিকা পালন পালন করতে দেখা যায়নি বলে তৃণমূলের নেতা কর্মীরা জানান।
নির্বাচনী মাঠে এখনও নেই কেন এবং উপজেলা কমিটির কেউ কেউ গোপনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করছেন এমন অভিযোগ অস্বীকার করলেন উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন শিকদার। তিনি জানান, নৌকার প্রার্থীকে সমাবেশ ডাকার জন্য বলা হলেও তিনি ডাকেননি। তবে আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পক্ষে কেউ কাজ করলেও সেটা আমার জানা নেই।
এদিকে ভোটার ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের সাথে আলাপকালে জানা গেছে, এখানে নৌকার প্রার্থীর পরাজয় হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তবে নির্বাচনী মাঠে ভোটের পরিবেশ, পরিসংখ্যান ও ভোটারদের অবস্থান সময়ে সময়ে বদল হয়। তাই কে জিতবে কে হারবে তা নিশ্চিত হতে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। আগামী ১৬ মার্চ বারপাড়া ইভিএম পদ্ধতিতে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। চেয়ারম্যান পদে নয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন মনির হোসেন তালুকদার(নৌকা), মাজহারুল ইসলাম(আনারস), মোঃ আলাউদ্দিন( ঘোড়া), এ কে আজাদ(টেবিল ফ্যান), আমীর হোসেন( অটোরিকশা), মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ মিয়া( মোটরসাইকেল), নজিবুল বশর সাদ্দাম( রজনীগন্ধা), মোঃ মোবারক হোসেন (চশমা) ও সুমন মিয়া( টেলিফোন)। নয়টি ওয়ার্ডের অস্থায়ীসহ ৬০টি ভোট কক্ষে ইভিএম পদ্ধতিতে এই ইউনিয়নে ভোট গ্রহন অুষ্ঠিত হবে। এখানে মোট ভোটার ১৮ হাজার ২৫৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৯হাজার ২৪৩ এবং মহিলা ৯ হাজার ১৪ জন।