Tag Archives: কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত

স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে কুমিল্লা উত্তর জেলা আ’লীগের বর্ধিত সভা

স্টাফ রিপোর্টার:
সারাদেশে করোনা প্রতিরোধে লকডাউন বৃদ্ধিকল্পে গত ১৬ জুন মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের উপ-সচিব মো. রেজাউল করিমের স্বাক্ষরিত চিঠির (স্মারক নং ১৮৪) ‘ঘ’ এর কলামে আছে জনসমাবেশ হয় এধরণের সামাজিক (বিবাহোউত্তর অনুষ্ঠান, জন্মদিন, পিকনিক, পার্টি ইত্যাদি), রাজনৈতিক জনমাবেশ ও ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান বন্ধ থাকবে। অথচ কুমিল্লার মুরাদনগরে গাড়ি বহর নিয়ে সাত উপজেলার নেতা-কর্মীরা স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে সমবেত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) সকাল ৯ টা থেকে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার নূরুন্নাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বর্ধিত সভাকে কেন্দ্র করে ওই জনসমাগম ঘটে।

বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন, আওয়ামীলীগ কেন্দ্রিয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ এমপি। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাবেক ডেপুটি স্পিকার অধ্যাপক আলী আশরাফ এমপি, জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাইদ আল মাহমুদ স্বপন এমপি এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর।

কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ম. রুহুল আমিন এর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক হাজী রোশন আলী মাস্টারের সঞ্চালনায় উত্তর জেলার ৬ জন এমপিসহ কমিটির সংশ্লিষ্ট নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মুরাদনগর নূরুন্নাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, হঠাৎ করে এতো লোকের সমাগমে আমরা আতকে ওঠি। ৯৫% মানুষের মুখে মাস্ক ছিলনা। লোকে লোকারন্য হয়ে গেছে স্কুলের চার পাশ।

মুরাদনগর ডি.আর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির কয়েকজন ছাত্র বলেন, আজকে রেজিষ্ট্রেশনের টাকা জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল। লোকে লোকারণ্য হয়ে যাওয়ায় এবং পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই স্কুলের প্রধান সড়ক বন্ধ থাকায় টাকা জমা দিতে পারি নাই। লোকজনের ভীড় ঠেলে কোন রকম বাড়ি ফিরে এসে এখন আতংকে আছি।

বর্ধিত সভার স্থল থেকে একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, সভায় ঢাকা থেকে এক অতিথিকে মাস্ক পরিধান না করে নাস্তা দেওয়ায় তিনি নাস্তার প্লেট ছুড়ে ফেলে দেন।

কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ম. রুহুল আমিনের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুঠোফোনে তিনি বলেন, আমরা মাইকিং বা পোষ্টার করি নাই। শুধু কমিটির লোকজনকে চিঠি দিয়ে দাওয়াত করেছি। এত লোক সমাগম দেখে আমি নিজেই হতভাগ।

দেবিদ্বারে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের শপথ গ্রহণ

মোঃ জামাল উদ্দিন দুলালঃ

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ নিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২ টায় চট্টগ্রামের সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে এ শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। শপথ পাঠ করিয়েছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এ বি এম আজাদ। স্থানীয় সরকার উপসচিব মো. দেলোয়ার হোসেনের অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনায় এসময় উপস্থিত ছিলেন উপসচিব এবিএম বদিউল আলম, দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রাকিব হাসান।

আরও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি অ্যাড.নিজাম, শেখ আবদুল আউয়াল, সদস্য মো.আলমগীর কবির, কালীপদ মজুমদারসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সাংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও রাকিব হাসান বলেন, দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদের নব নির্বাচিত চেয়ারম্যান মো. আবুল কালাম আজাদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শপথ পাঠ করান চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার এ বি এম আজাদ।

উল্লেখ্য, একই সময়ে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে অন্যান্য উপজেলা ও পৌরসভার পৌরসভার সাধারণ নির্বাচনে নব নির্বাচিত মেয়র সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর ও সাধারণ আসনের কাউন্সিলর শপথ পাঠ করানো হয়।

মুরাদনগরে সাজানো মামলায় আ’লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের হয়রানির অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার রামচন্দ্রপুর উত্তর ইউনিয়নের উপ-নির্বাচনে কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো: আল-আমিন সরকারকে প্রধান আসামি করে আ’লীগের অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয় । ৩ ডিসেম্বর দায়ের করা একটি মামলায় ২৫ জন নেতাকর্মী এবং ১১ তারিখ দায়ের করা সংঘর্ষের অপর মামলায় ৬ জন নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালন করছেন তিনজন মেম্বার রয়েছে। সাজানো মামলায় তাদের আসামি করে ক্লিন ইমেজ নষ্ট করার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে-এমনই মন্তব্য করেছেন স্থানীয় আ’লীগ, ব্যবসায়ি ও সুশীল সমাজের লোকজন।

মামলাগুলোর উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি মোঃ মজিবুর রহমান ভূইয়া, উত্তর রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আ: হাকিম, বাংগরা বাজার থানা শ্রমিক লীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক ছাদেক মেম্বার,কুমিল্লা উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সদস্য অসিত বরণ সরকার ও কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো: আল-আমিন সরকার, নরেশ মেম্বার ও আবু সাইদ মেম্বারসহ আরো অনেকে। আসামিরা সবাই কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রবীণ রাজনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম সরকার সমর্থিত নেতাকর্মী ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আ’লীগের দলীয় কোন্দলের বহি:প্রকাশ এই দুইটি মামলা। রামচন্দ্রপুর উত্তর ইউনিয়নের উপ-নির্বাচনে আ’লীগের দলীয় প্রার্থী মো: ইকবাল সরকারকে পরাজিত করার জন্য প্রবীণ রাজনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম সরকার সমর্থিত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলাগুলো দেয়া হয়েছিল। নির্বাচনে নৌকা প্রতিকের প্রার্থীর পরাজয় নিশ্চিত করতে এই দুটি মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে আ’লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের সক্রিয় নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়। এ উপ-নির্বাচনে আ’লীগের দলীয় প্রার্থী মো: ইকবাল সরকার ছিলেন প্রবীণ রাজনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম সরকার সমর্থিত। অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু বকর আ’লীগের আরো একটি গ্রুপের সমর্থন নিয়ে নির্বাচন করেছিল।

এ বিষয়ে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার হারুন মেম্বার জানান, এই দুইটি মামলাই সাজানো । ২ ডিসেম্বর বিকেলের দিকে ইউনিয়নের চাপিতলা গ্রামে অর্তকিত হামলা চালায় প্রায় ৩০ টা মোটরসাইকেলে করে আসা প্রায় ৬০/৭০ জন সন্ত্রাসী। প্রথমে কুমিল্লা উত্তর জেলা আ’লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম সরকারের বাড়ি ও পরে জায়েদ আলী মার্কেট এলাকায় নৌকা প্রতিকের প্রার্থী মো: ইকবাল সরকারের গণসংযোগে হামলা করে সন্ত্রাসীরা । এ সময় দুই জায়গায় ৬ রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে সন্ত্রাসীরা । এ সময় স্থানীয় জনগণ বহিরাগত সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করে। এই বহিরাগত সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গিয়ে উল্টো মামলা করে। যেখানে নির্দোষ নেতাকর্মীদের আসামি করে ।এ মামলায় উল্লেখিত আসামিরা ঘটনাস্থলেও ছিল না। আপনারা সিসি ক্যামেরা চেক করলেই দেখতে পারবেন। শুধুমাত্র রাজনৈতিক হয়রানি ও নৌকা প্রতিকের প্রার্থীকে ফেল করানোর জন্যই এ মামলা দায়ের করা হয়। নির্বাচনের পরদিনও ভুয়া অভিযোগ এনে আবার মামলা করে। এই মামলা দুটির অভিযোগ বানোয়াট। দু:খজনক বিষয় হলো মুরাদনগর আ’লীগের মূল স্রোতকে ধ্বংস করার জন্য এই মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীর মেম্বার জানান, এ মামলা দুটি বানোয়াট মামলা। জনগণের ধাওয়া খেয়ে অস্ত্রধারি সন্ত্রাসীরা পালিয়েছে। অথচ তারাই গিয়ে উল্টো সাজানো মামলা করে আসামি করলো নিরপরাধ নেতাকর্মীদের। যারা ঘটনাস্থলেই ছিল না। হামলা যারা করেছে, সাজানো মামলাটাও তারা করেছে।

এ বিষয়ে রামচন্দ্রপুর বস্ত্র ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাসানুর রহমান জানান, নির্বাচন বানচাল ও প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্যই এই ভিত্তিহীন বানোয়াট মামলা। পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিদের এই মামলা দুটিতে আসামি করা হয়েছে , যাদের এই এলাকায় পূর্বে কোন নেতিবাচক কার্যকলাপ নেই। একটি অশুভ শক্তির প্রশয়ে এসব মামলা হয়েছে।

কুমিল্লা উত্তর জেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান ভূইয়া জানান, কবির ভূইয়ার নেতৃত্বে দুই জায়গায় হামলা করেছে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সন্ত্রাসীরা। অথচ উল্টো মামলার আসামি করা হয়েছে আমাদের । যে কবির ভূইয়া বাদি হয়ে মামলা করেছে সে নিজেই অস্ত্র মামলার আসামি।
রামচন্দ্রপুর উত্তর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো: ইকবাল সরকার জানান, এই দুটি মামলাই মিথ্যা অভিযোগে দায়ের করা হয়েছে। ২ ডিসেম্বর বিকেলে চাপিতলা গ্রামে কুমিল্লা উত্তরের প্রবীণ রাজনীতিবিদ জাহাঙ্গীর আলম সরকারের বাড়ি ও পরে জায়েদ আলী মার্কেট এলাকায় আমার গণসংযোগে হামলা করে গুলিবর্ষণ করে সন্ত্রাসীরা । হামলার খবর শুনে স্থানীয়রা সন্ত্রাসীদের ধাওয়া করে। মামলায় উল্লেখিত আসামিরা ঘটনাস্থলেই ছিল না। তাদের ক্লিন ইমেজ নষ্ট করার জন্যই এ হামলা করা হয়েছে। এছাড়া কোরের পাড় এলাকায় হামলার কথা উল্লেখ করে মামলা করা হয়েছে। ওই এলাকায় প্রায় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। কে বা কারা হামলা করেছে অথচ মামলার আসামি করা হয়েছে আ’লীগের সক্রিয় রাজনীতিবিদদের। যে দুই জন আহত হয়েছে তাদের সাথে আমি কথা বলেছি। তারাও বলেছে –মামলায় যারা আসামি হয়েছেন তারা হামলার সময় ছিলেন না। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে মামলায় ভুল ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে।

কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো: আল-আমিন সরকার জানান, স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর সুযোগ্য কণ্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে আর্দশ মেনেই সততা ও নিষ্ঠার সহিত দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগের রাজনীতি করছি। কুমিল্লা উত্তর জেলাজুড়ে ছাত্রলীগের রাজনীতিকে ত্বরান্বিত ও জনগণের আস্থার জায়গায় নেওয়ার জন্য কাজ করেছি। নৌকা প্রতিকের প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট চেয়েছি। কোথায় কি হামলা হয়েছে তাও জানি না। অথচ দুটি মামলায় আমাকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। আমার ক্লিন ইমেজ নষ্ট করার জন্যই এসব মামলা দায়ের করা হয়েছে। বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রধান অভিভাবক মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

চান্দিনা পৌর নির্বাচন: প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে আ’লীগে চরম কোন্দল  

 

ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু:

কুমিল্লার চান্দিনা পৌরসভা নির্বাচনকে ঘিরে আ’লীগে এখন চরম কোন্দল বিরাজ করছে। পৌর মেয়র মো. মফিজুল ইসলামকে নৌকা প্রতিকের মনোনয়ন না দেয়া এবং বিভিন্ন ওয়ার্ডে পুরাতন কাউন্সিলরদের মনোনয়ন না দেয়ার আশংকায় চান্দিনা আ’লীগে দেখা দিয়েছে কোন্দল। কোন্দল দৃশ্যমান না হলেও আ’লীগের ঐক্য যে ভাঙ্গনের মুখে তা আর বলার উপেক্ষা রাখে না। দলীয় মনোনয়ন না পেলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মেয়র মফিজ। ফলে নৌকা প্রতিকের প্রার্থীর বিজয় অনেকটাই অনিশ্চিত বলা যায়, কারণ আ’লীগের ভোট এখন দুভাগ হয়ে যেতে পারে।

স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, সবাই ভেবেছিল বর্তমান পৌর মেয়র মো. মফিজুল ইসলাম মেয়র পদে পুনরায় নৌকার প্রতিক পাবে। স্থানীয় সাংসদ অধ্যাপক আলী আশরাফও মফিজুল ইসলামের পক্ষেই ছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানায়। অপর দিকে উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা মো. শওকত হোসেন ভূইয়ার পক্ষে ছিলেন এমপির ছেলে উপজেলা আ’লীগের সভাপতি মোন্তাকিম আশরাফ টিটু। দিন শেষে মনোনয়ন পেয়ে সবাইকে চমকে দেন শওকত হোসেন ভূইয়া। এরপরই মূলত আ’লীগে অর্ন্ত:কোন্দল শুরু হয়। বর্তমান মেয়র মফিজও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার ঘোষণা দেন। এখন নেতাকর্মীদের মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে। আ’লীগের ভোট কে পাবেন এটাই এখন ধোয়াশা। ৫ বছর পৌর মেয়র ও পৌর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদকের পদে দায়িত্ব পালন করা মফিজের মাঠ প্রায় গোছানো । অপরদিকে নৌকা প্রতিকের প্রার্থী শওকত হোসেন সেই গোছানো মাঠ কতটুকু নিজের নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবেন এখন সেটাই প্রশ্ন ।

এ বিষয়ে জানতে আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা মো. শওকত হোসেন ভূইয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও পৌর আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক বর্তমান মেয়র মো. মফিজুল ইসলাম জানান, পৌর এলাকায় আমার জনপ্রিয়তা ৭০ ভাগ। সাধারণ ভোটার ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের আশ্বাস, সমর্থন ও ভালবাসা নিয়ে আমি অবশ্যই নির্বাচনে অংশগ্রহণ  করবো। আর নৌকা যে ব্যক্তি পেয়েছে, তার হাতে নৌকা নিরাপদ নয়। ভুল লোকের হাতে নৌকা প্রতিক দেয়া হয়েছে। আমি স্বতন্ত্র থেকেই নির্বাচন করে ইনশাল্লাহ জয়ী হবো।

এদিকে চান্দিনার বিভিন্ন ওয়ার্ডে চলমান কাউন্সিলরদের অনেকেই দলীয় মনোনয়ন পাবেন না বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। ৩ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর তাজুল ইসলামের পরিবর্তে পৌর উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম সম্পাদক মোখলেছুর রহমানের ছেলে প্রবাস ফেরত রুবেল মনোনয়ন পেতে পারেন বলে জানা গেছে। কাউন্সিলর তাজুল ইসলাম এলাকায় বেশ জনপ্রিয় বলে বিভিন্ন জন দাবি করেছে।

৫ নং ওয়ার্ডে প্যানেল মেয়র কাজী জাফর উল্লাহ আজাদকে সরিয়ে এমপি আলী আশরাফের ভাইরার ছেলে তোফায়েল আহমেদ জনিকে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হতে পারে। স্থানীয় সূত্রমতে, কাজী জাফর উল্লাহ আজাদ এলাকায় বেশ জনপ্রিয়। রাজনৈতিক জীবনে তিনি এমপি আলী আশরাফের একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে স্বীকৃত। গত সাংসদ নির্বাচনেও অধ্যাপক প্রাণ গোপালের গ্রুপে অনেকেই চলে গেছেন বা গোপনে আতাত করলেও কাজী জাফর উল্লাহ আজাদ ছিলেন ব্যতিক্রম। তিনি আলী আশরাফের বাইরে যাওয়ার চিন্তে করেন নি। স্থানীয় সূত্র জানান, কাজী জাফর উল্লাহ আজাদকে দলীয় মনোনয়ন না দিলে তা হবে আত্মঘাতি সিদ্ধান্ত।

৬ নং ওয়ার্ডে কাউন্সিলর সুরুজ ভূইয়াকে পরিবর্তন করে পৌর যুবলীগের যুগ্ম সম্পাদক নজরুল ইসলামকে মনোনয়ন দেয়া হতে পারে। ১, ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত কাউন্সিলর ২৭ বছর ধরে জনপ্রতিনিধিত্ব করা মিনুয়ারা বেগমকে সরিয়ে ডা. প্রাণ গোপাল সমর্তিত মোর্শেদা বেগমকে মনোনয়ন দেয়া হতে পারে। ৪, ৫ ও ৬ নং ওয়ার্ডের সংরক্ষিত কাউন্সিলর নাসরিনকে মনোনয়ন নাও দেয়া হতে পারে। এ জায়গায় ডা. প্রাণ গোপালের সমর্থক আমেনা আক্তারকে মনোনয়ন দেয়া হতে পারে।

ফলে মনোনয়ন পরিবর্তনের ফলে বিভিন্ন ওয়ার্ডে অর্ন্তকোন্দল বাড়তে পারে। তবে কয়েকটি ওয়ার্ডে কিছু কাউন্সিলরের ব্যাপক নেতিবাচক কর্মকান্ডের কারণে আ’লীগের ইমেজ চরমভাবে ক্ষুন্ন হয়েছে।

এফবিসিসিআইয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চান্দিনা উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোন্তাকিম আশরাফ টিটু আজকের কুমিল্লাকে জানান, ২৭ ডিসেম্বর পৌর আ’লীগের মিটিং অনুষ্ঠিত হবে। ওই মিটিংয়ে আশা করি মনোমালিন্য শেষ হয়ে যাবে। শেষ পর্যন্ত পৌর মেয়র মফিজ সাহেব নির্বাচন করবে না বলে আমি মনে করি। তিনি নৌকা প্রতিকের পক্ষেই কাজ করবেন। আর যদি শেষ পর্যন্ত তিনি দলের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করেন তাহলে আ’লীগের ভোটব্যাংকের তেমন ক্ষতি হবে না। কারণ দলের বাইরে গিয়ে কেউ ভোট দিবে না। তিনি ব্যক্তিগত ভোট হয়তো কিছু পাবেন। বেশিরভাগ ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থী পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক উপায়ে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়া হবে। অনেকেই আছেন যাদের জনপ্রিয়তা ছিল, কিন্তু ৫ বছরে নেতিবাচক কর্মকান্ডের কারণে জনপ্রিয়তা হারিয়েছেন, এমন লোকজন মনোনয়ন পাবে না। দলই সিদ্ধান্ত নিবে কারা মনোনয়ন পাবে। তবে যোগ্য ব্যক্তিরাই মনোনয়ন পাবে।

এ দিকে মেয়র পদে ৭ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছেন জেলা রিটার্নিং অফিসার ও সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী ও উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা মো. শওকত হোসেন ভূইয়া, আওয়ামীলীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ও পৌর আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক বর্তমান মেয়র মো. মফিজুল ইসলাম, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাবেক মেয়র শাহ মো. আলমগীর খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক মেয়র মো. আবদুল মান্নান সরকার, চান্দিনা বাজারের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজী মো. শামীম হোসেন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি এলডিপি মনোনীত প্রার্থী মো. জামশেদ আহমেদ জাকি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত প্রার্থী কাজী রেজাউল করিম। এছাড়া সংরক্ষিত মহিলা আসনে ৭জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। অপরদিকে সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৪৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪৭ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।

আগামী ১৬ জানুয়ারি ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) এর মাধ্যমে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এই পৌরসভায়। এই পৌরসভায় মোট ভোটার প্রায় ৩২ হাজার।

দেবিদ্বারে  আ’লীগ কর্মীকে পিটিয়ে আহত: ২ লাখ টাকা ছিনতাই

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলায় পূবালী ব্যাংক থেকে ২ লাখ টাকা উত্তোলন করে বাড়ি ফেরার পথে সাদ্দাম বাহিনীর হামলায় গুরুতর আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন উপজেলা আওয়ামীলীগ কর্মী সাইফুল ইসলাম। সাইফুলকে আহত করে তার সাথে থাকা দুই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় সাদ্দাম বাহিনী।

রবিবার (২০ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।

আহত মো: সাইফুল ইসলাম উপজেলার পদ্মকোট গ্রামের মৃত. তাজুল ইসলামের ছেলে। তিনি কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মো: রৌশন আলী মাস্টারের একনিষ্ঠ কর্মী।

আহত সাইফুলের আত্মীয় স্বজন জানান, সাইফুল ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে রাস্তায় বের হলে সাদ্দাম হোসেন ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী তার উপর হামলা করে মারধর করে জোরপূর্বক একটি গাড়িতে তুলে ছাত্রাবাসের সামনে এনে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর করে হত্যা করার চেষ্টা করে। এসময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে সন্ত্রাসীরা তার সাথে থাকা ২ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। তাকে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। বর্তমানে তার অবস্থা আশংকাজনক।

হামলাকারীরা হলেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য সাদ্দাম হোসেন, পুরান বাজারের দুলাল মিয়ার ছেলে জহির, ইউসুফপুর গ্রামের মোসলেমের ছেলে সজীব, ইকরা নগরীর সাইদ হোসেন, মাস্টার বাড়ির নাজিম, ওমানীর বাড়ির পাশের মাসুম ও তার ছোট ভাই স্বাধীনসহ আরও অনেকে।

 

হোমনা যুবলীগের সম্মেলনকে ঘিরে বিভিন্ন স্থান ও রাস্তাঘাট সর্বত্র সাজানো হয়েছে নতুন সাজে

 

জাকির হোসেন হাজারীঃ

যুবলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নতুন সাজে সাজানো হয়েছে কুমিল্লার হোমনা উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্র্ণ স্থান ও রাস্তাঘাট।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি টোল প্লাজা থেকে শুরু করে গৌরীপুর-হোমনা সড়কের সর্বত্র এখন শোভা পাচ্ছে রংবেরংয়ের তোরণ, ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড। দীর্ঘ আট বছর পর ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

মঙ্গলবার ২২ ডিসেম্বর হোমনা হাইস্কুল মাঠে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এ জন্য কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবলীগের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।

যুবলীগের এ সম্মেলন উপলক্ষে দাউদকান্দি, তিতাস ও হোমনা উপজেলা সদরসহ সর্বত্রই জনসমাগম ঘটে এমন স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে বাহারী তোরণসহ বিলবোর্ড, ব্যানার ফেস্টুন আর পোষ্টার। তৃণমূল আওয়ামী লীগ থেকে শুরু করে এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী ও সমর্থকের পক্ষ থেকে এগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। দাউদকান্দির গৌরীপুর থেকে হোমনা পর্যন্ত প্রায় দেড় শতাধিক তোরণ নির্মাণ করা হচ্ছে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্ধদের শুভেচ্ছা জানাতে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের উপজেলা যুবলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন হবে একটি কার্যকরী ও সুন্দর। সম্মেলনে কেন্দ্রীয় যুবলীগ ও জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন আওয়ামী যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মাইনুল হোসেন খান নিখিল, বিশেষ অতিথি থাকবেন কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য মঞ্জুর আলম শাহীন, এম শাহাদাৎ হোসেন তাসলিম, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. হেলাল উদ্দিন, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ম. রুহলি আমিন, সাধারণ সম্পাদক রোশন আলী মাষ্টার প্রমূখ।

সম্মেলনে প্রধান বক্তা কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী যুবলীগের আহবায়ক বাহাউদ্দিন বাহার এবং বিশেষ বক্তা যুগ্ন-আহবায়ক সারোয়ার হোসেন বাবু।

সম্মেলনটি উদ্বোধন করবেন কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের সংসদ সদস্য সেলিমা আহমাদ এমপি এবং সভাপতিত্ব করবেন হোমনা উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক খন্দকার নজরুল ইসলাম।

কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ন-আহবায়ক সারোয়ার হোসেন বাবু জানান, এবারের সম্মেলন হবে অনেক উন্নত অনেক বলিষ্ঠ সম্মেলন। গত ২০১২ সালে আমরা যেটা করতে পারিনি। এবারের সম্মেলনে তৃণমূলের নেতৃত্ব¡ প্রতিষ্ঠিত হবে। কাউন্সিলের মাধ্যমে আমরা একটি চমৎকার কমিটি উপহার দিতে চাই। যারা মানুষ ও দেশের কল্যাণে কাজ করবে। আর বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলাদেশ ও জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করাই হবে এবারের সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য।