Tag Archives: কুমিল্লার বরুড়ায় ইউপি চেয়ারম্যানের উপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

কুমিল্লার বরুড়ায় ইউপি চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে জোরপূর্বক দোকান দখল

মোঃ উজ্জ্বল হোসেন বিল্লালঃ

কুমিল্লার বরুড়ায় ১৫০-২০০ জন সন্ত্রসীবাহিনী আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশী অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা, ভাংচুর জোরপূর্বক দোকান দখলের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে উপজেলার ভাইউকসার ইউনিয়নের কয়েকজন বাসিন্দা।

সোমবার (২৯ আগস্ট) ভাউকসার বাজারে এই সংবাদ সম্মেলন করেন ভাউকসার এলাকার মৃত সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে আবুল কাসেম ও আবুল কালাম, রফিকুল ইসলাম, শাহ আলম, রবিউল আলমসহ স্থানীয়রা।

এসময় আবুল কালাম বলেন, গত ২২ শে আগস্ট গালিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রবিউলের নেতৃত্বে আবু তাহের ও আব্দুর রশিদ, সোহাগ, বাবর মিয়া, বকুল খান, হিরন মিয়াসহ ১৫০-২০০ জনের সন্ত্রসীবাহিনী আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা, ভাংচুর এবং জোরপূর্বক ভাবে দোকান দখল করে। সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, আমাদের পৈত্রিক ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্ত মালিকানাধীন ও দখলীয় ভাউকসার পশ্চিম বাজারস্থিত মেইন রোড সংলগ্ন ভাউকসার পয়ালগাছা রোডের দক্ষিণ পাশে সিদ্দিক মার্কেটের সত্যাধিকারী। কিন্তু আবু তাহের ও আব্দুর রশিদ ভূয়া দলিল করে মালিকানা দাবী করছে। তারা বিভিন্ন দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে তাদের নামে বিএস রেকর্ড করিয়া নেয় এবং মালিকানা দাবী করে। উক্ত মালিকানার বিষয়ে কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে একটি বন্টন মামলা করি। যাহার মামলা নম্বর-৫৮/০৯ ইং। উক্ত মামলাতে আমরা ডিগ্রী প্রাপ্ত হই। এতে বিবাদীরা ক্ষিপ্ত হয়ে কুমিল্লার জেলা ও দায়রা জজ আদালতে একাধিক মামলা চলমান থাকা অবস্থায় রবিউল ও তাহেররা সন্ত্রাসী ভাড়া করে আমাদের মার্কেট ভাংচুরসহ জায়গা বেদখল, মারধর ও ব্যাপকভাবে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। এতে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতি হয়। ঘটনার দিন ২২ শে আগস্ট সাড়ে ১০ টা হতে সাড়ে ১১টার সময় এ হামলা করে। আমরা নিরুপায় হয়ে জরুরী সেবায় ৯৯৯ এ কল দিয়ে ঘটনার বিস্তারিত বরুড়া থানা পুলিশকে জানাই। পুলিশের উপস্থিতিতে আবু তাহের মৃত অহেদ আলী প্রকাশ্যে ভাউকসার বাজারে বলেন, যে এমপি নাছিমুল আলম চৌধুরী নজরুল সাহেবের নির্দেশেই এই ভাংচুর করেছে তারা। থানা কর্তৃপক্ষ উক্ত বিষয়ে কোনো প্রতিকার না করায় কুমিল্লার বিজ্ঞ আদালতে দ্রুত বিচার পাওয়ার জন্য ১৫০-২০০ জন সন্ত্রাসীবাহিনীর বিরুদ্ধে ২৪ আগস্ট মামলা করি। কিন্তু দুঃখের বিষয় থানা কর্তৃক আমরা পূর্বে কোন বিচার পাইনাই বিধায় আদালতে মামলা দায়ের করি। আদালত আবারও বরুড়া থানাকেই তদন্তের ভার দেয়। আমরা বিজ্ঞ আদালতে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছি যে , আমরা বরুড়া থানা কর্তৃক উক্ত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কোন ন্যায় বিচার পাবো না। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও অপরাধীদের গ্রেফতারের দাবিতে উক্ত সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করলাম।

এ ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত আবু তাহের বলেন, আমরা সম্পত্তির মালিক। আর আমাদের এমপি সাব বলছে এটা আমরা নিতে। তাই আমরা এসেছি আমাদের জায়গা নিতে। হামলার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে বলেন আপনাদের অন্য কিছু জানার থাকলে বলেন।

অভিযুক্ত গালিমপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম বলেন, এখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়। যদিও আবু তাহের একজন বিএনপি নেতা কিন্তু আমরা আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় কোন অন্যায় হতে দিতে পারিনা। তাই আবু তাহেরের জায়গা তাকে বুঝিয়ে দিতে সেখানে গেছি। কে তার দোকান ভেঙেছে তা আমরা জানিনা।

বরুড়া থানার ওসি ইকবাল বাহার মজুমদার বলেন, গত ২২ ই আগষ্ট ৯৯৯ এ ফোন পাওয়ায় আমি ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি যেন কোন প্রকার অপৃতিকর ঘটনা না ঘটে। যেহেতু দুই পক্ষের মধ্যে আদালতে দেওয়ানি কোটে মামলা চলে এটি আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুমিল্লার বরুড়ায় ইউপি চেয়ারম্যানের উপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

 

এমডি. আজিজুর রহমান, বরুড়া:

কুমিল্লা জেলার বরুড়ায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নাজমুল হাসান সরদারের উপর হামলার প্রতিবাদে এলাকাবাসীর উদ্যোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (২২ মে) বিকাল ৩টার দিকে উপজেলার খোশবাস বাজারে এ মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় বক্তব্য রাখেন খোশবাস ওয়ার্ড সভাপতি মালু মিয়া, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকসান অফিসার আক্তার হোসেন, আওয়ামিলীগ উপদেষ্টা তোফাজ্জল হোসেন ভুঁইঞা, আওয়ামিলীগের সদস্য নুরুল আমিন, আর্মি আনোয়ার, রফিকুল ইসলাম, ইব্রাহিম খলিল প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা, বরুড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ফরহাদ হোসেনের ছোট ভাই ফয়সালসহ হামলাকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান করেন। হামলায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

উল্লেখ্য, গত ২১ মে সন্ধ্যা ৭ টার দিকে খোশবাস ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল হাসান সরদার তার অসুস্থ বাবা মফিজুল ইসলামকে চিকিৎসা করানোর জন্য কুমিল্লা রেসকোর্স হিউম্যান হসপিটালে নিয়ে আসেন।

বাবাকে হসপিটালে ভর্তি করিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান নাজমুল হাসান সরদার রাস্তায় আসার পর দুর্বৃত্তরা অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় নাজমুল হাসানের মাথায় কুপ লেগে রক্তক্ষরন হয়। ঘটনাস্থলেই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

পরে স্থানীয়দের সহায়তা হিউম্যান হসপিটালে প্রাথমিক চিকিৎসা করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা নিয়ে যাওয়া হয়।