Tag Archives: হত্যাকান্ড

হোমনার মনিপুরে ৩ খু’নের হ’ত্যাকারীদের গ্রেপ্তা’রের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল

 

রাসেল আহমেদ, হোমনা :

কুমিল্লার হোমনা উপজেলার মনিপুর গ্রামে চাঞ্চল্যকর একই পরিবারের ৩জন কে জ’বাই করে হ’ত্যার ঘটনায় দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৪ মার্চ) সকাল ১০ টায় এলাকাবাসীর আয়োজনে মনিপুর বাজারে এ মানববন্ধন ও বিক্ষো’ভ পালিত হয়। এতে নি’হতদের স্বজন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, ছাত্রছাত্রীসহ গ্রামের সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, “ চাঞ্চল্যকর এ হ’ত্যাকান্ডের ১৬ দিন অতিবাহিত হলেও এই নৃ’শংস হ’ত্যাকাণ্ডের আসামিরা এখনও গ্রেফতার হয়নি। আমরা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি— অবিলম্বে খু’নিদের গ্রে’ফতার করে সর্বোচ্চ শা’স্তি নিশ্চিত করা হোক।”

তারা আরও বলেন, এই ঘটনার পর থেকে এলাকায় আ’তঙ্ক ও ক্ষো’ভ বিরাজ করছে। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় অপ’রাধীরা বেপরোয়া হয়ে উঠতে পারে।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন পরিবারের সদস্য ছাড়া ও চট্টগ্রামের জব্বারের বলীখেলার চ্যাম্পিয়ন কুস্তিগীর বাঘা শরীফ, মো. রেজাউল করিম, মো.শহিদুল্লাহ প্রমুখ। মানববন্ধন শেষে একটি বি’ক্ষোভ মিছিল মনিপুর গ্রাম প্রদক্ষিণ করেন।

উল্লেখ্য, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রাতে উত্তর মনিপুর গ্রামের প্রবাসী জহিরুল ইসলামের স্ত্রী পাপিয়া আক্তার সূখি (৩২), তার চার বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ হোসাইন এবং ভাতিজা জুবায়ের (৫)-কে গ’লাকেটে হ’ত্যা করা হয়। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষো’ভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। কিন্ত হ’ত্যার রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ।

হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো৷. মোরশেদ আলম চৌধুরী জানান, মানববন্ধন করা নাগরিক অধিকার। তবে হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে কাজ করছে পুলিশ সহ কয়েকটি সংস্থা। আশা করছি দ্রুত এর রহস্যউদঘাটন করতে সক্ষম হবো।

রং নম্বরে পরিচয়, পরকীয়ার জেরে প্রবাসীর হাতে মা-মেয়ে খুন: পুলিশ

 

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

পরকীয়া প্রেমিকের সাথে টাকা নিয়ে টানাপোড়েনে কারণে মা-মেয়েকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছেন নোয়াখালীর পুলিশ সুপার মো.শহীদুল ইসলাম।

বুধবার (১৪ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে সুধারাম মডেল থানা প্রাঙ্গণে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন পুলিশ সুপার মো.শহীদুল ইসলাম। এর আগে, একই দিন বেলা সাড়ে ১০টার দিকে নোয়াখালী পৌরসভার ৫নম্বর ওয়ার্ডের গুপ্তাংকের বার্লিংটন মোড় সংলগ্ন কচি মিয়ার বাসার দ্বিতীয় তলায় এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে।

গ্রেফতারকৃত আলতাফ হোসেন (২৮) লক্ষীপুর জেলার রামগতি উপজেলার চরবাদাম ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের আব্দুল মুনাফের বাড়ির মৃত আবুল কালামের ছেলে এবং ওমান প্রবাসী ছিল।

নিহতরা হলেন, নোয়াখালী পৌরসভার ৫নম্বর ওয়ার্ডের ফজলে আজিম কচি মিয়ার স্ত্রী নূর নাহার বেগম (৪০) ও তার মেয়ে হরিনারায়ণপুর ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী ফাতেমা আজিম প্রিয়ন্তী (১৬)।

সংবাদ সম্মেলনে এসপি বলেন, ভিকটিম নূর নাহার বেগমের সাথে প্রবাসে থাকা অবস্থায় রং নম্বরের সূত্র ধরে পরিচয় হয় আসামি আলতাফের। একপর্যায়ে উভয়ের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে উঠে। এরপর ভিকটিম আসামি আলতাফকে ওমান থেকে দেশে এসে ব্যবসা করার জন্য বলে এবং ব্যবসার সম্পূর্ণ মূলধন এবং তাহার সকল দেনা বহন করার আশ্বাস দেয়। ভিকটিমের আশ্বাসে গত ১ সপ্তাহ আগে আসামি ওমান থেকে ভিসা বাতিল করে সব ছেড়ে দেশে চলে আসে। দেশে এসে আসামি ভিকটিম নূর নাহার বেগমের বাসায় ৪/৫ বার গিয়ে ব্যবসার টাকা দেওয়ার জন্য বললে ভিকটিম নুর নাহার বেগম ব্যবসার টাকা দিতে তালবাহানা করতে থাকে। বুধবার ১৪ জুন সকাল ১০টার দিকে পুনরায় টাকা চাওয়ার জন্য আসামি ভিকটিমের মাইজদী শহরের বার্লিংটন মোড়ের হক মঞ্জিলের বাসায় যান। তখন টাকা চাইলে ভিকটিম টাকা দিতে অস্বীকার করে।

এসপি আরও বলেন, এ নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে টাকা নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে আলতাফকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় ভিকটিম। একপর্যায়ে আসামিকে ধাক্কা দিয়ে ঘর থেকে বের করে দিতে উদ্যত হয়। এতে আসামি আলতাফ ক্ষিপ্ত হয়ে তাহার সাথে থাকা ছুরি দিয়ে ভিকটিমকে তার কক্ষের ভিতরে উপর্যুপরি আঘাত করে। ওই সময় ভিকটিমের মেয়ে ফাতেহা আজিম প্রিয়ন্তী (১৬) মায়ের শোর চিৎকারের শব্দ শুনে মাকে রক্ষা করার জন্য এগিয়ে আসলে আসামি আলতাফ তাকেও উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে। ছুরিকাঘাতে আহত হয়ে প্রিয়ন্তী দৌঁড়ে নিচ তলার ভাড়াটিয়ার বাসার দরজায় ধাক্কা দিলে ভাড়াটিয়া দরজা খুলে দেয়। দরজা খোলার সাথে সাথে প্রিয়ন্তী ডাইনিং রুমের মেঝেতে অজ্ঞান হয়ে লুটিয়ে পড়ে। প্রিয়ন্তীর পিছু পিছু আসামি আলতাফ হোসেন দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে ভিকটিম নুর নাহার বেগম ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করে। স্থানীয় লোকজন গুরুতরভাবে জখমপ্রাপ্ত প্রিয়ন্তীকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত আসামি আলতাফ হোসেনকে থানা হেফাজতে নিয়ে পুলিশ বিভিন্ন ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আসামি পুলিশের নিকট উপরোক্ত ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত জানায় এবং হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরির কভার তাহার দেওয়া তথ্য মতে তাহার মেস থেকে জব্দ করা হয়। হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরি জব্দ করা হয়েছে। নিহতদের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।

সদর দক্ষিণে ১০০ টাকার জন্য সহকর্মীকে খুনের ঘটনায় আসামী রাব্বি গ্রেফতার

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় এস কে পেট্রল পাম্পে ১০০ টাকার জন্য সহকর্মীকে খুনের ঘটনায় হত্যাকারী মোঃ রাব্বি হোসেনকে (২২) গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

নিহত মোঃ মারুফ (১৯) সদর দক্ষিণ উপজেলার মৃত. হাফেজুর রহমানের ছেলে। হত্যাকান্ডের ঘটনায় গত ১০ মে নিহতের মা বাদী হয়ে সদর দক্ষিণ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ১১ মে রাত সাড়ে ৮টায় সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আসামী রাব্বিকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর সদস্যরা।

আসামী রাব্বি সদর দক্ষিণ উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের মোঃ শাহজাহানের ছেলে।

শুক্রবার (১২ মে) কুমিল্লা র‌্যাব-১১, সিপিসি-২ এর কোম্পানী অধিনায়ক মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

র‌্যাব জানায়, নিহত মারুফ ও হত্যাকারী রাব্বি প্রায় ৩ মাস আগে একসাথে এস কে ফিলিং ষ্টেশনে নজেলম্যান হিসাবে চাকুরীতে যোগদান করে। শিফট অনুযায়ী গত ০৯ মে রাত ৮টা থেকে ১০ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত ভিকটিমের ডিউটি ছিল এবং ভিকটিম বদলী হিসেবে তার সহযোগী রাব্বিকে ডিউটির দায়িত্ব বুঝিয়ে দেন। রাব্বি তার ডিউটি বুঝে পাওয়ার পর ভিকটিমের ডিউটি পালনকালে বিভিন্ন যানবাহনের চালকের নিকট হতে পাওয়া বকশিশের ১০০ টাকা ভাগ দাবী করে। এই নিয়ে উভয়ের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয় এবং একপর্যায়ে আসামী হঠাৎ অফিস রুমে চলে যায় এবং অফিস রুম থেকে একটি ধারালো ছুরি হাতে নিয়ে পুনরায় ঘটনাস্থলে এসে বেঞ্চের উপর বসা অবস্থায় মারুফকে বুকে ও গলায় উপরর্যপরি ছুরিকাঘাত করে হত্যাকারী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে তার বাড়িতে চলে যায়। তারপর সে ঢাকা-চট্টগ্রামগামী বাসে করে ফেনীতে চলে যায় এবং একটি হোটেলে আত্মগোপনে থাকে। পরবর্তীতে সে কুমিল্লা থেকে ফেনী নিকটবর্তী হওয়ায় চট্টগ্রামে চলে যায়।

উল্লেখ্য যে, চট্টগ্রামে হত্যাকারীর কোন নিকটবর্তী আত্মীয়-স্বজন না থাকায় তার খালাতো ভাই মোঃ দেলোয়ার তাকে কুড়িগ্রামে তার বন্ধুর কাছে চলে যেতে বলে। তখন হত্যাকারী ১১ মে চট্টগ্রাম থেকে কুড়িগ্রামে আত্মগোপনের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। পথিমধ্যে র‌্যাব-১১ এর একটি দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে উক্ত বাস থেকে তাকে গ্রেফতার করে। হত্যাকারীর স্বীকারোক্তি ও প্রাপ্ত তথ্য মতে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি তার বাড়ির একটি রুমে চাউলের ড্রামের নিচে থেকে উদ্ধার করা হয়।

উক্ত বিষয়ে গ্রেফতারকৃত আসামীকে কুমিল্লা জেলার সদর দক্ষিণ থানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়াধীন।

উল্লেখ্য, ১০ মে সকালে সদর দক্ষিণে বেলতলী বাজার সংলগ্ন এস কে পেট্রল পাম্পে কিশোর ভিকটিম মোঃ মারুফকে তার সহকর্মী হত্যাকারী মোঃ গোলাম রাব্বি ছুড়িকাঘাত করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। মারুফ আহত অবস্থায় দৌড়ে তাদের স্টাফরুমের দিকে যায় এবং স্টাফরুমের দরজার সামনে পৌঁছালে রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। তার চিৎকার শুনে ফিলিং স্টেশনের অন্যান্য স্টাফরা ছুটাছুটি করে এসে ভিকটিমকে র’ক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা- নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।

মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় কুমিল্লায় তালাবদ্ধ করে কিশোরকে পুড়িয়ে হত্যা !

 

ডেস্ক রিপোর্ট:

মাদক সেবনে বাধা দেয়ায় আরাফাত হোসেন (১৫) নামের এক কিশোরকে আগুনে পুড়িয়ে মারার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সে কুমিল্লা শহরতলী চাঁনপুর এলাকার মো. আবুল বারেকের ছেলে। মঙ্গলবার নগরী সংলগ্ন কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার বউবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নয়টি দোকান পুড়ে যায়।

নিহত আরাফাতের বাবা মো. আবদুল বারেক বলেন, আরাফাত থাই গ্লাসের মিস্ত্রি হিসেবে কাজ করে। মঙ্গলবার দুপুর ১টায় তার ছেলে আরাফাতকে বাড়ি থেকে চারজন ছেলে ডেকে বউবাজারে নিয়ে আসে। তিনি ঘটনাস্থলে এসে শুনতে পান একটি দোকানে আরাফাতকে তালাবদ্ধ করে বাইরে থেকে আগুন দেয়। এ ঘটনায় আরাফাত আগুনে পুড়ে মারা যায়।

তিনি আরও জানান, যারা তার ছেলেকে হত্যা করেছে তারা সবাই মাদকসেবী। কিছুদিন আগে তাদের বাড়িরপাশে বসে গাঁজা সেবন করছিলো ওই ছেলেগুলো। আরাফাত তাদেরকে বাড়ির পাশে গাঁজা সেবন করতে বাধা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা আরাফাতকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করে।
কারা আরাফাতকে বাড়ি থেকে ডেকে এনেছিলো এমন প্রশ্নের জবাবে আবদুল বারেক বলেন, তাদের নাম পুলিশের কাছে বলবো।

মনির হোসেন নামের একজন দোকানী জানান, দুপুর দেড়টায় হঠাৎ করে দোকানের পেছন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় নয়টি দোকান ঘর পুড়ে ভস্মিভূত হয়ে যায়।

এদিকে আগুনের ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে এক ঘন্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

কুমিল্লা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আলী আজম জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ধ্বংসস্তুপের ভেতর থেকে আরাফাতের লাশটি উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকিয়া আফরিন ও পাঁচথুবী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন বাহালুল। তারা বলেন, ঘটনা শুনে মনে হচ্ছে এটা পরিকল্পিত। তবে পুলিশী তদন্তে ঘটনার বিস্তারিত বেরিয়ে আসবে।

নিহত আরাফাতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, শোকে আচ্ছন্ন পুরো এলাকা।
স্বজনরা জানান, আবদুল বারেকের চার ছেলে। তার মধ্যে আরাফাত হোসেন সবার ছোট। তার মা মারা গেছেন ১২ বছর আগে। তখন থেকে আরাফাত তার ফুফু নাজমা বেগমের কাছে বড় হন।

ভাইয়ের ছেলেকে সন্তানের মত লালন পালন করেছিলেন নাজমা বেগম। এখন সেই ভাইপোকে হারিয়ে পাগলপ্রায়। নাজমা বেগম দাবি করেন তার ভাইয়ের ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। যারা এ হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

এদিকে ঘটনার বিষয়ে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল হক বলেন, আমরা আরাফাতের লাশ উদ্ধার করেছি। ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেছি। আমরা ঘটনার আদ্যপান্ত্য খতিয়ে দেখছি। প্রাথমিকভাবে আমাদের কাছে ঘটনাটি পরিকল্পিত মনে হয়েছে। আমরা আরাফাতের বাবাকে থানায় এনেছি। স্থানীয়দের স্বাক্ষ্য প্রমাণ নিচ্ছি। আশা করি তদন্তে সব বেরিয়ে আসবে।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকিয়া আফরিন নিহত আরাফাত হোসের পরিবারকে নগদ ২০ হাজার টাকা দিয়েছেন। এছাড়াও উপজেলা প্রশাসন থেকে ভাড়াটিয়াদের সাড়ে ৭ হাজার টাকা ও দোকান মালিকদের ১২ হাজার টাকা ও ৩ বান্ডেল টিন দেয়া হবে বলে জানান।