,

কুমিল্লায় ৯ বছরের এতিম শিশুর প্রায় বিচ্ছিন্ন হাত জোড়া দিয়ে রক্ষা, জটিল অস্ত্রোপচারে চিকিৎসকদের সাফল্য

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
August 18, 2026
news-image

এমডি. আজিজুর রহমান:

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া ৯ বছর বয়সী এতিম শিশু রিয়ার ডান হাত রক্ষা করেছেন চিকিৎসকরা। প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার দীর্ঘ অস্ত্রোপচারে ক্ষতিগ্রস্ত রক্তনালী, স্নায়ু ও মাংসপেশি জোড়া দিয়ে হাতের রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হয়।

গত (১২ আগস্ট) বুধবার কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগে এই জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। চিকিৎসকদের দাবি, কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইতিহাসে এ ধরনের প্রথম সফল অস্ত্রোপচার এটি।

প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মির্জা মুহাম্মদ তাইয়েবুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনায় শিশুটির ডান হাত পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন না হলেও মারাত্মকভাবে কেটে যায়। এতে হাতের গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালী, স্নায়ু ও মাংসপেশি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তিনি আরো বলেন, “শিশুটির হাতটি পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন না হলেও গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালী, স্নায়ু ও মাংসপেশি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। দ্রুত অস্ত্রোপচার না করলে হাতটি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। তাই জরুরি ভিত্তিতে আমরা Revascularization-এর মাধ্যমে হাতের রক্তসঞ্চালন ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিই।”

অস্ত্রোপচারে হাতের Revascularization করা হয়। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত প্রধান দুটি রক্তনালী এবং তিনটি প্রধান স্নায়ু জোড়া দেওয়া হয়। Radial artery end-to-end anastomosis এবং ulnar artery repair by interposition saphenous vein graft পদ্ধতিতে রক্তনালীর সংযোগ স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে radial, median ও ulnar nerve এবং ডান হাতের বিভিন্ন flexor muscle মেরামত করা হয়।

দীর্ঘ ও জটিল অস্ত্রোপচারের পর শিশুটির হাতটি রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। তবে হাতের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা কতটা ফিরে আসবে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী চিকিৎসা, নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও পুনর্বাসনের ওপর বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

অধ্যাপক ডা. মির্জা মুহাম্মদ তাইয়েবুল ইসলাম বলেন,“এ ধরনের গুরুতর আঘাতের ক্ষেত্রে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত হাসপাতালে এনে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা করা গেলে অনেক ক্ষেত্রেই অঙ্গটি রক্ষা করা সম্ভব হয়। দেরি হলে হাতটি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।”

অস্ত্রোপচারে নেতৃত্ব দেন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, হাসপাতালের অধ্যক্ষ ও হেলথ ক্যাডার অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মির্জা মুহাম্মদ তাইয়েবুল ইসলাম। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ডা. মাহবুব ইবনে মোমেন খান জনি, ডা. আবু বকর সিদ্দিক ফয়সাল, ডা. আবু নাহিয়ান, ডা. রনি রায় ও ডা. ফাহিমা ফারজানা সিমু।

অ্যানেস্থেসিয়া টিমে ছিলেন আইসিইউ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. জাহিদুর রহমান মজুমদার। এছাড়া টিমে ছিলেন ডা. সুস্মিতা সেন গুপ্ত, ডা. খাতুনে জান্নাত, ডা. শাফি, ডা. লিমা, ডা. নাইম ও ডা. আহসান হাবীব।

অস্ত্রোপচারে চিকিৎসকদের পাশাপাশি সহযোগিতা করেন হাসপাতালের নার্সিং কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট স্টাফরা। তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

চিকিৎসকরা জানান, এ ধরনের গুরুতর আঘাতের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বিলম্ব না করে দ্রুত বিশেষায়িত হাসপাতালে নেওয়া জরুরি। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে আক্রান্ত অঙ্গের রক্তসঞ্চালন বন্ধ হয়ে গিয়ে হাতটি স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

এদিকে, এতিম শিশু রিয়ার দ্রুত সুস্থতা এবং তার ডান হাতের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ফিরে পাওয়ার জন্য সবার কাছে দোয়া কামনা করা হয়েছে।