আবেদন ও পরীক্ষা ছাড়াই নিয়োগ: তেজগাঁও উন্নয়ন সার্কেলের অফিসার মো. তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য ও দুর্নীতির অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক:
তেজগাঁও উন্নয়ন সার্কেলের সার্কেল অফিসার (সিনিয়র সহকারী সচিব) মো. তরিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ফ্যামিলিকার্ড শুমারী কাজে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপার ভাইজার নিয়োগে নিয়োগ বাণিজ্য, স্বজনপ্রীতি ও ব্যাপক অনিয়ম, দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের তেজগাঁও উন্নয়ন সার্কেলের আওতায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিন সিটি কর্পোরেশনের মোট ৩৯ টি ওয়ার্ডের ফ্যামিলি কার্ড শুমারী কাজে স্বেচ্ছাসেবী বাছাই কমিটির সভাপতি মো. তরিকুল ইসলাম।
এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের প্রভাব খাটিয়ে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার চুড়ান্ত তালিকা তৈরির অভিযোগ এনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরব ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে সরেজমিনে খোঁজ খবরের মাধ্যমে প্রতিবেদকের কাছে ব্যাপক চাঞ্চল্যকর অনিয়ম ও দূর্নীতির তথ্য বেরিয়ে আসে । সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাযায়, সরকারের কাজে সহযোগিতার জন্য হাজার হাজার যোগ্য শিক্ষিত তরুন তরুনী স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে আবেদন করে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। কিন্তু বিতর্কিত কর্ম কর্তা সার্কেল অফিসারের অনিয়ম,দূর্নীতি ও প্রভাব খাটিয়ে প্রকৃত যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োজিত না করে তার স্বেচ্ছাচারীতার মাধ্যমে এবং নীতিমালার তোয়াক্কা না করে তথ্য সংগ্রহ কারী ও সুপার ভাইজারের চুড়ান্ত তালিকা গতকাল রাত দশটায় সমাজ সেবা কার্যালয় তেজগাঁও সার্কেলের সংশ্লিষ্ট হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে প্রকাশ করে। এই চুড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পরই ভুক্ত ভোগীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও দূর্নীতির অভিযোগ ওঠে।
খোঁজ খবর নিয়ে জানা যায়, উক্ত কাজে আবেদন করেনি এবং কোন পরীক্ষায়ও অংশগ্রহণ করেনি, নেই তাদের হাজিরা সিটে স্বাক্ষর, নেই তাদের কোন মূল্যায়ন সীট ও নম্বর পত্র। অথচ এমন বেশ কয়েকজনের নাম সুপার ভাইজার পদে ঢাকার জেলা প্রশাসকের প্রভাব খাটিয়ে ও তাঁর নাম ভাঙ্গিয়ে তার আত্নীয় স্বজন ও নিজ এলাকা গোপালগঞ্জের ৫ জন এবং ঢাকার বাহিরের আরে অনেক বাসিন্দাদের নিয়ে সুপার ভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারীর চুড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের তেজগাঁও সার্কেলের অধীনে ৩৯ টি ওয়ার্ডে সুপার ভাইজার নিয়োজিত করা হবে ১০৬ ও রিজার্ভ ১১জন তার মধ্যে সার্কেল অফিসার তালিকা দিয়েছেন ১১৬ জনের নাম, এর মধ্যে অনেকেই আবেদন করেন নি ও পরীক্ষায়ও অংশগ্রহণ করে নাই। অথচ উত্তীর্ণ মেধাবীদের সুযোগ না নিয়ে তার দেয়া তালিকা থেকেই নিতে হয়েছে সকল সুপার ভাইজার ।
অপরদিকে তথ্য সংগ্রহকারী লোক নিবে ১০৫৯ ও রিজার্ভ ১০৬জন। তার মধ্যে সার্কেল অফিসারের তালিকায় রয়েছে ৪৭৫ জন। এমন অভুতপূর্ব দূর্নীতির ইতিহাস বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন বলে অনেকেই মন্তব্য করেন এবং বিস্ময় প্রকাশ করেন। ঘটনার বিবরনে প্রকাশ, ফ্যামিলি কার্ড শুমারী কাজের জন্য তথ্য সংগ্রহ কারী ও সুপার ভাইজার পদে লোক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর প্রায় পাঁচ হাজার তরুন তরুনী আবেদন করে ।
তাদের ২৭ জুলাই থেকে শুরু করে সর্বশেষ ২ আগস্ট প্রার্থী মূল্যায়নের সকল পরীক্ষার সমাপ্তি ঘটে । অথচ পরীক্ষার ৭ ও ৮ দিন পর আবেদন করেনি ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি গোপালগঞ্জের শেখ ইফতিয়ার, জেছন মন্তল, তাসনীম তামিম, কানিজ ফাতেমা মিমো, সিয়াম হোসেনসহ এমনসব ব্যক্তিদের নিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে তেজগাঁও সার্কেলের সুপার ভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারীদের চুড়ান্ত তালিকা। এমন দূর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া এবং এমন মারাত্মক অনিয়ম করতে অস্বীকার করায় তেজগাঁও সার্কেলের বেশকয়েকজন সমাজকর্মীর সাথে সার্কেল অফিসার তরিকুলের কয়েকদফা বিতর্কের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা যায়। তিনি সমাজ কর্মীদের বদলী ও বিভিন্ন শাস্তির ভয়ভীতি দেখান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
আরো উল্লেখ্য য়ে, সমাজ কর্মীদের দেয়া সঠিক মূল্যায়নের ভিত্তিতে প্রস্তুত তালিকায় সংশোধন করে সার্কেল অফিসের সিএ পারভেজ হোসেন অনিক নিজেই ৯ আগস্ট রাত নয়টার সময় সমাজকর্মীদের ডেক্সটপে বসে অন্যায়ভাবে যারা আবেদন করেনি এবং পরীক্ষায়ও অংশ গ্রহন করেনি এমন লোকদের তালিকা প্রস্তুত করতে দেখা যায়। এমন একটি ভিডিও প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ইঞ্জিনিয়ার মুনিম ফুয়াদ, ৬৯ ওয়ার্ডের ইসমাইল আদনান এবং ৪৯ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা রাসেল মাহমুদসহ আরো অনেক ভুক্তভোগীগন সংশ্লিষ্ট মহলের কাছে কয়েকটি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করেছেন।
তারা বলেন, অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে সমগ্র ঘটনার সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করা। আর্থিক লেনদেন ও অনিয়মের মাধ্যমে প্রস্তুতকৃত বিতর্কিত ‘সুপারভাইজার’ ও ‘তথ্য সংগ্রহকারী’ পদের তালিকাটি দ্রুত বাতিল করা।
অভিযুক্ত কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলামকে অবিলম্বে উক্ত পদের দায়িত্ব থেকে অপসারণপূর্বক তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ও উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীসহ সমাজসেবা অধিদপ্তরের উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং সরকারি দপ্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়।
ডেমরা থানার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৬৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার বাসিন্দা ও ভুক্তভোগী মো. মনির হোসেন খান এ বিষয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর একটি অভিযোগও দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী মো. মনির হোসেন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে উল্লেখ করেন, সমাজসেবা অধিদপ্তরের তেজগাঁও উন্নয়ন সার্কেলের আওতায় ফ্যামিলি কার্ডের শুমারী কাজে স্বেচ্ছাসেবী নির্বাচন কমিটির সভাপতি এবং তেজগাঁও উন্নয়ন সার্কেলের সার্কেল অফিসার মো. তরিকুল ইসলামের বিরুদ্বে ব্যাপক দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ আনেন। তার ফেসবুক পোস্টে আরও বলা হয়, উক্ত কর্মকর্তা সরকারি বিধিবিধান ও নিরপেক্ষতা বজায় না রেখে উর্ধতন কর্মকর্তার প্রভাবে এবং মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ‘সুপারভাইজার’ ও ‘তথ্য সংগ্রহকারী’ পদের চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করেছেন। তার এই মনগড়া ও দুর্নীতিমূলক সিদ্ধান্তের কারণে প্রকৃত যোগ্য ও সাধারণ প্রার্থীরা বঞ্চিত হয়েছেন, যার ফলে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াটি আজ চরম বিতর্কের মুখে পড়েছে। একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন অপেশাদার পক্ষপাতমূলক আচরণ সরকারের নির্বাচনী ইশতিহার বাস্তবায়নের লক্ষে অগ্রাধিকার কর্মসূচী ফ্যামিলি কার্ডের মত গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মতো একটি জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি দারুণভাবে ক্ষুণ্ন করছে বলে মনে করেন ভুক্তভোগীরা।
এমন প্রক্রিয়ায় চুড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করার মাধ্যমে প্রকৃত মেধাবীদের অবমূল্যায়ন করে তাদের কে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলেও যোগ করেন বঞ্চিত ভুক্তভোগী মনির হোসেন। ফ্যামিলিকার্ড শুমারী স্বেচ্ছাসেবী বাছাই কমিটির সদস্য সচিব ও তেজগাঁও সার্কেলের সমাজ সেবা অফিসার ইনসান আলী এবং এই কমিটির আহ্বায়ক ও তেজগাঁও উন্নয়ন সার্কেল অফিসার মোঃ তরিকুল ইসলামের সাথে এ অভিযোগের বিষয়ে কথা বলার জন্য বার বার কল দিয়েও তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।