,

দাউদকান্দিতে চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্রীকে ধর্ষনের চেষ্টা!

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
January 24, 2018
news-image

জাকির হোসেন হাজারী :

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে কর্তৃক চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্রীর ছাত্রীকে ধর্ষনের চেষ্টা করেছেন লম্পট সাবেক ইউপি সদস্য। এ ঘটনা ধামাচাপা দিতে এলাকার কতিপয় প্রভাবশালীরা উঠেপড়ে লেগেছেন। চাপ স্বৃষ্টি করছেন ছাত্রীর পরিবারের উপর। মানসম্মানের কথা ভেবে ওই ছাত্রীকে আত্মীয়র বাড়ী পাঠিয়ে দিয়েছে তার পরিবার । ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার মালিগাঁও ইউনিয়নের তালেরছেও (পশ্চিম পাড়া) গ্রামে। ধর্ষক মালাখালা গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল হক মেম্বার।

বুধবার সরেজমিনে গেলে এলাকাবাসী জানান, ওই গ্রামের বিল্লাল হেসেনের মেয়ে তালেরছেও পশ্চিম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেনীর শিক্ষার্থী গত ১৯ জানুয়ারী বিদ্যালয় ছুটির পর বিকালে বাড়ী থেকে একটু দুরে ভূট্টা রোপন করা জমিতে কাক পক্ষী যেন বীজ না তুলে সে জন্য পাহারা দিচ্ছিলেন। সন্ধ্যা হওয়ায় আশ পাশের জমির অন্যান্য কৃষকরা চলে যায়।

ওই সময় একই উপজেলার মোহাম্মপুর ইউনিয়নের মালাখালার গ্রামের সাবেক ইউপি মেম্বার আব্দুল হক মেয়েটিকে বাড়ীতে পৌছে দেয়ার কথা বলে নিরবস্থানে নিয়ে টাকা দেয়ার কথা বলে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে।

এসময় মেয়েটি চিৎকার শুনে লোকজন দৌড়ে আসলে লম্পট মেম্বার পালিয়ে যায়। পরদিন মেয়েটির পরিবার লোক লজ্জার ভয়ে তাকে আত্মীয়ের বাড়ীতে পাঠিয়ে দেয়। পরদিন আব্দুল হক মেম্বার, রায়পুরের খোরশেদ আলম, তালেরছেও গ্রামের মহিলা ইউপি সদস্য সুফিয়া বেগমের স্বামী আব্দুল মতিনসহ মালাখালা গ্রামের ৪/৫জনকে নিয়ে মামলা না করে এলাকায় মিলমিশ হওয়ার জন্য ছাত্রীর পরিবারের উপর চাপ স্বৃষ্টি করে।
তালেরছেও পশ্চিম সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাজমুল হাসান বলেন, আমার বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্রীটি অনুপস্থিত থাকায় বাড়ীতে খবর পাঠাই। ছাত্রীর দাদা দুলাল মিয়া এসে মালাখালার আব্দূল হক তার নাতনীকে জোর পূর্বক শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে এ ঘটনার বিস্তারিত বলেন। ঘটনার পর ছাত্রীটিকে আত্মীয়ের বাড়ীতে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে , মিলমিশ হলে পরে স্কুলে পাঠাবে বলে দাদা জানান ।

মহিলা ইউপি সদস্য সুফিয়ার স্বামী আব্দুল মতিন বলেন, ঘটনা যাই হইছে তবে ধর্ষন করা হয়নি, হয়তো চেষ্টা করেছে। মামলা হলে মেয়ের এবং পরিবারসহ এই গ্রামের বদনাম হবে তাই মঙ্গলবার রাতে তাদের বাড়ীতে গিয়ে মিলমিশ করার জন্য বলে এসেছি।

অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল হক মেম্বার মোবাইল ফোনে অভিযোগ অস্বিকার করে বলেন, আপনারা যা শুনেছেন সব মিথ্যে এবং আমাকে ফাঁসানোর জন্য এসব রটানো হচ্ছে। সাক্ষাতে বিস্তারিত বলবো এ কথা বলেই লাইন কেটে দেন আব্দুল হক । এরপর কয়েকবার চেষ্টা করা হলেও সে আর ফোন রিসিভ করেননি।
মালিগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম বলেন, আজ (বুধবার) দুপুরে এক সাংবাদিক ফোন করে এ বিষয়ে জানতে চাওয়ার পরই আমি জেনেছি। সাথে সাথেই ঘটনার বিস্তারিত জানার জন্য ওই গ্রামে লোক পাঠিয়েছি। সে আসলে সত্য মিথ্যা বলতে পারবো।