মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে জেলহাজতে পাঠানো, হত্যার হুমকি, অবৈধভাবে জমি দখলের চেষ্টা ও লুটপাটের অভিযোগ পুুলিশের সাবেক কন্সটেবল ফারুকের বিপক্ষে , দেশীয় অস্ত্র হাতে হামলার ভিডিও ভাইরাল
স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লা সদরের উত্তর দুর্গাপুর ইউনিয়নের আড়াইওড়া এলাকায় আপন ছোট ভাই ও তার স্ত্রীকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে জেলে পাঠানো, আপন বোনকে মারধর এবং তাদের জমি অবৈধভাবে দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বড় ভাই পুলিশের চাকুরিচ্যুত সাবেক কন্সটেবল ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে।
সম্প্রতি দেশিয় অস্ত্র হাতে ভাই-বোনকে হুমকি প্রদানের একটি ভিডিও পাওয়া গেছে। পূর্বে ভাই-বোনকে গুলি করে হত্যা করার হুমকি প্রদানের অভিযোগও উঠেছে এই ফারুকের বিরুদ্ধে।
জানা যায়, একাধিক মাদক মামলা ও মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় ফারুক হোসেন গ্রেফতার হয়ে পুলিশের চাকুরি থেকে বহিষ্কৃত হন।
জানা যায়, কুমিল্লার সদর উপজেলা আড়াইওড়া এলাকার বেবি আক্তার ও তার স্বামী লুৎফুর রহমানের জমি অবৈধভাবে দখল করার চেষ্টা শুরু করলে পুলিশের সাবেক কন্সটেবল ফারুক হোসেনের সাথে এই দম্পতির বিরোধ শুরু হয়।
বেবি আক্তারের অভিযোগ, বাড়িতে স্বামী না থাকার সুযোগে ভয়ভীতি দেখানোসহ ফোনেও বিভিন্ন হুমকি দিচ্ছেন তার বড় ভাই ফারুক েেহাসেন। এ ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। গত ৭ জুলাই দুপুরে লুৎফুর রহমান বাসায় ফিরলে তাকে ফোনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ফারুক।
বেবি আক্তারে অভিযোগ ফারুক হোসেন এবং স্ত্রী জেসমিন দীর্ঘদিন ধরে মাদক এবং অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা করে আসছে তারা, শুধু গালিগালাজই নয়, বেশি বাড়াবাড়ি করলে এলাকায় থাকতে না দেওয়া, বসতভিটা দখল করে নেওয়া, রাস্তায় পেয়ে মারধর এবং মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করার প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি নিজেইও জবাই করে হত্যার হুমকি দিচ্ছে ফারুক, এছাড়াও ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে তুলে নিয়ে হত্যা করে লাশ গুম করার ভয়ও দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পরিবারটির।
এদিকে মাসুক হোসেন ও তার স্ত্রী সোনিয়াকেও বিভিন্নভাবে হয়রানি করছেন পুলিশের সাবেক কনন্সটেবল ফারুক হোসেন। গত ২৯ আগস্ট সকালে বসতবাড়ির উঠানে এসে সোনিয়া ও তার স্বামীকে প্রকাশ্যে হত্যা ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয়। একের পর এক মিথ্যা মামলা, হুমকি আর সামাজিক হয়রানির শিকার হচ্ছেন তিনি ও তার পরিবার। ঘটনার নেপথ্যে নিজেরই ভাশুর ফারুক হোসেন এবং তার স্ত্রী জেসমিন আক্তার। চলতি বছরের ১০ জুলাই সকালে সোনিয়ার বসতবাড়িতে এসে তাদেও মারধর করে নগদ টাকা, স্বর্নালংকার ও মালামাল লুট করে নিয়ে যায় ফারুক হোসেন ও তার সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে। এমন অভিযোগ করেন সোনিয়া। সন্ত্রাসী হামলা ও লুটের পর উল্টো ভুক্তভোগী দম্পতির বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা ঠুকে দেন ফারুক। সেই মামলায় জেলহাজতেও ছিলেন সোনিয়া ও তার স্বামী।
জামিনে বের হয়ে আসার পর গত ২৯ আগস্ট সকালে আবারো সোনিয়ার বসতবাড়িতে এসে তাণ্ডব চালায় ফারুক ও তার স্ত্রী জেসমিন। প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হয় ঘরে মাদক বা বিপজ্জনক সরঞ্জাম রেখে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দেওয়া হবে, বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হবে এবং রাস্তাঘাট থেকে তুলে নিয়ে হত্যা করে লাশ গুম করা হবে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, অভিযুক্ত ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে ৪টি এবং তার স্ত্রী জেসমিন আক্তারের বিরুদ্ধে ২টি মাদক মামলা বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন।
স্থানীয় প্রভাবশালী ও চিহ্নিত এই মাদক চক্রটির চরম হিংসাত্মক আচরণের মুখে পুরো পরিবারটি এখন জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
জানা যায়, মাদক ব্যবসার অবৈধ টাকায় একাধিক ফ্লাট এবং জমি করেছে ফারুক, আবার সেই বাসায় গ্রেপ্তার হলে বলা হয় ভাড়া বাসা থেকে আটক করা হয়েছে। তাদের এ ঘটনায় ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তার দাবিতে কোতোয়ালী মডেল থানায় নতুন করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী সোনিয়া।
এ বিষয়ে পুলিশের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।