,

একটি করোনা শার্ট ও একটি করোনা প্যান্ট

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
April 15, 2020
news-image

 

ডা. মঞ্জুর আহমেদ সাকি:

কি ভাবছেন? আজই কিনতে যাবেন? কিন্তু সব কাপড়ের দোকান ত বন্ধ। তাহলে কি অনলাইনে অর্ডার করবেন? না, তাতেও এই নামের কোন শার্ট ও প্যান্ট খুঁজে পাবেন না।

কারণ এই শার্ট – প্যান্ট এর নাম দিয়েছি আমি। করোনার এই যুদ্ধে আমি গত এক মাস পনেরো দিন এই শার্ট-প্যান্ট প্রতিদিন পরিধান করছি। নিশ্চয়ই ভাবছেন কি খবিশ ডাক্তার! না,যত ভাবছেন তত খবিশ নই। প্রতিদিন চেম্বারে অথবা হসপিটালে ডিউটিতে যাওয়ার সময় এই শার্ট-প্যান্ট গায়ে দিয়ে গিয়েছি, আবার চেম্বার বা ডিউটি থেকে ফিরে এসে ঘরে ঠুকে সবার আগে বাথরুমে গিয়ে এই শার্ট-প্যান্ট সাবান দিয়ে ভালভাবে ধুয়ে তারপর গোসল করেছি।এরপর পরিবারের সদস্যদের সামনে গিয়েছি। উল্লেখ্য যে ঘরে প্রবেশের সময় দরজায় বা হাতলে স্পর্শ না করে প্রবেশ করেছি। এবং লুংগি গামছা আগে থেকেই বাথরুমে রাখা ছিল। এক্ষেত্রে আমার সহধর্মিণীর ভুমিকা প্রশংসনীয়। এভাবেই যুদ্ধ চলছে,চলবে অদেখা, ক্ষুদ্র এক ভাইরাসের বিরুদ্ধে । যতদিন আল্লাহ রাব্বুল আলামিন চান, ঠিক ততদিন।

আমার সহধর্মিণী প্রায় বলছে, তুমি আর কত দিন এক শার্ট এক প্যান্ট পরিধান করবে? তোমার কি আর শার্ট-প্যান্ট নাই? আমি বলি, আছে ত, থাকুন না সেগুলো আলমিরাতে। আমি ত পণ করেছি, যতদিন করোনা ভাইরাস থাকবে (যদি ছিড়ে না যায়) ততদিন আমি এই শার্ট-প্যান্ট গায়ে দিয়েই চেম্বার আর ডিউটি করবো।

কেন এই সিদ্ধান্ত?
১. প্রথম প্রথম মনের অজান্তেই।
২. প্রতিদিন পরিধান করার পর ধুয়ে দেয়ার কারণে, পরেরদিন সদ্য ধোয়া শার্ট-প্যান্ট টিই আবার গায়ে দিতে পারছি।
৩. যেহেতু পরের দিন আবার এই শার্ট প্যান্ট ই গায়ে দিতে হবে, তাই ঘরে এসে সঙ্গে সঙ্গেই ধুয়ে দিচ্ছি, নতুবা হয়তো অলসতার জন্য কাপড় ধোয়ার বালতিতেই বাহিরে ব্যাবহৃত কাপড় গুলো পড়ে থাকতো, যেখান থেকে ভাইরাস সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকতো।
৪. আগে প্রতি শার্ট অথবা প্যান্ট লন্ড্রি তে ড্রাই ওয়াশে ৫০ টাকা করে লাগতো, এখন সেটা লাগছে না।
৫. যেহেতু এই মুহূর্তে কোন দাওয়াতের প্রোগ্রাম, বিয়ের প্রোগ্রাম, বা কোথাও ঘুরতে যেতে হচ্ছে না, তাই ঝকঝকে তকতকে শার্ট প্যান্ট না গায়ে দিলেও চলে।

আসল কথা, আমার নিজের সতর্কতা অবলম্বন এবং অন্যকে উৎসাহিত করতে, জনসচেতনতা বাড়াতে আমার এই পণ।

ঘরে থাকুন, নিরাপদে থাকুন।
যাদের বাহিরে বের হতে হচ্ছে, তারা সর্বোচ্ছ সতর্কতা মেনে চলুন।

 

লেখক:

ডা. মঞ্জুর আহমেদ সাকি ট্রেজারার,

ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম,

কুমিল্লা মহানগরী