,

কুমিল্লায় ‘সিরিয়াল কিলার’ মানিক গ্রেপ্তার, দুই হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
September 15, 2026
news-image

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জে অটোরিকশাচালক হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় ‘সিরিয়াল কিলার’ আব্দুল ওয়াদুদ ওরফে মানিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে চালকদের টার্গেট করে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফুর রহমান।

পুলিশ জানায়, গত ১২ আগস্ট নাঙ্গলকোট থানার আতিয়াবাড়ী এলাকায় একটি অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে প্রাথমিক তদন্তে লাশটি অটোরিকশাচালক মো. মেহেদী (১৮) বলে শনাক্ত করা হয়। এ ঘটনায় নাঙ্গলকোট থানায় হত্যা মামলা হলে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএমের নির্দেশনায় থানা পুলিশের পাশাপাশি জেলা গোয়েন্দা শাখা ছায়া তদন্ত শুরু করে।

তদন্তের একপর্যায়ে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আব্দুল ওয়াদুদ ওরফে মানিক, শাহেদ, ফাহিম ও সেলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা মেহেদীকে হত্যা করে তার অটোরিকশা ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পরে মানিক ও সেলিম আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

পুলিশ জানায়, তদন্তকালে মানিকের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। ফোনটি তার নিজের নয় বলে জানা যায়। অনুসন্ধানে পুলিশ নিশ্চিত হয়, মোবাইলটি গত ২৪ জুলাই নিখোঁজ হওয়া অটোরিকশাচালক মো. আরমান হোসেনের (১৫)। আরমানের নিখোঁজের ঘটনায় নাঙ্গলকোট থানায় সাধারণ ডায়েরি এবং পরবর্তীতে তার মামার করা অপহরণ মামলা তদন্ত শুরু হয়।

পুলিশ আরো জানায়, এ ঘটনায় অটোরিকশার একটি অংশ উদ্ধার করে মো. জোবায়ের হোসেন সুজন, নূর আলম ও মো. গিয়াস উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তারা অটোরিকশাটি মানিক ও সেলিমের কাছ থেকে পাওয়ার কথা জানায়। গ্রেপ্তারকৃতরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন।

পুলিশের তথ্যমতে, গত ১২ সেপ্টেম্বর মনোহরগঞ্জ থানার বিনয়ঘর এলাকায় একটি অজ্ঞাতনামা কঙ্কাল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মনোহরগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করা হয়। পরে আরমানের নিখোঁজের ঘটনায় জব্দ করা মোবাইল ফোন, গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্য এবং অন্যান্য তদন্ত-উপাত্তের ভিত্তিতে মানিক ও সেলিমকে নাঙ্গলকোট থানার অপহরণ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে মানিক ও সেলিম জানায়, তারা অটোরিকশাচালক আরমান হোসেনকে হত্যা করে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে মনোহরগঞ্জের বিনয়ঘর এলাকার একটি ডোবায় ফেলে দেয়। গত ১৪ সেপ্টেম্বর মানিক আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এছাড়া, ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে শাহজাহান সাইমন (১৭) নামের এক কিশোরকে হত্যার অভিযোগও রয়েছে মানিকের বিরুদ্ধে।

পুলিশ জানায়, হত্যার পর লাশটি কাপড়ে পেঁচিয়ে লাকসাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সীমানা প্রাচীর সংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত কোয়ার্টারে ফেলে রাখা হয়।

এ ঘটনায় লাকসাম থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলায় মানিককে গ্রেপ্তার করা হলে তিনি আদালতে সাইমনকে হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

পুলিশের দাবি, আব্দুল ওয়াদুদ ওরফে মানিক মূলত অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে চালকদের টার্গেট করতেন। ছিনতাইয়ের সময় তিনি হত্যাকাণ্ডেও জড়িত ছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

দুটি হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন ও অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের ঘটনায় তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।