বউয়ের চিকিৎসার জন্য ১৭ বছর আগে বন্ধক দিয়েছিলেন জমি, টাকা নিয়ে ফেরত চাইতে গেলে মিলল প্রাণনাশের হুমকি!
লাকসাম প্রতিনিধি:
লালমাইের আলোকদিয়া অভাবের তাড়নায় ও স্ত্রীর অসুস্থতার সময় বিপদে পড়ে ১৭-১৮ বছর আগে ৫২ হাজার টাকায় নিজের ১২ শতক জমি বন্ধক রেখেছিলেন এক অসহায় রিকশাচালক। দীর্ঘ দিনে হাড়ভাঙা খাটুনি ও তিলে তিলে জমানো সেই টাকা দিয়ে জমিটি ফেরত চাইতে গেলে এখন আর তা ছাড়তে নারাজ প্রভাবশালী দখলদাররা। উল্টো ভুক্তভোগী রিকশাচালক জমি ফেরত চাইতে গেলে তাকে মারধর ও প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার পেরুল দক্ষিণ ইউনিয়নের পূর্ব আলোকদিয়া গ্রামে। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে গত ১৭ আগস্ট ভুক্তভোগী রিকশাচালক আবদুল আজিজ (৫৫) বাদি হয়ে লালমাই থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী আবদুল আজিজ পেশায় একজন রিকশাচালক। তিনি লাকসাম পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের উত্তর লাকসাম এলাকার মৃত আবদুল লতিফের ছেলে। তিনি ২০০৩ সালে সাফ কবলা দলিলমূলে (দলিল নং- ৬৩৩৯) পূর্ব আলোকদিয়া মৌজায় ১২ শতক ভিটি জমির মালিক হন। পরবর্তীতে সংসারে চরম অভাব-অনটন এবং স্ত্রীর চিকিৎসার প্রয়োজনে প্রায় ১৭-১৮ বছর আগে এলাকার মো. বাবুল মিয়ার নিকট ৫২ হাজার টাকায় উক্ত জমিটি বন্ধক দেন। তখন মৌখিক বা চুক্তি অনুযায়ী কথা ছিল আবদুল আজিজ যখনই ৫২ হাজার টাকা ফেরত দেবেন, তখনই বিবাদী জমির দখল বুঝিয়ে দেবেন।
কিন্তু গরিব রিকশাচালক আবদুল আজিজের পক্ষে এককালীন ওই টাকা জোগাড় করতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। এই সুযোগে অভিযুক্ত ১নং বিবাদী মো. বাবুল মিয়া (৫৮) ও তার ছেলে ২নং বিবাদী মো. সোহেল (৩৬) ওই জমিতে ঘরবাড়ি নির্মাণ করে জবরদখল করে বসবাস শুরু করেন।
সম্প্রতি কষ্টার্জিত উপার্জনে বন্ধকের সেই ৫২ হাজার টাকা পুরোপুরি হাতে পাওয়ার পর আবদুল আজিজ অভিযুক্তদের কাছে গিয়ে টাকা গ্রহণ করে তার জমির দখল ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান। কিন্তু অভিযুক্তরা টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানান এবং জমি কোনোভাবেই ফেরত দেবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন।
সর্বশেষ গত ১৭ আগস্ট ২০২৬ ইং তারিখ সকাল অনুমান ১০টার দিকে আবদুল আজিজ পূর্ব আলোকদিয়া সাকিনে নিজের মালিকীয় জমিতে উপস্থিত হয়ে পুনরায় টাকা নিয়ে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করলে বিবাদীদ্বয় ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারার জন্য তেড়ে আসে এবং প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। বর্তমানে অভিযুক্তদের হুমকিতে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ওই রিকশাচালক পরিবার। এলাকায় এই নিয়ে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যেকোনো মুহূর্তে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটতে পারে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী আবদুল আজিজ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি গরিব মানুষ, রিকশা চালিয়ে কোনোমতে সংসার চালাই। সেদিন স্ত্রীর অসুস্থতা ও টাকার তাড়নায় জমিটি বন্ধক দিয়েছিলাম। আজ অনেক কষ্ট করে টাকাটা জোগাড় করেছি। কিন্তু তারা আমার শেষ সম্বল জমিটুকু আর ফেরত দিচ্ছে না, আমাকে মারতে আসছে। আমি প্রশাসনের কাছে এর সঠিক বিচার ও আমার জমি ফেরত চাই।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার বিষয়ে লালমাই থানার নজরুল ইসলাম জানান, জমি বন্ধক ও জবরদখলের বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।