,

বয়স বাড়লেই চালশে

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
March 15, 2019
news-image

ডেস্ক রিপোর্ট :

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যেমন চুল পাকে, ত্বক বিবর্ণ হয়, তেমনি আরেকটা সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা চালশে নামে পরিচিত। চালশে মানে কাছের বস্তু কম দেখতে পাওয়া বা ঝাপসা দেখা, চিকিৎসাবিজ্ঞানে যার নাম প্রেসবায়োপিয়া। এটি আসলে চোখের কোনো রোগ নয়, এটা বয়সজনিত চোখের স্বাভাবিক পরিবর্তনের কারণে কাছের বস্তু দেখার ক্ষমতা ক্রমান্বয়ে কমতে থাকা।

বয়স যখন চল্লিশের কাছাকাছি পৌঁছায়, তখন কাছের কোনো বস্তুতে চোখের দৃষ্টি কেন্দ্রীভূত করা আগের চেয়ে একটু কষ্টসাপেক্ষ হয়ে ওঠে। এর কারণ হলো, বয়সের সঙ্গে সঙ্গে আমাদের চোখের ভেতরের লেন্স ক্রমেই স্থিতিস্থাপকতা হারাতে থাকে, চোখের পেশিগুলোরও কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়। ফলে আলোকরশ্মি কাছের কোনো বস্তু থেকে রেটিনাতে যথাযথভাবে কেন্দ্রীভূত হতে পারে না। কাছের জিনিসটি ঘোলাটে দেখায়।

শুরু দিকে বই বা পত্রিকার ছোট অক্ষরগুলো দেখতে অসুবিধে হয়, পড়তে পড়তে অক্ষরগুলো যেন চোখের সামনে ঝাপসা হয়ে আসে। অল্প সময় পড়ার পরই চোখে ক্লান্তি ও ব্যথা অনুভূত হয়। প্রায়ই মাথাব্যথা হতে পারে। সেলাই করা বা সুইয়ে সুতা ভরার মতো কাজে খুবই অসুবিধে হতে থাকে। আলোর স্বল্পতায় সমস্যাগুলো আরও প্রকট হয়ে ওঠে। চোখ থেকে একটু দূরে ধরে সূক্ষ্ম কাজগুলো করলে একটু আরাম বোধ হয় প্রথম দিকে, পরে তাতেও কাজ হয় না।

যাঁরা সূক্ষ্ম কাজগুলো বেশি করেন, যেমন শিক্ষক, সেলাইকর্মী-তাঁরা অন্যদের চেয়ে দ্রুত চালশের উপসর্গগুলো টের পান। অপর দিকে যাঁদের দূরদৃষ্টি সমস্যা বা মায়োপিয়া আছে, তাঁদের ক্ষেত্রে চালশের উপসর্গ একটু দেরিতেই বোঝা সম্ভব হয়। কিছু রোগ, যেমন ডায়াবেটিস, গ্লুকোমা ইত্যাদি থাকলে সময়ের আগেই চালশে হতে পারে।

কী করবেন
চালশের উপসর্গ টের পেলে চক্ষুবিশেষজ্ঞের কাছে চোখ পরীক্ষা করে সঠিক মাপের ও পাওয়ারের চশমা নিতে হবে। এটাই সবচেয়ে সহজ ও নিরাপদ সমাধান। তবে এই চশমাই চিরস্থায়ী নয়, বছরে একবার অন্তত চশমার পাওয়ার পরিবর্তন করতে হতে পারে। কেননা, চালশের মাত্রা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়বে। চশমা ছাড়াও কনটাক্ট লেন্স, লেজার ও চোখের অভ্যন্তরের লেন্স পরিবর্তনের মাধ্যমেও চালশের চিকিৎসা সম্ভব। তবে এগুলোর ব্যাপারে অবশ্যই আগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

শেষ কথা হলো, বয়স বাড়লেই বুড়িয়ে গেলেন বা কর্মক্ষমতা হারিয়ে ফেললেন, ক্ষতা সত্য নয়। সঠিক সময়ে সচেতন হয়ে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করলে দৃষ্টির এই সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করা সহজ।