,

আন্তর্জাতিক ইয়োগা দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীকে নরেন্দ্র মোদির চিঠি

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
June 21, 2021
news-image

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

মহামারি কাটিয়ে ওঠার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

২১ জুন আন্তর্জাতিক ইয়োগা দিবস উপলক্ষে লেখা ওই চিঠিতে মোদি বলেন, ‘আমি এখনো আশাবাদী যে মানবতায় সাহায্যে এই মহামারি শিগশিরই কাটিয়ে উঠা যাবে।’

চিঠিতে মোদি দিবসটি সাফল্যমণ্ডিত করতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এ সময় সামনের বছরগুলোতেও হাসিনা সরকার আন্তর্জাতিক ইয়োগা দিবস উৎসাহের সাথে উৎযাপন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মোদি।

চিঠিতে মোদি লিখেছেন, গত বছরের মতো এবারও করোনা মহামারির মধ্যে দিসবটি পালন হচ্ছে। মহামারির বিরুদ্ধে করোনা যোদ্ধারা অসাধারণ লড়াই করেছে বলে জানিয়েছে মোদি।

ভারতের জনগণকে মহামারি থেকে রক্ষা করতে টিকা দেওয়া হচ্ছে বলেও লিখেছেন মোদি।

শেখ হাসিনা বরাবরে লেখা মোদির চিঠি :

”২০১৪ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ কর্তৃক ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস হিসেবে ঘোষণার অভূতপূর্ব সাড়া যোগব্যায়ামের সর্বজনীন আবেদনের প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে যা সমস্ত বাধা অতিক্রম করে যায়। তখন থেকেই বিশ্বব্যাপী সাড়ম্বরে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালিত হয়ে আসছে। আর কয়েক সপ্তাহ পরই বিশ্ব ৭ম আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালন করতে যাচ্ছে। বিগত বছরের মতো এবছরও কোভিড-১৯ মহামারীর প্রকোপের মধ্যেই আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালিত হবে।

এই অবিস্মরণীয় প্রতিকূলতার মধ্যেও আমাদের কোভিড-১৯ যোদ্ধারা উল্লেখযোগ্যভাবে এই মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। মহামারীর হুমকির মধ্যেও গত আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের পর থেকে বেশ কিছু ইতিবাচক ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি ও ভাইরাস বিষয়ক বৈজ্ঞানিক গবেষণার পাশাপাশি আমাদের জনগণকে রক্ষার জন্য এখন একাধিক টিকাও রয়েছে আমাদের কাছে। ভারতসহ বিভিন্ন দেশে টিকাদান কর্মসূচি চলছে। আমার বিশ্বাস মানবজাতি খুব শীঘ্রই এই মহামারী কাটিয়ে উঠবে।

আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘সুস্থতার জন্য যোগ’- যা বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।
শরীরের পাশাপাশি যোগব্যায়াম মনের জন্যও বেশ উপকারী। সকল ধরণের সাবধানতা সত্ত্বেও একজন মানুষ কোভিড-১৯ আক্রান্ত হতে পারেন। কিন্তু একটি শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একে মোকাবিলার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। যোগব্যায়াম আমাদের সেই প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরিতে সাহায্য করে, যেমনঃ- শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়ামের ফলে ফুসফুসের কার্যকারিতা বৃদ্ধি পায়। একই সময়ে, সাড়া বিশ্বেই কোটি কোটি মানুষ মাসের পর মাস ঘরে থাকতে বাধ্য হয়েছেন। এর ফলে তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপরও বেশ প্রভাব পড়েছে। নিয়মিত যোগাভ্যাস তাদের এই প্রভাব কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করবে।

যোগের একটি সহজাত শক্তি রয়েছে মানুষকে যুক্ত করার। যোগব্যায়াম সম্প্রদায়, রোগ প্রতিরোধ এবং ঐক্য এই তিনের জন্যই উপকারী। আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য সাড়া বিশ্বের মানুষের সুস্বাস্থ্য ও সুস্থতার প্রতি উদ্বেগকেই প্রতিফলিত করে। এটি এমন একটি উদ্যোগ যা মানুষের শারিরীক সক্ষমতার পাশাপাশি সুস্থতার প্রতিও গুরুত্ব দেয়।

বাংলাদেশে সফলভাবে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালনে আপনাদের সহযোগিতার জন্য প্রত্যেককে আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। গত কয়েক বছরে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে যোগ দিবস পালনের জন্য বাংলাদেশী ভাই ও বোনেদের ব্যাপক অংশগ্রহণ দেখে আমি অত্যন্ত আপ্লুত হয়েছি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, সামনের বছরগুলিতেও আন্তর্জাতিক যোগ দিবস পালনে আপনার সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

আমি আপনি, আপনার পরিবার ও দেশের জনগণের সুস্থতা ও সুস্বাস্থ্যের কামনা করি।”