,

কুমিল্লা মনোহরগঞ্জে বিয়ে করতে গিয়ে ধরা পড়ল ‘ধর্ষক’

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
October 29, 2019
news-image

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার শারিরীক সম্পর্ক স্থাপন করে, অতঃপর অন্যত্র বিয়ে করতে গিয়ে জনতার হাতে ধরা পড়লো সেই ‘ধর্ষণকারী’। পরে বররূপী ধর্ষককে পুলিশে সোপর্দ করেছে স্থানীয়রা।

সোমবার সকালে পুলিশ অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠান।
অভিযুক্ত মানিক মিয়া উপজেলার উত্তর হাওলা গ্রামের মনতাজ মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার জানায়, উপজেলার উত্তর হাওলা ইউপির উত্তর ফেনুয়া গ্রামের দরিদ্র পরিবারের এক তরুণীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে অভিযুক্ত মানিক। প্রায় এক বছর ধরে ওই তরুণীর সঙ্গে বেশ কয়েকবার শারীরিক সম্পর্ক করে অভিযুক্ত। এরই মধ্যে পাশের গ্রামের এক মেয়ের সঙ্গে মানিকের বিয়ে ঠিক হয়। এরপর বিয়ের খবরটি চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দেখা যায়। নির্ধারিত ২৭ অক্টোবর দুপুরে বিয়ে করতে যাওয়ার সময় বরযাত্রা থেকে মানিককে ধরে পুলিশে সোপর্দ করেন ক্ষুদ্ধ স্থানীয়রা।

ভুক্তভোগীর মামা জানান, ধর্ষণকারী মানিকের বিয়ের খবর জানতে পেরে শনিবার রাতে থানায় মামলা করতে যাই। পরে স্থানীয় নারী ইউপি সদস্য কাজল রেখা তাকে ফোন করে মামলা না করতে বলেন। তার ভাগনির সঙ্গে মানিকের বিয়ের আশ্বাস দেন। পরে তার এলাকায় গেলে উত্তর হাওলা ইউপির আবদুল হালিম অভি, সাহাব উদ্দিন সাকিল, আবদুল হান্নানসহ প্রভাবশালীরা ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন। তারা আমাদের টাকার লোভ দেখাতে থাকেন।

অভিযুক্ত উত্তর হাওলা ইউপির আবদুল হালিম অভি বলেন, অভিযুক্ত পক্ষের লোক শনিবার রাতে ঘটনাটি সমাধান করতে আমাদের ডেকে নেয়। ওই সময় ভুক্তভোগীর মামা টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি মিমাংসা করতে রাজি হন। তিনি আড়াই লাখ দাবি করেন। পরে দুই পক্ষের সম্মতিতে এক লাট ১০ হাজার টাকায় ঘটনাটি মিমাংসা হয়। এরপর ৯৬ হাজার টাকা নিয়ে কাগজে স্বাক্ষর দেন ভুক্তভোগীর মামা। রোববার সন্ধ্যায় মেয়ের স্বাক্ষর এনে বাকি টাকা নেয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে বরযাত্রা থেকে মানিককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করার খবর পাই। এখন পুলিশ বিষয়টি দেখছে।

মনোহরগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) মো. মাহাবুব কবির বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর মা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। আসামিকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।