,

তিতাসে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের অধিকাংশ ঘরেই থাকেন না বরাদ্ধপ্রাপ্তরা

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
January 23, 2022
news-image

 

জাকির হোসেন হাজারী:
কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার দেওয়া অধিকাংশ ঘরে থাকছে না বরাদ্ধপ্রাপ্তরা। আবার ৬ মাস না যেতেই কয়েকটি ঘরের মেঝে ও দেয়ালে ফাটলও ধরেছে। গত বছর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধনের পর ঘরগুলো হস্তান্তর করা হয়েছে উপকার ভোগীদের মাঝে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার প্রকল্প (আশ্রয়ণ প্রকল্প-২) গৃহহীন ভূমিহীন অসহায় পরিবারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে ২০২০-২১ অর্থ বছরে তিতাস উপজেলায় ৫৫ জন ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের জন্য সেমি পাকা ঘর তৈরি করা হয়। এর মধ্যে ভিটিকান্দি ইউনিয়নের দাসকান্দি নির্মাণ করা হয়েছে ৫২টি ঘর। প্রতিটি ঘর তৈরিতে বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। গেল অর্থ বছরের নির্মিত এসব ঘর আনুষ্ঠানিক ভাবে উপকার ভোগীদের মাঝে হস্তান্তর করা হয়। সেমি পাকা দুই কক্ষ বিশিষ্ট এসব ঘরে সংযুক্ত একটি রান্নাঘর ও টয়লেট রয়েছে।

সরেজমিনে দাসকান্দি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, মুজিব শতবর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার দেওয়া অধিকাংশ ঘরেই থাকছে না বরাদ্ধপ্রাপ্তরা। ৫২টি ঘরের বেশির ভাগ ঘরে তালা ঝুলছে। নির্মাণ করা কয়েকটি ঘরের দেয়াল ও মেঝে ফাটল ধরেছে।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও বরাদ্ধ পাওয়া ঘরে থাকা কয়েক জনের সাথে আলাপ করে জানা গেছে, ৫২টি ঘরের মধ্যে মাত্র ১০/১২টি ঘরে লোক থাকে আর বাকি ঘর গুলোর কেউ কেউ মাঝে মাঝে এসে পরিস্কার করে আবার চলে যায়। আর কয়েকটি ঘর শুরু থেকে রয়েছে তালাবদ্ধ। সেগুলোর বরাদ্দ পাওয়া লোকেরা আসেই না।

বরাদ্দ পাওয়া ১১ নং ঘরের বাসিন্দা ছেনরা বেগম জানায়, প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়ে আমরা বেশ খুশি। কিন্তু বারান্দার দেয়ালে দুইপাশেই ফাটা। বাথরুমের টাংকির ময়লা যাওয়ার কোন ব্যবস্থা নেই। আর পানির জন্য যে টিউবওয়েল বসানো হয়েছে, সেটা চালু করতে পারছি না, পানিও আনতে পারছি না। কারণ যে ঘরে কারেন্টের(বিদ্যুৎ) লাইন দেয়া হয়েছে, সে ঘরে কেউ থাকে না।

ঘর বরাদ্দ পাওয়া কড়িকান্দি ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের আমীর হোসেন বলেন, আমি দিন মজুরের কাজ করি, কাজ না পেলে এলাকার লোকজন সাহায্য করে। এখন সেখানে(দাসকান্দি) গিয়ে ছেলে মেয়ে নিয়ে কি খাবো?

তিতাস উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোঃ আহসান উল্লাহ জানান, ঘর গুলো উদ্বোধন করার জন্য কারনে খুব তাড়াতাড়ি নির্মান করা হয়েছে। তাই সেগুলোতে ঠিক মতো পানি দেওয়া হয়নি। এর ফলে হয়তো দেয়ালে ফাটল ধরেছে। যে ঘরগুলো ফাটল ধরেছে তা মেরামত করে দেওয়া হচ্ছে। আর সুবিধাভোগীদের কর্মমুখি করার লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিতাস উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এটিএম মোর্শেদ জানান, আমি আসছি এখানে চার মাস হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া ঘরের উপকার ভোগীদের বিষয়ে তথ্য নেওয়া হয়েছে। যারা ঘর গুলোতে থাকছে না তাদের কাছে জান্তে চাওয়া হয়েছে কি কারনে তারা থাকছে না। আর সুবিধাভোগীদের আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রশিক্ষনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এখন কুটির শিল্পের প্রশিক্ষন চলছে। ঠিক মতো কিউরিং না হওয়ার কারনে দেয়ালে ফাটল দেখা দিতে পারে। আর ঘর বরাদ্দ পাওয়ার পরেও যারা থাকছে না, তাদের বরাদ্দ বাতিল করে নতুনদের বরাদ্দ দেওয়া হবে।