,

নবীনগরে সরকারি খাল ভরাট করে বাড়ি নির্মাণ, এলাকাবাসি চরম দূর্ভোগে

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
September 14, 2019
news-image

 

দেলোয়ার হোসেন, নবীনগর :

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার টিয়ারা গ্রামে সরকারি খাল ভরাট করে একাধিক বাড়ি তৈরী করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে এলাকার কয়েকজন ভুক্তভোগী জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। ওই আবেদনের অনুলিপি নবীনগরের ইউএনও, এসি ল্যান্ড ও ওসিকেও প্রদান করা হয়েছে।

প্রাপ্ত ওই লিখিত অভিযোগ ও সরজমিনে এলাকাবাসির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, টিয়ারা গ্রামের পশ্চিম পাড়ায় ফিরোজ মেম্বারের বাড়ির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া গ্রামের প্রাচীন সরকারি খালটি গ্রামের কিছু লোক মাটি দিয়ে ভরাট কওে সেখানে বাড়ি তৈরি করেন। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই খালের আশে পাশে প্রচন্ড জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এছাড়া খালটি ভরাট হওয়ায় বৃষ্টির পানিতে পাশের টিয়ারা আয়েশা বেগম উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণটি তলিয়ে যায়।

সরজমিনে দেখা যায়, ওই খালের উপর নির্মিত একটি ব্রীজের নীচে এমনভাবে মাটি ফেলে খালটি ভরাট করা হয়েছে, যার কারণে ওই ব্রীজটি এখন আর কোন কাজেই আসছেনা। মাটি ভরাট করে খালের সামনে একাধিক বাড়ি তৈরি করা বাড়ির মালিকদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে কেউ সাংবাদিকের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।

তবে এলাকার লোকজন অভিযোগ করেন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেনের মদদে গ্রামের কিছু লোক সরকারি ওই খালটি ভরাট করেন। যার ফলে আশে পাশের এলাকা ও টিয়ারা হাইস্কুলসহ টিয়ারা ভাতুরিয়া সড়কটি সামান্য বৃষ্টিতেই পানির নীচে তলিয়ে যায়। আর এতে এলাকাবাসিকে চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয়।

এ বিষয়ে টিয়ারা হাইস্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও আবেদনকারীদের অন্যতম কবির হোসেন বলেন,‘গ্রামের দ্ইু প্রভাবশালী জাকির হোসেন মহাজন ও ইমাম হোসেন মহাজন দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের আবাদি কৃষি জমি অবৈধভাবে ড্রেজারের মাধ্যমে কেটে সেই মাটি গ্রামের মানুষের কাছে বিক্রী করে ব্যবসা করছেন। আর একটি চিহ্নিত মহলের সহযোগিতায় সেই মাটি কিনে খাল সংলগ্ন বাড়ির মালিকেরা তাদের বাড়ির জায়গার পরিমাণ বাড়াতে সরকারি খালটি সম্পূর্ণ ভরাট করেন।’

তবে জাকির হোসেন মহাজন বলেন,‘আমরা নিজেদের জমি কেটে মাটি মানুষের কাছে বিক্রী করি। এখন কেউ যদি আমাদের কাছ থেকে মাটি কিনে খাল ভরাট করে সেখানে আমাদের কি করার আছে? তবে খালের সামনের নীচু জায়গায় মাটি ফেলা হয়েছে, খালে নয়।’

বিটঘর ইউপি চেয়ারম্যান আবুল হোসেন আজকের কুমিল্লাকে বলেন,‘পানি চলাচলের জন্য খালের নীচে পাইপ বসিয়েই সেখানে মাটি ফেলা হয়েছে। যাতে পানি চলাচলে কোন সমস্যা না হয়। তবে মাটি ভরাটের সময় আমি বাঁধাও দিয়েছি। কিন্তু বাড়ির মালিকেরা বলেছেন, প্রয়োজনে ভরাট হওয়া মাটি সরিয়ে ফেলা হবে।’

আজ শনিবার নবীনগরের ইউএনও মোহাম্মদ মাসুম আজকের কুমিল্লাকে বলেন, ‘আবেদনটি এখনও আমার হাতে আসেনি। পেলে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’