,

বিজরা বাজারের মা-মনি স্বর্ণ দোকানে চুরি: অলংকার ও নগদ টাকা লুট

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
August 22, 2020
news-image

 

স্টাফ রিপোর্টার:
কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার বিজরা বাজারের গফুর ম্যানসনের মা-মনি স্বর্ণ শিল্পালয়সহ দুটি দোকানে চুরি হয়েছে। এ সময় চুরির দুইদিন পরও চোরদের শনাক্ত কিংবা আটক করা সম্ভব হয়নি। এ সময় স্বর্ণ দোকানের লকারে রক্ষিত প্রায় ৭ ভরি স্বর্ণালংকার ও ৪০ ভরি রূপার অলংকার চুরি করে নিয়ে যায়, যার সর্বমোট মূল্য অনুমাণিক ৫ লক্ষ টাকা । এ সময় নগদ ৭০ হাজার টাকাও লুট করে নেয় দুর্বৃত্তরা। এছাড়া পাশের অনামিকা স্টুডিও থেকে একটি ক্যামেরাসহ অন্যান্য মালামাল চুরি হয়।

১৯ আগষ্ট রাত থেকে ২০ আগষ্ট সকালের মধ্যে যে কোন সময়ে এ চুরির ঘটনা ঘটে।
মা-মনি স্বর্ণ শিল্পালয়ের মালিক কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার ধলিরপাড়ের বড় বাড়ির ছেলে জুটন চন্দ্র ভৌমিক এ চুরির ঘটনায় লাকসাম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

অভিযোগে উল্লেখ করেন, আমি লাকসামের বিজরা বাজারস্থ গফুর ম্যানশনে মা-মনি স্বর্ণ শিল্পালয় নামক একটি স্বর্ণের দোকানে দীর্ঘ প্রায় ৩ বছর যাবৎ ব্যবসা করে আসছি। প্রতিদিনের ন্যায় গত ১৯ আগষ্ট রাত ৮ টার সময় আমি আমার দোকানের সকল স্বর্ণলংকার লকারে রেখে তালা দিয়ে দোকানের শার্টার বন্ধ করে বাড়িতে যাই। পরদিন সকাল বেলায় খবর পাই আমার দোকানে তালা নেই। আমি দ্রুত বাজারে আসি। দোকানে ঢুকে দেখি আমার লকারে রক্ষিত অনুমান ৭ ভরি স্বর্ণালংকার, ৪০ ভরি রূপার অলংকার এবং নগদ ৭০ হাজার টাকা নাই। সব চুরি হয়ে গেছে। আমি বিষয়টি বাজার কমিটির লোকজনকে অবহিত করেছি।

থানায় অভিযোগ দায়েরের পর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক মোঃ সেলিম ২০ আগষ্ট রাত সাড়ে ৭ টায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

জানা যায়, এই মার্কেটে গত ৪ মাস আগে ৯/১০ টি দোকানে চুরি হয়। বাজার কমিটিকে এ বিষয়ে অবহিত করলেও কোন চোর শনাক্ত হয়নি। দোকান মালিকরা কোন ক্ষতিপূরণ পায়নি। চুরি হওয়া দোকানগুলো হলো-নীলিমা কম্পিউটার, মতিন ট্রেডার্স, ছাত্রবন্ধু লাইব্রেরি, জসিম মোবাইল এন্ড ইলেক্ট্রনিক্স, শুভ স্টুডিও, মুসলিম সুইটস, জননী স্টুডিও, বিসমিল্লা জুয়েলার্স, সৌরভ সৌখিন শিপিং ফার্নিচার , ইসলামিয়া ক্লথ স্টোর ও ব্রাদার্স মেডিকেল হল।

দোকান ব্যবসায়িরা জানান, ৪ মাস আগে এত বড় চুরি হওয়ার পরও মার্কেটে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেনি বাজার কমিটি। ফলে আবার চুরি হলো। এছাড়া এই মার্কেটে ২৪টি দোকানের জন্য একজন নৈশ প্রহরী থাকতে কিভাবে চুরি হয়, তা সবার মনে প্রশ্ন।

বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক সেলিম মিয়া জানান, আমরা এ বিষয়ে পুলিশকে অবহিত করেছি।

লাকসাম থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ সেলিম জানান, অভিযোগ দায়েরের পর ঘটনাস্থলে গিয়েছি। আবার যাবো। এ ঘটনায় ভুক্তভোগিরা মামলা দায়ের করলে মামলা নিবো। এই মার্কেটে কোন করেসবল গেইট নেই। তাছাড়া এই বাজারে ৭ শত দোকানের জন্য মাত্র ৭ জন প্রহরী রয়েছে। যা খুবই কম।

তবে ব্যবসায়িরা বলছেন, বাজার কমিটির চরম অবহেলার জন্য বার বার চুরি হচ্ছে।