মুরাদনগরে ৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী বিজয়া দশমী উদযাপন, ৩২ মণ্ডপের প্রতিমা বিসর্জন
মাহবুব আলম আরিফ:
কুমিল্লার মুরাদনগরের রামচন্দ্রপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার ৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী বিজয়া দশমী।
এ উপলক্ষে মুরাদনগরসহ আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা ৩২টি পূজা মণ্ডপের প্রতিমা একত্রিত করা হয়। পরে ভোররাতে তিতাস নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় ঐতিহ্যবাহী এ আয়োজন।
বুধবার দিবাগত রাতে রামচন্দ্রপুর পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বাবু সমীর সাহার সভাপতিত্বে এবং বাবু গৌতম আচার্য্যের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি বক্তব্য দেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ এমপি।
কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোল্লা গোলাম মহিউদ্দিনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) রাজিয়া সুলতানা, মুরাদনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাছান খাঁন, মুরাদনগর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ কে এম কামরুজ্জামান এবং বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিউল আলম।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সদস্য নারায়ণ সরকার, দারোরা দিনেশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি এ কে এম কায়েস, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ মোল্লা, কুমিল্লা উত্তর জেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সভাপতি দুলাল দেবনাথ, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সুহেল সামাদ, উপজেলা পূজা উদযাপন ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক দয়ানন্দ ঠাকুর, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক আহমেদ বাদশা এবং উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক খাইরুল হাসানসহ অন্যরা।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, বিকেল গড়াতেই মুরাদনগর, বাঙ্গরা, নবীনগর, বাঞ্ছারামপুর ও হোমনা উপজেলা থেকে প্রায় ৩২টি পূজা মণ্ডপের প্রতিমা রামচন্দ্রপুরে সারিবদ্ধভাবে একত্রিত করা হয়। এ সময় বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ভক্তদের উপস্থিতিতে উৎসবস্থল প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। ভক্তরা পূজা-অর্চনা ও প্রার্থনায় অংশ নেন।
বিসর্জনের আগে আয়োজনের অংশ হিসেবে সবচেয়ে সুন্দর প্রতিমার জন্য তিনটি পূজা মণ্ডপকে পুরস্কৃত করা হয়। পরে ভোররাতে তিতাস নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় শতাব্দীপ্রাচীন এ বিজয়া দশমী উৎসব।
দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ঐতিহ্য, ভক্তদের অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন এলাকার মানুষের মিলনমেলায় রামচন্দ্রপুরের এ আয়োজন পরিণত হয় এক উৎসবমুখর মিলনমেলায়।