বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ
জাকির হোসেন হাজারী:
কুমিল্লার দাউদকান্দিতে বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে চার একর কৃষি জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে দৌলতপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। ওই ইউনিয়নের বালুচর গ্রামে এই দখলকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশংকা ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে ।
সরেজমিনে গিয়ে জানাযায়, দৌলতপুর ইউনিয়নের চরসাহাপুর মৌজার সাড়ে চার একর কৃষি জমি বালুচর গ্রামের তালুকদার পরিবারের অংশিদাররা একশো বছর যাবৎ ভোগ দখলে চাষ করছে। গত বৃহস্পতিবার একই গ্রামের আব্দুস সালামের লোকজন নিয়ে ট্রাক্টর দিয়ে ওই জমিতে চাষ দিয়ে দখলে নেয়ার চেষ্টা করে । এনিয়ে তালুকদার পরিবারের লোকজন বাধা দিতে গেলে তাদেরকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম ও তার লোকজন মারধরের হুমকি দেয় বলে জানান ভুক্তভোগী রকিব তালুকদার।
তিনি জানান, বালুচর গ্রামের চরসাহাপুর মৌজায় সাতটি খতিয়ানে আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তির পরিমাণ ৪ একর ৬০ শতক। সিএস, আরএস ও বিএস খতিয়ানসহ খাজনা ও নামজারিসংক্রান্ত সকল কাগজপত্র আমাদের নামে থাকার পরও চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম আমাদের ৪ একর জমিতে জোরপূর্বক দখল করে হাল দিয়েছে। বিষয়টি আমরা থানা পুলিশসহ বিএনপির সিনিয়র নেতাদের জানিয়েছি।
দৌলতপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হেলাল ইসহাক জানান, বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে বালুচর গ্রামে কৃষি জমি দখলের বিষয়টি দলর উর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দের জানাজানি হলে বিষয়টির বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের জন্য দল থেকে আমাকে বলা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং উভয় পক্ষের সাথে কথা বলেছি। তাদের কাগজপত্রে যেটা জেনেছি, তালুকদারদের অন্তত একশো বছরের দখল এবং খতিয়ানের ধারাবাহিকতা রয়েছে। এখন একজন দায়িত্বশীল ব্যাক্তি কোন রকমের ডকুমেন্টস ছাড়া গায়ের জোরে অন্যের জায়গা জমি দখল করতে পারেন না। কিন্তু এখানে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে সেটাই করেছেন। যা অত্যন্ত নিন্দনিয় এবং ফৌজদারী অপরাধ। আর আমাদের দলের সাথে সালাম চেয়ারম্যান কোন রকমের সম্পৃক্ততা নেই। বিষয়টি আমিও প্রশাসনকে অবগত করেছি।
চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম বলেন, আমাদের বাপ দাদার নামে সিএস খতিয়ান রয়েছে, ওই খতিয়ান থেকে কোন সম্পদ বেচাবিক্রি হয়েছে বলে জানা নাই। তারা যদি কোন সম্পদ ক্রয় করে থাকে তাহলে দলিল দেখালে হয়তো এই বিব্রতকর পরিবেশ পরিস্থিতি হতো না এবং আমাদের কারো আপত্তির সুযোগ থাকতো না। এখন তারা অর্থের প্রভাবে পেশিশক্তির মাধ্যমে মানুষকে হয়রানি করছে। এখন আমরা আদালতের দারস্থ হবো।
দখল প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমি চেয়ারম্যান থাকায় মানুষের দাবি নিয়ে কথা বলতেই পারি, এটা অপরাধ জানতাম না। আর বিএনপির নাম ভাঙ্গিয়ে কোন প্রভাব বিস্তার করার প্রশ্নই উঠে না। এগুলো মিথ্যাচার, সামনে নির্বাচন আসছে তাই এই মিথ্যাচার করছে একটি পক্ষ।
দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম জানান, দৌলতপুর জমিজমার বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। যেহেতু মালিকানার বিষয়ে ফয়সালা দেয়া ক্ষমতা আদালতের, তাই উভয় পক্ষকে আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।