কুমিল্লায় তাজমিন হত্যা মামলায় কথিত প্রেমিক রাজু আটক
ডেস্ক রিপোর্ট:
কুমিল্লার আলোচিত কিশোরী তাজমিন আক্তার ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় তার কথিত প্রেমিক রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে (২০) কক্সবাজার থেকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার রাত ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। সদর মডেল থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ওসি জানান, প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, রাজুই তাজমিনকে ফুসলিয়ে কক্সবাজার নিয়ে এসেছিলেন। তবে তাকে কুমিল্লার মামলায় আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হবে কিনা, সে বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
গত বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া জঙ্গলসংলগ্ন একটি জমি থেকে তাজমিনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় লাশ পাশ থেকে ‘আইকনিক এন্টারপ্রাইজ’-এর একটি বাসের টিকিট উদ্ধার করা হয়। ওই টিকিটের সূত্র ধরে অনুসন্ধানে জানা যায়, কক্সবাজার শহরের কলাতলীতে একটি এজেন্ট কাউন্টার থেকে টিকিটটি কাটা হয়েছিল।
কাউন্টারটির পরিচালক আসহাব আব্দুল্লাহ জানান, গত মঙ্গলবার রাতে ২০ বছর বয়সী ওই তরুণ এক কিশোরীকে সঙ্গে নিয়ে টিকিট কাটতে এসেছিলেন এবং তাকে নিজের বান্ধবী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে বার্তা ও রিলস আদান-প্রদানের মাধ্যমে রাজুর সঙ্গে তাজমিনের ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। প্রায় ১৭ দিন আগে তাদের পরিচয় হলেও অন্য একটি সূত্র মতে এর মেয়াদ প্রায় ৫ মাস। রাজু গত তিন বছর ধরে কক্সবাজার শহরের একটি আবাসিক হোটেলে কর্মরত আছেন। তাজমিনের সঙ্গে যোগাযোগের পর রাজু তাকে কক্সবাজারে আসার জন্য বিকাশে ৫০০ টাকা পাঠান।
কক্সবাজারের কলাতলী সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত একটি হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুর সঙ্গে স্ত্রী পরিচয়ে ৩০২ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন তাজমিন। সেখানে রাজুর পরিচয় দেওয়া হয় বান্দরবানের লামা এলাকার মনির আহমদের ছেলে হিসেবে। হোটেল রেজিস্টারে তার ভুয়া নাম ও বয়স ১৮ বছর উল্লেখ করা হয়েছিল। এক রাত সেখানে অবস্থানের পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তারা কক্ষ ছেড়ে দেন। পরে রাজু তার জন্য ৯০০ টাকা মূল্যের টিকিট কেটে বাসে তুলে দেন।
হত্যাকাণ্ডের পর রাজু নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে কান্নাকাটি করেন এবং হোটেল থেকে ছুটি নিয়ে অন্যত্র আত্মগোপন করেন। এ সময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়।
গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে ঘড়ি দেওয়াকে কেন্দ্র করে মায়ের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হলে তাজমিন বাসা থেকে বেরিয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যান। সেখান থেকে রাজুর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে কক্সবাজারে ডেকে নেওয়া হয়।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে পদুয়ারবাজার বিশ্বরোডের হোটেল নূরজাহানের সামনে বাস থেকে নেমে রেসকোর্স এলাকার বাসায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ভাড়া করেন তাজমিন। চালক মো. সুমন মিয়া (৩৫) তাকে রেসকোর্সে না নিয়ে লালমাই উপজেলার জগতপুর উত্তরপাড়ার একটি নির্জন স্থানে নিয়ে ধর্ষণ ও পরে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে।
এই নৃশংসতার ঘটনায় ইতিপূর্বে চালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার দেখানো স্থান থেকে তাজমিনের আইফোনটি উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছেন ঘাতক সুমন।
লালমাই থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, ডিজিটাল প্রমাণ ও কল লিস্ট বিশ্লেষণসহ এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যদের বিষয়েও অধিকতর তদন্ত চলছে।