কুমিল্লা- সিলেট মহাসড়কের সম্প্রসারণের মাটি অন্যত্র বিক্রির অভিযোগ, মাটির ট্রাকসহ একজন আটক
ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু/ মোঃ সাফি / রকিবুল হাসান রনি:
কুমিল্লা–সিলেট মহাসড়কের সম্প্রসারণকাজের সড়কসংলগ্ন এলাকা থেকে তোলা মাটি ব্যক্তিগত কৃষিজমি ভরাটে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ময়নামতি ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন ১০ থেকে ১২টি ড্রাম ট্রাকে করে মাটি অন্যত্র নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় প্রায় ৪০ লাখ টাকায় মাটি কিনে নেওয়ার দাবি করেছেন কয়েকজন ড্রাম ট্রাকচালক।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি থেকে সাহেবের বাজার সংলগ্ন গরু বাজার পর্যন্ত রাস্তার পাশ হতে প্রায় ১ কিঃ মিঃ অংশের মাটি সড়ক ও জনপথের ঠিকাদার মোঃ ফারুক অনৈতিকভাবে উদ্যোগ নিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী আবু কাউছার রোকনের নিকট বিক্রি করেন। উক্ত স্থানের মাটি রোকন তার ব্যক্তিগত ২ টি ফসলি জমি ভরাটের কাজে ব্যবহার করছেন।
ড্রাম ট্রাক চালকরা জানান , প্রকৌশলী দেলোয়ারের নির্দেশে তাঁরা এসব মাটি নির্দিষ্ট স্থান থেকে নিয়ে যাচ্ছেন। তবে মাটি বিক্রির অর্থ কারা পেয়েছেন, তা জানা যায়নি।

রাস্তা সম্প্রসারণ কাজের ঠিকাদার ক্লাসিক বিল্ডার্স বলে জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে সম্প্রসারণকাজের ঠিকাদার ফারুককে মুঠোফোন সংযোগে পাওয়া যায় নি।
সওজ সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লার ময়নামতি থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ধরখার পর্যন্ত প্রায় ৫৪ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা ছিল। এর মধ্যে প্রায় ৪০ কিলোমিটার কুমিল্লা অংশে। প্রায় ৭ হাজার ১৮৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পের কাজ ২০২২ সালে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও অর্থায়নসহ বিভিন্ন জটিলতায় মূল সম্প্রসারণকাজ শুরু হয়নি। তবে প্রায় দেড় মাস আগে সরকারি অর্থায়নে সীমিত পরিসরে প্রায় ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৪ ফুট প্রশস্ত সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায় ।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ তানভীর হোসেন জানান, এ বিষয়টি শুনেছি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি। তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে সম্প্রসারণকাজের মাটি সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে কুমিল্লা সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি অভিযোগ শুনেছি। আমরা তদন্ত করছি। এ ঘটনায় কেউ জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পরবর্তীতে খবর পেয়ে দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির এসআই মঞ্জুর ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি পিকআপসহ একজনকে আটক করে দেবপুর ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। বর্তমানে উক্ত স্থানে মাটি তোলা বন্ধ রয়েছে।
এ বিষয়ে দেবপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সুরঞ্জিতের কাছে জানতে চাইলে তিনি আটক হওয়া ব্যক্তির নাম জানাননি।