,

আজ থেকে ২২ দিনের জন্য চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
October 8, 2026
news-image

মাসুদ হোসেন:

ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে বুধবার গভীর রাত (৮ অক্টোবর প্রথম প্রহর) থেকে চাঁদপুরের মেঘনা নদীর ৭০ কিলোমিটার ও পদ্মা নদীর সীমানায় সব ধরনের মাছ ধরায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে।

আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।মৎস্য বিজ্ঞানের তথ্যানুযায়ী, আশ্বিনী পূর্ণিমার এই নির্দিষ্ট সময়ে মা ইলিশ প্রজননের জন্য সমুদ্র ছেড়ে স্বাদু পানিতে চলে আসে। এই সময়ে ইলিশকে সুরক্ষা ও নির্ভয়ে ডিম ছাড়ার সুযোগ দিতেই সরকারের এই উদ্যোগ।

অভিযান উপলক্ষে চাঁদপুর সীমান্ত থেকে শুরু করে লক্ষ্মীপুরের চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত মেঘনা নদীর ৭০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ও নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আইন অমান্য করে নদীতে নামা, জাল ফেলা, মাছ পরিবহন, বাজারজাতকরণ বা ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ বলে গণ্য হবে।

এদিকে অভিযান সফল করতে এবং জেলেদের সহায়তায় জেলার নিবন্ধিত ৪১ হাজার জেলে পরিবারকে বিশেষ মানবিক সহায়তা (ভিজিএফ) কর্মসূচির আওতায় ২৫ কেজি করে চাল প্রদান করা হচ্ছে। তবে জেলেদের অভিযোগ, শুধুমাত্র খাদ্য সহায়তায় চাল দিয়ে ২২ দিনের সংসার খরচ, ওষুধ ও কিস্তি সামলানো অসম্ভব। তারা চালের পাশাপাশি নগদ অর্থ সহায়তা এবং অভিযানের ২২ দিন ব্যাংক ও এনজিও ঋণের কিস্তি স্থগিত রাখার দাবি জানান।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য দপ্তর সূেত্র জানা গেছে, নিষেধাজ্ঞার এ সময়ে নিবন্ধিত ৪১ হাজার পরিবারকে মোট ১ হাজার ২৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা ইতোমধ্যে বিতরণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

চাঁদপুর সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে একাধিকবার সমন্বয় সভা হয়েছে। মেঘনা উপকূলীয় এলাকায় জেলেদের সতর্ক করতে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যাতে কেউ মা ইলিশ শিকার না করেন।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফখরুর ইসলাম বলেন, চাঁদপুরের নৌ-সীমানার অভয়াশ্রম এলাকায় ইলিশের প্রজনন নিরাপদ করতে জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করবে। যারা আইন অমান্য করে নদীতে নামবে, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। তবে ইলিশ ধরা থেকে বিরত থাকা নিবিন্ধত ৪১ হাজার জেলেকে ইতোমধ্যে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে।

চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান জানান, মা ইলিশ রক্ষা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। মেঘনা নদীর ৭০ কিলোমিটার জলসীমায় ও পদ্মা নদীর সীমানায় মৎস্য বিভাগ, নৌ-পুলিশ, কোস্ট গার্ড, জেলা প্রশাসন ও নৌ-বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত টহল দল সার্বক্ষণিক পাহারায় থাকবে। মৎস্য আড়ত, বরফ কল ও অনলাইন কেনাবেচায় কঠোর মনিটরিং নিশ্চিত করা হবে।