,

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ৩ প্রস্তাব

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
September 25, 2024
news-image

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের তিন প্রস্তাব

ডেস্ক রিপোর্ট:

মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিয়ে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এই তথ্য জানিয়েছেন।

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে ড. মুহাম্মদ ইউনূস তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এই প্রস্তাবগুলো হলো:

১. জাতিসংঘ মহাসচিব যেন যত দ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে একটি সম্মেলনের আয়োজন করেন, যেখানে সব স্টেকহোল্ডার উপস্থিত থাকবে। এই সম্মেলনের মাধ্যমে সংকটের সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং উদ্ভাবনী সমাধানের পরামর্শ প্রদান করা উচিত।

২. জাতিসংঘ এবং বাংলাদেশ যে যৌথভাবে পরিচালিত জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যান আছে, সেটিকে আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। স্লাইডিং ফান্ডিং এর বাস্তবতায় রিসোর্স বাড়ানোর জন্য রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ করতে হবে।

৩. আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যামূলক অপরাধ মোকাবিলায় ন্যায়বিচার ও জবাবদিহির প্রশ্নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি আশা করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে প্রসিকিউটর করিম খানের কাছ থেকে শুনতে পারবেন। মিয়ানমারের সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধের প্রতিকার মিয়ানমারের দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও নিরাপত্তার চাবিকাঠি।

বৈঠকে জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত জুলি বিশপ, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার (ইউএনএইচসিআর) ফিলিপ্পো গ্রান্ডি এবং পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনসহ অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বৈঠকে উল্লেখ করেন যে, রোহিঙ্গা জনগণের মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং অধিকার রক্ষার লক্ষ্যে সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে কাজ করার জন্য তার সরকারের পূর্ণ অঙ্গীকার রয়েছে। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে ১.২ মিলিয়নেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে এবং প্রতি বছর শিবিরগুলোতে প্রায় ৩২ হাজার নবজাতক জন্মগ্রহণ করছে। গত দুই মাসে আরও ২০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। এই বৃহৎ জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার ফলে বাংলাদেশের ওপর সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং পরিবেশগত ব্যয়ের যে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, তা অত্যন্ত গুরুতর।

ড. ইউনূস বলেন, বাংলাদেশ মানবিক দিক বিবেচনায় বা ন্যায়বিচারের প্রতি অঙ্গীকার রেখে কাজ করলেও, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনই সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান।