,

বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি , শুরুটা ভালো হলো না প্রাণ গোপালের

আজকের কুমিল্লা ডট কম :
September 21, 2021
news-image

 

মন্তব্য প্রতিবেদন:

প্রাণ গোপাল দত্ত আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের দু-দুবারের উপাচার্য, একজন খ্যাতিমান চিকিৎসক এবং একজন সৎ মানুষ হিসেবে তাঁর সুনাম রয়েছে।   বিশেষ করে যখন রাজনীতির দুর্বৃত্তায়ন, কালো টাকার দৌরাত্ম্য এবং নানা রকম অনিয়মের অভিযোগ ওঠে তখন প্রাণ গোপাল দত্তের মতো ব্যক্তিত্বদের রাজনীতিতে অনেক বেশি প্রয়োজন।  তাঁর মতো একজন সৎ-হৃদ্য মানুষ রাজনীতিতে আসুক এটাই সকলে চেয়েছিলেন।  কিন্তু যে প্রক্রিয়ায় প্রাণ গোপাল দত্ত সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হলেন তা অনেকেরই পছন্দ হয়নি। প্রাণ গোপাল দত্ত নির্বাচনের আগেই বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

মনোনয়নপত্রে অন্য কোন প্রার্থী না থাকার জন্য প্রাণ গোপাল দত্তকে জেলা রিটার্নিং অফিসার বেসরকারিভাবে নির্বাচিত ঘোষণা করেছেন। অর্থাৎ কুমিল্লা-৭ এ আর কোন ভোট হবে না, জনগণ তার মতামত দেওয়ার সুযোগ পাবে না। এখানে মোট প্রার্থী ছিলেন তিনজন, এরমধ্যে জাতীয় পার্টির প্রার্থী লুৎফর রেজা অজ্ঞাত কারণে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। ন্যাপের একজন প্রার্থী ছিলেন, তিনিও শেষ পর্যন্ত মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেন। জাতীয় পার্টির লুৎফর রেজা কেন মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করেছেন সে নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যে জাতীয় পার্টি থেকে তাকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং জাতীয় পার্টির নেতৃবৃন্দের মতামত না নিয়ে তাদের অনুমোদন না নিয়ে এইভাবে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার দলের শৃঙ্খলা পরিপন্থী বলে জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, লুৎফর রেজা জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা শাখার আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। অর্থাৎ তিনি জাতীয় পার্টির একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা হয়েও তিনি কেন নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন এটি একটি রহস্যময় প্রশ্ন বলেই অনেকে মনে করেন। আর ন্যাপের প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। বলা হয়েছে দলীয় সিদ্ধান্ত তিনি সরে দাঁড়াচ্ছেন। আসলে বাস্তবতা কি সেটি ন্যাপের প্রার্থী ভালো বলতে পারবেন।

তবে এই নির্বাচনকে ঘিরে যদি একটি ভোট হত এবং জনগণের রায় নিয়ে যদি প্রাণ গোপাল দত্ত জাতীয় সংসদের আসতেন তাহলে তার নামের প্রতি একটি সুবিচার করা হত। এমনিতেই এখন ভোটে ভোটারদের উপস্থিতি কম। তারপরে ভোট নিয়ে নানা রকম কথাবার্তা শোনা যায়। কুমিল্লার চান্দিনার একাধিক ব্যক্তির সাথে আলাপ করে জানা গেছে যে, যেকোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হলেই প্রাণ গোপাল দত্ত সেখানে জয়ী হতেন। কারণ, এলাকায় তার একটা সুনাম রয়েছে এবং তিনি একজন সৎ মানুষ হিসেবে পরিচিত। তাহলে তিনি কেন নির্বাচনের ঝুঁকি নিলেন না? কেন অন্য দুইজন প্রার্থী বসে গেলেন? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর পাওয়া অত্যন্ত জরুরি। কারণ, রাজনীতিতে যদি বিনা ভোটে নির্বাচিত হওয়ার ধারণা সূচিত হয় তাহলে জনগণের অধিকার যেমন খর্ব হবে তেমনি ভোট ব্যবস্থাও ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে যেটি গণতন্ত্রের জন্য অশুভ সঙ্কেত। প্রাণ গোপাল দত্তর মত মানুষরা যদি ভোটে জনগণের মতামত নিয়ে নির্বাচিত হতেন সেটি হত গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে বড় অর্জন।

সূত্র: বা.ইন।