লাকসাম জংশনে ছিনতাই-মাদক চক্রের দৌরাত্ম্য, নিরাপত্তাহীনতায় যাত্রীরা
লাকসাম প্রতিনিধিঃ
কুমিল্লার লাকসাম জংশন রেলওয়ে স্টেশনে ছিনতাইকারী ও মাদকসেবী চক্রের দৌরাত্ম্যে নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে জংশনের প্ল্যাটফর্ম ও সংলগ্ন লেকের পাড় এলাকায় ছিনতাইয়ের অভিযোগ বাড়ছে। এতে সন্ধ্যা ও রাতে ট্রেনের অপেক্ষায় থাকা যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
সর্বশেষ গতকাল চাঁদপুরগামী একটি ট্রেনের কয়েকজন যাত্রীর কাছ থেকে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার সময় ৪ জনকে হাতেনাতে আটক করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। পরে উত্তেজিত জনতা তাদের মারধর করে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) কাছে হস্তান্তর করে। এ ঘটনার পর স্টেশন ও আশপাশের এলাকায় যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
স্থানীয় ভুক্তভোগী ও যাত্রীদের অভিযোগ, লাকসাম জংশনে ছিনতাই ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধ ঠেকাতে রেলওয়ে থানা পুলিশ (জিআরপি) ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) বিভিন্ন সময় অভিযান চালালেও স্থায়ীভাবে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না। তাদের দাবি, আটক হওয়ার পর আইনগত প্রক্রিয়ায় মুক্তি পেয়ে কেউ কেউ আবার একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, জংশন ও আশপাশের এলাকায় মাদক কেনাবেচা ও সেবনের কারণে অপরাধপ্রবণতা বাড়ছে। এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করলে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
যাত্রীদের ভাষ্য, দেশের গুরুত্বপূর্ণ রেলওয়ে জংশনগুলোর একটি লাকসাম স্টেশনে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ট্রেনে যাতায়াত করেন। ফলে স্টেশন ও আশপাশের এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। বিশেষ করে রাতের ট্রেনের যাত্রী, নারী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেশি।
এ অবস্থায় লাকসাম জংশনে সিসিটিভি ক্যামেরার সংখ্যা ও নজরদারি বাড়ানো, প্ল্যাটফর্ম ও লেকের পাড়ে নিয়মিত ও স্থায়ী পুলিশি টহল জোরদার এবং ছিনতাই ও মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও রেলযাত্রীরা।
একই সঙ্গে অপরাধীদের পেছনে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর মদদ রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। এ বিষয়ে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।