লাকসামে কারখানার বর্জ্যে পুকুরের মাছ মরে লাখ টাকার ক্ষতির অভিযোগ
রিয়াদ হোসাইন:
কুমিল্লার লাকসামে আবুল খায়ের টোব্যাকো কোম্পানির বর্জ্যে পুকুরের মাছ মরে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা হুমায়ুন কবির (৬৫)। এ ঘটনায় কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা আলতাব হোসেনের বিরুদ্ধে লাকসাম থানার পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নার্গিস সুলতানার কাছেও লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
অভিযোগে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার ফতেপুর গ্রামে অবস্থিত কারখানার বর্জ্যের কারণে তাঁর পুকুরের মাছ মারা যায়। এতে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
হুমায়ুন কবিরের অভিযোগ, তাঁর বাড়ির উত্তর, পূর্ব ও পশ্চিম পাশে অবস্থিত কারখানার একাধিক পানির লাইন দিয়ে বর্জ্য পুকুরে গিয়ে পড়ে। এতে পুকুরের পানি দূষিত হচ্ছে এবং মাছ মারা যাচ্ছে। এ ছাড়া কারখানার জেনারেটরের বিকট শব্দ, তামাকের গুঁড়া ও রাসায়নিকের দুর্গন্ধে বাড়িতে বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে স্কুলপড়ুয়া শিশুদের পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছে।
অভিযোগকারী আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার কারখানা কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সর্বশেষ পুকুরের মাছ মারা যাওয়ার বিষয়টি জানাতে কারখানার ভেতরে গেলে প্রশাসনিক কর্মকর্তা আলতাব হোসেনের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
হুমায়ুন কবিরের দাবি, তিনি বিষয়টি লাকসাম উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন। পুকুরের পানি ও মৃত মাছ পরীক্ষা করে কারখানার বর্জ্যের কারণে মাছ মারা যাওয়ার বিষয়ে মতামত দেওয়া হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আলতাব হোসেন বলেন, আমি বিষয়টি সম্পর্কে জানি না। কালকে গিয়ে দেখতে হবে। এই পুকুরে আমাদেরও জায়গা আছে।
লাকসাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী কামরুন্নাহার লাইলী বলেন, অভিযোগ আমার হাতে পেয়েছি। এ বিষয়ে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানার কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার বিষয়টি জানিয়েছেন অভিযোগকারী। তবে এ বিষয়ে ইউএনওর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কারখানার বর্জ্যে পুকুরের মাছ মারা যাওয়ার অভিযোগের সত্যতা যাচাই, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং পরিবেশদূষণের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারটি।