ছাগলকাণ্ডে অব্যাহতি, রমিজের বিরুদ্ধে এবার সাড়ে ৮ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ
মেঘনা প্রতিনিধি:
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক রমিজ উদ্দিন লন্ডনীর বিরুদ্ধে ভাওরখোলা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক পদ দেওয়ার কথা বলে মোসলেম মোল্লার কাছ থেকে এক লাখ টাকা ও তিনটি খাসি নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় গত ১৯ অক্টোবর কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হাশেমের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন মোসলেম মোল্লা। পরদিন ২০ অক্টোবর এ-সংক্রান্ত একটি অডিও কল রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোতে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই দিন রাতেই তাঁকে সাময়িক অব্যাহতি দেয় কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপি। এরই মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে আরও সাড়ে আট লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
গত ১৮ অক্টোবর কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হাশেমের কাছে পৃথক দুটি লিখিত অভিযোগ দেন মেঘনা উপজেলার চন্দনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সেলিম সরকার ও লুটেরচর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দীন। অভিযোগে সেলিম সরকারের কাছ থেকে সাড়ে তিন লাখ টাকা এবং বাহাউদ্দীনের কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে রমিজ উদ্দিন লন্ডনীর বিরুদ্ধে। বাহাউদ্দীনের অভিযোগে টাকা লেনদেনের ঘটনায় মেঘনা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুনের সংশ্লিষ্টতার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ওই লেনদেনের বিষয়ে হুমায়ুন অবগত থাকলেও বর্তমানে তিনি তা স্বীকার করছেন না।
এসব অভিযোগ তদন্তে ২১ অক্টোবর তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে জেলা বিএনপি। তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মহিউদ্দিন, অ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম বাবু ও ওসমান গণি ভূঁইয়া। এ-সংক্রান্ত চিঠির অনুলিপি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং কমিটিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রমিজ উদ্দিন লন্ডনীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আরেক অভিযুক্ত হুমায়ুন ওমরা পালনে যাওয়ায় তাঁর বক্তব্যও নেওয়া সম্ভব হয়নি।