All posts by jitu

মুরাদনগরে অটোরিক্সার ধাক্কায় মাদ্রাসা ছাত্রীর মৃত্যু

মুরাদনগরে অটোরিক্সার ধাক্কায় মাদ্রাসা ছাত্রীর মৃত্যু

উপজেলা প্রতিনিধি:

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় অটোরিক্সার ধাক্কায় সামিয়া আক্তার (৮) নামের এক মাদ্রাসা ছাত্রী মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার সকাল সাড়ে ৮টায় উপজেলার মুরাদনগর-হোমনা সড়কের সাবেক এমপি কায়কোবাদের বাড়ির সামনে এই দূর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহত সামিয়া আক্তার ফরিদপুরের ইলিয়াছ হোসেনেরে মেয়ে। সে ছোট কাল থেকে মুরাদনগর উপজেলার কাজিয়াতল নানার বাড়ী ও মুরাদনগর সদরের হাসেম মিয়ার ছেলে খালু ফারুক মিয়ার বাড়ীতে থেকে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় লেখা-পড়া করতেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে প্রতি দিনের মতো বিশুদ্ধ পানি আনতে মুরাদনগর উপজেলার সদরের সাবেক এমপি কায়কোবাদের বাড়িতে যায় সামিয়া। পানি নিয়ে বাসায় ফিরার সময় মুরাদনগর-হোমনা সড়ক হয়ে ধনীরামপুর থেকে ছেড়ে আশা মুরাদনগরগামী একটি অটোরিক্সা সামিয়াকে ধাক্কা দিলে আহত করে এবং অটোরিক্সটি পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত্যু ঘোষনা করেন।

এ বিষয়ে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিজুল বারী ইবনে জলিল বলেন, পুলিশ খবর পেয়ে লাস উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। সামিয়ার পরিবারের লোকজন চট্রগ্রামে থাকেন। আসলে পরবর্তি প্রদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আগামী ২৪ অক্টোবর থেকে শুরু বেসরকারি স্কুলে ভর্তির আবেদন

আগামী ২৪ অক্টোবর থেকে শুরু বেসরকারি স্কুলে ভর্তির আবেদন

ডেস্ক রিপোর্ট:

বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি আবেদন শুরু হবে আগামী ২৪ অক্টোবর। চলবে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত।

মঙ্গলবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) পরিচালক (মাধ্যমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ বেলাল হোসাইনের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে বিদ্যালয় থেকে কোনো ভর্তি ফরম বিতরণ করা হবে না। ভর্তির আবেদন শুধুমাত্র অনলাইনে https://gsa.teletalk.com.bd ঠিকানায় পাওয়া যাবে। অনলাইনে আবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া চলবে ২৪ অক্টোবর থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত।

প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অনলাইনে আবেদন করা যাবে। ভর্তির আবেদন ফি ১১০ টাকা। শুধুমাত্র টেলিটক সিম ব্যবহার করে এ টাকা পরিশোধ করা যাবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, শিক্ষার্থীরা আবেদনের সময় স্কুল নির্বাচনের ক্ষেত্রে মহানগর পর্যায়ের জন্য বিভাগীয় সদরের মেট্রোপলিটন এলাকা এবং জেলা সদর ও উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা পাবে।

এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা প্রাপ্যতার ভিত্তিতে প্রতিটি আবেদনে সর্বোচ্চ পাঁচটি বিদ্যালয় পছন্দের ক্রমানুসারে নির্বাচন করতে পারবে।

ভর্তি সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে ক্লিক করুন।

চাঁদপুরে মিথ্যা মামলা- হামলা ও লুটপাটের প্রতিবাদে মানববন্ধন

চাঁদপুরে মিথ্যা মামলা- হামলা ও লুটপাটের প্রতিবাদে মানববন্ধন

মাসুদ হোসেন, চাঁদপুরঃ

চাঁদপুর সদর উপজেলার ৫নং রামপুর ইউনিয়নের ছোটসুন্দর গ্রামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি, অন্তঃসত্ত্বা পান্না বেগমসহ বাড়ির নিরীহ মানুষের উপর হামলা, ঘরবাড়ি ভাংচুর ও লুটের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে ছোটসুন্দর এলাকাবাসী।

মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) সকালে ইউনিয়নের ছোটসুন্দর এ. আলী উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন পশ্চিম পাশে আলগী রাজারহাট বাজার সড়কের পাশে নারী পুরুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের বিচারের দাবি জানিয়ে প্রশাসনের নিকট অনুরোধ জানান এলাকাবাসী।

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে প্রতিবাদকারীরা বলেন, আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে নিহত দুদু গাজীর পরিবারের সাথে দীর্ঘদিন যাবত বিরোধ চলছে। গত শনিবার সকালে বিদ্যুতের লোকজন আমাদের বসতঘরে মিটার সংযোগ দিতে আসলে নিহত দুদু গাজীর ছেলে মনির গাজী বাঁধা দিলে দুই পক্ষের মাঝে বাকবিতন্ডা তৈরি হয়। এর মাঝেই হঠাৎ করে প্রায় ১২০ ফুট দূরত্বে রাস্তার পাশে দুদু গাজী জোরে কথা বলার সময় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাকে উঠিয়ে পার্শ্ববর্তী একটি দোকানে নিয়ে বিছানায় রাখে। পরে অবস্থার অবনতি দেখে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

পরদিন বিকেলে নিহত দুদু গাজীকে মাটি দেয়ার পর তারা আমাদের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন। ঐদিন রাতে এলাকার শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ও আমাদের জান মালের নিরাপত্তার কথা ভেবে আমাদের অনুরোধে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ২জন গ্রাম পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

গত সোমবার সকাল ৬টায় তারা চলে যাবার পর কবর জিয়ারতের কথা বলে বাড়ির ভিতরে ঢুকে মনির, রুবেল, মোহাব্বত, জুয়েল, হারুন, ভুলু, নানু, জাকির সহ প্রায় ৩০/৪০জন লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ঘরবাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট করে আমাদের উপর হামলা চালান। আমরা তখন ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলাম। তাদের হামলার আওয়াজ শুনে যে যেভাবে পারছি ঘর থেকে বের হয়েছি।

এ সময় মনির ও মতব্বত ৭ মাসের অন্তঃসত্বা পান্না বেগমকে চুল ধরে টেনে হিছড়ে লাথি কিল ঘুষি মেরে মাটিতে ফেলে দেয়। তাকে আমরা মাটিতে অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করি। এ সময় চিৎকার শুনে পাশবর্তী লোকজন এসে তাঁকে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। গর্ভবতী পান্না বেগম হাসপাতালে মূমুর্ষ অবস্থায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। ডাক্তারের সাথে কথা বলে জানা যায়, পেটে থাকা বাচ্ছার অবস্থা আশংকা জনক। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের নিকট জোর দাবী জানাচ্ছি।

এর আগে উক্ত ঘটনায় গত রবিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ইয়াসির আরাফাত, চাঁদপুর সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শেখ মুহসীন আলম, রামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ আল মামুন পাটওয়ারী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এক-দুইটা দল অংশ না নিলেও নির্বাচন বন্ধ হবে না: ওবায়দুল কাদের

এক-দুইটা দল অংশ না নিলেও নির্বাচন বন্ধ হবে না: ওবায়দুল কাদের

ডেস্ক রিপোর্ট:

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে সংবিধান অনুযায়ী, স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের অধীনে। সংবিধানের সব নিয়ম মেনে যে নির্বাচন চলছে সে নির্বাচনে কেউ যদি অংশ না নেয় সেটার জন্য সে নির্বাচন বন্ধ হবে না। বহুদল আছে যারা নির্বাচনে অংশ নেবে। দু-একটা দল অংশ না নিলে সে নির্বাচন কেন গ্রহণযোগ্য হবে না? নির্বাচনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক অধিকার। কেউ যদি নিজের অধিকার প্রয়োগ না করে সেটা তাদের ব্যাপার।

বুধবার সকালে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেলের ৬০তম জন্মদিন উপলক্ষে তার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ভাঙচুর, অগ্নিসন্ত্রাস, অস্ত্র ও খুনের মামলায় আগে থেকে যারা জড়িত সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাদের গ্রেফতার করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নতুন করে গ্রেফতারের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।

তিনি বলেন, ৭৫ এ খন্দকার মোশতাক ও মেজর জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে যে হত্যা ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি শুরু করেছিলেন, ৩ নভেম্বর জেল হত্যা, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা-এ সমুদয় হত্যাকাণ্ডের মূল উদ্দেশ্য বঙ্গবন্ধু পরিবারকে ও আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করা। যে হত্যা ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি বাংলাদেশে শুরু হয়েছিল সে ঘৃণ্য রাজনীতি থেকে তাদের উত্তরসূরিরা এখনো সরে দাঁড়ায়নি। সে ধারাবাহিকতা এখনো বহন করে চলছে জিয়াউর রহমানের দল বিএনপি।

এ হত্যা ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি বাংলাদেশের মাটি থেকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্মূল করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, যতদিন শেখ রাসেলের মতো অবুঝ শিশুর জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য করে না তুলতে পারবো ততদিন পর্যন্ত আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে।

এর আগে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দলীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে শহীদ শেখ রাসেলের সমাধিতে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে বনানী কবরস্থ মসজিদে শেখ রাসেলসহ পঁচাত্তরে ১৫ আগস্টে শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এতে অংশ নেন দলীয় নেতাকর্মীসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরী, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুস সবুর, শিক্ষা সম্পাদক সামছুন্নাহার চাঁপা, কৃষি ও সমবায় সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ, পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম প্রমুখ।

সরকার পরিবর্তন করতে হলে নির্বাচনে আসতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সরকার পরিবর্তন করতে হলে নির্বাচনে আসতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

সরকার পরিবর্তন করতে হলে বিএনপিকে নির্বাচনে আসতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

তিনি জানান, ‘বিএনপি একের পর এক সমাবেশ, একের পর এক কর্মসূচি দিয়ে যাচ্ছে। তারা বলছে, এভাবে তারা লাগাতার কর্মসূচি দিয়ে যাবেন। তারা যেটা চাচ্ছেন যে সরকার পতন। এই ধরনের আচরণ কিংবা ষড়যন্ত্র করে কোনোদিন সরকার পরিবর্তন হবে না। আমরা সবসময় বলে আসছি সরকার পরিবর্তন করতে হলে নির্বাচনে আসতে হবে।’

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ- আইডিইবিতে আয়োজিত আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। শেখ রাসেলের জন্মদিন ও শেখ রাসেল দিবস উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ‘দেশের মানুষ যদি আপনাদের ভোট দেয়, আপনারা অবশ্যই জয়যুক্ত হলে সেখানে (সরকারে) যাবেন। এ ধরনের আন্দোলন, ঘেরাও, অবস্থান, জ্বালাও-পোড়াও ২০১৪-১৫ সালে আপনারা দেখেছেন। তাদের আন্দোলনের মাত্রা ছিল কতখানি। ৯০ দিন ধরে তারা অগ্নিসংযোগ করেছে, মানুষ পুড়িয়েছে, মানুষ হত্যা করেছে। সে কারণে আমাদের আওয়ামী লীগের নেতারা হয়তো মনে করছেন- বিএনপি আবার সেই অবস্থায় যেতে পারে। আমরা মনে করি তারা একবার ভুল করেছেন, আর একবার ভুল করলে এ দেশের জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না।’

বিএনপির ১০ লাখ নেতাকর্মী ঢাকায় অবস্থান করবেন- এই ধরনের কোনো গোয়েন্দা তথ্য আছে কি না এমন এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা শুনেছি, আমাদের কাছে বিএনপি নেতাকর্মীরা বা তাদের নেতাকর্মীরা যেভাবে বলছেন সেগুলোর ওপর ভিত্তি করে এগুলো উচ্চারিত হচ্ছে এবং আমাদের কাছে আসছে।’

তিনি জানায়, ‘এদেশের জনগণ কোনো অন্যায়, কোনো অত্যাচার মেনে নেয়নি। কাজেই জনগণই এর জবাব দেবে।’

নির্বাচনকালে কতজন মন্ত্রীর প্রয়োজন, সেই সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী: আইনমন্ত্রী

নির্বাচনকালে কতজন মন্ত্রীর প্রয়োজন, সেই সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী: আইনমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, সংবিধানে কোথাও নির্বাচনকালীন সরকারের কথা বলা নেই। নির্বাচনকালে কতজন মন্ত্রীর প্রয়োজন হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে আইনমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করে আন্তজার্তিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) একটি প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে দেন আইএলওর এদেশীয় পরিচালক টুমো পোটিআইনেন।

বৈঠক শেষে নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে করা সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনকালীন তার কতজন মন্ত্রী প্রয়োজন সেই সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী নেবেন। যদি তার সবার প্রয়োজন হয়, তাহলে সবাই থাকবেন, আর যদি তিনি মনে করেন ছোট আকারে, করতে পারেন। এটি তার সিদ্ধান্ত। সংবিধান তাকে সেই ক্ষমতা দিয়েছে।

এ মাসে বসতে যাওয়া সংসদের অধিবেশনে কোন বিষয়ে আলোচনা হতে পারে, জানতে চাইলে আনিসুল হক বলেন, আইন পাসের পাশাপাশি সব কিছু আলোচনা হতে পারে।

এদিকে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকে সম্প্রতি মন্ত্রিসভায় পাস হওয়া বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইন-২০২৩-এর খসড়া নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, আইনের সংশোধনীর বিষয়ে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার কিছু বক্তব্য আছে, সেগুলো নিয়ে তারা এসেছিলেন। কিছু ব্যাপারে সমাধান করা হয়েছে। যেগুলো ব্যাখ্যা দেওয়া দরকার, তা দেওয়া হয়েছে। আর কিছু বিষয়ে বিস্তারিত আলাপ হওয়া প্রয়োজন। সেসব নিয়ে ২২ অক্টোবর আইন মন্ত্রণালয়ে আবার সভা হবে।

আগামী ১০০ দিন দেশকে পাহারা দিতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের অনুরোধ জানাই, আগামী ১০০ দিন দেশটাকে পাহারা দিতে হবে। কারণ দেশটা বিশ্ব বেনিয়াদের হাতে তুলে দিতে চাচ্ছে ওরা (বিএনপি)।

মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কনিষ্ঠ পুত্র শহীদ শেখ রাসেলের জন্মদিন উপলক্ষ্যে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট আয়োজিত আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ক্ষমতা পাহারা দিতে হবে না, ক্ষমতার পাহারাদার জনগণ। কিন্তু দেশটাকে পাহারা দিতে হবে। তারা (বিএনপি) ভেবেছে ঢাকা শহরে কয়েকটা সমাবেশ করে মানববন্ধন করে, সারা দেশ থেকে তাদের অগ্নিসন্ত্রাসীদের জড়ো করে সরকার হটিয়ে দেবে।

তিনি বলেন, এটা আওয়ামী লীগ সরকার, শেখ হাসিনার সরকার। একে কয়েকটা মানববন্ধন, নয়া পল্টনে ২০-৩০ হাজার মানুষ জড়ো করে কিংবা অন্য জায়গায় কয়েক হাজার মানুষ জড়ো করে, কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে, আগুন ধরিয়ে এই সরকার হটানো সম্ভব না। ২০১৩-১৪ সালে অনেক চেষ্টা করেছিলেন। বহু গাড়ি, মানুষ পুড়িয়েছিলেন; শেখ হাসিনাকে হটাতে পারেননি।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করে বিএনপি-জামায়াত এই দেশকে বিশ্ব বেনিয়াদের হাতে তুলে দিতে চায়। তারা যে ক্ষমতায় যেতে চায় তা কিন্তু নয়, তাদের লক্ষ্য ক্ষমতায় যাওয়া নয়। তারা জানে নির্বাচন হলে তাদের পক্ষে ক্ষমতায় যাওয়া সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, তারা যে পানি ঘোলা করার চেষ্টা করছে, সেখানে তারা মাছ শিকার করতে পারবে না, শিকার করবে অন্যরা। সেটিও তারা জানে। তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে বিদায় করা এবং বিশ্ব বেনিয়াদের হাতে দেশটাকে তুলে দেওয়া, দেশের সম্পদটাও তুলে দেওয়া।

ফিলিস্তিনে ইসরাইলের আগ্রাসনের আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ না জানানোয় বিএনপির সমালোচনা করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমি অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম, বিএনপি-জামায়াত যখনই নির্বাচনে আসে, তারা ধর্মাশ্রয়ী রাজনীতি করে। জামায়াত তো ধর্মাশ্রয়ী রাজনীতি করে। কিন্তু সেই বিএনপি-জামায়াতের মুখে এখন একটি কথা নাই।

তিনি বলেন, আজকে যে ফিলিস্তিনে পাখির মতো মানুষ শিকার করা হচ্ছে। মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, সে নিয়ে একটি কথাও নাই। আর তারেক জিয়া নির্দেশ দেয়, এটি নিয়ে কথা বলার প্রয়োজন নেই। অর্থাৎ বিশ্ব মোড়লরা অখুশি হতে পারে, এজন্য তারা এ বিষয়ে কোনো কথা বলেন না। যারা বিশ্ব মোড়লরা অখুশি হবে বলে একটি শব্দ উচ্চারণ করে না, তারা সুযোগ পেলে দেশটাকে বিক্রি করে দেবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ করার জন্য। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আগামী নির্বাচনে দেশের মানুষ ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করবে। আশা করি, বিএনপি ও সেখানে অংশগ্রহণ করবে এবং তারা তাদের জনপ্রিয়তা যাচাই করবে। ওই রাজপথে দাঁড়িয়ে সরকারকে হুংকার দেবেন না।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুলের উদ্দেশে তিনি বলেন, গলা উঁচু হলেও, মিথ্যা কথা বললেও, যেটা বিশ্বাস করে না সেটা মুখে বললেও এবং নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কথা বললেও আর যাই হোক মির্জা ফখরুল ভদ্রলোক।

তাই তাকে বলবো, অত উঁচু গলায় কথা বলবেন না। আপনি এমপি হওয়ার পরও আপনার দল আপনাকে শপথ নিতে দেয়নি। আপনার দল নির্বাচিত এমপিদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাদের পদত্যাগ করিয়েছে, কোনও লাভ হয়নি। সুতরাং আপনার দলের মূল নেতারা খালেদা জিয়া এবং তারেক জিয়া চায় না আপনারা নির্বাচনে এসে ভালো ফল করুন কিংবা এমপি হোন।

তিনি বলেন, সুতরাং ফখরুল সাহেবদের অনুরোধ জানাবো খালেদা জিয়া এবং তারেক জিয়ার লাঠিয়াল বাহিনীর সরদার হয়ে কাজ করবেন না। রাজনীতিবিদ হিসেবে কাজ করুন এবং দেশের স্বার্থে কাজ করুন। তাহলে দেশ উপকৃত হবে।

বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের কার্যকরী সভাপতি কণ্ঠশিল্পী রফিকুল আলমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার, বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক ও মুখপাত্র অরুন সরকার রানা ও বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের কার্যনির্বাহী সদস্য মানিক লাল ঘোষ প্রমুখ।

অর্থ আত্মসাৎ মামলায় সোনালী ব্যাংকের অফিসারের ১৭ বছরের কারাদণ্ড

অর্থ আত্মসাৎ মামলায় সোনালী ব্যাংকের অফিসারের ১৭ বছরের কারাদণ্ড

ডেস্ক রিপোর্ট:

প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে রাজধানীর মতিঝিল থানায় করা মামলায় সোনালী ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিসার মো. নাইমুল ইসলামকে দুটি পৃথক ধারায় ১৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া একই মামলার অপর তিন আসামিকে পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত ৫-এর বিচারক মো. ইকবাল হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন।

কারাদণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামিরা হলেন— সোনালী ব্যাংকের হিসাবধারী রফিকুল ইসলাম, মো. আল আমিন ও মোছা. লিপি বেগম।

রায়ে আসামি নাইমুলের প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের দুটি পৃথক ধারায় ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি অর্থ আত্মসাতের ধারায় তাকে ৮১ লাখ টাকা জরিমানা করেন। অপর ধারায় তার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ছয় মাসের সাজা দেওয়া হয়েছে।

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অপর তিন আসামির পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রত্যেককে ৮১ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

এদিন কারাগারে আটক আসামি নাইমুল ও রফিকুলকে আদালতে হাজির করা হয়। জামিনে থাকা আল-আমিন উপস্থিত হন। তাদের উপস্থিতিতে আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। তবে আসামি লিপি উপস্থিত না থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে সাজাসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০১৭ সালের ২৬ ডিসেম্বর থেকে ২০১৮ সালের ২১ জুন পর্যন্ত আসামিরা বিভিন্ন তারিখে ১ কোটি ১৯ লাখ ১৯ হাজার ২০৪ টাকা নির্বারিত হিসাবে জমা না করে চারটি হিসাবে পরস্পর যোগসাজশে স্থানান্তর করে প্রতারণামূলকভাবে আত্মসাৎ করেন।

এ ঘটনায় ২০১৮ সালের ২৩ জুন সোনালি ব্যাংকের বি ওয়াপদা ভবন করপোরেট শাখার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. মনিরুজ্জামান বাদী হয়ে মতিঝিল থানায় মামলাটি করেন। তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ চারজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।

পরে ২০২২ সালের ৮ মার্চ পলাতক লিপি বেগমের অনুপস্থিতিতেই আসামিদের বিচার শুরু হয়। মামলাটির বিচার চলাকালে বিভিন্ন সময়ে ১৭ জন আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন।