Tag Archives: তথ্যমন্ত্রী

বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা এবার নৌকায় ভোট দেবে : তথ্যমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, সারা দেশে নির্বাচনের জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এই জোয়ারে বিএনপির নেতাকর্মীরাও শামিল হয়েছে। বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা এই নির্বাচনে ভোট দিতে যাবে এবং তারা নৌকা মার্কায় ভোট দেবে।

রোববার চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী ইউনিয়নের রামগতির হাটে নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এদিন তিনি বেতাগীর বড়ুয়াপাড়া, মির্জাখীল, বালুচর এলাকায়ও গণসংযোগ ও পথসভায় বক্তব্য রাখেন। তথ্যমন্ত্রী আসনটি (চট্টগ্রাম-৭) থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করছেন।

তথ্যমন্ত্রী জানান, ‘নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য এখন ঢাকা-চট্টগ্রাম শহরে লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। কিন্তু এই লিফলেট কেউ দেখেও না, কেউ পড়েও না। বিএনপির যারা লিফলেট বিতরণ করে, তারা হঠাৎ বিতরণ করে, আবার হারিয়ে যায়। লিফলেট বিতরণকারীরা এখন ভয়ে আছে। তারা ভয়ে ভয়ে লিফলেট বিতরণ করে, জনগণ কখন তাদের ধাওয়া করে।’

তিনি জানায়, ‘বিএনপি-জামায়াত আগুন সন্ত্রাস করে, পেট্রোল বোমা মারে এবং রেললাইন উপড়ে ফেলে অপচেষ্টা চালিয়েছিল নির্বাচনকে ভন্ডুল করার জন্য। কিন্তু সেটি তারা করতে পারেনি। এখন চেষ্টা করছে কোনো কোনো প্রার্থীর ওপর হামলা করার জন্য, যাতে নির্বাচন ব্যাহত হয়। সেটিও কখনো সফল হবে না। কারণ জনগণ তাদের সঙ্গে নেই। এই অপরাজনীতিতে জনগণ কখনো সাড়া দেয়নি, দেবেও না।’

মন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনকে ঘিরে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র আছে। শেখ হাসিনা সেগুলোকে মোকাবিলা করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। সে কারণে ষড়যন্ত্রকারীরা আজকে গর্তের মধ্যে ঢুকে গেছে। বিএনপি গর্তের মধ্য থেকে মাঝে মাঝে উঁকি দিয়ে প্রেস ব্রিফিং করে। ডক্টর মঈন খাঁনসহ কয়েকজন কথা বলেন। বিএনপি কোথায় গেল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এখন সমগ্র বাংলাদেশে এই পরিস্থিতি। আমি জিজ্ঞেস করলাম বিএনপি নেতারা কই? বলল, কেউ লুকিয়ে গেছে, কেউ চিকিৎসা নেওয়ার জন্য ইন্ডিয়া গেছে। এই হচ্ছে এদের পরিস্থিতি।’

নিজ নির্বাচনী এলাকার জনসাধারণের উদ্দেশে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘গত ১৫ বছর ধরে আমি রাঙ্গুনিয়ার জনগণের পাশে থেকে এলাকার উন্নয়ন করার জন্য চেষ্টা করেছি। যারা ভোট এলে লম্বা লম্বা কথা বলেন, তাদের জিজ্ঞাসা করতে হবে যে, আওয়ামী লীগ সরকারের করা রাস্তাঘাটে যেসব গর্ত হয়, তারা সেইগুলো ভরাট করতে পারবে কি না। তাদের গর্ত ভরাট করার সামর্থ্যও নেই। প্রতিটি মসজিদ, মন্দির ও প্যাগোডা ৫ থেকে ৭ বার করে বরাদ্দ পেয়েছে। দেশের দশ কোটির বেশি মানুষ ১৮ ধরনের ভাতা পাচ্ছেন।’

হাছান মাহমুদ জানান, ‘দেশে একটি উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনকে ঘিরে সমগ্র বাংলাদেশে হাটে-ঘাটে, মাঠে আজকে উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। একেবারে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন হবে, যার যার ভোট সেই লাইন ধরে দেবে। সেই ভোটে সবাইকে অংশগ্রহণ করতে হবে।’

এ সময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহাম্মদ সেকান্দর চৌধুরী, উপজেলা চেয়ারম্যান স্বজন কুমার তালুকদার, মেয়র শাহজাহান সিকদার, আওয়ামী লীগ নেতা ইফতেখার হোসেন বাবুল ও ইদ্রিছ আজগর উপস্থিত ছিলেন।

আমাদের দলের কেউ সহিংসতা করলে আমরা বরদাস্ত করব না: তথ্যমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

সহিংসতা কোনোভাবেই কাম্য নয় উল্লেখ করে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, আমাদের দলেরও কেউ সহিংসতা করলে সেটিও আমরা বরদাস্ত করব না।

শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরীর দেওয়ানজি পুকুর লেনের ওয়াইএনটি সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় ও সমসাময়িক বিষয়ে মতবিনিময়কালে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

চট্টগ্রামের কয়েকটি নির্বাচনী এলাকায় ইতোমধ্যে সহিংস ঘটনা ঘটেছে, সামনে আরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘নির্বাচনে সহিংসতা কোনোভাবেই কাম্য নয়। যে বা যারা করছে তারা নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ করছে। নির্বাচন কমিশন সেক্ষেত্রে যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। আমাদের দলেরও কেউ করলে সেটিও আমরা বরদাস্ত করব না। প্রয়োজনে তাদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে।’

নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে জনগণকে না আসার জন্য বিএনপি লিফলেট বিতরণসহ প্রচারণা চালাচ্ছে, এটি কাটিয়ে জনগণকে কীভাবে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসবেন— সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপির এ ধরনের লিফলেট বিতরণ করে মূলত ঢাকা শহরে ফটোসেশন করা হয়। সকালবেলা যখন মানুষ ঘুম থেকে ওঠে না, তখন দৌড় দিয়ে একটা মিছিল করা হয় আর একটা ছবি তোলা হয়। এগুলোর কোনো ইমপ্যাক্ট নির্বাচনে নেই।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি অগ্নিসন্ত্রাস করেও নির্বাচনের উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আমেজকে কোনোভাবেই ম্লান করতে পারেনি। অগ্নিসন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। কার্যত বিএনপির নির্বাচন বর্জনের ডাক ফিউজ হয়ে গেছে।’

হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এগুলো দেখে বিএনপি এখন অসহযোগ কর্মসূচি দিয়েছে। কিন্তু বিএনপির নেতাকর্মীরাই এই অসহযোগ কর্মসূচিতে তাদের সহযোগিতা করছে না।’

দেশের নিবন্ধিত ৪৪টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩০টি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে এবং প্রতি আসনে গড়ে সাড়ে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যেসব বিদেশিদের কাছে বিএনপি বারবার ধরনা দিত, সেই বিদেশিরাও এখন নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু হয়, নির্বাচনে যাতে কেউ বাধা না দেয়, সেই কথাই বলছে। অর্থাৎ, নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নিরপেক্ষ সরকার, নির্বাচনকালীন সরকার– এসব বিষয় এখন আর নেই। এখন নির্বাচনটা কীভাবে সুষ্ঠু করা প্রয়োজন, সেটি নিয়েই সবাই পরামর্শ দিচ্ছে।’

আওয়ামী লীগের সিনিয়র এ নেতা বলেন, ‘গতকাল (শুক্রবার) এবং এর আগেও জাতিসংঘের বিবৃতি ও ব্রিফিংয়ে বলা হয়েছে, নির্বাচনে যাতে কেউ বাধা না দেয়, অর্থাৎ সহিংসতা না হয়। একইসঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও বলেছে, দেশে একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন তারা দেখতে চায়। আমাদের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা সবাইকে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন নির্বাচনকালে যেন কেউ সহিংসতা না করে এবং অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করার জন্য। সত্যিকার অর্থে দেশে অত্যন্ত সুন্দর এবং সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সেজন্য সরকার নির্বাচন কমিশনকে সর্বোচ্চ সহায়তা করছে।’

‘নির্বাচন সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর হবে, এটি অনুধাবন করতে পেরে বিএনপি তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অগ্নিসন্ত্রাসকে ভিন্নমাত্রায় নিয়ে গেছে’ মন্তব্য করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তারা এখন ট্রেনে হামলা চালানো শুরু করেছে, কয়েকদিন আগে যেভাবে ট্রেনে ঘুমন্ত মানুষের ওপর পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে মা ও শিশু সন্তানসহ চারজনকে হত্যা করেছে, এগুলো মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানিয়েছে। সবচেয়ে বড় ব্যাপার, সেটি যত না নৃশংস ও বীভৎস ছিল, তার চেয়েও নৃশংস ও বীভৎস মিথ্যাচার করেছে বিএনপি নেতা রিজভী আহমেদসহ অন্যরা।’

বিএনপি-জামায়াতের অপরাজনীতি নির্মূল করতে হবে: তথ্যমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

বিএনপি-জামায়াতের অপরাজনীতি নির্মূল করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, বিএনপি-জামায়াতের অপরাজনীতি যদি না থাকত বাংলাদেশ আরো বহুদূর এগিয়ে যেত। বাংলাদেশকে স্বপ্নের ঠিকানা নিয়ে যেতে হলে এই অপরাজনীতি এবং এই অপরাজনীতি যারা করে তাদেরকে নির্মূল করতে হবে।

বিজয় দিবস উপলক্ষে ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে শনিবার বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে আওয়ামী লীগের শ্রদ্ধা শেষে তিনি এ কথা বলেন।

আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সম্পাদক বলেন, আমরা আরো বহুদূর এগিয়ে যেতে পারতাম। কিন্তু আজকে ধ্বংসাত্মক রাজনীতি শুরু হয়েছে। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যেমন নিরস্ত্র বাঙালিদের উপর হামলা চালিয়ে হত্যা করেছে, আজকে নব্য হানাদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বিএনপি।

তিনি বলেন, তারা আজকে সাধারণ মানুষের ওপর পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করছে, সাধারণ মানুষকে জিম্মি করছে, গাড়িঘোড়াতে আগুন দিচ্ছে। নব্য হানাদার হিসেবে রূপান্তরিত হয়েছে বিএনপি জামায়াত।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফিলিস্তিনিদের পক্ষে ছিলেন আছেন থাকবেন: তথ্যমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ফিলিস্তিনিদের পক্ষে ছিলেন, আছেন ও থাকবেন বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

সোমবার (৪ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রামাদানের সঙ্গে বৈঠকের পর তথ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রদূত ফিলিস্তিনের প্রতি আকুণ্ঠ সমর্থনের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। আমি তাকে জানিয়েছি যদিও তিনি জানেন, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী ফিলিস্তিনিদের পক্ষে বলেছেন, বাংলাদেশের পার্লামেন্টের সংসদ নেতা হিসেবে ফিলিস্তিনের পক্ষে বিশেষ আলোচনার আয়োজন করেছেন। গাজায় যে হত্যাযজ্ঞ চলছে, সেটার প্রতিবাদ করেছেন।

তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদের পাশে থাকার আমাদের যে অঙ্গীকার, ইসরাইলের হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে যে আমাদের অবস্থান- সেটা তাকে পুনর্ব্যক্ত করেছি।

‘আমরা মনে করি স্বাধীন সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব, অন্য কোনো কিছু নয়। আমরা টু-স্টেইট পলিসিকে সমর্থন করি। ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় এটি অবশ্যই প্রয়োজন। ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।’

হাছান মাহমুদ বলেন, তিনি (রাষ্ট্রদূত) তার আলোচনায় আরব বিশ্বের নেতাদের ভূমিকা নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের যেসব ফিলিস্তিনি ডাক্তারি পেশায় পড়াশোনা করে গেছেন, সেখানে কীভাবে কাজ চালাচ্ছে সেগুলোর ভিডিও তিনি আমাকে দেখিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, আমরা মনে করি একবিংশ শতাব্দীতে গাজায় যেভাবে নারী ও শিশুদের হত্যা করা হচ্ছে এবং পৃথিবী বসে বসে তাকিয়ে আছে। গাজায় মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে, পুরো পৃথিবী বসে বসে সেটি দেখছে। যারা বসে বসে দেখছে, যারা ফিলিস্তিনিদের পক্ষে না দাঁড়িয়ে বরং ইসরাইলের পক্ষে অবলম্বন করছে। আমি মনে করি মানবতা নিয়ে কথা বলার নৈতিক অধিকার তারা হারিয়েছেন।

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আমি আশা করব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপসহ সবার কানে ফিলিস্তিনিদের এই আর্তনাদ পৌঁছাবে। সেখানে অবিলম্বে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে এবং ফিলিস্তিনের শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে। আমাদের সরকার, প্রধানমন্ত্রী ফিলিস্তিনিদের পক্ষে ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন।

আগুনসন্ত্রাসীদের সঙ্গে সংলাপ করা যায় না: তথ্যমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, যারা পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ পোড়ায়, হাসপাতালে হামলা চালায়, কুরআন শরিফ পোড়ায়, গাড়ি ও স্কুল ঘর পোড়ায়, তারা কোনো রাজনৈতিক দল নয়, রাজনৈতিক কর্মসূচিও এগুলো নয়। তারা যতদিন এভাবে ফণা তুলবে ততদিন দেশ ও সমাজ হুমকির মুখে থাকবে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ হয়, আগুনসন্ত্রাসীদের সঙ্গে সংলাপ করা যায় না। বরং তাদেরকে নির্মূল করতে সরকার বদ্ধপরিকর। যারা তাদের সঙ্গে সংলাপের কথা বলেন তাদের কাছে প্রশ্ন- সন্ত্রাসীদের সঙ্গে কি আলোচনা হয়? সন্ত্রাসীদের নির্মূল করতে হয়।

চট্টগ্রাম নগরীর জামালখান সড়কে শনিবার ‘বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ’ শীর্ষক ম্যুরাল ও তথ্যচিত্র উদ্বোধন করে একথা বলেন তথ্যমন্ত্রী।

গত ১৪ জুন বিএনপির ‘তারুণ্যের সমাবেশ’ চলার সময় জামালখান মোড়ে সড়কের পাশে দেয়ালজুড়ে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মের আলোকচিত্র নিয়ে তৈরি গ্লাস ম্যুরাল ভাঙচুর করা হয়। সেখানে নতুন টাইলস ম্যুরাল স্থাপন করা হয়েছে।

ম্যুরাল ভাঙচুরের সমালোচনা করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, তারা ভাঙচুর করেই ক্ষান্ত হয়নি, ভাঙচুর করার সময় উল্লাসও করেছে। আসলে বিএনপি-জামায়াত শুধু ধ্বংসই করতে জানে। এই ম্যুরাল ও ইতিহাস ঐতিহ্যের তথ্যচিত্রগুলো কী অপরাধ করেছিল, সেগুলো যে ভাঙচুর করল?

‘যদি জনগণের রায়ে আমরা আবার সরকার গঠন করতে পারি, এই দেশ থেকে শেষ অগ্নিসন্ত্রাসীদের নির্মূল করা হবে’, বলেন হাছান মাহমুদ।

বিএনপি-জামায়াতের টানা অবরোধ প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এই অবরোধ কেউ মানছেন না। রাস্তায় গাড়ি চলছে, অফিস আদালত খোলা। স্কুল-কলেজও খোলা। তারা কিছু কিছু জায়গায় পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে মানুষের মাঝে ভয়ের সঞ্চার করা ছাড়া আর কিছুই করতে পারেনি। মাঝখানে বিরতি দিয়ে দুদিন পরপর তাদের এই অবরোধ-হরতালের কথা শুনে এখন হনুমানও ভেংচি কাটছে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম চৌধুরী ম্যুরাল উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

ভরাডুবি জেনেই বিএনপি নির্বাচন প্রতিহতের চেষ্টায়: তথ্যমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট:

নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে ভরাডুবি হবে জেনেই বিএনপি নির্বাচন প্রতিহত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।

তিনি বলেন, বিএনপি যেভাবে নিষিদ্ধ সংগঠনের মতো গুপ্তস্থান থেকে গাড়ি পোড়ানোর নির্দেশ দিচ্ছে, মানুষের ওপর হামলা চালাচ্ছে, এরপর তো মানুষের কাছে যাওয়ার কোনো সুযোগ তাদের নাই।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমিতে এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ২০১৪ সালে নির্বাচন প্রতিহত করার চেষ্টা হয়েছিল। নির্বাচন প্রতিহত করে গণতন্ত্রের যাত্রাকে প্রতিহত করতে চেয়েছিল বিএনপি, কিন্তু পারে নাই। ২০১৮ সালেও সেই অপচেষ্টা ছিল, তাও পারে নাই। এখন বিএনপির শক্তি, সামর্থ্য, ক্ষমতা ২০১৪ এবং ২০১৮ এর তুলনায় অনেক কম।

বিএনপি এখন সন্ত্রাসী সংগঠনে রূপান্তরিত হয়েছে উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, মাঝেমধ্যে চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে যেভাবে বাস, গাড়ি-ঘোড়া পোড়াচ্ছে এবং মানুষের ওপর হামলা পরিচালনা করছে, জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে মারছে এগুলো কোনো রাজনৈতিক দলের কাজ নয়। এগুলো জঘন্য সন্ত্রাসীদের কাজ। বিএনপি এখন রাজনৈতিক দলের চরিত্র হারিয়ে ফেলেছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেতাদের সবার বিরুদ্ধে তো মামলা নাই, সবার বিরুদ্ধে তো ওয়ারেন্ট নাই, কিন্তু কাউকে এখন দেখা যাচ্ছে না। কারণ তারা ২৮ অক্টোবর যে অপরাধ করেছে এবং এর পরবর্তী প্রতিটি দিন যে অপরাধ সংঘঠিত করে যাচ্ছে, এ জন্য জনগণের কাছে চেহারা দেখানোর সাহস তাদের নাই।

দুটি কারণে বিএনপির জনপ্রিয়তা তলানিতে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, একটি হচ্ছে গাজায় ইসরায়েলি বাহিনী যেভাবে মানুষকে হত্যা করেছে, এর প্রতিবাদ সারা পৃথিবী জুড়ে হয়েছে, এমন কি অনেক ইহুদিও এর প্রতিবাদ করেছেন। শুধু বিএনপি এবং জামায়াত প্রতিবাদ করে নাই। ফলে দেশের সব মুসলমানদের তারা আহত করেছে। সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ইসরায়েলের দোসরে পরিণত হয়েছে। আর অপরটি হলো, ইসরায়েলি বাহিনীর মতো তারা নিরীহ মানুষ, সাংবাদিক, পুলিশ, হাসপাতাল, অ্যাম্বুলেন্স, গাড়ি-ঘোড়ার ওপর হামলা চালাচ্ছে, অগ্নিসন্ত্রাস করছে।

বিএনপি দল হিসেবে নির্বাচনে না এলেও তাদের অনেক নেতা অংশ নেবেন জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আপনারা দেখেছেন গতকাল বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির দুই নেতা ঘোষণা দিয়েছেন যে, তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। তাদের সঙ্গে আরও শতাধিক প্রার্থী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। সুতরাং এগুলো করে বিএনপির কোনো লাভ হবে না।

নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা নিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করেছে। নির্দিষ্ট দিনে, নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন হবে। জনগণের রায় নিয়ে নতুন সরকার গঠিত হবে। জনগণ ব্যাপকভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে। একটি দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলেও বহু দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে, বিএনপির নেতারাও অংশগ্রহণ করবেন।

বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লুর চিঠি প্রসঙ্গে হাছান মাহমুদ বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আমাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র। তাদের সঙ্গে আমাদের বহুমাত্রিক সম্পর্ক রয়েছে। আমরা বৈশ্বিক অঙ্গনেও সন্ত্রাস দমনের পক্ষে একযোগে কাজ করছি। তাদের পরামর্শকে আমরা অবশ্যই মূল্য দেই। আমাদের কাছে বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর পরামর্শের অবশ্যই মূল্য আছে। পাশাপাশি দেশের গণতন্ত্রকে রক্ষা করার জন্য, দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত আমাদেরই নিতে হয়, আমরা নেই।

সংলাপ প্রশ্নে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপি তো সংলাপ নাকচ করে দিয়েছে। বিএনপি বলেছে এখন সংলাপের কোনো পরিবেশ নাই। আমরা অবশ্যই সংলাপের বিরুদ্ধে নই। কিন্তু কোনো সন্ত্রাসীর সঙ্গে সংলাপ হতে পারে না।

বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচন করতে চাই: তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ

ডেস্ক রিপোর্ট:

আওয়ামী লীগ বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচন করতে চায় জানিয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশনের শিডিউলের মধ্যে তারা এলে তাদের নিয়েই নির্বাচন হবে।’

রোববার (১২ নভেম্বর) সচিবালয়ে একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।

দেশ কি বিএনপিকে ছাড়া নির্বাচনের দিকে যাচ্ছে, নাকি আপনারা শেষ পর্যন্ত বিএনপির অংশগ্রহণের জন্য অপেক্ষা করবেন? এমন প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘আমরা চাই বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। তাদের এত জনপ্রিয়তা তারা বলেন, সেটি যাচাই করুক। তাদের এত উদ্যোগী কর্মী যারা ২০ মিনিটে ময়দান ছেড়ে চলে গেছেন, তারা কতটুকু নামে আমরা একটু দেখি। তাদের এত জাদরেল নেতা, পুলিশের আওয়াজে- কোনো গুলি হয়নি, কোনো টিয়ারগ্যাসও (নিক্ষেপ) হয়নি, ছোটবেলায় যে বড় বাজি ফোটাতাম সেই বাজির আওয়াজ হয়েছে, সেই আওয়াজে মঞ্চ ছেড়ে চলে গেলেন। তারা নির্বাচনে আসুক, এসে দেখুক তাদের কতটুকু জনপ্রিয়তা। কর্মীরা কতটুকু নামে, এই নেতাদের ওপর কতটুকু আস্থা রাখে। আমরা চাই তাদের সঙ্গে নির্বাচন করতে। নির্বাচনের শিডিউলের মধ্যে তারা এলে তাদের নিয়েই নির্বাচন হবে।’

যদি তারা না আসে? এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি দেশে গণতন্ত্রের অভিযাত্রা অব্যাহত রাখার জন্য নির্বাচন হতে হবে। কোনো একটি দল না এলেও আরও অনেক দল তো অংশগ্রহণ করবে। জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ থাকবে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে।’

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যেখানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশের প্রতিটি শহর প্রতিটি গ্রাম বদলে যাচ্ছে, অন্যদিকে দেশ ধ্বংসের জন্য পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করা হচ্ছে জনগণের ওপর, জনগণের গাড়ি-ঘোড়ার ওপর এবং তারা কোনো উন্নয়ন দেখতে পায় না।’

সবাই মিলে সোচ্চার হয়ে এগুলো বন্ধ করতে হবে বলে মনে করেন মন্ত্রী।

অবরোধ ডেকে আগের দিনই বিএনপি হামলা চালাচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এটি কি কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি হতে পারে? এগুলোকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বললেও কম বলা হয়।’

‘তারা রাস্তায় নেমে এসে ব্যারিকেড দিক। আমরা অবরোধ দেখেছি, আপনারা পালন করুন। সেটি তো তারা করে না, চোরাগোপ্তা হামলা চালায়। এটি কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি হতে পারে না।’ বলেন হাছান মাহমুদ।

বিএনপির আন্দোলন কর্মসূচি নিয়ে জাতিসংঘের বিবৃতির বিষয় দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘হ্যাঁ, তাদের (বিএনপি) আন্দোলন করার অধিকার আছে। সরকারের পদত্যাগ চাওয়ার অধিকার আছে, আমার পদত্যাগ চাওয়ার অধিকার আছে। সেই অধিকার মানে তো গাড়ি-ঘোড়া পোড়ানো নয়। এটিকে কেউ সমর্থন করেনি, করে না। ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের অনেকে তাদের এ কর্মকাণ্ডকে কনডেম করেছে। তারা অনেককে নানাভাবে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে। তাদের এই কর্মকাণ্ডকে কেউ সমর্থন করে না করতে পারে না।’

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের বৈঠকের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘ভারতে যে বৈঠকটি হয়েছে সেটি ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে। সেই বৈঠকের বিষয় একান্তই তাদের। সেখানে কী আলোচনা হয়েছে সেটি পত্রপত্রিকায় এসেছে। ভারতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের নির্বাচন, উন্নয়ন- এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। অবশ্যই ভারত যেটি বলেছে, যথার্থ বলেছে। বাংলাদেশের জনগণের ঠিক করবে নির্বাচনের মাধ্যমে কারা ক্ষমতায় আসবে।’

জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশন খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়েছে- এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মুক্তি সরকারের হাতে নেই। খালেদা জিয়ার মুক্তি আইনের হাতে, আদালতের হাতে। সরকার চাইলেই তো মুক্তি দিতে পারবে না। সরকারের কাছে যেটুকু ক্ষমতা ছিল সেটা দিয়ে তার সাজা স্থগিত রেখে তাকে ঘরে থাকার ব্যবস্থা সরকার করে দিয়েছে, বাকিটা আদালতের বিষয়।’

বিএনপি নির্বাচন করতে দেবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে- এ বিষয় দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়া সেটি যেকোনো রাজনৈতিক দলের অধিকার আছে। কিন্তু নির্বাচন প্রতিহত করার এখতিয়ার কারো নেই। নির্বাচন প্রতিহতের কথা বলা মানেই দেশবিরোধী ও গণতন্ত্রবিরোধী কথাবার্তা। সুতরাং দেশবিরোধী, গণতন্ত্রবিরোধী বক্তব্য যারা রাখবে কিংবা অপচেষ্টা চালাবে, তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে প্রতিরোধ গড়ে তুলবো। সরকার, জনগণ, রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে গণতন্ত্রের অভিযাত্রাকে অব্যাহত রাখা। সেজন্য যা কিছু করা প্রয়োজন, সেগুলো করা হবে।’

‘তাদের (বিএনপি) উদ্দেশ্যে স্পষ্ট। দেশে একটি বিশেষ পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়। স্বপ্ন দেখতে দেখতে ১৫ বছর কেটেছে, আগামী কত বছর কাটবে জানি না।’ যোগ করেন মন্ত্রী।