All posts by jitu

চৌদ্দগ্রামে ৭টি চোরাই গরুসহ আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৩ সদস্য আটক

 

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৭টি চোরাই গরুসহ আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৩ সদস্যকে আটক করা হয়েছে।

বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে মহাসড়কের ঘোলপাশার সৈয়দপুর এলাকার একটি খামার থেকে ৭টি চোরাই গরুসহ আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৩ সদস্যকে আটক করে।

আটককৃতরা হলেন- চট্টগ্রাম জেলার বায়েজিদ বোস্তামী থানার শহীদনগর এলাকার মৃত আবুল হাশেম সওদাগরের ছেলে মো: নাছির উদ্দিন (৬৩), রাঙ্গুনিয়া থানার মিনাগাজীরটিলা এলাকার গোলাম মোহাম্মদ এর ছেলে মো: সানি চৌধুরী প্রকাশ আকাশ (৩০) ও কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সৈয়দপুর এলাকার মৃত বশির আহাম্মদ প্রকাশ জমিদার এর ছেলে মো: জাহাঙ্গীর আলম (৪৮)। এ ঘটনায় কথিত খামার মালিক উপজেলার সৈয়দপুর এলাকার মৃত রমজান আলীর ছেলে আলম (৫১) ও চোরাই গরু বিক্রির মূলহোতা লক্ষীপুর জেলার সদর থানার মজু চৌধুরীর ঘাট এলাকার দিদার (৪০) সহ ৫ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা আরো ৭/৮ জন আসামীর বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা রুজু হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ত্রিনাথ সাহা।

থানা সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চৌদ্দগ্রাম থানার সেকেন্ড অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো: আলমগীর হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স সহ বৃহস্পতিবার (৩১ আগস্ট) রাত আনুমানিক ১টা ৪৫মিনিটে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঢাকামুখি লেনের পশ্চিমপাশে উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের সৈয়দপুর এলাকায় মো: আলম নামে এক ব্যক্তির কথিত গরুর খামারে অভিযান চালিয়ে মো: নাছির উদ্দিন, মো: সানি চৌধুরী ও মো: জাহাঙ্গীর আলমকে আটক করে পুলিশ। এ সময় আন্তঃজেলা চোর চক্রের সদস্য ও আটককৃত আসামীদের ৪/৫ জন সহযোগি পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে তাদের হেফাজতে থাকা ৭টি চোরাই গরু জব্দ করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা। আটককৃত ৩ আসামী ও কথিত খামার মালিক চৌদ্দগ্রামের ঘোলপাশা ইউনিয়নের সৈয়দপুর এলাকার মৃত রমজান আলীর ছেলে মো: আলম এবং চোরাই গরু বিক্রির মূলহোতা লক্ষীপুর জেলার সদর থানার মজু চৌধুরীর ঘাট এলাকার দিদার সহ অজ্ঞাতনামা আরো ৭/৮ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ত্রিনাথ সাহা বলেন, ‘থানা পুলিশ বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে মহাসড়কের ঘোলপাশার সৈয়দপুর এলাকার একটি খামার থেকে ৭টি চোরাই গরুসহ আন্তঃজেলা চোর চক্রের ৩ সদস্যকে আটক করে। এ সময় তাদের কয়েকজন সহযোগি পালিয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে এ চক্রটি দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নানা কৌশলে চোরাই গরু এনে আলমের কথিত খামারে রাখতো এবং চৌদ্দগ্রামের মিরশ্বানী বাজারে বিক্রিসহ চোরাই গরু জবাই করে স্থানীয় বিভিন্ন হোটেলে গোসত বিক্রি করতো বলে পুলিশের নিকট স্বীকারোক্তি প্রদান করে। পরে আটককৃত ও পলাতক আসামীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের শেষে বৃহস্পতিবার দুপুরে তাদেরকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। অপরাধ দমনে থানা পুলিশ সদা তৎপর রয়েছে।’

সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অস্ত্র দেশে প্রবেশরোধে সতর্ক রয়েছেন বিজিবি: বিজিবি মহাপরিচালক

 

স্টাফ রিপোর্টার:

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ কে এম নাজমুল হাসান, বিএএম, এনডিসি, পিএসসি বিজিবি’র কুমিল্লা সেক্টরের আওতাধীন কুমিল্লা এবং ফেনী ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

বিজিবি মহাপরিচালক আজ বৃহস্পতিবার  সকালে  বিজিবি’র বিভিন্ন ইউনিটের অপারেশনাল, প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিদর্শনের অংশ হিসেবে বিজিবি’র কুমিল্লা সেক্টর দপ্তর ও কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) এর ব্যাটালিয়ন সদর পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি কোয়ার্টার গার্ডে সালাম গ্রহণ ও বৃক্ষরোপন করেন এবং সেক্টর কমান্ডারের ব্রিফিং গ্রহণ করেন। এরপর তিনি বিজিবি’র কুমিল্লা সেক্টরের সকল পর্যায়ের অফিসার ও সৈনিকদের সাথে মতবিনিময় করেন এবং অপারেশনাল, প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনিক বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে কুমিল্লা বিবিরবাজার সীমান্ত পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ কে এম নাজমুল হাসান। এ সময় তিনি বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সীমান্ত দিয়ে যেন অবৈধ অস্ত্র দেশে প্রবেশ করতে না পারে সে জন্য সতর্ক রয়েছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা। এ ছাড়া মাদক ও চোরাচালান বন্ধে আগের থেকেও বেশি সক্রিয় বাহিনী।

ব্যাটালিয়ন পরিদর্শন শেষে বিজিবি মহাপরিচালক বিবিরবাজার বিওপি এবং বিবিরবাজার আইসিপি পরিদর্শন করেন। তিনি বিবিরবাজার আইসিপিতে পৌঁছালে বিএসএফ গোকুলনগর সেক্টরের ভারপ্রাপ্ত সেক্টর কমান্ডার রাজেশ সিং কানওয়ার তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভ্যর্থনা জানান। বিজিবি মহাপরিচালক সেখানে উপস্থিত সকল পর্যায়ের বিএসএফ কর্মকর্তা ও বিএসএফ জওয়ানদের সাথে শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় করেন।

এরপর বিজিবি মহাপরিচালক ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) এর অধীনস্থ মজুমদারহাট বিওপি, বিলোনিয়া আইসিপি ও মুহুরীর চর পরিদর্শন করেন এবং সৈনিকদের সাথে মধ্যাহ্নভোজে অংশগ্রহণ করেন।

মহাপরিচালকের পরিদর্শনকালীন বিজিবি সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সরাইল রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেঃ জেনারেল মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, কুমিল্লা সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল মোঃ শরিফুল ইসলাম মেরাজ  এবং কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) এর সিগন্যাল অধিনায়ক  লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ নজরুল ইসলামসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ এবং কুমিল্লা পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নানসহ পুলিশের সিনিয়র কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দুই মাসে এক মহিলা কলেজের ২০ ছাত্রীর পালিয়ে বিয়ে

দুই মাসে এক মহিলা কলেজের ২০ ছাত্রীর পালিয়ে বিয়ে

ডেস্ক রিপোর্ট:

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সম্পর্ক গড়ে দুই মাসে বাগেরহাটের চিতলমারী সরকারি বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজের ২০ ছাত্রী পালিয়ে বিয়ে করেছেন। কলেজটির অধ্যক্ষ মো. বাবুল মিঞা এই তথ্য জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার অধ্যক্ষ জানান, ‘চিতলমারীতে শতাধিক কোচিং সেন্টার গড়ে উঠেছে। অভিভাবকদের অসচেতনতার কারণে স্কুল-কলেজ ফাঁকি দিয়ে শিক্ষার্থীরা কোচিং সেন্টারে যায়। আবার অনেকে কলেজ ও কোচিং সেন্টারে আসার নামে মোবাইল ফোনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সময় কাটায়। তাই কলেজ টাইমে কোচিং সেন্টার চালানো বন্ধ করা উচিত।’

অধ্যক্ষ মো. বাবুল মিঞা জানায়, ‘অনেকে সম্মানের জন্য সত্য কথা স্বীকার করেন না। তবে এ ধরনের ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। উঠতি বয়সী মেয়েরা প্রলোভনে পড়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে পরিবারের অজান্তেই পালিয়ে যায়। জুলাই ও আগস্ট মাসে ফেসবুক ব্যবহার করে এই কলেজের কমপক্ষে ২০ জন ছাত্রী পালিয়ে বিয়ে করেছে। তাদের অধিকাংশই অপ্রাপ্তবয়স্ক।’

তিনি জানায়, কিছুদিন আগে এক পেয়েকে পুলিশের সহায়তায় উদ্ধার করা হয়। কিন্তু মাত্র সাত দিনের মাথায় আবার সে পালিয়ে যায়। এমন ঘটনা থেকে রক্ষা পেতে সচেতনতা খুবই প্রয়োজন।

মোবাইল ফোন ও ফেসবুক ব্যবহারের বিষয়টি খুবই উদ্বেগের বলে মনে করেন অধ্যক্ষ।

ডেঙ্গুতে এক সপ্তাহের মধ্যে ছেলে–মেয়েকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ বাবা-মা

ডেঙ্গুতে এক সপ্তাহের মধ্যে ছেলে–মেয়েকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ বাবা-মা

ডেস্ক রিপোর্ট:

ডেঙ্গুতে এক সপ্তাহের মধ্যে মারা গেছে আরাফাত হোসেন রাউফ ও ইসনাত জাহান রাইদা নামে এই দুই ভাই–বোন। দুই সন্তানকেই হারিয়ে শোকে মুহ্যমান তাদের মা–বাবা। দুই সন্তান হারানোর বেদনা কিছুতেই মেনে নি তে পারছেন না মোহাম্মদ ইব্রাহিম ও রাবেয়া আক্তার দম্পত্তি। বাড়িতে তাদের মন টিকছে না। পুতুল, রংপেনসিল, বই–খাতা, ছোট ছোট জামা, জুতা—ঘরে সবই আছে। নেই এই দুজনের খুনসুটি। নেই শুধু আরাফাত হোসেন রাউফ আর ইসনাত জাহান রাইদা। মায়ের বকুনি থেকে ভাইকে বা বোনকে বাঁচানোর জন্য একজোট হওয়ার কৌশল।

গত ১৮ আগস্ট আরাফাত হোসেন রাউফ আর ২৫ আগস্ট ইসনাত জাহান রাইদা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। এই দুই সন্তান নিয়ে মোহাম্মদ ইব্রাহিম ও রাবেয়া আক্তার দম্পতির রাজধানীর মধ্য পাইকপাড়ার ছাপাখানা মোড়ের এক বাসায় থাকতেন। এখন এ বাসায় শুধুই পিনপতন নীরবতা।

ডেঙ্গুতে দুই ছেলে–মেয়েকে হারিয়ে এই বাবা–মা বেশিক্ষণ ঘরে থাকতে পারছেন না। কোনো না কোনো আত্মীয়ের বাসা বা সাভারের হেমায়েতপুরে চলে যান, যেখানে পাশাপাশি দুই ভাই–বোনকে কবর দেওয়া হয়েছে। বাসার কাছেই আইকন একাডেমি নামে একটি স্কুলে আরাফাত হোসেন কেজি আর রাইদা নার্সারিতে পড়ত। আরাফাতের বয়স ছিল ৯ বছর আর রাইদার ছিল সাড়ে ৬ বছর।

দুই সন্তানকেই হারানো মোহাম্মদ ইব্রাহিম নিজেকে সান্ত্বনা দেওয়ার কিছু পাচ্ছেন না। তিনি গণমাধ্যমে জানান, ‘আমার টাকাপয়সা খুব বেশি নেই। যেটুকু ছিল বা সামর্থ্য অনুযায়ী ছেলে–মেয়েদের নিয়ে সুখে থাকতে চাইতাম। প্রতি শুক্রবার স্ত্রী ও দুই ছেলে–মেয়েকে নিয়ে বের হতাম। বাইরে ঘুরে, খেয়েদেয়ে বাসায় ফিরতাম।’

ছেলে–মেয়েদের নিয়ে ঘোরার সুবিধার জন্য মোটরসাইকেল কেনেন তিনি। কিন্তু মোটরসাইকেলে জায়গা না হওয়ায় গাড়ি কিনেছিলেন শুধু ছেলে–মেয়েদের নিয়ে মনমতো ঘুরতে পারবেন বলে।

আক্ষেপ করে মোহাম্মদ ইব্রাহিম গণমাধ্যমে বলেন, ‘আগে আমাদের কোনো অভাব ছিল না। দুঃখ ছিল না। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দুই ছেলে–মেয়েকে হারিয়ে এখন আমাদের মতো অভাবী আর দুঃখী আর কেউ নেই। আমাদের মনের যে কষ্ট, তা ভুক্তভোগী ছাড়া কেউ বুঝতেও পারবে না।’

পরিবার সূত্র জানান, গত ১৪ আগস্ট আরাফাতের হালকা জ্বর আসে। ১৫ আগস্ট এলাকার এক চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। ১৬ আগস্ট রক্তের পরীক্ষায় ডেঙ্গু পজিটিভ আসে। প্লাটিলেট ভালো থাকায় চিকিৎসক বলেছিলেন, হাসপাতালে নেওয়ার দরকার নেই। কিন্তু পরের দিন ১৭ আগস্ট প্লাটিলেট দ্রুত কমতে থাকে। ১৮ আগস্ট হাসপাতালে ভর্তি করার আগেই আরাফাত মারা যায়। হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা জানায়, ছেলে মারা গেছে।

মোহাম্মদ ইব্রাহিম আক্ষেপ করে বলেন, ‘ছেলেটা চিকিৎসা করানোর কোনো সুযোগই দিল না। ছেলেটা মারা যাওয়ার পর আমি আর আমার স্ত্রী ভেবেছি, হয়তো আমরা তার চিকিৎসায় কিছুটা হলেও অবহেলা করেছি। তাই মেয়ের ডেঙ্গু পজিটিভ হলে চেষ্টার কোনো ত্রুটি করিনি। কিন্তু হাসপাতালে শয্যা নেই, শিশুদের পিআইসিইউ নেই, পাগলের মতো কত জায়গায় ঘুরলাম। ছেলে মারা যাওয়ার খবর পাওয়ার পরও কোনো কোনো হাসপাতাল আমাদের জিম্মি করে রাখল। চিকিৎসকেরা যখন যা লাগবে বলেছেন, তা–ই করেছি, কিন্তু মেয়েকেও ফেরাতে পারলাম না।’

রেন্ট–এ–কার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইব্রাহিম জানায়, ধানমন্ডির একটি হাসপাতালের পিআইসিইউতে মেয়েকে পাঁচ দিন রেখে মেয়ে ভালো আছে বলে বাসায় আনতে বলে। তবে মেয়েকে বাসায় আনার পরই আবার অসুস্থ হয়ে পড়ে। তখন মহাখালীর আরেকটি বেসরকারি হাসপাতালের পিআইসিইউতে ভর্তি করা হয়। ওই হাসপাতাল তিন লাখ টাকা দিয়ে সাতটি ইনজেকশন দেওয়ার কথা বলেছিল। দুটি ইনজেকশন দেওয়াও হয়। তবে ২৫ আগস্ট সকালে মেয়ে মারা গেল।

আক্ষেপ করে তিনি জানান, ‘ছেলে–মেয়ে দুটো একজন আরেকজনকে ছাড়া একমুহূর্ত থাকতে পারত না। তাই হয়তো কাছাকাছি সময়ে তারা চলে গেছে। মারা যাওয়ার পর দুই ভাই–বোনকে সাভারের হেমায়েতপুরে পাশাপাশি কবর দেওয়া হয়েছে।’ প্রতিবেদনটি তৈরিতে প্রথম আলো সংবাদ মাধ্যম থেকে তথ্য নেয়া হয়েছে।

লক্ষ্মীপুরে কিস্তির টাকা তুলতে গিয়ে লাশ হলেন এনজিওকর্মী

লক্ষ্মীপুরে কিস্তির টাকা তুলতে গিয়ে লাশ হলেন এনজিওকর্মী

ডেস্ক রিপোর্ট:

লক্ষ্মীপুরে মো. ইউনুছ (৫০) নামে এক এনজিওকর্মীকে হত্যার পর মরদেহ মাটিতে পুঁতে রাখার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জাবেদ হোসেন নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার সকালে লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের দক্ষিণ মজুপুরের কালু হাজি সড়ক এলাকা থেকে মাটিচাপা অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. হাসান মোস্তফা স্বপন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. সোহেল রানা ও সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোসলেহ উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

ইউনুস লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড আবদুল গনি হেডমাস্টার সড়কের আবদুর রশিদ মোল্লার ছেলে। তিনি গ্রামীণ মাল্টিপারপাসের মাঠকর্মী হিসেবে কাজ করতেন।

আটক জাবেদ কালু হাজি সড়কের শফিকুর রহমানের ছেলে ও চা দোকানি। তবে তিনি নির্মাণ শ্রমিক হিসেবেও কাজ করেন।

পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ইউনুছের এনজিও থেকে ২০ হাজার টাকা ঋণ নেন জাবেদ। এতে প্রতিদিন ২৫০ টাকা করে জমা দিতে হয়। কিন্তু তিনি কিস্তির টাকা দিচ্ছিলেন না। ২৪ আগস্ট বিকেলে মোটরসাইকেলযোগে ইউনুস বাসা থেকে বের হন। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। ২৫ আগস্ট ইউনুছের স্ত্রী সুলতানা জামান সদর মডেল থানায় একটি জিডি করেন। এতে পুলিশ তদন্তের পর অভিযান চালিয়ে বুধবার (৩০ আগস্ট) রাতে জাবেদকে তার এলাকা থেকে আটক করে। পরে তিনি পুলিশের কাছে ঘটনার স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেয়।

জাবেদ পুলিশকে জানায়, ২৪ আগস্ট রাতে ইউনুছ দোকানে তার কাছে কিস্তির টাকার জন্য যায়। কিন্তু তিনি টাকা না দেওয়ায় দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায় লাঠি দিয়ে ইউনুসের মাথায় আঘাত করে তিনি। এতে ইউনুছ মারা যান। পরে তিনি নিজেই দোকানের পেছনে নিয়ে ইউনুছের মরদেহটি মাটিতে পুঁতে রাখেন। পরে ইউনুছের ব্যবহৃত মোবাইল ও মোটরসাইকেলটি পাশের পুকুরে ফেলে দেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. হাসান মোস্তফা স্বপন জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত জাবেদকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে। মাটিতে পুঁতে রাখা মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুকুর থেকে ইউনুছের মোটরসাইকেলটিও উদ্ধার করা হয়েছে।

নায়ক ছাড়া নায়িকা হবেন প্রার্থনা ফারদিন দীঘি

নায়ক ছাড়া নায়িকা হবেন প্রার্থনা ফারদিন দীঘি

ডেস্ক রিপোর্ট:

বড় পর্দায় শিশু শিল্পী হিসেবে অভিনয়ে আলো ছড়িয়েছেন। পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। মাঝখানে লম্বা বিরতি দিয়ে ফেরেন পুরোদস্তুর নায়িকা হিসেবে। সম্প্রতি নতুন একটি ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তরুণ এই চিত্রনায়িকা। হ্যাঁ, বলা হচ্ছে নতুন দিনের মেধাবী অভিনেত্রী প্রার্থনা ফারদিন দীঘির কথা।

কামরুল হাসান ফুয়াদ পরিচালিত ‘দেয়াল’ ছবিতে নাম লিখিয়েছেন এ অভিনেত্রী। আগামী নভেম্বরে ছবিটির শুটিংয়ে অংশ নেবেন বলে জানালেন দীঘি। তবে এই ছবিতে তার বিপরীতে কোনো নায়ককে থাকবে না। তিনি জানালেন, ছবি গল্পটাই আসলে এমন যেখানে নায়কের দরকার পড়ে না।

নায়ক ছাড়া নায়িকা হবেন—ব্যাপারটা ঢালিউডে নতুনই বটে। তার ওপর সবে নায়িকা হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করেছেন, এখনই এমন সিদ্ধান্ত নিতে প্রথম প্রথম দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছিলেন দীঘি। বিষয়টি স্বীকার করে তিনি জানান, ‘ছবিটি নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে আলাপ–আলোচনা চলছিল। শুরুতে কাজটা করা নিয়ে কিছুটা দ্বিধাদ্বন্দ্বে ছিলাম। পরে ভাবলাম, গল্পে যেহেতু চ্যালেঞ্জ আছে, আমি চ্যালেঞ্জটা নিতে চাই। নিজেকে অন্য রকমভাবে পর্দায় উপস্থাপনেরও একটা লোভ ছিল। ভাবলাম, জীবনে নতুন অভিজ্ঞতার সঙ্গে পরিচিত হই। তাই রাজি হয়েছি।’

ছবির গল্প নিয়ে এখনই কিছু বলা বারণ জানিয়ে দীঘি জানান, ‘আমাদের এখানে এ ধরনের গল্পে কিন্তু কাজ খুব একটা হয় না। গল্প সম্পর্কে কিছু বলা বারণ আছে, তাই আমি কিছুই জানাতে পারছি না। চরিত্রটির জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছি, এতটুকুই শুধু বলব।’

পারিবারিক গল্পের এই ছবিতে দীঘি ছাড়াও আছেন একঝাঁক তারকা অভিনেতা। তাদের মধ্যে আছেন মামুনুর রশীদ, তারিক আনাম খান, ফজলুল রহমান বাবু, সালাউদ্দিন লাভলু, আরফান আহমেদ, জয় রাজ, সাবেরী আলম, অলিউল্লাহ হক রুমি প্রমুখ।

সম্প্রতি ‘জীবন জুয়া’ নামে একটি অ্যানথোলজি সিনেমার কাজ শেষ করেছেন দীঘি। এতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন সুদীপ বিশ্বাস। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে ‘মুজিব: একটি জাতির রূপকার’ সিনেমাটি। এতে বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের তরুণী বেলার চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। ছবিটি পরিচালনা করেছেন ভারতের প্রখ্যাত নির্মাতা শ্যাম বেনেগাল।

যে ৪ কথা স্ত্রীকে কখনোই বলবেন না

যে ৪ কথা স্ত্রীকে কখনোই বলবেন না

ডেস্ক রিপোর্ট:

পারস্পারিক সম্মান না থাকলে দাম্পত্য জীবনে সুখী হওয়া অসম্ভব। সম্মান থাকলে তার হাত ধরে আসবে ভালোবাসাও। কেউ যদি তার স্ত্রীকে অসম্মান করে, অপমান করে কথা বলে, কষ্ট দেয় তবে সেই সম্পর্ক রং হারাতে বাধ্য। স্বামীর বলা একেকটি কথা স্ত্রীর বুকে তীর হয়ে বিঁধতে পারে। তাই রাগের বশে হোক বা অন্য যেকোনো সময় কথা বলার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকুন। কখনোই এই ৪ কথা আপনার স্ত্রীকে বলবেন না, কারণ এই কথাগুলো তাকে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয়-

আমার জীবন নষ্ট করে দিয়েছো

আপনার সঙ্গে জীবন কাটাতে এসে নিজের অনেক ইচ্ছা-আকাঙ্ক্ষার কথা হয়তো ভুলে গেছেন আপনার স্ত্রী। আপনাকে ভালো রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তাই তাকে কখনো বলবেন না যে সে আপনার জীবন নষ্ট করে দিয়েছে। যদি কোনো বিষয়ে তার ওপর মনোক্ষুণ্ণ হন তবে ঠান্ডা মাথায় বসে তার সঙ্গে কথা বলুন। চেচামেচি কোনো সমাধান নয়। কারণ রাগের মাথায় মানুষ এমন অনেক ভুলভাল কথা বলে ফেলে, যার কারণে পরবর্তীতে সংসার টিকিয়ে রাখাই মুশকিল হয়ে যায়।

বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাও

অনেকেই রাগের মাথায় স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। এমনটা কখনোই বলবেন না। কারণ একজন নারী একসঙ্গে সংসার করার জন্যই নিজের পরিবারকে ছেড়ে আসে। নতুন একটি জীবনের স্বপ্ন দেখে। নিজের মধ্যে অনেক পরিবর্তন নিয়ে আসে। তাই তার ওপর রাগ করে বাড়ি ছাড়তে বলবেন না। কারণ বাড়ি ও সংসার আপনাদের দুজনেরই।

আমার কাছে তোমার মতামতের গুরুত্ব নেই

স্ত্রী মানে আপনার সবকিছুতেই তার অধিকার। সংসার চালাতে গিয়ে দুজনেরই মতামত সমান জরুরি। যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই আপনার স্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে নেবেন। কিন্তু সেসব না করে স্বেচ্ছাচারিতা করা এবং স্ত্রীর মতামতের গুরুত্ব না দেওয়া চরম অবহেলা। এমনটা কখনো করবেন না।

তোমাকে বিয়ে করে ভুল করেছি

বলার আগে চিন্তা করুন। কারণ কথা একবার বলে ফেললে তা ফিরিয়ে আনা মুশকিল হয়ে যায়। আপনি যখন বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন, তখন নিশ্চয়ই বুঝেশুনে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন? তাহলে পরবর্তীতে স্ত্রীকে কখনো এই কথা বলবেন না যে, ‘তোমাকে বিয়ে করে ভুল করেছি’। কারণ বিয়ের সিদ্ধান্তটি যদি ভুলও হয়, তার দায়ভার আপনার স্ত্রীর নয়, আপনার। সেই দায় তার ওপর চাপাবেন না। স্বামীর কাছ থেকে এমন কথা শুনলে স্ত্রীর কষ্ট পাওয়া খুবই স্বাভাবিক।

ঘরের মাঠে জয় পেতে ব্যর্থ মেসিদের মায়ামি

ঘরের মাঠে জয় পেতে ব্যর্থ মেসিদের মায়ামি

ডেস্ক রিপোর্ট:

লিওনেল মেসি আর ইন্টার মায়ামি যেভাবে ছুটছিল, তাকে রূপকথা ছাড়া অন্য কিছু বলার সাধ্য ছিল কই। একের পর এক ম্যাচে নিজের ঝলক দেখিয়েছেন মেসি। তাতে ইন্টার মায়ামিও ছুটেছে জয়ের পথে। লিগস কাপে শিরোপা, ইউএস ওপেন কাপের ফাইনাল সবমিলিয়ে শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। সেই জয়ের ধারায় এবার লাগাম টেনে ধরলো ন্যাশভিল।

ফ্লোরিডার ড্রাইভ পিংক স্টেডিয়ামে ঘরের মাঠে এদিন জয় পেতে ব্যর্থ হয়েছে লিওনেল মেসির ইন্টার মায়ামি। দারুণ অ্যাটাকিং ফুটবল খেলেও গোলশুন্য ড্র দিয়েই ম্যাচ শেষ করতে হয়েছে তাদের।

পুরো ম্যাচে বেশিরভাগ সময়েই লাগাম নিজেদের কাছেই রেখেছিল টাটা মার্টিনোর শিষ্যরা। কিন্তু ন্যাশভিল ছিল সতর্ক। কদিন আগেই লিগস কাপের ফাইনালে মায়ামির কাছে হেরেছিল তারা। সেবারেও অবশ্য ৯০ মিনিটের খেলা ড্রতেই শেষ হয়। এবারেও দেখা গেল তেমন ফল।

এদিন ম্যাচের আগে নিজেদের সদ্য জয় করা লিগ কাপের শিরোপা সমর্থকদের সামনে নিয়ে আসে মায়ামির খেলোয়াড়রা। প্রত্যাশা ছিল এমন দিন জয় দিয়ে স্মরণীয় করে রাখা। কিন্তু তার আর হলো না। নিজেদের কনফারেন্সের শক্তিশালী প্রতিপক্ষ ন্যাশভিল এসসির বিপক্ষে ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছে মায়ামি। আর যুক্তরাষ্ট্রের প্রথমবারের মত জয় পেতে ব্যর্থ হলেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার মেসি।

পুরো ম্যাচেই নিজেদের জমাট রক্ষণের আস্থা রেখেছিল ন্যাশভিল। তাতে ফলও এসেছে। পুরো ম্যাচে গোটা ছয়েক শট নিয়েও গোল করতে পারেননি মেসি। প্রতিবারই আটকেছেন ন্যাশভিল রক্ষণের কাছে। অবশ্য শুধু মেসিই না। এদিন পুরো মায়ামির আক্রমণকেই প্রতিহত করেছেন লুকাস ম্যাকনটন-জ্যাক মাহেররা।

পুরো ম্যাচে ১৩ টি শট নিয়েছে মায়ামি। বল দখলে ছিল ৬৯ শতাংশ সময়। এমনকি পাসও খেলেছে বিপক্ষ দলের প্রায় তিনগুণ। কিন্তু ন্যাশভিলের প্রতিরোধের দেয়ালের সামনে এসব পরিসংখ্যান একেà