All posts by jitu

২১ আগস্ট নিহতদের স্মরণে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

অনলাইন ডেস্ক:

২১ আগস্ট গ্রেনেট হামলায় নিহতদের স্মরণে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে বেদিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ।সোমবার (২১ আগস্ট) সোমবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী।

সেখানে পৌঁছে প্রথমেই তিনি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নির্মিত শহীদ বেদীতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে সঙ্গে নিয়ে শ্রদ্ধা জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সেখানে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন প্রধানমন্ত্রী।

বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে ২০০৪ সালের এই দিনে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী শান্তিপূর্ণ সমাবেশে এই নজিরবিহীন গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। গ্রেনেড হামলার মাধ্যমে হিংসার দানবীয় সন্ত্রাস আক্রান্ত করে মানবতাকে। আক্রান্ত হন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় আয়োজিত সমাবেশে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছিলেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। ওই ঘটনায় দলীয় নেতাকর্মীরা মানববর্ম রচনা করে শেখ হাসিনাকে রক্ষা করলেও গ্রেনেডের আঘাতে আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ মোট ২৪ জন নেতাকর্মী প্রাণ হারান। পরবর্তী সময়ে গ্রেনেড হামলার বিচারের রায়ে তৎকালীন ক্ষমতাসীন বিএনপি জোট সরকারের মন্ত্রী ও সরকারের কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলে যে, ওই সরকারের প্রত্যক্ষ মদদেই হামলাটি পরিচালিত হয়েছিল।

আজ ইতিহাসের এই জঘন্যতম গ্রেনেড হামলার ১৯তম বার্ষিকী বাঙালি জাতি শ্রদ্ধাবনতচিত্তে হামলায় নিহতদের স্মরণ করবে। আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন দিনটি পালনে কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

কর্মসূচি : সকাল সাড়ে ১১টা ১৫ মিনিটে ২১ আগস্টের নারকীয় গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদ ও নিহতদের স্মরণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করবেন এবং বক্তব্য রাখবেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করার জন্য আওয়ামী লীগ এবং তার সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে হাসনা মওদুদের নেতৃত্বে পদযাত্রায় অনুসারীরা

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার দাবিতে নোয়াখালী ৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাসনা জসীম উদদীন মওদুদের নেতৃত্বে তার অনুসারীরা পদযাত্রা করেছে।

গতকাল শনিবার (১৯ আগস্ট) দুপুরের দিকে নোয়াখালী প্রেসক্লাব চত্ত্বরে আয়োজিত জেলা বিএনপির পদযাত্রা কর্মসূচিতে অনুসারীদের নিয়ে যোগ দেন তিনি।

এদিকে বেলা ১১টার দিক নিজ নির্বাচনী এলাকা (কোম্পানীগঞ্জ-কবিরহাট) থেকে হাসনা মওদুদের নেতৃত্বে মোটরসাইকেল শোডাউন করে জেলা বিএনপির পদযাত্রায় যোগ দেন ৫ শতাধিক নেতাকর্মি। পদযাত্রা জেলা শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় নেতাকর্মিরা স্লোগানের মাধ্যমে সরকারের পদত্যাগ, খালেদা জিয়ার মুক্তি ও উন্নত চিকিৎসার দাবি জানান।

এ সময় জেলা বিএনপির সদস্য মোহাম্মদ গোলাম মোমিত ফয়সাল, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মাহমুদুর রহমান রিপন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আতোয়ার হোসেন পাবেল, উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ উপস্থিত ছিলেন।

চৌদ্দগ্রামে পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু

ফখরুদ্দীন ইমন:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে আরাফাত ইসলাম ফায়াজ নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (২০ আগস্ট) সকালে উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের করপাটি গ্রামে নিহতের বাড়ির পাশের পুকুরে এ ঘটনা ঘটে। সে ওই গ্রামের মো: বাবু ও ফারজানা আক্তারের ছেলে। একমাত্র ছেলের মৃত্যুতে পুরো পরিবারে এখন শোকের ছায়া।

আরাফাত ইসলাম ফায়াজের মামা মো: মাসুম বলেন, ‘সাড়ে তিন বছর বয়সী ফায়াজ রোববার সকালে খেলার ছলে বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায়। কিছুক্ষণ পর তাকে পুকুরে ভাসমান অবস্থা থেকে উদ্ধার শেষে ডাক্তারের কাছে নেয়া হয়। পরে ডাক্তার আরাফাত ইসলাম ফায়াজকে মৃত ঘোষণা করেন। ফায়াজের মৃত্যুতে তার মা ফারজানা আক্তার শোকে বারবার মুর্ছা যাচ্ছেন। পরিবারে বইছে শোকের মাতম।

শেখ হাসিনা সরকারকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হবে: শাহজাহান

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

শেখ হাসিনাকে পদত্যাগে বাধ্য করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান। তিনি বলেন, কথা কম কাজ বেশি। বক্তৃতা নয়,আলোচনা নয়। তিনি বলেন,জনগণের থেকে আমরা যে বার্তা পাই। সেই বার্তা যদি বুঝি, তাহলে আমাদের বসে থাকার কোন সুযোগ নেই।

রোববার (২০ আগস্ট) বিকেলে নোয়াখালী প্রেসক্লাব চত্ত্বরে জোতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবকদলের ৪৩তম প্রতিষ্ঠা বাষির্কী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নোয়াখালী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল এ কর্মসূচির আয়োজন করেন।

নেতাকর্মিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধে নেমেছি, যে যুদ্ধ ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করার যুদ্ধ। যে যুদ্ধ দেশ নেত্রী বেগম খালেদাজিয়া করছেন। যে যুদ্ধ আমাদের নেতা তারেক রহমান শুরু করেছেন। যে যুদ্ধে পিছু হটার কোন সুযোগ নেই। এ যুদ্ধে অবশ্যই জয় লাভ করতে হবে।

আগামী নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জয়লাভ করার জন্য যে ক্ষেত্র, যে মাঠ, আমরা কতটুকু তৈরী করতে পেরেছি জানিনা। তবে দেশের শতকরা ৮০ ভাগ জনগণ, আমাদেরকে বিভিন্ন ভাবে বার্তা দিয়ে বলেছে, আমরা প্রস্তুত। আপনারা লড়াই শুরু করেন। আমরা আপনাদের সাথে আছি।

ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এ সরকারে উপর থেকে নিচ পর্যন্ত ভয়ে কম্পমান। আমার মনে হয় এ কাঁপুনি বন্ধ হবেনা। বিএনপি নেতাকর্মিদের গ্রেফতার করে, নির্যাতন করে কোন লাভ হবেনা। এ সমস্ত অনৈতিক কর্মকান্ড বন্ধ করে দেশের মানুষের সেন্টিমেন্টের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন। আর যদি না করেন, লড়াই করে, জীবন দিয়ে হলেও এ ফ্যাসিবাদ সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরাবো।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ছাবের আহাম্মদের সভাপতিত্বে সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি ওয়াহিদুর রহমান বানী।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, নোয়াখালী জেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম হায়দার বিএসসি, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আবদুর রহমান, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আজগর উদ্দিন দুখু প্রমুখ।

এ সময় সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সলিম উল্যাহ বাহার হিরণ, নোয়াখালী পৌরসভা বিএনপির সভাপতি আবু নাছের,সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন, বসুরহাট পৌরসভা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব নুর উদ্দিন ফাহাদ উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনাকে কুটুক্তিকারী সেই আ.লীগ নেতাকে বহিষ্কারের দাবি

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

‘আমার এলাকায় আমিই প্রধানমন্ত্রী। শেখ হাসিনা বললেও আমি শুনবো না। কাউকে গোনার টাইম নাই।’ আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কুটুক্তি ও আওয়ামী লীগকে গালমন্দকারী নোয়াখালী সদর উপজেলার দাদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিনকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার ও সাংগঠনিক শাস্তির দাবি জানিয়ে জেলা আওয়ামী লীগ বরাবর আবেদন দায়ের করা হয়েছে।

রোববার (২০ আগস্ট) দুপুরে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর এই লিখিত আবেদন করেন দাদপুর ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক আবদুল মতিন।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিম আবেদনটি আমলে নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগকে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেন।

গত ১৩ আগস্ট সকাল থেকে সদর উপজেলার দাদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিনের একটি অডিও রেকর্ড ফাঁস হয়েছে। এতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার এলাকায় আমিই প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বললেও আমি শুনবো না। কাউকে গোনার টাইম নাই।’

দাদপুর ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক আবদুল মতিন জানান, ২০১১ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দেন সাবেক ইউপি মেম্বার জহির উদ্দিন। তিনি বিভিন্ন দলের লোকজন নিয়ে এলাকায় নিজস্ব বাহিনী গড়ে তোলেন। এদের দিয়ে এলাকায় হামলা, দখল, চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্ম করে আসছেন। জহির মেম্বার বাহিনীর সদস্য রাসেল ওরফে কালা সম্প্রতি ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক নুরুল আমিনের সঙ্গে ছবি তুলে ফেসবুক পোস্ট করেন। এতে রাসেলকে ‘গুপ্তচর’ আখ্যা দিয়ে এলাকা ছাড়া করেন জহির মেম্বার। পরে রাসেল এলাকায় ফিরতে জহির মেম্বারকে ফোন দেন।

তখন জহির মেম্বার বলেন, তোমার জন্য অনেকে ফোন দিয়েছে। আমি কারও কথা শুনি না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বললেও আমি শুনবো না। আমার এলাকায় আমিই প্রধানমন্ত্রী। কাউকে গোনার টাইম নাই। তবে তুমি নুরুল আমিনকে (বিএনপি নেতা) কোপাতে পারলে এলাকায় ফিরতে পারবা। আমি তোমার নিরাপত্তাসহ পুরস্কারও দেবো। এছাড়াও ওই অডিওতে আওয়ামী লীগ এবং দলের একাধিক নেতাকে জহির উদ্দিন গালমন্দ করতে শুনা গেছে। যা পরের দিন বিভিন্ন প্রিন্ট, অনলাইন মিডিয়ায় ফলাও করে প্রচার হয়েছে। আমাদের নেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে এরুপ কুটুক্তিমূলক বক্তব্য শুনে আমি এবং আমাদের দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ সংক্ষুব্ধ হই। তাই দলীয় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে জহির উদ্দিনকে দলীয় পদপদবী থেকে বহিস্কারসহ তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান তিনি।

তবে কথোপকথনের বিষয়টি অস্বীকার করেন আওয়ামী লীগ নেতা জহির উদ্দিন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কথোপকথনের ব্যক্তি আমি নই। রাসেলকেও আমি চিনি না। আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা এডিট করে আমার কণ্ঠ বানিয়ে ছেড়ে দিয়েছে।

স্থানীয় দাদপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান শিপন বলেন, কথোপকথনের কণ্ঠ আওয়ামী লীগ নেতা জহির উদ্দিনের। সে আওয়ামী লীগের নাম বিক্রি করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। এ ঘটনার জন্য সেই রাসেলের বাড়িঘরে হামলা চালিয়েছে। জহিরের ভয়ে একালা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে রাসেল।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ খায়রুল আনম সেলিম দাদপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিনের বিরুদ্ধে লিখিত আবেদন গ্রহনের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আবেদনটি গ্রহনের পর উপজেলা আওয়ামী লীগকে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন নিয়ে বিদেশিদের এত মাথাব্যথা কেন, প্রশ্ন কাদেরের

ডেস্ক রিপোর্ট:

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, চলতি বছর বিশ্বের ২০-২২টি দেশে নির্বাচন হবে। এ নিয়ে বড় বড় দেশের কোনো কথা নেই। কিন্তু বাংলাদেশকে নিয়ে এত মাথাব্যথা কেন?

রোববার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আজ এ মুহূর্তে ইকুয়েডর ও আর্জেন্টিনায় নির্বাচন হচ্ছে। এ বছর ২০-২২টি দেশে নির্বাচন হচ্ছে। কোথাও কারো কোনো কথা নেই। শুধু বাংলাদেশ নিয়ে বিশ্বের বড় দেশগুলোর মাথাব্যথা। কারণটা কী?’

এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বাংলাদেশের ইলেকশন বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এখন বিভিন্ন দেশের এ অঞ্চলকে ঘিরে ভূরাজনৈতিক কৌশল আছে। সেখানে আমেরিকার একটা স্বার্থ আছে, ভারতেরও আছে। থাকাটা খুব স্বাভাবিক। ওদিকে চীন আছে, একটা বড় শক্তি।’

বিএনপির মূল দাবি তত্ত্বাবধায়ক সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ নিয়ে বিদেশিদের কেউ কোনো কথা বলেননি জানিয়ে তিনি বলেন, ভারত আমেরিকাকে স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতামত জানিয়েছে। আমাদের কখনো বলেনি, ‘তোমরা এই করো, সেই করো, তত্ত্বাবধায়ক করো’। তারপর নির্বাচন পদ্ধতি কিংবা প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করুক- এসব কথা আমেরিকাও বলেনি। বিএনপির দাবি- তত্ত্বাবধায়ক সরকার, প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ, সংসদ বিলুপ্ত এবং নির্বাচন কমিশন বাতিল। আমেরিকা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন কেউই এগুলো বলেনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি যেসব দাবিতে গোঁ ধরে আছে- সেসব দাবি নিয়ে আমেরিকার কোনো মাথাব্যথা নেই। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারতও এ বিষয়ে কিছু বলেনি। আমি আমেরিকার রাষ্ট্রদূতকে ব্যক্তিগতভাবে জিজ্ঞাসা করেছিলাম। তিনি বলেছেন, এসব বিষয়ে তাদের কোনো কথাই নেই। ইউরোপীয় ইউনিয়নও বলেনি যে- তত্ত্বাবধায়কের দরকার আছে। তাদের দেশে এটি নেই, দুনিয়ার কোথাও নেই।’

‘কেন বাংলাদেশে, বাংলাদেশে কেন? আসল জায়গায় পারে না। নাইজারে কী করে আমরা দেখব। নাইজারের জান্তাপ্রধান বলে দিয়েছেন, আগামী তিন বছর এসব কথাবার্তা বলে লাভ নেই। তিন বছর পর দেখা যাবে। এখন আমরাও দেখব, আমাদের দেশ নিয়ে যারা এত কিছু করে এবং এত কথা বলে- তারা নাইজারে কী করে!’

সাংবাদিকদের আরেক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা মনে করি- একজন রাজনীতিবিদের জীবনে রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগত জীবনে কোনো চ্যালেঞ্জ অনতিক্রম্য নয়। সব চ্যালেঞ্জই অতিক্রমযোগ্য। ইনশাআল্লাহ, আমরা অতিক্রম করব। জনগণের কাছে আমাদের প্রতিশ্রুতি- আমরা অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন করব। নির্বাচন আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। আমাদের সংবিধান আছে। পৃথিবীর অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে যেভাবে নির্বাচন হয়, বাংলাদেশেও সেভাবে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- সেতু বিভাগের সচিব মনজুর হোসেন, সড়ক বিভাগের সচিব এবিএম আমিন উল্লাহ নূরি, ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এমএএন সিদ্দিক, সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মইনুল হাসান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদ মজুমদার প্রমুখ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে মারধর

স্টাফ রিপোর্টার:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে পূর্ব শত্রুতার জেরে সিরাজ মিয়া (৪৪) নামের এক শারীরিক প্রতিবন্ধীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। রবিবার সকাল আটটার দিকে উপজলার তালশহর পশ্চিম ইউনিয়নের মৈশাইর আলাকপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহত সিরাজ মিয়া উপজেলার তালশহর পশ্চিম ইউনিয়নের মৈশাইর গ্রামের উত্তর পশ্চিমপাড়া এলাকার মৃত সোলায়মান মিয়ার ছেলে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি আহত প্রতিবন্ধী সিরাজ মিয়া জানান, সরাইল উপজেলার কালিগচ্ছ গ্রামের ব্রিকস ফিল্ড তার বড়ভাই সাধনের ৮ শতাংশ জায়গা রয়েছে। এ জায়গা নিয়ে দীর্ঘদিন যাবত মৃত আব্দুল হাইয়ের ছেলে মন মিয়ার সাথে বিরোধ চলে আসছিল। এ জায়গাটি জোরপূর্বক ভাবে মন মিয়া দখল করে রেখেছে। মন মিয়ার বিরুদ্ধে তার বড়ভাই সাধনে একটা মামলা করেছে। এসব বিষয় নিয়ে মন মিয়ার সাথে প্রায় ঝগড়া হতো তার। আজকে সিরাজ মিয়া বাড়ি থেকে আশুগঞ্জ যাওয়ার পথে মন মিয়া, সোহাগ, হারিজ মিয়াসহ ৭-৮ জন তাকে মারধর করে টাকা ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।

আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাহিদ আহমেদ জানান, এক প্রতিবন্ধীকে মারধরের কথা শুনেছি। হাসপাতালে ও ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নিবো।

গ্রেনেড হামলা: নিজের জীবন তুচ্ছ করে বঙ্গবন্ধুকন্যাকে রক্ষা করে আ.লীগ

স্টাফ রিপোর্টার:

নিজের জীবন তুচ্ছ করে বঙ্গবন্ধুকন্যাকে রক্ষা করে আওয়ামী লীগ এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতি বিশস্ততার প্রমাণ দিয়েছেন মেয়র মোহাম্মদ হানিফ।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের প্রত্যক্ষ মদদ এবং হাওয়া ভবনের নেতৃত্বে পরিচালিত গ্রেনেড হামলার মূল টার্গেট ছিলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা এবং তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা।

বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশের ট্রাক মঞ্চে নারকীয় গ্রেনেড হামলার সময় নিজের জীবন তুচ্ছ করে মানবঢাল রচনা করে তারই প্রিয় নেত্রী প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে রক্ষা করে আওয়ামী লীগ এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতি বিশস্ততার প্রমাণ দিয়েছেন মেয়র মোহাম্মদ হানিফ।

বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রাণে রক্ষা পেলেও মারাত্মক আহত হন মেয়র হানিফ। মস্তিষ্কসহ দেহের বিভিন্ন অংশে অসংখ্য ঘাতক স্পিন্টার ঢুকে পড়ে। দীর্ঘদিনের চিকিৎসাতেও কোনো ফল হয়নি বরং মাথার গভীরে বিধে থাকায় ও অস্ত্রোপচার করেও অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। সেই দুঃসহ যন্ত্রণা সহ্য করেই রাজনৈতিক জীবনে সক্রিয় থেকে গত ২৮ নভেম্বর ২০০৬ সালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মোহাম্মদ হানিফ।

২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট হত্যাযজ্ঞের ভয়াল দিনে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস বিরোধী সমাবেশের ট্রাক মঞ্চে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার ওপর নারকীয় গ্রেনেড হামলার সময় নিজের জীবন তুচ্ছ করে মানবঢাল রচনা করে তার প্রিয়নেত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে রক্ষা করে আওয়ামী লীগ এবং বঙ্গবন্ধুর প্রতি বিশস্ততার প্রমাণ দিয়েছেন মেয়র মোহাম্মদ হানিফ।