All posts by jitu

পরপর বিস্ফোরণের পেছনে সরকারের গাফিলতি : মির্জা ফখরুল

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

রাজধানীতে পরপর দুটি বিস্ফোরণের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এর নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ মঙ্গলবার রাতে এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব এই দাবি জানান।

তিনি বলেন, ‘‘এসব বিস্ফোরণের ধরন প্রায় একই রকম হওয়ায় জনমনে সন্দেহ বাড়ছে। এসব ঘটনা পরিকল্পিত কিনা তাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। আমি মনে করি এর পেছনে সরকারের গাফিলতি ও ব্যর্থতাও রয়েছে।”

‘‘এ সরকারের আমলে মানুষের জীবনের কোনো মূল্য নেই। তাই একের পর এক ঘটনা ঘটলেও সরকার ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনা ঠেকাতে পারছে না। আমি বিস্ফোরণ ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করছি।”

একই সঙ্গে বিস্ফোরণের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ এবং আহতদের সুচিকিৎসার দাবি জানান বিএনপি মহাসচিব। গুলিস্তানে বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহতদের প্রতি শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘সারা দেশে একের পর এক বিস্ফোরণের ঘটনা রহস্যজনক। বিকেলে গুলিস্তানে বিআরটিসি বাস কাউন্টারের পাশের একটি ভবনে বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৬ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ১০০ জন আহত হয়েছেন। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।”

‘‘এর আগে ঢাকার সায়েন্স ল্যাব এলাকায় একটি ভবনে বিস্ফোরণে তিনজন নিহত হন। তার আগে গত শনিবার চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সীমা অক্সিজেন লিমিটেডে বিস্ফোরণ ও আগুন লেগে এ পর্যন্ত সাতজন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন অনেকে। গত কয়েক দিনে বিস্ফোরণের ঘটনায় ২৫ জনের অধিক লোক মৃত্যবরণ করেছে। এসব অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ও বহু হতাহতের ঘটনায় দেশবাসীর মতো আমিও গভীরভাবে শোকাহত।”

ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে ওই ভবনে বিস্ফোরণের পর ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট সেখানে উদ্ধার কাজে নিয়োজিত রয়েছে।

গুলিস্তানে বিস্ফোরণ: রোজাদার মায়ের জন্য ইফতার আনতে গিয়ে লাশ হলেন সুমন

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

মায়ের জন্য ইফতার আনতে গিয়ে গুলিস্তান এলাকায় বিস্ফোরণে সুমন নামে এক কাতার প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত সুমন গুলিস্তানের বংশালের সুরিটোলার বাসিন্দা।

মঙ্গলবার (৭ মার্চ) সন্ধ্যায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুমন মারা যান।

সুমনের মা সালমা জানান, সুমন ১০ দিন আগে কাতার থেকে বাংলাদেশে আসেন। বিকেলে ইফতার আনার জন্য গুলিস্তান এলাকায় যায় সে। এ সময় বিস্ফোরণ ঘটলে সুমন গুরুতর আহত হন। পরে ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুমন মারা যান।

এদিকে গুলিস্তানে বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ডের পাশে বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত অন্তত শতাধিক। যাদের নেয়া হয়েছে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে। নর্থ সাউথ রোডের ১৮০ বাই ১ ঠিকানার সাত তলা বাণিজ্যিক ভবনে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

তবে বিস্ফোরণের কারণ এখনও জানা যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া কর্মকর্তা শাহজাহান শিকদার জানান, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১১টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
হতাহতের বিষয়ে জানতে চাইলে শাহজাহান শিকদার জানান, হতাহতের বিষয় এখনই বলা যাচ্ছে না। আমরা কাজ করছি।

এবার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপলো ফিলিপাইন

 

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

ভূমিকম্পে কাঁপলো দক্ষিণ ফিলিপাইন। আজ মঙ্গলবার দেশটিতে ৬ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ এ তথ্য জানিয়েছে। খবর এনডিটিভির।

এই নিয়ে দেশটির স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আফটারশক এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বাসিন্দাদের সতর্ক করেছেন। দেশটির স্থানীয় সময় দুপুর ২ টায় মিন্দানাও দ্বীপের দাভাও দে ওরোর পাহাড়ি সোনার খনির প্রদেশের মারাগুসান পৌরসভা থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে এ ভূমিকম্প আঘাত হানে।

এ ধরণের ভূমিকম্পগুলো গভীর ভূমিকম্পের চেয়ে বেশি ক্ষতি করে, তবে তাৎক্ষণিকভাবে বড় ক্ষয়ক্ষতির কোনো নিশ্চিত রিপোর্ট পাওয়া যায় নি।

মারাগুসানের দুর্যোগ অফিসের একজন কর্মচারী এএফপিকে জানায়, কর্তৃপক্ষ একটি জাতীয় সড়কে ভূমিধসের কারণ পরীক্ষা করছে। তিনি আরও বলেন,আমরা অন্য কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাইনি, তবে শহরের আশেপাশের গ্রামগুলো পরীক্ষা করছি, অফিসে জিনিসগুলি কেঁপে উঠল তবে কোনও ক্ষতি হয়নি।”

একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানায়, ভূমিকম্পটি প্রায় ৩০ সেকেন্ড স্থায়ী হয়েছিল এবং তার পরে আফটারশক হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, আমরা আমাদের ডেস্কের নিচে ছিলাম এবং যখন কাঁপা বন্ধ হয়ে গেলো তখন আমরা সরাসরি বাইরে চলে গেলাম।

নোয়াখালীতে মাদ্রারাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ, আটক ১

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর হাতিয়ায় ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ুয়া মাদ্রাসায় এক ছাত্রীকে ধর্ষনের অভিযোগে উঠেছে আরিফ উদ্দিন (২২) ও তার দুই সহযোগীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় হেজু নামে একজন কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৭ মার্চ) সকালে এ বিষয়ে হাতিয়া থানায় ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে ৩ জনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন ধমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হাতিয়া উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের শরীফ মার্কেটের পাশে পরিত্যাক্ত একটি বাড়িতে ধর্ষণের এ ঘটনা ঘটে। মামলার ১নং আসামী আরিফ উদ্দিন (২২) হাতিয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষীদিয়া গ্রামের আবুল খায়েরের ছেলে। সহযোগী মো: হারুন (২৮) বুড়িরচর ইউনিয়নের ৯নম্বর ওয়ার্ডের কালীরচর গ্রামের মো: হেজু মাঝির ছেলে।
আটক অপর সহযোগী অটো রিক্সা চালক মো: হেজু (২৬) বুড়িরচর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কালীরচর গ্রামের মো: নুরুল আমিরে ছেলে।

মামলার বাদী মাদরাসা ছাত্রীর বাবা বলেন, আমার মেয়ে হাতিয়া দারুল উলুম কামিল মাদ্রাসার ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়ে। গত বৃহস্পতিবার সকালে সে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে ১ ও ২ নং বিবাদী আরিফ, হারুন মাদ্রাসার সমানে আসিয়া তাকে ফুসলাইয়া প্রলোভন দেখাইয়া ৩ নং বিবাদী হেজুর অটো রিক্সা করিয়া প্রথমে লালচর তারপর কমলার দিঘীর এলাকায় গুরাগুরি করিয়া সন্ধ্যার সময় শরিফ মার্কেটের পাশে পরিত্যাক্ত একটি বাড়ীতে নিয়া আটক করে। এসময় হারুন ও হেজুর সহযোগীতায় আরিফ আমার মেয়েকে জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণ করেন।

তিনি আরো জানান, পরের দিন সকালে তারা আমার মেয়েকে বুড়িরচরের ধনুমার্কেট আমার মেয়ের বান্দবীর বাড়ীর সামনে রেখে যায়। তাকে চট্টগ্রাম নিয়ে বিয়ে করার প্রলোভন দেখার এবং ধর্ষণের কথা কাউকে বলতে নিষেধ করে, করলে তার অনেক বড় ক্ষতি করে পেলেবে বলে হুমকি দেয়। পরে মেয়ে বাড়িতে আসলে তাকে জিজ্ঞাসা করলে সে তার মায়ের কাছে ঘটনাটি বলে। তখন আমার স্ত্রী আমাকে বিষয়টি জানালে আমি চট্টগ্রাম থেকে এসে সমাজের সকলকে জানায়, পরে সবার পরামর্শে থানায় মামলা করি।

এ বিষয়ে হাতিয়া থানা ভরিপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমির হোসেন বলেন, এ ঘটনায় মেয়ের বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছে। মামলার ৩নং আসামী হেজুকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। ভিকটিমকে মেডিকেল পরিক্ষার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

 

দিপ্তকন্ঠে বলিষ্ঠ চিত্তে কবি শুনিয়েছিলেন ৭ মার্চের ভাষণ

ইউসুফ পাটোয়ারী লিংকনঃ

৭ই মার্চ ভাষা আন্দোলনের প্রান পুরুষ, ছয়দফার উপস্থাপক, গন অভ্যুর্থানের মহানায়ক, শৃঙ্খলিত জাতীর মুক্তিদুত, জনগণ মননন্দিত রাজনীতিবিদ, বঞ্চিত বাঙালীর স্বাধীনতা আন্দোলনের মূর্তপ্রতীক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতীকে দিক নির্দেশনা দিয়ে ভাষণ দিয়ে ছিলেন “এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম”।

বঙ্গবন্দুর ৭ই মার্চের ভাষণ ও মুক্তিযুদ্বঃ-

আমরা যদি বিস্তারিত ভাবে বঙ্গবন্দুর সেই ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ একটু বিশ্লেষণ করি, তবে দেখব, স্বাধীনতার ঘোষণা কত দিপ্তকন্ঠে বলিষ্ঠ চিত্তে সুনিয়ছিলেন।

বঙ্গবন্দু ৭ই মার্চে বললেন, “আজ বাংলার মানুষ মুক্তি চায়, বাংলার মানুষ বাঁচতে চায়, বাংলার মানুষ তাঁর অধিকার চায়”। এমনটি করে হ্নদয়দিয়ে, খুব কাছে থেকে বাংলার মানুষকে আর কেউ কোনদিন চিনতে পারছিলেন কিনা আমাদের জানা নেই। দলমতের উর্দ্বে উঠে বাঙালী জাতির আকাঙ্ক্ষাকে আন্তরিক ভাবে উপলব্দি করে একটি অভীষ্ট লক্ষে জাতীকে এগিয়ে নিয়ে গিয়ে ছিলেন। তিনি বললেন বাংলার মানুষ ‘মুক্তি চায়’ ‘বাঁচতে চায়’ ‘অধিকার চায়’। ‘মুক্তি-বাচা-অধিকার’ এ তিনটি সব্দের ভেতরে পরোক্ষ ভাবে লুকিয়ে আছে স্বাধীনতার অতৃপ্ত আকাঙ্খা। বস্তুতঃ তিনি আমাদের অতৃপ্ত আকাঙ্ক্ষাকে বজ্রকন্ঠে শাসকের রাজ্যে নির্ভয়ে সেদিন লক্ষ বাঙ্গালীর সামনে ঘোষণা করেন।

আরো বললেন, “—-আমার ছেলেদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে”। এখানে ‘আমার’ শব্দটির ব্যবহার অত্যন্ত তাৎপর্যপুর্ন। তিনি ‘আমাদের’ সব্দটিও ব্যবহার করেন নাই। ‘আমাদের’ শব্দটি ব্যবহার করলে হয়ত বুঝা যেত তিনি প্ল্যাটফর্মের উপর দাঁড়িয়ে আছেন। কিন্তু না, সন্তান তুল্য মনে করে ভাবলে’ বুঝলে এবং ভালবাসলেই কেবল ‘আমার’ শব্দটি দিয়ে সম্ভোধন করা সম্ভব হয়। ‘একনেতা একদেশ বঙ্গব্দু বাংলাদেশ’ এই শ্লোগানটি যতার্থ ছিল কেবল এমন সম্ভোধন হতে পারে।

“আমি বললাম, এসেম্বলীর মধ্যে আলোচনা করবো –এমনকি আমি এ পর্যন্তও বললাম, যদিকেউ ন্যায্য কথা বলে, আমরা সংখ্যায় বেশী হলেও একজনও যদি হয় তাঁর ন্যায্য কথা আমরা মেন নেব”। Absolute Majority  ‘এর গর্বে তিনি মোটেও গর্বিত ছিলেন না। বঙ্গবন্ধু বিরোধী দলের একজনের ন্যায্য কথাও মেনে নেওয়ার অঙ্গীকার করছিলেন।

“আমি বললাম শান্তিপূর্ণ ভাবে হরতাল পালন করুন” হরতাল যদি সেদিন সান্তিপুর্ন ভাবে না করতে পারতেন, তবে সামরিক সরকার ঘটনাকে অন্যখাতে ঠেলেদিতেন। আন্দোলন সান্তিপুর্ন হলেই কেবল অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌছানো যাবে, এ দীক্ষা তিনি সেদিন জাতিকে শুনিয়েছিলেন।

“আমি প্রধানমন্ত্রীত্ব চাইনা। আমি এ দেশের মানুষের অধিকার চাই”। জেনারেল ইয়াহিয়া খান তাঁকে পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী বলে সম্ভোধন করার পরেও, পুলকিত হয়ে বাংলার জনগণের অধিকারকে উপেক্ষা করতে পারেননি। পারেননি আপোষের চিন্তা করতে। পরবর্তি কালে, ২৫শে মার্চের পর বেতার ভাষণে জেনারেল ইয়হিয়া খাঁন তাঁকে জেলে ঢুকিয়ে বললেন, ।“আমি তাঁকে পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী বলে সম্ভোধন করার পরেও তাঁর মাঝে কোন উৎসাহ দেখিনি, তিনি বাঙালীদের নেতা হতেই বেশী পছন্দ করতেন”। এমন লোভ- প্রলোভান বহুবার বঙ্গবন্ধুর জীবনে এসেছিল। তিনি আপোষ করেননি। আগরতলা মামলায় যখন তাঁকে প্যারোলে মুক্তির প্রস্তাব আসে তিনি সরাসরি তা প্রথ্যাখ্যান করেন। এদেশের মানুষের অধিকারের চেয়ে প্রধানমন্ত্রীত্ব তাঁর কাছে কোন সময়ই বড় ছিল না।

“আর যদি একটা গুলি চলে, আর যদি আমার লোককে হত্যা করা হয় – তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ রইল প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল”। বঙ্গবন্ধু নিশ্চিত ভাবে জানতেন খুব শীঘ্রই ষড়যন্ত্র করে তাঁকে হত্যা করা হতে পারে। তাই তিনি‘রইল’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। অর্থাৎ তিনি যে আর আমদের মাঝে থাকতে পারবেন না কিংবা শত্রুরা তাঁকে থাকতে দিবে না তা’ তিনি নিশ্চিতভাবে অনুমান করেছিলেন। তাই অনুরোধটি ‘রেখে’ যেতে চাইলেন। তাঁর এ অনুমান পরবর্তিতে অক্ষরে অক্ষরে সত্য হয়েছিল তা আমরা সকলেই জানি।

তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুদের মোকাবেলা করতে হবে এবং জীবনের তরে রাস্তাঘাট যা যা আছে সব কিছু- আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি, তোমরা বন্দ্ব করে দেবে”। তাঁর নিরস্র মানুষগুলি আক্রান্ত হলে, ওরা কি ভাবে শত্রুকে মোকাবেলা করবে তাঁর সুস্পষ্ট নির্দেশ এখানে আছে। বঙ্গবন্ধু যদি নাও থাকেন, তাহলে বাংলার মানুষ কি করবে তাঁর সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা এখানে রয়েছে। আজ তথাকথিত অনেক ভুইফোর বুদ্বিজীবি বলে থাকেন বঙ্গবন্ধু আমাদের কোন দিকনির্দেশনা না দিয়েই তিনি পাকিস্তানীদের হাতে আত্নসমর্পণ করেন। তাদের চোখে আঙ্গুলদিয়ে দেখিয়ে দিতে চাই তারা কত নির্বোধ এবং অজ্ঞ। ইচ্ছে করেই সত্যকে লুকিয়ে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে থাকেন।

“—সাত কোটি মানুষকে দাবায়া রাখতে পারবা না। আমরা যখন মরতে শিখেছি তখন কেউ আমাদের দাবাতে পারবে না।“। এখানে তিনি শত্রু পক্ষকে উদ্দেশ্য করে জাতিকে আত্নপ্রত্যয়ে আরো বলীয়ান করার মানষে এমনটি বলেছিলেন। যে জাতি চিরকাল গোলামীর শৃঙ্খলে বন্দী ছিল, সেই ভীতু জাতিকে তিনি তিলে তিলে জাগিয়ে তোলেন। আন্দোলন শেখান, সংগ্রাম শেখান, ত্যাগ শেখান তার পর শেখান আত্নত্যাগ। শেখান কি করে বুকের রক্ত ঢেলে আন্দোলনাকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়। যখন দেখলেন তাঁর সন্তানেরা আত্নপ্রত্যয়ে জীবন দেয়ার জন্য প্রস্তুত, তখনই লক্ষ জনতার সামনে ঘোষণা করলেন ‘আমারা যখন মরতে শিখেছি তখন কেউ আমাদের দাবাতে পারবে না’। তিনি নিশ্চিত ছিলেন তিনি জয়ী হবেন।

“মনে রাখবেন, শত্রুবাহিনী ঢুকেছে, নিজেদের মধ্যে আত্নকলহ সৃষ্টি করবে, লুটতরাজ করবে। এই বাংলায় হিন্দু-মুসলমান, বাঙালী- ননবাঙালী যারা আছেন তারা আমাদের ভাই। তাদের রক্ষার দায়ীত্ব আপনাদের ওপর, আমাদের যেন বদনাম না হয়”। তাঁর অসাম্পদায়িক আদর্শ আজ আওয়ামীলীগ লালন করে চলছে। পাক জান্তারা জাতিগত ও সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টি করে আমাদেরকে যেন লক্ষ্য অর্জনে বিচ্যুত করতে না পারে তাই ছিল তাঁর সতর্ক আহবান।

-ইউসুফ পাটোয়ারী লিংকন

কাতার প্রবাসী লেখক ও সাংবাদিক

চান্দিনায় ৭ মার্চ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য আনন্দ র‌্যালী

চান্দিনা প্রতিনিধি:

কুমিল্লার চান্দিনায় ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য আনন্দ র‌্যালী বের করা হয়। মঙ্গলবার (৭ মার্চ) বিকেলে কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্তের নেতৃত্বে উপজেলা সদরে ওই র‌্যালী বের হয়।

র‌্যালিটি চান্দিনা উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শুরু হয়ে থানা কার্যালয়ের সামনে দিয়ে সদরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মোকামবাড়ী শাহী ঈদগাহ্ মাঠে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সভায় দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তৃতা করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত এমপি।

এসময় তিনি পবিত্র শব-ই বরাত এর রাতে দেশের উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখা, শান্তি প্রতিষ্ঠা সহ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং উনার পরিবারের সদস্যদের জন্য দোয়া করার জন্য উপস্থিত সকলের নিকট অনুরোধ করেন। এছাড়া তিনি আওয়ামীলীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থের জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন। পরে উপজেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে ৭ই মার্চের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

র‌্যালিতে আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, কৃষকলীগ সহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ গ্রহণ করেন। পনের সহ¯্রাধিক নেতা-কর্মীর অংশ গ্রহণে বর্ণাঢ্য ওই র‌্যালীতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মো. মজিবুর রহমান, জেলা পরিষদ সদস্য অধ্যাপক বজলুর রহমান, চান্দিনা পৌর আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র মো. মফিজুল ইসলাম, উপজেলা কৃষকলীগ সাবেক সভাপতি ও মাইজখার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শাহ্ সেলিম প্রধান, উপজেলা কৃষকলীগ সভাপতি মো. মনির খন্দকার, সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান, কুমিল্লা উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সাধারণ সম্পাদক মো. লিটন সরকার, চান্দিনা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগ আহবায়ক কাজী আখলাকুর রহমান জুয়েল, ব্যবসায়ী নেতা মো. শামীম হোসেন, যুব মহিলা লীগ সভাপতি রুবি আক্তার প্রমুখ।

গুলিস্তানে ভবনে বিস্ফোরণের ঘটনায় নিহত ৪

ডেস্ক রিপোর্টঃ

রাজধানীর গুলিস্তানে একটি সাততলা ভবনের নিচতলায় বিস্ফোরণের ঘটনায় এ পর্যন্ত চারজন নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর ভবন থেকে আটজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ মার্চ) বিকেলে ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (মিডিয়া সেল) মো. শাহজাহান শিকদার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘বিস্ফোরণের পর খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। প্রথমে পাঁচটি ইউনিট উদ্ধারকাজে যোগ দেয়। বর্তমানে সাতটি ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করছে। এ পর্যন্ত আমরা চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছি। এছাড়া ভবন থেকে অন্তত আটজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।’

মঙ্গলবার (৭ মার্চ) বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটের দিকে গুলিস্তানে বিআরটিসি বাসস্ট্যান্ড কাউন্টারের পাশে একটি সাততলা ভবনে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত অন্তত ৪০ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাপসাতালে নেওয়া হয়েছে। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

নোয়াখালীতে মাংস-ডিমের বাজারে অভিযান

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে উপজেলায় মাংস -ডিমের বাজারে অভিযান চালিয়েছে ভোক্তা অধিকার অধিদফ্তর । এ সময় ৭টি প্রতিষ্ঠানকে ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড করা হয়। মঙ্গলবার (৭মার্চ) সকালের দিকে উপজেলার চৌমুহনী বাজারের গোলাবাড়ি রোড এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

জানা যায়,উপজেলার চৌমুহনী বাজারের গোলাবাড়ি রোড এলাকায় মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় শাহজাহান ব্রয়লারকে ৩ হাজার টাকা, রনি মাংসের দোকানকে ১ হাজার টাকা,আব্দুর রব এন্ড সন্সকে ১হাজার টাকা,হাজী সফিউল্লাহ এন্ড ব্রাদাসকে ১হাজার টাকা,ফাতেমা পোল্ট্রিকে ২হাজার টাকা, নুরুল ইসলাম মাংসের দোকানকে ১ হাজার টাকা এবং জান্নাত ব্রয়লারকে ১ হাজার টাকা অর্থদন্ড আরোপ করা হয়।

এসব তথ্য নিশ্চিত করেন নোয়াখালী ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. কাউছার মিয়া। তিনি বলেন, অভিযানে অসাধু ব্যবসায়ীদের ভবিষ্যতের জন্য সতর্ক করা হয়েছে। বাজার স্থিতিশীল রাখতে ভোক্তা অধিদপ্তরের অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ সময় অভিযান পরিচালনায় সহযোগিতা করেন জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর এবং চৌমুহনী পুলিশ ফাঁড়ির একটি টিম।

নোয়াখালীতে জিনের বাদশা আটক

 

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ থেকে এক প্রতারক জিনের বাদশাকে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

আটক শহীদুল ইসলাম ওরফে সহিদ উল্যা (৫০) উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের অনন্তপুর গ্রামের মুনার বাড়ির মৃত আব্দুল হাশেমের ছেলে।

মঙ্গবার (৭ মার্চ) দুপুরে আসামিকে বিচারিক আদালতে সোপর্দ করা হয়। এর আগে, গতকাল সোমবার বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার একলাশপুর ইউনিয়নের অনন্তপুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাকে আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, গতকাল বিকেল ৫টার দিকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পাতানো ফাঁদে ভন্ড প্রতারক জিনের বাদশা আটক করা হয়। জান্নাত আরা বেগম নামে এক গৃহবধূর থেকে প্রতারক সহিদ জিনের ভয় দেখিয়ে ঝাড়ফুঁক, কবিরাজির কারসাজি করে প্রতারণামূলকভাবে ৮ লক্ষ ১৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এবং ডিবির পাতানো ফাঁদে অভিযুক্ত সহিদকে তার বাড়ি থেকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত জিনের বাদশা অর্থ আত্মসাৎ করার বিষয়টি স্বীকার করেন।

নোয়াখালীল পুলিশ সুপার (এসপি) মো.শহীদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে সুধারামা থানায় মামলা করেছেন। আসামিকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে বিচারিক আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

কুমিল্লা নগরীর কিশোর গ্যাং লিডার পয়েন্ট রাব্বি গ্রেফতার

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লা নগরীর কিশোর গ্যাং লিডার ফজলে রাব্বি ওরফে পয়েন্ট রাব্বিকে (২৭) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৭ মার্চ) ভোরে নগরীর অশোকতলা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কান্দিরপাড় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক তপন বাকচি।

গ্রেফতার পয়েন্ট রাব্বির বাড়ি চাঁদপুর জেলার শাহারাস্তি উপজেলার নরহ গ্রামে। তবে সে দীর্ঘ দিন ধরে নগরীর অশোকতলা এলাকায় বসবাস করছে।

গ্রেফতার পয়েন্ট রাব্বির একটি কিশোর গ্যাং রয়েছে। তার গ্যাংয়ের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে নগরীর ঠাকুরপাড়া, অশোকতলা, গোবিন্দপুর এলাকায় চুরি ছিনতাইসহ নানান অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করছে।

সোমবার রাতেও পয়েন্ট রাব্বি ও তার সহযোগীরা মিলে তিন-চারজন কিশোরকে কুপিয়েছে। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ গিয়ে নগরীর অশোকতলা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে।

কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহমেদ সনজুর মোর্শà§