All posts by jitu

মেসিকে হুমকি দিয়ে গুলি ছুড়ল দুর্বৃত্তরা

 

স্পোর্টস ডেস্কঃ

আর্জেন্টিনার রোজারিওতে লিওনেল মেসির শ্বশুর-শাশুড়ির মালিকানাধীন একটি সুপার মার্কেটে হামলা চালিয়েছে বন্দুকধারীরা। পুলিশ বলেছে, হামলাকারীরা কার্ডবোর্ডের একটি চিরকুটে মেসির উদ্দেশ্যে হুমকিবার্তাও রেখে গেছে। লেখা ছিল, ‘মেসি, আমরা তোমার জন্য অপেক্ষা করছি। জাভকিন একজন মাদক ব্যবসায়ী। সে তোমার দেখাশোনা করবে না।’

পিএসজি ফরোয়ার্ডকে দেয়া হুমকিতে যে ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা হয়েছে তিনি রোজারিওর মেয়র পাবলো জাভকিন। আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্সের উত্তরে ৩০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত স্থানটি সান্তা ফে কেন্দ্রীয় প্রদেশের বৃহত্তম শহর।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় ভোরে রোজারিওর লাভালে জেলায় অবস্থিত খাবারের দোকান ‘ইউনিকো’র শাটার এবং সামনের দরজায় ১৪টি গুলি চালানো হয়। বন্দুকধারীদের এ হামলার ঘটনায় তদন্ত চলছে। কোনো হতাহত না হলেও ঠিক কেন হামলার ঘটনা ঘটেছে তা স্পষ্ট নয়।

দুটি প্রীতি ম্যাচ খেলার জন্য জাতীয় দলে যোগ দিতে চলতি মাসের শেষদিকে মেসি আর্জেন্টিনা যেতে পারেন। এরআগে এলএম টেনকে দেয়া হল হুমকি। সেই দুই ম্যাচের একটি আবার হবে রোজারিওতে।

হামলার পর মেয়র জাভকিন রোজারিওতে সহিংসতা বৃদ্ধি, শহরে পুলিশের ঘাটতি এবং সুরক্ষার অভাব সম্পর্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এরআগে তিনি চলতি সপ্তাহের শুরুতে সুরক্ষার অভাব এবং অপরাধ বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে শহরে আরও পুলিশ কর্মকর্তা দরকার জানিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছিলেন।

ক্ষমতাসীন পেরোনিস্ট জোটের বিরোধী বাম রাজনীতিবিদ জাভকিন। অপরাধী চক্রের পাশাপাশি ফেডারেল নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের উপরও হামলায় জড়িত থাকার ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি। বলেছেন, ‘আমি প্রত্যেককে সন্দেহ করি, এমনকি আমাদেরকে যাদের রক্ষা করার কথা তাদেরও।’

‘আমাদের রক্ষা করা যাদের দরকার তারা কোথায়? এটা স্পষ্ট, যাদের কাছে অস্ত্র আছে এবং অপরাধীদের বিষয়ে তদন্ত করার কথা, তারা এটা করছে না। যেকোনো গ্যাংয়ের পক্ষে এরকম কিছু করা খুব সহজ।’

সান্তা ফে প্রদেশের বিচারমন্ত্রী সেলিয়া অ্যারেনা হামলার ঘটনাটিকে একটি মাফিয়া গোষ্ঠীর কাজ বলে অভিহিত করেছেন। বিপুল সংখ্যার মানুষকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানো হয়েছে বলেছেন।

বিরোধী রাজনীতির কর্মীরা রোজারিওতে অব্যাহত সহিংসতার জন্য রাষ্ট্রপতি আলবার্তো ফের্নান্দেজের প্রশাসনকে দায়ী করেছেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি মাউরিসিও ম্যাক্রি হামলার ঘটনাগুলোকে একটি সতর্কতা হিসাবে চিহ্নিত করেছেন। তার মতে, দেশ মাদক পাচারকারীদের সঙ্গে সহাবস্থান করতে পারে না।

চান্দিনায় ১১ লক্ষাধিক টাকা ব্যায়ে ২টি উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন

 

চান্দিনা প্রতিনিধিঃ

কুমিল্লার চান্দিনায় গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচীর আওতায় গল্লাই ইউনিয়নে ১১ লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে দুই প্রকল্প উদ্বোধন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) সকাল থেকে দিনব্যাপী ওই ইউনিয়নের কংগাই গ্রামে ২টি সংস্কার কাজ উদ্বোধন করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত এমপি।

দুপুর ১টায় ৭ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে কংগাই রুহুল আমিন মেম্বারের ডীপ মেশিন হতে সীমার খালের সুইচ গেইট পর্যন্ত কাঁচা রাস্তা এবং বিকাল ৪টায় সাড়ে ৮ মে.টন চালের বিপরীতে কংগাই উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ সংলগ্ন পুকুরে রিটার্নিং দেয়াল ও মাঠ ভরাট কাজের উদ্বোধন করেন তিনি। এসময় দোয়া ও মোনাজাত শেষে কংগাই উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত খ্যাতনামা চিকিৎক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক ড. প্রাণ গোপাল দত্ত এমপি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তাপস শীল, উপজেলা প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা দেবেশ চন্দ্র দাস, গল্লাই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল করিম দর্জিসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

পরে কর্মী সমাবেশে গল্লাই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল করিম দর্জি’র সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন জেলা পরিষদ সদস্য অধ্যাপক বজলুর রহমান, কেরণখাল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সুমন ভ‚ইয়া, গল্লাই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সিনিয়র সহ-সভাপতি আকামত আলী, সহ-সভাপতি সালাম সরকার, সাবেক ওয়ার্ড সভাপতি তৈয়ব আলী প্রধান, সাবেক ইউপি সদস্যর গৌরাঙ্গ দাস, আওয়ামী লীগ নেতা অবসরপ্রাপ্ত বিডিআর সদস্য মো.সফিকুল ইসলাম, আবদুল জব্বার মাস্টার।

এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- এতবার পুর ইউপি চেয়ারম্যান মো.ইউসুফ, জোয়াগ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক আবদুস ছালাম সওদাগর, উপজেলা আওয়ামী লীগ তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক মো.নজরুল ইসলাম সুমন, কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রলীগ সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বাহাউদ্দীন সোহাগ, যুবলীগ নেতা মো.করিম সোহেল প্রমুখ।

কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে কুরআন রাখা যুবকের কারাদণ্ড

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

কুমিল্লায় পূজামণ্ডপে কুরআন রেখে সাম্প্রদায়িক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ঘটনায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা মামলায় মো. ইকবাল হোসেনের এক বছর চার মাস কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ এম জুলফিকার হায়াত এ কারাদণ্ড দেন।

জানা গেছে, আজ মামলাটি সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ধার্য ছিল। মামলার বাদী টঙ্গী পূর্ব থানার এসআই রাজীব হোসেনসহ ৫ জন সাক্ষ্য দেন। ইকবাল হোসেনের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

আদালত তার কাছে জানতে চান, সাক্ষীদের জেরা করবেন কি না? তখন ইকবাল বলেন, ‘আমি আর কী জেরা করবো স্যার। আমি আমার দোষ স্বীকার করছি। আমি অনুতপ্ত। আমি আর অপরাধ করবো না।’ এরপর আদালত দোষী সাব্যস্ত করে তাকে এ কারাদণ্ড দেন।

এর আগে এ মামলার আরেক আসামি রোকন মিয়াও দোষ স্বীকার করেন। আদালত তার কারাভোগকেই সাজা হিসেবে প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, দুর্গাপূজার মধ্যে ২০২১ সালের ১৩ অক্টোবর কুমিল্লা শহরের নানুয়া দীঘির পাড়ে একটি পূজামণ্ডপে ‘কুরআন অবমাননার’ কথিত অভিযোগ তুলে কয়েকটি মন্দিরে হামলা-ভাঙচুর চালানো হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, ১৩ অক্টোবর ভোরে নানুয়া দীঘির ওই পূজামণ্ডপে থাকা হনুমানের মূর্তির কোলে মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআন রাখা ছিল। তখন হনুমানের মূর্তির হাতে থাকা গদাটি পাওয়া যায়নি।

এ ঘটনায় গাজীপুরের টঙ্গী পূর্ব থানার এসআই রাজীব হোসেন মামলাটি করেন। মামলাটি তদন্ত করে একই থানার সাব-ইন্সপেক্টর অহিদ মিয়া রোকন মিয়া ও ইকবাল হোসেনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

গত বছর ২৯ জুন দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।

নোয়াখালীতে প্রশাসনের নাম ভাঙিয়ে ফসলি জমির মাটি বিক্রির উৎসব

 

নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় ভূমি আইনকে অমান্য করে তিন ফসলি জমির মাটি দিনে ও রাতে বিক্রি করেই চলছে অসাধু মাটিখেকোরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সারা বছরই এসব মাটিখেকোরা তাদের অবৈধ মাটি বিক্রির ব্যবসা দিনে ও রাতে চালিয়েই যাচ্ছে। মাটি খেকোদের উৎপীড়নে দিশাহারা হয়ে উঠেছে ফসলি জমির মালিক ও কৃষকরা। এ ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করছে কৃষি সংশ্লিষ্ট সচেতন মহল।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ধানশালিক ইউনিয়ন, বাটইয়া ইউনিয়ন, ঘোষবাগ ইউনিয়ন, ধানসিঁড়ি ইউনিয়ন, সুন্দল পুর ইউনিয়ন, চাপরাশিরহাট, নরোত্তম পুর ইউনিয়ন ও কবিরহাট পৌরসভাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গায় চলছে অবৈধ ভাবে দিনে ও রাতে ফসলি জমির মাটি বিক্রয়ের মহা উৎসব।

 

বিশেষ করে ধানশালিক ইউনিয়ন এর জনতা বাজারের গোলাপ নবী এন্টারপ্রাইজ এর প্রোপ্রাইটর মো. মিয়া ড্রাইভার, তার ছেলে ভোলন ড্রাইভার ও সামছুল হক সিন্ডিকেট কয়েক বছর যাবত বিভিন্ন এলাকার মাটি বিক্রি করেই চলছে ইটভাটার মালিকদের কাছে। শত-শত বিঘা কৃষি জমির মাটি বিক্রি করে দিয়ে আবাদি জমি ধ্বংস করে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অংকের টাকা। এই উপজেলায় মাটিখেকো নামে বহুল পরিচিত বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গ্রুপ রয়েছে। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে পুরো উপজেলার ফসলি জমি।

এলাকাবাসীরা বলেছেন, মাছ চাষের কথা বলে পুকুর খনন করে শতাধিক বিঘা আবাদি কৃষি জমির মাটি ভেকু দিয়ে কেটে বিভিন্ন ইট ভাটা ও স্থাপনা নির্মাণকারীদের কাছে বিক্রি করছে মাটি বিক্রেতা চক্রটি। অন্য দিকে বড় চাকার ড্রাম ট্রাক্টর দিয়ে মাটি নেয়ার ফলে অধিকাংশ গ্রামীণ কাঁচা-পাকা সড়কের বেহাল অবস্থা হয়ে গেছে।

এ বিষয়ে ধানশালিকের অটোরিকশা চালক সুজন ও ঘোষবাগের সিএজি চালক হাসানসহ একাধিক চালক বলেন, রাস্তাঘাট যতই ঠিক করা হোক না কেন তাতে কোনো লাভ নেই, কারণ মাটি বিক্রি বন্ধ না হলে ড্রাম ট্রাক্টর চলাচল বন্ধ হবে না। ড্রাম ট্রাক্টরের কারণে পাকা সড়কের পিচ উঠে যাচ্ছে এবং গর্ত সৃষ্টি হচ্ছে। কাঁচা সড়ক ভেঙ্গে বড় বড় গর্ত হয়, যা দেখার ও বলার কেউ নেই।

ভুক্তভোগী কৃষক ধানশিঁড়ি গ্রামের রহমত মিয়া ও বাটইয়া গ্রামের মো. হোসেন বলেন, ফসলি জমির মাটি বিক্রির ব্যবসা চালাতে তৎপর রয়েছে কয়েকটি চক্র। তারা সারা বছর মাটি বিক্রি করলেও অদৃশ্য শক্তি ও ক্ষমতার কারণে প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আগেই উধাও হয়ে যায় তারা। কেউ বাধা দিলে প্রভাবশালীদের তোপের মুখে পড়তে হয় তাদের। কয়েক হাজার বিঘা জমিতে ধান, বাদাম, মসুর, তিল, সরিষাসহ নানান জাতের ফসলের আবাদ করতেন কৃষকরা। মাটি বিক্রি করার কারনে সেসব ফসল এখন আর তেমন হয়না।

 

মাটি কাটার বিভিন্ন জায়গা গুলোতে গিয়ে দেখা যায়- অন্তত ১৫টি এক্সেভেটর (ভেকু) দিয়ে মাটি কাটা হচ্ছে। আর মাটি গুলো ট্রাক্টর ট্রলি দিয়ে ইটভাটায় নেয়া হচ্ছে। অনুসন্ধানের পর ধানশালিক ইউনিয়নের মাটি ব্যবসায়ী মো. মিয়া ড্রাইভার এর কাছে ফসলি জমির মাটি কাটার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইউএনও তাদের চেয়ারম্যান এর কাছে বলেছেন রাতে মাটি কাটার জন্য ! তবে তিনি অনুমোদনের কোন কাগজ পত্র দেখাতে পারেননি। মৌখিক ভাবে বলেছেন বলে তিনি জানান।

অনুমোদনের বিষয়ে ৬নং ধানশাঁলিক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাহাব উদ্দিন এর কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, একথা সঠিক নয়। কেউ ভুল ব্যাখ্যা দিয়েছে। তিনি আরো বলেন, কৃষকরা নিজেরাই মাটি বিক্রয় করে। তিনি আরো বলেন- সাংবাদিকরা কে কোথায় কি অনিয়ম করছে সুধু এগুলোর খোঁজ নেওয়াই কি তাদের কাজ!

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাতিমা সুলতানা বলেন, আমি কাউকে এধরনের কথা বলিনি। তিনি বলেন- ‘আমি তাদেরকে সেখানে গিয়ে না পেলেও জেল, জরিমানা করবো’। কিন্তু এই নিউজ লেখা পর্যন্ত দৃশ্যমান কোন পদক্ষেপ না দেখায়- গতকাল বুধবার (১ মার্চ) ইউএনও কে আবার অবগত করা হলে তিনি বলেন, বিভিন্ন প্রোগ্রামের ব্যস্ততার কারনে ঘটনাস্থলে যাওয়া হয়নি। তিনি

দাম কমলো এলপিজির, ১২ কেজির সিলিন্ডার ১৪২২ টাকা

 

ডেস্ক রিপোর্টঃ

রান্নায় ব্যবহৃত তরল প্রাকৃতিক গ্যাস-এলপিজির দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) বিইআরসি সচিব ব্যারিস্টার মো. খলিলুর রহমান খান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানোনো হয়েছে।

ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৭৬ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৪২২ টাকা নির্ধারণ করেছে বিইআরসি। যা গত একমাস ১ হাজার ৪৯৮ টাকা ছিল।

প্রায় দুই বছর আগে ২০২১ সালের এপ্রিলে সর্বপ্রথম দেশে বেসরকারি পর্যায়ে বিক্রি হওয়া এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই থেকে প্রতিমাসেই নিয়ম করে দাম সমন্বয় চলছে।

প্রসঙ্গত, সর্বশেষ গত ২ ফেব্রুয়ারি ভোক্তাপর্যায়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২৬৬ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৪৯৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর এক মাস পরই সিলিন্ডারের দাম ৭৬ টাকা কমালো বিইআরসি।

দাউদকান্দিতে চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের উপর হামলা

 

স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে এক চেয়ারম্যান (স্বতন্ত্র) প্রার্থীর (টেলিফোন) সমর্থকরা অপর চেয়ারম্যান (স্বতন্ত্র) প্রার্থীর (আনারস) সমর্থকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে।

পোষ্টার ব্যানার টানানোকে কেন্দ্র করে বুধবার রাত সাড়ে দশটায় ওই ইউনিয়নের কানড়া তিন রাস্তার মোড়ে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে আনারস প্রতিকের প্রার্থী মাজারুল ইসলাম মানিক সওদাগড় নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে এমন অভিযোগ করেছেন।

তিনি জানান, বুধবার রাতে আমার সমর্থকরা ব্যানার পোস্টার লাগানোর জন্য কানড়া দুর্গাপুর এলাকায় যায়। ইউনিয়নের ওই এলাকায় পৌছলে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী (টেলিফোন ) শফিউল বাসার সুমনের সমর্থকরা তাদের উপর হামলা করে। আমার সমর্থক মনিরের বাড়ীও ভাংচুর করে। হামলায় আহত শাহ আলম মুন্সি (৫০) বর্তমানে গৌরীপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নির্বানের তফসিল ঘোষণার পর থেকে বিভিন্ন সময় আমার লোকজনকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছে সুমনের লোকজন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি নির্বাচনে সকল প্রার্থীর জন্য সমান অধিকার ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মনির হোসেন বলেন, মানিক সওদাগরের আনারস মার্কার ব্যানারের উপর সুমনের সমর্থকরা টেলিফোন মার্কার ব্যানার টানায়। এর প্রতিবাদ করায় সুমনের লোকজন আমাদের উপর হামলা করে বাড়ী ঘর ভাংচুর ও লুটপাট করে।

টেলিফোন প্রতিকের প্রর্থী শফিউল বাসার সুমনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

দাউদকান্দি মডেল থানার ওসি মোঃ আলমগীর ভূঞা বলেন, রাতে খবর পেয়েই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আর এঘটনায় উভয় পক্ষের পৃথক দু’টি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপোক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর নির্বাচনকে ঘিরে কোন ধরনের সহিংসতাকারী কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

বিশ্বকাপজয়ী সতীর্থদের জন্য স্বর্ণের আইফোন উপহার মেসির

 

স্পোর্টস ডেস্ক

লিওনেল মেসির ক্যারিয়ারে একটাই অপূর্ণতা ছিল, বিশ্বকাপ শিরোপা। সেটাও ঘুচেছে অবশেষে। ৩৬ বছর পর মেসির হাত ধরে বিশ্বকাপ জিতেছে আর্জেন্টিনা।

তবে মেসি বোধ হয় শুধু নিজে কৃতিত্ব নিতে রাজি নন। দলের সবার অবদানকেই বড় করে দেখছেন আর্জেন্টাইন খুদেরাজ। নাহলে এত বড় উপহার!

আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম ‘ওলে’ জানিয়েছে, বিশ্বকাপজয়ী দলের সব খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফদের জন্য সোনায় মোড়ানো ৩৫টি আইফোন-১৪ উপহার দিয়েছেন মেসি।

প্রত্যেকটি ফোনের সঙ্গে মোড়ানো আছে ২৪ ক্যারেট স্বর্ণ। যার জন্য মেসির খরচ হয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার পাউন্ড, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

মেসি এই ফোনগুলোর ডিজাইনও করিয়েছেন বিশেষভাবে। সোনার প্রলেপ দেওয়া এই ফোনের পেছনে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) লোগো, তিনটি তারকা, খেলোয়াড়ের নাম ও জার্সি নম্বর খোদাই করা আছে। আর একটি কথাও লেখা হয়েছে ‘বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন ২০২২’।

শনিবার মেসির প্যারিসের বাসায় আইফোনগুলো দিয়ে যাওয়া হয়। যা সেখান থেকে চলে যাবে বিশ্বকাপ দলে থাকা খেলোয়াড় এবং কোচিং স্টাফদের কাছে।

ইডিজাইন গোল্ড, যারা মেসিকে এই ফোনগুলো সরবরাহ করেছে, তাদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বেনজামিন লিওনস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে লিখেছেন, ‘বিশ্বকাপ ফাইনাল জেতায় লিওনেল মেসিকে তার সতীর্থ ও স্টাফদের জন্য ৩৫টি সোনার প্রলেপ দেওয়া আইফোন ১৪ উপহার দেওয়া ছিল সম্মানের ব্যাপার।’

প্যারিসে মেসির বাড়িতে গিয়ে তাকে সোনার কভারসহ আইফোন দেওয়ার পরে এই খবর জানিয়েছে সংস্থাটি। এই সংস্থাটি সাধারণত ফুটবল সেলিব্রিটিদের সাথে কাজ করে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ও কুমিল্লার এসপি পরিচয়ে প্রতারণা, ৩ জন গ্রেফতার

ইসতিয়াক আহমেদ:

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ও কুমিল্লা জেলার এসপি পরিচয়ে কনস্টেবল নিয়োগে ৬ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ৩ প্রতারককে গ্রেফতার করেছে কুমিল্লা ডিবি পুলিশ।

গত দুদিনে ঢাকা ও মাদারিপুর জেলা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) দুপুরে কুমিল্লা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিং করে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান। এ সময় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস) খন্দকার আশফাকুজ্জামান ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি রাজেশ বড়ুয়াসহ অন্যান্য কর্মকর্তাগণ।

গ্রেফতার হওয়া প্রতারকরা হলেন মাদারিপুর জেলার রাজৈর উপজেলার শাখারপাড় মোল্লাবাড়ির মৃত. শাহাদাত হোসেন ওরফে শুকুর আলীর ছেলে মেরাজুল ইসলাম প্রকাশ লায়ন মেরাজ (৪৬), এইকই জেলার লুন্দি এলাকার সুলতান খন্দকারের ছেলে মোঃ জামান খন্দকার প্রকাশ আলীমুজ্জামান (৪৩) ও একই জেলার রায়েরকান্দি এলাকার সারোয়ার ফকিরের ছেলে মো: রিপন ফকির (৩৭)। এর মধ্যে মেরাজুল ইসলাম প্রকাশ লায়ন মেরাজ ডিএমপি কদমতলী থানার প্রতারণা মামলার সাজা প্রাপ্ত আসামী এবং মোঃ জামান খন্দকার প্রকাশ আলীমুজ্জামান ডিএমপির বংশাল থানার চাঁদাবাজির মামলার আসামি।

পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নান জানান, বাংলাদেশ পুলিশ ট্রেনিং রিক্রুট কনস্টেবল (টিআরসি) পদে জনবল নিয়োগ করা হবে মর্মে পত্রিকায় বিজ্ঞপি দেখে জনৈক মরিময় বেগম এবং তার স্বামী শরিফুল ইসলাম কামাল তাদের নাতি ফাহিমকে উক্ত পদের জন্য আবেদন করতে বলেন।ডিগ্রী ১ম বর্ষের ছাত্র ফাহিম উক্ত পদের জন্য অনলাইনে আবেদন করেন।এরই মধ্যে শরিফুল তার অফিসের সহকর্মী আনোয়ারের মাধ্যমে জানতে পারেন, লায়ন মেরাজ নামের একজন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আছেন। যিনি তদবীর করলে শরীফুলের নাতির পুলিশের চাকুরী হয়ে যাবে। এরই প্রেক্ষিতে বাদীনির স্বামী শরিফ তার সহকর্মী আনোয়ার হতে লায়ন মেরাজের মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করে গত ৯ ফেব্রুয়ারি পুলিশের চাকরীর বিষয়ে কথা বলে এবং মেরাজের ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপে শরীফুল তার নাতির পরীক্ষার প্রবেশপত্রসহ যাবতীয় কাগজপত্র পাঠায়। তাছাড়া চাকরী পেতে হলে ৩ লক্ষ টাকা ঘুষ প্রদান করতে হবে বলে লায়ন মেরাজ জানালে শরীফুল রাজি হয়। পরবর্তীতে গত ১০ ফেব্রুয়ারি দুপুরে কুমিল্লার পুলিশ সুপার পরিচয়ে মোঃ জামান খন্দকার প্রকাশ আলীমুজ্জামান নামের এক ব্যক্তি শরীফুলকে ফোন করে জানায়, আপানার নাতির বিষয়ে তদবীর আছে। ৩ লাখ টাকায় হবে না, ৫ লাখ টাকা লাগবে। শরীফুল এতে রাজি হলে প্রতারকরা কয়েকটি বিকাশ ও নগদ নাম্বার দেয়। উক্ত বিকাশ ও নগদ নাম্বারে শরীফুল গত ১১ ফেব্রুয়ারি হতে ১৯ ফেব্রুয়ারি তারিখ পর্যন্ত সর্বমোট ৬ লক্ষ টাকা প্রদান করে। কিন্তু গত ২৭ ফেব্রুয়ারি নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার ফলাফল দিলে উক্ত ফলাফলে শরীফুলের নাতির নাম না থাকলে তাদের সন্দেহ হয়। তখন শরীফুল কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপারের সরকারী মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করলে পুলিশ সুপার, বাদানিকে এই বিষয়ে কিছু জানেনা বলে সরাসরি অফিসে আসতে বলেন। তখন বাদীনি বুঝতে পারেন তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন। উক্ত ঘটনায় বাদীনির অভিযোগের প্রেক্ষিতে মুরাদনগর থানায় ভুয়া সরকারী কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগে গত ০১ মার্চ অর্থ আত্মসাৎ এর একটি মামলা দায়ের করা হয়।

উক্ত মামলার সূত্র ধরে জেলা গোয়েন্দা শাখার ০২টি টিম ডিএমপি ঢাকা ও মাদারীপুর জেলার বিভিন্ন জায়গায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে প্রতারক চক্রের মুলহোতা প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব পরিচয় প্রদানকারী মেরাজুল ইসলাম প্রকাশ লায়ন মেরাজ(৪৬) এবং কুমিল্লা পুলিশ সুপার পরিচয় দানকারী আসামী মোঃ জামান খন্দকার প্রকাশ আলীমুজ্জামানসহ(৪৩) তাদের সহযোগী আসামী মোঃ রিপন ফকিরকে(৩৭) গ্রেফতার করেন।

প্রতারকদের কাছ হতে আত্মসাৎকৃত টাকা এবং প্রতারণায় ব্যবহৃত মোবাইল ও সীম উদ্ধার করা হয়েছে। আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা দীর্ঘদিন যাবত হ্যালো পার্টির মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠানের অফিসারদের নাম পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা করে আসছে। আসামীদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পর্যালোচনায়ও উক্ত বিষয়ে যথেষ্ট সাক্ষ্য প্রমাণ পাওয়া যায়। আসামীরা স্থানীয়ভাবে হ্যালো টিম নামে পরিচিত।