All posts by jitu

বিশ্ববাজারে অপোর নতুন ফ্ল্যাগশিপ ফোল্ডেবল স্মার্টফোন ফাইন্ড এন২ ফ্লিপ

প্রেস বিজ্ঞপ্তি:

গ্লোবাল স্মার্ট প্রযুক্তি কোম্পানি অপো আজ (১৫ ফেব্রুয়ারী) বৈশ্বিকবাজারে নিয়ে এসেছে নতুন ফ্ল্যাগশিপ ফোল্ডেবল স্মার্টফোন অপো ফাইন্ড এন২ ফ্লিপ। এটি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের অফিসিয়াল স্মার্টফোন । এ ডিভাইসটি উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের অফিসিয়াল স্মার্টফোন। উল্লেখ্য, অপো উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের অফিসিয়াল গ্লোবাল পার্টনার।

অপো’র গ্লোবাল মার্কেটিং ডিভিশনের প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম লিউ বলেন, “আমরা বিশ্ব বাজারে আমাদের নতুন স্মার্টফোন ফাইন্ড এন২ ফ্লিপ নিয়ে আসতে পেরে আনন্দিত। উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের অফিসিয়াল স্মার্টফোন অপো ফাইন্ড এন২ ফ্লিপ ফুটবল প্রেমীদের জন্য উপযুক্ত ডিভাইস, কারণ এই ফোন দিয়ে তারা তাদের প্রিয় ফুটবল ম্যাচ উপভোগ এবং ম্যাচের বিভিন্ন মুহূর্তের প্রাণবন্ত ছবি তুলতে পারবেন।

অংশীদারিত্বের অংশ হিসেবে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের অফিসিয়াল ফটোগ্রাফাররা এই ফোন ব্যবহার করে ম্যাচ চলাকালীন সাইডলাইনের খুব কাছ থেকে অনুপ্রেরণামূলক ও উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তগুলোকে ক্যামেরাবন্দী করবেন। সেরা ছবিগুলো উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ওয়েবসাইটে অপো গ্যালারিতে এবং অপো উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ল্যান্ডিং পেজে শেয়ার করা হবে।

ফাইন্ড এন২ চ্যাম্পিয়ন ফ্লিপ ফোন। এজন্য, তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিতব্য উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালে অপো’র বুথে এই ফোন প্রদর্শন করা হবে। ফাইন্ড এন২ ফ্লিপ উন্মোচন উপলক্ষে ব্যবহারকারীদের জন্য থাকছে সারপ্রাইজ। যেসব গ্রাহকরা ফোনটি কিনবেন তারা অপো ও উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের পক্ষ থেকে পাবেন এক্সক্লুসিভ গিফট এবং র‌্যাফেল ড্রতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ২০২২-২৩ সিজনের উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালের টিকিট জেতার সুযোগ পাবেন।

প্রথম চীনা ব্র্যান্ড হিসেবে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের সাথে অংশীদারিত্ব করেছে অপো। এই অংশীদারিত্বের আওতায় অপো উদ্ভাবনী ডিভাইস ও প্রযুক্তির মাধ্যমে খেলাধুলার প্রতি ভক্তদের আরও আগ্রহী করে তুলতে এবং অনুপ্রেরণা জোগাতে উয়েফা কর্তৃপক্ষের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে। ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ সিজনে চ্যাম্পিয়নস লিগ চলাকালীন ফুটবল প্রেমীদের সকল ম্যাচ উপভোগ করতে এবং জাদুকরী মুহূর্তগুলো ক্যাপচার ও শেয়ার করতে অনুপ্রাণিত করবে।

অপো ফাইন্ড এন২ ফ্লিপ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে এখানে ক্লিক করুন : https://www.oppo.com/en/smartphones/series-find-n/find-n2-flip/

কবিতা: এলো বসন্ত

মোহাম্মদ খায়রুল আনাম :

নিশুতি রাতের কুহেলিকা শেষে,
এলো বসন্ত বর্ণিল বেশে।
শিহরণ ছড়িয়েছে তনুমনে,
রূপের ছোঁয়া লেগেছে বনে বনে।

তরুশাখে অগণন নব কিশলয়,
আদিগন্ত নিসর্গ যেনো বসন্তময়।
ঈষৎ কুয়াশা ভেজা ভোর,
কেটে গেছে ঘুমের ঘোর।

ইথারে ভাসে বিহগের মিষ্টি গান,
চারিদিকে পুষ্পমঞ্জরি মুকুলের ঘ্রাণ।
জাগ্রত মুখরিত কুসুমকানন,
ফুলে ফুলে অলির মধুর গুঞ্জরন।

আম্রকাননে ক্ষণে ক্ষণে
কোকিলের কুহুতান,
নির্জীব প্রকৃতি তরুলতা
ফিরে পায় নতুন প্রাণ।

রূপ-লাবণ্যের মুগ্ধতা ছড়ায়
রক্তিম কৃষ্ণচূড়া শিমুল পলাশ,
মৃদুমন্দ দখিনা সমীরণ
বয়ে আনে মিষ্টি সুবাস।

হৃদয়ে বসন্ত চেতনায় বসন্ত
বসন্ত জাগ্রত দ্বারে,
ভরে ওঠে প্রিয় স্বদেশ
ফল-ফসল-পুষ্পের সম্ভারে।

বসন্ত শুধু ঋতুরাজ নয়–
বিধাতার সেরা দান,
জীবন হয়ে উঠুক মধুময়
ছড়িয়ে পড়ুক আনন্দ অফুরান!

(কুমিল্লাঃ পহেলা ফাল্গুন,১৪২৯)

নোয়াখালীতে শিক্ষকের হাত-পা ভেঙ্গে দিল দুর্বৃত্তরা

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলায় এক শিক্ষকের হাত-পা ভেঙ্গে দিয়েছে একদল মুখোশধারী দুর্বৃত্ত। এ সময় হামলাকারীরা তার মোটরসাইকেল, ল্যাপটপ, মানিব্যাগ ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়।

আহত শিক্ষকের নাম মনিরুজ্জামান দুলাল (৫৬)। তিনি উপজেলার গুল্যাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং হাতিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি। গত সোমবার ( ১৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার হাতিয়া পৌরসভার ছৈয়দিয়া বাজারের উত্তর পাশে আলম বলির বাড়ির সামনে প্রধান সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী শিক্ষকের ভায়রা ভাই মো.ইফতেখার উদ্দিন জানান, গত সোমবার তার স্কুলের পাশের অন্য একটি স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে একদল মুখোশধারী দুর্বৃত্ত আকস্মিক তার উপর হামলা চালায়। এ সময় হামলাকারীরা তার ডান হাত- বাম পা ভেঙ্গে দেয়। পরে তার শোর চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়। এ সময় হামলাকারীরা তার নতুন মোটরসাইকেল, ল্যাপটপ, মানিব্যাগ ও মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

পরে স্থানীয়রা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে হাতিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সেখান থেকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করে । তার দীর্ঘ মেয়াদী চিকিৎসার প্রয়োজন, এজন্য তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.আমির হোসেন বলেন, এ বিষয়ে কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুমিল্লার তিতাসে ভুট্টা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে

মো: জুয়েল রানা:
অল্প খরচে বেশী লাভ হওয়ায় কুমিল্লার তিতাসে দিন দিন ভুট্টা চাষে আগ্রহ বাড়ছে। পশু খাদ্য তৈরিতে ভুট্টার ব্যবহার সবচেয়ে বেশি হওয়ায় সারা বছর ভুট্টার চাহিদা থাকে এবং অন্যান্য ফসলের তুলনায় ভুট্টা চাষে খরচ কম, ঝুঁকিহীন, কম পরিশ্রমে বেশি ফসল, সেচ ও সার প্রয়োগের সুবিধা থাকায় কৃষকেরা এ ফসল চাষে দিন দিন আগ্রহী হয়ে উঠছে। জমির মাটি উর্বর ও আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবছর ফলন বেশ ভালো হবে বলে আশা করছে কৃষকরা।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য মতে, গত বছর এই উপজেলায় ১ হাজার ২৬৫ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে। যা চলতি মৌসুমে উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি ভুট্টার চাষ হয়েছে। এবং ফেব্রুয়ারী মাস জুরে আরো ভুট্টা চাষ করবে বলে জানা গেছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার কলাকান্দি, বলরামপুর, ভিটিকান্দি, জগতপুর, সাতানী ও মজিদপুর ইউনিয়নে মাঠ জুরে কৃষকরা অনেক ভুট্টা চাষ করেছেন। যা চোখে পড়ার মতো। ইতোমধ্যে গাছে গাছে ফুল এসেছে, কিছু গাছে ভুট্টা পরিপক্ব হতে শুরু করেছে।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কানিপ্রতি (৩০ শতাংশ) খরচ হয়েছে সাত থেকে  আট হাজার টাকা। ফলন পাওয়া যাচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ মণ। গত বছর প্রতি মণ ভুট্টার দাম যেখানে ছিল ১ হাজার থেকে ১২০০ টাকা, সেখানে চলতি বছর তা দেড় হাজার টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
ঐচারচর গ্রামের কৃষক বাবুল বলেন, আমি এবছর ১ কানি জমিতে ভুট্টা চাষ করেছি, ফলন ভালো হয়েছে। আশা করছি লাভবান হবো।
মাছিমপুর গ্রামের কৃষক ফারুক ও কালাইগোবিন্দপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেন বলেন, অন্যান্য ফসলের চেয়ে ভুট্টা চাষে খরচ তুলনামূলক কম। এছাড়া ভুট্টার কোন কিছুই ফালানি যায় না। এর পাতা গরুকে খাওয়ানো যায় এবং ডাটা ও মোচা লাকড়ি হিসেবে ব্যবহার করা যায়। বাজারে চাহিদা ও দামও ভালো তাই এ বছর এবছর ২ কানি জমিতে ভুট্টা আবাদ করেছি। যদি আশানুরূপ ফলন ও দাম পাই তাহলে আগামী বছর বেশি জমি চাষ করবো।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন বলেন, তিতাস উপজেলায় কয়েক বছর ধরে ভুট্টার আবাদ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কারন এটি খুব সহজে চাষাবাদ করা যায়, বিশেষ রোগবালাই হয় না এবং পরিচর্যাও খুব বেশি করতে হয় না। এছাড়া ভালো দাম পাওয়ায় প্রতিবছর কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে ভুট্টা চাষে। তিনি আরো বলেন, ভুট্টা চাষিদের যাবতীয় কারিগরি সহযোগিতাসহ সরকারিভাবে সার, বীজ দেওয়া হয়েছে।আবহাওয়া অনুকূল থাকলে এবার ভালো ফলন হবে।

চুরির পর গৃহবধূকে ধর্ষণ, চিনে ফেলায় হত্যা: আটক ২

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালীতে চুরির পর এক গৃহবধূকে (৩৫) ধর্ষণ করে হত্যার ঘটনায় দুই চোরকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়োন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় পুলিশ হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছোরা, চোরাইকৃত এক জোড়া স্বর্ণের কানের দুল, এক জোড়া রুপার পায়ের নুপুর ও ভিকটিমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করে।

গ্রেফতারকৃতরা হলো, কবিরহাট উপজেলার ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের চর নলুয়া গ্রামের মো.জাকের হোসেনের ছেলে মো.জাহাঙ্গীর আলম (২৮) ও একই গ্রামের মো.নুরউদ্দিন ওরফে বিটুর ছেলে মো.নিজাম উদ্দিন শান্ত (২৫)।

গতকাল মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আসামিদের বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে, দুই আসামি দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় নোয়াখালীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এসএম মোসলেহ্ উদ্দিনের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজিম উদ্দিন আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ভিকটিমের স্বামী (৩৫) কবিরহাট উপজেলার রামেরশ্বরপুর গ্রামের একটি নার্সারিতে চাকরি করেন। সেই সুবাধে তিনি সেখানে থাকেন। গত বছরের ১১ ডিসেম্বর ভিকটিম রাতে বাড়িতে একা ঘুমিয়ে ছিলেন। আসামিরা পূর্বপরিকল্পিত ভাবে তার বসত ঘরের সিঁধ কেটে প্রবেশ করে। দুই আসামি পেশায় রিকশা চালক ও তারা পরস্পর বন্ধু ছিল। আসামি নিজাম উদ্দিন শান্ত এর বাড়ি এবং ভিকটিম নাজমুন নাহারের বাড়ির কাছাকাছি। ভিকটিম বিষয়টি টের পেলে তারা ছোরার ভয় দেখিয়ে ভিকটিমকে কাবু করে এবং ঘরের ভিতরে তল্লাশী করে ভিকটিমের মোবাইল ফোন, স্বর্ণের এক জোড়া কানের দুল, এক টি নাকের ফুল এবং রুপার এক জোড়া পায়ের নুপুর কেড়ে নেয়। একপর্যায়ে জাহাঙ্গীর ভিকটিমকে জোরপূবর্ক ধর্ষণ করে এবং আসামি শান্ত ভিকটিমের মোবইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। ভিকটিম তাদরকে চিনে ফেলায় আসামিরা ভিকটিমের হাত-পা বেধে গলায় চুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।

ওসি আরো বলেন, পরের দিন সকাল ৭টার দিকে স্থানীয় লোকজন গুরুত্বর আহত অবস্থায় ভিকটিমকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী সুধারাম মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে গত ১৯ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অস্থায় ভিকটিম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায় । মামলাটি গত ৩০ ডিসেম্বর জেলা গোয়েন্দা শাখাতে তদন্তের জন্য হস্তান্তর হওয়ার পর (ডিবি) টিম চাঞ্চল্যকর রহ্যসজনক হত্যার বিষয়টি উদঘাটনে মাঠে নামেন। গত সোমবার ১৩ ফেব্রুয়ারি চাঞ্চল্যকর ক্লু-লেস হত্যা মামলার আসামিদের তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় নোয়াখালী ও কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

কবিতা: “সুরূপা ও ফাগুন উৎসব”

কবিতা: “সুরূপা ও ফাগুন উৎসব”

আহমেদ হানিফ

আজি ফাগুন রাঙা দিনে,
বৈরাগ্যের বাসনা সৃজিলো মনে,
মাধুরীলতার নিমন্ত্রণ হেতু কানন সাজিলো ফুলে,
বহুরব উঠেছে বেজে ফাগুনের উৎসবে।

কনকলতার শাখা দুলিছে,
পলাশের ফুলে প্রেম সঞ্চারে ফাগুনের মেয়ে,
প্রেমিক যুগলের বাহারী সাজে,
রঙ লেগেছে ফাগুনের এইদিনে।

কনকচাঁপার অঙ্গে যৌবনারম্ভ,
ফাগুনের প্রথম দর্শনে ষোড়শীর সাদৃশ্য,
খোঁপায় কাঁচা ফুল গুঁজে ব্যস্ত বহ্নিরা,
ফাগুনের উৎসবে মাতোয়ারা সবে।

সুরূপার লাজুক বদনে ফাগুনের রঙ,
দেবকাঞ্চনের ডালে কুহু রব কোকিলের,
হলুদরঙা শাড়িতে সুরূপার পদব্রজে-
বিমুগ্ধ নয়নে নিবদ্ধ চারপাশ।

করবী ফুলের দোসর বনেছে লাজুক স্বর্ণলতা,
শিমুলের ডালে কুহু কুহু রবে,
ষোড়শীর বুকে প্রেমের আকিঞ্চন,
প্রাণ ফিরে আসে ফাগুনে।

সুরূপার জন্য বহু পাড়া ঘুরে,
আলতা আর কাঁচের চুড়ি আনা হলো আজ,
ভাঁটিফুল যেন নিমন্ত্রণ করেছে-
শত অনুনয় করে।

ফাগুনের ফুলে ফুলে শোভিত কাননে,
রঙ লেগেছে আজি,
সুরূপা ও ফাগুনের উৎসবে-
মেতেছে শত অনুরাগী।

প্রাইভেটকারের চাপায় একসঙ্গে প্রাণ হারাল ৩ বন্ধু

 

ডেস্ক রিপোর্ট:

টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে প্রাইভেটকারের চাপায় একসঙ্গে প্রাণ হারাল তিন বন্ধু। মঙ্গলবার (১৪ ফেব্রুয়ারী) রাত সা‌ড়ে ১০টার দি‌কে ঘাটাইল উপজেলার হ‌রিপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘ‌টে‌।

নিহতরা হলেন- মধুপুর উপজেলার শামীম, ঘাটাইল উপজেলার লাউয়াগ্রাম এলাকার শহীদ হোসেনের ছেলে সোনামিয়া ও অস্টোচল্লিশা এলাকার আলমগীর হোসেন।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ঘাটাইল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বাবুল হোসেন বলেন, তিনজন মোটরসাইকেলে টাঙ্গাইল থেকে ঘাটাইলের দিকে যাচ্ছিলেন। হরিপুর এলাকায় মোটরসাইকেলটিকে বিপরীত দিকে থেকে আসা একটি প্রাইভেটকার চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ওই তিন মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হন।

দুর্ঘটনার পর প্রাইভেটকারটি পালিয়ে গেছে।মরদেহ ঘাটাইল থানায় নেওয়া হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

কুয়েতের মরুভূমিতে হলদে ক্যানভাস

নাজমুল হুদা খান:

মরু অধ্যুষিত মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কুয়েত। আঠার হাজার বর্গ কিলোমিটারের চেয়েও কম আয়তনের এ দেশটি ভৌগলিকভাবে বিষুবরেখার উত্তরে ২৮.৪৫ – ৩০.০৫ ডিগ্রি অক্ষাংশ এবং ৪৬.৩০ -৪৮.৩০ ডিগ্রি দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত। স্বভাবতই এটি মরু অঞ্চলের দেশের একটি।

স্থানীয়ভাবে বছরে প্রধানত দীর্ঘতর গ্রীষ্মকাল এবং স্বল্প দৈর্ঘ্যের শীতকাল- এ দু’টি ঋতূ বিবেচনা করা হলেও কুয়েতে চারটি ঋতূ বিদ্যমান। ঋতূভেদে এখানকার তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রি থেকে ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যেই থাকে। তবে কম বেশিও হতে দেখা যায়। ১৯৭৮ সালে রেকর্ড তাপমাত্রা ছিল ৫১ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড করা হয় ১৯৬৪ সালে -৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

এখন চলছে শীতকাল। ৬ই ডিসেম্বর থেকে ১৫ই ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শীতকাল বিবেচনা করা হয়। এ সময় স্বভাবতই তাপমাত্রা থাকে কম। আমাদের দেশ থেকে তফাৎ হচ্ছে, আমাদের দেশে শীতে বৃষ্টিপাত হয় না বলেই চলে; অন্যদিকে কুয়েতের আকাশ প্রায়শই থাকে মেঘলা এবং বৃষ্টিপাত যা হয় মূলত এ ঋতূতেই। সব বছর না হলেও মাঝে মধ্যে তুষার পড়ার নজিরও রয়েছে।

১৬ই ফেব্রুয়ারি থেকে ২০শে মে পর্যন্ত বসন্ত কাল। ধীরে ধীরে দক্ষিণা উষ্ণ বাতাস বইতে শুরু করে এ সময়। কিছুটা বৃষ্টিও হয় এ ঋতূতে; তাই গাছপালায় পাতা ও ফুলের রঙিন অবয়ব কিছুটা বহাল থাকতে দেখা যায়।

সবচেয়ে দীর্ঘ গ্রীষ্ম শুরু হয় ২১শে মে থেকে, স্থায়িত্ত্ব ৪ নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় ছয় মাস। এ সময় তাপমাত্রা, আর্দ্রতা থাকে সর্বোচ্চ; মরু ঝড়ের প্রকোপও দেখা যায়।

৫ নভেম্বর থেকে শুরু হয়ে ৫ ডিসেম্বর মাত্র এক মাস স্থায়িত্ত্ব শরৎকাল; বুঝা যায় নীলাকাশ আর সাদা মেঘের ভেলা দেখে। তাপমাত্রা থাকে মাঝারি, বৃষ্টিও হয় মাঝে মধ্যে।

কুয়েতে এখন চলছে শীতকাল। বসন্তের শুরু ক’দিন পরই। তবে এখানকার পরিবেশবিদরা বলছেন, এবার কিছুটা আগেই বসন্তের আবির্ভাব ঘটেছে। তার প্রমাণ রাস্তা ঘাট, মাঠ কিংবা মরুভূমি; সর্বত্র নানা রঙের ফুলের সমাহার। বিশেষ করে হলুদ রঙের এক ধরনের ফুলে ছেয়ে গেছে সর্বত্র। স্থানীয় সড়ক বা হাইওয়েগুলোর দু’পাশে এবং ডিভাইডারে থরে থরে ফুটে আছে এ ফুল। অন্যান্য বিভিন্ন গাছপালা ও বাগানে যেমন পরিকল্পিতভাবে পানি দেয়া কিংবা যত্ন নেয়া হয়; এ ফুলের বেলায় তেমনটি নয়। শীতকালের বৃষ্টিপাতের ছোঁয়ায় সর্বত্র ফুলের চারা গজায় এবং কিছুদিনের মধ্যেই ফুল ফোটে।

গোলাপী কিংবা কমলা রঙেও চোখে পড়ে এ ফুলগুলো। কুয়েতে এ ফুলের নাম নোয়ের (ঘঁধিরৎ); যার অর্থ ছোট ফুল, বিচ্ছুরিত আলো, সূর্য্যমুখী বা ক্ষুদ্র অগ্নিস্ফুলিংগ। আকৃতি, রঙ, ঔজ্জ্বল্য প্রভৃতির জন্যই এমন নাম; প্রাকৃতিক ভাবে বেড়ে উঠা এ ফুলের। আঞ্চলিক ভাষায় আল হানোয়া, আল হোথান, আল জামলোক, আল মারার, আল আধিত, আল হামজান বা আল আতিতকি প্রভৃতি নামের প্রচলন রয়েছে।

সাধারণত জানুয়ারি মাসে এ ফুল ফোটা শুরু হয়, পুরো ফেব্রুয়ারি মাস অবধি সর্বত্র শোভা বর্ধন করে। বর্তমানে রাস্তা ঘাট, মাঠ, মরুভূমিসহ সব জায়গায় নোয়ার ফুলের ছড়াছড়ি। দ্রুতগতির যানবাহনের চালক কিংবা যাত্রী মাত্রই থমকে দাঁড়ান রাস্তার দু’পাশে হলুদের সমারোহ দেখে। বিমোহিত নগরবাসী, পথচারী, প্রবাসী কিংবা পর্যটক সকলে। এ যেন পথফুল বা বনফুল নয়; ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে হলদে ক্যানভাস কিংবা মরুর বুকে হলদে রঙের প্রবাহিনী বা নদী।

কুবিতে ভালোবাসা দিবসে রম্য বিতর্ক

 

চাঁদনী আক্তার, কুবি প্রতিনিধি

“প্রতিটি হৃদয়ে গাঁথবো আমি ভালোবাসার মালা, কারণ প্রেমিক হিসেবে একমাত্র আমার অঞ্চলই সেরা” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে আঞ্চলিক রম্য বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৪ (ফেব্রুয়ারি) সন্ধা ৬টায় মুক্তমঞ্চে এ রম্য বিতর্কের আয়োজন করা হয়।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির সাবেক সভাপতি ফারিদ মুস্তাকিমের সভাপতিত্বে রম্য বিতর্ক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ছাত্র উপদেষ্টা ও পরামর্শক নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মোহা. হাবিবুর রহমান। ডিবেটিং সোসাইটির মডারেটর ও নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক অমিত দত্ত।

বিতর্কে ঢাকা,চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, রংপুর, সিলেট, বরিশাল, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও রাজশাহী অঞ্চলের হয়ে বিতার্কিকরা অংশগ্রহণ করেন।

ড. মোহা.হাবিবুর রহমান বলেন, “রম্য বিতর্ক একটি শিল্প,শিল্পের কাজ দুটি শিক্ষা দেওয়া এবং আনন্দ দেওয়া। আমি এখানে শিক্ষার পাশাপাশি আনন্দ পেয়েছি।”

এছাড়াও দুপুর ১২ টায় প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী সংগঠন আর্ট এন্ড হেরিটেজ সোসাইটির আয়োজনে “প্রেমের সম্পর্ক মধুর হয় প্রেমিকার গুণে” বিষয়ে রম্য বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়।

“ভ্যালেন্টাইন কথন”

“ভ্যালেন্টাইন কথন”

নাজমুল হুদা খান

এ গ্রহে আজ রঙের উৎসব,
ভালবাসার উৎসব, ফুলের উৎসব।
আজ ভ্যালেন্টাইন’স ডে।

দু’ সহস্র বছর আগের কথা;
রোম রাজ্যের সেনাদের
বিয়ে নিষিদ্ধের আইন হল;
বন্ধ হলো খ্রীষ্ট ধর্মের প্রচারও।

গোপনে বিদ্রোহ করলেন
চিকিৎসক ধর্মযাজক ভ্যালেন্টাইন।
শুধালেন বিয়ে রোধ,
মানবতার শ্বাস রুদ্ধ কানুন।

এ বাধ ভাংগার প্রত্যয়ে,
লুকিয়ে জুটি বাধালেন সেনাদের।
এক দুই করে তা পৌঁছল
রাজ সভায় রাজার কানে।

আর রক্ষে নেই,
ভালবাসার ভ্যালেন্টাইনের জায়গা হল
জেলের অন্ধকার কুঠরিতে।

ভালবাসার হিতকর্ম থামেনি
চিকিৎসক ভ্যালেন্টাইনের।
দুস্থ কারারক্ষীর অন্ধ মেয়ের
চিকিৎসায় মন দিলেন এবার।
পৃথিবীর আলো দেখলেন সে নারী;
ভালবাসতেন ভ্যালেন্টাইনকেও।

ভালবাসা দিবস, ভ্যালেন্টাইন’স ডে;
যেভাবেই হোক –
ভালবাসা বেঁচে থাকুক,
ঋদ্ধিমান হোক মানবতা।