All posts by jitu

নোয়াখালীতে তেলবাহী লরিচাপায় বাবার মৃত্যু, হাসপাতালে ২ ছেলে

ডেস্ক রিপোর্ট:

নোয়াখালীর কবিরহাটে তেলবাহী লরিচাপায় এক সার ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনা তার দুই ছেলে গুরুতর আহত হন। শুক্রবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে সোনাপুর-কবিরহাট সড়কের সুন্দলপুর ইউনিয়নের ট্রান্সমিটার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. শফিক (৬০) উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত মমিনুল হকের ছেলে। অপরদিকে আহতরা হলেন, তার ছেলে শাকিল (২১) মো. একা (১৯)।

স্থানীয়রা জানান, বেলা ১০টার দিকে সদর উপজেলার সোনাপুর থেকে যমুনা তেলবাহী একটি লরি কবিরহাটের উদ্দেশে ছেড়ে আসে। পথিমধ্যে লরিটি সোনাপুর-কবিরহাট সড়কের সুন্দলপুর ইউনিয়নের ট্রান্সমিটার এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্যবসায়ী শফিকসহ তার দুই ছেলেকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই শফিক মারা যান।

তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়রা তার দুই ছেলেকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে পরিবার।

কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজাম উদ্দিন ভূঞা বলেন, ‘মোটরসাইকেলে ব্যবসায়ী শফিকসহ তার দুই ছেলে ছিলেন। তেলবাহী লরিচাপায় ব্যবসায়ী ঘটনাস্থলে মারা যান।

ঘটনাস্থল থেকে ট্রাকচালককে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নিহত ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের দুই ছেলে গুরুতর আহত অবস্থায় ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।’

২১ ফেব্রুয়ারিতে নিরাপত্তাজনিত কোনো হুমকি নেই : র‍্যাব মহাপরিচালক

ডেস্ক রিপোর্ট:

আগামীকাল ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস অনুষ্ঠান ঘিরে কোনো হুমকি নেই বলে জানিয়েছেন র‍্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) একেএম শহিদুর রহমান।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে শহীদ দিবস ও মহান আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও দেশব্যাপী র‌্যাবের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

র‍্যাব মহাপরিচালক বলেন, তবুও আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় র‍্যাব প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি বলেন, শহীদ মিনার কেন্দ্রিক সব ধরনের ব্যবস্থাই রেখেছি। অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে র‍্যাবের ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, র‍্যাবের ইনার প্যারিমিটার, আউটার প্যারিমিটারে ফোর্স আছে এবং কয়েকটা সেক্টরে ভাগ করা হয়েছে। প্রত্যেকটা সেক্টরেই র‍্যাবের ফুট পেট্রোল, গাড়ির পেট্রোল এবং স্ট্রাইকিং রিজার্ভ থাকবে।

এছাড়া শহীদ মিনার এলাকাটি ভালোভাবে সুইপিং করা হয়েছে। র‍্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট স্ট্যান্ডবাই থাকবে। পুরো এলাকায় ৬৪টি ক্যামেরার মাধ্যমে সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে।
পাশাপাশি দেশব্যাপী পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। ভালোভাবেই আমরা আমাদের এই কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবো, যোগ করেন তিনি।

র‍্যাব ডিজি বলেন, শহীদ মিনারের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে র‌্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও ডগ স্কোয়াড প্রয়োজনীয় সুইপিং সম্পন্ন করেছে। পাশাপাশি যে কোনো উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য র‌্যাবের স্পেশাল ফোর্স সার্বক্ষণিকভাবে প্রস্তুত রয়েছে। ভিভিআইপি, ভিআইপি ও রাজনৈতিক নেতাদের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

কুবিতে আবাসিক শিক্ষার্থীকে মেরে রক্তাক্ত করলো ছাত্রদল নেতা, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

চাঁদনী আক্তার, কুবি:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) আবাসিক হল শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থীদের মারধর করে রক্তাক্ত করার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়কসহ কয়েকজন ছাত্রদল কর্মীদের বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের তিন তলার ছাদে এ ঘটনা ঘটে। এতে তিন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তাদের একজনের নাক ফেটে রক্তপাত হলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনার পর রাতেই হল প্রাঙ্গণে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

অভিযুক্তরা হলেন, কুবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও ৮ম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী আাতিকুর রহমান, ৮ম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী সাইফুল, ১২ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তরিকুল এবং ১৮ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সিফাত।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা হলেন, নৃবিজ্ঞান বিভাগের ১৬ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মাজহারুল ইসলাম আবির, অর্থনীতি বিভাগের ১৭ তম ব্যাচের তোফায়েল আহমেদ নিবির, এবং একাউন্টিং বিভাগের একই ব্যাচের শিক্ষার্থী কাব্য। কাব্যকে কুমিল্লা মেডিক্যাল হলে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এরাই সকলেই ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত বলে জানা যায়।

শিক্ষার্থীরা জানান, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে আতিকুর রহমান কাউকে অবহিত না করে দত্ত হলের ৫০০২ নম্বর কক্ষে ওঠেন এবং একই কক্ষে ১৯তম আবর্তনের আরেক ছাত্রদল কর্মীকেও তোলেন। পাশাপাশি সিফাত নামে একজনকে নিয়মবহির্ভূতভাবে ২০৪ নম্বর কক্ষে ওঠানো হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে ১৮ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং হলের সিনিয়রদের বিষয়টি জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় আতিকুর রহমান ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মীকে সঙ্গে নিয়ে হলের বিভিন্ন কক্ষে যান এবং আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ সিটে অবস্থান করার নির্দেশ দেন। এ সময় মৌখিক বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। পরে রাতের দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

শিক্ষার্থীদের দাবি, তারা প্রতিবাদ জানাতে গেলে ছাত্রদলের আহ্বায়ক মামুন ও সদস্য সচিব শুভ’র উপস্থিতিতে আতিকুর রহমান নিবিড়ের কলার ধরে থাপ্পড় মারেন। বাধা দিতে গেলে আবিরকে ধাক্কা দেওয়া হয় এবং সৌরভ কাব্যকে নাকে ঘুসি মারা হয়, এতে তার নাক ফেটে যায়। একপর্যায়ে হলের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা ছুটে আসেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্তদের ধাওয়া দিলে তারা হল এলাকা থেকে পালিয়ে যান।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ক্ষমতায় আসার পর সাম্প্রতিক সময়ে হলগুলোতে অছাত্র বা দলীয় পরিচয়ে শিক্ষার্থী তোলার প্রবণতা বেড়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, ক্ষমতায় আসার পর থেকে একটি পক্ষ হল দখল ও প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। বিজয় চব্বিশ হলসহ আরও কয়েকটি হলে নিয়মবহির্ভূতভাবে দলীয় নেতাকর্মীদের তোলার অভিযোগ রয়েছে।

নাক ফাটানোর বিষয়ে কাব্যের বন্ধু ও ছাত্রদল কর্মী হুসাইন বিন আলি বলেন, কাব্যর নাকের হাড় ভেঙে গিয়েছে। দিনের বেলা তাকে নাক-কান ও গলা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারকে দেখানো হবে।

ভুক্তভোগী তোফায়েল মাহমুদ নিবিড় বলেন, এ বিষয়ে ভুক্তভোগী তোফায়েল মাহমুদ নিবিড় বলেন‚ ‘আমরা ছাদে আছি এরমধ্যে ছাত্রদলের আতিক এসে আমার কলারে ধরে চড় মারে। আর ১৬ ব্যাচের একজনের নাকে ঘুসি মেরে রক্ত বের করে ফেলেছে। তাদের সাথে সাইফুল, তরিক আর ১৮ ব্যাচের সিফাত নামের একটা ছেলে ছিলো। তখন সৌরভ-এর নাক ফেটে যায়, আর আমাকে ধাক্কা মেরে কাঠে ফেলে দিলে আমার হাত মচকে যায়। আতিক আমার ডিপার্টমেন্টের সাবেক শিক্ষার্থী। সে আমাকে পলিটিক্যালি মেরেছে।’

বহিরাগত হয়েও ছাত্রদলের ক্ষমতায় হল দখলের চেষ্টা ও হলের শিক্ষার্থীদের মারধরের বিষয়ে অভিযুক্ত কুবি ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুরের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে কুবি শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মুস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, সাংগঠনিক ভাবে বিষয়টি সমাধান করা হবে।
হল প্রভোস্ট ড. ম. জনি আলম বলেন, এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার জন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। এই ঘটনার সাথে হল প্রশাসনের কারো কোনো সম্পর্ক থাকলে সেটা খতিয়ে দেখে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সাথে আলোচনা করে অভিযুক্ত বহিরাগতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।

রমজানে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য বিক্রি করছে দেশবন্ধু গ্রুপ

স্টাফ রিপোর্টার:

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে সাশ্রয়ী মূল্যে নিত্যপণ্য বিক্রি শুরু করেছে দেশের স্বনামধন্য শিল্প প্রতিষ্ঠান দেশবন্ধু গ্রুপ। বিক্রয়কৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে চাল, মসুর ডাল, ছোলা, চিনি, কোমল পানীয় ফ্রেন্ডস কোলা ও দেশবন্ধু ম্যাংগু ড্রিংক।

আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি)১ম রমজানের দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য বিক্রির কার্যক্রম উদ্বোধন করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফারুক আহম্মেদ।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক সেবাস্টিন রেমা, দেশবন্ধু গ্রুপের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) জাকির হোসেন, দেশবন্ধু গ্রুপের উপদেষ্টা কাজী হাসান আহমেদ, দেশবন্ধু ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের সিওও ইদ্রিসুর রহমান, দেশবন্ধু গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক আরিফ হোসেন এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।

এ ব্যাপারে দেশবন্ধু গ্রুপের কর্মকর্তারা বলেন, ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য নয়, টিসিবির আদলে মানুষের সেবায় এগিয়ে এসেছে দেশবন্ধু গ্রুপ। রমজান মাসজুড়ে চলবে এ বিক্রি কার্যক্রম।

মুরাদনগরে পাওনা টাকার বিরোধে নির্মাণ শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা

মাহবুব আলম আরিফ, মুরাদনগর:

কুমিল্লার মুরাদনগরে পাওনা টাকার বিরোধের জেরে রুবেল ইসলাম নামের এক নির্মাণ শ্রমিককে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আক্কাশ আলী ওরফে আকাশ নামের আরেক নির্মাণ শ্রমিককে গ্রেপ্তার করে বৃহস্পতিবার দুপুরে জেল হাজতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

নিহত রুবেল ইসলাম চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার নাচোল উপজেলার বেলপুকুর গ্রামের সাইফুল ইসলামের একমাত্র ছেলে। অভিযুক্ত আক্কাশ আলী একই উপজেলার চন্দনা উজিরপুর গ্রামের সাহাদাৎ এর ছেলে।

পুলিশ ও মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কাজের সূত্রে রুবেল ও আকাশসহ আরও কয়েকজন শ্রমিক নবীপুর পূর্ব ইউনিয়নর গুঞ্জুর গ্রামের বেলতলী বাজার এলাকায় একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পাওনা টাকা নিয়ে দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে অভিযুক্ত আকাশ লোহার তৈরি বস্তু দিয়ে রুবেলের মাথায় আঘাত করে গুরুতর জখম করে।
ঘটনার সময় সহকর্মী কামাল মিয়া বাইরে থেকে ঘরে ঢোকার পথে আকাশকে দ্রুত বেরিয়ে যেতে দেখেন। পরে ঘরে ঢুকে রুবেলকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত পার্শ্ববর্তী দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় বুধবার রাতে রুবেলের বাবা সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে মুরাদনগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

নিহতের বাবা সাইফুল ইসলাম বলেন, “রুবেল আমার একমাত্র সন্তান। কৃষিকাজ করে কোনোমতে সংসার চালাই। দুই মাস আগে সংসারের স্বচ্ছলতার আশায় ছেলেকে কাজের জন্য মুরাদনগরে পাঠিয়েছিলাম। এখন সে লাশ হয়ে ফিরেছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।”

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আব্বাস কবির চৌধুরী জানান, স্থানীয়দের সহযোগিতায় বুধবার রাতে গুঞ্জুর গ্রাম থেকে অভিযুক্ত আকাশকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের কথা স্বীকার করেছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

মাতৃভাষার মর্যাদায় একুশের সন্ধ্যা: ঢাবি থিয়েটার বিভাগের উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় ভাষা শহীদদের স্মরণ করতে আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর নাটমণ্ডল প্রাঙ্গণে এক বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলনরত অবস্থায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর শিক্ষার্থীসহ অসংখ্য সংগ্রামী জনতা শহীদ হন। তাদের সেই আত্মত্যাগের স্মরণে এবং ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতেই এ অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ১৯৯৯ সালে UNESCO ২১ ফেব্রুয়ারিকে “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস” হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ঐতিহাসিক এ দিনের চেতনাকে ধারণ করেই আয়োজিত হচ্ছে এই সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা।

অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে থাকছে একটি দেওয়াল পত্রিকা। শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে প্রস্তুত এই দেওয়াল পত্রিকায় স্থান পাবে তাদের নিজস্ব লেখা কবিতা, প্রবন্ধ, স্মৃতিচারণ ও অনুভূতির প্রকাশ। পাশাপাশি ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, ১৯৫২ সালের শহীদদের আত্মত্যাগ এবং মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার সংগ্রামের বিভিন্ন তথ্যচিত্র ও চিত্রাঙ্কন সংযোজিত হবে এতে। আয়োজকদের মতে, এটি কেবল একটি সৃজনশীল প্রদর্শনী নয়; বরং শিক্ষার্থীদের চেতনা, শ্রদ্ধা ও দেশপ্রেমের বহিঃপ্রকাশ। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য আরও গভীরভাবে অনুধাবনের সুযোগ পাবে।

সাংস্কৃতিক পরিবেশনার অংশ হিসেবে থাকছে নাটক, কবিতা, গান ও নৃত্য। অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ প্রখ্যাত নাট্যকার মমতাজউদ্দীন আহমদ রচিত ‘বিবাহ’ নাটকের মঞ্চায়ন। নাটকটির নির্দেশনায় থাকছেন থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের তৃতীয় বর্ষ ষষ্ঠ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী শাহী ফারজানা তানজীম মিমি। তার সৃজনশীল নির্দেশনায় নাটকটি নতুন মাত্রা পাবে এবং ভাষা আন্দোলনের চেতনা, সামাজিক বাস্তবতা ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ দর্শকদের সামনে জীবন্ত হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। সংলাপ, মঞ্চসজ্জা ও অভিনয়ের সমন্বয়ে নাটকটি উপস্থাপিত হবে দর্শকদের সামনে।

এছাড়াও শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দের অংশগ্রহণে পরিবেশিত হবে দেশাত্মবোধক গান, আবৃত্তি ও নৃত্য। কবিতা পরিবেশনায় উঠে আসবে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস ও আত্মত্যাগের স্মৃতি। সংগীতে ধ্বনিত হবে একুশের অমর গান, যা পুরো পরিবেশকে আবেগঘন করে তুলবে। নৃত্য পরিবেশনায় বাঙালির সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের বহিঃপ্রকাশ ঘটবে নান্দনিক উপস্থাপনায়।

আয়োজকরা জানান, অনুষ্ঠানজুড়ে থাকবে শৃঙ্খলা, সৌন্দর্য ও ভাষার প্রতি গভীর শ্রদ্ধাবোধ। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আয়োজনটি সফল ও সার্থক হয়ে উঠবে বলে তারা আশাবাদী। ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্তের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এই আয়োজন কেবল একটি সাংস্কৃতিক সন্ধ্যাই নয়; বরং ভাষা আন্দোলনের চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার এক অনন্য প্রয়াস—এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কুমিল্লায় বাজার নিয়ন্ত্রণে মাঠে জেলা প্রশাসক

স্টাফ রিপোর্টার:

রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় রাখতে মাঠে নেমেছে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন। প্রথম রমজান বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কুমিল্লা নগরীর রাজগঞ্জ চকবাজারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বাজার পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান।

পরিদর্শনকালে তিনি নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্যের খুচরা ও পাইকারি মূল্য যাচাই, ক্রয় রসিদ পর্যালোচনা এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন। বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ও মজুতদারি রোধে কঠোর অবস্থানের কথাও জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক বলেন, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের বাজার নিয়ন্ত্রণ কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রমজানে অতিরিক্ত মূল্য আদায় প্রতিরোধ ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে এই অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। নিয়মিত তদারকি অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

অভিযানে দেখা যায়, শাকসবজি, কাঁচাবাজারের বিভিন্ন পণ্য, লেবু, শসা প্রভৃতির দামে বৃদ্ধি রয়েছে। পাশাপাশি গরুর মাংস ও ব্রয়লার মুরগির দামও তুলনামূলক বেশি রাখতে দেখা গেছে। সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয় এবং যৌক্তিক দামে পণ্য বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়।

অভিযানে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং পুলিশ সদস্যদের একাধিক টিম উপস্থিত ছিলেন।

আখাউড়ায় ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে নারীর মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় রেলসেতু পার হতে গিয়ে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকা-সিলেট বাইপাস রেলপথের আখাউড়া পৌর এলাকার খড়মপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

রেলওয়ে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, সকাল আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে ওই নারী রেলসেতু পারাপারের সময় সিলেট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী কালোনী এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

নিহত নারীর নাম ও পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

আখাউড়া রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম শফিকুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ধারণা করা হচ্ছে, রেলসেতু পারাপারের সময় অসাবধানতাবশত এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নারীর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করেছে দাদিয়াপাড়া মানব কল্যাণ সংস্থা

স্টাফ রিপোর্টার:

চাঁদপুর শাহরাস্তি থানার দাদিয়াপাড়া মানব কল্যাণ সংস্থার পক্ষ থেকে মুঙ্গলবার (১৭ই ফেব্রুয়ারি) অসহায় দরিদ্র মানুষের মাঝে ইফতারসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

দাদিয়াপাড়া মানব কল্যাণ সংস্থাত পরিচালনা কমিটি সহ সভাপতি আবু ইউসুফ সুমন জানান, এটি একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। স্বেচ্ছায় মানুষের সেবার ব্রত নিয়ে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে মানবতার কাজে নিজেদের নিয়োজিত রাখতে চাই। গরিব অসহায় দরিদ্র মানুষের কথা বিবেচনা করেই আমাদের আজকের ক্ষুদ্র আয়োজন। আমরা চেষ্টা করেছি সব সময় তাদের পাশে থাকতে।’

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের শাহরাস্তি উপজেলার দাদিয়াপাড়া গ্রামের একঝাঁক উদ্যোমী তরুণ যুবকদের নিয়ে গঠিত হয় ❝দাদিয়াপাড়া মানব কল্যাণ সংস্থা❞ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। প্রতিষ্ঠালগ্নের পর থেকেই সংগঠনটির সদস্যদের তারুণ্যদীপ্ত উদ্যম, একাগ্রতা ও অদম্য ইচ্ছশক্তির জোরে ক্রমান্বয়ে সেবার পরিধি ব্যাপকভাবে বিস্তৃত হচ্ছে।

সংগঠনটি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের বিভিন্ন শিক্ষার উপকরণ বিতরণ, ঈদে অসহায়দের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ, মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করা, বিনামূল্যে ফ্রি মেডিকেল কর্মসূচি, ডায়াবেটিস পরীক্ষা, স্বেচ্ছায় রক্তদান, মাদ্রাসাশিক্ষার্থীদের মাঝে পবিত্র কোরআন শরীফ, পাঠাগারে বই বিতরণ, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, গাছের চারা বিতরণ, বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজনসহ জাতীয় দিবসগুলোতে নানা কর্মসূচি পালন করে সাধারণ মানুষের ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, দাদিয়াপাড়া মানব কল্যাণ সংস্থার সভাপতি মঞ্জুর হোসেন সজিব, সহ সভাপতি, আবু ইউসুফ সুমন, উপদেষ্টা আনোয়ার হোসাইন, ইমরান হোসেন, শাহরাস্তি মডেল থানার সিনিয়র অফিসার মো: মনিরুজ্জামান, মাওলানা আব্দুল মুমিম,মাও: আব্দুররব, হাফেজ আবু বকর, হাফেজ তানভীর হোসেন, সাবেক মেম্বার বিল্লাল হোসেন, আছলাম পাটোয়ারী, শফীকুর রহমান, সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী, বাচ্চু পাটোয়ারী, ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

আইনশিক্ষার হাতেখড়ি চাই: স্কুলে আইন শিক্ষা কেন সময়ের দাবি

অ্যাডভোকেট সুদীপ চন্দ্র রায়:

আমরা আমাদের সন্তানদের গণিত, বিজ্ঞান, ইংরেজি ও প্রযুক্তি শিক্ষা দিই। কিন্তু যে আইন তাদের অধিকার রক্ষা করবে, দায়িত্ববোধ শেখাবে এবং সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে—সেই মৌলিক আইন শিক্ষা এখনো প্রাতিষ্ঠানিকভাবে স্কুল পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। ফলে উচ্চশিক্ষিত হয়েও অনেক তরুণ-তরুণী নিজেদের অধিকার, দায়িত্ব এবং আইনি সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে অজ্ঞ থেকে যায়।

আজকের শিশু আগামী দিনের নাগরিক। তাই স্কুলে আইন শিক্ষা সংযোজন সময়ের দাবি।

প্রথমত, অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা জরুরি। একটি শিশুর জানা উচিত—সে রাষ্ট্রের একজন নাগরিক, তার মৌলিক অধিকার আছে, আবার অন্যের অধিকার সম্মান করাও তার দায়িত্ব। ভোক্তা অধিকার, ট্রাফিক আইন, পরিবেশ সংরক্ষণ, সাইবার নিরাপত্তা—এসব বিষয় এখন দৈনন্দিন জীবনের অংশ। কিন্তু এগুলো সম্পর্কে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকায় অনেকেই বাস্তব জীবনে সমস্যায় পড়ে।

দ্বিতীয়ত, কিশোর অপরাধ ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধে আইন শিক্ষা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের হার বেড়েছে। অনেক শিক্ষার্থী না বুঝেই এমন কিছু কাজ করে ফেলে, যা আইনগত অপরাধের মধ্যে পড়ে—যেমন অনলাইন অপপ্রচার, ছবি বা তথ্য শেয়ার করে গোপনীয়তা লঙ্ঘন, সাইবার বুলিং ইত্যাদি। যদি তারা আগে থেকেই আইনের মৌলিক ধারণা পেত, তাহলে এসব ভুল কমানো সম্ভব হতো।

তৃতীয়ত, আইন শিক্ষা শুধু শাস্তির ভয় শেখায় না; এটি নৈতিকতা ও দায়িত্ববোধ গড়ে তোলে। উন্নত দেশগুলোতে নাগরিক দায়িত্ব শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। যেমন Japan–এ শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই শৃঙ্খলা, সামাজিক দায়িত্ব ও নৈতিক আচরণের পাঠ দেওয়া হয়। এর ফলেই তারা আইন মানাকে বাধ্যবাধকতা নয়, বরং সামাজিক সংস্কৃতি হিসেবে গ্রহণ করেছে। আমাদের দেশেও এ ধরনের প্রয়াস গ্রহণ করা যেতে পারে।

চতুর্থত, বাস্তব জীবনের প্রস্তুতি হিসেবে আইন শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যতে একজন শিক্ষার্থী চাকরি করবে, ব্যবসা করবে বা সামাজিক দায়িত্ব পালন করবে—সব ক্ষেত্রেই তাকে কোনো না কোনো আইনি কাঠামোর মধ্যে চলতে হবে। চুক্তি, সম্পত্তি, কর, ব্যাংকিং, ভোক্তা অধিকার—এসব বিষয়ে প্রাথমিক ধারণা থাকলে তারা সচেতন ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

পঞ্চমত, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় সচেতন নাগরিকই সবচেয়ে বড় শক্তি। সংবিধান ও আইনের প্রতি শ্রদ্ধা তৈরি হয় শিক্ষা থেকে। যদি স্কুল পর্যায়েই আইন সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা দেওয়া যায়, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আইনকে ভয় নয়—সম্মানের চোখে দেখবে।

এখন প্রশ্ন—কীভাবে শুরু করা যেতে পারে?
প্রথমত, পঞ্চম বা ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে “মৌলিক আইন ও নাগরিক শিক্ষা” নামে একটি সংক্ষিপ্ত বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে।
দ্বিতীয়ত, বইগুলো হতে হবে গল্পভিত্তিক ও সহজ ভাষায় রচিত—যাতে শিশুরা আগ্রহ নিয়ে পড়ে।
তৃতীয়ত, স্থানীয় আইনজীবী ও বিচারকদের মাধ্যমে সচেতনতামূলক বিশেষ ক্লাস বা আলোচনা আয়োজন করা যেতে পারে।
চতুর্থত, স্কুলে মক কোর্ট, বিতর্ক ও আইনভিত্তিক কুইজ প্রতিযোগিতা আয়োজন করা যেতে পারে।
পঞ্চমত, ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে পৃথক পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।

আমাদের সমাজে প্রায়ই দেখা যায়—আইন সম্পর্কে অজ্ঞতার কারণে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কেউ প্রতারণার শিকার হয়, কেউ হয়রানির মুখোমুখি হয়, কেউ আবার অজান্তেই আইনের লঙ্ঘন করে বসে। যদি ছোটবেলা থেকেই আইন সম্পর্কে প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়া যায়, তাহলে ভবিষ্যতে এই সমস্যাগুলো অনেকাংশে কমে আসবে।

শিক্ষা কেবল পেশাগত দক্ষতা অর্জনের মাধ্যম নয়; এটি মানুষকে সচেতন ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে। তাই স্কুলে আইন শিক্ষা যুক্ত করা কোনো বিলাসিতা নয়—এটি একটি প্রয়োজনীয় সংস্কার।

আজ সময় এসেছে—আমরা শিশুদের শুধু পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য প্রস্তুত না করে, বাস্তব জীবনের জন্যও প্রস্তুত করি। আইন শিক্ষা সেই প্রস্তুতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে পারে।

লেখক:
অ্যাডভোকেট সুদীপ চন্দ্র রায়
জেলা আইনজীবী সমিতি, কুমিল্লা
ও নাগরিক সচেতনতা